মেঘবৃষ্টির গল্পকথা-(পার্ট:14+15)

0
117

#মেঘবৃষ্টির_গল্পকথা
#লেখনীতে_সাবরিন_জাহান
পার্ট:14+15

৬ মাস পর…

হন্তদন্ত হয়ে অর্কের কেবিনে ঢুকলো তিশা।অর্ক এভাবে তিশাকে দেখে অবাক হলো।

অর্ক: তুমি এখানে?

তিশা:বৃষ্টি কোথায়?

অর্ক:জানি না,একটু আগে এখানেই ছিল।তারপর নিচে চলে গেলো।

তখনই তিশার পিছনে উকি দিল আয়েশা।কোলে বিভা।
আয়েশা:অর্ক বৃষ্টি ঠিক আছে তো?

অর্ক:আমি থাকতে ও খারাপ কেনো থাকবে?

বৃষ্টি:কারেক্ট!

তিশা আর আয়েশা ঘুরে বৃষ্টির দিকে তাকালো,বৃষ্টি মুচকি হাসি দিয়ে ভিতরে ঢুকলো।
বৃষ্টি:তোরা হটাৎ?

তিশা:মা তোকে নিয়ে টেনশন করছে।আর তোর ফোন কই?জানিস মা কত ফোন দিয়েছে?

বৃষ্টি:ফোন সাইলেন্ট এ ছিল।

অর্ক:আজকের মত আমার ডিউটি শেষ। চলো বৃষ্টি বাড়ি যাওয়া যাক?

বৃষ্টি:হুমম।তিশা,আয়েশা!তোরা যাবি?

তিশা:না, মা টেনশন করবে।

বৃষ্টি:অর্ক ভাইয়া,তুমি কেবিন এসো।আমি গাড়িতে বসছি।

বৃষ্টি আয়েশাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো।তিশা বেরিয়ে যেতে নিলেই অর্ক বললো,

অর্ক:আজ মেঘ বেঁচে থাকলে সব অন্যরকম হতো।

তিশা:হুমম, না বৃষ্টির জীবন অগোছালো হতো আর না এতগুলো মানুষ কষ্ট পেতো।

অর্ক তিশার দিকে তাকালো,চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ার আগ মুহূর্তে বেরিয়ে গেলো তিশা।অর্ক দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

বৃষ্টি আর অর্ক বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলো।গাড়িতে বৃষ্টি আনমনে বাইরে তাকিয়ে আছে।

অর্ক:বৃষ্টি!

বৃষ্টি:হুমম!

অর্ক:কি ভাবছো?

বৃষ্টি:কিছু নাতো!

অর্ক:মন খারাপ?

বৃষ্টি:না।

অর্ক:মেঘকে মনে পড়ছে?

বৃষ্টি কিছু বললো না।

অর্ক:বৃষ্টি,সবাই যখন জেনে যাবে সত্যিটা বুঝতে পারছো কি হবে?

বৃষ্টি:মেঘ আসবে!

অর্ক: ইটস ইম্পসিবল!

বৃষ্টি:মেঘ আসবে।

অর্ক গাড়ি ব্রেক কষে বৃষ্টিকে ধমকে বললো,
অর্ক:কেনো বুঝছো না,মৃত মানুষ কিভাবে ফিরে আসবে?মেঘ মারা গেছে বৃষ্টি! হি ইজ ডেড।

বৃষ্টি:মেঘ বিনা বৃষ্টি হয় না।আমি যেহেতু আছি , মেঘও আছে।আমার ভালোবাসার বিশ্বাস মেঘ উইল কাম।জাস্ট ফর হিজ বৃষ্টির ফোঁটা।

অর্ক আর কিছু বলল না।গত ছয় মাস বৃষ্টিকে বুঝিয়ে যাচ্ছে মেঘ আসবে না ।কিন্তু ওর এক কথা মেঘ আসবে।নিজের লাইফকে এগিয়ে নিতে বললেও একই কথা বলে মেঘ আসবে।

বাড়িতে পৌঁছে,
সোফায় বসে সবে মাত্র হাতে থাকা হাড়ি হতে রসগোল্লাটা তুলে আজাদ উদ্দিন মুখে দিবেন ওমনি কেও হাত ধরে আটকে দিলো।সমানে বৃষ্টিকে দেখে মেকি হাসলেন।

বৃষ্টি:শ্বশুর মশাই!আপনার না মিষ্টি খাওয়া বারণ?

