গল্পঃ- পিচ্চি বউ পর্বঃ-৭

0
230

গল্পঃ- পিচ্চি বউ
পর্বঃ-৭

গত রাত টা স্বপ্নের মত ছিল। মিথিলা এত তাড়াতাড়ি কাছে চলে আসবে ভাবতে পারি নি। সকালের আলো ফুটেছে। সে আমাকে কোলবালিশ বানিয়ে বুকে মাথা রেখে এখনো ঘুমিয়ে আছে,
-মিথু
-হু
-সকাল হয়েছে তো। ওঠ না…
-ইচ্ছে করছে না!
-কেন?
-জানি না। আর শোন, তুই দেশে ফিরে Gym এর ধারে কাছেও যাবি না।
-কিহ? কেন?
-আমি রান্না করব, তুই খেয়ে-দেয়ে কুমড়ো পটাস হয়ে যাবি, তারপর তোকে আমি কোলবালিশের সাথে মাথার বালিশ বানিয়ে ঘুমবো।
-সবাই চায় তার বরের ফিটনেস থাকুক, আর তুই চাস কুমড়ো পটাস হই? হে উপরওয়ালা কি বউ দিয়েছ?
-কেন গো? তুমি কি ফিট থেকে অন্য মেয়েদের সাথে ফ্লাটিং করবে?
-করলে কি বিশেষ সমস্যা আছে?
-অন্য কারো সাথে যদি দেখেছি না, ঘুসি মেরে তোর নাক ফাটিয়ে ফেলব!
-হা হা, তুই আসলেই আমার পিচ্চি বউ…
মিথু কিছু না বলে আমাকে আরেকটু জড়িয়ে ধরল।
.
অনেকটা বেলা হয়ে গেছে, এখন না উঠলে হচ্ছে না, চা পর্যন্ত খাওয়া হয় নি। তাই উঠে পড়লাম মিথু এখনও বেডে শুয়ে আছে। আমি গিয়ে ফ্রেস হয়ে বের হয়ে দেখি, সে ওঠার নামই নিচ্ছে না, ওদিকে তার ফোন বেজে যাচ্ছে,
-মিথু, তোর ফোন
-ধরে দেখ তো কে।
ওর ফোন হাতের নিয়ে দেখি, আমার শ্বাশুড়ী ফোন দিয়েছেন,
-হ্যালো মিথু!
-না মামী, অভ্র
-কেমন আছিস বাবা?
-ভালো আপনারা?
-এইত আছি। কেমন কাটছে দিন?
-ভালো। আপনার মেয়ের যন্ত্রণায় শেষ হয়ে যাচ্ছি
-কেন বাবা, কি হয়েছে?
-ওর বাচ্চামো স্বভাবগুলোর জন্য…
-ও তো এমনই…
-পাগলীটা কোথায়?
-এখনো ঘুমোচ্ছে!
মিথুকে জোর করে উঠিয়ে বসালাম, ফোনটা ওর কানের কাছের ধরলাম,
-কি রে মা, কেমন আছিস?
-ভালো মা। তোমরা?
-ভালো আছি।
-দেশে ফিরবি কবে তোরা?
-খুব তাড়াতাড়ি।
-কেমন লাগছে জায়গাটা?
-খুব ভালো, তবে তোমাদের অভ্র সেদিন কি করেছে জান?
-কি করেছে?
সেড়েছে, এই কথা যদি তারা শুনে কপালে দুঃখ আছে তাতে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নাই। তাই ফোন তার কাছ থেকে নিয়ে,
-মামী, আপনার মেয়ে এখনো বিছানা থেকে উঠে নি। কি বলছে না বলছে তার কোন ঠিক নেই। আচ্ছা পরে ফোন দিব
বলে রেখে দিলাম,
-মিথু, তুই এই কথা মামীকে বলতে যাচ্ছিলি কেন?
-তোর কি করব? আমি দেশে ফিরে ফুপ্পিকে বলব
-পাগল হয়েছিস? যাহ্‌ বলিস তুই তোর শ্বাশুড়িকে। এখন ওঠ ঘুরে আসি…
ঠেলে তাকে ওয়াশরুমে ফ্রেস হতে পাঠালাম, সোফায় গিয়ে মাত্র বসেছি, এর মধ্যে তার ডাক আসল,
-অভ্র
-কি হয়েছে আবার?
-আমার টাওয়াল টা দিয়ে যা তো।
নাহ, একে নিয়ে আর পারা যায় না। একটা কাজ যদি ঠিক মত করতে পারত, টাওয়াল নিয়ে তার কাছে গেলাম,
-এই নে তোর টাওয়াল।
সে টাওয়াল সমেত আমাকেও ভিতরে টেনে নিল…
.
