#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [পর্ব-০৫]
#মেহুলিনা_প্রাপ্তি
দোলনা ছিড়ে পরতেই রোদেলা উপর থেকে নাক মুখ থুবড়ে মাটিতে ছিটকে পড়ে,
” আহ্ ”
করে আর্তনাদ করে উঠলো।
মুহুর্তেই একটু দূরে দাড়িয়ে থাকা গম্ভীর পুরুষটির চোখের কোমলতা মিলিয়ে সেখানে রাগের দেখা মিলল। মুহুর্তেই আহিয়ানের রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।ধপধপ পা ফেলে এগিয়ে গেল কিশোরীর নিকট।
রোদেলা ব্যথা পেয়ে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে উঠে বসতেই,
অন্ত,অনন্যা দৌড়ে রোদেলার কাছে গিয়ে রোদেলাকে ওঠার জন্য টানতে লাগলো।জয় একটু ছোট থাকায় সে দৌড় যেতে নিয়েও পিছয়ে গেল।অন্ত আর অনন্যা আগে চলে গেলেও, জয় তার ছোট ছোট পায়ে দৌড়ে তার মামীর কাছে যাচ্ছিল,তখনি দেখলো একটা বিশাল ছায়া তার পিছু আসছে।মুহুর্তেই পলক ঝাপ্টানো আগে পুঁচকে জয় অনুভব করলো, বিশাল ছায়াটা তাকে অতিক্রম করে ফেলেছে ইতিমধ্যে । জয় সামনের ছায়ার মালিকের দিকে চোখ তুলে তাকাবারও সুযোগ পেল না।তার আগেই আহিয়ান নিজের ছোট ভাগ্নেকে একটানে কাঁধে তুলে নিলো। তারপর আগের মতোই গম্ভীর মুখে এগোতে থাকলো রোদেলার দিকে।
জয় এখন আহিয়ানের কাঁধে লটকে আছে।অন্ত আর অনন্যা তাদের মামীকে দুই দিক থেকে ধরে ঝাকাচ্ছে উঠে বসার জন্য।রোদেলা বেশি ব্যথা না পেলেও বাম হাতের কবজিতে চোট পেয়েছে ভালোই।অন্ত আর অনন্যাকে বস্ত্য হতে দেখে রোদেলা নিজেকে সামলে বাম হাতের কবজিটা অপর হাতে চপে ধরল।রোদেলা বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের ব্যথা টুকু গিলে উঠতেই নিচ্ছিল কিন্তু তার আগেই আহিয়ান রোদেলার একটা হাতের কবজি টেনে ঠাস করে বসা থেকে দাড় করিয়ে দিল।ছোট জয় তার মামার কাঁধ থেকে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে রোদেলাকে দেখার চেষ্টায় মত্ত।হঠাৎ আক্রমণে রোদেলা সহ অন্ত আর অনন্যাও গতি হাড়িয়ে নড়েচড়ে দাড়ালো।কি হলো ব্যপারটা বোঝার আগেই আহিয়ানের গম্ভীর গলার ধমক শোনা গেল,
” এই মেয়ে তুমি কি আছাড় খাওয়ার উপর পিএইচডি করে রেখেছো।কাল থেকে দেখলাম এটাই খাচ্ছো।কেন তোমাকে কি ভাত দেয়নি এই বাড়িতে?
আর এই বাজে দড়ি দিয়ে দোলনা বেঁধেছিলে কোন আক্কেলে?এখন যদি তুমি না পড়ে ওরা পড়তো তখন কি হতো ? এখনও ছোট মানুষি পুষে রেখেছো মনে,তাহলে স্বামীর ঘর করতে ধেই ধেই করে বিয়ে করলে কেন মেয়ে?এখন তো আপদ আমার ঘাঢ়েও চাপিয়েছো।এতোই অবুঝ যখন,তখন মায়ের আঁচলের নিচেই থাকলে পারতে।এরকম অনাচার সৃষ্টি করতে আমার বাড়িই পেয়েছিলে মেয়ে? ”
রোদেলার বুকের ভেতরটা কেউ যেন হাতুড়ি পিটা করে সব ভেঙে দিচ্ছে।আহিয়ানের প্রতিটি কথা তার বুকে তীরের ফলার মতো বিঁধে গেল।অন্ত,অনন্যা তার মামাকে দেখেই খুশিতে তার মামার দুই পা জড়িয়ে ধরেছিল।কিন্তু রোদেলাকে,আহিয়ানের ধমকিয়ে বলা কথা গুলো শুনে তারা তিন জনই ভয়ে সিটিয়ে গেল। অন্ত আর অনন্যা রোদেলার কাছে সরে গিয়ে মাথা নিচু করলে দাড়ালো।
রোদেলার চোখের টলটলে পানিটুকু এবার স্বচ্ছ মসৃণ কপোল বেয়ে গড়িয়ে পরলো।রোদেলা ঠোঁটে ঠোঁট কামড়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে আহিয়ানের দিকে তাকালো।আহিয়ানের চোখে মুখ এখনও বেজায় শক্ত।রোদেলার সেই শক্ত চোখ মুখ বেশ যত্ন করে দেখে নিল। তারপর এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দিয়ে বলল,
” মায়ের আঁচলের নিচেই থাকতে চেয়ে ছিলাম সাহেব।তবে সবার ভাগ্যে তো আর মায়ের আঁচলের ছায়া জোটে না।আমার ভাগ্যেও জোটেনি।তবে আমি বোধয় একটু বেশিই কপাল পুড়া।তাইতো মা-বাবা দুইজনের ছায়ায় আল্লাহ আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছেন। ”
রোদেলা কথা গুলো বলেই চোখের পানি মুছতে মুছতে দৌড়ে চলে গেল বাসার ভিতরে।
রোদেলার কথা গুলোতে আহিয়ানের চোখে মুখে কিছুটা শীতল ভাব নামলেও। তার চোখ মুখ আগের ন্যায় শক্ত।রোদেলাকে যতোক্ষণ দেখা গেল ততোক্ষণ চারজোড়া চোখ তার দিকে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো।রোদেলাকে এবাবে চলে যেতে দেখে আহিয়ান ঠোঁটে ঠোঁট কামড়ে কি যেন বিড়বিড় করলো। অন্ত আর অনন্যা আহিয়ানের হাত ধরে ঝাকুনি দিতেই আহিয়ান নিচে তাকিয়ে ভাগ্নি ভাগ্নেকে দেখে বলল,
” তোমরা আবার কোথাও ব্যথা পাওনি তো?
তোমাদের আর এসবে চড়তে দেখিনা যেন। ”
অন্ত আর অনন্যা মাথা নাড়িয়ে আপাদত মামার ভয়ে,
‘ না ‘ বলে দিল।তবে তারা মনে মনে ঠিক করে রেখেছে আবার একটা ভালো দড়ি দিয়ে দোলনা বাঁধবে।তবে আহিনের কাঁধে জয় ফিচেল হেসে অকুতোভয় এর ন্যায় বলল,
” আমি তো চব্বো। মামী আমাতে বানিয়ে দিবে। ”
আহিয়ান ছোট ভাগ্নের কথায় ভ্রঁ কুঁচকে নিল।ভাগ্নেকে বগলদাবা করে সামনে এনে বলল,
” কে বানিয়ে দিবে বলো তো আবার? তোমাদের চারকে একসাথে গাছে ঝুলাবো আমি,দাড়াও। মামীর বাহাদুরি দেখাচ্ছো আমার সাথে? ওইটাও তো তোমাদের মতো পুঁচকে ইতর। ইতরামি করে ব্যথা পেয়ে এখন আবার চোখের পানি নাকের এক করছে। হাবা কোথাকার। ”
অনন্যা তার মামার হাত ধরে ঘেঁষে দাড়িয়ে বলল,
” মামী অনেক ভালো আর মিষ্টি ”
আহিয়ান ঠোঁট বাকিয়ে হাত নাড়িয়ে হুশ করার ভঙিমা করে বলল,
” মিষ্টি হলে নিশ্চয়ই, পিঁপড়েদের লাইন থাকতো তোমাদের মামীর পিছে। কই তোমাদের মামীর শরীরে কি কোথাও পিঁপড়ে দেখেছো ? ”
অন্ত,অনন্যা এমনি ছোট জয়ের ভ্রুঁ কুঁচকে গেল আহিয়ানের কথায়।তাদের ছোট মগজে চিন্তা চলছে,