আজাদ:একটা মিষ্টিতে কি এমন হবে,খাই না?

বৃষ্টি আজাদের হাত ধরে রসগোল্লা হাড়ির মাঝে রেখে হাড়িটা কেড়ে নিলো।

বৃষ্টি:একদম না,আপনার ডায়াবেটিস এখনও কন্ট্রোলে আসেনি।তাই এটা পাবেন না।

আজাদ:আরে একটা দে মা,অনেকদিন পর দেখলাম।

বৃষ্টি:না…

সিড়ি বেয়ে নামতে নামতে অর্কের খালা ইরিনা বলতে লাগলো,

ইরিনা:দেখলেন ভাইজান?আপনার বাড়িতে আপনাকেই না করছে রসগোল্লার জন্য? এ কেমন মেয়েরে বাবা!

অর্ক পিছন থেকে বলে উঠলো,
অর্ক: ও ভুল কি বলেছে?বাবার এখন মিষ্টি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।একটা দানাও মুখে দিতে পারবে না।

ইরিনা:এই মেয়েটা যে তোর মাথা খেয়েছে তা বেশ বুঝতে পেরেছি।

রান্নাঘর থেকে অর্কের মা কাশফিয়া উত্তর দিলো,
কাশফিয়া: আহ ইরিন হচ্ছে টা কি?বৃষ্টি ভুল কোথায় বললো?

ইরিনা: হ্যাঁ ওর ভুল তো তোমাদের চোখেই পরে না।এই অলক্ষ্মী মেয়েটার জন্যই আমাদের মেঘ বাবাজি আমাদের কাছে নেই।অপয়া মেয়ে একটা।

আজাদ: ইরিন,ভুলে যাচ্ছো তুমি কার সামনে দাড়িয়ে কি বলছো?

ইরিনা আরো কিছু বলবে তার আগেই বৃষ্টি অবস্থা শঙ্কা জনক দেখে ইরিনার মুখে একটা গোটা রসগোল্লা ঢুকিয়ে দিলো।
ইরিনা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।অর্ক আর আজাদ সাহেব মুখ চেপে হাসছে।

বৃষ্টি:আপনার মুখে তেতো কথা ছাড়া আর কিছু আসে না তাই না?রসগোল্লাটা ভালোভাবে চিবুন তো।দেখবেন মুখ থেকে শুধু রসগোল্লা থুক্কু মিষ্টি টাইপ কথা বের হচ্ছে।

ইরিনা রসগোল্লা মুখে কিছু বলতে না পেরে রাগে গজগজ করতে করতে উপরে চলে গেলো।আর অর্ক আর আজাদ সাহেব জোরে হেসে দিলো।বৃষ্টি ওদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।

কাশফিয়া:বৃষ্টি,তুই না বললি পায়েশ করবি?নে,সব তৈরি।

বৃষ্টি:আসছি মা!

বৃষ্টি ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে গেলো।সুন্দর করে পায়েশ রেধে দুটা ভাগ করলো।

কাশফিয়া:দুইটা ভাগ করতে গেলি কেন?

বৃষ্টি:বাবার ডায়াবেটিস, উনার পায়েশে জিরো ক্যাল সুগার দিয়েছি।তাই আলাদা।

কাশফিয়া:আচ্ছা,তুই এক কাজ কর। ডিনারের অনেক সময় আছে।তুই রেস্ট নে।

বৃষ্টি:আচ্ছা ।

বৃষ্টি রুমে গেলো।ওদিকে ইরিনা বাঁকা হাসলো

ইরিনা:হাহ,উনার পায়েশে জিরো ক্যাল সুগার দিয়েছি (ভেঙ্গিয়ে) দেখাচ্ছি তোর জিরো ক্যাল সুগারের কামাল।
বলেই প্রায় পায়েশের অর্ধেক লবণ দিয়ে দিল।

ইরিনা:এবার দেখি,মুখ কোথায় লুকাস!

