প্রফেসরের_জেদিলতা #আরিবা_নাওশীন #পর্ব_৩

0
3

#প্রফেসরের_জেদিলতা
#আরিবা_নাওশীন
#পর্ব_৩

সকাল ১০টা বেজে ৪৫ মিনিট। কলেজের করিডোর ধরে গম্ভীর পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন ড. আরশাদ খান আয়াজ। পরনে নেভি ব্লু কালারের ফরমাল শার্ট, কালো ট্রাউজার এবং হাতে একগুচ্ছ লেকচার শিট। চোখে সেই চিরচেনা কড়া ফ্রেমের চশমা। করিডোরে আড্ডারত ছাত্র-ছাত্রীরা প্রফেসর আয়াজকে আসতে দেখেই নিমেষের মধ্যে যে যার মতো ক্লাসরুমের দিকে সটকে পড়ল। কলেজের সবাই জানে, ক্লাসরুমে ড. আয়াজ আর একটা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি এক জিনিস কারও সাধ্য নেই তাঁর ক্লাসে এক সেকেন্ড দেরি করে ঢোকার।

এদিকে করিডোরের শেষ মাথায় বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে ছিল ঈনশু। তার পরনে একটা খুব সাধারণ নেভি ব্লু সালোয়ার-কামিজ, চুলে দুটো ক্লিপ আটকানো। বাইরে থেকে দেখতে তাকে খুব শান্ত ও সাধারণ মনে হলেও, তার চোখ দুটো সবসময়ই কোনো না কোনো চতুর বুদ্ধি খোঁজে। আয়াজকে দূর থেকে আসতে দেখেই তার জেদি মনটা আবার চাড়া দিয়ে উঠল। ও বন্ধুদের ফিসফিস করে বলল, “দেখ তোরা, গম্ভীর স্যার কেমন ভাব নিয়ে আসছে! কাল রাতে যে কাজী দেখে বিড়াল সেজেছিল, তা কি কেউ ভাবতেও পারবে?”

নিহা ঈনশুর কাঁধে ধাক্কা দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল, “ঈনশু, আস্তে বল! উনি তোর এখন হাসব্যান্ড হতে পারেন, কিন্তু এই ক্যাম্পাসে উনি বাঘ। একটু সাবধানে থাকিস।”

আয়াজ ধীর পায়ে তাদের পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার সময় একবারের জন্যও ঈনশুর দিকে তাকালেন না। তাঁর মুখভঙ্গি একদম পাথরের মতো শক্ত। ঈনশু মনে মনে বেশ চটল, “বাপ রে! বাড়িতে সকালে কপালে চুমু খেয়ে এখন কেমন অচেনা মানুষ সাজা হচ্ছে! দাঁড়া, তোর গম্ভীরগিরি আজ আমি ছুটিয়ে ছাড়ব।”

ঠিক বেল পড়ার সাথে সাথেই সবাই ক্লাসরুমে গিয়ে বসল। ঈনশু ইচ্ছে করেই একদম ফার্স্ট বেঞ্চের মাঝখানের সিটটায় গিয়ে বসল, যাতে প্রফেসরের একদম চোখের সামনে থাকা যায়।

আয়াজ ক্লাসরুমে ঢুকে ডেস্কে নিজের বই আর চশমার কেসটা রাখলেন। পুরো ক্লাসরুমে তখন পিনপতন নীরবতা। তিনি ব্ল্যাকবোর্ডের দিকে ঘুরে আজকের টপিক লিখতে লিখতে বললেন, “আজ আমরা পড়ব ডাইনামিক সাইকোলজি। হিউম্যান বিহেভিয়ার এবং তাদের জেদ কীভাবে মানুষের অবচেতন মনকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা নিয়ে আলোচনা হবে।”

টপিকের নাম শুনেই ঈনশু নিচু স্বরে বলে উঠল, “হুহ! নিজে আস্ত একটা রোমান্টিক ভন্ড, আর এখন আমাদের সাইকোলজি শেখাতে এসেছেন!”

আয়াজ চক হাতেই ঘুরে দাঁড়ালেন। তাঁর তীক্ষ্ণ চোখ জোড়া সরাসরি গিয়ে নিবদ্ধ হলো ঈনশুর ওপর। ক্লাসের বাকি ছাত্র-ছাত্রীরা ভয়ে শুকিয়ে গেল, ভাবল ফার্স্ট বেঞ্চের এই মেয়েটার আজ কপালে দুঃখ আছে।

আয়াজ গম্ভীর মুখে চশমাটা নাকের ডগায় একটু নামিয়ে ঈনশুর দিকে তাকিয়ে বললেন, “রোল নাম্বার ২৩, ইনশিরাহ খান। ক্লাসের মাঝখানে এভাবে বিড়বিড় করার কারণ কী? কোনো প্রশ্ন আছে আপনার?”

