মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [ পর্ব-১৬ ] #মেহুলিনা_প্রাপ্তি

0
1

#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [ পর্ব-১৬ ]
#মেহুলিনা_প্রাপ্তি

ঈদের দ্বিতীয় দিন ছোটরা সবাই তাদের দুই ফুপির বাড়ি বেড়াতে যাবে বলে রেডি হচ্ছে। আমির সাহেবের দুই মেয়ে দুই জনই আহিয়ানের বউকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন‍্য নিমন্ত্রিত করেছে। আহিয়ান প্রথমে যেতে রাজি না হলে ও পরে আমির সাহেবের জোরাজুরিতে রাজি হয়েছে। আমির সাহেবের দুই যমজ মেয়ের চেহারা হুবুহু এই রকম, বিয়েও হয়েছে একই দিনে।দুইজনের স্বামী আবার একে অপরের বন্ধু। অর্থাৎ দুই বন্ধুর কাছে দুই যমজ বোনের বিয়ে হয়েছে। রাদিয়া আর রুবার বাসাও পাশাপাশি।

রাদিয়ার স্বামী সাহাব মীর্জা, আমির সাহেবকে বারবার ফোন করে জানিয়েছে এইবার ঈদের পর তাদের বাড়িতে গিয়ে বেড়াতেই হবে। নয়তো তারা আর শশুর বাড়ি আসবে না। বিশেষ করে আহিয়ানকে, আহিয়ানের বউকে নিয়ে যেতেই হবে এমন শর্ত দিয়ে বসেছে তারা। আহিয়ানের দুই ফুপি আহিয়ানকে দিন রাত ফোন করে মাথা খেয়ে ফেলছে তাদের এখানে যাওয়ার জন‍্য। বিধায় বাধ‍্য হয়েই আহিয়ান মত দিয়েছে যাওয়ার জন‍্য।

_

আহিয়ান আর রোদেলার সাথে অন্বেষা,অবন্তি ও তাদের বাচ্চার যাবে। তারা ছাড়াও শিবলী,মেহনূর,তৃষ্ণা, অর্ণ আর আরভিদও যাবে।তুষার এর বউ যেতে চেয়েছিল তবে প্রথম প্রথম প্রেগন‍্যান্সির জন‍্য যেতে পারছে না।সবাই সকাল সকাল নাস্তা করে নিজেদের মতো তৈরি হচ্ছে। আলফিনা আর আফিয়া রোদেলার কাছে বসে আছে। রোদেলাকে জোর করে আজকে আবার শাড়ি পরিয়ে দিয়েছে। আলফিনা রোদেলার কানে কানে বললো,
” শোন আমার নাতির সাথে মিষ্টি মিষ্টি কথা কইবি বুঝলি ছেরি। তাইলেই দেখবি তোর জামাই আস্তে আস্তে গলতে থাকবো। ”

রোদলা লজ্জায় কাচুমুচু করে বললো,
” দাদি তুমি কিন্তু বেশি বেশি করছো। আমার মনে হয় লজ্জা লাগে না, না? ”

আফিয়া এবার বললো,
” জামাইয়ের কাছে কিসের লজ্জা রে আবার। ”

রোদেলা কিছু বলবে তার আগেই মাশরিফাকে দরজায় দাড়িয়ে থাকতে দেখে চুপ করে গেল। মাশরিফা রোদেলার কাছে এগিয়ে এসে, সব কিছু ঠিকঠাক নিয়েছে কিনা জিজ্ঞাসা করে নিল। সব ঠিক আছে দেখে নিয়ে তিনি রোদেলাকে বললো,
” আয় এবার। আহিয়ান গাড়ি বের করে ফেলেছে। বারবার ডাকডাকি করে শিবলী মাথা খেয়ে ফেলছে। ”

দুইটা গাড়িতে করে সবাই রওনা হবে।একটা আহিয়ান চালাবে অন‍্যটা তার ছোট চাচ্চু আরভিদ চালাবে।আহিয়ানদের গাড়িতে মেহনূর,তৃষ্ণা আগে থেকেই উঠে পিছনের সিট দুইটা দখল করে বসে আছে। রোদেলা এসে তাদের দুইজনের মাঝখানের সিটে বসে পরলো। শিবলী আহিয়ানের পাশের সিটে বসে ফোন টিপছে।
অন‍্য গাড়িটায় ড্রাইভিং সিটে আরভিদ বসেছে।তার পাশের সিটে অর্ণ। আর পিছনের সিটে অন্বেষা,অবন্তি তিন বাচ্চাকে নিয়ে বসেছে।সবাই ঠিক ঠাক উঠে বসতেই দুইটা গাড়ি যাত্রা শুরু করলো।

গাড়ি যাত্রা শুরুর পাঁচ মিনিট পর আহিয়ান শিবলীকে ইশারা করে গাড়ি থামিয়ে দিল। গাড়ি থামিয়ে আহিয়ান দ্রুত নেমে পরলো। শিবলী নিজেও আহিয়ানের পিছু পিছু নেমে পরলো। রোদেলা পিছনের সিটে বসে দুই ভাইয়ের কান্ড দেখে ভ্রু কুঁচকে নিল।হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে দেওয়ার কারণ বুঝতে না পেরে ফ‍্যাল ফ‍্যাল করে রোদেলা,মেহনূর আর তৃষ্ণা আহিয়ান আর শিবলীর গমন পথের দিকেই তাকিয়ে রইলো।আরভিদও গাড়ি থামিয়ে নেমে পরেছে দুই ভাতিজাকে গাড়ি থেকে নামতে দেখে।

