#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৭০
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
বুশরার স্থির দৃষ্টি ফোনেই। তাকে ব্লক করা হয়েছে। হাতের ফোনটা পড়ল মেঝেতে। সে বার ঢাকা ফিরে কান্নাকাটি করে এ ফোন কিনে ছিল সে। বাবা রাজি হলেও মা বেশ আপত্তি করে। দুদিন না খেয়ে দোর বন্ধ করে রেখেছিল। বলতে গেলে বহু সাধনা করে ফোন নামক কাঙ্ক্ষিত যন্ত্রটা তার হাতে আসে। খুব সাবধানে রাখে এই ফোন সে। বাচ্চাদের হাতে একদম দেয় না। কে বলতে পারে হাত ফসকে পড়ে না তার ফোন ভেঙে চুরমার হয় যায়। তার সেই যত্নে রাখা ফোন মেঝেতে অযত্নে পড়ে আছে, মেয়েটার ভাবান্তর নেই এতে।
হতবুদ্ধি বুশরা কিয়ৎক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে দেয়াল ঘেঁষে বসে পড়ল। দু পা ভাঁজ করে দেয়ালে মাথা ঠেকায়। দৃষ্টি ফেলে সিলিং এ ঘূর্ণায়মান ফ্যানে। মেয়েটা নিশ্চুপে ভাঁজ করা হাঁটুতে মাথা ঠেকিয়ে বসে রইল ঘণ্টার পর ঘণ্টার। সে বুঝে উঠতে পারল না তার কি এখন নীরবে চোখের পানি ফেলা উচিত, নাকি চিৎকার করে কান্না করা ঠিক হবে। মেয়েটা চেয়েও দোর আটকে বসে থাকতে পারেনি। অনবরত কড়াঘাতে দরজা খুলে দিতে হয়েছে তাকে।বোনকে দেখে হাসার চেষ্টা করে বুশরা।
– কী হয়েছে? এভাবে দরজা আটকে বসে আছিস কেন?
– প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছে আপু। একটু ঘুমাব। কাল রাতে ঘুম হয়নি ঠিকমতো। মেঝেতে কি ঘুম হয় বলো?
– শুয়ে থাক তাহলে। বেশি খারাপ লাগলে বল, আম্মুকে আসতে বলি।
– আম্মুকে বলার দরকার নেই। আমি ঠিক আছি। একটু ঘুমালেই হবে।
বর্ণা জানে বুশরার সময় অসময়ে মাথা ব্যথা করে। তাই আর কথা বাড়ায় না। মাথা ব্যথা না করলেও মাথা ব্যথার অজুহাত দেখিয়ে বোনকে বের করে ফের ঘরের দোর লাগায় মেয়েটা। গিয়ে একেবারে বিছানায় শরীর এলিয়ে দেয়। মুহূর্তেই চোখ দুটোতে রাজ্যের ঘুম এসে হানা দেয়। সন্ধ্যা অবধি ঘুমিয়ে থাকল মেয়েটা। মাগরিবের নামাজের আগে ঘুম ভাঙে। নামাজ আদায় করে নিচে গেল বুশরা। হলরুমে কেউ নেই। সবাই হয়তো যে যার রুমে। বুশরা বাড়ির বাইরে গেল। আকাশে একটা দুটো তারার দেখা মিলে। সবে সন্ধ্যা নেমেছে। সেজন্য নিকষ কালো আকাশে কেবল দু একটা তারা পসরা বসিয়েছে। রাত বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে হয়তো মুক্তোর ন্যায় জ্বলজ্বল করবে আকাশ ভর্তি তারায়। একা বেশিক্ষণ বাহিরে থাকার সাহস পেল না মেয়েটা। হুড়মুড়িয়ে ঢুকে গেল বাড়ির ভিতর।
বর্ণা রান্নাঘরে যাচ্ছিল। বুশরাকে এভাবে তাড়াহুড়ো করে বাইরে থেকে আসতে দেখে কপাল কুঁচকায়। কিছুটা ঝাঁজালো স্বরে বলল,
– এই ভর সন্ধ্যায় বাহিরে কী? উঠেছিস কখন?