বলেই চলে গেলো,আর ডিনারের অপেক্ষা করতে লাগলো।

বৃষ্টি নিজের রুমে দেখলো অর্ক বসে আছে।

অর্ক:মা তোমাকে আরো আগে ডেকে বলেছে রেস্টের জন্য,এতক্ষণ কি করছিলে?

বৃষ্টি:একটা ছোট্ট কাজ ছিল,শেষ করে আসলাম।

অর্ক বৃষ্টির কাছে ফোন এগিয়ে দিলো,

অর্ক:তোমার মা কেঁদে অবস্থা খারাপ করছে।ফোন কেনো ধরছো না ?চিন্তা করছে তো?

বৃষ্টি:এইরে,ভুলেই গিয়েছিলাম!

অর্ক:নেও কথা বলো,আমি একটু বাইরে থেকে আসছি।

বৃষ্টি:ওকে!

অর্ক বেরিয়ে গেলো।বৃষ্টি ওর মাকে বুঝিয়ে শান্ত করলো।তারপর তিশার সাথে কথা বলতে লাগলো।

তিশা:বৃষ্টি!মা,বাবা বা ওই বাড়ির কেও সত্যি জানলে কি হবে বুঝতে পারছিস?

বৃষ্টি:ওদের মন ক্ষুণ্ণ হবে আর কিছুই না।

তিশা:লাইফ এগিয়ে নে বৃষ্টি,অতীত নিয়ে কেন পরে আছিস?অর্ককে নিয়ে ভবিষ্যৎ দেখ।

বৃষ্টি:মানতে পারবি?

তিশা:মানতে হবে বৃষ্টি!

বৃষ্টি:মেঘ আসবে!

তিশা: ও মারা গেছে!বুঝার চেষ্টা কর।

বৃষ্টি: হি উইল কাম!

তিশা:প্লিজ!

বৃষ্টি:অর্ক আমাকে নিজের বোনের মত ভালোবাসে।ভাই বোনের এই পবিত্র বন্ধন নষ্ট হতে দিতে চাই নী আর মেঘের বৃষ্টিকে অন্য কারোর হতে দিতে চাইনি বলেই মিথ্যে বলেছি সবাইকে যে আমার আর মেঘের বিয়ে হয়ে গেছে।

তিশা:কিন্তু..মেঘ না ফিরলে?

বৃষ্টি:বার বার কেন ভুলিস?মেঘ বলেছে বৃষ্টি বিনা মেঘের আর মেঘ বিনা বৃষ্টির কোনো মূল্যই নেই।আমাদের গল্প এখনও বাকি। মেঘবৃষ্টির গল্পকথা অসমাপ্ত রইবে না।আমাদের গল্পকথা সমাপ্ত করতে মেঘকে আসতেই হবে।

তিশা:বৃষ্টি তুই পাগল হয়েছিস!মেঘ মারা গেছে।

বৃষ্টি:প্রমাণ কি? সাইন্স বলে ডেড বডি না পেয়ে কাওকে মৃত বলা যায় না।

তিশা:থাক তুই!

বলে রেগে রেখে দিল,বৃষ্টি দীর্ঘশ্বাস ফেললো।নিচে থেকে খাবারের জন্য ডাকাডাকি করতে লাগলো।সবাই মিলে ডিনার করে নিলো।শেষ পাতে পায়েশ এনে বৃষ্টি আলাদা করে রাখা বাটিটা আজাদ সাহেব কে দিলো।

বৃষ্টি:এতে সুগার নেই খেতে পারো।

আজাদ:বাহ, অবশেষে পায়েশ তো পেলাম!

