#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [ পর্ব-০৬ ]
#মেহুলিনা_প্রাপ্তি
রোদেলা আকস্মিক মা রূপি শাশুড়ির হাতের চড় খেয়ে,ভড়কে গিয়েছিল। গালে হাত দিয়ে টলমলে পানি ভরা চোখে শাশুড়ির দিকে তাকিতেই মাশরিফা বিরক্তিতে বললো,
” আজকে প্রথমবার আমার সামনে নিজেকে আপদ আর অপয়া বলেছে তাই একটা চড় দিলাম।দিত্বীয় বার নিজের সম্পর্কে এসব বাজে কথা মুখে আনলে আরও অধিক শাস্তি পাবে।বুঝেছ? ”
আফিয়া আর রোদেলা বিষ্ময়ে চমকে তাকালো মাশরিফার দিকে।রোদেলা চোখের টলমলে পানিটা আটকে চোখ নামিয়ে নিল। তারপর সমানে মাথা নাড়িয়ে বুঝালো ” সে বঝেছে। ”
মাশরিফা আর কিছু না বলে দ্রুত প্রস্থান করলো।তারপর কয়েক মিনিট পেরুতেই মাশরিফা রোদেলাকে আবার ডাকলো। মাশরিফা লিভিং রুমে বসে আছেন,সেখান থেকেই ডাকলো রোদেলাকে।রোদেলা
আফিয়ার পান-সুপারির বাটায় সুপারি কেটে রাখছিল।আফিয়া আঁধ শোয়া হয়ে নাত বউ এর সুপারি কাটা দেখছিল আর গল্প করছিল।মাশরিফার ডাক শুনে আফিয়া রোদেলাকে বলল,
” মাশরিফা ডাকে তোরে। যা দেখে আয় তো। ”
আবারও লিভিং রুম থেকে মাশরিফার গাম্ভীর্য মিশ্রিত ধ্বনি শুনা গেল,
” রোদেলা, কোথায় তুমি? এখনো আসলে না? ”
রোদেলা শাশুড়ির ডাকে তাড়াহুড়ো করে উঠে বসলো। সুপারি কাটার সরঞ্জাম বিছানায় ফেলে দিয়ে দৌড়ে আসতে আসতে বলল,
” আসছি মা,আসছি। ”
রোদেলি লিভিং রুমে পৌঁছে দেখলো মাশরিফা তেলের বোতল হাতে নিয়ে বসে আছে।রোদেলা আসতেই মাশরিফা নিজের সামনে রাখা মোড়াটা দেখিয়ে বলল,
” বসো।মাথার কি আবস্থা করে রেখেছো দেখেছো? আসো মাথায় তেল দিয়ে দিই। ”
রোদেলা মা রূপি শাশুড়ির শাসন মাখা আদেশ টুকু শুনে তড়াক করে তাকালো।এভাবে কেউ তাকে এতো আদর করে ডেকেছে কিনা মনে করতে পারো না রোদেলা।মা নেই তার অনেক দিন।মায়ের আদর কেমন হয় সে ভুলতে বসেছে।মাশরিফার মাঝে সে আবার মা মা একটা গন্ধ পাচ্ছে। রোদেলার মুখশ্রীতে একটা মিষ্টি হাসি ফুটে উঠলো।রোদেলা মাথা নাড়িয়ে বসতে বসতে বলল,
” আপনি খুব মিষ্টি মা।আমি কি আপনাকে তুমি করে আর আম্মু বলে ডাকতে পারি ? ”
রোদালা বসতেই মাশরিফা রোদেলার মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে মিষ্টি করে বলল,
” ডাকতে পারিস সোনা। এটা আবার জিঙ্গাস
করতে হয়। ”
রোদালে খুশি হয়ে মাথা নাড়িয়ে হেসে বলল,
” তুমি খুব মিষ্টি আম্মু। তবে তোমার ছেলেটা…..”
রোদেলা আর কিছু না বলে থেমে গেল।মাথা ঘুরিয়ে সামানে তাকিয়ে চোখ বুজে নিল লজ্জায়।যতই হোক মাশরিফা শাশুড়ি তার।মায়ের সামনে বসে ছেলের বদনাম করাটা ঠিক হবে না তাই সে চুপ করলো।রোদলাকে চুপ করে যেতে দেখে মাশরিফা মৃদু হেসে বলল,
” তবে আমার ছেলেটা কি?বললি না যে?