– আধ ঘণ্টা আগে।
– বাহিরে কেন গিয়েছিলি?
– এমনি ভালো লাগছিল না।
– আচ্ছা আয়, আমাকে সাহায্য কর।
বুশরা বোনকে সাহায্য করল। বর্ণা কাজের ফাঁকে ফাঁকে খেয়াল করল বোনের ভার হয়ে থাকা মুখ। এমন নিশ্চুপ হয়ে আছে কেন মেয়েটা? বর্ণা ভাবল, সকালে মা বকাঝকা করেছে সেজন্য হয়তো মন খারাপ। সে আর এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন করল না। রাতের খাবার খেয়ে বুশরা ঘুমাতে চলে গেল। বিছানায় শুয়েও অনবরত এপাশ ওপাশ করে যাচ্ছে বুশরা। ঘুম আসছে না তার? দিনের বেলা অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছে। সেজন্য হয়তো এখন ঘুম আসছে না। এই কারণে তার ঘুম আসছে না? না কি অন্য কোন কারণ?
বুশরা অডিও প্লেয়ার থেকে নিজের পছন্দের গান ছাড়ল। মুহূর্তেই বদ্ধ কামরায় স্লো ভলিউমে বেজে উঠল।
`~ দীর্ঘ তেপান্তরে বাঁধ ভেঙে যায়।
কোনো এক আকাশ শুধু তোকে পেতে চায়।
তোর প্রেমে বুঁদ হয়ে এত আয়োজন।
মন খারাপের রাতে তোকে প্রয়োজন!
মেয়েটা গুনগুনিয়ে গান ধরে। অদ্ভুতভাবে তার কান্না আসছে না। বালিশে মুখ গুঁজে পড়ে রইল। দম বন্ধ হয়ে আসে তার। তবুও সেভাবেই পড়ে রইল। রাতটা নির্ঘুম কাটে তার।
ফজরের আজানের সাথে সাথে লাবণ্যর ঘুম ভেঙে যায়। উঠে জানালা খুলে দিল। অমনি হুড়মুড় করে প্রবেশ করে ভোরের স্নিগ্ধ, নির্মল বাতাস। লাবণ্য চোখ বুজে ভোরের শীতল সমীরণ গায়ে মাখে। ঠান্ডা পানি দিয়ে অজু করে সালাত আদায় করে নেয়। মাহাদ এখনও ঘুমাচ্ছে। লাবণ্য বুঝল না মাহাদকে নামাজের জন্য ডেকে দিবে কিনা। কোনো এক কারণে ডাকতে গিয়েও না ডেকেই বেরিয়ে গেল রুম থেকে। বাড়ির সকলের জন্য রং চা করল। সাথে পিরিচে বিস্কুট নিল দুই রকমের। তার শাশুড়ির টোস্ট বিস্কুট অনেক পছন্দ। কিন্তু মাহাদের বাবা আবার টোস্ট বিস্কুট খেতে পারে না। তাই ভিন্ন বিস্কুট পিরিচে তুলে চা নিয়ে গেল শ্বশুর শাশুড়ির ঘরে। লাবণ্য ইতস্তত বোধ করছে। দরজায় কড়া নাড়তে গিয়েও হাত সরিয়ে নিল বার কয়েক। ভিতর থেকে ভেসে আসে পুরুষালি কণ্ঠস্বর।
– ভিতরে এসো, লাবণ্য মা।
লাবণ্য মাথার ঘোমটা টেনে ভিতরে গেল। অনুভব করল হাতে থাকা ট্রেটা কাঁপছে। কাপে কাপে বাড়ি খেল। শব্দ হলো বেশ। লাবণ্য লজ্জিত বোধ করে। চায়ের কাপ শ্বশুরের হাতে দিয়ে শাশুড়ি মায়ের হাতেও দিল। লাবণ্য এক পলক দেখল, তার শাশুড়ি মায়ের থমথমে মুখটা। দ্রুত চা বিস্কুট দিয়ে বেরিয়ে যেতে চাইলে শ্বশুরের ডাকে থেমে যায়।
– কোন সমস্যা হচ্ছে না তো?
