তোমাকে খোঁজে -(পর্বঃ3 and 4)

0
174

তোমাকে_খোঁজে
পর্বঃ3 and 4

কিছুক্ষণ পর নেহাল এসে বিছানায় বসেই আদিবাকে একটানে নিজের কোলের উপরে নিয়ে আসে।তারপর আদিবার সিল্কি চুলের ভাজে নাক ডুবিয়ে গন্ধ শুকে যায়।আর আদিবার হাটদুটো নিজের হাতের মুঠোয় এনে পেছনের থেকে এমন ভাবে শক্ত করে চেপে ধরে।যে চাইলেও আদিবা উঠে যেতে পারে না।কি করছেন কি নেহাল ছাড়ুন আমায়। উসসস! কথা বলো না জান।আমাকে যেতে দিন নেহাল। আবার কথা বলছো? মাথাটা আকড়ে ধরে নেহাল নিজের দিকে আদিবার মুখটা ঘুরিয়ে নেয়। তারপর আদিবার মুখের কাছে নিজের মুখটা নিয়ে এসে ফিসফিসিয়ে বলে, ভালোবাসি! খুব ভালোবাসি তোমাকে।বলেই আদিবার ঠোঁটের সাথে নিজের ঠোঁট জোড়া মিলিয়ে দেয়।আদিবা নেহালের ঠোঁটের স্পর্শে অস্বস্থিবোধ করতে থাকে।নেহালের থেকে নিজের ঠোঁট ছাড়ানোর প্রাণপন চেস্টা চালিয়ে যায়।কিন্তু পারে না।তারপর না পেরে নেহালের গলায়, ঘাড়ে আর পিঠে ইচ্ছা মতোন নখের আঁচড় দেয়।তবুও নেহাল আদিবাকে ছাড়তে চায় না।নেহাল এতো আঁচড় খেয়েও কোনো রকমের কু শব্দটুকু না করেই আদিবার ঠোঁটের স্বাদ নিতে থাকে।কিছুক্ষণ পর ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে আদিবার কপালে, গালে আর মুখে, ঠোঁটের আলতো স্পর্শ ছুঁইয়ে ছেড়ে দিতেই নেহালকে ধাক্কা দিয়ে সাথে সাথে আদিবা নেহালের থেকে কিছুটা দূরে সরে আসে।হাঁপাতে হাঁপাতে চোখ তুলে সামনের আয়নার দিকে চেয়ে দেখে ঠোঁট’টা ফুলে লাল বর্ণ ধারণ করেছে।তারপর পেছনে ঘুরে দেখে নেহাল নিজের ঠোঁটে হাত রেখে মুচকি মুচকি হাসছে।


চৌধুরী মহলে,,
আদিবার বাবা-মাকে সবাই অনেক অপমান, অপদস্ত করে যাচ্ছে।যেটা দেখে সায়ানের খারাপ লাগে।সায়ান চায় না আদিবার বাবা-মাকে কেউ অপমান করুক।তাই সায়ান এগিয়ে এসে সবাইকে অনেকক্ষণ ধরে বুঝায়।সবাই বুঝতে পারলে তাদের গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে চলে যেতে বলে।সবাই যাওয়ার পর সায়ান আদিবার বাবা-মায়ের কাছে আবার ফিরে আসে।তারপর সকলের তরোফ থেকে ছরি বলে দেয়।

আমি জানি আমার পরিবার আপনাদের অনেক অপমান করেছে আংকেল। তারজন্য আমি সত্যিই খুব লজ্জিত।প্লিজ আংকেল এরজন্য দুই পরিবারের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা নষ্ট করবেন না। সায়ান হাত জোড় করে কথাটা বলে আবির চৌধুরীকে।

আবির চৌধুরী সায়ানের হাতটা ধরে নিচে নামিয়ে দেয়। এটা তুই কি করছিস সায়ান? সব দোষতো আমার।আমার মেয়েকে আমি সঠিকভাবে মানুষ করতে পারি নি।

নাহ আংকেল আপনাদের মতোন বাবা-মা হয় না।আদিবাও খুব ভালো মেয়ে। আসলে সবাই তো চাইলেই সবকিছু পায় না।ওই উপর অলা হয়তো আদিবাকে আমার ভাগ্যে রাখে নি।তাই এই বিয়েটা হলো না।তবে আপনাদের কাছে অনুরোধ রইলো যার সাথেই আদিবা সুখে থাকতে চায়।প্লিজ ওকে আপনারা তার সাথেই মেনে নিয়েন।ও ফিরে আসলে যেন কস্ট না পায় আংকেল।

সায়ানের কথায় আবির চৌধুরী চোখের পানি মুছে অবাক দৃষ্টিতে সায়ানের দিকে তাকায়।তারপর বলে, তুই এতো ভালো কেন সায়ান?

