#প্রফেসরের_জেদিলতা
#আরিবা_নাওশীন
#পর্ব_৭
রাতের শেষ প্রহরে যখন পুরো খান বাড়ি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন ঈনশুর চোখে এক ফোঁটা ঘুমও ছিল না। জানালার বাইরে রাতের অন্ধকার তখন আরও ঘনীভূত হয়েছে। ঈনশু বিছানার একপাশে গুটিসুটি মে-রে শুয়ে আয়াজের দিকে তাকাচ্ছিল। আয়াজ সোজা হয়ে শুয়ে আছে, তাঁর বুকটা নিয়মিত ওঠানামা করছে।
ঈনশু মনে মনে এক অদ্ভুত দোলাচলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। একদিকে রনির ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার চরম জেদ, অন্যদিকে হুট করে এই প্রফেসরের জালে জড়িয়ে যাওয়া। আর এখন যুক্ত হয়েছে শওকতের মতো একটা বিষাক্ত আপদ। সে তো ভেবেছিল নিজের জেদ আর চতুরতা দিয়ে সবাইকে নাচাবে, কিন্তু এই গম্ভীর লোকটা যেন তার সমস্ত জেদকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তাকে এক অদৃশ্য মায়ার চাদরে বেঁধে ফেলেছে।
সকাল হতেই পুরো বাড়িতে একটা অন্যরকম ব্যস্ততা তৈরি হলো। আয়াজ আজ বেশ ভোরেই ঘুম থেকে উঠে তৈরি হয়ে নিয়েছেন। পরনে তাঁর একটা গাঢ় ধূসর রঙের ফরমাল শার্ট, কালো ট্রাউজার। চশমাটা চোখে পরে তিনি যখন আয়নার সামনে নিজের চুলগুলো ঠিক করছিলেন, ঈনশু তখন বিছানা থেকে উঠে ধীর পায়ে তাঁর পেছনে গিয়ে দাঁড়াল।
ঈনশু আয়নার দিকে তাকিয়ে আয়াজের চোখের দিকে চোখ রেখে নিজের ঠোঁটকাটা গলায় বলল, “আপনি কি আজ সত্যিই শওকত ভাইয়ের গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন? আব্বু আর বড় আব্বুকে কী অজুহাত দেবেন? হুট করে জামাইয়ের বাড়ি যাওয়াটা কেমন দেখায় না?”
আয়াজ আয়না থেকেই ঈনশুর দিকে তাকাল। তাঁর ঠোঁটের কোণায় সেই পরিচিত, তীক্ষ্ণ অথচ মায়াবী হাসিটা ফুটে উঠল। তিনি ঘুরে দাঁড়িয়ে ঈনশুর একদম মুখোমুখি হলেন। ঈনশুর অগোছালো চুলগুলো আলতো করে কানের পেছনে গুঁজে দিতে দিতে খুব নিচু ও শান্ত গলায় বললেন, “ড. আরশাদ খান আয়াজ কখনো অজুহাত দিয়ে কাজ করে না, মিসেস জেদিলতা। কাকা আর আব্বুকে অলরেডি বলেছি যে, ওই এলাকায় আমাদের কলেজের একটা সেমিনারের জন্য যাচ্ছি। আর জামাইয়ের বাড়ি? শওকত তো এখনো জানেই না যে তার প্রফেসরের স্পেশাল ক্লাস আজ তার নিজের ঘরেই হবে।”
ঈনশু আয়াজের শার্টের কলারটা হাত দিয়ে চেপে ধরে একটু উদ্বিগ্ন গলায় বলল, “কিন্তু ও যদি কোনো ঝামেলা করার চেষ্টা করে? লোকটা মোটেও সুবিধার না। জেবা আপুর যদি কোনো ক্ষতি হয়?”
