মেঘবৃষ্টির গল্পকথা -(পার্ট:০৯ থেকে 12)

0
250

#মেঘবৃষ্টির_গল্পকথা
#লেখনীতে_সাবরিন_জাহান
পার্ট:০৯ থেকে 12

মেঘ আবার হাটা লাগালো।
বৃষ্টি:আরে আরে, ওই মিস্টার ক্যাবলা কান্ত,মেঘ ব্যাকান্ত।

মেঘ:কি?

বৃষ্টি:এমন করেন কেন?

মেঘ:তুমি আমার নামের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছো।

বৃষ্টি হাত ঘড়ি দেখে বললো,
বৃষ্টি:বারোটা কিভাবে বাজালাম?এখন তো ছয়টা পঞ্চান্ন বাজে।

মেঘ ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে তাকালো।

বৃষ্টি:এমনে তাকিয়েন না বর মশাই,বুকে লাগে।

মেঘ:এখানে তোমাকে কে ডেয়ার দিলো,এই উদ্ভট কথা বলার জন্য?

বৃষ্টি:ওমা ডেয়ার কেন দিবে আমায়?আর আমি তো উদ্ভট কিছু বলি নাই।আমি তো বলছি আই লাভ ইউ।

মেঘ: বাট আই ডোন্ট!

বৃষ্টি:কেনো?

মেঘ:মিস স্পর্শিয়া বৃষ্টি!আপনি তো আমাকে সহ্যই করতে পারেন না।তাই বলে এক জঘন্য অপবাদে বের করে দিতে চেয়েছিলেন ।কিন্তু পারেন নি।আর যেখানে আমাকে আপনি সহ্যই করতে পারেন না,সেখানে ভালোবাসা? হাসালেন।

বৃষ্টি কিছু বললো না।

বৃষ্টি:সরি।

মেঘ আবারও হাটা লাগালে বৃষ্টি ওর হাত ধরে আটকায়।

বৃষ্টি:সরি বলছি তো,মাফ করে দিন না।একটু মাফ করলেই হবে।আর কিছু লাগবে না।
পরক্ষনেই বলে উঠলো,

বৃষ্টি:না না ,আরেকটা জিনিস লাগবে।

মেঘ ভ্রু কুচকে তাকালো,বৃষ্টি বত্রিশ দাত দেখিয়ে বললো,
বৃষ্টি:আপনাকে!

মেঘ বিরক্তির শেষ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।এই মেয়ের হয়েছে টা কি?

অর্কের কেবিনে বসে আছে তিশা।বৃষ্টির খবর নাই।এদিকে আয়েশার টেস্টের রিপোর্ট গুলো দেখাতে হবে।বিভোর আয়েশার কাছে।বৃষ্টি কে না পেয়ে তিশা একাই অর্কের কাছে এসেছে।অর্ক তিশা কে ওষুধ বুঝিয়ে দিচ্ছে কোনটা কোন বেলার।কিন্তু তিশার সেদিকে খবর নাই,এক গালে হাত দিয়ে দেখে চলছে অর্ক কে। ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক,”লা লা লালা,লা লা লালা”।অর্ক বিষয়টি খেয়াল করে গলা ঝাড়লো।কিন্তু তিশার নড়চড় নেই।
অর্ক:মিস তিশা?

তিশা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে,ওকে যে ডাকছে তার দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপই নাই।অর্ক এবার তিশার দিকে তাকালো,সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তো আছেই।অর্ক ভ্রু কুচকে তাকালো।এই মেয়ের মাথায় কি প্রবলেম আছে?
অর্ক এবার বেশ জোড়ে ডাকলো,”মিস তিশা!”

তিশা: হ্যাঁ হ্যাঁ?

অর্ক:আপনি শুনেছেন আমি কি বলেছি?

তিশা: হ্যাঁ হ্যাঁ,শুনেছি!

অর্ক:বলুন কি শুনেছেন?

তিশা এবার পড়লো ফেসাদে, ও তো খেয়ালই করেনি অর্ক কি বলেছে!এবার কি বলবে?
তিশা:ইয়ে ওই..

তখনই টুকুস করে দরজা খোলার , তিশা আর অর্ক তাকিয়ে দেখলো বৃষ্টি।

অর্ক:আরে বৃষ্টি!

বৃষ্টি দাত কেলিয়ে দরজা আবজে তিশার পাশে বসে পড়লো,

বৃষ্টি: হেল্লো বড় দেবর ভাইয়াজি!
বৃষ্টির মুখে এমন ডাক শুনে অর্কের কাশি উঠে গেলো!

অর্ক:সরি?

বৃষ্টি:আরে মেঘবাবুর সাথে আমার বিয়ে হলে তো আপনি আমার দেবর হবেন,আর যেহেতু আপনি মেঘের বড় ভাই সেহেতু ভাইয়া।তাই সংমিশ্রণে বললাম।

তিশা লাজুক হেসে বললো,
তিশা:দুলাভাই ও ডেকে নে।

বৃষ্টি আর অর্ক ভ্রু কুঁচকে তাকালো,তিশা ভুল জায়গায় মুখ ফসকে ভুল কথা বলেছে বুঝতে পেরে বেক্কল মার্কা হাসি দিলো।এদিকে মেঘ ভাইয়া বলতে বলতে কেবিনে ঢুকে বৃষ্টি আর তিশাকে অবাক।

বৃষ্টি:ওই তো বরমশাই চলে আসছেন,বউ এর টানে!
বৃষ্টির কথা শুনে মেঘ পরে যেতে নিলে দরজার হ্যান্ডেল ধরে নিজেকে সামলে নিলো!মেঘ ভাবছে এই মেয়ের কি মাথার সিট খালি হয়ে গেছে?

ইন বাংলাদেশ,
নুরি: উৎস প্লিজ!

উৎসঃ কি?

নুরি:হেল্প চাই!

উৎস:কিসের জন্য?

নুরি: গত ছয় বছর ধরে একটা ছেলেকে ভালোবাসি,কিন্তু বলতেই পারছি না। কালকে ওর বার্থডে,ভাবছি কালকেই করবো!
এদিকে উৎস থম মেরে রইলো, ও কে নুরি কে ভালোবাসে।কিন্তু নুরি তো অন্য কাওকে চায়।না চাইতেও মন ভারী হতে লাগলো।তাও সামলে নিয়ে মিথ্যে হাসি হেসে বললো,
উৎস:তো আমি কি করবো?

নুরি:তোর আর ওর চয়েস এক!তাই তুই বল ঠিক কিভাবে প্রপোজ করলে ও মেনে নিবে!

উৎসঃ ওকে ওর প্রিয় জায়গায় প্রিয় ফুল দিয়ে মনের কথা জানিয়ে দে,তাহলেই হবে।

নুরি খুশিতে উৎসের গালে চুমু দিয়ে চলে গেলো।এদিকে উৎস বকা বনে গেলো।ভেবে নিলো প্রেমে পড়ে এই মেয়ে পাগল হয়েছে।

আভি:তানু!

