#চোরাবালির_পিছুটানে (৪০)
#জেরিন_আক্তার
সাজিদের ডাকে মিসেস সাবিনা ইয়াসমিন রুমের দরজা খুলে বলেন,
“কি হয়েছে এত সকালে উঠে ডাকছো কেনো?”
“আম্মু একটা সমস্যা হয়েছে।”
“সমস্যা? কি সমস্যা হয়েছে ?”
“আম্মু আমার বন্ধু রাদিফ আছে না!”
“হুমম , রাডিফ। কি হয়েছে ওর?”
“ আম্মু ওর কিছু হয়নি। ওর বোন প্রেগনেন্ট, পেইন উঠছে। এখন এই সকালবেলা ডক্টর ম্যানেজ করতে পারছে না উনারা। এরপরে রাদিফ আমাকে কল দেয়।আমি ওকে বলেছি তুমি কিছু একটা ব্যবস্থা করবে। তুমি কিছু করো না। দেখো রাদিফ তো আমাদের কতই উপকার করেছে। তুমি প্লীজ ওদের এই সময়ে একটু হেল্প করো।”
মিসেস সাবিনা ইয়াসমিন মিনিট দুই ভেবে বলেন,
“ঠিক আছে। তুমি ওদের আমার ক্লিনিকের এড্রেস দিয়ে ওদের আসতে বলো। আমি সবাইকে কল দিয়ে আসতে বলছি ।”
“থ্যাংক ইউ আম্মু।”
সাজিদ তার মায়ের নিজস্ব ক্লিনিকের ঠিকানা রাজের নাম্বারে সেন্ড করে, এরপরে রাজকে কল দেয়। রাজ অস্থির গলায় বলে,
“সাজিদ , আন্টিকে বলেছো? উনি কি বলেছে?”
“আম্মুকে বলেছি, রাজি হয়েছে। আর দেখো তোমাকে এখন একটা এড্রেস দিয়েছি, তোমরা রাহাকে নিয়ে ওইখানে চলে এসো। আমি আর আম্মু যাচ্ছি ওইখানে।”
“অনেক অনেক ধন্যবাদ তোমাকে। আমরা আসছি।”
“হুমম। তাড়াতাড়ি এসো। দেরি করো না।”
এদিকে বিছানায় শুয়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছে রাহা। পাশে সায়মা চৌধরী আর রুমানা চৌধুরী বসে আছেন। রুমের বাহিরে দাঁড়িয়ে আছেন রুবেল চৌধুরী। তিনি একের পর এক ডক্টরকে কল দিয়েই চলেছেন। রাজ ছুটে এসে বলে,
“ছোট আব্বু, ডক্টরের ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে। তুমি এই চাবিটা নিয়ে গাড়িটা বের করো। আমি রাহাকে নিয়ে আসছি।”
“ডক্টরের ব্যবস্থা কোথায় থেকে করলে?”
“তুমি আগে গাড়িটা বের করো! এরপরে গাড়িতে উঠে বলছি।”
“হুম, যাচ্ছি!”