আয়াজ ঈনশুর দুই হাত নিজের শক্ত মুঠোয় নিয়ে নিলেন। তাঁর এই চশমা পরা গম্ভীর লুকটার আড়ালে যে কতটা তীব্র সুরক্ষাবোধ লুকিয়ে আছে, তা ঈনশু প্রতি মুহূর্তে টের পায়। আয়াজ ঈনশুর চোখের গভীরে তাকিয়ে বললেন, “ঝামেলা ড. আয়াজ ভয় পায় না, ঈনশু, ঝামেলা তৈরি করে যারা তাদের সাইজ করতে ও ওস্তাদ। জেবার কোনো ক্ষতি হবে না, কারণ শওকতকে আমি এমন একটা ট্রিটমেন্ট দেব যা ও জীবনেও ভুলবে না। তুমি শুধু বাড়িতে থাকবে, আর নিজের এই চতুর মাথাটা ঠান্ডা রাখবে। মনে থাকবে?”
ঈনশু আর কিছু বলতে পারল না, শুধু আলতো করে মাথা নাড়ল। এই মানুষটার ওপর এখন তার এক অন্ধ বিশ্বাস তৈরি হয়ে গেছে।
নিচে নামতেই দেখা গেল ডাইনিং টেবিলে সায়েব একটা বিশাল খাতা নিয়ে বসে আছে। তার চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে, দেখেই বোঝা যাচ্ছে প্রফেসরের ভয়ে কাল রাতে সে সত্যি সত্যিই ঘুমায়নি, থিসিস পেপার রেডি করেছে।
শাপলা বেগম আর সুমি বেগম টেবিলে গরম গরম লুচি আর হালুয়া দিচ্ছিলেন। সায়েব আয়াজকে নিচে নামতে দেখেই খাতাটা উঁচিয়ে ধরে আর্তনাদ করে উঠল, “আয়াজ ভাই! এই দেখো! তোমার ওই জল্লাদমার্কা ডেডলাইনের আগেই আমি পুরো থিসিস কমপ্লিট করেছি। এখন দয়া করে আমার ইন্টারনাল মার্কসটা কেটে জিরো দিয়ে দিও না!”
আয়াজ টেবিলের চেয়ার টেনে বসল। খুব গম্ভীর মুখে সায়েবের খাতাটা টেনে নিয়ে কয়েকটা পাতা ওলটাল। পুরো টেবিলে তখন নীরবতা। ঈনশু পাশে দাঁড়িয়ে নিজের মেকি লক্ষ্মী রূপটা অন করে বলল, “সায়েব, তুই তো আসলেই মিরাকেল করে ফেলেছিস! কাল রাতে তুই তাহলে গেম না খেলে সত্যি পড়াশোনা করেছিস?”
সায়েব ঈনশুকে চোখ রাঙিয়ে বলল, “তুই চুপ কর ইনশু! তোর ওই বর ঘরের মধ্যে জামাই সেজে থাকে আর কলেজের খাতা কাটার সময় কসাই বনে যায়! ওনার ভয়ে আমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।”
আয়াজ খাতাটা বন্ধ করে ডেস্কে রাখল। তারপর চশমাটা ঠিক করে সায়েবের দিকে তাকিয়ে খুব ঠান্ডা গলায় বলল, “হুম, কাজটা মোটামুটি হয়েছে। তবে কিছু জায়গায় ভুল আছে। আজ আমি একটা বিশেষ কাজে ঢাকার বাইরে যাচ্ছি, তাই তোমাকে একটা সুযোগ দেওয়া হলো। আগামী পরশু সকাল ১০টায় আমার ডিপার্টমেন্টের রুমে এসে এটা রি-সাবমিট করবে। যদি এবার কোনো ভুল পাই, তবে পুরো সেমিস্টার ড্রপ।”
সায়েব সোফায় ধপ করে বসে পড়ে বলল, “ধন্যবাদ আল্লাহ! হিটলার অবশেষে একটু দয়া দেখাল!”
