গ্রামের ছেলেটি -(পর্ব- ১৫ তম)

0
99

#গ্রামের_ছেলেটি

পর্ব- ১৫ তম

স্বপন

কিছুক্ষন পর নার্স এসে নিলিমাকে ওষুধ খাইয়ে দিয়ে গেলো,। রাইসা, নিলিমার বাবা আর রাকিব এর আসলো। স্যার নিলিমার কাছে গিয়ে বসে নিলিমার সাথে কথা বলে। তাকে জিজ্ঞেস করে এখন সে ঠিক আছে কি না, তারা কথা বলছিলো আমি আর রাকিব বাইরে বেরিয়ে আসি,,,

রাকিবঃ শিমুল তুই কি চাইছিস বলত,,,
আমিঃ কেন কি হয়েছে,,
রাকিবঃ এই যে তুই যা করছিস,,,
আমিঃ যানি না, কেন জানি মন চাইছে তাই করছি।
রাকিবঃ এখন কি করবি, কাল থেকে এই একিভাবে আছিস,,
আমিঃ হুম,,দেখি বাসায় যাবো একটু পরে।
রাকিবঃ আচ্ছা তুই থাক তাহলে আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে,,,

রাকিব চলে গেলো আমি রাকিবকে এগিয়ে দিয়ে এসে দেখি তামান্না এসেছে নিলিমার সাথে দেখা করতে। নিলিমা তামান্নার কাছে ওর ভাইয়ের কথা জিজ্ঞেস করছে তামান্না বলল ভাইয়া এখন ভালো আছে। তামান্না আরো বলে রাজিব নাকি জ্ঞান আসতে আগে নিলিমার কথা বলছে। আমি এসব দরজায় দাঁড়িয়ে শুনছি। নিলিমা দরজা তাকিয়ে দেখে আমি দাঁড়িয়ে আছি। আমি কিছু করে ভিতরে আসি, এসে আমি স্যারকে বলি আমার একটু বাসায় যেতে হবে আবার পরে আসবো নে,,।
স্যার আমাকে জরিয়ে ধরে বলে, তুমি যা করছ আমাদের জন্য তার জন্য আজীবন তোমার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো। আমি বলি কি বলছেন এ গুলো অন্য কেউ হলে তার জন্য করতাম।নিলিমার মনে হয় ল্যাপটপ আনিয়েছে রাইসাকে দিয়ে। ওর পাশে রাখা আমি সেখান থেকে সরিয়ে রাখি।

আমি নিলিমার কাছে বলে চলে যেতে নিলিমা বলে,,

নিলিমাঃ আবার কখন আসবে,,
আমিঃ এখন বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে অফিস যেতে হবে,,,অফিস শেষে না হয় চলে আসবো,,
নিলিমাঃ নাহ তোমার আজ অফিস যেতে হবে না,,
আমিঃ কেন আর এখানে তো স্যার পাশে তামান্নারা আছেই আমি না হয় পরে আসি।
নিলিমাঃ নাহ তোমার আজ অফিসে যাওয়ার দরকার নেই। বাবা এমনেই অসুস্থ এখানে থাকলে আরও শরির খারাপ করবে, তামান্না এখানে থাকলে রাজিবের খেয়ালকে রাখবে। তাই তুমি আমার কাছে থাকবে,,
আমিঃ কিন্তু অফিস,,,
নিলিমাঃ অফিসে বসকে তুমি নাকি আমি,,,
আমিঃ তুমি,, ঠিক আছে আমি বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসি।

আমি বলে বেরিয়ে আসতেই তামান্না আমাকে পিছন থেকে ডাক দিলো,,

তামান্নাঃ বাসায় যাবেন,,,
আমিঃ হা,,কেন,,
তামান্নাঃ আমিও যাবো দাড়ান ,,,

এই বলে তামান্না চলে গেলো আমিও তার সাথে গেলাম। গিয়ে দেখি রাজিব বেডে শুয়ে আছে তার পাশে তার মা বসা। আমি গিয়ে রাজিব সাথে দেখা করি। তার পর আমি আর তামান্না চলে এলাম,।