রাজ রুবেল চৌধুরীকে এই বলেই রুমে ঢুকে। তড়িৎ পায়ে এগিয়ে যায় রাহার কাছে। এর সাথে তার মা আর ছোট আম্মুকে বলে উঠে,
“আম্মু, ছোট আম্মু তোমরা যা যা গোছানোর গুছিয়ে ফেলো। ডক্টর পেয়ে গিয়েছি।”
হসপিটালে ভর্তি হয়ে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজনীয় জিনিস এর সব কিছুই সায়মা চৌধুরী আর রুমানা চৌধুরী খুব দ্রুত গুছিয়ে ফেললেন। রাজ রাহাকে নিয়ে গাড়ির কাছে আসে। এরপরে রাহাকে গাড়িতে উঠিয়ে নিজে ড্রাইভ করে ছুটে যায় হসপিটালের উদ্দেশ্যে।
আর এদিকে রাদিফ আর মিষ্টিও বেশ চিন্তিত হয়ে রয়েছে। রাদিফ একটু পরপর একেক জনকে কল দিয়ে রাহার খবর শুনছে।
রাহাকে ক্লিনিকে এনে সঙ্গে সঙ্গে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হলো। বাড়ির সবাই ওটির সামনে দাড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ পরেই ওটির ভিতরে থেকে বাচ্চার কান্না ভেসে এলো। সবাই খুশি হয়ে “ আলহামদুলিল্লাহ ” বলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলো।
এরও কিছুক্ষণ পরে ভিতরে থেকে একজন নার্স, নবজাতক শিশুটিকে নিয়ে বের হলো। সেই সাথে রাজ, রাশেদ চৌধুরী, রুবেল চৌধুরী, সায়মা চৌধুরী আর রুমানা চৌধুরী এগিয়ে আসলেন। নার্সটি বলে উঠে,
“আপনাদের পেশেন্টের ছেলে বাবু হয়েছে।”
সবাই “ আলহামদুলিল্লাহ ” বলে উঠলো। সায়মা চৌধুরী নবজাতক বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নিলেন। সবাই খুশি।
এর মাঝে ওটির ভিতরে থেকে মিসেস সাবিনা ইয়াসমিন বের হয়ে এলেন। তিনি সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
“আপনাদের পেশেন্টের ছেলে বাবু হয়েছে। বাচ্চাটা সুস্থ আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু বাচ্চার মায়ের একটু প্রবলেম দেখা দিচ্ছে। বয়স অল্প হওয়ার কারণে ডেলিভারির পরে খুব ব্লিডিং হয়েছে। এখনই রক্তের প্রয়োজন।”
এই শুনে রাজ কাদতে থাকে। অস্থির হয়ে বলে উঠে,
“আমি রক্তের ব্যবস্থা করছি!”
রুবেল চৌধুরী রাজকে থামিয়ে বলে উঠেন,
“রক্তের ব্যবস্থা করতে হবে না। আমি দেবো রক্ত।”
রাজ গলার কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলে উঠে,
“তুমি দেবে?”
“হুম। আমার রক্তের গ্রুপ আর রাহার রক্তের গ্রুপ একই।”
নার্সটি রুবেল চৌধুরীকে বলেন,
“তাহলে আপনি আমার সাথে আসুন তাড়াতাড়ি।”
“হুম। চলুন।”
রুবেল চৌধুরী নার্সটার সাথে চলে গেলো। রাজ সিটে বসে পড়লো। সায়মা চৌধুরী বাচ্চাটিকে নিয়ে রাজের কোলে দিলো। রাজ নবজাতক বাচ্চাটার গালে নিজের গাল ঠেকিয়ে কেদে উঠলো।
রাশেদ চৌধুরী ফোন বের করে রাদিফকে ভিডিও কল দেয়। রাদিফ কল রিসিভ করে। রাশেদ চৌধুরী বাচ্চাটাকে দেখায়। রাদিফ আর মিষ্টি বাচ্চাটাকে দেখে খুব খুশিই হয়। রাদিফ জিজ্ঞাসা করে রাহা কেমন আছে। রুমানা চৌধুরী ফোনটা নিয়ে বলেন,
“রাহাকে নিয়েই একটু চিন্তায় আছি। ডাক্তার বলেছে অনেক ব্লিডিং হয়েছে। রক্তের দরকার। পরে তোর বাবাই রক্ত দেওয়ার জন্য গিয়েছে।”
“ওহ। বাবা এলে কল দিতে বলো। আর রাহার কি অবস্থা আমাকে জানিও।”
“ঠিক আছে।”
এর ঘন্টাখানিক পরে রাহাকে কেবিনে বেডে দেওয়া হয়। রাহার অবস্থা এখন ভালোই। কেবিনে দেওয়ার পরে সবার আগে দেখা করতে ঢুকলো রাজ। রাহা রাজের দিকে তাকালো। রাজ এগিয়ে এসে রাহার পাশে চেয়ার টেনে বসলো। রাহার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,
“কেমন লাগছে এখন?”