তানহা:জি বলুন,

আভি:প্লিজ হেল্প করো না!

তানহা ক্ষিপ্ত চোখে তাকালো।এই লোকটা এমন কেন?বুঝে না যে ও ওকে ভালোবাসে।তানহা কিছু না বলে যেতে লাগলো।ভার্সিটি শেষে প্রতিদিন আভি এসে বলে ওর বান্ধবীর সাথে লাইন করিয়ে দিতে,কেন রে?নিজে কথা বলতে পারিস না?

আভি :আরে শোনো তানহা!
তানহা চলে গেলো।আভি মুচকি হাসলো!

রাইসা:ওই আদি যুগের মানুষ!

আদিল:আমার নামটারে বিকৃত করবি না বইলা দিলাম!

রাইসা:শালা,আর কয়দিন এমনে বসিয়ে রাখবি?বাবা বিয়ের জন্য ছেলে খুঁজছে।বিয়ে হয়ে গেলে তুই বলিস আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই।

আদিল:তোরে বিয়ে করলে জীবন তেজপাতা,তার চেয়ে ভালো তোর বিয়ে হয়ে যাক।
রাইসার কোনো প্রতি উত্তর না পেয়ে ওর দিকে তাকিয়ে দেখলো ও কাঁদছে।

আদিল:আরে কাঁদছিস কেনো?

রাইসা:অন্য কাওকে বিয়ে করার আগে যেনো আমার দাফন সম্পন্ন হয়।

আদিল রাইসা কে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।
আদিল:আরে পাগলী আমি মজা করে বলেছি।

রাইসা:আর বলবি না,সহ্য হয় না।

আদিল:আচ্ছা কান্না থামা।

বিভোর:বৃষ্টি আর তিশার বাচ্চা ঘুমিয়ে গেছে।

আয়েশা:ওদের বিয়ে হয়নি!বাচ্চা হবে কই থেকে?

বিভোর:উফ,সকালে তিশা জ্বালায়, দিনে বৃষ্টি ,রাতে তুমি আর মাঝরাতে বিভা।সবাই খালি মোরেই জ্বালায়।

আয়েশা:তুমি যে ভালো মানুষ তাই।

বিভোর:পাম…

আয়েশা:বৃষ্টি আর মেঘ কি এক হবে?

বিভোর:অবশ্যই হবে,মেঘবিহীন বৃষ্টি হয় না।তাই আলাদা হওয়ার সাধ্য ওদের নেই।

আয়েশা মুচকি হেসে বিভোরের কাঁধে মাথা রাখলো।

আজও সেই আকাশপানে তাকিয়ে আছে মেঘ।অর্ক ওর পাশে এসে বসলো।

অর্ক: কিরে কি ভাবছিস?

মেঘ:বৃষ্টির হটাৎ পরিবর্তন!আগের বৃষ্টি আর এই বৃষ্টির মাঝে কত তফাৎ!

অর্ক:নতুন বৃষ্টি কে বুঝি ভালো লাগে না?

মেঘ:উহু,আগের থেকে এই বৃষ্টি দারুন!আগের বৃষ্টি তো ছিল হাসিবিহীন,কিন্তু এই বৃষ্টি তে আছে অনেক কিছু।বলে বোঝাতে পারবো না।

অর্ক:তাহলে তোর কাছে আসলে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিস কেনো?

মেঘ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
মেঘ:কোনো কিছুই তোমার অজানা নয় ভাইয়া।

অর্ক:হয়তো নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে!তাই?

মেঘ:যদি এমন হয় নিজের করা কাজের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ভালোবাসি বলে?তখন?আমি চাই ও মন থেকে ভালোবাসুক।অনুতাপ থেকে নয়!

অর্ক কিছু না বলে নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো,চোখ বন্ধ করতেই ভেসে উঠলো তিশার হাস্যজ্বল মুখ।আনমনেই হাসলো ও।কেন জানি ভালো লাগছে মেয়েটিকে নিয়ে ভাবতে।

বৃষ্টি:তোর মতি গতি সুবিধার টিকছে না।

তিশা:কেন?

বৃষ্টি:অর্ক ভাইয়া দুলাভাই কেন হবে?

তিশা লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিমা করে বললো,
তিশা:আমার সাথে বিয়ে হলে তো দুলাভাই ই হবে।

বৃষ্টি লাফিয়ে ওঠে বললো,
বৃষ্টি:তার মানে , কুচ কুচ হোতা হ্যায়?

তিশা হাত ছড়িয়ে বিছানায় শুয়ে বললো,

তিশা: সাব কুচ হোতা হ্যায় ইয়ার!!

বৃষ্টি:তার মানে লাভ?

তিশা:হুমম,আমি প্রেমে পড়ে গেছি ওগো তোমার জেন্টল ম্যান!

বৃষ্টি:ওয় হয়!

তিশা মুচকি হেসে পাশ করে শুয়ে পড়লো,বৃষ্টি আনমনে জানালার বাইরে তাকালো।

বৃষ্টি:”অনুভূতির চিলেকোঠার মাঝে বদ্ধ হওয়া কাহিনীর রচনা করলাম আবারও আজ।গল্পের নতুন শুরুটা আবার হলো।শুরু হলো মেঘবৃষ্টির গল্পকথা।”
(~সাবরিন জাহান~)

বৃষ্টি নিজেও শুয়ে পড়লো,পরের সকালের জন্য।প্রত্যেকটা ভালোবাসার মানুষের অনুভূতি প্রকাশ,এক অফুরন্ত উত্তেজনার বিষয়, যা নুরির মাঝে কাজ করছে। কাল মনের মানুষকে নিজের মনের কথা জানাতে চলেছে সে।ভাবতেই শিহরণ বয়ে গেলো।

#চলমান

(😒😒😒কার কার পরীক্ষা এখনও চলে?)#মেঘবৃষ্টির_গল্পকথা
#লেখনীতে_সাবরিন_জাহান
পার্ট:১০

ডক্টর অর্কের কেবিনে বসে আছে তিশা।একবারে খেয়ে ফেলা টাইপ ভাবে তাকিয়ে আছে।

অর্ক:বলো তোমার কি সমস্যা?

তিশা:সমস্যা আবার কি?ডক্টর দেখাতে আসছি।

অর্ক:আচ্ছা,বলো কি হয়েছে তোমার?

তিশা:আমার কিছু হয় নি,আপনি কোনোদিনও বুঝবেন না আমার কি হয়েছে!

অর্ক হাতে থাকা কলম ঠাস করে টেবিলে রেখে বললো,
অর্ক: ও হ্যাল্লো ,আমি তোমার বয় ফ্রেন্ড না!

তিশা দাত কেলিয়ে বললো,

তিশা: বয় ফ্রেন্ড নাতো কি হয়েছে?জামাই লাগো তো!