আমি ভালো না আংকেল।বন্ধু হিসেবে আদিবার এটুকু ভালোতো চাইতেই পারি।

শুধু কি বন্ধুত্ব?

মানে?

মানে বুঝছিস না? যেই মেয়েটা এভাবে বিয়ের আসর ছেড়ে তোকে একা ফেলে চলে গেলো তার কথায় তুই ভাবছিস! কেন সায়ান?

সায়ান মনে মনে ভাবে আদিবাকে ভালোবাসার কথা আংকেলকে বলা যাবে না। এতোদিনেও যখন আদিবাকে বলা হয়ে ওঠে নি।তখন আজ এই সময়ে এমন পরিস্থিতিতে আংকেলকে কেন বলবো? ভাবনা ছেড়ে বাস্তবে এসে বলে।

আরে আংকেল আমার চিন্তা করবেন না তো।আমি সুন্দর, হ্যান্ডসাম ও শিক্ষিত।আজ না হয় কাল আদিবার থেকেও ভালো মেয়ে পেয়ে যাবো।আপনি আদিবাকে নিয়ে ভাবুন। ও যার সাথে সুখী হতে চায় মন ভরে দোয়া করুন যেন তার সাথেই ভালো থাকে।আপনাদের দোয়া ছাড়া যে আদিবা সুখী হবে না।

সায়ানের কথায় হেসে ওঠে আবির চৌধুরী।এবার সে এটা ভেবে নিশ্চিত হয় যে ছেলেটার মন ভাঙে নি।

তারপর ঘুরে চোখের কোণের লুকিয়ে রাখা অশ্রু মুছে বিয়ের আসর থেকে চলে আসে সায়ান নিজের বাড়িতে।


এদিকে,,, নেহাল উঠে এসে আদিবাকে ঘুরিয়ে আয়নার সামনে দাড় করায়। পেছনের থেকে আদিবার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে আয়নাতে দেখিয়ে ইশারা করে বলে, ঠিক এইভাবে তোমার এই ঠোঁট’জোড়া একদিন আমার ঠোঁটকে দখলে নিয়েছিলো।মনে পরে জান? সেই প্রথম দিন রেস্টুরেন্টে বাজি ধরে হুট করে এসেই কিস করেছিলে আমায়!
আমি আপনাকে ছরি বলেছিলাম নেহাল! সেটাই তো! তোমার ছরি বলাটাও আমার বুকে লেগেছিলো।ভালোবেসে ফেলেছিলাম তোমাকে দেখে আমি।
,
,
,
,
চলবে,,,,,

#itzlovestory
#TheLight
#JS
,তোমাকে_খোঁজে
পর্বঃ০৪

বাড়িতে একটাও কাজের লোক নেয়। সবাইকে নেহাল ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়েছে। আর নিজের হাতে আদিবার জন্য সেই সব পদের আইটেম রান্না করেছে যেগুলো আদিবা খেতে পছন্দ করে। একে একে ১৬/১৭ পদের আইটেম রান্না করে টেবিলে সাজিয়ে রেখে তারপর রুমে আসে আদিবাকে ডাকার জন্য।কিন্তু আদিবা খাবে না বলে মুখ গোমড়া করে বসে থাকে।যেটা দেখে নেহালের রাগ এবার উচ্চ পর্যায়ে উঠে যায়। নেহাল আদিবাকে টেনে সিঁড়ি থেকে ঘেঁষতে ঘেঁষতে নিচে নিয়ে আসে।সিঁড়ি থেকে টানার সময় আদিবার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চোর্ট লাগে।শাড়া শরীরে ক্ষত হয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। কিন্তু নেহালের সে দিকে খেয়াল নেই।আদিবাকে এনে খাবার টেবিলে বসায়।তারপর জোড় করে আদিবার মুখে খাবার ঠেসে ঠেসে ভরে। যার জন্য আদিবার সারা মুখে খাবারগুলো লেগে যায়। মুখ থেকে বেয়ে কাপড়েও পরে কাপড়টা নস্ট হয়ে যায়। আদিবার এবার খুব কস্ট হচ্ছে। কস্টে দুচোখে সবকিছু অন্ধকার দেখছে।গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরছে।আর শরীরের ক্ষত, ব্যাথা ও বাবা-মায়ের চিন্তায় মাথা ঘুরে পরে যায় আদিবা।