তামান্নাঃ আপনার বাসায় কে কে আছে?
আমিঃ আমার মা আর এক বোন, বাবা মারা গেছেন।
তামান্নাঃ আর গাল্ফ্রেন্ড,,,,

বলে আমার দিকে তাকায় আমি ওর দিকে তাকিয়ে কিছু না বলে সামনে এগিয়ে যায়। নিলিমার কথা যদি সত্যি হয়ে যায়, এর হাত থেকে বাচা যাবে না। নির গাদ আমার বেচে থেকেও মেরে ফেলবে।
আমি একটা রিকশা ডাক দিলাম,,, তারপর সেই রিকশায় উঠে বসি,,তামান্না ও আমার পাশে এসে বসে। কিছুটা পথ ভালোই যাচ্ছিল তারপর তামান্না আমার কাছে ঘেসে বসে হাত ধরে বসে। আমিও তার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলি,,

আমিঃ কি করছেন,,,
তামান্নাঃ কেন,,আর আমাকে আপনি করে বলছ কেন, তুমি করে বলবে,,
আমিঃ মানে,,
তামান্নাঃ হুম,,,

তারপর আবার আমার হাত ধরে আমার কাধে মাথা রেখে দেয়। আমি সরাতে গেলে উল্টো আমাকে ধমক দেয়। ডেঞ্জারাস মেয়েরে মাইরি। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে নিলাম একটু বিশ্রাম করে নেই। দরজার ওপাশে কে জেন গিয়ে দেখি তামান্না এসেছে, আমি বিরক্ত হয়ে বলি,,

আমিঃ এখন আবার কি,,?
তামান্নাঃ কিছু এমনি দেখি,,

বলেই ভিতরে চলে আসে,,আমি ওর পিছন পিছন যাই। আমার রুমে ঢুকে দেখে,,

তামান্নাঃ এটা তোমার রুম,,,কি অবস্থা করে রেখেছ বিছানায়। গুছাও না কেন,,
আমিঃ ব্যাচেলর দের বাসায় এরকমি থাকে,আর এখানে অগোছালো কি আছে আমি তো কিছুই দেখছি না,,
তামান্নাঃ কিছু নেই কিন্তু বিছানা তো এলো মেলো,,

এই বলে তামান্না বিছানার চাদর বালিশ সবকিছু গোছানো শুরু করে,,

আমিঃ কি করছ আমার ফোন এখানে,,,

বলতে তামান্না ফোনটা ওর কাছে নিয়ে নেয়। ফোন নিয়ে টিপতে থাকে ফোনে লোক দেখে আমাকে বলে লোক খুলতে। আমি না করি কিন্তু তামান্না বলল লোক না বললে ফোন দিবে না,। তারপর আমি ফোনের লোক বলি,,তামান্না কিছুক্ষন ফোন দেখে আমার কাছে দেয়,,,

আমিঃ কি হলো দেখা হয়ে গেছে,,,
তামান্নাঃ হুম,,মেয়েদের নামে নাম্বার দেখলাম সেগুলো কার,,,,
আমিঃ সেটা দিয়ে তুমি কি করবে,,

এই বলে আমি রুম থেকে বের হয়ে আসি, তামান্না আমার দিকে অধভুত ভাবে তাকিয়ে আছে। আমি চলে এলাম,তামান্না ও আমার পিছন থেকে সামনে এসে আমার কলার ধরে।।

আমিঃ কি করছো কি,,,ছাড়ো,,
তামান্নাঃ না ছাড় বো না আগে বলো কার নাম্বার তারপর,,
আমিঃ আরে ,, একটা আমার বোনের আর একটা নিলিমার আর আমার কলিগের হয়েছে এবার ছারো।
তামান্নাঃ হুম ঠিক আছে এবারের মতো ছেড়ে দিলাম যদি এর পর কোন মেয়ের নাম্বার বা কথা বলতে দেখি তাহলে বুঝাবো,,
আমিঃ মানে কি এসবের আমার সাথে এরকম কেন করছো তুমি,,
তামান্নাঃ কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি,,
আমিঃ বললেই হলো,,দেখো মজা করার সময় না এটা ছাড়ো।