রোদেলা লজ্জায় মাথা নুইয়ে মৃদু সুরে বলল,
“একটা আস্ত জল্লাদ। ”
মাশরিফা রোদেলার মাথার হাতখোপা করে বেঁধে রাখা চুলগুলো খুলে দিতে দিতে বলল,
” সাহস থাকলে এটা আমার ছেলের সামনে বলে আসিস।”
রোদালা শাশুড়ি কথায় আমতা আমতা করে বলল,
” তোমার রাগী ছেলে আমাকে দেখতেই পারে না।এখন এটা বললে দিবে ধরে এক আছাড়।তারপর আমার চন্দ্রবিলাস হয়ে যাবে। ”
রোদেলার কথায় মাশরিফা নিজের চির চেনা গম্ভীর ভাব কাটিয়ে আবার হেসে ফেললেন।মাশরিফা রোদেলার মাথায় আস্তে গাট্টা মেরে তেলের বোতল হাতে নিলেন।
রোদেলা মাশরিফার সামনে ছোট মোড়াতে বসেছে।মাশরিফা নিচু হয়ে ছোফায় বসে রোদেলার মাথায় বিলি কেটে তেল দিয়ে দিতে লাগলো।রোদেলা আয়েশে মাথা এলিয়ে দিয়ে এক হাতে তেলের বোতল ঘোরাচ্ছে আর সেটা দেখছে।মাশরিফা একটা ছোট প্লেটে পরিমাণ মতো তেল নিয়েছে।সেখানে আঙুল ছুঁইয়ে তেল নিয়ে, রোদেলার মাথার স্ক্যাল্পে আলতো করে দিয়ে দিচ্ছে।রোদালে নিজের শাশুড়ির পরম মমতাটা প্রাণ ভরে উপভোগ করছে।রোদেলা বাবা -মা হারা মেয়ে।তাই তার কাছে মাশরিফার এই যত্ন টুকুই স্বর্গ সুখের সমান।রোদেলা নিজের সামনে চুলে আঙুল পেচাচ্ছে আর খুলছে।
রোদেলার মাশরিফার এই আদুরের ছোঁয়াটা বেশ ভালো লাগছে।মায়েরা বুঝি এমনি হয়। রোদেলার এই প্রথম নিজেকে বেশ ভাগ্যবতী মনে হলো এমন ভালো মা রূপি শাশুড়ি পেয়ে।একটু পর অন্বেষা আর অবন্তি এলো লিভিং রুমে।তাদের স্বামীরা বাসায় নেই।অন্ত আর অনন্যা পড়ছে।জয় ছোট মানুষ ও একটু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গিয়েছে।অন্বেষা মেয়েকে আর ছেলেক পড়া লিখতে দিয়ে এসে বসেছে।অন্বেষা আর অবন্তি নিজের মাকে পরম যত্ন করে রোদেলার মাথায় তেল দিয়ে দিতে দেখে,তারা দুজন একে অপরের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে নিল।তারপর অন্বেষা মায়ের দিকে ভ্রঁ নাচিয়ে বলল,
” শাশুড়ি নতুন বউকে মাথায় বিলি কেটে, তেল দিয়ে দিচ্ছে। দৃশ্যটা আসলেই বিরল।তা আমাদের ভাগের আদরটা কোথায় মম? ”
রোদালা হাসি মুখ করে বলল,
” তোমরা বড় হয়ে গিয়েছো আপু।তোমাদের সবারটা এখন আমার দখলে। আমি এখন আম্মুর থেকে সব আদর নিব।”
রোদেলার কথায় অবন্তি হেসে বলল,
” ওরে পাঁকা বুড়ি তাই নাকি? ”