___

আহিয়ান আর শিবলী রোদেলাদের চোখের আড়াল হয়ে একটু দূরে গিয়ে দাড়ালো। আহিয়ান আর শিবলীর চোখে কথা হলো।আহিয়ান নিজের কাছে রাখা Beretta 92FS মডেলের পি*স্তলটি শিবলীর হাতে ধরিয়ে দিল। আহিয়ানের নিজের কাছেও SIG Sauer P320 মডেলের একটি পি*স্তল রয়েছে। শিবলীকে আহিয়ান ইশারা করতেই সে মাথা নাড়িয়ে দ্রুত আরভিদের গাড়ির কাছে চলে গেল।আরভিদ কিছু জিজ্ঞাস করবে তার আগেই শিবলী বললো,
” গাড়িতে উঠে বসো। ”

শিবলী অর্ণের পাশের গাড়ির ডোর খুলে অর্ণকে বললো,
” তুই আহিয়ানদের গাড়িতে যা। আমি এটাতে যাবো। ”

অর্ণ ভাইয়ের কথায় ভ্রু কুঁচকালো। তবে কিছু আন্দাজ করতে পেরে কিছু না জিঙ্গাসা করেই সে গাড়ি থেকে নেমে, আহিয়ানদের গাড়িতে গিয়ে বসে পরলো। আহিয়ান নিজেও গাড়িতে বসে অর্ণের আসার অপেক্ষা করছিল। অর্ণ আসতেই সে গাড়ি স্টার্ট দিল। তাদের পিছু পিছু আরভিদদের গাড়িটাও যাত্রা শুরু করলো।

___

গতকাল আহিয়ানদের উপর যে আক্রমণ করা হয়েছিল এর পর পরিবার নিয়ে বের হওয়াটা অনেকটা হুমকি স্বরূপই বটে। তাই তো সবার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আহিয়ান শিবলীকে আগেই সব কিছু বুঝিয়ে বলে রেখেছে। এখন মাঝ পথে এসে নিজেরদের আত্মরক্ষার্থে দুইজন দুই পিস্তল নিজেদের হাতে নিয়ে গাড়িতে বসেছে।

রোদেলারা এই গাড়িতে, আর ওই গাড়িতে থাকা অন্বেষারা চোখ বড় বড় করে কেবল সবটা পরখ করে গেল। তবে শিবলীর খাম খেয়ালি পনা তাদের জানা আছে। তাই বিষয়টাকে বিশেষ গুরুত্ব দিল না তারা।

শিবলী গাড়িতে বসেই জয়ের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচালো,
” কিরে লাড্ডু তুই তোর মায়ের কোলে বসে এভাবে লাফাচ্ছিস কেন হে? ”

শিবলীর কথায় অনন‍্যা আর অন্ত হু হু করে হেসে দিল। অন্বেষা আর অবন্তিও মুচকি হাসলো। জয় মাথা নাড়াতে নাড়াতে আদো আদো স্বরে বললো,
” আমি লাদ্দু না। আমি জয়। ”

শিবলী নিজের মাথার চুল পিছনে ঠেলে দিতে দিতে বললো,
” কে বলেছে তুই জয়?তুই লাড্ডুই। ”

জয় এবার বিরক্ত হয়ে বললো,
” তুমি পঁচা। বাঁদর একতা। ”

” কি বললি? দাড়া..”
কথাটা বলে শিবলী পিছনে বসে থাকা অবন্তির কোল থেকে জোর করে জয়কে টেনে নিয়ে গেল নিজের কাছে। জয় যাবে না বলে চিল্লালেও কোনো লাভ হলো না। তাকে তার বাঁদর মামু ছিনিয়েই নিল। তারপর ইচ্ছা মতন জয়কে ঝাপটে ধরে জয়ের ফোলা ফোলা গালে অসংখ‍্য চুমু খেল শিবলী। জয় চুমু খেয়ে বিরক্ত হয়ে গাল মুছতে মুছতে বললো,
” চুমু খেয় না ! আমাল গালে ছুঁইয়ো না তুমি। পঁচা বাঁদর একতা। একদিন টুমার মেয়েকেও আমি চুমু খাব অতো গুলো। ”
জয় কথা বলতে বলতে হাত বড় করে চুমুর পরিমাণ দেখালো।

শিবলী ছোট বিচ্ছু জয়ের কথায়, চোখ বড় বড় করে তাকালো। সে আবার জয়কে নিজের বাহু বন্ধনে পিষ্ট করতে করতে বললো,
” পাঁকনা লাড্ডু বলে কি? দাড়া আজকে। আজকে তো তোকে একদম খেয়েই ছাড়বো । ”
শিবলী কথাটা বলে জয়ের ফোলা ফোলা গালে আলতো কামড় দিতেই সে দুই হাতে শিবলীর মুখটা সরাতে চেষ্টা করতে করতে বললো,
” সরো সরো,ভালু নাগে না । আমাল মামা টুমাকে মাব্বে দেখো ? ”

শিবলী জয়ের ফোলা ফোলা গালে টুপটাপ চুমু খেয়ে বললো,
” তোর মামা কে কি আমি ভয় পায়? ”

জয় অবুঝের মতন শিবলীর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো।তারপর আবার গাল ফুলিয়ে বললো,
” আমাল বাবাও তুমাকে মাব্বে। ”

