#চোরাবালির_পিছুটানে (৩৯)
#জেরিন_আক্তার
রাদিফ আর মিষ্টি দুজনেই সাইমন আর সিফাতকে দেখে অবাক হয়ে উঠলো। সাইমন আর সিফাতও ওদের দুজনকে দেখে স্বস্তি পেলো। অনেক কষ্টে খুঁজে পেয়েছে দুজনকে। তৎক্ষণাৎ, রাদিফ নড়াচড়া করে বলে উঠে,
“এই খুলে দে তো তাড়াতাড়ি!”
সাইমন এগিয়ে গেলো রাদিফের দিকে। আর সিফাত গেলো মিষ্টির দিকে। দুজনকেই দড়ি দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে। সিফাত মিষ্টিকে ছাড়াতে পারলো কিন্তু রাদিফকে ছাড়াতে পারলো সাইমন। রাদিফকে অনেক শক্ত করে বেধে রেখেছে। সিফাত আশেপাশে ধারালো কিছু খুঁজতেই একটা ছুড়ি পেলো। সেটা দিয়ে দড়িটি কেটে ফেললো। রাদিফ দড়িগুলো সরাতে সরাতে বলে উঠে,
“কুত্তার বাচ্চায় দড়ি দিয়ে বেঁধেছে শিকল দিয়ে বাঁধতো! শালাকে যদি ধরতে পারি রে ওকে উল্টো করে ঝুলাবো।”
রাদিফ মিষ্টির দিকে এগিয়ে বলে,
“তু্ই ঠিক আছিস?”
মিষ্টি ছোট্ট করে জবাব দেয়,
“হুম।”
রাদিফ আশেপাশে তাকিয়ে বলে,
“ওই কুত্তার বাচ্চাটায় কই রে? ওরে সামনে নিয়ে আয়! ওর কলিজা দু ভাগ করে দেবো। ও আমাকে নিয়ে এসেছে আবার সাথে সাথে আমার বউকেউ ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে এসেছে।”
মিষ্টি চুপ করে রইলো। এমনিতেই বকা খাচ্ছে। তার মধ্যে কিছু বললে আবারও বকবে।
রাদিফ মিষ্টির দিকে তাকিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
“আর তু্ই! তু্ই শুধু বাড়িতে চল! অন্যের কথায় নেচে নেচে চলে আসা বের করবো।”
সাইমন সিফাত দুজনেই হতভম্ব। রাদিফ একের পর এক কথা বলেই যাচ্ছে। একবার মিষ্টিকে বলছে ঠিক আছে কিনা আবার বকছে। সাইমন এগিয়ে এসে বলে,
“ভাই, মিষ্টি বুঝতে পারেনি। আর ওর জায়গায় আমরা থাকলেও চলে আসতাম।”
রাদিফ তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলে,
“লাইটার দে!”
সাইমন ভাবাচ্যাকা খেয়ে বলে,
“কি দেবো?”
রাদিফ দাঁত চেপে বলে,
“শালা লাইটার দে!”
সাইমন বিড়বিড় করে বলে,
“ভাই, ভাবি রয়েছে এখানে!”
রাদিফ চোখ গরম করে তাকায়। সাইমন পকেটে থেকে লাইটার বের করে দেয়। এরপরে সিগারেটও বের করে দেয়। রাদিফ সিগারেট মুখে নিয়ে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে,
“আমি তো ওকে ছাড়বো না। ওকে আজ মাটির নিচে জ্যান্ত পুঁতে রেখে তারপর যাবো। ও আমাকে সুন্দর সময় কাটাতে বলে এখানে। আজ ওকেই মেরে তক্তা বানিয়ে রেখে যাবো।”
রাদিফের এমন হাবভাব দেখে সবাই আশ্চর্য। সাইমন মিষ্টির পাশে দাড়িয়ে আস্তে করে বলে,
“ভাবি, ও কি পাগল হয়ে গেলো নাকি? না মানে এতো রেগে আছে!”
মিষ্টি বিড় বিড় করে বলে,
“ওর খিদে পেয়েছে তাই ও এমন করছে।”
এই শুনে সিফাত ফিক করে হেসে দেয়। পরক্ষনেই আবার চুপ হয়ে যায়। রাদিফ সিফাতের দিকে তাকিয়ে বলে,
“হাসছিস কেনো রে? হাসছিস কেনো? ফুর্তি লাগছে?”
