#তোমার_পিছু_পিছুপর্ব-২০

0
581

#তোমার_পিছু_পিছুপর্ব-২০

১টা বেজে ১৫ মিনিট,,,, তামান্না ক্যান্টিন থেকে লাঞ্চ সেড়ে এসে নিজের ডেস্কে বসল। অভ্যাসবশত কাচের গ্লাসের অপর পাশে বর্নর রুমে তাকালো….. কিন্তু চেয়ারটা ফাকা…. তামান্না কিছুক্ষন খালি চেয়ারটার দিকে তাকিয়ে থেকে নিজের কম্পিউটার অন করল…..
তামান্না একজন সাধারণ এমপ্লয়ি মাত্র…. তার বসের অফিসে আসতে মন চাইলে আসবে, না আসতে মন চাইলে আসবে না….. এটা নিয়ে তামান্নার প্রশ্ন করার কোন অধিকার নেই….
কিন্তু আজ মনে হচ্ছে অবশ্যই স্যারের ব্যাপারে একটু খোজ নিতে হবে…. বেশকয়েকটা মিটিং পেনডিং-এ আছে….. স্যারের সাথে কথাবলে টাইম ফিক্সড করা দরকার।

তামান্না খুব মনোযোগ সহকারে হাতের কাজগুলো শেষ করল,,, ঘড়িতে বাজে ৫টা ২ মিনিট….. কম্পিউটার অফ করে টেবিলের ফাইলগুলো গুছিয়ে তামান্না ম্যানেজার মো. সলিমুল্লাহর কেবিনে নক করল,,,ভিতর থেকে সাড়া পেতেই প্রবেশ করল,,,,
-বলুন মিস সুলতানা…..
-স্যার,,,,, আসলে কিছু আর্জেন্ট মিটিং সিডিউল করা প্রয়োজন ছিল,,কিন্তু স্যারতো আজও এলেন না……
-হুম…আপনি নাহয় কাল পর্যন্ত ওয়েট করুন…. কালও যদি স্যার না আসেন আমরা কিছু ব্যবস্থা নিবো…..
-জ্বী আচ্ছা স্যার।
তামান্না ফিরেই যাচ্ছিল,,,কিন্তু মো. সলিমুল্লাহ আবার ডেকে উঠলেন,
-মিস সুলতানা,,, আপনি বরং এককাজ করুন,,,কাল অফিসে আসার আগে সরাসরি স্যারের বাড়ি যেয়ে একবার স্যারের সাথে কথা বলে আসুন….
-জ্বী,,,,মানে স্যার…….. আপনি নাহয় আমাকে স্যারের ফোন নাম্বারটা দিন….. আমি ফোনে যোগাযোগ করে নিবো….
মুখ কাচুমাচু করে তামান্না বলল,,,,,
-স্যারের পারসোনাল ফোন নাম্বার দেওয়া নেই…. অফিসে,,,। আপনি বাসায়ই চলে যান…. সব কিছু একবারে ফিক্সড করে নিবেন…..
বর্নর বাড়ির এড্রেস নিয়ে তামান্না ম্যানেজারের রুম থেকে বের হলো….. কিছুক্ষন এনড্রেসটার দিকে তাকিয়ে থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল…

👇👇👇
তামান্না বর্নর বাড়ির সামনে এসে দাড়ালো ঠিক ৮টা ৪৫ মিনিট…. এতো সকালে আসা কি ঠিক হলো…. সবাই যদি ঘুমে থাকে…. বড়লোক মানুষরা নিশ্চয়ই এতো সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে না…. তাদের বেড টি-ও বোধহয় এখনো পৌছে নি….. তামান্না এখন ভিতরে গেলে কি ওনাদের ঘুমের ডিস্টার্ব হবে….তামান্না বাড়ির আশেপাশে তাকালো….. কোন চায়ের দোকানও নেই….. সময় কাটানো প্রয়োজন…..

👇👇👇
পারভিন বেগমের মেজাজ সপ্তমে চড়ে আছে,….সকাল সকাল ড্রাইভার সালাম মিয়াকে পাঠিয়েছিলেন মাছের আড়তে…. টাটকা দেখে কিছু মাছ আনতে…. দুপুরের পরে মাছ বাশি হয়ে যায়…. কিন্তু এই লোকের বুদ্ধিতে পারভিন বেগম রীতিমত ক্রুদ্ধ….. এত্ত বড় শোল মাছ এই লোক কোন আক্কেলে আনলো…… পারভিন বেগমের সামনে সালাম মিয়া মুখ কাচুমাচু করে দাঁড়িয়ে আছে….
-জবাব দাও না কেনো তুমি!!!! তোমাকে ইয়া বিশাল মাছ আনতে কে বলছে…..
-………………………………
-তুমি জানো না…. জরজরি বাড়ি গেছে….. তাহলে এতো নবাবগীরি দেখানো কেনো….. কে কাটবে এখন এতো বড় মাছ!!!
-………………………………..
-জবাব দাও না কেনো!!!! এই হাবার বাচ্চা হাবা….তুমি কি আমাকে কাজের বেটি মনে করো…যে এটাকে কেটে ধুয়ে রেধে খাওয়াবো তোমাদের… কি মনে করে আনলে তুমি এটা!!!
পেচার মত মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকবে না খবরদার….
না,,না… তা কাটতে পারবি না… খেয়ে খেয়ে শুধু ডুমসি হয়ে যাচ্ছিস….. হাতির মত গতর নিয়ে কি আর কাম করতে পারবি নাকি….. মনে মনে সালাম মিয়া এসব কথা বলে কয়েকটা গালি দিলেও….. মুখ খুলল খুব ভয়ে ভয়ে
-ম্যাডাম…..আমি আসলে…. ছোট স্যারের জন্য আনসিলাম….. ওনার জ্বর… তাই ভাবলাম বড় মাছ……….
-একদম চুপ…. তোমাকে কে বলছে বর্নর দেখাশুনার দায়ভার নিতে….. বর্নর বাপ মা কি মরে গেছে নাকি!!!
-তওবা ম্যাডাম….. আমি আসোলে ওভাবে বলি নি…. আমি…………..
হঠাৎ ইন্টারকম বেজে উঠায়….. সালাম মিয়ার কথা কাটা পড়ল…… পারভিন বেগম ইন্টারকম রিসিভ করে কথা বলে এসে আবার জায়গামত বসিলেন।
-আর কক্ষনো যদি তোমাদের দেখেছি এমন বসগীরি দেখাতে খবর করে ছাড়বো বলে দিলাম।

👇👇👇
ডুপ্লেক্স বাড়িটার সিড়ি বেয়ে তামান্না যত উপরে উঠছে ওর বুকের ধুকপুকানি ততো বাড়ছে……. ইয়া আল্লাহ আর যাই করো…. চাকরি যেনো না যায় কোন কারনে… একটু দেখো আল্লাহ….. তামান্না উপরে উঠতে উঠতে হামকি ধামকির শব্দ শুনতে পেলো….. ও মাঝপথেই থেমে গেলো…. ও কি ফিরে যাবে….!!! ধ্যাত আজ আসাটাই ঠিক হয়নি….. ওই ক্যাবলার অফিস ক্যাবলার মিটিং,,, ক্যাবলাই বুঝত…… যার অফিস তার খবর নাই…. পাড়াপড়শির ঘুম নাই…. এমন একটা অবস্থা….. তামান্না দুইবার দুরুদ শরীফ পড়ে বুকে ফু দিয়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগল।

(আসছে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here