শিবলী ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,
” মারুক শুধু তোর বাবা।দুই বাপ ব‍্যাটাকে একসাথে দড়ি দিয়ে আমাদের বেল গাছের সাথে বেঁধে রেখে দিব দেখিস। ”

জয় বিরক্ত হয়ে এবার নিজ থেকেই কথা বলা বন্ধ করে গাল দুইটা ফুলিয়ে কিছুক্ষণ শিবলীর দিকে বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে রইলো।শিবলীও বড় চোখ করে ভাগ্নের দিকে তাকিয়ে রইলো।তাদের কান্ড দেখে গাড়িতে থাকা সবাই হাসতে হাসতে লুটুপুটি খাচ্ছে।

__

জয় সেদিন তার বড় নানু আইরিনের কাছে তার বাঁদর মামুর নামে তাকে চুমু খাবার অপরাধে বিচার দিয়েছিল। তখন শিবলীর মা জয়কে কোলে বসিয়ে বলেছিল,
” এখন ও তোমাকে চুমু খায়। একদিন তুমি ওর মেয়েকে চুমু খাবে। তাহলেই শোধবাদ হয়ে যাব নানু ভাই। ”

সেই কথার প্রেক্ষিতেই বেচারা জয় তার বাঁদর মামুর মেয়েকে চুমু খাওয়ার হূমকি দিয়েছিল।

_________

রাদিয়া,রুবাদের শশুড়বাড়ি নওগাঁ জেলার,ধামইরহাট উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের আলতাদিঘী এলাকায়।আহিয়ানরা এখানে দুপুরের পরে এসে পৌঁছেছে। রুবারা সবাই আজ রাদিয়াদের বাড়িতেই ছিল। রোদেলাকে আহিয়ানের দুই ফুপির বেশ পছন্দ হয়েছে।ছোট হলেও মেয়েটা বেশ লক্ষ্ণী বুঝতে পেরে খুশি হয়েছেন তারা। আহিয়ানের ফুফাতো কাজিন – তানিম আর তূর্যেরও নতুন বউমনিকে বেশ ভালো লেগেছে।রুবার তো ছেলে মেয়ে নেই। তিনি রোদেলাকে পেয়ে মেয়ের মতোন অনেক আদর স্নেহ করেছেন।

___

দুপুরের খাবার সবাই একসাথে বসে খেয়ে নিল। রোদেলা বেশ ক্লান্ত হয়ে পরেছে। তাই তার আর আহিয়ানের জন‍্য ঠিক করে দেওয়া রুমে গিয়ে গা এলিয়ে দিল সে। আহিয়ান রুমে নেই। রোদেলার অবশ‍্য এসবে মাথা ঘামানোর কারণ নেই। কারণ সে জিঙ্গাসা করলেও ওই গম্ভীর মুখী লোকটার মুখ থেকে কিছুই বের করতে পারবে। যা মন চাই করুক তাতে রোদেলার কি? এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমের রাজ‍্যে তলিয়ে গেল রোদেলা।

মেহনূর,তৃষ্ণা নিজেদের বরাদ্দকৃত রুমে রেস্ট করছে। জয়,অন্ত,অনন‍্যাকে খাবার খাইয়ে ঘুম পারিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্বেষা আর অবন্তি দুই ফুফিরর কোলে মাথা রেখে ঘুমুচ্ছে।

_

তানিম আর তূর্য তাদের ছোট মামা আর অর্ণ ভাইয়ের সাথে ঘুরতে বেরিয়েছে।আহিয়ান রাদিয়াদের ছাদে দাড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছে। তার চোখদ্বয়ে শূন‍্য দৃষ্টি বিরাজমান। কালো প‍্যান্ট আর সাদা শার্ট গায়ে তার। লম্বা বলিষ্ঠ শক্তপক্ত শরীরে বেশ মানিয়েছে সেগুলো। নিয়ম করে চুল না কাটায় সেগুলোও বেড়ে গিয়েছে। আহিয়ান দূরে কোথাও দৃষ্টি নিবদ্ধ করে একের পর এক সিগারেট ফুঁকছিল। সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকে সিগারেটটা খাওয়াটা একদম তার অভ‍্যাসে পরিণত হয়েছে। আগে হঠাৎ কাজের চাপে বা টেনশনে পরলে একটা দুইটা খেত।

পাশের ছাদে দাড়িয়ে থাকা তিনটা মেয়ে ড‍্যাব ড‍্যাব করে তাকিয়ে আছে আহিয়ানের দিকে। তারা আহিয়ানকে দেখে ফিসফিস করছে আর নিজেদের মধ‍্যে হাসাহাসি করছে। আহিয়ান সেদিকটায় একবারেও তাকায়নি। তখনি ছাদে উপস্থিত হয় শিবলী। শিবলী ছাদে পা দিতেই মেয়েলি রিনরিনে হাসির আওয়াজ লক্ষ‍্য করে পাশের বাসার ছাদে তাকাতেই তিনটা মেয়েকে হাসতে দেখে ভ্র কুঁচকে নিল।মেয়েদের লোভাতুর দৃষ্টি আহিয়ানের উপর নিবদ্ধ। আহিয়ান অবশ‍্য উল্টো পাশ ঘিরে দাড়িয়ে দাড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছিল। শিবলী মেয়েদের লোভাতুর দৃষ্টি লক্ষ‍্য করে আহিয়ানের দিকে তাকাতেই বিষ্ময়ে তার চোয়াল ফাঁক হয়ে গেল।শিবলী নিজের ঘাঢ় ডলতে ডলতে বললো,
” কি দিন কাল আসলো মেয়ে গুলোও এখন ছেলে দেখলে টিজ করে। বলি ছেলেদের কি মান সম্মান নেই নাকি? ”