বলে মুখে দিলেন,এদিকে ইরিনা শয়তানি হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে।

আজাদ:আহা দারুন!
ইরিনা হতভম্ব হয়ে রইলো।ব্যাপারটা কি হলো?ভাবতে ভাবতে নিজের পায়েশ মুখে দিতেই চোখে মুখে বিষ্ফোরণ দেখা গেলো।এক মুহুর্ত দেরি না করে ওয়াশরুমে চলে গেলো।
কাশফিয়া:ওর আবার কি হলো?

বৃষ্টি:আমি দেখছি?

ইরিনা বেসিনে মুখ ধুচ্ছে।লবণ যুক্ত পায়েশ ওর ভাগ্যেই পড়েছে।

ইরিনা:উফ, গড়মিল কিভাবে হলো?

বৃষ্টি:অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে নিজেকেই সেই গর্তে পড়তে হয়।

ইরিনা চমকে তাকালো।

ইরিনা:ওহ,তারমানে তুমি ইচ্ছে করে ওই লবণ যুক্ত পায়েশ আমায় দিয়েছো?

বৃষ্টি বাঁকা হাসলো,ওই সময় রান্নাঘরে ফোন রেখে গিয়েছিল।সেটা নিতে এসেই ইরিনাকে দেখে ফেলে আর আবার নতুন করে শ্বশুর মশাইয়ের জন্য পায়েশ করে।লবণ যুক্ত পায়েশ ফেলতে গিয়েও ফেলেনি। নাহ,এইবার এই খালা শাশুড়িকে টাইট না করলে যে হবে না,এই ভেবে মুচকি হেসে ওই পায়েশটা রেখে দিল।

ইরিনা:কাজটা ঠিক করোনি।

বৃষ্টি এক হাতে ঘাড় স্লাইড করতে করতে বলল,
বৃষ্টি:স্পর্শিয়া বৃষ্টি নিজের আগের ক্যারেক্টারে এন্ট্রি নিলে টিকতে পারবেন না আপনি!এই বৃষ্টি বজ্রের মত!মিস খালাশাশুরি ভুলে যাবেন না আমি এই বাড়ির বউ!এতটাও দুর্বল নই যে আপনার মুখে ঝামা ঘষতে পারবো না,শুধু শাশুড়ি মায়ের বোন বলে ছাড় দিচ্ছি।নেক্সট টাইম এমন করলে এই স্পর্শিয়া বৃষ্টি কি! হারে হারে বুঝতে পারবেন।

বলেই বেরিয়ে গেলো।ইরিনা রাগে ওখানেই কাপতে লাগলো।বৃষ্টি সবাইকে বুঝালো অতিরিক্ত খাবার সহ্য হয়নি বলে এমন হয়েছে!

#চলমান

#মেঘবৃষ্টির_গল্পকথা
#লেখনীতে_সাবরিন_জাহান
পার্ট:১৫

“মিস্টার আসিফ,আর কতক্ষন? মিটিং এর শেষ পর্যায়ে চলে আসছি আমরা,তবুও মিস্টার অয়ন কোথায়?”

ডিলারদের এহেম প্রশ্নে বেশ ঘাবড়ে গেলো অয়নের পিএ আসিফ!

আসিফ: স্যার আসবে,আসলে রাস্তায় জ্যাম তো!

তখনই রুমে প্রবেশ করতে করতে কেও বলে উঠলো,
“সরি ফর লেট,মিস্টার আলী!”

আলী: অবশেষে আপনি আসলেন!

অয়ন: আই উইল এক্সপ্লেইন,প্লিজ সিট!

আলী আর অয়ন ডিল কনফার্ম এর মিটিংয়ে ব্যাস্ত।

উমা:আসিফ!

আসিফ:জি ম্যাম!

উমা:অয়ন কোথায়?