– জি না।
এতদিন আঙ্কেল ডেকে আসা মানুষটাকে বাবা ডাকটা ডাকতেও কেমন সংকোচ বোধ হচ্ছে।
– দেখো তুমি আমাদের পূর্ব পরিচিত হলেও এখন নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছ। পূর্বের মতো ঘণ্টা দেড়েকের জন্য এ বাড়িতে আসোনি। এসেছ সারা জীবনের জন্য। যতদিন অবধি হায়াত আছে তোমার একটাই পরিচয়, তুমি এ বাড়ির বউ। আমার ছেলে মাহাদের স্ত্রী। অন্য সবার মতো তুমি এ পরিবারের সদস্য। তোমার ভালো মন্দের খেয়াল রাখা যেমন আমাদের দায়িত্ব তেমন এই পরিবারের ভালো মন্দের খেয়াল রাখাও তোমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তোমাকে বুঝে শুনে চলতে বলব না। তুমি বুঝদার মেয়ে। আমি জানি এই পরিবারে তুমি মানিয়ে নিবে। তোমার কোনো অসুবিধা হলে নির্দ্বিধায় বলবে। ভিতরে রেখে দিবে না। এখানে সবাই তোমার আপনজন। আর মা আপনজনদের নিজের সুবিধা অসুবিধার কথা জানাতে সংকোচ করতে নেই। সংসারে চলতে গেলে ঝামেলা হবেই। ঝামেলা হলে নিজেরা মিটিয়ে নিবে। তা না হলে আমাকে জানাবে। আমাকে জানাতে না পারলে আমার ছেলেকে বলবে। সমস্যা হলে তার সমাধানও আছে। কিন্তু না জানালে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না। আমি কী বুঝাতে চেয়েছি বুঝতে পেরেছ?
ভিতরের অস্থিরতা যেন নিমিষে দূর হলো। লাবণ্য এবার সংকোচ বোধ করল না। মৃদু স্বরে জবাবে বলল,
– জি বাবা।
– আচ্ছা বসো। আমাদের সাথে বসে চা খাও। তোমার সাথে তো আমার তেমন কথা হয়নি কখনো।
লাবণ্য বেশ মনোযোগ দিয়ে শ্বশুরের বলা প্রতিটা কথা শুনে চলেছে। সে ভেবেছিল তার শাশুড়ির থেকেও তিনি বেশি গম্ভীর ধাঁচের হবেন। কিন্তু এমন কিছুই নয়। মাহাদের বাবা স্নাতক শেষ করে পারিবারিক ব্যবসায় হাত লাগায়। বাপ, দাদার আমলের ব্যবসা একসময় তিনি দেখলেও এখন সেইটার সম্পূর্ণ দায়িত্বভার সৌভিকের। বাবার বয়স হয়েছে ভেবে দুই ভাইয়ের কেউই বাবাকে কাজ করতে দেয় না। বলতে গেলে তিনি এখন অবসরপ্রাপ্ত হয়ে ঘরে পড়ে থাকেন। তাই বলে যে সারাদিন শুয়ে বসে কাটিয়ে দেন তা কিন্তু না। ভোর সকালে ফজরের নামাজ পড়েই হাঁটতে বের হবেন। সকালের নাস্তা করে কয়েক ঘণ্টা রেস্ট নিয়ে জোহরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যান। দুপুরের খাবার খেয়ে ঘণ্টা দুয়েকের জন্য ঘুম দেন। বাড়ির আঙিনায় ছোটো পরিসরে সবজি চাষের ব্যবস্থা করেছেন। ছোটোখাটো ফুলের বাগানও আছে। বিকেল সময়টা ওনার বাগানে পানি দেওয়া, পরিচর্যার কাজেই ব্যয় হয়ে যায়।
লাবণ্য প্রায় অনেকটা সময় শ্বশুর শাশুড়ির ঘরে বসে পার করে। তার শ্বশুর টুকটাক কথা বললেও শাশুড়ি মা পুরোটা সময় থমথমে মুখ করে বসেছিল। লাবণ্য পরখ করেছে সবটাই। বেশিক্ষণ বসে থাকল না সেখানে। সে বুঝতে পেরেছে তার এখানে থাকাটা সুরভীর ভালো লাগছে না। সেজন্য বেরিয়ে গেল।
_
লাবণ্যর হঠাৎ নাকে মুখে খাবার আটকে কাশি উঠে গেল। প্রচণ্ড কাশিতে মেয়েটার অবস্থা নাজেহাল। মাহাদ তড়িঘড়ি করে টেবিল ছেড়ে পানির গ্লাস হাতে দেয় মেয়েটার। সকলের আড়ালে পিঠে হাত রেখে চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করল,
– ঠিক আছো?