শিবলী কথাটা শেষ করে সামনে দুই পা এগোতে না এগোতেই পাশের ছাদ থেকে একটা মেয়ে সিটি দিল। সেই শব্দে আহিয়ান আর শিবলী দুইজনই চমকে তাকালো পাশের ছাদে। ছাদে আরেকটা নতুন মেয়ের উদয় হয়েছে। এখন ছাদে মোট চারজন আছে। মেয়ে চারটা মূলত আহিয়ানের পর পর আরেকটা হ‍্যান্ডসাম মানে শিবলীকে ছাদে আসতে দেখেই উত্তেজিত হয়ে শিস বাজিয়েছে। শিবলী আর আহিয়ান ভ্রু কুঁচকে পাশের ছাদে তাকাতেই বিরক্তিতে চোয়াল শক্ত করলো। আহিয়ান বিরক্ত হয়ে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিল, তারপর ছাদে একদলা থুতু ছুড়ে দিয়ে গটগট করে নিচে নেমে গেল। আহিয়ান নেমে যেতেই শিবলী আবার বিরক্ত হয়ে পাশের ছাদে তাকালো।


মেয়ে চারটা তাদের দাদুর বাড়িতে মানে এখানে ঘুরতে এসেছে। এদের বাবা মায়েরা সবাই বড় বড় চাকরীজীবি,নয়তো ব‍্যবসায়ী।অর্থ সম্পদের অসীমতায় আর যদেষ্ট শাসনের অভাবে চারটা মেয়েই বিগড়ে গিয়েছে। তার উপর ঢাকার গুলশানের মতো জায়গায় এদের বসবাস হওয়ায় মেয়ে চারটা অতি আধুনিক হয়ে উঠেছে।চার মেয়ের মাঝ থেকে একটা মেয়ে ছাদে থাকা রঙ্গন ফুল ছিড়ে শিবলীর দিকে। তারপর আবার সব কয়টা মেয়ে ফিক করে হেসে উঠলো। শিবলী বিরক্তিতে চোয়াল শক্ত করে নিল।এনঞ্জেলিনা নামের একটা মেয়ে ভনিতা করে বললো,
” হাই হ‍্যান্ডসাম। নাইস ঠু মিট ইউ। ইউ আর লুকিং
সো হট । বাই দ‍্য ওয়ে, এখানে যে আরেক জন হ‍্যান্ডসাম ছিল ও চলে গেল কেন ? ”

শিবলী কথা বলছে না দেখে এঞ্জেলিনা ছাদ থেকে আরেকটা রঙ্গন ফুল ছিড়ে তার দিকে ছুড়ে মারলো। শিবলী হাত মুষ্টিবদ্ধ করে কটমট করে তাকালো। শিবলীর মতে মেয়েরা থাকবে কোমল, নরম,শরম, লাজুক ধরনের। এরকম উশৃঙ্খলতা শিবলীর একটুও পছন্দ হলো না। ছেলেরা একটু ফ্লার্ট করবেই। তাই বলে মেয়েরা বেহায়ার মতো পথে ঘাটে ছেলে পেলে চেপে ধরবে নাকি? মেয়েটা দ্বিতীয় বার ফুল ছুড়ে দিতেই শিবলীর প্রচন্ড রাগ উঠে গেল।


মেয়েটা এবার শিবলীর দিকে চোখ টিপে ফ্লাইং কিস ছুড়ে দিতেই শিবলীর রাগ সপ্তম আকাশে উঠে গেল। শিবলী নিজের পায়ে থাকা একটা স‍্যান্ডেল খূলে নিল। তারপর সেটা ঠাস করে মেয়েটার দিকে ছুড়ে মেরে বললো,
” তোদের মতো মেয়েদের গায়ে এই শিবলী থুতুও ফেলবে না। তাই জুতা ফেললাম। ন*ডির দল।”

শিবলী কথাটা বলেই গটগট করে বেরিয়ে এলো। পায়ে তার সাহাব মির্জার স‍্যান্ডেল ছিল। সেটার একটা ছুড়ে মেরে ছিল।এসেছিল আহিয়ানের সাথে কথা বলতে কিন্তু এই আবাল মার্কা বেয়াদব মেয়েদের জন‍্য কথাতো হলোই না আরও শিবলী আর আহিয়ানের মেজাজ চটে গিয়েছে। ভাগ‍্য ভালো আহিয়ান পরের দৃশ‍্য গুলো দেখেনি। শিবলী এসব ভাবতে ভাবতেই নিচে নেমে গেল।