ঈনশু একদম সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে বলল, “জ্বী স্যার, প্রশ্ন আছে। আচ্ছা, কোনো মানুষ যদি বাইরে খুব গম্ভীর আর রাগী সেজে থাকে, কিন্তু ঘরের ভেতরে গিয়ে আস্ত একটা বোকা আর ইমোশনাল রোমান্টিক পার্সন বনে যায়, তবে সাইকোলজির ভাষায় তাকে কী বলে?”

পুরো ক্লাসরুমের বাতাস যেন জমে বরফ হয়ে গেল। নিহা বেঞ্চের নিচ থেকে ঈনশুর কামিজ ধরে টানতে লাগল বসে পড়ার জন্য। কিন্তু ঈনশু তার সেই জেদি আর চ্যালেঞ্জিং চাউনি নিয়ে আয়াজের দিকে তাকিয়ে রইল।

আয়াজ এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হলেন, কিন্তু পরক্ষণেই তাঁর ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে অতি সূক্ষ্ম, গোপন হাসি ফুটে উঠল যা ক্লাসের আর কেউ দেখতে পেল না। তিনি ডেস্কে দুই হাত রেখে ইনশুর দিকে একটু ঝুঁকে বললেন, “খুব ভালো প্রশ্ন, মিস ইনশিরাহ। সাইকোলজির ভাষায় একে বলা হয় ‘কন্ডিশনাল পারসোনালিটি’। যখন কোনো পুরুষ একটা অত্যন্ত জেদি, চতুর আর অবুঝ মেয়েকে মনে মনে ভীষণ ভালোবাসে, তখন সে দুনিয়ার সামনে বাঘ হলেও সেই মেয়েটার সামনে এসে স্বেচ্ছায় বোকা বনে যায়। কারণ সে জানে, ওই জেদি মেয়েটাকে শাসন করার চেয়ে ভালোবেসে আগলে রাখাটাই বেশি জরুরি। বুঝতে পেরেছেন, নাকি আরও প্র্যাক্টিকাল এক্সাম্পল দিতে হবে?”

আয়াজের এই শালীন কিন্তু চূড়ান্ত রোমান্টিক উত্তরে ঈনশুর গাল দুটো মুহূর্তের মধ্যে টকটকে লাল হয়ে উঠল। ক্লাসের বাকিরা অবশ্য ভাবল প্রফেসর বোধহয় কোনো গভীর মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্ব বুঝিয়েছেন। ঈনশু আমতা আমতা করে বলল, “না.. মানে… বুঝতে পেরেছি স্যার।” সে ধপ করে বেঞ্চে বসে পড়ল। টেবিলের নিচে তার হাত দুটো লজ্জায় কাঁপছিল। সে মনে মনে বলল, “উফ! এই লোকটার সাথে কথায় জেতা অসম্ভব! ক্লাসের মধ্যেও কেমন ঘুরিয়ে রোমান্টিক কথা বলে দিল!”

দুপুরের দিকে কলেজের লাইব্রেরিটা একদম ফাঁকা থাকে। ঈনশু লাইব্রেরির একদম পেছনের দিকের একটা বুকশেলফের আড়ালে দাঁড়িয়ে একটা মোটা সাইকোলজির বই উল্টাচ্ছিল। আসলে বই পড়ার চেয়েও তার মাথায় ঘুরছিল সকালের ক্লাসের সেই ঘটনাটা।

হঠাৎ করেই তার পেছন থেকে একটা চেনা সুবাস পাওয়া গেল। ঈনশু ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই কেউ একজন আলতো করে তার হাতের বইটা টেনে নিল। ঈনশু চমকে উঠে দেখল প্রফেসর আরশাদ খান আয়াজ একদম তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। লাইব্রেরির এই নিরিবিলি কোণায় তাঁর চোখে এখন আর কোনো প্রফেসরের কঠোরতা নেই, সেখানে কেবলই এক সমুদ্র ভালোবাসা।

“কী ব্যাপার মিস জেদিলতা? ক্লাসের মধ্যে ওমন ডাইরেক্ট প্রশ্ন করার সাহস কোথায় পেলে শুনি?” আয়াজ বইটা শেলফে রাখতে রাখতে নিচু ও মায়াবী স্বরে বললেন।

ঈনশু এক পা পিছিয়ে গিয়ে বুকশেলফে পিঠ ঠেকিয়ে বলল, “কেন? আমি তো জাস্ট একটা প্রশ্ন করেছি। আপনিই তো বললেন প্র্যাক্টিকাল এক্সাম্পল দেবেন। দিন না দেখি, কেমন এক্সাম্পল দিতে পারেন!”