অর্ক তিশার আড়ালে মুচকি হাসলো।কিন্তু তিশার সামনে মুখে গম্ভীর ভাব এনে বললো,

অর্ক:তুমি যাবে?

তিশা: কোথায়?শ্বশুর বাড়ি?

অর্ক: দেখো আমার অন্যান্য পেসেন্ট আছে প্লিজ।

তিশা:আচ্ছা বিকেলে দেখা হচ্ছে,টাটা!
বলেই দৌড়।অর্ক হালকা হাসলো।

নুরি:আরে ওই উৎসের বাচ্চা,কই তুই?

উৎস:বাসায়!

নুরি:জলদি ভার্সিটির থেকে কিছুটা দূরে বট তলার নিচে আয়।

উৎসঃ কেনো?

নুরি:বললাম না,আজকে তাকে মনের কথা বলবো।

উৎসের বুক এ তীরের মত বিঁধল কথা টা।

উৎস:আমাকে দিয়ে কি করবি?

নুরি:সাপোর্ট হিসেবে!!প্লিজ

উৎস:আচ্ছা আসছি।
নুরির অনুরোধ ফেলতে পারলো না,তাই নুরির কথা মত গেলো। নুরি কে দেখেই উৎস বিস্ফোরিত, নীল শাড়ি, নীল চুড়িতে অপূর্ব লাগছে। উৎস নিজেকে সংযত করলো।এসব তো তার জন্য না।

নুরি:আমাকে কেমন লাগছে?

উৎস:খুব সুন্দর।

নুরি:তার পছন্দ হবে তো?

উৎসঃ না হয়ে যাবে কই?

নুরি:আচ্ছা সে যদি আমায় ফিরিয়ে দেয়?

উৎস নুরির নাক টেনে বললো,
উৎসঃ তোকে ফেরানো ইম্পসিবল।

নুরি:সত্যি?

উৎসঃ হুমম

নুরি:তাহলে বল ভালোবাসিস!

উৎস চমকে তাকালো,
উৎসঃমানে?

নুরি বেলি ফুলের মালা হাতে উৎসের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বললো,
নুরি:দেখ তোর তো বেলি ফুল পছন্দ,এখন বেলি ফুল তো আর বুকেট হিসেবে বানাতে পারি না।তাই মালা বানিয়ে এনেছি,

নুরি নিজের মাথায় নিজে নিজেই বারি দিয়ে বললো,
নুরি:ধুর,আচ্ছা শোন থুক্কু শোনো তোর মত থুক্কু তোমার মত গর্ধব পরের চৌদ্দ বছর গেলেও আমারে ভালোবাসি মুখ ফুটে বলবি থুড়ি বলবে তো না…আমাকেও চির কুমারী বানিয়ে রাখবে।একটা কথা বলো তো,আমি বাঘ না ভাল্লুক?ভালোবাসি কথাটা শুনার জন্য এত এত জেলাসী টাইপ কথা বলি,তাও মুখ ফুটে ভালোবাসি বলো না।কেন?ভালোবাসি বলে কি মুখের ক্ষয় হবে? যাই হোক,এখন আমি বলছি “ভালোবাসি”।হুমম ,আমার প্রিয় মানুষটি তুমি।আজকের প্রপোজের আয়োজনও তোমার জন্যে।এবার এই বেলি ফুলের মালা আমার চুলে বেঁধে দিয়ে আমার ভালোবাসা স্বীকার করো, নয়তো ওই যে তোমার পিছে ছুরি দেখছো!

উৎস পিছে তাকিয়ে ছুরিটির দিকে এক পলক তাকিয়ে ভাবলো,নুরি কি সুইসাইড বুঝাচ্ছে?

নুরি:আরে না না,নিজের ক্ষতি করবো না।এখনও তো নাতি পুতির মুখই দেখলাম না। ছুরিটা তোমার পেটে টুকুস করে ঢুকিয়ে, টাকুস করে বের করবো।

উৎস এক ধক গিললো। একেই বলে সিম্পল এর মধ্যে গর্জিয়াস থ্রেট।

উৎস জলদি করে মালা হাতে নিলো।নুরি মুচকি হেসে দাড়ালো।আর উৎস তা নুরির মাথায় বেঁধে দিলো।

পাত্র পক্ষের সামনে মাথা নিচু করে বসে আছে রাইসা।অবশেষে তার বাবা পাত্র ঠিক করে ফেলেছেন।
পাত্রের মা:তো বিয়ের দিন কি আপনারা ঠিক করবেন?

রাইসার বাবা:না,আপনারা যা বলেন।

পাত্রের মা:বেশ তবে আমি আমার ছেলের থেকে জেনে জানাচ্ছি।

রাইসা পাথরের মত বসে আছে।পাশ থেকে পাত্রের বোন সুপ্তি বলে উঠলো,

সুপ্তি:কি গো হবু ভাবি?আমাদের পছন্দ হয় নিয়ে নাকি বরকে ভালোলাগে নি?

রাইসা কিছু বললো না।যাওয়ার আগে সুপ্তি রাইসার কানের কাছে বললো,

সুপ্তি:আদিল ভাই বিকেলে পার্কে দেখা করবে।

রাইসা চমকে তাকালো।সুপ্তি মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো,

সুপ্তি:আমি আদিলের বোন আর উনি আদিলের মা।

রাইসা খুশি হবে না কান্না করবে বুঝছে না।
রাইসা রুমে গেলো।আদিল কে ফোন করতেই আদিল বলে উঠলো,

আদিল: হ্যাল্লো,হবু বউ!

রাইসা:কই তুই?

আদিল:কি ব্যাপার,রেগে আছিস কেন?

রাইসা: দশ মিনিটে পার্কের মধ্যে থাকবি,নাইলে তোর অফিসে আমি গেলে রক্ষে নাই।

আদিল তরি ঘড়ি করে বেরিয়ে গেলো।এই মেয়ে যে জন্মের খেপা খেপছে,বুঝতে পারছে।

আদিল দেখলো রাইসা অলরেডি পৌঁছে গেছে।

আদিল:রাইসা!

রাইসা ছল ছল চোখে তাকালো।

আদিল:কি হয়েছে জান!কেও কিছু বলেছে?

রাইসা কিছু না বলে আদিলকে জড়িয়ে ধরলো।

রাইসা:তুমি খুব খারাপ, জানো কত টা ভয় পেয়েছি।ভেবেছি এবার তোমাকে হারিয়েই ফেলেছি।
বলেই কাঁদতে লাগলো।
আদিল: ব্যাস ব্যাস,আমাদের কেও আলাদা করতে পারবে না।এবার তুমি পার্মানেন্টলি আমার।

রাইসা কিছু বললো না।

আভি:তানু!

তানহা:দেখুন,লাইন আপনি মারবেন ,মাঝখানে আমাকে কেনো টানছেন?আমাকে আপনার গোলাম মনে হয়?