___________

আহিয়ান রুমে ঢুকে দেখলো রোদেলা ছোট বাচ্চাদের মতো গাল ফুলিয়ে ঠোঁট উল্টিয়ে ঘুমোচ্ছে। আহিয়ানের বুকের ভিতরটা ছ‍্যাৎ করে উঠলো যেন। আহিয়ানের দৃষ্টি আটকালো রোদেলার তীরের ফলার ন‍্যায় খাড়া নাকের ডগায়। নাকের এক পাশে জ্বলজ্বল করছে হীরার সাদা ধবধবে ছোট একটা নাকফুল। অন্বেষা ভাইয়ের বউকে উপহার হিসাবে এটা আর এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল দিয়েছিল। অবন্তি স্বর্ণের একটা নেকলেস দিয়েছিল। মাশরিফা একটা চেই দিয়েছিল নিজের গলা থেকে খুলে সেই চেইনখানা রোদেলার গলার ফর্সা ত্বকের উপর জ্বলজ্বল করছে।হাতে আলফিনার দেওয়া দুইটা স্বর্ণের বালা।

আহিয়ান না চাইতেও ড‍্যাব ড‍্যাব করে ছোট বউ এর সর্বাঙ্গে চোখ বুলিয়ে যাচ্ছে। আহিয়ান ঘোরের মাঝেই ঝুঁকে এসে ফ্লোরে হাটু গেড়ে রোদেলার মুখের কাছে এসে বসে পরলো। পিচ্চি বউকে যেন আজ তার কাছে বেশ অন‍্যরকম লাগছে। আহিয়ান রোদেলার মুখের উপরে পরে থাকা চুল গুলো যত্ন করে আলতো হাতে কানের পাশে গুজে দিতে লাগলো। আহিয়ানের গরম নিশ্বাসটুকু রোদেলার মুখে আচড়ে পরছিল। আহিয়ান ঘোরের মাঝেই পরম মমতায় নিজের ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দিল রোদেলার কপালে। রোদেলার তখনি ঘুম ভেঙে গেল। সে আড়মোড়া ভেঙে চোখ খুলতেই আহিয়ানকে নিজের কাছে বসে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে নিল। আহিয়ান দ্রুত নিজেকে সামলে তাড়াতাড়ি উঠে পরলো, রোদেলার সামনে থেকে। রোদেলা শাড়ি ঠিক করতে করতে ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,
” কোথায় গিয়েছিলন? আমি তো আপনাকে খঁজেছি। ”

রোদেলার কথা শুনেও আহিয়ান কোনো প্রতিক্রিয়া করলো না। সে রোদেলার পাশ ঘেঁষে বিছানায় এসে বসে পরলো। রোদেলা চমকে পিছনে তাকাতে নিলে রোদেলার পিঠটা গিয়ে ঠেকলো আহিয়ানের বলিষ্ঠ বুকে।

রোদেলার কাল রাত্রের ঘটনার কথা মনে পরে গেল। গতকাল রাতে রোদেলার ঘুম আসছিল না দেখে আহিয়ান রোদেলাকে নিজের সাথে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেছিল।তারপর রোদেলার কানের কাছে মুখ এনে বলেছিল,
” ঘুমাও লক্ষ্ণী মেয়ের মতোন। ”
ব‍্যাস তারপর রোদেলা কিছুক্ষণ পর ঘুমের রাজ‍্যে পাড়ি জমিয়ে ছিল।

রোদেলা কাল রাতের কথা মনে করে ঠোঁট কামড়ে ধরে পিছনে তাকালো। আহিয়ানের বুকের সাথে আবার তার পিঠ গিয়ে ঠেকলো। রোদেলা এবার ঘুরে অনেকটা সড়ে এসে আহিয়ানের সামনা সামনি বসলো। আহিয়ানকে দেখলো বসে বসে ফোন স্ক্রল করছে। যেন কিছুই হয়নি। রোদেলা আহিয়ানের থেকে চোখ সরিয়ে উঠে পরতে নিলে আহিয়ান তার হাত টেনে ধরলো।
রোদেলা বাঁধা পেয়ে বিছানায় আবার বসে পরলো। আহিয়ান এবার রোদেলাকে অবাক করে দিয়ে রোদেলার উরুর উপর মাথা রেখে শুয়ে পরলো। এতেই ছোট মেয়েটার বুকটা ধক করে উঠলো। হৃদপিণ্ডটা অস্বাভাবিক ভাবে জোরে বিট করতে লাগলো। রোদেলা থমথম খেয়ে চুপ করেই আছে। আহিয়ান রোদেলের একটা হাত টেনে মাথার উপর রেখে দিয়ে বললো,
” মাথায় হাত বুলিয়ে দাও । ”

রোদেলা নিজের কাঁপা হাতটা আহিয়ানের চুলের ভাঁজে নিয়ে গেলো তারপর আলতো হাতে আস্তে আস্তে আহিয়ানের চুল টেনে দিতে লাগলো।আহিয়ান মেয়েলি কোমল হাতের আদর মাখা যত্নটুকু পেয়ে ঘুমে তলিয়ে গেল। রোদেলা মন্ত্রমুগ্ধের ন‍্যায় স্বামীর দিকে তাকিয়ে থাকলো। ছোট বুকটা তার নানান কল্পনা জল্পনায় উথাল পাথাল করতে লাগলো শুধু।

_____________

রাতের বেলা সব কাজিনরা মিলে একসাথে ছাদে বসে অনেকক্ষণ আড্ডা দেওয়া হলো। তারপর রাতের ডিনার করে সবাই নিজেদের রুমে আসলো। রোদেলা রুমে ঢুকে দেখলো আহিয়ান লুঙ্গি পরে খালি গায়ে বসে আছে। লুঙ্গিটা সাহাব মির্জার নতুন লুঙ্গি। রাদিয়া আহিয়ানকে পরার জন‍্য নামিয়ে দিয়েছেন। আহিয়ানের অলিভ গায়ের রঙে সব রঙের পোশাক বেশ মানিয়ে যায়। রোদেলা আহিয়ানের উন্মুক্ত বুক,প্রশস্ত কাঁধ, পেশি বহুল শক্ত হাতের মাসল দেখে ঢোক গিলল। মনে মনে বিড়বিড়ালো,
” বজ্জাত মেজর। কেমন নির্লজ্জের মতো বডি
দেখাচ্ছে। ”