আসিফ:স্যার তো মিটিংয়ে।

উমা:উফ,বাবা যে কি করেনা!ছয় মাসে আমাদের একটু ফ্রি আপ স্পেস ও দিলো না।আমাদের বিয়ে সামনে।এটা তো উনাকে বুঝতে হবে।

আসিফ মুখ ঘুরিয়ে নিলো।উমা কে ওর অনেক পছন্দ।কিন্তু মালিকের মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা আর যাই হোক ওকে মানায় না। উমার বিয়ের কথা শুনলেই আসিফের মাঝে খারাপ লাগা কাজ করে।
উমা বক বক করতে করতে কেবিনে ঢুকে গেলো। মিটিং শেষ।অয়ন ক্লান্ত দেহ নিয়ে বসে আছে।
উমা:অয়ন!আজকে ফ্রি তুমি?

অয়ন:না উমা!

উমা:তুমি ফ্রী কবে থাকো বলোতো?

অয়ন: কাম অন উমা, আ’ম টায়ার্ড !লিভ মি এলন!প্লিজ!

উমা আহত চোখে তাকিয়ে বেরিয়ে গেলো।নতুন কিছুই না, রোজ অয়ন এই কাজের বাহানায় ওকে দূরে ঠেলে দেয়।মাথা চেপে ধরে বসে আছে অয়ন,আবছা কিছু স্মৃতি ভাসছে ওর সামনে। কারো অবয়ব দেখা যাচ্ছে,কিন্তু স্পষ্ট না!কানে একটা কথা এসে বাজলো,”মিষ্টার ক্যাবলা কান্ত,আপনি শুধুই আমার!”
ঝট করে চোখ খুলে ফেললো ও।মাথা অসম্ভব ব্যাথা করছে।

অয়ন:আসিফ!

আসিফ আনমনে বাইরে তাকিয়ে ছিল,অয়নের আওয়াজ শুনে দৌড়ে এলো।অয়নকে মাথা চেপে ধরতে দেখে বুঝতে পারলো আবার মাথায় প্রেসার দিয়েছে। চট জলদি ড্রয়ার থেকে একটা মেডিসিন আর পানি এগিয়ে দিলো। তা খেয়ে কিছুটা শান্ত হলো অয়ন।

আসিফ:আপনি ঠিক আছে স্যার?

অয়ন: হ্যাঁ!

আসিফ:আপনাকে মাথায় প্রেসার দিতে বারণ করেছে!ভুলে গেছেন?

অয়ন:আমি যে জানতে চাই আসিফ,কিসের এই আবছা স্মৃতি।বার বার এক ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠে।একটা মেয়ে। যার বাণীতে শুধু একই বুলি,”মিষ্টার ক্যাবলা কান্ত,আপনি শুধুই আমার!” কে এই মেয়ে?কেনো আমি তাকে এই আবছা স্মৃতির মাঝে দেখ?কই আর তো কিছু দেখি না! আর কে এই ক্যাবলা কান্ত?

আসিফ:স্যার আপনি শান্ত হন।কালকে আমাদের বাংলাদেশ ফিরতে হবে।এখন আপনার অবস্থা এমন হলে..

অয়ন:আমি ঠিক আছি।তুমি ডিল যে কনফার্ম সেটা ড্যাড কে জানাও।

আসিফ:ওকে স্যার!

আসিফ বেরিয়ে গেলো।অয়ন চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলো।

ওদিকে
উমা:বাবা!

শাখাওয়াত ইনাম রকিং চেয়ারে বসে নিউজ পড়ছিলেন তখন তার মেয়ের ডাক শুনে ঘুরে তাকালেন।

ইনাম: হোয়াট হ্যাপ্যান্ড প্রিন্সেস?
উমা কিছুনা বলে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো।

ইনাম:কি হয়েছে আমার রাজকন্যাটার?

উমা:কিছু না, ভালো লাগছিলো না।তাই!

ইনামের কোলে মাথা রেখে বসলো উমা।
উমা:বাবা!

ইনাম:বলো!

উমা:অয়ন বদলে গেছে!

ইনাম চমকে উঠলেন!