ইসমাইল খান ধমক দিয়ে বললেন, “সায়েব! শিক্ষকের সাথে কথা বলার ধরন ঠিক করো।”
আয়াজ নাস্তা শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন। যাওয়ার সময় তিনি সবার কাছ থেকে বিদায় নিল। ঈনশু যখন পানির গ্লাসটা নিয়ে তাঁর কাছে গেল, আয়াজ সবার অলক্ষ্যে টেবিলের নিচে ঈনশুর শাড়ির আঁচলটা আলতো করে টেনে ধরল। ঈনশু চমকে উঠে আয়াজের দিকে তাকাতেই দেখল।
তিনি ফিসফিস করে বললেন, “আসছি, ঈনশু। নিজের খেয়াল রেখো। আর হ্যাঁ, বর্ডার লাইনটা কিন্তু আজ রাতে ফাঁকাই থাকবে, কোলবালিশ দিয়ে পাহাড় বানিও না আর।”
ঈনশু লজ্জায় লাল হয়ে এক পা পিছিয়ে গেল। এই লোকটা সবার সামনে কত বড় গম্ভীর প্রফেসর, আর আড়ালে গেলেই আস্ত একটা চোর! সে মনে মনে বলল, “যান তো! আপনার শুধু মুখে মুখেই যত কথা!”
দুপুরের পর। ঢাকার অদূরে শওকতের গ্রামের বাড়ির বৈঠকখানা। শওকত একটা লুঙ্গি আর ফতুয়া পরে আরাম করে সোফায় বসে সিগারেট ফুঁকছিল। সে ভাবছিল, ঈনশুকে দেওয়া চিঠিটা এতক্ষণে কাজ করে ফেলেছে। মেয়েটা নিশ্চয়ই ভয়ে কাঁপছে। জেবা রান্নাঘরে দুপুরের খাবার তৈরি করছিল।
ঠিক তখনই বাড়ির সামনে একটা কালো রঙের গাড়ি এসে থামল। গাড়ি থেকে নামলেন ড. আরশাদ খান আয়াজ। তাঁর চোখে সানগ্লাস, পরনের ধূসর শার্টের হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত নিখুঁতভাবে গুটানো। তাঁর হাঁটার ভঙ্গির মধ্যেই একটা তীব্র রাজকীয় ও কড়া ভাবমূর্তি প্রকাশ পাচ্ছিল।
বৈঠকখানায় আয়াজকে ঢুকতে দেখেই শওকতের মুখ থেকে সিগারেটটা ছিটকে মাটিতে পড়ে গেল। সে কোনোদিনও কল্পনা করেনি যে, প্রফেসর আয়াজ হুট করে তার এই গ্রামের বাড়িতে এসে হাজির হবেন।
“আয়াজ… আয়াজ ভাই? আপনি এখানে হুট করে?” শওকত আমতা আমতা করে দাঁড়িয়ে পড়ল। তার ভেতরের চতুর রূপটা মুহূর্তেই ভয়ে কুঁকড়ে গেল।
আয়াজ খুব শান্ত ভঙ্গিতে চোখের সানগ্লাসটা খুলল। তাঁর চোখের সেই শীতল ও ভয়ঙ্কর চাউনি দেখে শওকতের মেরুদণ্ড দিয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল। আয়াজ ধীর পায়ে এগিয়ে এসে শওকতের ঠিক সামনের চেয়ারটায় বসল। পা-টার ওপর পা তুলে চশমাটা ঠিক করতে করতে অত্যন্ত ঠান্ডা ও গম্ভীর গলায় বললেন, “বস শওকত। জামাইয়ের বাড়িতে বড় ভাই এসেছে, এত ঘাবড়ে যাচ্ছ কেন?”
জেবা আয়াজের গলার আওয়াজ শুনে রান্নাঘর থেকে ছুটে এলো, “ভাইয়া! তুমি এখানে? কোনো সমস্যা হয়েছে বাড়িতে?”