মাশরিফার দুই পাশে অবন্তি আর অন্বেষা গিয়ে বসলো।তখনি সদর দরজা দিয়ে আহিয়ান ঢুকলো।গলা খাঁকাড়ি দিয়ে ভদ্রতা সুলভ নিজের আগমনের বার্তা জানিয়ে নিল তার আগে।আহিয়ানকে ঢুকতে দেখে সবাই তার দিকে তাকিয়ে অবাক না হয়ে পারলো না।আহিয়ানের কপালে কোণায় ব্যান্ড-এইড ।তার হাতেও একটা ব্যান্ড-এইড আছে।আহিয়ানকে এই অবস্থায় দেখে সবাই আতকে উঠলো।মাশরিফার বুকের ভেতরটা খচখচ করতে লাগলো ছেলেকে এ অবস্থায় দেখে।মাশরিফা দৌড়ে ছেলের কাছে ছুটে গেল।অন্বেষা,অবন্তিও তাড়াতাড়ি গিয়ে ভাইয়ের পাশের দাড়ালো। রোদেলা নিজের মাথার চুল হাতখোপা করে মাথায় ওড়না টেনে নিজেও আহিয়ানের দিকে এগিয়ে গেল।তবে একবারে কাছে যেতে পারলো না তার আগেই আহিয়ানের বলা পূর্বের তিক্ত কথা গুলো তার স্মরণ হয়ে গেল।রোদেলা আর সামনে না এগিয়ে একটু দূরে সেভাবেই দাড়িয়ে রইলো।
আহিয়ান তার মাকে দেখে থেমে গেল।মাশরিফা ছেলের বাহুতে আর মাথায় হাত বুলিয়ে হাসফাঁস করতে করতে বলল,
” কি হয়েছে তোর আহিয়ান?কপালে
ব্যান্ড – এইড কেনো সোনা? ”
আহিয়ান তার মমকে এতোটা চিন্তিত হতে দেখে মাশরিফার দুইটা হাত নিজের মুঠৌই নিয়ে নিল।বোন দের চিন্তিত,আতঙ্কিত মুখশ্রীতে নজর বুলিয়ে দেখে নিল।তারপর হুট করেই আহিয়ান দৃষ্টি তাক করলো তার থেকে খানিক দূরে দাড়িয়ে থাকা রোদেলার দিকে।রোদেলা আহিয়ানের দিকে আগে থেকেই তাকিয়ে ছিল। বিধায় দুজনের চোখাচোখি হলো।আহিয়ানের তীর্যক দৃষ্টিতে কি ছিল রোদেলার জানা নেই।তবে এই মারাত্মক দৃষ্টিতেই রোদেলা প্রতিবার নার্ভাস হয়ে পড়ে।আহিয়ান রোদেলার দিকে তিক্ষ্ণ ধারালো দৃষ্টি বজায় রেখেই বললো,
” ডোন্ট ওয়ারি, মম। ইট ওয়াজ জাস্ট আ মাইনর অ্যাক্সিডেন্ট। আই ডিডন্ট গেট ব্যাডলি হার্ট।
কাম ডাউন। ”
ছেলের কথায় মাশরিফা শান্ত হতে পারলেন না।অবন্তি আর অন্বেষার প্রাণ আহিয়ান।দুই বোনের খুব আদরের ভাই।দুই বোনও আহিয়ানের ব্যান্ড – এইড করা হাত ধরে কান্না জুড়ে দিয়েছে।আহিয়ান মা আর বোনদের দিকে তাকিয়ে বলল,
” আচ্ছা এবার একটু চুপ করো না তোমরা।
আই’ম নট দ্য লিটল আহিয়ান এনিমোর, মম অ্যান্ড সিস্টার্স। আই’ম আ থার্টি-টু-ইয়ার-ওল্ড ম্যান নাউ। ডিড ইউ ফরগেট দ্যাট? আই’ম ইন দ্যাট প্রোফেশন, সো দিজ কাইন্ডস অব মাইনর ইনজুরিজ আর নাথিং টু মি। ”
অন্বেষা চোখের পানি মুছে বলল,
” তুই যতই বড় হোস না কেন আহিয়ান।তুই আমার কাছে ছোট সেই ভাইটিই আছিস। তোর ব্যথা আমি সহ্য করতে পারি না। ”
অবন্তি ব্যান্ড – এইড করা হাতটা দেখতে দেখতে বলল,
” এতোই বড় হয়ে গিয়েছিস যখন,তবে বাইরে থেকে ব্যথা পেয়ে আসিস কেন?জানিস না, তোর কিছু হলে আমরা ভালো থাকবো না। ”
মাশরিফা কিছু বলতে নিবে তার আগেই আহিয়ান দুই বোনকে সরিয়ে দিয়ে বলল,
” সরো তো তোমরা।আমি মমের কোলে শুবো। ”