সিফাত তবুও মিটিমিটি করে হাসছে। ওর দেখাদেখি সাইমনও হাসছে। এরপরে সাইমন নিজেই সিফাতকে ধমক দিয়ে বলে,
“চুপ কর! এদিকে রাদিফের বেহাল অবস্থা, তার উপর তু্ই আবার হাসছিস। রাদিফ তু্ই আর রেগে যাস না। চল বাড়ি যাই এখন!”
রাদিফ বলে,
“চল! তোরা আগে বের হ!”
সবাই বেরিয়ে যায়। রাদিফ সেখানে থাকা পুরোনো জিনিসের উপরে আগুন ধরিয়ে তার পর বের হয়। আগুন আস্তে আস্তে সব জিনিসে ছড়িয়ে গেলো।
গাড়ির কাছে এসে সাইমন মেইডকে কল দেয়।
“হ্যালো স্যার, বলুন!”
“শুনুন, আমরা রাদিফ আর মিষ্টি দুজনকেই পেয়েছি।”
“স্যার, সত্যিই পেয়েছেন? উনারা ঠিক আছে তো?”
“হুম। ঠিক আছে। আর শুনুন, আমরা কিছুক্ষনের মধ্যেই আসছি। আপনি রাদিফের জন্য খাবার রেডি করতে থাকুন!”
“ঠিক আছে স্যার।”
সাইমন কল কেটে দিয়ে গাড়িতে উঠে ড্রাইভিং সিটে বসে। পাশের সিটে সিফাত বসে। রাদিফও চলে আসে। রাদিফ আর মিষ্টি ব্যাক সিটে বসে। সাইমন দ্রুত ড্রাইভ করে চলে আসে তাঁদের ম্যানশনে। রাদিফ গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে হনহন করে ভিতরে ঢুকে। ধুপধাপ পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে নিজের রুমে চলে আসে। কোনোদিক না তাকিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে শাওয়ার নিতে। শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে দেখে মিষ্টি দাড়িয়ে আছে। মিষ্টি রাদিফকে বলে,
“চলো নিচে খাবার রেডি করেছে মেইড।”
রাদিফ টাওয়ালটা বিছানার দিকে ছুড়ে মেরে চলে গেলো। মিষ্টি রাদিফের যাওয়ার পানে তাকিয়ে হেসে উঠলো। রাদিফ নিচে এসে ডাইনিং টেবিলে বসে খেতে থাকে। প্রায় দুদিন ধরে না খাওয়া। শুধু পানি খেয়ে থেকেছে। এমনিতেই তার অল্পতেই রাগ উঠে যায়। এর মধ্যে আবার না খেয়ে ছিলো। রাদিফ কোনো কথা ছাড়াই চুপচাপ খেয়ে নেয়। খাওয়া শেষ হতেই মিষ্টি এসে বসে। রাদিফ হাত ধুয়ে উপরে চলে যায়। মিষ্টি নিজের মতো খাবার খেয়ে উপরে চলে আসে।
মিষ্টি রুমে এসে দেখে রাদিফ শুয়ে পড়েছে। রাত প্রায় দশটার মতো বাজে। মিষ্টি রাদিফের দিকে তাকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপরে লাইট নিভিয়ে এসে শুয়ে পড়ে। রাদিফের ঘুমের ডিসটার্ব হবে বলে মিষ্টি একটু দূরত্ব নিয়েই শুলো। রাদিফ হাত বাড়িয়ে মিষ্টিকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। মিষ্টি মনে করেছিলো রাদিফ হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে।
এদিকে রায়ান ফিরে আসে নিজের গোডাউনে। সাথে দুজন ছেলেও আছে। ওরা সবাই এসে দেখে ভাঙা দরজাটা পড়ে আছে আর ভিতরে যে জিনিসগুলো ছিলো সেখানে আগুন জ্বলছে। রায়ান সাথে সাথে দুজন ছেলেকে বলে,
“এই ভিতরে আগুন জ্বললো কিভাবে? ভিতরে গিয়ে দেখতো ওরা ওখানে আছে নাকি পালিয়েছে?”