রাহা কোমল কন্ঠে বলে উঠে,
“ভালো। বাবুকে দেখেছো?”
“হুম দেখেছি।”
“কার মতো হয়েছে?”
“একবারে তোমার মতোই।”
“খুশি তো তুমি?”
“হুম। খুব খুব খুশি।”
______________
জাপানে তখন দুপুর আড়াইটা,,, মিষ্টি রেডি হচ্ছে। রাদিফের সাথে ঘুরতে যাবে বলে। আর তার মধ্যে রাহার ছেলে হয়েছে। এতে অনেক খুশি দুজনেই। আর একদিকে একটু মন খারাপও হচ্ছে ,যদি এই সময়ে দুজনে দেশে থাকতো। দেশে থাকলে হয়তো আরও খুশি হতো।
মিষ্টি রেডি হয়ে নেয়। রাদিফ আগেই রেডি হয়ে বসে আছে ড্রয়িং রুমে। মিষ্টি রুম থেকে বেরিয়ে নিচে আসে রাদিফের কাছে। রাদিফ উঠে দাড়িয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
“তাহলে চলুন যাওয়া যাক!”
“হুম, চলো।”
দুজনে একসাথে বাড়ির বাহিরে চলে আসে। মিষ্টি গাড়িতে উঠার আগে বলে,
“আমরা দুজনই যাবো। সাইমন ভাইয়া যাবে না?”
“না।”
“কেনো?”
“আমাদের হাসব্যান্ড ওয়াইফের মাঝে ও গিয়ে কি করবে? আর তাছাড়া ও যাবে না আমাদের সাথে।”
“যাবে না তাতো আমিও জানি। তবুও ওকে বলা উচিত ছিলো। যতই হোক ওদের জন্যই তো আমরা বাড়িতে ফিরে এসেছি। নাহলে তো আমাদের ঐখানেই সুন্দর সুন্দর সময় কাটাতে হতো।”
রাদিফ গাড়িতে উঠতে উঠতে বলে,
“তাহলে কি চান এখন?”
মিষ্টিও গাড়িতে উঠে বসে বলে,
“সাইমন আর সিফাত এই দুজনকে কিছু একটা ট্রিট দাও।”
“ঠিক আছে। রাতে দিবো।”
“রাতে?”
“হুম। রাতে।”
“রাতে কি ট্রিট দিবে? এখন কোনো রেস্টুরেন্টে নিয়ে কিছু খাওয়াও, এটাই ভালো হবে।”
“এর থেকে ভালো কিছু দিবো। এখন তোকে আগে ট্রিট দিয়ে নেই।”
“ঠিক আছে। আর আমাকে কি নিয়ে ট্রিট দিবে?”
রাদিফ হেসে বলে,
“আজ মামা হয়েছি তাই ট্রিট দিবো।”
মিষ্টিও হেসে বলে,
“তাহলে চলো, আমিও ফুপ্পি হওয়ার খুশিতে তোমাকে ট্রিট দিবো।”
রাদিফ ভ্রু উঠিয়ে বলে,
“বাব্বাহ, টাকা এনেছিস?”
মিষ্টি দোপাটি দাঁত বের করে হেসে বলে,
“নাহ!”
“তাহলে কি ট্রিট দিবি? টাকাইতো আনিসনি!”
মিষ্টি ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে উঠে,
“কে বলেছে টাকা আনিনি? আমার হাসব্যান্ড সাথে যাচ্ছে। সে তো টাকা নিয়েই যাচ্ছে।”
এই কথা শুনে রাদিফ হেসে উঠলো। সেই সাথে মিষ্টিও।
__________________
রাত দশটা ছুঁইছুঁই। সাইমন আর সিফাত দুজনে মিলে রায়ানকে ধরে নিয়ে এসেছে একটা পুরাতন গোডাউনে। সাইমন আর সিফাত রাদিফের কথা মতো রায়ানকে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে রেখেছে। এখন শুধু রাদিফের আসার অপেক্ষা।
চলবে….
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