আয়াজ জেবাকে দেখে তাঁর মুখের কঠিন ভাবটা এক সেকেন্ডে লুকিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিলেন। বললেন, “না রে জেবা, কোনো সমস্যা নেই। এই এলাকার একটা কলেজে আমার একটা সেমিনার ছিল, তাই ভাবলাম তোদের একটু দেখে যাই। তুই একটু আমার জন্য চা বানা তো বোন।”
জেবা খুশি হয়ে রান্নাঘরে চলে গেল। জেবা চলে যেতেই বৈঠকখানার বাতাস আবার জমে বরফ হয়ে গেল।
আয়াজ পকেট থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজ বের করে টেবিলের ওপর রাখলেন। কাগজটা আর কিছুই নয়, শওকতের সেই বিষাক্ত চিঠি।
আয়াজ চিঠিটার ওপর নিজের একটা আঙুল রেখে শওকতের দিকে তাকাল। তাঁর কণ্ঠস্বর এবার এতটাই নিচু আর ইস্পাত-কঠিন হয়ে উঠল যে, শওকতের মনে হলো সে কোনো জল্লাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
“এই লেখাটা কার, শওকত?” আয়াজ শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল।
শওকত ঢোক গিলে বলল, “ভাই… আমি… ওটা তো জাস্ট একটা ইয়ার্কি ছিল… ঈনশু তো আমার শালী…”
আয়াজ হুট করেই টেবিলের ওপর রাখা কাঁচের অ্যাশট্রেটা এক ঝটকায় মেঝেতে আছাড় মে-রে ভেঙে ফেলল। কাঁচ ভাঙার তীব্র শব্দে শওকত ভয়ে এক পা পিছিয়ে গেল। আয়াজ চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। তাঁর ছয় ফিট উচ্চতার সেই গম্ভীর ও ভয়ঙ্কর ব্যক্তিত্বের সামনে শওকতকে তখন আস্ত একটা ইঁদুর মনে হচ্ছিল।
আয়াজ শওকতের শার্টের কলারটা এক হাতে শক্ত করে ধরে নিজের দিকে টেনে নিল। তাঁর চশমার আড়ালের চোখ দুটো তখন আগুন ছড়াচ্ছিল। তিনি শওকতের কানের কাছে মুখ নিয়ে কামড়ে কামড়ে বললেন, “কান খুলে শুনে রাখো শওকত। ঈনশু শুধু তোমার শালী নয়, ও ড. আরশাদ খান আয়াজের বিবাহিতা স্ত্রী। ওর দিকে যদি দ্বিতীয়বার তোমার ওই নোংরা নজর যায়, কিংবা ওর সীমানায় ঢোকার চেষ্টা করো তবে এই প্রফেসরের হাত শুধু খাতা কাটবে না, তোমার ওই নোংরা হাত দুটো শরীর থেকে আলাদা করে দেবে। জেবার দিকে তাকিয়ে আমি আজ তোমাকে ছেড়ে দিচ্ছি, কিন্তু এরপর যদি ঈনশুর আশেপাশেও তোমাকে দেখি, তবে তোমার এই নোংরা চরিত্রটা আমি সবার সামনে এমনভাবে টেনে বের করব যে তুমি সমাজে মুখ দেখানোর যোগ্য থাকবে না।”
আয়াজ শওকতকে একটা ঝটকায় সোফায় ফেলে দিল। শওকত ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সোফার কোণায় সেঁধিয়ে গেল। তার সমস্ত চতুরতা আর নোংরামি প্রফেসরের এই এক ধমকেই ধুলোয় মিশে গেল।
ঠিক তখনই জেবা চায়ের কাপ নিয়ে ঘরে ঢুকল। আয়াজ মুহূর্তের মধ্যে নিজের রাগ সামলে নিয়ে খুব স্বাভাবিক গলায় বললেন, “থ্যাঙ্ক ইউ জেবা। চা-টা বেশ ভালো হয়েছে। শওকত, তোমার চা-টা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে, খেয়ে নাও।”