আহিয়ান সিগারেট ফুঁকতে বারান্দায় গেলো। রোদেলা এই ফাঁকে বিছানাটা ঠিক করে নিয়ে শুয়ে পরলো। আহিয়ান রুমে আসলো প্রায় পাঁচ মিনিট পরে। এসেই সে লাইট অফ করে রোদেলার পাশে ধপ করে শুয়ে পরলো। এই রুমের খাটটা আহিয়ানের রুমের খাটের মতো অতো বড় না। খাটে স্পেস কম থাকায় আহিয়ান আর রোদেলার গা একে অপরের সাথে লেগে আছে। আহিয়ান রোদেলার দিকে তাকিয়ে বললো,
” তোমার এসএসসি কবে থেকে শুরু হবে ? ”

রোদেলা আহিয়ানকে এই বিষয়ে জিঙ্গাসা করতে দেখে বেশ চমকালো। কেননা আহিয়ান এর আগে রোদেলাকে তার পড়াশোনার ব‍্যপারে কখনো কিছু জিঙ্গাসা করেনি। রোদেলা মেয়েলি রিনরিনে আওয়াজে বললো,
” এই তো, আর মাত্র পনেরো দিন সময় আছে। ”

আহিয়ান কথাটা শুনে আর কিছু না বলে পাশ ফিরে শুয়ে পরলো।রোদেলা ফ‍্যাল ফ‍্যাল করে স্বামীর পিঠের দিকে কতক্ষণ তাকিয়ে রইলো। লোকটা এরকম গম্ভীর কেন তার বুঝে আসে না? রোদেলার কথার প্রেক্ষিতে আর কিছু কি বলা যেত না? এই ভাবে উল্টো ঘুরে শুয়ে পরলো কেন হে? রোদেলার ছোট মনে নানান চিন্তারা দলা পাঁকাতে শুরু করেছে।এক সময় ক্লান্ত হয়ে রোদেলাও উল্টো পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পরলো।

________

পরের দিন সকাল বেলা সবাই নাস্তা করে ঘুরতে যাবে বলে তৈরি হতে লাগলো।রোদেলা পার্পেল কালার এর লং ফ্রক পরেছে আর তার সাথে গোল্ডেন কালার একটা হিজাব বেঁধে নিয়েছে। সবাই তৈরি হয়ে বেরিয়ে পরলো।

____________________

নওগাঁ জেলার অন্যতম বিখ্যাত দর্শনীয় স্থানের একটি হলো আলতাদিঘী জাতীয় উদ‍্যান। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। নওগাঁ জেলার,ধামইরহাট উপজেলার,ইসবপুর ইউনিয়নের আলতাদিঘী এলাকায় অবস্থিত এটি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিকটেই এর অবস্থান

লোককথা অনুযায়ী, বহু বছর আগে রানি আলতা মানুষের পানির কষ্ট দূর করতে এই বিশাল দিঘী খনন করিয়েছিলেন। তাঁর নামানুসারেই এর নাম হয়
আলতাদিঘী। দিঘীটির আয়তন প্রায় ৪৩ একর।
এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাচীন দিঘীগুলোর একটি। মূলত আলতাদিঘীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান, আলতাদিঘীকে ২০১১ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এখানে শাল ও মিশ্র বনাঞ্চল,নানা প্রজাতির পাখি, বানর ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী,বিরল ময়ূর দেখা যাওয়ার কথাও শোনা যায়।

রাদিয়া,রুবাদের বাড়ি থেকে এই আলতাদিঘীতে আসতে মাত্র দশ মিনিট সময় লাগে।এতো কাছাকাছি একটা পর্যটক কেন্দ্র থাকায় রোদেলা,মেহনূর আর তৃষ্ণা কাল তাদের ছোট চাচ্চু আরভিদের কাছে এখানে নিয়ে আসার জন‍্য বায়না ধরেছিল। আরভিদ আহিয়ানকে এক প্রকার জোর করে রাজি করিয়েছে এখানে আসার জন‍্য। শিবলী জোর না দিলে হয়তো আরভিদ একা রাজি করাতে পারতো না।মহাশয় রাজি হয়েছে বলেই আজকে সবাই নির্বিঘ্নে ঘুরতে আসতে পেরেছে।

__

রোদেলা আলতাদিঘীর পাড়ে এসে চোখ বড় বড় করে চারপাশের এরিয়া জুড়ে নজর বুলালো।এতো বড় পুকুর এর আগে কখনো দেখেনি সে। আহিয়ান নিজেও রোদেলার পিছু পিছু গিয়ে দাড়ালো। তবে দৃষ্টি তার নিবদ্ধ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা মানবীর দিকে। আহিয়ান এখানে আরও অনেকবার এসেছে। এই এরিয়া তার প্রায় মুখোস্থ হয়ে গিয়েছে। মেহনূর আর তৃষ্ণা বুদ্ধি করে আহিয়ান আর রোদেলাকে স্পেস দিয়ে,অন‍্য পাশে চলে গিয়েছে। তাদের পিছন পিছন আরভিদ আর অর্ণ ও গিয়েছে।অন্বেষা,অবন্তি আর বাচ্চাদের পিছু পিছু হাটছে শিবলী আর তানিম। শিবলীর কোলে জয়। জয় হাত বাড়িয়ে আঙুল দিয়ে এটা সেটা দেখাচ্ছে।আর অযথা প্রশ্ন কলছে।

