Selfish – (Part:14 & Last)

0
91

গল্প :- #Selfies
পর্ব :- ১৪ এবং শেষ
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
–হা হা সে তোরা যাই আমাকে বল। আমার তাতে কিছুই যায় আসে না। একটা কথা জানিস কি তোরা ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে everything is fair& love………. যাইহোক আজকে খুব আফসোস লাগছে কারন তোরা আমার হাতে মরবি। একথা বলেই মিরা আর স্বর্নার দিকে দুই হাতে দুইটা রিবালভার দিয়ে মারার জন্য রেডি হয়েছে।
.
.
.
.
এদিকে আমি নীলার মুখে এসব কথা শুনে পুরাই স্তব্ধ হয়ে গেলাম।
আমি এখন কি করবো,, কিছুই মাথায় আসছেনা।
আমি যা দেখেছি আর যা শুনেছি তা কি ঠিক শুনেছি।নাকি ভুল? আমি…আমি কি করবো এখন কিছুই মাথায় আসছে না। শুধু একটাই কথা………
আর এটা ভাবতেই মনের ভিতর আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে,,!! যে আমার জীবনটা এভাবে এলোমেলো করে দিয়েছে তাকে শাস্তি পেতে হবে।
.
.
.
তারপর আমি হাত তালি দিতে দিতে নিশার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম।
(এখনকার নীলা আর আগের নাম নীশা)

–বাহ্ নীশা বাহ্।
কী অসাধারন তোর ভালোবাসা। আমাকে তুই এতটাই ভালোবাসতি যে ভালোবাসার জোরে তুই আমাকে আজ আমার পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে দিলি। আর দুইটা র্নিস্বপাপ মেয়ের কাছে আমাকে অপরাধী বানিয়ে দিলি। সত্যিই তোর ভালোবাসা মহৎ রে। তোর এমন জঘন্য নীচু মনের ভালোবাসা দেখে তোকে স্যালুট করতে মন চাচ্ছ।(আমি)

–কাব্য……কাব্য তুমি আমাদের বাঁচাও(মিরা)

আমি মিরার দিকে তাকিয়ে আবারো নিশার দিকে তাকালাম। নিশা আমাকে দেখে যেন ভুত দেখার মত চমকে উঠলো। তারপর তোতলাতে তোতলাতে বললো…………..

–কাব্য তোমার জ্ঞান ফিরলো কখন।(নিশা)

–অনেক আগেই ফিরেছে। উপর ওয়ালার কি টাইমিং দেখ এতগুলো দিন যাকে অপরাধি ভেবে এসেছি আজ যদি আমার জ্ঞান না ফিরতো তাহলে আমি হয়তো জানতেই পারতাম না যে আসল অপরাধি স্বর্না নয় তুই।
আজ আমার নিজের প্রতিই ঘৃনা আসছে যাকে আমি ভালোবাসতাম তাকে আমি হয়তো কখনো চিনতেই পারি নাই। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও স্বর্না।

(স্বর্না শুধুই আমার দিকে তাকিয়ে আছে)

:- কি অপরাধ করেছিলাম তোর সাথে হ্যাঁ.!
কি অপরাধ করেছিলাম আমি যার কারনে তুই আমার সাথে এত বড় খেলা খেললি।
(চিৎকার করে বললাম কথাটা)