দুজনই এগিয়ে গেলো। ভিতরের সব জিনিস পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। আর চেয়ারও ফাঁকা। সাদা দড়িগুলোও পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। রায়ান দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠে,, উফ এবারেও মিস হয়ে গেলো।
________________
আরও একটি নতুন ভোরের সূচনা। আজ রাদিফ আর সাইমনের অফ ডে। দুজনে তো দুইদিন অফিসেই যায়নি। এর আগেও গ্যাপ দিয়েছে। আর এরপরে অফিসে গেলে আদৌ ওদের জব থাকবে কি না তা আল্লাহই ভালো জানে।
মিষ্টি রাদিফের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে বসলো। নিশ্চুপ হয়ে রাদিফের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো। রাদিফের এলোমেলো চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে মুচকি হেসে উঠলো। রাদিফ নড়েচড়ে উঠতেই মিষ্টি হাত সরিয়ে নিয়ে নেমে গেলো। রুমের লাইট জ্বালিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো। এরপরে ফ্রেশ হয়ে বের হলো। হাত-মুখ মুছে নিজেকে পরিপাটি করে তুলে ব্যালকনির দরজাটা খুলে দিলো। সকালের আবহাওয়া পুরো ঘরে মিলিয়ে গেলো। সাথে সূর্যের সোনালী কিরণগুলোও রুমে ঢুকলো। রাদিফ আবারও নড়েচড়ে উঠে উঁবু হয়ে শুলো।
মিষ্টি ব্যালকনির দরজা লাগিয়ে দিলো। এরপরে রুমের দরজা খুলে বাহিরে চলে গেলো। নিচে এসে দেখলো মেইড খাবার রান্না করছে। মিষ্টিও তার সাথে কাজ করে দিলো। এর মাঝে সাইমন নামে। মিষ্টি কফি বানিয়ে নিয়ে আসে। সাইমন বলে,
“ভাবি, রাদিফ?”
“ঘুমাচ্ছে।”
“ওহ। রাতে কি ও আরও রাগারাগি করেছিলো?”
“না।”
“তাহলে ভালোই।”
মিষ্টি সাইমনের সামনে থেকে চলে যেতে নিয়ে আবার ফিরে আসে। খানিকটা ইতস্তত নিয়ে বলে উঠে,
“ভাইয়া, রায়ানের সাথে কি আপনাদের কোনো শত্রুতা আছে?”
সাইমন জবাবে বলে,
“হুম। আগের একটা বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে শত্রুতা ছিলো।”
মিষ্টির জানতে ইচ্ছে করলো কি নিয়ে। কিন্তু সাইমন যেহেতু বলেছে আগের কোনো বিষয় নিয়ে শত্রুতা ছিলো। এখন মিষ্টির সেটা জিজ্ঞাসা করাও বেমানান দেখায়। বিষয়টা ওদের পার্সোনাল ঝামেলা মনে হচ্ছে তার। তাই জিজ্ঞাসা না করাই উত্তম।
মিষ্টি কিচেনে এসে রাদিফের জন্য কফি বানিয়ে উপরে চলে আসে। রাদিফও তখন ওয়াশরুমে থেকে বের হয়। মিষ্টি কফির মগটা সাইড টেবিলে রাখলো। রাদিফ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলগুলো ঠিক করতে করতে বলে,
“বুঝলি কেমন করে যে আমি ঘুম থেকে উঠে গিয়েছি?”
মিষ্টি বিছানায় গোছাতে গোছাতে বলে উঠে,
“ও তুমি বুঝবে না।”
রাদিফ এগিয়ে এসে মিষ্টিকে পেছনে থেকে জড়িয়ে ধরে। মিষ্টি বলে,
“কি করছো ছাড়ো!”
“না ছাড়বো না।”
মিষ্টি ঝাড়ি মেরে বলে,
“সরো আমাকে ধরতে হবে না। তখন তো ঠিকই বকলে আর এখন এসেছো জড়িয়ে ধরতে। ছাড়ো!”
রাদিফ মিষ্টির ঘাড়ে থুতনি রেখে বলে উঠে,
“মহারানী তো দেখি রেগে আছে।”
“হুম খুব রেগে আছি।”
“তো এখন কি করলে তার রাগ কমবে?”
“আমাকে ঘুরতে নিয়ে যেতে হবে।”
“তো কোথায় যাবেন মহারানী?”
“আপনি যেখানে নিয়ে যাবেন সেখানে।”
“ঠিক আছে। বিকেলে রেডি হয়ে থাকবেন।”
“ঠিক আছে। আর এখন তুমি কফি টা খেয়ে নাও, ঠান্ডা হয়ে যাবে।”
রাদিফ মিষ্টিকে ছেড়ে কফির মগ হাতে নিয়ে বলে,
“আমার ফোনটা কই রে?”