” আসলেই কি তাদের মামীর শরীরে পিঁপড়ে এসে বসে?কারণ তাদের মামী তো মিষ্টিই। তাহলে পিঁপড়ে গুলো কি তাদের মিষ্টি মামীকে কামড়িয়ে দিয়ে যায়। ”
____________
সন্ধ্যার একটু পরে,
শহরের মাঝখানে অবস্থিত নাম করা হোটেলের বিশাল রুফটপে পার্টি চলছে। এই এরিয়াটা দেখে মনে হচ্ছে যেন আলোর এক রাজ্য। চারপাশ জুড়ে ঝলমলে ফেয়ারি লাইট আর নরম গোল্ডেন ল্যাম্পের আলো পুরো পরিবেশটাকে করে তুলেছে স্বপ্নময়। ছাদের একপাশে সুন্দর করে সাজানো বসার জায়গা, নরম সোফা আর কাঠের টেবিলগুলো ঘিরে অতিথিদের আড্ডা বসেছে।এখানেই একটা বিলাষ বহুল টেবিল জুড়ে বসে আছে মেজর শায়ান শিবলী।তার দলের আরও চার পাঁচ জন সদস্যও বসে আছে তার পাশের চেয়ার গুলোতে।তাদের দেখেই বোঝা যাচ্ছে খুব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ব্যস্ত তারা। দূর থেকে ভেসে আসা মৃদু মিউজিকের সুর এবং থেকে থেকে মেজর শায়ান শিবলীর দলের প্রত্যেকটা মানুষের হাসি শোনা যাচ্ছে।মৃদু মিউজিকের সুর তাল মিলিয়ে পরিবেশটাকে আরও মাদকতাময় করে তুলছে।দূরের ফেয়ারী লাইট রাতের পরিবেশের সঙ্গে মিশে এক আলাদা আবহ তৈরি করেছে।
মেজর শায়ান শিবলীকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে তিনি বেশ খোশ মেজাজে আছেন আজ। তার হাবভাবই বলে দিচ্ছে আহিয়ানকে সাসপেন্ড করাতে পেরে সে ঠিক কতটা খুশি হয়েছে।তাদের থেকে একটু দৃরেই দাড়িয়ে আছে আহিয়ানের দলের ক্যাপ্টেন জাহিদ জায়ান।সে দূর থেকে শীবলীর হাসি দেখে ফুঁসছে।জায়ান এর মাথায় আসে না একটা লোক নিজের পার্সোনাল শত্রুতার জেদ কতটা নিচু হলে,একজন মেজর কে সাসপেন্ড করাতে চাল চালতে পারে।জায়ানের থেকে একটু দূরেই দাড়িয়ে আছে ল্যাফটেন্যান্ট সাবিলা নূর সুহানি।তারা সবাই এখানে মেজর জেনারেল রাফতান রশিদের একমাত্র মেয়ে ল্যাফটেন্যান্ট রামিশা রশিদের জন্মদিনের পার্টিতে এসেছে।আহিয়ানেরও এখানে ইনভাইটেশন আছে।তাকে রামিশা স্প্যাশাল ভাবে ইনভাইট করেছে।রামিশা এখনও আহিয়ানের বিয়ে করে নেওয়ার খবরটা জানে না। রাফতান সাহেব ইচ্ছে করেই ব্যপারটা চপে গেছেন মেয়ের কাছে। সব গেস্টরা চলে এলেও আহিয়ান এখনও এই পার্টিতে এসে পৌঁছায় নি।আসবে কিনা তাতেও জায়ান আর সুহানির যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
রুফটপের কিনারা জুড়ে ছোট ছোট গাছ আর ফুলের টবে সাজানো হয়েছে। এগুলো দেখে মনে হচ্ছে কংক্রিটের শহরের মাঝেও একটু প্রকৃতির ছোঁয়া দিচ্ছে। ওপরে খোলা আকাশ, অসংখ্য তারা আর দূরের শহরের আলো মিলেমিশে জায়গাটাকে আরও মোহনীয় করে তুলেছে। মাঝখানে বড় ডান্স ফ্লোর, যেখানে রঙিন লাইটের ঝলকানিতে সবাই আনন্দে মেতে উঠেছে।পুরো রুফটপ এরিয়াটা হয়ে উঠেছে আধুনিকতা আর সৌন্দর্যের এক নিখুঁত মিশ্রণ।সবাই আনন্দে মেতে থাকলেও যার সবচেয়ে বেশি আনন্দে মেতে থাকার কথা সেই আজ, মন মরা হয়ে ফোনে এক গম্ভীর পুরুষের নাম্বারে কলের পর কল দিয়ে যাচ্ছে।কিন্তু রামিশা আহিয়ানের ফোনে যতবার কল দিচ্ছে ততো বারই মেয়েলী রিনরিনে কন্ঠ জানান দিচ্ছে,
“আপনি যে নম্বরে কল করেছেন, সেটি এই মুহূর্তে বন্ধ আছে। অনুগ্রহ করে একটু পরে আবার চেষ্টা করুন।”
“The number you are trying to reach is currently switched off.”