–কি বললি তোর কোন অপরাধ নেই কাব্য?
আচ্ছা তুইকি সব কিছু ভুলে গেছিস? তুই ভুলতে পারলেও আমি পারি নি। সেই ছোট থেকেই আমি তোকে ভালোবেসে আসছি। সেই ছোট থেকে। যখন আমি এটা বুঝতে পেরেছি ভালোবাসা কি,, সেই তখন থেকেই আমি তোকে আমার স্বপ্নের পুরুষ ভেবে কত রঙ্গিন স্বপ্ন দেখেছিলাম। আর তোক কত ভাবে আমার ভালোবাসা বোঝাতেও চেয়েছিলাম। কিন্তু তুই কি করলি আমার ভালোবাসা না বুঝে এই শাঁকচূর্ণী স্বর্নাকে ভালোবাসলি। আর জানিস আমি যখন জানতে পেরেছিলাম তখন কতটা কষ্ট পেয়েছিলাম। না তুই জানিস না। তুই জানবি কি করে? তুই তো তখন ঐ স্বর্নার সাথে সুখের এক রঙ্গিন দুনিয়া তৈরি তে ব্যস্ত ছিলি। জানিস আমি বার বার,, বার বার একটা কথাই দিন রাত ভাবতাম আমি ওর থেকে কোন অংশে কম ছিলাম? যে স্বর্নার কপালে কেন তুই লেখা থাকবি?
আর ওর সুখ আমার সহ্য হতো না। তাই ওকে তোর জীবন থেকে সরানোর জন্য আমি ওর রুপ নেই।
আর তোর লেখাপড়ার ক্ষতি করি। আর ওকে তোর কাছে খারাপ বানাই। আমি ভেবেছিলাম তুই এত কষ্টের ভিতর নিজেকে একা মনে করবি। আর আমি তখন তোর পাশে থাকবো। কিন্তু না তুই সব কিছু ভুলে আবারো নতুন করে মিরাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলি। আর এবার মিরার জীবনা সুখের সাগরে ভাসিয়ে দিলি। কিন্তু এত কিছু করার পরেও আমি কি পেলাম? কিছুই না। শুধু কষ্ট ছাড়া আর কি?
আর আমি কি এতটাই অবহেলার পাত্রী হয়েছি যে আমিই শুধু সারাজীবন কষ্ট করে যাবো।
আর অন্যরা আমার ভাগের সব সুখ লুটে নিয়ে যাবে।নো নেভার। যে সুখ আমি পাই নাই তা ওদের কেও পেতে দিবো না। আজকে ওদের আমি শেষ করে তোর সাথে আমি বিয়ে বসবো। তারপর দুজনে ছোট একটা স্বপ্নের সংসার সাজাবো। যেখানে শুধু তুমি আর আমি আর আমাদের ছোট দুইটা ছেলে মেয়ে থাকবে।
:- এই কাব্য বল না তুমি আমাকে বিয়ে করে আমার স্বপ্ন গুলো পুরন করবে প্লিজ কাব্য বলো না। (নিশা)
.
.
–কিহ্ আমি বিয়ে করবো তোকে। আমার জীবন থাকতে নয়। তোর স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে।(আমি)

–কিহ্ তুই আমাকে বিয়ে করবি না।(নিশা)

–না করবো না।(আমি)

–কাব্য ভালোয় ভালোয় বলছি। আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাও। তা না হলে…(নিশা)

–কি তা না হলে। আমাকে মারবি তো মেরে ফেল (আমি)

–না না তোমাকে মারতে যাবো কোন দুঃখে।
তুমি মরে গেলে আমার কি হবে। তবে হ্যাঁ তুমি জানতে চাইলে না আমি কি করবো। তাহলে এই দেখো……
ঠাস ঠাস করে স্বর্নাকে গুলি করি।(নিশা)

আমি চিৎকার করে………
–স্বর্নাআয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া
বলেই ওর দিকে দৌঁড়াতে ধরলাম।(আমি)

–খবরদার কাব্য একপাও নড়বে না।
যেখানে আছো সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকো। নয়তো তোমার আঁদরের মিরাকেও শেষ করে দিবো।(নিশা)

–নিশা তুই কি পাগল হয়ে গেছিস। তুই কি ভাবে এটা করতে পারলি। একটা বারও কি তুই এটা ভাবলি না স্বর্না মা হতে চলছে।(আমি)

–হ্যাঁ হ্যাঁ আমি পাগল হয়েগেছি। তোমাকে ভালোবেসে।
আর আমার ভালোবাসার পথে সব চেয়ে বড় কাটা ছিলো এই স্বর্না। কারন ও তোমার সন্তানের মা হতে চলেছিলো। ও যত দিন বেঁচে থাকতো তত দিন তোমাকে আমার করে পাবো না। এখন আর থাকলো মিরা,, আর তুমি যদি মিরাকে জীবিত দেখতে চাও তাহলে আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাও কাব্য।
যদি রাজি না হও বুঝতেই পারছো।(নিশা)

–না তুমি…না তুমি ওই ডাইনিকে বিয়ে করতে রাজি হবে না। এতে যদি ও আমারো জীবন নিয়ে নেয় তো নিক। আমি ওকে তোমার পাশে দেখতে পারবো না কাব্য।
(মিরা কাঁদতে কাঁদতে বললো)