_

রোদেলা কয়েকটা সিড়ি পেরিয়ে পুকুরে পা ডুবিয়ে বসতেই আহিয়ান তার পিঠে ঘেঁষে দাড়লো। আহিয়ান মুখটা গম্ভীর করে রেখেছে। রোদেলা তার একটা হাত আচমকা বাড়িয়ে দিল আহিয়ানের দিকে। আহিয়ান ভ্রু কুঁচকে রোদেলার হাত ধরলো। আহিয়ান ভেবে ছিল রোদেলা উঠে আসতে চাইছে। তবে রোদেলা আহিয়ানকে অবাক করে দিয়ে আহিয়ানকে নিজের পাশে বসতে জোর করতে লাগলো। আহহিয়ান বিরক্ত হয়ে আশেপাশে তাকালো। মনে বিড়বিড়ালো,
” বাচ্চা পালার বয়সে, বউ পালা যে কি জ্বালা! জীবনে এই আন্ডা বাচ্চাকে বিয়ে না করলে জানতেই পারতাম না।জীবনের বারোটা তো বেজেছেই,এইবার যৌবনের বারোটা বাজলো বলে। ধ‍্যাৎ! ভালো লাগেনা। ”

আহিয়ান কিছু বলতে চেয়েও রোদেলার শিশু সুলভ পেলব মুখশ্রিতে চোখ বুলিয়ে কিছু বললো না। অতঃপর কিশোরী বউ এর মন রক্ষার্থে নিজেও প‍্যান্ট একটু গুটিয়ে বউ এর পাশে গিয়ে বসলো।রোদেলা খুশি হয়ে আহিয়ানর আরও কাছ ঘেঁষে এসে বসলো। রোদেলার মাথা আহিয়ানের কাঁধ সমান।আহিয়ান অনেক লম্বা হওয়ায় রোদেলার ছোট শরীর বসে বা দাড়িয়ে থেকে কখনোই আহিয়ানের কাঁধ ছুঁতে পারেনা।আহিয়ান রোদেলাকে নিজের পাশে মিশে বসতে দেখে ভ্রু কুঁচকালো।রোদেলা অবশ‍্য বিষয়টা পাত্তা দিল না। সে খিল খিল করে হেসে পানিতে পা নাড়াচ্ছে। পায়ের নড়াচড়াতে পানিতে জলতরঙ্গের সৃষ্টি হচ্ছে আহিয়া সেদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আহিয়ান ঘোরের মাঝেই রোদেলর একটা হাত নিজের হাতের মুঠোই নিয়ে রাখলো। যাতে কোনো ক্রমেই এই মেয়ে তার থেকে দূরে যেতে না পারে। আহিয়ানের হঠাৎ হুঁশ ফিরতেই সে এটা কেন ভাবলো বা করলো কিছুই বুঝলো না।নিজের মনের জড়তা টুকু কাটিয়ে সামনে তাকাতেই দেখলো দেখলো রোদেলা ছোট হাত বাড়িয়ে একটা পদ্ম ফুল তোলার চেষ্টা কলছে। ঘাটের কাছেই অনেক রানী গোলাপী রঙা পদ্ম ফুটে আছে।

রোদেলা হাত বাড়িয়ে একটা পদ্মফুল ধরতে নিলেই পড়ে যেতে নিল। আহিয়ান রোদেলার দিকে তাকিয়ে রোদেলাকে হেলে পড়তে দেখেই,রোদেলার হাত টেনে ধরলো শক্ত করে ।তারপর এক টানে রোদেলাকে নিজের বুকের উপর এনে ফেলল। আহিয়ান দুই হাতে তার কিশোরী বউকে ঝাঁপটে ধরে ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলল।

কি হয়েছে কি ঘটেছে সব যেন রোদেলার মাথার উপর দিয়ে গেল। সেও দুই হাত বাড়িয়ে আহিয়ানের পিঠে রাখলো। মিনিট খানিক সময় পেরুতেই আহিয়ান রোদেলাকে বুক থেকে সরিয়ে রোদেলার দিকে কটমট করে তাকালো। রোদেলা ভেবাচ‍েকা খেয়ে নিজেও লজ্জায় দৃষ্টি সরিয়ে নিল।আহিয়ান গমগমে স্বরে চোয়াল শক্ত করে বললো,
” এখন ফেলে দিই পুকুরে? অভিনয় করতে বসেছে পুকুর ঘাটে। যতসব নমুনা। যাও এখান থেকে,উপরে ওঠো গিয়ে। ”


রোদেলা আহিয়ানের ধমকানিতে চোখে টলটলে পানি নিয়ে তাকালো। তবে আহিয়ানকে সে কিছু না বলে উঠে চলে গেল। আহিয়ান সেদিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। তারপর নিজের প‍্যান্ট আরেটু গুটিয়ে পুকুল ঘাটের আরও কয়েকটা সিড়ি পেরিয়ে নিচে নামলো। তারপর নিজের লম্বা হাত বাড়িয়ে কয়েকটা পদ্মফুল ডাটাসহ তুলে নিয়ে উপরে উঠে গেল। পদ্মফুল গুলো আহিয়ান রোদেলার দিকে বাড়িয়ে দিতে দিতে বললো,
” নাও ধরো। বাচ্চার কান্না থামানোর বয়সে, বউ এর প‍্যান্দানি দেখা লাগে। যতসব ঝামেলা। ”