এই বলে আমি তামান্নার কাছ থেকে আমাকে ছাড়িয়ে নিলাম,,,,,
আমি হাসপাতালে এসে স্যারকে বাসায় পাঠিয়ে দেই।

নিলিমাঃ এতো সময় লাগলো আসতে,,সাথে তামান্না গিয়েছিল বুঝি,,,(রাগি ভাবে)
আমিঃ হুম,,কেন কিছু হয়েছে নাকি এরকমভাবে কথা বলছ যে,,,( আমি গোমড়া মুখ করে)
নিলিমাঃ কিছু হয়নি,,কাউকে খুব মিস করছিলাম তাই,,,,
আমিঃ (আমি শুনে কিছু জিজ্ঞেস করিনি, যানি তুমি এখন রাজিবকে খুব মিস করছো)
নিলিমাঃ তোমার কি হয়েছে এরকম গোমড়া মুখ করে আছো কেন,,,
আমিঃ কিছু না এমনি,,,আমি একটু আসছি,
নিলিমাঃ কোথায় যাচ্ছ এখন আবার??
আমিঃ পানি নেই তাই নিয়ে আসতে যাচ্ছি,,

আমি চলে গেলাম পানি আনতে,,এসে দেখি নিলিমা তার ল্যাপটপ নিয়ে টিপসে। আমি গিয়ে তারকাছে বলি,,

আমিঃ এখন আবার ল্যাপটপে কি করছো, এখনো ঠিক মতো সুস্থ না হয়ে কিভাবে বুঝিনা।
নিলিমাঃ কাজ করছি,,একটা গুরুত্বপূর্ণ এখনি মেইল করে পাঠাতে হবে, রাইসা বলল।
আমিঃ তোমার না হাতে সমস্যা তাহলে কিভাবে করবেএখন রাখো আমি করে দেবো।
নিলিমাঃ সমস্যা হবে না বাম হাতে বেশি সমস্যা হচ্ছে না। আর রাইসাকে বলছি আমি শুধু চেক করছি ঠিক আছে কি না।
আমিঃ খেয়েছো কিছু,,,

নিলিমা কিছু বলছে না ল্যাপটপ এর দিকে তাকিয়ে আছে। আমি খাবারের দিকে তাকিয়ে দেখি খাবার পরে রয়েছে,।

আমিঃ এখনও খাওনি কেন,,,
নিলিমা আমার দিকে আর চোখে তাকিয়ে বলে,,
নিলিমাঃ কিভাবে খাবো,,,,

আমি আর কিছু না বলে ওকে খাবার রেডি করে দেই। আমি খাবার ওর সামনে নিতেই চোখ গুলো বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে,,আমি ইশারায় মাথা ঝাকিয়ে বলি কি হয়েছে,

নিলিমাঃ আমি যদি নিজেই হাতে খেতে পারতাম তাহলে কি এখনো না খেয়ে থাকতাম,,
আমিঃ ওহ সরি,,

তারপর আমি খাইয়ে দেই, আর নিলিমা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে আছে।

নিলিমাঃ পানি খাইয়ে দেও,,
আমি পানি খাইয়ে দিলাম,,,খাওয়া শেষ করতেই দেখি ডাক্তার এসে পরেছে দেখার জন্য, আমি সব কিছু সরিয়ে নিয়ে গেলাম। একটু বাইরে বেরিয়ে আসি ,,

ডাক্তারঃ দেখি আপনার এখন কি অবস্থা, সমস্যা হচ্ছে কোথাও,। (ডাক্তার দেখতে বলে)আপনার স্বামি দেখি আপনার ভালোই খেয়াল রাখছে, সারারাত এখানে রয়েছে আপনার সব কাজ করছে খাইয়ে দিচ্ছে।