অন্বেষা আর অবন্তি চোখের পানি মুছে সরতেই আহিয়ান মাশরিফার কোলে মাথা রেখে ছোফায় গা এলিয়ে দিল।মাশরিফা ছেলের মাথায় বিলি কেটে দিতেই একটা সুন্দর ঘ্রাণ লাগলো আহিয়ানের নাকে।আহিয়ান তার মমের হাতটা খপ করে ধরে শুঁকে নিয়ে বলল,
“তোমার হাতে এটা কিসের ঘ্রাণ মম? ”
মাশরিফা ছেলের কথায় সোজাসুজি রোদেলার দিকে তাকালো।রোদেলার থেকে চোখ ঘুরিয়ে ছেলের মাথার চুলে আঙুল ঢুকিয়ে চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,
” তোর বউ এর মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছিলাম। এখনও হাতে তেল লেগে আছে ,সেটারই ঘ্রাণ । ”
‘তোর বউ’ কথাটা শুনে আহিয়ান তড়াক করে তাকালো একটু দূরে দাড়িয়ে থাকা রোদেলার দিকে।শাশুড়ির কথা গুলো রোদেলাও শুনতে পেয়েছে তাই সেও আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে ছিল।তখনি আবারও দুজনের দূর্বোধ্য দৃষ্টি বিনিময় হয়।আহিয়ানের চাহনিটায় কি ছিল জানা নেই রোদেলার। রোদেলা সেই তাকানোতেই জমে গেল পুনরায়।অন্বেষা আর অবন্তি আহিয়ানের পাশের ছোফায় বসে ছিল।অবন্তিই আগে ডাক দিল রোদেলাকে,
” এই রোদেলা,দূরে দাড়িয়ে আছো কেন? এদিকে এসো?
অন্বেষা ছোট বোনের পিঠে থাপ্পর মেরে ঠাট্টার ছলে বলল,
” আহিয়ানকে ভয় পাচ্ছে। বুঝছিস না? ”
অন্বেষার কথাগুলো শুধু আহিয়ান,অবন্তি আর মাশরিফার কানেই এলো।আহিয়ান বোনের কথায়,অদূরে ভয়ে বা জড়তায় নত করে রাখা একটা নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকালো। আহিয়ান রোদেলার মুখখানা দেখে নিয়ে সবার আড়ালে ঠোঁট বাঁকালো।
অবন্তি ছোট করে একটা চড় দিল আহিয়ানের পায়ে।দিয়ে বলল,
” বুঝলাম আপু। এই ফাজিলটা মেয়েটাকে ভয় পাইয়ে রেখেছে।”
মাশরিফা এবার পুত্র বধূকে কাছে ডাকলেন।
” রোদেলা ওখানে দাড়িয়ে আছিস কেন? এদিকে আয়। ”
রোদেলা শাশুড়ির কথায় নড়েচড়ে মাথার ওড়নাটা ঠিক করতে করতে সামনে এসে দাড়ালো মাশরিফার।রোদেলা সামনে এসে মাথা নুইয়ে রাখলো। আহিয়ান তার মায়ের কোলে মাথা রেখেই এক পলক তাকালো রোদেলার দিকে তারপর আবার চোখ ঘুরিয়ে নিল।আহিয়ানের এক পলক তাকানোই যেন রোদেলাকে স্ক্যান করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল ।রোদেলা আহিয়ার এই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বারবার হোচট খায়।মাশরিফা একটু সরে গিয়ে ছোফায় রোদেলার জন্য নিজের পাশে জায়গা করে দিল। বিধায় আহিয়ানকেও একটু নড়েচড়ে শুতে হলো।
মাশরিফা রোদেলাকে ছোফার খালি জায়গাটা দেখিয়ে ইশারা করে বলল?
