আমার একটাই তুমি . Part – 14

0
97

গল্প – আমার একটাই তুমি
.
Part – 14
.
writer – ArFin_$uMon
.
.
এরপর আমাকে ভিতরে নিয়ে গিয়ে একেক জন একেক প্রশ্ন করছে? একেক জন মুখে হাত দিয়ে আদর করে নানা রকম কথা বলছে অনেক আদর যত্ন ও করছে কিন্তু বাসায় আসার পর জুলিকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না তখন একটু রুট ভাবে কথা না বললেই পারতাম। জুলিকে খুঁজে বের করে উনার কাছে গিয়ে একবার মাফ চাইতে হবে।
এই দিকে রুমে এসে জুলি মনে মনে..
-খুব রাগ না আমার উপর শুধু একটু ফাইজলামি করার জন্য আমাকে এত কথা বলল আর কথায় বলব না উনার সাথে। আমার-ই ভুল ধারনা আমি উনাকে ভালোবাসি কিন্তু উনি আমাকে বাসে না ইডিয়েট একটা।
না এখানে তো কাউকেই আমি চিনি না তাহলে জুলির কথা জিজ্ঞাস করবো কার কাছে আশেপাশে তো কেউই নাই। ওই তো একটা ছেলে আসছে ওর কাছেই জিজ্ঞাস করি।
আমিঃ- এই যে ভাইয়া এইদিকে আসো?
-হুম বলুন।
আমিঃ- আচ্ছা তোমার নাম কি? আর জুলি তোমার কি হয়?
-আমার নাম ইয়াছিন আহম্মেদ আর জুলি আমার আপু হয়।
আমিঃ- তাহলে তো তুমি জানো তোমার আপু কোথায়?
ইয়াছিনঃ- না আমি জানি না তো?
আমিঃ- আচ্ছা তাহলে তুমি তোমার আপু রুমে নিয়ে চলো আমাকে?
ইয়াছিনঃ- হুম চলুন।
এরপর পিচ্চিটা আমাকে জুলির রুমের কাছে নিয়ে গেল। যাওয়ার সময় জুলির ব্যাপারে কিছু কথা জিজ্ঞাস করেছিলাম ওর কাছে কিন্তু পিচ্চিটা যা যা বলল তার সম্পের্কে আমি একটুও মিল পেলাম না এই সব কথা বলতে বলতে জুলির রুমের কাছে এসে পিচ্চিটা দৌঁড় দিল।
আমি রুমের দরজায় নক করলাম কিন্তু দরজা খোলা আর ভিতর থেকে সাড়াশব্দ পেলাম না তাই বাধ্য হয়ে ভিতরে ডুকলাম ভিতরে ডুকে দেখি রুমে কেউ নেই। আমি রুমের ভিতর পায়চারি করছি একটু পর দেখি উনি বাথরুম থেকে বের হল এর-ই মধ্যে এক অঘটন ঘটে গেল।
বাথরুম থেকে বেড়িয়ে ফ্লোরে পানি বা তেল জাতীয় কিছু ছিল তাতে পা স্লিপ কেটে উনি পড়ে যেতে লাগলে আমি গিয়ে উনাকে ধরলাম। দুইজন দুইজনের চোখের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। একটু পর কারো রুমে আসার শব্দে উনি আমার থেকে উনাকে ছাড়িয়ে নিল।
-জুলি আপু তোমাকে সাগর ভাইয়া ডাকছে?
জুলিঃ- হুম তুই যা আমি আসছি।(ইশারায়)
এই বলে মেয়েটা রুম থেকে বেড়িয়ে গেল আমি জুলিকে কিছু বলতে যাব তার আগেই উনিও রুম থেকে বেড়িয়ে গেল। আমি আর কি করব চুপচাপ সোফায় বসে ফেসবুকিং করছিলাম। একটু পর হঠাৎ জুলির গোঙ্গানির+হালকা হাসির শব্দ শুনা যাচ্ছে। কোথা থেকে শব্দটা আসছে ঠিক বুঝতে পারছি না। এরপর মনে হলো নিচ থেকে শব্দগুলা শুনা যাচ্ছে আমি উঠে বেলকুনিতে গিয়ে দেখি জুলি একটা ছেলের সাথে দাড়িয়ে হেঁসে হেঁসে কি যেন কথা বলতেছে।
একটু আগে যে মেয়েটা আসছিলো
জুলিকে ডাকতে ওই মেয়েটাও আছে ওখানে।
কি কথা বলছে ওরা। ওই ছেলেটার সাথে জুলির কথা বলতে দেখে আমার কিছুটা মেজাজ খারাপ হয়ে হচ্ছে। কি এত কথা বলছে ওর সাথে। একটু পর আমি আমার ধারনাটা পাল্টে ফেললাম হয়তো ওর কোন ভাই হবে।
একটু পর জুলির মামী এসে আমাকে বলল..