ইনাম:মানে?

উমা:আগে নিউইয়র্ক থাকতে রোজ আমাকে কল করতো,কিন্তু এখন কানাডায় এসেছ ছয় মাস হতে চললো,আমাকে নিজ থেকে একটা ফোন কল করলো না।ইভেন আমার সাথে যখন ও কথা বলে ,মনে হয় আমি ওর অপরিচিত কেও!

“তেমন কিছু না মামনি” পিছন থেকে কথাটি বলে উঠলেন সৈকত আহমেদ।

উমা:আংকেল?

সৈকত:হুমম,তোমার বাবার সাথে কথা বলতে আসলাম।আসলে অয়নের উপর এখন একটু প্রেসার,তাই ও এরকম করছে।একটু টাইম দেও ঠিক হয়ে যাবে।

উমা: ওকে, বাট আংকেল আমাদের ওয়েডিং কিন্তু বাংলাদেশ হবে!

ইনাম: এখানে তোমার প্রবলেম কি?

উমা:মনি মা ওখানে,আমি চাই আমার বিয়েতে সে থাকুক।

সৈকত:তাহলে তাকে এখানে নিয়ে আসি?

উমা:নো, বাংলাদেশের ওয়েডিং প্ল্যান অত্যন্ত আকর্ষণীয়।তাই আমি ওখানেই যেতে চাই।

ইনাম:কিন্তু…

উমা:তোমাদের রিয়েকশন এমন কেনো?মনে হচ্ছে বাংলাদেশ গেলে অনেক বড় কিছু ঘটে যাবে!

সৈকত:তেমন কিছুই না।আব..কালকে তো ফ্লাইট।সো যাও প্যাকিং করে নেও।

উমা:ওকে!

উমা চলে গেলো।

সৈকত:যদি বাংলাদেশে সব সত্য বেরিয়ে আসে।

ইনাম:আসবে না। ডোন্ট ওয়ারি!

তিশা:বৃষ্টি!

বৃষ্টি:দেখ এখন কাদুনি ওয়ালির মত কাঁদবি না।

তিশা:তুই বাবাকে কেন বললি?

বৃষ্টি:দেখ,তুই আর অর্ক ভাইয়া একে অপরকে ভালোবাসিস।আর কত?আমার কারণে তুই কেন পিছিয়ে থাকবি?

তিশা:কিন্তু যদি সবাই জেনে যায় তুই মিথ্যে বলেছিস তখন ?

বৃষ্টি: তখন এর টা তখন,এখন প্লিজ নো মোর কোয়েশ্চন!

বৃষ্টি তিশার দুই গালে হাত রেখে বলল,

বৃষ্টি:বেশি ভাবিস না।অর্ক ভাইয়া রোজ তোর মুখ ঘুরিয়ে ফেলাতে।আগেই বলেছি,ভাইয়ের মত সম্মান করি তাকে।বোন হয়ে ভাইকে কিভাবে কষ্টে দেখবো?আর তুই?তোকে কি করে ভালোবাসার দহনে পুড়তে দেখবো?তাই বাবাকে তোর আর অর্কের কথা বলে দিয়েছি।এখন নিউ দুলহান,জাস্ট ইনজয় ইউর সাদি!ওকে?

তিশা কিছু না বলে বৃষ্টিকে জড়িয়ে ধরলো।

তিশা:আরে তোকে তো বলাই হয়নি!

বৃষ্টি:কি?

তিশা:ফাইনালি সৈকত আহমেদের সাথে বাবার কানাডার ডিল কনফার্ম।

বৃষ্টি:বাহ!ভালো তো।

তিশা:আচ্ছা আজ আসি!বাই!