মিষ্টি বালিশের নিচে থেকে রাদিফের ফোন বের করে এগিয়ে দেয়। রাদিফ ফোন হাতে নিয়ে বলে,
“বাব্বাহ, আমার ফোনটা এতো যত্ন করে বালিশের নিচে রেখেছিলি?”
মিষ্টি ভেঙচি কেটে বলে,
“এমন করছো যেনো আমি তোমার যত্ন নেই না!”
রাদিফ হেসে বলে,
“নিসই না তো!”
রাদিফ মিষ্টির সাথে হাসি-তামাশা করে ব্যালকনিতে চলে যায়। সিফাতকে কল দেয়। সিফাত মাত্র ঘুম থেকে উঠেছে। এখনও বিছানা ছেড়েই উঠেনি। শুয়ে শুয়ে ফোন স্ক্রল করছিলো। সেও রাদিফকে কল দিবে এমন সময় রাদিফের ফোন যায়। সিফাত বলে,
“এই বন্ধু কেমন আছিস?”
“ভালো। তু্ই?”
“ভালো। তোর রাগ কমেছে নাকি?”
“বাজে বকা বন্ধ কর! কি করছিস?”
“শুয়েই আছি। ভেবেছি তোকে কল দিবো আর তু্ইই এর মধ্যে কল দিলি।”
“ওহ। আজ রাতে রেডি থাকিস তো ভাই!”
“কোথায় যাবি? রায়ানকে ধরতে নাকি?”
“হুম। শালাকে ধরে একবারে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখবো।”
“ঠিক আছে। কখন বের হবি কল দিস!”
“আচ্ছা। রেডি থাকিস। আর এর মধ্যে ওকে ধরার লোক লাগাচ্ছি।”
“আচ্ছা।”
রাদিফ সিফাতের সাথে কথা বলা অবস্থায়ই রাজের নাম্বার থেকে কল আসে। রাদিফ সিফাতকে বলে,
“ভাই, তোকে পরে ফোন করছি। দেশে থেকে কল এসেছে।”
“ঠিক আছে। কথা বল!”
রাদিফ সিফাতের কল কেটে দিয়ে রাজের ফোন ধরে। রাজ অস্থির গলায় বলে,
“হ্যালো রাজ কেমন আছিস?”
ওপাশে থেকে রাজ গলার কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বলে,
“ভালো। তু্ই কেমন আছিস?”
রাদিফ কপালে ভাজ ফেলে বলে,
“তোর গলা এমন শোনাচ্ছে কেনো? কি হয়েছে ভাই?”
ওপাশে থেকে রাজ শুকনো গলায় বলে,
“ভাই, বাংলাদেশে তো এখন অনেক সকাল। আর এই সময় রাহার পেইন উঠছে। এখন কি দিয়ে করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।”
রাদিফ চিন্তিত হয়ে বলে,
“কি বলছিস, এখন তো কোনো হসপিটালেও ডক্টর পাবি না। প্রাইভেট ক্লিনিকেও তো এতো সকালে ডক্টর আনতে পারবি না।”
মিষ্টিও সেখানে আসে। সবটা শুনে সেও চিন্তায় পড়ে যায়। ওপাশে থেকে রাজ ভাঙা গলায় বলে,
“বাবা, ছোট আব্বু কথা বলছে কিন্তু ম্যানেজ করতে পারছে না। কি করবো এখন!”
রাদিফ রাজকে শান্তনা দিতে থাকে। মিষ্টি কিছু একটা ভেবে বলে,
“ভাইয়া একটু পরে ফোন দিচ্ছি। তুমি চিন্তা করো না। আমরা ম্যানেজ করছি।”
মিষ্টি রাদিফের থেকে ফোন নিয়ে কল কেটে দেয়। রাদিফ বলে উঠে,
“তু্ই কি করে ম্যানেজ করবি?”
“করছি দাড়াও!”
“তু্ই জাপানে থেকে কি করে দেশে ব্যবস্থা করবি?”
মিষ্টি রাদিফের দিকে তাকিয়ে বলে,
“এতো উতলা হোচ্ছ কেনো, আগে শোনো! তোমার বন্ধু সাজিদ ওর মা একজন গাইনি ডাক্তার তো। আমরা যার কাছে গিয়েছিলাম। মনে আছে তোমার? তুমি উনাকে ফোন দাও। দেখো উনি কি বলে?”
চলবে….
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