আয়াজ একটু হাসলেন। চশমাটা খুলে বুকশকেটের ওপর রাখলেন। তারপর দুই হাত দিয়ে ঈনশুকে বুকশেলফের সাথে আলতো করে লক করে ফেললেন। তাদের মধ্যকার দূরত্ব এখন খুবই সামান্য, কিন্তু সেই দূরত্বের মাঝে জড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত শালীনতা ও পবিত্রতা।

আয়াজ ঈনশুর চোখের দিকে তাকিয়ে খুব নিচু স্বরে বললেন, “প্র্যাক্টিকাল এক্সাম্পল দেখতে চাও? এই যে ড. আরশাদ খান আয়াজ, যার এক ধমকে পুরো কলেজ কাঁপে, সে এখন লাইব্রেরির এক কোণায় নিজের চতুর আর জেদি বউয়ের সামনে এসে অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে আছে এর চেয়ে বড় এক্সাম্পল আর কী হতে পারে বলো?”

ঈনশু মুখটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, “ধুর! আপনি শুধু মুখে মুখেই কথা বলতে পারেন। আমি তো রনির ওপর জেদ করে বিয়েটা করেছি, আপনি কেন রাজি হলেন? আপনি তো পারতেন বিয়েটা ভেঙে দিতে।”

আয়াজ নিজের একটা হাত বাড়িয়ে ঈনশুর আলগা হয়ে যাওয়া চুলের একটা গোছা খুব সাবধানে তার কানের পেছনে গুঁজে দিলেন। তাঁর আঙুলের এই আলতো ছোঁয়ায় ইনশু চোখ বন্ধ করে ফেলল।

আয়াজ গভীর ও আবেগী গলায় বললেন, “তুমি জেদ করে রনির ওপর প্রতিশোধ নিতে চেয়েছ, আর আমি সেই জেদটাকে কাজে লাগিয়ে আমার বহু বছরের পুরনো ভালোবাসাটাকে নিজের করে নিয়েছি। কে বলল তুমি জেতেছ, ঈনশু? আসলে তো জিতেছি আমি। আমার এই ভালোবাসার খাঁচায় তুমি আজীবন বন্দি, জেদিলতা।”

ঈনশু চোখ খুলে আয়াজের সেই চশমা ছাড়া গভীর চোখের দিকে তাকাল। ঈনশুর ভেতরের সব অহংকার আর জেদ যেন এক নিমেষে গলে পানি হয়ে গেল। সে মৃদু স্বরে বলল, “আপনি বড্ড অদ্ভুত, আয়াজ ভাই।”

“এখনো আয়াজ ভাই?” আয়াজ একটু ফানি টোনে ভুরু কুঁচকে বললেন, “চাচাতো ভাই থেকে প্রমোশন হয়ে স্বামী হয়ে গেছি, সেটা কি ভুলে গেছ? নাকি আজ রাতে বাড়িতে মনে করিয়ে দিতে হবে?”

ঈনশু লজ্জায় আয়াজের বুকে মৃদু একটা ধাক্কা দিয়ে বলল, “ছাড়ুন তো! কেউ দেখে ফেলবে!”

আয়াজ এক পা পিছিয়ে গিয়ে চশমাটা আবার চোখে পরলেন এবং সেই চিরচেনা গম্ভীর প্রফেসরের রূপ ধারণ করে বললেন, “ঠিক আছে, ছেড়ে দিলাম। তবে হ্যাঁ, সায়েবকে বলে দিও দুপুর ১২টা পার হয়ে গেছে, ওর অ্যাসাইনমেন্ট কিন্তু আমি ক্যানসেল করে দিয়েছি। বাড়িতে গিয়ে ও আজ আমার হাতে কান ধরে দাঁড়াবে!”