আহিয়ানের কথায় রোদেলা মন খারাপের কথা ভুলে ফিক করে হেসে পদ্মফুল গুলো দুই হাতে আগলে নিল। আহিয়ান রোদেলাকে হেসে ফুল নিতে দেখে ভ্রু কুঁচকে নিল। আহিয়ান আর কিছু না বলে সামনে হাটা ধরলো।রোদেলাও দ্রুত পা চালিয়ে এসে আহিয়ানেল পাশাপাশি হাটতে চেষ্টা করতে লাগলো।আহিয়ান ফোন বের করে আরভিদ আর শিবলীকে কল করলো।


সবাই এক সাথে হয়ে আরও কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করে কিছু খেয়ে নিল। তারা সবাই একসাথে আলতাদিজীর ওয়াচ টাওয়ারে উঠলো।ঘোরাফেরার পর সবাই একসাথে রাদিয়াদের বাড়িতে ফিরে গেল।আজকে রাতে সবাই রুবার বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করলো। রুবা জোর করে আহিয়ান আর রোদেলাকে নিজের বাড়িতে রাতে রেখে দিল।

______

পরের দিন সকাল বেলা আহিয়ানরা নাস্তা করে আবার তাদের দাদুর বাড়িতে ফিরে আসার জন‍্য তৈরি হয়ে নিল।রুবা, রাদিয়া আর তাদের স্বামীরা অনেক জোর করছিল থাকার জন‍্য। আহিয়ান আর শিবলী তাড়া দেখিয়ে চলে এসেছে।

____________

রোদেলারা আহিয়ানদের দাদুর বাড়িতে ফিরে এলো দুপুরের দিকে। বিকেল বেলা আহিয়ান আর শিবলীর স‍্যার মেজর জেনারেল. রাফতান রশিদ তার মেয়ে ল‍েফট‍েন‍্যান্ট রামিশা রশিদকে নিয়ে আহিয়ানদের বাড়িতে বেড়াতে এলো।আহিয়ান আর শিবলী’র স‍্যার হওয়া ছাড়াও তার আরেকটি সম্পর্ক আছে এই বাড়ির সাথে। এই বাড়ির সেজো বউ জয়া’র বড় ভাই তিনি।মানে মেহনূর আর অর্ণর আপন মামা হন তিনি।

রামিশা এসেই তার ফুপিকে ঝাপটে ধরলো। জয়াও পরম স্নেহে রামিশাকে বুকে আগলে নিলেন। ভাতিজির কপালে চুমু খেলেন জয়া।মেহনূর,তৃষ্ণা,অন্বেষা,অবন্তি সহ সবাই এগিয়ে এলো তাদের দিকে।সবার সাথে রামিশা কথা বার্তা বলে শেষ করতেই, তার থেকে একটু দূরে একটা কিশোরী মেয়ের দিকে রামিশার চোখ আটকালো। এই মেয়েকে এই বাড়িতে আগে সে কখনও দেখেনি। জয়কে কোলে নিয়ে এক কোণায় রোদেলা দাড়িয়ে ছিল।
অতি আধুনিক গোছের মেয়েটাকে রোদেলা নিজের দিকে ভ্র কুঁচকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভড়কালো।

রামিশা রোদেলার দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপ মাখা হাসি ছুড়ে দিয়ে রোদেলাকে দেখিয়ে মেহনূরের কাছে জানতে চাইলো,
” তোদের বাড়ির নতুন আশ্রিতা নাকি? না মানে তোদের ফ‍্যামিলির সবাই তো উদার দিলের মানুষ। বিশেষ করে দাদা ভাই। সে তো যাকে তাকে আশ্রিতা করে
নিয়ে আসে। ”

চলবে…..

( অনেক বড় পর্ব দিয়েছি সবাই রেসপন্স করবেন। আর এই পর্বে 1.5 K রিয়েক্ট পূর্ণ হলে নতুন পর্ব পাওয়ার আশা করবেন। আপনাদের বলেও পেইজে রিভিউ দেওয়াতে পারলাম না। গল্প সম্পর্কে পেইজের রিভিউ অপশনে দুইটা কথা লিখে দিলে কি জাত যাবে নাকি বুঝলাম না। অনেকে আবার চুপিচুপি গল্প পড়ে যান। না ফলো দেন, না রিয়েক্ট করেন না কমেন্ট। এভাবে চলে গল্প লিখার আগ্রহ আসে না। সবাই গ্রুপে জয়েন হবেন। )

#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী লিংক –
https://www.facebook.com/61581445095817/posts/122135154681048169/

#মেহুলিনা_প্রাপ্তির লিখা গল্পের লিংক একত্রে –
https://www.facebook.com/61581445095817/posts/122137337625048169/?app=fbl

সবাই গ্রুপে জয়েন হয়ে গল্প সম্পর্কে মতামত জানাবেন।
গ্রুপ লিংক- https://facebook.com/groups/2493488501095403/

আইডি লিংক – https://www.facebook.com/profile.php?id=61583969099988

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here