” আয় বস, এখানে আমার কাছে। ”
রোদেলার কেন যেন এই আবদারটা উপেক্ষা করতে মন চাইলো না।তার কাছে খুব ভালো লাগছিল আহিয়ানদের খুনশুটি করার মুহুর্তগুলো।রোদেলা মাশরিফার কথায় চুপচাপ মাথা নাড়িয়ে গিয়ে বসলো মাশরিফার পাশে।আহিয়ান তার মায়ের কোলেই এখনো মাথা রেখে শুয়ে আছে।আর লম্বা দুটো পা একত্রে করে মেলে রাখা ছোফার উপর।আহিয়ান আর পা দুটো একত্রে করে শুয়ে শুয়ে পায়ের পাতা নাচাচ্ছে।রোদেলার দৃষ্টি না চাইতেই বারবার সেই লম্বা দুটো পায়ের পাতায় চলে যাচ্ছে।আহিয়ানের পা টা রোদেলার কাছে একটু বেশি লম্বা মনে হলো।রোদেলা নিজের পায়ের দিকেও তাকিয়ে আবার আহিয়ানের পায়ের দিকে তাকালো।রোদেলার মনে হলো তার পা টা আহিয়ানের পায়ের থেকে বেশ কয়েক সাইজ ছোট হবে।সবাই নিজেদের মধ্যে কথা বার্তা বলছিল।আহিয়িন থেমে থেমে হা হু জানিয়ে বোনদের এক দুইটা কথা উত্তর দিচ্ছিল।তখনি সদর দরজায় দিয়ে প্রবেশ করে জাবির সাহেব।তার পিছু পিছু প্রবেশ করে আহিয়ানের চার বন্ধু।
সাদাফ,রাফিন,রিদম আর আরাফাতকে বাবার পিছু ঢুকতে দেখে আহিয়ান গলা খাঁকড়ি দিয়ে মায়ের কোল থেকে উঠে বসলো।বোনদের ইশারা করে বলল,
” ভেতরে চলে যেতে।রোদেলার দিকে আহিয়ান তাকিয়ে দেখলো মেয়েটা এখনো বসে আছে।আহিয়ান বুঝতে পারলো না,এই মেয়েটাকে তার ইশারা বুঝতে পারলো না নাকি।আহিয়ানের মা উঠে চলে গিয়েছে রান্না ঘরের দিকে।বোনেরাও কয়েক কদম হেটে চলে যাচ্ছে।আহিয়ান বিরক্তিতে রোদেলার হাতটা টেনে তাকে এক ঝটকায় বসা থেকে দাড় করিয়ে দিল।
রোদেলা হঠাৎ আক্রমনের কারণ বুঝলো না।।আসলে সে নিজ ভুববনে ডুবে ছিল বিধায় কোনো দিকেই তার চোখ যায় নি।রোদেলা আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখলো লোকটা অনেক রেগে তাকিয়ে আছে তার দিকে।রোদেলা নিজের হাতের দিকে তাকালো। এতো জোরে ধরার কি আছে বুঝলো না সে।রোদেলা হাত ছাড়াতে কিছু বলবে তার আগেই একটা গাম্ভীর্য মাখা কন্ঠে আদেশ এলো আহিয়ানের কাছ থেকে,
” ভেতরে যাও। ”
–
তখনি সাদাফের কন্ঠস্বর শোনা গেল।
” এই আহিয়ান কোথায় ছিলিস তুই? ”
রোদেলা আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখলো লোকটা আরও রেগে যাচ্ছে।যেন কাঁচায় চিবিয়ে খেয়ে নিবে তাকে।রোদেলা নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে ইশারা করে বলল,
” আগে হাতটা তো ছাড়ুন।তারপর না যাবো। ”
আহিয়ান হাত ছাড়তেই রোদেলা মাথার ঘোমটা ঠিক করে কয়েক কদমে দ্রুত প্রস্থান করলো।
সাদাফ,রাফিন,আরাফাত আর রিদম চারজন এক সাথে ঝাপিয়ে পরলো আহিয়ানকে দেখে।জাবির সাহেব গম্ভীর মুখে ছেলেকে আপাদত দেখে নিয়ে চুপচাপ নিজের রুমে চলে গেলে।রিদম আহিয়ানের পেটে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে বলল,