শওকত কাঁপতে কাঁপতে চায়ের কাপ হাতে নিল, কিন্তু আয়াজের দিকে তাকানোর সাহস তার আর হলো না। সে বুঝতে পারল, এই প্রফেসরের সাথে পাঙ্গা নেওয়া মানে নিজের কবর নিজে খোঁড়া।
রাত ১০টা। আয়াজ যখন বাড়িতে ফিরল, তখন পুরো বাড়ি শান্ত। তিনি ধীর পায়ে নিজের ঘরে ঢুকল। ঘরের নাইট ল্যাম্পের হালকা নীল আলোয় চারপাশটা এক মায়াবী রূপ ধারণ করেছে।
ঘরে ঢুকতেই আয়াজ দেখলেন, ঈনশু এখনো ঘুমায়নি। সে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চাদর জড়িয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে ছিল। আয়াজের পায়ের শব্দ পেতেই সে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াল। তার চোখে তখন এক আকাশ উদ্বেগ আর প্রশ্ন।
“আপনি ঠিক আছেন? কোনো ঝামেলা হয়নি তো?” ঈনশু ছুটে এসে আয়াজের হাত ধরে জিজ্ঞেস করল। তার সেই চিরচেনা জেদি আর ঠোঁটকাটা ভাবটা এখন উধাও, সেখানে কেবলই স্বামীর জন্য এক তীব্র ব্যাকুলতা।
আয়াজ চশমাটা খুলে টেবিলের ওপর রাখল। তাঁর ক্লান্ত মুখে এক টুকরো পরম শান্তির হাসি ফুটে উঠল। তিনি দুই হাত বাড়িয়ে ঈনশুকে নিজের শক্ত বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। ঈনশুও এবার আর কোনো প্রতিরোধ করল না, সে নিজের সমস্ত সত্তা দিয়ে আয়াজের বুকে মুখ লুকিয়ে এক দীর্ঘ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
আয়াজ ঈনশুর চুলে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে খুব নিচু ও মায়াবী স্বরে বললেন, “সব ঠিক আছে, আমার জেদিলতা। বিষাক্ত মেঘ কেটে গেছে। শওকত আর কোনোদিন তোমার সীমানায় আসার সাহস পাবে না। প্রফেসরের ক্লাস ও খুব ভালো করে মুখস্থ করে নিয়েছে।”
ঈনশু আয়াজের বুক থেকে মুখ তুলে তাঁর চোখের দিকে তাকাল। এই আবছা নীল আলোয় আয়াজের চোখ দুটোকে তার পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জায়গা মনে হলো। সে মৃদু স্বরে বলল, “আপনি আসলেই একটা জাদুকর, আয়াজ। বাইরে এত গম্ভীর, আর আমার সামনে এসে এত রোমান্টিক কী করে হন?”
আয়াজ ঈনশুর কোমরে হাত রেখে তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিলেন। তাদের মাঝখানের কোলবালিশের বর্ডারটা আজ সত্যিই নেই। আয়াজ ঈনশুর কপালে নিজের ঠোঁট দুটো আলতো করে ছোঁয়ালে। সেই স্পর্শে ছিল এক পবিত্র ভালোবাসার গভীর আত্মসমর্পণ।
সে ঈনশুর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললেন, “কারণ দুনিয়ার সব ছাত্রকে শাসন করা যায়, কিন্তু নিজের ঘরের এই জেদি আর চতুর বউটার সামনে এসে স্বেচ্ছায় হেরে যাওয়ার মধ্যেই প্রফেসরের আসল আনন্দ। আজ থেকে তুমি শুধু আমার খাঁচায় বন্দি নও, ঈনশু, আমি নিজেই তোমার এই ভালোবাসার জালে আজীবন বন্দি হয়ে গেলাম।”
ঈনশু হেসে ফেলল। তার ভেতরের সব জেদ আর ভন্ডামি যেন এই একটি মানুষের ভালোবাসার শাসনের সামনে চিরকালের জন্য এক মধুর পরিণতি খুঁজে পেল
চলবে,,,