নিলিমা কিছু বলছে না মৃদু মৃদু হাসছে। নিলিমার পাশের সিটে বসে বলে,,

ডাক্তারঃ আপনি সত্যি অনেক লাকি,,তা না হলে এই দেখুন আমাকে বিয়ে করেছি বলেছে আমার চাকরি করা লাগবে না, তার যা টাকা আছে তা দিয়ে আজিবন বসে খেয়ে যেতে পারবে,। আমার স্বামি সারাজীবন শুধু বিজনেস নিয়েই আছে। দেশ বিদেশ ঘুরে বেরাচ্ছে। আর আমি একা বাসায় থাকি এভাবে, আর যাই হোক সারাদিন বাসায় ভালো লাগে বলুন,। তাই তার মানা না শুনে আবার জয়েন করি। জিবনে টাকাই কি সব বলেন, আচ্ছা আপনি এই এক্সিডেন্ট কিভাবে করলেন,,

নিলিমা সব কিছু খুলে বলে,,,

–কি বলে তাহলে এতো ক্ষন জিনি ছিলেন তিনিকে।
— ও আসলে,,,
— দেখুন আমি দেখে যা বুঝেছি এই লোক আপনকে অনেক ভালোবাসে,।
ডাক্তার চলে গেলো,,,
,,,,,,,,

রাইসা অফিস শেষে বাসায় ফিরে দেখে একটা ছেলে আর একজন বৃদ্ধ ওর বাবার কাছে সোফায় বসে কথা বলছে,। রাইসার বাবা রাইসাকে দেখে বলে

রাইসার বাবাঃ কিরে মা তুই এসেছিস এদিকে আয়। দেখ কারা এসেছে,,,এই হলো আমার মেয়ে রাইসা,।

রাইসা অবাক হয়ে আছে কি হচ্ছে

রাইসার বাবাঃ মা এনি তোর রমিজ আংকেল আর তার ছেলে রাকিব মুসাব্বির,,

রাইসা শুনে তো আরো আবাক তাহলে ও যার সাথে এতো দিন দেখা করছে,,,রাইসা গিয়ে সালাম দিলো তারপর ফ্রেশ হওয়ার কথা বলে চলে গেলো রুমে। রাইসা ফ্রেশ হয়ে বের হতেই দেখে ওর মা ওর রুমে। ওর বাবা নাকি ওকে ডাকছে, রাইসা চলে আসে ওর বাবার কাছে।

রাইসার বাবা রাইসাকে বলে রাকিবের সাথে বসে গল্প করতে। পরে দিন মুসাব্বির রাইসাকে ফোন করে বলে দেখা করতে রাইসা সেখানেই যায়।
রাইসা সেই ছেলের সাথে দেখা করে আসতে রাইসার সাথে রাকিবের দেখা হলে রাইসা কোন কথা না বলে চলে যায়।

রাকিবের সাথে কথা না বলে চলে যাওয়া ধরলে রাকিব ওর পিছনে পিছনে যায়। রাকিব রাইসাকে ডাকে সে শুনেও না শোনার করে চলে যায়।
এক সময় রাকিব রাইসার হাত ধরে ফেলে, রাইসা দাঁড়িয়ে যায়,,

রাইসাঃ হাত ছাড়ুন,,,,
রাকিবঃ কি হয়েছে তোমার আমার সাথে এরকম করছো কেন,,( রাকিব রাইসার হাত ধরেছে সেটা ওইবছেলে দেখে ফেলে)

রাইসাঃ দেখুন মানুষ দেখছে হাত ছাড়ুন,, (রাইসা ওর হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে)
রাকিবঃ না যতক্ষন বলছ কি হয়েছে ততক্ষন ছাড়বো না। বলো আমার কি এমন দোষ করেছি যে তুমি আমার সাথে এমন করছো।
রাইসাঃ দেখুন আপনার কোন দোষ নেই, আসলে ভুল আমারি হয়েছিলো সেদিন, প্লিজ ছাড়ুন,,,

