#চোরাবালির_পিছুটানে (৩৮)
#জেরিন_আক্তার
রাদিফ চোখের সামনে মিষ্টিকে দেখে নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না। রাগে হির হির করে রায়ানের দিকে তাকিয়ে বলে,
“এই কুত্তার বাচ্চা। তোর সাহস হলো কি করে ওকে এখানে আনার?”
রায়ান কিছু বলে না শুধু উপহার দেয় এক তাচ্ছিল্য ভরা হাসি। মিষ্টি রাদিফকে এই অবস্থায় দেখে এগিয়ে যেতে নিলে রায়ান নিজের রিভলবার রাদিফের দিকে তাক করে বলে,
“একদম মেরে ফেলবো!”
মিষ্টি এগোয় না। সেখানেই দাড়িয়ে কাঁদতে থাকে।
এদিকে সাইমন মিষ্টিকে পুরো বাড়িতে কোথাও খুঁজে পায়নি। একটা মানুষ বাড়িতে থেকে কোথায় চলে যাবে। মেইড বাড়ির আশেপাশেও দেখে এসে জানায় মিষ্টিকে পায়নি। সাইমনের মাথায় আসে বাড়ির বাহিরের দিকে একটা সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। সেটার ফুটেজ চেক করলেই দেখা যাবে মিষ্টি কোথায় বা কোনদিকে গিয়েছে। কোনো না কোনো ক্লু তো পাবেই।
সাইমন দেরি না করে সিসি টিভি ফুটেজ চেক করে। সেখানে দেখা যায় মিষ্টি নিজে থেকে রায়ানের সাথে যাচ্ছে। সাইমন তব্দা খেয়ে যায় এরূপ দৃশ্য দেখে। মিষ্টি তো রায়ানের সাথে যাওয়ার কথা না। রায়ান ভাবতে থাকে, মিষ্টি নিজে রায়ানের সাথে যাচ্ছে নাকি ওকে নিয়ে যাচ্ছে।
সাইমন সাথে সাথে সিফাতকে কল দেয়,,
“এই ভাই তু্ই কই আছিস এখন?”
“কেনো কিছু হয়েছে? রাদিফকে পেয়েছিস?”
“রাদিফকে পাইনি। সমস্যা হয়েছে অন্য জায়গায়। মিষ্টিকে পাচ্ছি না। সিসি টিভির ফুটেজ দেখলাম। সেখানে মিষ্টি রায়ানের সাথে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। কি করি বলতো এখন!”
“তু্ই চিন্তা করিস না। আমি আসছি!”
“তাড়াতাড়ি আয়। রাদিফের অবর্তমানে মিষ্টির যদি কিছু হয় তাহলে আমাদের কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না।”
“হুম, তা ঠিক বলেছিস। আমি এক্ষুনি আসছি!”
সিফাত আসে। এরপরে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে সেও নিশ্চিত হয় যে মিষ্টি রায়ানের সাথেই গিয়েছে।
প্রতিদিনের মতো আজ বিকেলবেলা মেইড গিয়েছিলো শপে। এই সুযোগে রায়ান বাড়িতে আসে। মিষ্টি তখন ড্রইং রুমে বসেছিলো। সাইমনও বাড়িতে ছিলো না। রায়ান কলিং বেল বাজায়। মিষ্টি কোনো দিক বিবেচনা না করেই মেইন দরজা খুলে দেয়। রায়ানকে এই সময়ে দেখে মিষ্টি কপাল কুঁচকে বলে উঠে,
“আপনি এখানে?”
রায়ান এখন জানে মিষ্টির দুর্বল পয়েন্ট কি। রাদিফই এখন মিষ্টির দুর্বল পয়েন্ট। রায়ান সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে বলে,
“ভাবি, একটা কথা বলার ছিলো। আসলে রাদিফকে তো খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। ও এখন হসপিটালে আছে। সাইমন, সিফাত এমন কি মেইডও চলে গিয়েছে হসপিটালে।”
মিষ্টি রাদিফের কথা শুনতে পেয়ে কেঁদে উঠে বলে,
“রাদিফকে পেয়েছেন। ও কেমন আছে? আর হসপিটালে কেনো?”
“ভাবি, রাদিফকে যেভাবে আমরা পেয়েছি মনে হলো অনেকগুলো ছেলে মিলে মেরেছে। তাই আমরা ওকে তৎক্ষণাৎ হসপিটালে এডমিট করিয়েছি।”
মিষ্টি সাথে সাথে বলে,
“সাইমন ভাইয়া, সিফাত ভাইয়া কোথায়? উনারা কি রাদিফের সাথেই আছে?”
রায়ান ঠান্ডা গলায় বলে,
“হুম, সবাই এক জায়গায়ই আছে। আপনাকে নিতে পাঠালো রাদিফ!”
মিষ্টি কপালে ভাজ ফেলে বলে,
“সত্যিই আপনার সাথে যেতে বলেছে রাদিফ?”
রায়ান বুঝতে পারে মিষ্টি এতো সহজে বিশ্বাস করবে না। তাই আরও নরম হয়ে বলে উঠে,
“হুম, আপনি কি আমার সাথে যেতে ইতস্তত! তাহলে আমি চলে যাচ্ছি। সাইমনকে পাঠাচ্ছি।”
মিষ্টি মাথা নাড়িয়ে বলে,
“না, থাক! সাইমন ভাইয়াকে আবার বলতে হবে না। কালকে থেকে অনেক ছুটাছুটি করছে। এর থেকে চলুন আমি আপনার সাথে যাবো।”
রায়ান মনে মনে বাকা হাসে। এরপরে বলে,
“তাহলে চলুন, ভাবি!”