–ঐ শাঁকচূর্ণী চুপ একদম চুপ।
বেশি কথা বললে না তোর অবস্থাও তোর বোনের মতো হবে।

(এদিকে স্বর্না মৃত্যুর যন্ত্রনায় ছট ফট করছে। যা আমার সহ্য হচ্ছে না। ওকে যদি হাসপাতালে না নেওয়া হয় তাহলে যে কোন মুহুর্তে স্বর্না মারা যেতে পারে)

:- জান তোমাকে বলছি প্লিজ একটু ভেবে দেখো স্বর্নার পর তুমি যাকে নিজের থেকেও বেশী ভালোবাসো।
সেই মিরারও এমন ভাবে কষ্ট পেতে পেতে মরে যাবে।
আর তুমি তাকি দেখতে পারবে? মিরার সেই ভয়ানক কষ্ট তুমি সহ্য করতে পারবে কাব্য।
(নিশা শয়তানি হাসি দিয়ে বললো)

–কাব্য তুমি আমাদের কথা ভেবো না, আমাদের যা হওয়ার হবে, কিন্তু তুমি নীলাকে বিয়ে করার জন্য জীবনেও রাজী হবে না।

–চুপ একদম চুপ।
বেশি কথা বললে না তোর অবস্থাও তোর বোনের মতো হবে।

(এদিকে স্বর্না মৃত্যুর যন্ত্রনায় ছট ফট করছে। যা আমার সহ্য হচ্ছ হচ্ছে না। এই মুহুর্তে ওকে যদি হাসপাতালে না নেওয়া হয় তাহলে যেকোন মুহুত্যে স্বর্না মারা যেতে পারে)

আর জান তোমাকে বলছি একটু ভেবে দেখো স্বর্নার পর তুমি যাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসো। সেই মিরা এমন ভাবে কষ্ট করে মরে যাবে।
আর এতা তুমি দেখতে পারবে? ওর সেই ভয়ানক কষ্ট তুমি সহ্য করতে পারবে?
(নিশা শয়তানি হাসি দিয়ে বললো)

আমি কি করবো কিছুই মাথায় আসছে না। এখন যদি ওকে বিয়ে করতে রাজি না হয় তাহলে স্বর্না মারা যেতে পারে। সেই সাথে নিশা মিরাএও ক্ষতি করতে পারে।অনেক ভেবে দেখলাম আমি যদি নিশাকে বিয়ে করি তাহলে আমার কাছের দুজন মানুষ তো বেঁচে থাকবে।আর ওরা বেচে থাকলে আমি হাজারো কষ্টের মধ্যেও একটা সুখ খুজে পাবো। তাই আমি নিশাকে বললাম..

–তোকে বিয়ে করতে আমি রাজি আছি। তবে আমার একটা শর্ত আছে।(আমি)

–সত্যি বলছো তুমি আমাকে বিয়ে করবে। আমি স্বপ্ন দেখছি না তো। এই আবার বলো না তুমি আমাকে বিয়ে করতে সত্যি রাজি আছো।(নিশা)

–হ্যা আমি তোমাকে বিয়ে করতে রাজি আছি। তবে আমার একটা শর্ত আছে।(আমি)

–তুমি আমাকে বিয়ে করতে রাজি আছো। আজ আমি খুব খুব খুশি। বলো তোমার কি শর্ত। তোমার যা মন চায় আমি তাই তোমাকে দিতে রাজি আছি।(নিশা)

–আমার শর্ত হলো এই যে তুমি আজ এখন এই মুহুর্তে মিরা এবং স্বর্নাকে ছেরে দিবে। আর আমাদের স্বর্নাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দিবে।(আমি)

(মিরা শুধু আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর কান্না করছে)

এরপর নিশা আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে কি জেন ভাবলো। আর তারপর বলল..