রাইসা রাকিবের কাছ থেকে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে চলে গেলো। আর রাকিব সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে,। পিছনে থেকে কে যেনো রাকিবকে ডাক দিলো ঘুরে তাকিয়ে বলে,,

–কি হয়ে ভাই,,
–তুই ওর হাত ধরলি কেন,,
— মানে সেটা বলার আপনি কে,,
— আমি যেই হই না কেন তুই ওর হাত ধরলি কেন, আর ও যখন ছাড়তে বলছে তারপরো ওর হাত ধরে রেখেছিস কেন,,
— ও আমার গাল্ফ্রেন্ড তাই আমি হাত ধরতে পারি তাতে আপনার কি,,
— কি বললি তুই ওর প্রেমিক,,
এভাবে কথা বলতে বলতে ছেলেটি রাইসার নামে বাজে কথা বলে,। রাকিব সেটা সহ্য করতে না পেরে মেরে দেয় এক ঘুষি,। ওদের মধ্যে মারা মারি লেগে যায়, লোকজন এসে ওদের সরিয়ে দেয়।

আমি বাসায় এসে দেখি রাকিবের এই অবস্থা মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে আর। আমি জিজ্ঞেস করি কি হয়েছে ও বলে তারপর সব কিছু।। তারপর রাকিবকে অনেক বুঝালাম, রাকিব রাইসাকে এই কদিনে মনে হলো অনেকটা ভালোবেসে ফেলেছে।

রাতে হাসপাতালে আমি বসে আছি তামান্না আমার পাশে এসে বসে আমি উঠে যাওয়া দিলে তামান্না আমার হাত ধরে আবার বসিয়ে দেয়। নিলিমা এসব কিছু দেখেছে, তামান্না ফোনটিপতেছে,, এরি মধ্যে আমার ফোন একটা ম্যাসেজ আসে,,,

আমি দেখে অবাক ম্যাসেজে লেখা আই লাভ ইউ,,
আমি লিখি “কে আপনি আর এসব কি লিখছেন,,”
রিপ্লাই আসে,” বলো তো কে আমি,”
আমি তামান্নার দিকে তাকাতে ও মুচকি হাসি দিলো। আমি ওর ফোনের দিকে তাকাতেই ফোন সরিয়ে নেয়। আমার আর বুঝতে সমস্যা হলো না এটা ওই।

আমিঃ তুমি আমাকে এই সব কি ম্যাসেজ দিছো,,,
তামান্নাঃ কেনো আমার মনে যা ছিলো তাই দিয়েছি,,।
নিলিমাঃ কি হয়েছে শিমুল, কি দিয়েছে দেখি,,
তামান্নাঃ কিছু না আপু,,,( এই বলে আমার দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে আছে।)

আমি কিছু না বলি, নিলিমাকে না বলায় নিলিমার মনে সন্দেহ উঠে। ও মনে করেছে আমার আর তামান্নার মধ্যে কিছু হয়েছে। আমি আর তামান্না পাশাপাশি বসে আছি তামান্না একটু পর পর ওর মাথা রাখে আমি নিলিমার দিকে আমি তাকাতেই নিলিমা আমাকে রাগি ভাবে তাকিয়ে। ইসারায় বলে ওর মাথা সরাতে, আর আমি ওকে সরিয়ে দেই। আবার তামান্না রাখে, একটা জিনিস খেয়াল করলাম নিলিমা তামান্নাকে আমার কাছে সহ্য করতে পারেনা। নিলিমা সহ্য না করতে পেরে বলে,,

নিলিমাঃ তামান্না তুমি এখানে এখনো কি করছো আন্টি ওখানে একা কি করবে আর তার তো বাসায় যাওয়ার কথা, যাও গিয়ে দেখো রাজিবের কিছু লাগবে কি না।
তামান্নাঃ না আপু আমি সবকিছু দিয়ে মাকে বলে এসেছি৷ আর মা বলেছে সে থাকবে ভাইয়ার কাছে,,,
নিলিমাঃ তাহলে তুমি কি করবে এখানে থেকে বাসায় যাও,,
তামান্নাঃ জি আপু একটু পরে যাই,,,