নেহাল আদিবাকে ডাকে। দেখে কোনো সাড়া শব্দ নেয়।তারপর তাকিয়ে দেখে আদিবার শরীরের ক্ষতগুলো।আর কাপড়ে ও মুখে খাবারের দাগ।যা দেখে নেহালের হুঁশ ফেরে।ভাবে কি করলাম এটা আমি।নেহাল পাগলের মতোন আদিবাকে বারবার ডেকে যায়। তারপরও আদিবা ওঠে না। আদিবা না উঠলে নেহাল আদিবাকে কোলে তুলে নিয়ে রুমে গিয়ে শুইয়ে দেয়।তারপর আদিবার মুখ মুছিয়ে দিয়ে শরীরের ক্ষতগুলোতে ওষুধ লাগিয়ে দেয়।কাপড়ের দিকে তাকিয়ে ভাবে দাগগুলো কিভাবে তুলবে। তারপর ভেবে নিজের একটা শার্ট নিয়ে এসে আদিবাকে পরিয়ে দিয়ে পরনের কাপড়গুলো খুলে ধূয়ে দেয়।

কিছুক্ষণ পর আদিবার জ্ঞান ফেরে।চোখ মেলে চেয়ে দেখে তার পড়নে একটা শার্ট ছাড়া আর কিছুই নেয়।পাশ ফিরলে নেহালকে দেখতে পায়।লজ্জায়, রাগে আদিবা বিছানার চাদরটা দিয়ে নিজেকে ঢেকে নেয়। আর নেহালকে প্রশ্ন করে এমনটা কেন করলেন আপনি?

জান আমার কথাটা শোনো? বলে আদিবাকে ধরতে যায় নেহাল। আর আদিবা ধাক্কা দিয়ে নেহালকে দূরে সরিয়ে দেয়।

ভালোবাসেন না আপনি? এই আপনার ভালোবাসার নমুনা? একটা মেয়েকে তার পরিবার, পরিজনের থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন।তার সাথে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ব্যাবহার করছেন।এতো অপমান, এতো অত্যাচার করেও আপনার শান্তি হয় নি? তাকে সমাজ কি বলছে তাতে তো আপনার কিছু যায় আসে না।কিন্তু এখন? এখন তো তার শরীরটাও আপনার পাওয়া হয়ে গেছে। একটা কাজ করুন নেহাল।মেরে ফেলুন আমাকে। বেঁচে থাকলে না আমি আপনাকে ক্ষমা করতে পারবো আর না আমি আমার বাবা-মায়ের সামনে গিয়ে দাড়াতে পারবো।তারচেয়ে বরং আপনি আমাকে মেরে ফেলুন!

আদিবার মুখে কথাগুলো শুনে নেহাল উঠে এসে আদিবার দুইগালে ঠাসসস! ঠাসসস! করে
দুইটা চর মারে।তারপর বলে, তুমি ভাবলে কিভাবে তোমাকে আমি মেরে ফেলবো? নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি তোমাকে আমি।কারও কথায় নয় এমন কি তুমি আমায় ভালোবাসলে কি বাসলে না তাতেও আমার কিচ্ছু যায় আসে না।আমি শুধু তোমাকে চাই।যে কোনো মূল্যে।যে কোনো পরিস্থিতিতে।তুমি শুধুই আমার।ভুলে যেও না জান আমাকে ভালোবাসতে তুমিই একদিন বাধ্য করেছিলে।তাই আমার অধিকার আছে।আর হ্যাঁ তোমার শরীর, মন সবকিছু জুড়ে একদিন শুধু আমিই থাকবো দেখে নিও।কথাগুলো বলে আদিবার চুলের ভাজে নেহাল নিজের হাত ডুবিয়ে দেয়।নিজের ঠোঁটটা আদিবার ঠোঁটের কাছে আনতেই আদিবা বলে ওঠে,

আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি নেহাল।আমি চাইলেও আপনাকে কখনো ভালোবাসতে পারবো না।আর না পারবো তার কাছে ফিরে যেতে।আপনি হয় আমায় মেরে ফেলুন নয় আমাকে মরতে দিন।বলেই নেহালকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে পাশের ফল কাটা ছুড়িটা উঠিয়ে নিজের পেটে ঢুকিয়ে দেয় আদিবা।

চলবে,,,,

(পরবর্তী পর্বগুলো আমার পেইজে দেওয়া হবে আমার প্রোফাইলে পেইজ এ গিয়ে চেক করে নিবেন। তাই শুধু next না লিখে আমার পেইজ ফলো করলে ভালো হবে। ধন্যবাদ। তাছাড়া স্টোরি পার্ট গুলো খুঁজে পাবেন না তাই অনুগ্রহ করে পেজটি ফলো করেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here