–হ্যাঁ ঠিক আছে তুমি যখন বলছো তখন আমি মিরাকে ছেড়ে দিবো। আর স্বর্নাকেও হাসপাতালে নিয়ে যেতে দিবো। কিন্তু তার আগে তোমাকে এখন এই মুহুর্তে আমাকে বিয়ে করতে হবে।(নিশা)

–নিশা তুই কি পাগল হয়ে গেছিস। এই মুহুর্তে তোকে আমি কি ভাবে বিয়ে করবো। আর এখন যদি তোকে বিয়ে করতে যাই তাহলে কি হতে পারে তুই কি ভেবে দেখেছিস একবার।
একটিবার কি ভেবে দেখেছিস মুখে বিয়ে করবো বলটা যত সহজ বাস্তবে ততটা সহজ নয়। বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজির দরকার। আর কাজির এখানে আসতে অনেক সময় লাগবে।
নিশা প্লিজ তুই একটু বোঝার চেষ্টা কর আমরা বিয়ে পড়েও করতে পারবো। আগে স্বর্নাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দে প্লিজ।(আমি)

–হা হা মিস্টার কাব্য তুমি নিজেকে খুব চালাক ভাবো তাই না। আমি তোমাদের যেতে দিবো আর তুমি আমার সাথেই গেম খেলবে। তা আমি হতে দিতে পারি না। আমি তোমাকে এখনি বিয়ে করবো। আর তার জন্য কাজির কোন দরকার নেই।(নিশা)

–দেখ নিশা পাগলামো করিস না। কাজি ছারা কি ভাবে বিয়ে হতে পারে।(আমি)

–সেটা তোমাকে ভাবতে হবে না। এই নাও এই কাগজে ছোট একটা সিগনেচার করে দাও। তাহলেই হবে।(নিশা)

–কিসের কাগজ এটা(আমি)

–আমাদের বিয়ের কাবিন নামা। এটাতে যত তাড়াতাড়ি তুমি সই করবে। তত তাড়াতাড়ি ওদেরকে আমি ছেরে দিবো।(নিশা)

–তারপর আমি মনের সব দুঃখ কষ্ট রাগকে মনের ভিতর পাথর চাপা দিয়ে নিশার হাত থেকে কাগজ টা নিতে যাবো। তখনি মিরা কাঁদতে কাঁদতে বললো..

–না কাব্য না……
তুমি এটা করতে পারো না। আমি নিজের চোখে তোমার সাথে ঐ বিশ্বাসঘাতকের বিয়ে হতে দেখতে পারবো না।এমন দৃশ্য দেখার আগে তুমি আমাকে মেরে ফেলো।
মেরে ফেল আমাকে প্লিজ।(মিরা)

(আমি শুধুই মিরার দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে মনে মনে বললাম। মিরা তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। এটা করা ছারা তোমাদের বাচানোর ২য় কোন রাস্তা আমার জানা নেই। তবে তুমি এটা মনে রেখো নিশাকে আমি বিয়ে করলেও কোন দিন ও আমার সাথে সংসার করতে পারবে না। কারন তোমাদেরকে এখান থেকে নিরাপদে বের করে দিয়ে। আমি কি করবো তা তোমরা ভাবতেও পারছো না)

তারপর নিশার কাছ থেকে কাগজটা নিয়ে যখনি সিগনেচার করতে যাবো। তখনি একটা ভয়ানক আত্নচিৎকার আমার কানে আসে। যার ফলে আমার অন্তর আত্না পর্যন্ত কেপে ওঠে। আমি ভয়ে ভয়ে পিছনে তাকিয়ে যা দেখলাম তা দেখে আমি যেন পাথর হয়ে গেছি।রএকি দেখছি আমি আমি….

–কাব্য তুই যদি ওই ডাইনি নিশা কে বিয়ে করিস ! তাহলে এই কাচ দিয়ে আমার হাতের রগ কেটে এখানেই মারা যাবো।(মিরা)
(মিরা একটা কাচের টুকরা হাতের উপর দিয়ে বললো কথাটা)

তারপর আমি সাথে সাথেই মিরার কাছে যার আর ওকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু কিছুতেই মানলো না..! আর এদিকে স্বর্না বেহুশ হয়ে পড়ে আছে.
তারপর মিরা যখনই সেই কাচের টুকরো দিয়ে নিজের হাত কাটতে যাবো,,,,
ঠিক তখনই কেউ একজন বল্লো নিশা তোমার খেলা খতম………………
কথাটা শুনেই আমি পিছনে ফিরে অবাক
কারন যে এই কথাটা বললো তাকে দেখেই খুব বেশী অবাক হয়েছি।
কারন কথাটা যে রিয়া বল্লো