আভি:আরে খেপছো কেনো?আচ্ছা নাম্বার টা দেও!

তানহা এবার কান্না করে দিলো,
আভি:আরে আরে,

তানহা:শালার বান্দর,তুই জীবনেও বুঝবি না।আমি তোকে ভালবাসি আর তুই আমার সামনেই আরেক জনের নাম্বার চাস,লাইন মারতে চাস!!তোর কপালে বউ নাই, থাকলেও তোর বউ মু হবে।

আভি তানহাকে পিছন থেকে জড়িয়ে বললো,

আভি:কিন্তু আমার বউ তো চিকন।

তানহা:মানে?আর আমাকে কেন ধরছেন!ছাড়ুন!!

আভি:আমার বউকে আমি ধরছি,তাতে কার কি?

তানহা আর চোখে তাকালো,আভি টুস করে তানহার গালে চুমু দিয়ে দিল।তানহা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।

বিকেলে,
বিভোররা আশ্রমে এসেছে।সাথে বৃষ্টি আর তিশা।
তিশা:আমি ভাবলাম,ডাক্তারের কাছে যাবো।কিন্তু তোরা এখানে নিয়ে আসলি।

বৃষ্টি:হাহ..লাইন মারতে?

তিশা:দুলাভাই লাগে তোর।

বৃষ্টি:চুপচাপ মজা কর।

অর্ক:হুট করে এখানে আসলি কেন?

মেঘ:আজকে রবিবার,আশ্রমে বাচ্চাদের সাথে মজা করবো।চল

অর্ক:কিন্তু..

মেঘ অর্ক কে টেনে ভিতরে নিয়ে গেলো,

আশ্রমের ম্যানাজার আকরাম বললো,
আকরাম:স্যার আপনারা এসেছেন!

মেঘ:হুমম,কিন্তু বাচ্চারা কই ?

আকরাম:আজকে আশ্রমে কিছু নতুন মানুষ এসেছে।তাদের মধ্যে দুইজন মেয়ের সাথে বাচ্চারা এত মিশেছে যে ওদের সাথেই মজা করছে।
মেঘ অর্ককে নিয়ে বাচ্চাদের কাছে গেলো।

“যদি বলো আজ
তা না না না
জুড়ে নেবো পিঠে দুটো ডানা
হাজার মজার খুলবো কারখানা
তবু কি হাসবে তুমি না না না
রাগী রাজা রাগি রাজা
রাগি রাজা একটু হেসে দাও
রাগী রাজা রাগি রাজা
রাগী রাজা স্মাইল করে দাও

মুখভরা কেন তোরা
বেছে বেছে আজকে করেছো ?
রাজারই মতো বুঝি তোমরা
ওমরা ঝোমরা হয়েছো
যা হয়, তা হয়
থেমে থাকেনা সময় ,
ধিন তাক, ছিন ছাক
তাই দিন কাটাতে হয়,
মন্ত্র এ খারাপ করো না

রাগী রাজা রাগি রাজা
রাগি রাজা একটু হেসে দাও
রাগী রাজা রাগি রাজা
রাগী রাজা স্মাইল করে দাও”

বৃষ্টি আর তিশা বাচ্চাদের সাথে মজা করছে,এর মাঝে মেঘ আর অর্ক ও যোগ দিল।আয়েশা আর বিভোর বসে বসে দেখছে। বেশ ভালোভাবেই দিন কাটলো।বৃষ্টি মেঘের কাছ ঘেষে দাড়ালে মেঘ সরে আসে আর বেরিয়ে যায়।বৃষ্টি মেঘের পিছু পিছু আসে।
বৃষ্টি:মেঘ দাড়ান!

মেঘ:কি চাই তোমার?

বৃষ্টি:ভালোবাসি আপনাকে!!

মেঘ:ওহ,রিয়েলি?মিস স্পর্শিয়া বৃষ্টি!আপনি ভুলে যাচ্ছেন?সেদিন আপনি মিথ্যা অপবাদে আমায় বের করতে চেয়েছিলেন?

বৃষ্টি: হ্যাঁ মানছি আমার ভুল,কিন্তু আমি তো ভুল বুঝতে পেরেছি?একটা ভুলের জন্য এত বড় শাস্তি কি আমার প্রাপ্য?

মেঘ:মেঘালয় মেঘ নিজের চরিত্র কে প্রায়োরিটি বেশি দেয়,সেখানে আপনি আমাকে পুরো ভার্সিটিতে বদনাম করতে চেয়েছেন।আর কি বললেন?ভালোবাসেন? হুহহ হাসালেন।আপনি ভালোবাসতে পারেন না!বাসলে কোনোদিন এমন কাজ করতেন না।প্লিজ দয়া করে আমায় আর বিরক্ত করবেন না।প্লিজ..

বৃষ্টি ছল ছল চোখে তাকালো।মেঘের বুক মোচড় দিলো,এই প্রথম বৃষ্টির চোখে জল দেখছে।

বৃষ্টি:বেশ,আর এই চেহারা দেখাবো না আপনাকে। বুধবারে আমার ফ্লাইট।চলে যাবো।ভালো থাকবেন।

বলেই এক মুহুর্ত না দাড়িয়ে চলে গেলো।মেঘ ওর যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো।ভাবছে,ওকি ভুল করলো?

তিশা:এই যে ডক্টর সাহেব;

অর্ক:বলুন।

তিশা:বিরক্ত হচ্ছেন?

অর্ক:না।

তিশা:হলেও কিছু করার নেই।আমরা আছি শুধু বুধবার পর্যন্ত।এই কয়েকটা দিন সয়ে নিন।

অর্ক:মানে?

তিশা:চলে যাবো বুধবারে,আর হয়তো দেখা হবে না।তাই বলছিলাম। যাই হোক,রাত হয়ে গেছে আসি।
বলেই চলে আসলো।অর্ক কিছু বললো না।

#চলমান

(মাথায় কিছু আসে না,তাও লিখলাম। ভূল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন)#মেঘবৃষ্টির_গল্পকথা
#লেখনীতে_সাবরিন_জাহান
পার্ট:১১

নিজের রুমে বসে আছে বৃষ্টি।তিশা প্যাকিং করছে।এই দুইদিনে মেঘকে একবারও দেখেনি বৃষ্টি।

তিশা:মেঘ ভাইয়া কে আরেকবার বুঝিয়ে বল না!

বৃষ্টি: সে বুঝার মানুষ না।

তিশা: মেঘবৃষ্টির গল্পকথা কি তবে এখানেই শেষ?

বৃষ্টি জানালা দিয়ে আকাশপানে তাকালো।আর তো কিছুক্ষন।তিশা বেরিয়ে যেতে লাগলেই বৃষ্টি বলে উঠলো,

বৃষ্টি: কোথায় যাচ্ছিস?

তিশা:ডাক্তার সাহেবের সাথে দেখা করতে!