তিশা চলে গেলো,বৃষ্টি বাইরে করে দেখলো আকাশে মেঘ করেছে।তিশা গাড়িতে যাবে তাই সমস্যা নেই।আনমনে আকাশে তাকিয়ে আছে,

বৃষ্টি:এরকম এক পড়ন্ত বিকেলে ,আকাশ ভার করেছিলো।সেই মেঘাচ্ছন্ন দিনে তুমি বলেছিলে আমাকে ছেড়ে যাবে না।তাহলে আজ কেনো নেই তুমি মেঘ?আমার হাসির কারণ যে তুমি ছিলে।জানো না? তোমার বৃষ্টির ফোঁটা যে তুমি ছাড়া নিঃস্ব।বড্ড অভিমান হচ্ছে তোমার উপর!কেনো আসছো না মেঘ!প্লিজ এসো!আমি জানি তুমি আসবে।বৃষ্টির কাছে ঠিকই আসবে।ভালোবাসি মেঘ।বড্ড ভালোবাসি তোমায়।
আনমনে সুর তুললো,

উমা:অয়ন তুমি রেডি?

অয়ন:হুমম!

উমা:তো চলো!

বলেই অয়নের বাহু জড়িয়ে ধরলে অয়ন ছাড়িয়ে নিলো।

অয়ন:উমা আমি বার বার বলছি আমাকে এভাবে ধরবে না।

উমা:অয়ন আমরা বিয়ে হবে কয়েকদিন পর!

অয়ন:হবে কিন্তু হয় তো নাই!প্লিজ!

অয়ন এগিয়ে গেলো।উমা ছল ছল নয়নে চেয়ে রইলো।

দুইদিন পর,
অফিস থেকে এসে সোজা নিজের মা বাবার রুমে গেলো অর্ক।বৃষ্টি বুঝলো না কিছু।কারণ অর্ক কখনো এমন করে না। তাও অত গুরুত্ব দিলো না।কালকে ওদের অফিসের ডিল কনফার্ম উপলক্ষে পার্টি আছে।সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কথানুযায়ী আজকে পার্টি ,কিন্তু অর্কের কথা বৃষ্টি ওখানে যেতে পারবে না।
বৃষ্টি:কিন্তু কেনো অর্ক ভাইয়া?

অর্ক:আমি বলেছি তাই!

বৃষ্টি:কিন্তু…

অর্ক: নো কথা,তুমি বাড়িতে থাকবে,আমরা চলে আসবো।

বৃষ্টি বাড়িতেই রয়ে গেলো।আর সবাই বেরিয়ে গেলো।কিন্তু বৃষ্টি কি চুপ চাপ বসে থাকার মেয়ে?সে ঠিকই রেডী হয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলো।অফিসে পৌঁছাবার পর বৃষ্টি অর্কদের খুঁজতে লাগলো।আর পেয়েও গেলো।অর্ক,তিশা আর আফিয়া কি যেনো আলোচনা করছে।

বৃষ্টি: হ্যাল্লো জনগন!

অর্করা চমকে তাকালো।

তিশা:তুই?

বৃষ্টি:আমাকে রেখে মজা করবে আর আমি মেনে নিবো।

অর্ক বৃষ্টির হাত ধরে টেনে বললো
অর্ক:বাড়ি চলো বৃষ্টি!

বৃষ্টি কিছু বলবে তার আগেই একটা মেয়ে এসে আফিয়া কে বললো,”মনি মা,মিট অয়ন!আমার ফিয়ন্সে”

বৃষ্টি মেয়েটির আওয়াজ পেয়ে ওর দিকে ঘুরলো।মেয়েটির দিকে তাকানোর পর যেই না পাশে তাকালো ওর দুনিয়া পুরো ঘুরে গেলো।বৃষ্টি অবাক হয়ে চেয়ে রইলো,

অর্ক:বৃষ্টি!

তিশা:অর্ক!কিছু করো!!

উমা:মনি মা! ও কে?

আফিয়া:আমার মেয়ে!

উমা: ওহ হাই,আমি আয়ুশি উমা!

বৃষ্টির উমার দিকে খেয়াল নেই। ও অয়ন কে দেখতে ব্যাস্ত।

বৃষ্টি অস্ফুট স্বরে বলে উঠলো,”মেঘ!”

#চলমান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here