ঈনশু হেসে ফেলল। এই মানুষটা যেমন গম্ভীর, তেমনই তার জন্য পারফেক্ট।

বিকেলের দিকে কলেজ শেষ করে ঈনশু আর আয়াজ যখন একসাথে বাড়িতে ফিরল, বাড়ির পরিবেশ তখন বেশ থমথমে। ড্রয়িংরুমে বসে আছেন শাপলা বেগম আর সুমি বেগম। সায়েব এক কোণায় মুখ কালো করে বসে আছে, কারণ আয়াজ সত্যি সত্যিই তার অ্যাসাইনমেন্ট বাতিল করে দিয়েছেন।

কিন্তু বাড়ির অন্য কোণায়, বারান্দার অন্ধকারের দিকে দাঁড়িয়ে ছিল শওকত। সে যখন দেখল ঈনশু আর আয়াজ একসাথে গাড়ি থেকে নামল এবং আয়াজ খুব যত্নে ঈনশুর মাথার ওপর রোদের ছাতাটা ধরে আছেন, তখন শওকতের চোখ দুটো হিংসায় আর কুটিলতায় জ্বলে উঠল।

শওকত মনে মনে ভাবল, “এত দেমাগ এই মেয়ের! আয়াজ ভাই প্রফেসর বলে নিজেকে খুব বড় কিছু ভাবে। দাঁড়াও, এই রূপের অহংকার আমি কেমন করে ভাঙি, তা শুধু আমিই জানি। জেবা তো একটা বোকা, ও কিছুই বুঝবে না।”

সে ধীর পায়ে ড্রয়িংরুমের দিকে এগিয়ে গেল এবং মুখে এক চিলতে মেকি হাসি ফুটিয়ে বলল, “আরে আয়াজ ভাই, ঈনশু তোমরা এসে গেছ? কলেজ কেমন কাটল আজ? ঈনশু, তোমার প্রফেসর বরের ক্লাসে কেমন পারফর্ম করলে?”

শওকতের এই অতি-ভদ্রতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিষাক্ত সুরটা ঈনশুর মোটেও ভালো লাগল না। সে কোনো উত্তর না দিয়ে সোজা নিজের মায়ের দিকে চলে গেল।

আয়াজ কিন্তু শওকতের দিকে এক মুহূর্তের জন্য তাকালেন। তাঁর চোখের সেই শীতল ও তীক্ষ্ণ চাউনি শওকতকে বুঝিয়ে দিল যে প্রফেসরের চোখকে ফাঁকি দেওয়া অত সহজ নয়। আয়াজ খুব কড়া গলায় বললেন, “শওকত, কলেজের কথা কলেজেই থাক। তুমি বরং জেবার দিকে একটু মনোযোগ দাও, ও বলছিল ওর শরীরটা ভালো নেই।”

শওকত একটু দমে গিয়ে বলল, “জ্বী ভাই, ঠিক বলেছেন।”

আয়াজ ঈনশুকে ইশারা করলেন ওপরে নিজের রুমে যাওয়ার জন্য। ঈনশু যখন সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠছিল, তখন সায়েব পেছন থেকে চুপিচুপি এসে তার হাতটা টেনে ধরল।

“কী রে ঈনশু! তুই তো আমার বোন ছিলি! প্রফেসরের ঘরের বউ হয়ে আমার অ্যাসাইনমেন্টটা ক্যানসেল করিয়ে দিলি? আজ রাতে দেখিস, দুলাভাইয়ের জুতো আমি লুকিয়ে রাখব!” সায়েব ফিসফিস করে দুষ্টুমি ভরা গলায় বলল।

ঈনশু হেসে সায়েবের মাথায় গাট্টা মে-রে বলল, “ফাঁকিবাজ কোথাকার! পড়াশোনা করবি না আর দোষ প্রফেসরের? যা, আজ রাতে তোকে আরও বেশি করে পড়তে বসাতে বলব!”

সায়েব মুখ ভেঙচে চলে গেল। কিন্তু ঈনশু যখন নিজের ঘরের দরজার সামনে পৌঁছাল, তখন তার মনে হলো এই চতুর, ফানি আর মিষ্টি পরিবারের মাঝেও শওকতের মতো একটা বিষাক্ত চরিত্র লুকিয়ে আছে। কিন্তু একই সাথে তার মনে এক অদ্ভুত স্বস্তি ও ভরসা কাজ করল; কারণ সে জানে, দুনিয়ার সব ঝড়ের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানোর জন্য তার সাথে একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান, গম্ভীর এবং মনে মনে ভীষণ রোমান্টিক প্রফেসর আছেন।

ঘরের ভেতরে পা রাখতেই ঈনশু দেখল আয়াজ চশমাটা টেবিলের ওপর রেখে আরাম করে সোফায় বসে আছেন এবং তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।
“কী দেখছ, জেদিলতা? ভেতরে এসো, আজ রাতে কিন্তু আমাদের একটা পেন্ডিং হিসাব চুকানো বাকি আছে!” আয়াজ ফানি সুরে চোখ টিপলেন।

ইনশু দরজাটা বন্ধ করে মনে মনে বলল, “এই প্রফেসরের চক্কর থেকে আমার আর মুক্তি নেই!”

চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here