আসাধারণ সময় কাটছে, কোনোদিন ভাবতে পারি নি আমার মত ছন্নছাড়া মানুষের জীবনটা মুহূর্তের মধ্যে পালটে যেতে পারে। তবে সব সময় ভয় হয়, কেন জানি না, আমার কপালে সুখ নামক জিনিট টা বেশি দিন স্থায়ী হয় না… তবে মিথু আসার পর থেকে সব কিছু ভালো হচ্ছে, ইহিতার সাথে দেখা, দুষ্ট মিস্টি খুনসুটি, আর নিঃসার্থ অনেকটা ভালোবাসা। আশা করি সে পারবে আমাকে নিজের মত করে গুছিয়ে নিতে।
সকালে আর বেড়নো হল না। তাই লাঞ্চ শেষ করে বিকেলে বীচ থেকে খানিকটা সামনে ঘুরতে বের হলাম। রাস্তা দিয়ে হাঁটছি, হঠাৎ ফোন বেজে উঠল, স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি অচেনা নম্বার। প্রথম বার না ধরে পকেটে রেখে দিলাম, আবার একই নম্বর থেকে ফোন আসল, একরাশ বিরক্তি নিয়ে ধরলাম,
-হ্যালো।
-অভ্র বলছিলে?
-জ্বী, কে বলছিলেন প্লীজ?
-আমি আবির ভাইয়া।
-ওহ, ভাইয়া। আপনি আমার নম্বার কোথায় পেলেন?
-তোমাদের রিসোর্টে গিয়েছিলাম, দেখলাম তোমরা নেই পরে রিসিপশন থেকে নিয়েছি।
-কোনো দরকার ভাইয়া?
-তোমরা কোথায় আছ এখন?
-একটু বাইরে এসেছিলাম।
জায়গার নামটা বললাম, আবির ভাইয়া কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে বলল।
পাশের একটি কফি শপে ঢুকে কফি অর্ডার করে তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। একটু পরে সে গাড়ি নিয়ে হাজির। শপে আসল,
-কি অভ্র, মিথিলা, কেমন যাচ্ছে? আশা করি ভালোই চলছে সব কিছু!
-জ্বি ভাইয়া ভাল। হঠাৎ জরুরী ভাবে ডাকলেন?
-আসলে, আজকে ইহিতার জন্মদিন। এখানে তো ওর তেমন কোনো আত্মীয় স্বজন নেই। আর আমাদের বিয়ের পরে এই প্রথম জন্মদিন। যদি একদম কেউই না থাকে হয়ত ওর খারাপ লাগবে। আর ব্যস্ততার কারণে খুব বেশি সময় থাকতে পারি না ওর পাশে। তাই আমি চাচ্ছিলাম তুমি আর মিথিলা যদি আজকে আমাদের বাসায় আসতে, হয়ত ইহিতার ভালো লাগত।
-আসলে ভাইয়া,
আমার কথা শেষ করার আগে, মিথু জবাব দিল,
-অবশ্যই…
ভেবেছিলাম কোনো ভাবে পাশ কাটিয়ে যাব। আমি চাচ্চিলাম না আবার ইহিতার সাথে আর কোনদিন দেখা হোক। সবে মাত্র মিথুকে আপন করতে শুরু করেছি। নিয়তি আমার সাথে কি খেলা শুরু করেছে? অনিচ্ছা স্বর্ত্বেও যেতে হবে।
আবির ভাইয়া তার গাড়িতে করে আমাদের সাথে নিয়ে তার বাসার দিকে রওনা দিল। আমার মুড টা পরিবর্তন হয়ে গেল। আবির ভাইয়া বলল, বাসা বেশি দূরে নয়। তাই চুপ করে বসে থাকলাম। মিথু আমার কানের কাছে মুখ এনে বলল,
-অভ্র, ইহিতার জন্য কিছু একটা নেওয়া দরকার না?
কথা শেষ করার আগে সে আবির ভাইকে গাড়ী পার্ক করতে বলল, কারণ জানতে চাইলে বলল, একটু দরকার আছে,
গাড়িত থেকে নেমে সোজা গিফট শপের দিকে হাটা ধরল, আমিও তার পিছে পিছে গেলাম, আবির ভাইয়া আমাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকল,
-এই, সতিনের জন্য কি নেওয়া যায়?
-কি বললি?