এভাবে কয়েক বার এক নাগাড়ে কল করার পর যখন যখন বারবার রামিশা বিপরীত পাশ থেকে একই কথা শুনতে পেল তখন বিরক্ত হয়ে এক আছাড় মেরে নিজের আইফোনটা ভেঙে ফেলল।
কোনো কিছু ভাঙার আওয়াজ পেতেই উপস্থিত সব গেস্টরা তড়াক করে তাকালো রামিশার দিকে।রাফতান রশিদ তীক্ষ্ণ বুদ্ধির লোক।পরিস্থিতি কি ঘটেছে তা তিনি আগেই আন্দাজ করে নিয়ে মেয়ের কাছে ছুটে গেল।রাফতান রশিদের পিছু পিছু মিসেস দিলরুবা রশিদও ছুটে গেলেন একমাত্র আদরের মেয়ের কাছে।
_________
সন্ধ্যার একটু পরে আহিয়ানের বাল্যকালের তিন বন্ধু এসেছে আহিয়ানদের বাসায়। আহিয়ান সন্ধ্যার আগে আগে কোথাও গিয়েছিল। এখনও বাড়িতে ফিরেনি সে।সাদাফ,রাফীন,রিদম,আরাফাত,আহিয়ান আর শিবলী বাল্যকালের বন্ধু।তারা ছোট থেকে সবাই এক সাথে বড় হয়েছে।এক স্কুলে পড়েছে।এমনি কলেজও এক সাথে পড়েছে।আগে আহিয়ানদের বাসায় সবার অনেক যাওয়া আসা হতো।কিন্তু আহিয়ান আর্মিতে চলে যাবার পর তা অনেকটা কমে এসেছে।এখন কেবল আহিয়ান বাড়ি ফিরলেই তাদের বাড়িতে আগের মতো আড্ডা বসে।
সাদাফ,রাফীন, আরাফাত আর রিদমকে শিবলী বড় গলায়া বিকেলে নাকি কল করে জানিয়েছে,তাদের জানের জিগার দোস্ত ‘ মেজর আহিয়ান অভ্র ‘ বাল্যবিবাহ করে ছয় মাসের জন্য সাসপেন্ড হয়েছে।আহিয়ানদের বাল্য কালের বন্ধুদের এই গ্রুপে আহিয়ানকে সবাই দলনেতা মানে।সবাই সব কাজে ছোট থেকে আহিয়ানকে ফলো করে আসছে।তবে শিবলীর মাঝে সবসময় নিজেকে জাহির কররার একটা ব্যপার লক্ষ্য করা যেত।এরা সবাই জানে শিবলী মন থেকে আহিয়ানকে হিংসা করে।তাই হয়তো আহিয়ানের নামে তাদের কাছে মিথ্যা বলেছে।তবে এলাকার গলির দোকানদারের কাছে রিদম বিকেলে জেনেছে আহিয়ান নাকি দুইদিন ধরে বাড়ি ফিরেছে।গলির দোকানে নাকি কয়েকবার চাও খেয়ে এসেছে।সেই কথা জানার পর রিদম সবাইকে নিয়ে আসল তথ্য উদঘাটন করতে আহিয়ানদের বাড়িতে এসেছিল।এখন এখানে আসার পর,তারা সত্যিটা জানার পর আরও ঝটকা খেয়েছে।তবে আহিয়ানের পরিবারই সবচেয়ে বড় ঝটকাটা খেয়েছে,যখন তারা শুনতে পারলো আহিয়ানকে বাল্যবিবাহ করার অপরাধে ছয় মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে আর্মি থেকে।