(আর আপনারা জানেন রিয়া মিরার বান্ধবী। আর রিয়ার সাথে পুলিশ ও নিয়ে এসেছে)

আর এদিকে নিশা পুলিশের দিকে তাকাতেই আমি তার হাতের বন্দুক টা কেড়ে নিয়ে ফেলে দিলাম
আর পুলিশ এসে নিশা কে ধরে নিয়ে গেলো যাওয়ার আগে নিশা বল্লো

–কাব্য তোকে আমি পেয়েই ছাড়বো(নিশা/নীলা)

–আরে শালি চুপ কর আগেই নিজেই বাঁচ তারপর…

তারপর রিয়াকে আমি বল্লাম…

–আরে রিয়া তুই এসব কি করে জানলি?

–আমি মিরাকে ফলো করেই সব শুনছিলাম ! তারপর পুলিশ কে ফোন করলাম?(রিয়া)

–তোকে কি বলে যে ধন্যবাদ দেই?(আমি)

–আচ্ছা এসব কথা ছাড় আর স্বর্নাকে নিয়ে চল হাসপাতালে..!

তারপর মিরা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো……
–তাড়াতাড়ি স্বর্নাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে…

–হুম..!(একটু খুশি হয়ে)

তারপর মিরাকেও দেখলাম ও খুশি। মিরাকে খুশী দেকে মনে হলো সে আমাকে পেয়ে খুব খুশি
তারপর আমরা সবাই স্বর্নাকে নিয়ে হাসপাতালে চলে গেলাম।
.
.
.
অনেকক্ষন ধরে হাসপাতালে বসে আছি কারো মুখে কোন কথা নাই।

তারপর একটু পর আমি বললাম।
–আমারই সব দোষ স্বর্নার এ অবস্থার জন্য

–কাব্য শুধু নিজেকে দোষি ভেবো না। দেখবে লিমা আপু থুক্কু লিমা সতিন থুক্কু লিমা আপু ঠিকই বাঁচবে….

–হুম তাই যেনো হয় (আমি বললাম)

একটু পর যেখানে স্বর্নার ট্রিটমেন্ট চলছিলো সেখান থেকে একটা ডাক্তার বের হয়ে এসে মুখ কালো করে বললো।

–সরি মিঃ কাব্য। (ডাঃ)

–কি হয়েছি স্বর্নার। (অনেকটা কেঁদে)

–মিস স্বর্নার কিছুই হয়নি তবে?(ডাক্তার)

–তবে কি ডাক্তার সাহেব?

–বাচ্ছাটাকে বাচানো সম্ভব হলো না। পেটে আঘাত পাওয়ার ফলে আমরা বাচ্ছাটাকে বাচাতে পারলাম না।(ডাক্তার)

–ডাক্তার সাহেব আমরা কি স্বর্নার সাথে কথা বলতে পারি।

–হুম অবশ্যই তবে বেশি কথা বলবেন না.!

তারপর মিরা আর আমি স্বর্নার কাছে গেলাম।

স্বর্না আমাদের দেখার সাথে সাথেই।
–কাব্য আমি জানি এখন তুমি আমাকে আরো ঘৃণা করবে! কারন আমি বাচ্চার মা আর তুমি বাবা হতে পারবে না….(স্বর্না)

–আরে পাগলী যা হয়েছে ভুলে যাও। সব নিয়তি
তবে আজকেই আমি তোমাকে আর মিরাকে বিয়ে করবো……
কারন আমি দুজনকেই খুব ভালোবাসি। আর মিরা তুমি কি বলো?(মিরাকে উদ্দেশ্য করে)

(সুপ্রিয় পাঠক/পাঠিকা স্বর্না এবং মিরা আপন বোন না। চাচাতো বোন যেটা মিরার কাছ থেকে স্বর্না সম্পর্কে জানার পর জানলাম)

–হ্যাঁ আমিও রাজি (মিরাও খুশি হয়ে)

–তবে এখানে একটা কথা?(স্বর্না)

–আবার কি স্বর্না? (আমি)