বৃষ্টি:একটু পর আমরা বেরোবো!

তিশা:আমি ওখানেই থাকবো!তোরা চলে যাইস এয়ারপর্ট এ।
তিশা বেরিয়ে গেলো।বৃষ্টি রেডী হয়ে নিচে নামলো।আয়েশা বিভা কে খাওয়াচ্ছে।বিভোর সব চেক করে নিচ্ছে।বৃষ্টির কিছু ভালোলাগছে না।

বিভোর:আরো কিছুদিন থাকবি?

বৃষ্টি:না!

বিভোর:কেন?মেঘ কে মানাবি না?

বৃষ্টি: যে চায় না আমাকে তাকে মানিয়ে কি করবো?

বিভোর কিছু বললো না।
আজকে অর্কের ভালো লাগছে না বিধায় হসপিটাল যায়নি।মাথার মধ্যে শুধু তিশার কথা ঘুরছে।মেঘ নিজের রুমে বসে বৃষ্টির ছবির দিকে তাকিয়ে আছে।কি বা করবে আর!

তখনই বেল বাজলো।অর্ক গেট খুলতেই তিশা কে দেখে অবাক।
তিশা:আপনি কাজে যান নাই?

অর্ক:না!

তিশা:মেঘ ভাইয়া কোথায়?
ততক্ষণে মেঘও চলে এসেছে।
মেঘ:তুমি এখানে?

তিশা:কিছু কথা ছিল!

মেঘ:ভিতরে আসো।

মেঘ তিশাকে সোফায় বসতে দিল,

মেঘ:তোমাদের ফ্লাইট তো একটু পরেই!

তিশা:বৃষ্টিকে ক্ষমা করে দিন না এবারের মত ।
মেঘ:এটা বলতে এসেছো?তুমি তো জানোই ও কি করেছে?

তিশা:আপনি কি জানেন এই অপবাদ যে মিথ্যে সেটা প্রমাণ কে করেছে?

মেঘ:মানে?

তিশা:আপনার নামে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার পর বৃষ্টি এক মুহূর্ত স্থির থাকতে পারছিল না।বার বার ওর মনে হচ্ছিলো ও ভুল করছে। পরে আপনার সাথে কথা বলে ও নিজের সিদ্ধান্ত বদলে সব সত্য স্বীকার করে।

মেঘ কিছু বললো না।তিশা আবারও বললো,
তিশা:বৃষ্টি নিজের ফ্যামিলির ব্যাপারে জেনেও একটুও কান্না করেনি।ইভেন এত অবহেলার মধ্যে থেকেও ও শক্ত শিকড় হিসেবে টিকে ছিল।কিন্তু যেদিন আপনি চলে যাচ্ছিলেন সেদিন ও পৌঁছাতে পারেনি আপনার কাছে।
তিশা সেদিন কি কি হয়েছিল বললো,

তিশা: জ্ঞান ফিরতেই শুধু বলছিলো,মেঘ কে আটকাতে হবে,আয়েশার মুখে আপনি চলে গেছেন শুনে পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছিলো।অনেক কষ্টে ওকে সামলিয়েছি।বৃষ্টি যে পাল্টে গিয়েছে তাতো বুঝতেই পারেন,তাই না?আর কিছু বলবো না।একটু পর আমাদের ফ্লাইট,ওকে আটকে নিন।

বলেই তিশা বেরিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালেই অর্ককে দেখতে পায়।মুচকি হেসে তার কাছে গেলো,

তিশা:ডাক্তার সাহেব অনেক জ্বালিয়েছি আপনায়,আর জ্বালাবো না।ভালো থাকবেন।

বেরিয়ে গেলো তিশা।

বৃষ্টি:দেখা হয়েছে?

তিশা:হুমম।বিভোর আর আয়েশা কই?

বৃষ্টি: চেকিং হয়ে গেছে জাস্ট তোর অপেক্ষায় ছিলাম,চল।

তিশা এগিয়ে গেলো,কিন্তু বার বার পিছে তাকাচ্ছে,মেঘ আসছে কিনা!কিন্তু না মেঘ আসেনি।বৃষ্টি শেষ বারের মত পিছে তাকালো,যদি দেখা পায়।কিন্তু না,পেলো না। আশাহত হয়ে সামনের দিকে চললো।পুরোটা জার্নিতে নিরবে অশ্রু ফেললো বৃষ্টি,তিশা কি বলবে? ও তো চেষ্টা করেছিলো।

কেটে গেলো আরো কয়েকটা দিন।রাইসা আর আদিল এর বিয়ে হয়ে গেছে।আপাতত নুরি আর উৎসের বিবাহ সম্পন্নের কাজ করা হচ্ছে।নুরি অনেক রিকোয়েস্ট করেও বৃষ্টিকে ওর বিয়ের এক সপ্তাহ আগে আনতে পারে নাই।আজ নুরি আর উৎসের বিয়েও হয়ে গেলো।এত কোলাহল বৃষ্টির ভালো লাগছিলো না।তাই বেরিয়ে গেলো সেই চিরচেনা পুকুর পাড়ে।মেঘের প্রিয় জায়গা। বেঞ্চির উপর বসে পুরনো স্মৃতির কথা ভাবছিল,তখন সামনে কিছু বাচ্চারা আসলো।প্রত্যেকের হাতে লাভ শেইপ বেলুন।বৃষ্টি ভ্রু কুচকে তাকালো।বাচ্চাগুলো একসাথে বলে উঠলো,

“আই লাভ ইউ বৃষ্টির ফোঁটা”

বৃষ্টি কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলো,হুট করে কিঞ্চিৎ হেসে বললো,”মিস্টার ক্যাবলা কান্ত”
গিটার হাতে মেঘ এগিয়ে আসলো।

“বুলাভে তুঝে ইয়ার আজ মেরি গালিয়া
বাছাও তেরে সাং মে আলাগ দুনিয়া
না আয়ে কাভি দনো মে জারা ভি ফাসলে
বাছ এক তু হু এক মে হু অর কই না।
হে মেরা সাব কুচ তেরা তু সামাঝ লে
তু চাহে মেরে হাক কি জামিন রাখলে
তু সাসো পে ভি নাম তেরা লিখ দে
মে জিউ যাব যাব তেরা দিল ধারকে…..
তোর ভালোবাসা উড়ে গেছে আমাকে
তাই যদি কিছু চাও আমাকে জানিয়ে
প্রতিদিন আমি বলিনি তুই আমার জীবন
স্বপ্ন পূরণ করে দিব যে কোন রকম
যতক্ষণ তুমি আমার সাথে আর কেউ জানিনা
যতক্ষণ তুমি নাই আর কিছু পারি না(বৃষ্টির চারপাশে বাচ্চারা ঘুরতে লাগলো,বৃষ্টি অবাক হয়ে দেখছে)