-বললাম, ইহিতার জন্য কি নেওয়া যায়? ওর ফেভারিট জিনিস কি ছিল?
-টেডি বিয়ার।
মিথু গিফট শপের এক কর্নারে যেতে যেতে বলল,
-পেয়েছি।
-কি পেয়েছিস?
গিয়ে দেখি ইয়া বড় সাইজের এক টেডি বিয়ার। সাইজে আমার থেকেও বড় হবে। মিথু এইটা নেবে বলেই বায়না ধরল, কি করব, পেমেন্ট করে বেড়িয়ে পড়লাম, শপের লোকারা এসে গাড়ির পিছনে উঠিয়ে দিয়ে গেল। কিছুক্ষণের ভিতর পৌঁছে গেলাম ইহিতাদের আপার্ট্মেন্টে। টেডি বিয়ার টা ওয়াচ ম্যান কে দিয়ে উপরে পাঠিয়ে দিতে বললাম। আবির ভাইয়ার সাথে সাথে ঢুকলাম। কলিং বেলে চাপ দিতেই প্রায় সাথে সাথে দরজা খুলে দিল ইহিতা। আবির ভাইয়া বলল,
-হ্যালো, বাবু
-ওদের কোথায় পেলে?
-ধরে এনেছি।
বলে ভিতরে ঢুকে গেল সে। পিছু পিছু আমি আর মিথুও।
-হ্যালো ইহিতা। কেমন আছ?
-ভালো। তোমরা?
-হ্যাঁ ভালো
একবার তার সাথে চোখাচোখি হল। ইহিতা মনে হয় এখনও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। দরজা ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। আবির ভাইয়া আমাদের বসতে বলে নিজে বেডরুমে ফ্রেস হতে চলে গেল। সমস্ত ফ্লাট খুব সুন্দর করে সাজানো। বেশ চমৎকার, যত্ন করে সাজানো হয়েছে পুরোটা। পাশের বুক সেলফের উপর একটা জিনিস দেখে চোখ আটকে গেল। আরে, এইটা তো সেই ডল টা, যেটা আমি প্রথম গিফট দিয়েছিলাম ইহিতাকে।
.
তেমন কোনো লোকজনের সমাগম দেখলাম না, তাই আমরা ৪জনই কেক কেটে ইহিতাকে উইশ করলাম।আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে, মিথিলার ফূর্তিটা একটু বেশি। কেন সেটা ধরতে পারছি না। ডিনারও করলাম একসাথে। হঠাৎ আবির বলল,
-অভ্র
-জ্বি ভাইয়া
-ড্রিংস কর?
-না ভাইয়া।
চল আজকে এক পেগ হয়ে যাক। না করতে পারলাম না। আড্ডা শেষে নিজেকে সামলে রাখতে কষ্ট হচ্ছে। লিমিট ক্রস করিনি ।তবে বউ আমার শুধু লিমিট না, তার উপরের স্তর ক্রস করে ফেলেছে। রিসোর্টে ফিরতে হবে, আবির ভাইয়া কে জানালাম, সে নামিয়ে দিয়ে আসতে চাইল, কিন্তু তার যে অবস্থা, সে ড্রাইভ করলে আমাদের ভব লিলা সাঙ্গ হয়ে যাবে।তাই তাদের কাছে বিদায় নিয়ে রওনা দিলাম।
.
ট্যাক্সি রিসোর্টের খুব কাছে নামিয়ে দিল। পুরো রাস্তা মিথু আমার ঘাড়ে মাথা দিয়ে শুয়ে ছিল,ট্যাক্সি থেকে নেমে তাকে সামলে রাখতে আমার বেগ পেতে হচ্ছে।
-অভ্র
-বল
-আমি হাঁটতে পারছি না
-তা তো দেখতে পাচ্ছি।
সে এসে আমার গলা জড়িয়ে ধরল, উপায় না দেখে তাকে কোলে করে নিয়ে রুমে ফিরতে হল। বেডে শুইয়ে দিলাম। খুব ক্লান্ত লাগছে তাই আমিও তার পাশে শুয়ে পরলাম।
বুঝতে পারছি না, উপরওয়ালা আমার ভাগ্যে কি লিখে রেখেছেন…

চলবে…

পর্ব – ০৮
https://www.facebook.com/934291790106385/posts/1298451820357045/?app=fbl

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here