মামীঃ- আব্বু খেতে আস কখন থেকে না খেয়ে আছো? যাও ফ্রেস হয়ে খেতে আস।
আমিঃ- আন্টি জুলি কোথায় ও খাবে না এখন?
মামীঃ- জুলি ওর বান্ধবীদের অনেকদিন দেখে না হয়তো কথা বলতে গেছে।
আমিঃ- কিন্তু ওকে তো দেখলাম নিচে একটা ছেলের সাথে কথা বলছে কে ওই ছেলেটা?
মামীঃ- ওর নাম সাগর আমাদের উপরের ফ্লাটে ভাড়া থাকে অনেক ভালো ছেলে। জুলির সাথে অনেক দিন কথা হয় না তাই হয়তো একটু কথা বলছে। তুমি খেতে আস আব্বু?
আমিঃ- জ্বী আন্টি আপনি যান আমি আসছি।
আন্টি চলে যাওয়ার পর আন্টির কথাগুলো আমার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। তাহলে কি জুলি আমাকে মিথ্যা বলল উনি কি সাগর নামে ওই ছেলেটি কে ভালোবাসে না না এটা আমার ভুল ধারনা। না এত কিছু ভেবে লাভ নেই। আগে খাবার খেয়ে আছি তারপর জুলি আসলে উনার কাছ থেকে সবকিছু শুনব।
এরপর খাবার খেয়ে রুমে এসে জুলির জন্য অপেক্ষা করছি কিন্তু এখনো জুলির কোনো খোঁজ নেই। মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে আমার। একবার বেলকুনিতে গিয়ে দেখি নিচে আছে নাকি কিন্তু গিয়ে দেখি উনি ওখানে নেই। কোথায় গেল উনি তাহলে আমি যা মনে মনে ভাবছি তাই ঠিক? এই সব ভাবতে ভাবতে দেখি জুলি রুমে এসে হাজির।
আমিঃ- কি ব্যাপার আপনি এতক্ষন কোথায় ছিলেন?
জুলিঃ- এইতো ফ্রেন্ড এর সাথে একটু গল্প করছিলাম।(ইশারায়)
আমিঃ- ওহ্ তাই বুঝি তা এতক্ষন ধরে ওই ছেলেটার সাথে কি এমন গল্প করলেন আপনি? কে হয় আপনার ওই ছেলেটা?
এরপর উনি আমার কথার উত্তর না দিয়ে খাতায় লেখা শুরু করল প্রতিবারের মতো এবারও লেখা শেষ করে খাতাটা আমার হাতে দিল।
-ওর নাম সাগর আমার ছোটবেলার বন্ধু আমি কেমন আছি? এতদিন কোথায় ছিলাম? আপনার নাম কি? কি করেন এই আর কি শুনছিল।
আমিঃ- তা এইটুক কথা বলতে কি ৪০ মিনিট লাগে।
জুলিঃ- আচ্ছা একটু গল্প করলে কি এমন হয়েছে?(ইশারায়)
আমিঃ- না আপনি এইভাবে গল্প করতে পারেন না। আপনি এইভাবে অন্য ছেলেদের সাথে কথা বললে আমার রাগ হয়।
জুলিঃ- কেন?(ইশারায়)
আমিঃ- কারন আমি আপনাকে ভালো…
জুলিঃ- কি হলো থামলেন কেন? বলুন।(ইশারায়)
আমিঃ- না কিছু না সকালে একটু আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করছিলাম তার জন্য সরি। আর আপনি খেয়েছেন?
জুলিঃ- না আপনি?(ইশারায়)
আমিঃ- হুম খেয়েছি আন্টি জোর করে খায়িয়ে দিছে আপনি খেয়ে আসুন তারপর আপনার শহর টা আমাকে একটু ঘুরে
দেখাবেন?