আমি উঠে বাইরে চলে যাই, বাইরে একটু হাটাহাটি করছি, হটাত কে যেন আমাকে পিছন থেকে কলার ধরে টেনে নিয়ে গেলো। অন্ধকার কিছু দেখা যায় না,,আমার খুব কাছে কেউ এসে আমার মুখের কাছে তার মুখ চলে আসে। অন্ধকারে কিছু দেখা না গেলো আমি বুঝতে পারি যে এটা তামান্না ছাড়া আর কেউ না,,

আমাকে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে আমার কলার ধরে ওর দিকে টান দিয়ে বলে,,,

তামান্নাঃ এবার বল ভালোবাসবে কি না,,, ( ফিস ফিস করে আমার মুখের সামনে ওর মুখ ওর কথার গরম বাতার আমার মুখে আসছে)
আমিঃ কি করছো এসব কেউ যদি আমাদের এভাবে দেখে তাহলে কি হবে বুঝতে পারছো,,,
তামান্নাঃ দেখুক কিহবে আমি তার পরোয়া করি না,, তুমি আগে বলো আমাকে ভালোবাসবে কি না।

আমার শরির পুরও ঘেমে গেছে ভয়ে,,

আমিঃ দেখো তামান্না এটা কোন মজা চলছে না যে তুমি বললে আর হয়ে যাবে। আমাদের দুইজনের জিবনের ব্যাপার৷ আর তুমি আমার সম্পর্কে জানোই বা কতটুকু,,।
তামান্নাঃ আমি ওত কিছু বুঝিনা, আমার যেই জিনিস পছন্দ হয় আমি সেটা আমার করে নেই ছাড়ি। তোমাকেও আমার করে ছাড়বো,,

আমাকে কিস করতে চাইলে আমি ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে, ওর গালে একটা চর দিয়ে বলি,

আমিঃ অনেক সহ্য করেছি তোমার এই আচরণ আর না এখন একে বারে অতিরিক্ত করে ফেলেছ,,,

এইবলে আমি সেখান থেকে চলে আসি বরতেই দেখি তামান্নার মা আমার সামনে,, আমি তাকে দেখে তার পাশ কাটিয়ে চলে গেলাম।
ভিতরে আসতে নিলিমা আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করে,,,

নিলিমাঃ কি হয়েছে তোমাকে এরকম লাগছে কেন,,,
আমিঃ কিছু না এমনি৷
নিলিমাঃ তোমাকে দেখে তো তা মনে হচ্ছে না। কিছু তো হয়েছে তুমি না বললে কি হবে আমি ঠিকি বুঝতে পারছি,,
আমিঃ তুমি আবারও ল্যাপটপ নিয়ে বসেছো,,(আমি কথা ঘুরিয়ে নিলাম)

নিলিমাঃ হুম ,আমাকে একটা সত্যি কথা বলবে,,(ল্যাপটপটা বন্ধ করে)
আমিঃ হুম বলো,,
নিলিমাঃ তুমি কি সত্যি এখন আমাকে ভালোবাসো না।
আমিঃ ( আমি কিছক্ষন চুপ হয়ে থাকি)

কিছু বলতে যাবো তখনি দেখি রাজিবের মা চলে এসেছে,,,। আমার কাছে এসে বলে, আমাকে রাজিবের কাছে যেতে নিলিমার সাথে কথা আছে তার। আর রাজিব নাকি সারাদিন একা কথা বলার মতো কেউ নেই। তামান্না তো সাক্ষন শুধু এখানেই পরে থাকে,,

বিঃদ্রঃ আজকে সারাদিন লেখার সময় পাইনি তাই এখন লিখলাম,,তারাহুরো করে লেখায় কোন ভুল বা কোন এলোমেলো থাকলে ক্ষমা করে দেবেন,, 🙏🙏🙏🙏

চলেবে,,,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here