গার্ল, আই জাস্ট ওয়ান্ট ইউর লাভিন
অল দা টাইম অ্যান্ড এভরিডে
তোর মনে যত বাধা থাকিস সব ছেড়ে দেয়…(আকাশের দিকে তাকাতে ইশারা করলে বৃষ্টি তাকায় আর মুখ চেপে ধরে,কত গুলো ফানুস একসাথে হয়ে লিখা উঠেছে আই লাভ ইউ)

পেয়ার দি রাওয়া উত্তে ইয়ার তু লে আয়া
মেনু জিনে কা মাতলাব আজ সামাঝ আয়া..
পরায়া মেনু কার না না তু সনিয়ে,চাননা মে তু রুল ঝানা”(বাচ্চারা হার্ট শেইপ করে বৃষ্টি আর মেঘ কে ঘিরে দাড়ালো)

মেঘ বৃষ্টির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে নিজের হাত এগিয়ে দিল,
মেঘ: স্নিগ্ধ শুভ্রতায় দগ্ধ মনে বিরাজমান প্রিয়সী,জানি কষ্ট দিয়েছি তোমায়।কিন্তু নিজেও যে পেয়েছি।আজ সকল কষ্টের অবসান ঘটিয়ে এসেছি তোমার কাছে।কথা দিচ্ছি এই নয়নে আর ঝরতে দিবো না অশ্রু।আগলে রাখবো মনের গহীনে ,যেখান থেকে কেও আঁচড় কাটতে পারবে না।হবে না তোমার এই মিস্টার ক্যাবলা কান্তর জীবনসঙ্গী?

বৃষ্টি মুখে হাসির রেখা বড় হলো।মেঘের হাতে নিজের হাত রেখে বলল,
বৃষ্টি:এই বৃষ্টির ফোঁটা,শুধু তার মিস্টার ক্যাবলা কান্তরই।

মেঘ মুচকি হেসে বৃষ্টির হাতে রিং পরিয়ে দিলো।

মেঘ:নেও অর্ধেক বিয়ে কমপ্লিট।এবার বাসরের অপেক্ষা ।

বৃষ্টি ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই মেঘ চোখ মারলো।বৃষ্টি বির বির করে বললো,
বৃষ্টি:অসভ্য!

মেঘ:তোমার জন্যই!

তিশা:আব্বে এই মফিজের বউ,বের হও না।

সালমা: এই তোর সমস্যা কি?

তিশা:নানু দেখো,আমার আর ভালো লাগছে না। বৃষ্টিও চলে গেছে।এবার আমি কিন্তু তোমাকে একা রেখে যাবো।

সালমা:ধুর,তোদের জন্য গেটও ধরতে পারিনা।

তিশা:বুড়ি বয়সে ভীমরতি,হাহ!

সালমা:এই তুই জানিস আমি এখনও কারিনা কাপুর!!

তিশা:বুড়ি তুমি যাবে?

সালমা:চল চল!

তিশা আর সালমা বের হয়ে রিকশা নিবে এমন সময় একটা গাড়ি এসে ওদের সামনে দাড়ালো।তিশা কিছু বলতে যাবে তার আগেই লোকটি জানালার কাঁচ নামালো,আর তিশা চমকে উঠলো,

তিশা:ডাক্তার সাহেব!

সালমা: ওরে অঙ্ক বাবাজি।

অর্ক:জানু অঙ্ক না অর্ক!

সালমা:ওই একই!জামাই কবে আইলি তুই?

অর্ক:আজকেই?আম..বাড়ি যাবে তো? চলো নিয়ে যাই।

সালমা কিছু না বলে উঠে গেলো পিছনের সিটে,তিশা শুধু তাকিয়ে দেখছে।

অর্ক:আপনাকে কি ইনভিটেশন দিতে হবে?

তিশা কিছু না বলে সামনে গিয়ে বসলো।

তিশা:বুড়ি তুমি দেখছি বেজায় স্বার্থপর।আমাকে ছাড়া উঠে গেলে?

সালমা:আরে,দেখিস না,আমার জামাই আসছে।আমি আমার জামাই এর গাড়িতে উঠছি।আর আমি বুড়ি না।আমি এখনও কারিনা কাপুর।তাই না জামাই?

অর্ক:একদম জানু।

তিশা:ঢং!

ওদিকে
মেঘ বৃষ্টিকে নিয়ে বৃষ্টির বাড়িতে গেলে বৃষ্টি ওখানে মেঘের বাবাকে পায়।তারা জানালো মেঘ বৃষ্টির বিয়ে এই সপ্তাহেই।পরশু এনগেজমেন্ট।আফিয়া এখন কারো সাথে অত কথা বলে না।একদম একা থাকে। স্পর্শও ওর সাথে কথা বলে না।বৃষ্টি আর তিশাও কথা বলে না।তাই নিজেকে সম্পূর্ণ একা করে রাখে।গার্ডেনে মেঘ আর বৃষ্টি একসাথে কথা বলছিল।কথার এক পর্যায়ে মেঘ বললো,

মেঘ:একটা কথা বলি?

বৃষ্টি:কি?

মেঘ: আফিয়া আন্টিকে ক্ষমা করে দেও।

বৃষ্টি চুপ করে রইলো।মেঘ বৃষ্টির দু গালে হাত রেখে বলল,
মেঘ:অনেক তো হয়েছে!এবার ক্ষমা করে দেও।বাবা মাকে নিয়ে একটা হ্যাপী ফ্যামিলি হয়ে যাও।হায়াতের মালিক আল্লাহ।কখন কি হয়ে যায়!এবার সব মান অভিমান ভুলে একসাথে থাকো।আমি জানি তুমি নিজেও ভালো নেই এভাবে থেকে।

বৃষ্টি:আমি এই ব্যাপারে কথা বলতে চাই না।

মেঘ দীর্ঘশ্বাস ফেললো, কি বা করবে আর?
রাতে তারা চলে গেলে বৃষ্টি আফিয়ার ঘরের দিকে তাকালো। আফিয়া উকি ঝুঁকি মেরে দেখছিল।বৃষ্টিকে তাকাতে দেখে লুকিয়ে পড়লো,যেনো এই মুখ কাওকে দেখাতে চায় না।বৃষ্টি এক পলক তাকিয়ে ঘরে গেলো।

#চলমান

(আমার মা অসুস্থ,তাই ব্যাস্ততার মাঝে লিখতে পারিনি কাল।)

#মেঘবৃষ্টির_গল্পকথা
#লেখনীতে_সাবরিন_জাহান
পার্ট:১২

তিশা:ভাও!

বৃষ্টি: বেকায়দায় ডিস্টার্ব করিস কেন?

তিশা:ইয়ার তুই ভয় কিসে করিস বলতো?