স্বর্না আর কথাটা বলতে পারলো না, কারন রিয়া গিয়ে।
স্বর্নার বাবা মাকে নিয়ে এসেছে।

–মারে তুই ঠিক আছিস তো (স্বর্নার আব্বু আম্মু)

–হুম আব্বু/আম্মু আমি সম্পূর্ণ ঠিক আছি।

তারপর আমি লিমার বাবা মায়ের সাথে বিয়ের কথাবার্তা পাকা করলাম/আর মিরার আব্বু আম্মুর সাথে কথাবার্তা আগে থেকেই মিরা বলে রেখেছেন।
তারপর মিরাও তার আব্বু আম্মুকে ফোন মরে তাদেরও আসতে বললো।
আর একটু পর মিরার আব্বু আম্মুও এলো। এবং তারাও মেয়ের কথা চিন্তা করে বিয়েতে রাজি হলো।
(এরপর সবার মাঝখানে স্বর্না বলে উঠলো)

–আমি চাই আমরা বিয়ে করার পর তোমার মা বাবার কাছে যাবো! কারন ওখানেই তো আমার,, মিরার,,এবং তোমার ঘর।(স্বর্না)

–কিন্তু আমি যাবো না,
কারন আব্বু আম্মু আমাকে ভুল বুঝে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে…..(আমি)

–দেখো কাব্য এবার তোমাকে দেখলে তারা তোমাকে আপন করেই নিবেই,ওরা এখন ভুল বুঝতে পেরেছেন, আর মা বাবার সাথে সন্তানের রাগ মানাই না।(মিরা)

–কিন্তু।(আমি)

–কোন কিন্তু নয়..(মিরা/স্বর্না)
.
.
.
তারপর আর কি। এর কিছুদিন পর স্বর্না সুস্থ হলো । এবং দুই পরিবারের সমন্নয়ে তাদের দুই পরিবার মিলে ধুমধাম করে বিয়ের কাজ সম্পূর্ণ করলো।

(আর প্রিয় পাঠক/পাঠিকা আপনাদের বুঝতে হবে আমার দুইডা বউ আর বউদের একটাই কথা তারা শ্বশুড় বাড়িতে বাসর করবে)

অবশ্য আমার মা বাবাকে ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আগেই এবং তারাও তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তারপর বিয়ে হবার পর রাতে চললাম ট্রেনে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে আর পৌছে গেলাম রাতে মানে একটু রাতেই ধরুন 8 টায়। তারপর বাসার ভিতরে যেয়ে তো আমি অবাক কারন আমাদের বাড়িটা সম্পূর্ণ ভাবে ফুল নিয়ে সাজানো হয়ছে। বাসার ভিতরে মা বাবা আমাকে দেখে এসে জড়িয়ে ধরলো।ভআর আমার কাজিনরা এসে স্বর্না এবং মিরাকে ঘরে নিয়ে গেলো।আর আমি চলে গেলাম ছাদে চাঁদ দেখছতে।
একটুপর কাজিনরা এসে আমাকে জোড় করে বাসর ঘরে ঢুকিয়ে দিলো।
তারপর………..
তারপর স্বর্না এবং মিরক আমার কাছে এসে পায়ে ধরে সালাম করলো তারপর তাদের দুজনকে আমি জড়িয়ে ধরলাম।
এরপর শুরু হলো আমাদের নতুন একটা জীবন ! যেখানে নেই কোন হিংসা।
শুধু আছে সবসময় ভালোবাসা দিয়ে পরিপূর্ণ।
আমার এই জীবনের গল্পটা এখানেই সমাপ্ত….

……………♥সমাপ্ত♥……………

বিঃদ্রঃ আমার ফ্রেন্ড লিষ্টে কিছু কিছু পাঠক/পাঠিকা আছে, যাদের পাঠক বললে ভুল হবে তারা আমার প্রিয়জন……………♥
তারা আমার কলিজার টুকরা একেক টা,,,
তাদের অনুপ্রেরণাই আমার গল্প লিখা,,,
এবং এই গল্পটা আমি আমার সব পাঠক/পাঠিকাদের উৎসর্গ করলাম,,,,
.
#ধন্যবাদ আপনাদেরকে,সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন,আবার দেখা হবে ইনশাআল্লাহ্‌ অন্য কোনো গল্পের মাঝে।
.
(ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here