সবাই হতভম্বের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।মাশরিফা তো সব শুনার পর নিজের প্রেশার বাড়িয়ে ফেলেছে।আহিয়ানের দুলাভাই ,আপরা খুব কষ্ট পেয়েছে।তবে আহিয়ানের বাবা জাবির সাহেব বোধহয় সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন।কারণ তিনি ভালো করেই জানেন ছেলের কাছে এই পেশাটা কত সম্মান আর গুরুত্বপূর্ণ ছিল।নিজের স্বপ্ন পূরণে ছেলেকে কম কষ্ট করতে তো দেখেননি তিনি।যদিও আবার জয়েন করতে পারবে।তবে এই যে একটা দাগ লেগে গেল এটার কি হবে?জাবির সাহেব সব কিছু শুনে চুপচাপ সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছে।ছেলের ফোনে সে কয়েক বার ট্রাই করেছিল তবে বারবার বন্ধ বলছিল বলে, নিজেই হাটতে হাটতে বাইরে বেরিয়ে গেল ছেলেকে খুঁজতে ।
সাদাফ,রাফীন,আরাফাত আর রিদমের এতোক্ষণে মাথা খুলেছে।তারা বুঝতে পারলো ভুল জায়গায় ভুল কথা বলে ফেলেছে তারা।আহিয়ানের সাসপেন্ড হওয়ার কথা গোপণ ছিল তা তারা আগে জানতো না।সবার হুঁশ ফিরতেই সাদাফ,রাফীন,আরাফাত আর রিদম এক সাথে চেঁচিয়ে বলল,
” আন্টি আমরা ঠিক জানি না। বিষয়টা শিবলী আমাদের সাথে প্রাঙ্ক করেও বলতে পারে।আপনি এতোটা চিন্তিত হবেন না প্লিজ।আমরা দেখছি বিষয়টা। ”
কথাগুলো বলেই তারা চারজন আহিয়ানের বাবার পিছু পিছু ছুটতে লাগলো।
এই সব কিছু দূর থেকে পর্দার আড়ালে দাড়িয়ে দাড়িয়ে শুনছিল রোদেলা।এবার যেন রোদেলার সব দুঃখ কোথায় চাপা পড়েছে।রোদালার কানে রাফীনের বলা একটা কথায় বাজছে,
” আহিয়ানকে নাকি বাল্যবিবাহ করার অপরাধে সাসপেন্ড হতে হয়েছে? ”
রোদেলার এসব শোনার পর খুব খারাপ লাগছে।তার মনে হচ্ছে সে আসতে না আসতেই আহিয়ানের জীবনে সে ক্ষতি করে দিয়েছে।আহিয়ানের কড়া কথা গুলোও এখন তার কাছে খুব তুচ্ছ মনে হচ্ছে।লোকটা তার মাকে বিয়ের দিন এই কথাটায় হয়তো বারবার বোঝাতে চেয়েছিল।তাছাড়া রোদেলার মনে হলো সে তো আহিয়ানের যোগ্য নয়।রোদেলা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল,
” উনি ঠিকি বলে, আমি সত্যিই উনার ঘাঢ়ে আপদ হয়ে উঠেছি। ”
তখনি আফিয়ার রাশভারী আওয়াজের এক ধমক এলো,
” বলিস কি মেয়ে? এসব কথা আর একদিন মুখে আনলে খবর আছে তোর বলে দিলাম। ”
আফিয়ার কথায় রোদেলা চোখের পানি লুকানোর চেষ্টা করে বলল,
” তুমি বুঝবে না নানুমনি।আমি তোমার নাতির জন্য আপদি।দেখলে না ওনার বন্ধুরা কি বলে গেল।আমাকে বিয়ে করে ওনার সম্মানে দাগ লেগে গিয়েছে।ছয় মাসের জন্য সাসপেন্ড হয়েছেন। আমি আসলেই অপয়া নানুমনি।যেখানেই যাব সবার ক্ষতিই করে বসবো। ”
আফিয়া কিছু বলতে নিবে,তার আগেই মাশরিফা রুমে এসে রোদেলার গায়ে ঠাস করে এক চড় মেরে দিল।রোদেলা বিষ্ময়ে হতোভাগ হয়ে সামনে তাকিয়ে দেখলো তার শাশুড়ি তার দিকে বিরক্ত মাখা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
চলবে…..
( সবাই গল্প সম্পর্কে মতামত জানাবেন )