আয়েশা:আদো কিছুতে ভয় পায় নাকি সন্দেহ।

বৃষ্টি কিছু বললো না। সোনালী সুতোর কাজের ব্ল্যাক লেহেঙ্গা পরে বসে আছে বৃষ্টি।তার সাথে একটু সাজগোজ।আজ মেঘ আর বৃষ্টির এনগেজমেন্ট।আয়েশা আর তিশা ওকে নিয়ে নিচে গেলো।
বিভোর,আদিল,উৎস আর আভির সাথে আড্ডা দিচ্ছিলো মেঘ।
আদিল: সুবহানাল্লাহ!

আভি: মাশাআল্লাহ!

বিভোর: আলহামদুলিল্লাহ!

উৎস:চিমটি মি!

বিভোর, আভি,আদিল: অলসো আস!

বৃষ্টি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো,ওদের আড্ডা দিতে দেখে বৃষ্টি ওদের কাছে আসলো,কিন্তু ওদের রিয়েকশন এ মনে হচ্ছে ওরা কোনো এলিয়েন দেখছে।মেঘ এখনও পিঠ ফিরে দাড়িয়ে আছে বৃষ্টির থেকে।

মেঘ: হোয়াট হ্যাপ্যান্ড?

আদিল:দুলাভাই, পিছে ঘুরবেন না!

আভি:নাহলে শেষ!

বৃষ্টি:তোদের প্রবলেম কি?

বৃষ্টির আওয়াজ শুনে মেঘ ঘুরে তাকাতেই শক খেলো।ওর ধারণা ছিল বৃষ্টি আজও হয়তো ছেলেদের স্টাইলে প্যান্ট শার্ট পরে আসবে।কিন্তু মেয়েলি সাজে আসবে কল্পনাও করে নাই।অজান্তেই বুকের বা পাশে হাত চলে গেলো ওর।

মেঘ: হায়,মে মারজাবা!

বলে পড়ে যেতে নিলেই আদিল,আভি আর বিভোর ধরে ফেললো।বৃষ্টি অবাক হয়ে রইলো।এদের কি হলো বুঝছে না!আয়েশা আর তিশা মিট মিট করে হাসছে।

বৃষ্টি:তোদের যে একটা তার ছিঁড়ে গেছে,সবাই জানে?

উৎস:আব্বে,এভাবে শক দেওয়ার মানে কি?

বৃষ্টি:আজব!আমি কি করলাম?আর আপনি এরকম আধ মরা হয়ে ওদের উপর কেন পড়ে আছেন?

মেঘ: তুমহারি সৌন্দর্তা মে ঘায়েল হুয়া মে, হায় সারে মান্নাতে পুরি হো গেই, তুঝকো পানে কে লিয়ে হাম রোজ মাঙ্গে জান্নাত ভে!

সবাই: ওহো!

বৃষ্টি লাজুক হাসলো, তা দেখে মেঘ আবারও বললো,”হায় মে মারযাবা”

বৃষ্টি কিছু না বলে আয়েশাদের সাথে অন্য দিকে গেলো।মেঘ মুচকি হেসে আড্ডা দিতে লাগলো।
স্পর্শ:মেঘ!বৃষ্টি কোথায়?

মেঘ:কিছুক্ষণ আগে তো এখানেই ছিল!

স্পর্শ:কি যে করে না মেয়েটা!একটু পরেই তো স্টেজে ডাকবে!

ওদিকে,
অন্ধকার ঘরের দরজা খোলার কারণে আলো এসে পড়ল আফিয়ার উপর।মুহূর্তেই চোখ বন্ধ করে নিলো।অন্ধকারে থাকতে থাকতে আলো সইতে পারে না।চোখ একটু খুলে দেখলো একটা মেয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে।বৃষ্টি রুমে ঢুকে লাইট জ্বালিয়ে দিলো!সাথে সাথে আবার চোখ বন্ধ করে নিলো আফিয়া।বৃষ্টি তার মায়ের দিকে তাকালো।কি অবস্থা! এত গুছানো মানুষটা আজ অগোছালো।বৃষ্টি আফিয়ার কাছে গেলো!মৃদু স্বরে ডাকলো,

বৃষ্টি:মা!

আফিয়া বৃষ্টির গলার আওয়াজ আর মা ডাক শুনে চোখ খুলে তাকালো।বৃষ্টি অশ্রু নয়নে তাকিয়ে আছে।
আফিয়া:তুই আমাকে মা বললি?

বৃষ্টি: মাকে মা বলবো না তো কি বলবো?

আফিয়া:আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছিস?

বৃষ্টি:তোমার উপর আর কোনো অভিযোগ নেই!আর ক্ষমা?মেয়ের কাছে ক্ষমা কিসের?

আফিয়া বৃষ্টিকে জড়িয়ে জোড়ে জোড়ে কেঁদে দিলো!বৃষ্টি কিছু বললো না। কাঁদুক না একটু মানুষটা!বৃষ্টি তো চেয়েছিল উনি বুঝুক যে একা থাকার কষ্ট।কিন্তু এতে যে এতটা কষ্ট পাবে ধারণা নেই। ব্যাস!আর কষ্ট পাবে না।

বৃষ্টি:দেখি উঠো তো!এই শাড়িটা পড়ে এসো।

আফিয়া:কেনো?

বৃষ্টি:নিচে যাবে!

আফিয়া:না না,স্পর্শ আর তিশা রাগ করবে!

বৃষ্টি:কেও কিছু বলবে না, চলো!

বৃষ্টি ঠেলে ঠুলে আফিয়াকে রেডী করলো,

বৃষ্টি: নও ইটস মিস আফিয়া বেগম, ওয়াইফ অফ মিস্টার স্পর্শ।অ্যান্ড মাদার অফ তানজিন তিশা অ্যান্ড স্পর্শিয়া বৃষ্টি!

আফিয়া হাসলো!বৃষ্টি আফিয়াকে নিয়ে গেলো।
আয়েশা:ওই তো বৃষ্টি।

আয়েশার কথা শুনে সবাই সিড়ির দিকে তাকালে দেখলো বৃষ্টি আফিয়ার হাত ধরে নিচে নামছে।স্পর্শ নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।আফিয়াকে ও ভালোবাসে,কিন্তু ওর একটা ভুলে কি থেকে কি হয়ে গেলো।

তিশা:উনাকে এখানে কেনো আনলি?

বৃষ্টি:আমার জীবনের প্রথমে না থাক,নতুন জীবনের শুরুতে থাকুক না।মা হিসেবে!

তিশা চলে যেতে নিলেই বৃষ্টি হাত ধরে আটকালো।
বৃষ্টি:অনেক হয়েছে,আর রেগে থাকিস না।এবার একটা ফ্যামিলি ,ফুল ফ্যামিলি হিসেবে থাকি?প্লিজ!

তিশা:উনি তো তোর হাত ধরে আছে,আমাকে আর লাগবে নাকি?এক মেয়ে পেলেই তো হয়ে গেছে!হাহ…

আফিয়া তিশা কে জড়িয়ে ধরলো,তিশাও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো মাকে।
বৃষ্টি: হাও হিংসুটে।

স্পর্শ:বৃষ্টি! এনগেজমেন্ট শুরু হবে, চল!