“হুম। চলুন!”
এরপরেই মিষ্টি রায়ানের সাথে বেরিয়ে যায়। যা সিসি ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
সিফাত আর সাইমন বসে বসে ভাবছে একে একে রাদিফ আর মিষ্টির নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারটা। ওরা এটা নিশ্চিত মিষ্টি রায়ানের সাথে নিজের ইচ্ছায় যাওয়ার মতো মেয়ে না। নিশ্চই ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে গিয়েছে। ওরা কিছুক্ষন বসে থেকে একটা আইডিয়া বের করলো। এখন ওদের দুজনের থেকে যেকোনো একজন রায়ানকে কল দিবে। এরপরে কথা বলে আর কিছু না হলেও রায়ানের লোকেশন জানা যাবে। এরপরে যা হবার হবে।
যেই ভাবা, সেই কাজ। সাইমনই কল দিলো রায়ানকে। সিফাত কল দিলে নাও ধরতে পারে। রায়ান সাইমনের কল পেয়ে প্রথমে রিসিভ করতে চাইলো না। কিন্তু রিসিভ না করলে সন্দেহ করবে ভেবে কল রিসিভ করলো।
রায়ান কিছু বলার আগেই সাইমন বলে,
“কিরে রায়ান! কেমন আছিস?”
রায়ান স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলতে শুরু করলো,,
“এইতো ভালো। তু্ই কেমন আছিস?”
“ভালো। রায়ান তু্ই না সেদিন যেনো কি বলতে চেয়েছিলি পরে তো আর বললি না?”
“তোরা তো সব জানিসই আমি এই পর্যন্ত তোদেরকে কি বলেছি। তোরা আমাকে তোদের সাথে নিয়েও কাজ করতে পারতি সেটাই বলতাম।”
“ওহ। আমি আরও ভাবলাম কোনো দরকারি কথাই বলবি নাকি?”
“না, এটাই বলতাম!”
“ওহ, ঠিক আছে। আর তু্ই কোথায় এখন?”
রায়ান এক মিনিটের মতো চুপ থেকে বলে উঠে,
“আমি এখন একটু বন্ধুদের সাথে আছি।”
“ওহ বন্ধুদের সাথে আছিস, থাক তাহলে, পরে কথা বলবো।”
“ঠিক আছে।”
সাইমন কল কেটে দেয়। এদিকে রায়ান ফোন পকেটে ভরতে ভরতে একটা গোডাউনে ঢোকে। সেখানে রাদিফকে বেধে রেখেছে। আর পাশেই একটা চেয়ারে মিষ্টিকেও বেঁধে রেখেছে। রায়ান দুজনের দিকে একনজর তাকিয়ে চলে যায়। যাওয়ার আগে পেছন ফিরে দুজনের দিকে তাকিয়ে বলে,
“তোরা দুজনে সুন্দর একটা সময় পার কর! আমি আসছি। ফিরতে দেরি হবে। ভয় পাসনা।”
রাদিফ দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“শুধু একবার ছাড়া পেলে হয়, তখন তোকে সুন্দর সময় উপহার দিবো।”
এই শুনে রায়ান হাসতে হাসতে চলে যায়।
রাদিফ রাগে হিরহির করতে করতে মিষ্টির দিকে তাকায়। মিষ্টি মাথা নত করে আছে। রাদিফ মিষ্টির দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে ধমকে উঠে বলে,
“এই শয়তানের বাচ্চা! তু্ই এখানে কেনো? আমাকে নাহয় মেরে, অজ্ঞান করে নিয়ে এসেছে। তোকে আনলো কি করে? কিরে কথা বলছিস না কেনো? তু্ই কি বাচ্চা? বুঝতে পারিসনি ওর চাল?”
মিষ্টি মাথা নত করেই বলে উঠে,
“ও বলেছিলো যে তুমি নাকি হসপিটালে। আর তুমিই নাকি ওকে পাঠিয়েছিলে আমাকে নিতে আর নাকি বলেছো আমি যেনো ওর সাথেই হসপিটালে যাই।”
এই শুনে রাদিফ চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
“রেডি থাক তু্ই, প্রথমে ওই কুত্তার বাচ্চাটাকে দেখে নিবো। এরপরে তোর পালা। আমি এইটা বুঝতে পারছি না যে ও তোকে বললো আর তু্ই কি করে সেটা বিশ্বাস করে চলে এলি। নিজেকে নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। যদি তোর আর বাচ্চার কিছু হয়ে যায়। এখন ইচ্ছে করছে তোকে পিটাতে।”
এর এক ঘণ্টা পরে দরজায় কেউ হাত দিয়ে জোরে জোরে চাপর মারে। রাদিফ আর মিষ্টি দুজনেই ছিটকে উঠে সেই শব্দে। রাদিফ রেগে গিয়ে বলে,
“এই কুত্তার বাচ্চা, শব্দ করছিস কেনো? শালা নাটকবাজ কোথাকার।”
দরজা জোরে জোরে ধাক্কা দেওয়ার শব্দ পাওয়া যায়। মনে হচ্ছে দরজা ভাঙছে। রাদিফ দাঁত চেপে বলে,
“এই শালার নাটক শেষ হবে না। নিজেই দরজা লক করে নিজেই শক্তি দেখাচ্ছে।”
ঠিক সেই সময়ে দরজা ভেঙে হুড়মুড়িয়ে ভিতরে ঢুকে সাইমন আর সিফাত।
চলবে….
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