লাবণ্য মাথা নাড়ায়। মাহাদের উদগ্রীবতা নজর এড়ায় না লাবণ্যর। এক পলক চেয়ে পুনরায় খাবারে মনোযোগ দেয়। তবে গলা দিয়ে খাবার নামল না। কেমন যেন সবকিছু তিক্ত, বিষাক্ত লাগছে তার কাছে। প্লেটে খাবার রেখেই মেয়েটা উঠে গেল। মাহাদ নির্লিপ্তভাবে দেখল সব।
অনেকটা সময় পার হলেও লাবণ্যর চোখে ঘুম নামে না। দরজা খোলার শব্দে তড়িৎ চোখ বুজে লাবণ্য। মাহাদকে বুঝতে দিল না সে জেগে আছে। একপ্রকার নিঃশ্বাস আটকে শক্ত হয়ে পড়ে রইল। মাহাদ নিঃশব্দে বিছানার এক পাশে জায়গা দখল করে। অন্ধকারে, নিঃশ্বাসের শব্দ না পেয়েও বুঝল পাশের মানুষটা জাগ্রত। স্পষ্ট টের পেল শব্দহীন ছটফটে ভাব। নীরবতায় থমথমে কামরায় কেবল চলন্ত ফ্যানের আওয়াজ বিদ্যমান। নিশীথ তমসাকে যেন নিঃশব্দেরা গ্রাস করেছে। রাতের প্রহর বাড়ার সাথে ব্যস্ত নগরীর মানুষজন ঘুমে বিভোর। ব্যতিক্রম নয় মাহাদের পাশের শাড়ি পরিহিতা রমণী। মাহাদ আলগোছে পরখ করে নিল রমণী ঘুমিয়েছে কিনা। সামান্য ঝুঁকে চুমু খেল ঘুমন্ত বধূর ললাটে। চাঁদের পূর্ণ আলো লাবণ্যর মায়াময় মুখ জুড়ে। স্নিগ্ধ, মায়াময় মুখটা দেখে মাহাদ যেন বারংবার প্রেমে পড়ে! এই যে মেয়েটা নির্লিপ্ত থাকে সর্বদা, দেখেও অদেখা করে তার প্রেম। তাতেই যেন মাহাদের প্রেমিক হৃদয় ভেঙে খণ্ড বিখণ্ড হয়। ভগ্ন হৃদয়ের মাহাদ ফের প্রেমে পড়ে। বৈরাগী হয় লাবণ্য নামক কঠিন মানবীর প্রেমে। জোৎস্না রাতে ঘুমন্ত লাবণ্য চন্দ্র স্নানরত। তার মুখবিবরে যেন চুঁইয়ে পড়ছে শশাঙ্কের রোশনাই।
মাহাদ ধীর স্বরে ফিসফিস করে উঠল। নিস্তব্ধ কামরায় যেন প্রতিধ্বনিত হয় প্রতিটি শব্দ।
– হুট করে তোমার প্রেমে পড়েছি। অকারণে, অসংলগ্ন এক সময়ে।
দশ বছর আগে এক বিষণ্ণ বৈকালে দেখা মিলে ছিল বিষাদে ভীত সিক্ত আঁখি। খালার সাথে কদম মিলিয়ে বাড়ির আঙিনা পেরিয়ে যে চলতে ব্যস্ত। সেই নত মলিন মুখখানা দেখে রোষানলে জর্জরিত চোখের চাহনি শিথিল হয়ে আসে। গাঢ় গভীর চোখে ছাদের উপর থেকে একজোড়া তীক্ষ্ণ চোখের মালিক চেয়ে ছিল কিশোরী কন্যার পানে। তারপর থেকে যতবারই সাক্ষাৎ পেত রমণীর মনমরা, মলিন, ভীতি চাহনি ছাড়া অন্য কিছু দেখার সৌভাগ্য হয়ে উঠেনি মাহাদের। কৌতূহল জাগে মাহাদের। এমন ছোটো একটা মেয়ে দুরন্তপনা না করে সারাক্ষণ ঘর বন্দি করে কেন রাখে নিজেকে। সেই কৌতূহলই যেন মাহাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। মেয়েটাকে যত জানতে চেয়েছে ততই যেন তলিয়েছে অতল গহ্বরে।
_
চায়ের আসর বসেছে বসার ঘরে। বাড়ির মহিলারা সকালের নাস্তা সেরে আড্ডারত। সুরভীর ননাস এসে বসল বুশরার মায়ের পাশে। বুশরার মা খানিকটা অবাক হলেও স্বাভাবিকভাবেই কথায় মগ্ন হলেন। সুরভীর ননাসের স্বভাব অজানা নয় বুশরার মায়ের। মেয়ের কাছ থেকে জেনেছেন এই মহিলা খুব একটা সুবিধার না। ধুরন্ধর এই মহিলা ভাইয়ের সংসারে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য চালাতে সুযোগ খুঁজে বেড়ায়। বহু বছর পর এই বাড়িতে এসেছে। মূলত বাবার সম্পত্তি বুঝে নেওয়ার জন্যই এই বাড়িতে আসা। মাহাদের বিয়ে তো অজুহাত কেবল। বিয়ের এই ঝুট ঝামেলা শেষ হলেই জায়গা জমি ভাগাভাগির কথা তুলবেন। নিজ সম্পত্তির এক কানাকড়িও হাতছাড়া করবে না। অথচ ওনার স্বামী বেশ প্রভাবশালী। তবুও বাবার এই দোতলা বাড়ির ভাগ ছাড়তে নারাজ।
– আপনার মেয়েটা দেখতে ভারি সুন্দর আপা।
বুশরার মা এক পলক মেয়ের দিকে তাকিয়ে অপ্রস্তুত হাসলেন। ভদ্রমহিলা খানিকটা ঘনিষ্ঠ হয়ে বসতে বুশরার মা হকচকিয়ে ওঠে।
– আমার জায়ের ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং করছে। ওর বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজছে। আপনার মেয়েকে ভালো লেগেছে আমার। মেয়েটা বেশ নম্র ভদ্র। এখানে এসে থেকে দেখছি নিজের মতো চুপচাপ থাকে। অত চঞ্চলতা নেই মেয়েটার মাঝে। আপনার সম্মতি থাকলে আমি এই ব্যাপারে আমার জাকে বলে দেখব। ছেলে নিয়ে ভাববেন না। ছেলে লাখে এক।
বুশরা দূর থেকে দেখল মায়ের হাস্যোজ্জ্বল মায়াবী মুখ। মা যেন তার বেলায় সর্বক্ষণ কর্কশ। নয়তো এমন সুন্দর হেসে হেসে কথা বলে অন্যদের সাথে।
– মেয়ের তো বিয়ে ঠিক হয়ে আছে আপা।