বৃষ্টি:বাবা!মায়ের সাথে চলো!

স্পর্শ:কিন্তু..

বৃষ্টি: নো কথা!

স্পর্শ অনিচ্ছা সত্বেও আফিয়ার হাত ধরলো। আংটি বদল শেষ হলো।
“যে তু আঁখ তে মে কাজাল ভে
তু বারিস তে মে বাদাল ভে
তু দিওয়ানা মে এ পাগাল ভে
সোনিয়া সোনিয়া

যে তু জান্নাত মে এ তারা ভে
মে লেহের তে তু কিনারা ভে
মে আধা তা তু সারা ভে
সোনিয়া সোনিয়া

তু জাহা হে মে ওয়াহা
তেরে বিন মে হু হি কেয়া
তেরে বিন চেহরা সে মেরা
উড় যায়ে সারে রাং ভে!

তুঝকো পানে কে লিয়ে হাম
রোজ মাঙ্গে মান্নাত ভে
দুনিয়া তো কেয়া চিজ হে ইয়ারা
ঠুক্রা দেঙ্গে জান্নাত ভে!
তুঝকো পানে কে লিয়ে হাম
রোজ মাঙ্গে মান্নাত ভে
দুনিয়া তো কেয়া চিজ হে ইয়ারা
ঠুক্রা দেঙ্গে জান্নাত ভে!

এনগেজমেন্ট শেষ একটু আগে।স্পর্শ মাথায় হাত দিয়ে শুয়ে আছে।আফিয়া এক কোনায় দাড়িয়ে আছে।তিশা আর বৃষ্টি ঠেলে ঠুলে ওকে এই ঘরে দিয়ে গেছে।আর সেই থেকেই দাড়ানো।
স্পর্শ:এখন কি দাড়িয়েই থাকবে?

আফিয়া মাথা নিচু করে কাঁদতে লাগলো।স্পর্শ যে তাকে এখনও ক্ষমা করেনি বেশ বুঝতে পারছে।
স্পর্শ:এভাবে কান্না কাটি শুরু করছো কেনো?

আফিয়া:একবার ক্ষমা করে দিননা।

স্পর্শ:তুমি কি করেছো তুমি জানো না!

আফিয়া:মানছি ভুল করেছি,কিন্তু ভয় পেয়েছিলাম।

স্পর্শ: যতটা রাগ বৃষ্টির সত্যি জানতে পারাতে হয়েছে,তার থেকেও বেশি হয়েছে তুমি আমার উপর ভরসা রাখতে পারলে না।বৃষ্টি কতটা কষ্টে,অবহেলায় বড় হয়েছে আমরা নিজে দেখেছি।কিন্তু তখন অন্যের মেয়ে হিসেবে!বুঝতে পারছো?
আফিয়া কিছু বললো না।
স্পর্শ উঠে ওর কাছে গেলো।আলতো করে গালে হাত রেখে বলল,
স্পর্শ:তোমার চোখের জ্বল আমার সহ্য হয় না।জানো না?
আফিয়া তাও কেঁদে যাচ্ছে।স্পর্শ আলতো করে জড়িয়ে ধরলো ওকে।মান অভিমানের ইতি টানাটাই শ্রেয়।
তিশা বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।বৃষ্টি বারান্দায় দাড়িয়ে আছে।আজকের দিনটা বেশ কাটলো। হুট করেই মেসেজ টোন বেঁজে উঠলো,মেসেজ দেখে মুচকি হাসলো,কিছু না ভেবেই গলায় স্কার্ফ জড়িয়ে চলে গেলো।

বৃষ্টি বেরিয়ে যেতেই কেও চুপি সারে ঘরে প্রবেশ করলো।তিশা ঘুমোচ্ছে।ব্যাক্তি বেডের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমন্ত তিশার দিকে তাকিয়ে রইলো।কি মায়াবী চেহারা।আলতো করে তিশার কপালে ভালোবাসার পরশ দিয়ে দিলো।

ওদিকে
রাস্তায় হাটছে মেঘ বৃষ্টি।
মেঘ:এই বৃষ্টির ফোঁটা!

বৃষ্টি:বলুন!

মেঘ:সত্যি কথা বলবে?

বৃষ্টি:কি?

মেঘ: খুশিতো তুমি,এই বিয়েতে?

বৃষ্টি:হটাৎ এমন প্রশ্ন?

মেঘ:জানি না।

বৃষ্টি মেঘের কাছে গিয়ে ওর গলা জড়িয়ে বললো,
বৃষ্টি: যার কাছ থেকে হাসতে শিখলাম,ভালোবাসতে শিখলাম। যার জন্য এগিয়ে যাওয়ার সাহস পেলাম,লাইফের প্রতিটা মুমেন্ট ইঞ্জয় করতে পারছি!তার সাথে নিজের লাইফ জুড়তে অখুশি থাকবো?আমার খুশির কারণ আপনি,আমার অস্তিত্বে আপনি।আপনি বিনা আমি নেই।মেঘ ছাড়া বৃষ্টি অসম্ভব;আমাদের গল্পকথাও অসম্পূর্ণ।

মেঘ মুচকি হেসে বৃষ্টির কোমরে আলতো করে হাত রাখলো।তাতে মৃদু কেঁপে উঠলো বৃষ্টি।মেঘ মুচকি হেসে শক্ত করে চেপে ধরলো বৃষ্টির কোমর। বৃষ্টি চোখ বন্ধ করে আছে।মেঘ বৃষ্টির মাথায় মাথায় ঠেকিয়ে বললো,

মেঘ: বৃষ্টিহীন মেঘেরও কোনো মূল্য নেই,বৃষ্টি আছে তো মেঘ আছে।নাহলে কিছু নেই।

সকালে,
তিশা ঘুম থেকে উঠে দেখলো,বৃষ্টি মরার মত ফোন কানে নিয়ে ঘুমোচ্ছে।ফোন উঠিয়ে দেখতে পেলো মিস্টার ক্যাবলা কান্ত লেখা।কিন্তু কল দুই ঘণ্টার মাত্র ।এখন ৮ টা বাজে,মানে ৬ টায় কল হয়েছে। কল এখনও চলছে।ওপাশের বাক্তিও যে ঘুমাচ্ছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
তিশা:মানুষ জানতাম রাত জেগে কথা বলে,এরা দেখি সকাল জেগে।

তিশা ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলো।কালকে হলুদ।সব কিছুর তোর জোর চলছে।

#চলমান

(আগেই বলেছিলাম আম্মু অসুস্থ। তাই লিখতে পারিনি।আর কালকে যাও আম্মু ঠিক হয়েছে কিন্তু মোবাইল নিয়ে খালামণি,ফুফি সবার সাথে আড্ডা দিয়েছে। মাঝখানে আমি আর ফোন পেলাম না।তাই দুঃখিত।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here