” হোয়াটস আপ, ব্রো? ডুড, ইউ’আর নট দ্য সেইম অ্যাজ বিফোর। ইউভ চেইঞ্জড। তুই বাড়িতে এসেছিস এটা আমরা জানি না,কিভাবে সম্ভব বল? মোড়ের দোকানের লোকটা না জানালে তো জানতামই না। ”
এবার রাফিন বলল,
” তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা তুই বিয়ে করে নিয়েছিস।আর আমাদের জানানোর প্রয়োজন মনে করলি না? ”
আরাফাত আর সাদাফ থামালো রাফিন আর রিদমকে থামালো।
আরাফাত বলল,
” চল আগে বসি।তারপর শান্তিতে ওর থেকে সব কথা উদ্ধার করছি। ”
আহিয়ান আরাফাতের কথায় আগে আগে গিয়ে ঠাস করে ছোফায় বসে পরলো।সাদাফ,আরাফাত,রিদম,রাফিন তার পিছু পিছু গিয়ে বসলো।মাশরিফা কিচেনে সিঙ্গারা,সমুচা বানাচ্ছে।রোদেলা চুপিচুপি সেখানে এসে হাজির হলো।মাশরিফা সিঙ্গারা আর সমুচা বানিয়ে রাখছে,আর রোদেলা ডুবো তেলে জটপট ভেজে তুলে রাখছে।আহিয়ানের বন্ধুদের সিঙ্গারা,সমুচা নাস্তা দেওয়া হয়েছে।তারা আড্ডা দিয়ে যেতে প্রায় রাত দশটা বেজেছে।
_____
আহিয়ান নিজের রুমে ঢুকে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছে।দরজাটা একটু ফাঁক হয়ে আছে।রোদেলা অবন্তির ঘর থেকে আসার সময় আহিয়ানের ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখলো আহিয়ানের ঘরের দরজাটা একটু ফাঁক হয়ে আছে।রোদেলা কৌতূহল বশত নিজের মাথাটা ঢুকিয়ে একটু উঁকি দিতেই দেখলো আহিয়ান বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে আছে।আহিয়ানের বলিষ্ট,প্রশস্থ কাঁধ উন্মুক্ত হয়ে আছে।রোদেলার কিশোরী মন এই দৃশ্যটুকু দেখেই নড়ে উঠলো। রোদেলা কয়েক বার ঢুক গিলে আবার উঁকি দিয়ে আহিয়ানকে দেখেতে লাগলো।রোদেরার মনে হলো তার গাল দুইটা হুট করেই ভীষণ গরম হয়ে গিয়েছে।রোদেলা দুই হাতে গাল চেপে ধরে উল্টো ঘুরে আহিয়ানের দরজার সামনে থেকে প্রস্থান করতে নিল।তখনি একটা বলিষ্ট লম্বা শক্ত হাতের থাবার উপস্থিতি অনুভব করলো রোদেলা নিজের ঘাঢ়ে।আহিয়ান রোদেলার ঘাঢ়টা পিছন থেকে নিজের বলিষ্ঠ আঙুল গুলো দিয়ে চেপে ধরে আছে।রোদেলা ছটফট করে পিছনে তাকাতেই আহিয়ানের সাথে তার চোখাচোখি হতেই, রোদেলা লজ্জায় ছিটকে সরে যেতে নিল।তবে আহিয়ান সেই সুযোগ আর দিল না।রোদেলার ঘাঢ়ে রাখা আহিয়ানের হাতের থাবা আরও শক্ত হলো।এক টানে রোদেলাকে সে নিজের রুমে নিয়ে এলো।
চলবে….
( সবাই রেসপন্স করবেন। এই পর্বে 1K রিয়েক্ট হলে নতুন পর্ব আসবে। )
#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী গল্পের সবগুলো পর্ব এক সাথে – https://www.facebook.com/61581445095817/posts/122135154681048169/
গ্রুপ লিংক –
https://facebook.com/groups/2493488501095403/
সবাই গ্রুপে Add হয়ে,গল্প সম্পর্কে মতামত জানাবেন।