জুলিঃ- হুম
এই বলে জুলি রুমে থেকে চলে গেল আর মনে মনে ভাবতে লাগল।
তাহলে হয়তো সুমন আমাকে সত্যিই ভালোবাসে আমি-ই ভুল ভাবছিলাম। না আর একবার পরীক্ষা করে দেখতে হবে আজ বিকালে সাগরকেও আমাদের সাথে ঘুরতে নিয়ে যাবো। যদি উনি আমাকে সাগর এর সাথে একটু ক্লোজ ভাবে ঘুরতে দেখে হিংসা বোধ করে তাহলে ভাববো উনি আমাকে ভালোবাসে।
এরপর ৪.৩০ দিকে জুলি রেডি হয়ে রুমে আসল। উনাকে দেখে আমি বললাম..
আমিঃ- কি ব্যাপার আপনি কখন রেডি হলেন আমাকে তো বললেন ও না।
উনি আমার উত্তর না দিয়ে আমার হাতে চিরকুট ধরিয়ে দিলেন তারপর কোথায় যেন চলে গেল। আমি চিরকুট টা খুলে পড়তে লাগলাম।
-আপনি তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে আসুন আমি একটু পর আসছি।
কি আর করার আমি তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে গিয়ে গাড়ির সামনে দাড়িয়ে জুলির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। একটু পর দেখি জুলি আর সেই ছেলেটা আসছে। ওকে জুলির সাথে দেখে আমার মেজাজটা পুরো পুরি খারাপ হয়ে গেল।
গাড়ির কাছে এসে জুলি (ইশারায়) আমাকে গাড়িতে উঠতে বলল। এরপর ছেলেটা আমার সাথে পরিচয় পর্ব শেষ করে করে গাড়ির পিছনের বসতে যাচ্ছিল যেখানে জুলি বসে তার পাশের সিটে। এটা দেখে এবার আমার সত্যি মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আমি একটু রুট ভাবে জুলিকে ডাক দিলাম..
আমিঃ- জুলি আপনি সামনে এসে বসুন।
জুলিঃ- কেন? কি হয়েছে?(ইশারায়)
আমিঃ- এত কিছু জানি না আসতে বলছি আসুন।
এরপর আমার ঝাড়ি খেয়ে উনি আমার পাশে এসে বসল আর আয়নায় আমি দেখলাম সাগর এর মুখটা শুকিয়ে গেল। এটা দেখে আমার অনেক মজা হচ্ছিল কিন্তু আমি মনে মনে যা ভাবছিলাম হলো তার বিপরীত।
আমি ভাবছিলাম উনি আমার সাথে ঘুরতে আসছেন কিন্তু এখন দেখছি ঘুরছে ওই ছেলেটির সাথে আবার ওই ছেলেটির হাতে হাত রেখে। আমার সাথে একদম কথা বলতেছে না। এমন ভাব করছে মনে হচ্ছে আমি এসে ওনাদের প্রেমে বারোটা বাজালাম। আমি উনাদের নিয়ে আসলাম ড্রাইবার হিসাবে তা বললেই চলে। মাঝে মাঝে একবার কথা বললেও তার মধ্য বিরক্তির চাপ প্রকাশ পাচ্ছে। এভাবেই বুকে শত কষ্ট নিয়ে উনাদের সাথে অনেকক্ষণ ঘুরলাম।
সন্ধ্যার দিকে আমরা সবাই বাসায় আসলাম। আমার রাগে তো শরীর জ্বলছে আমি কারো সাথে কথা না বলে রুমে এসে বসে আছি।একটু পর জুলি রুমে এসে আমাকে ইশারায় বলতে লাগল।
জুলিঃ- আমি আপনাকে কিছু বলতে চাই।
আমিঃ- হুম আমিও আপনাকে কিছু বলতে চাই। আপানার সাথে সাগর এর কি সম্পর্ক বলবেন একটু?
জুলিঃ- কি বলছেন আপনি?(ইশারায়)
আমিঃ- আমি যা বলছি ঠিক বলছি আমার-ই ভুল আপনাকে অন্ধ বিশ্বাস করা আপনার মতো ক্যারেকটার লেস মেয়েকে বিশ্বাস করে বড় ভুল করেছি আমি।
জুলিঃ- আমি ক্যারেক্টার লেস?(ইশারায়)
আমিঃ- হুম ক্যারেক্টার লেস বলেই তো আপনি আমাকে ফেলে একটা ছেলের হাত ধরে ঘুরলেন আমি কিছু বুঝি না ভাবছেন? সেদিন বললেন আমি জীবনে কোনদিন রিলেশন করি নি তাহলে ওই ছেলেটা আপনার হাত ধরার অধিকার পায় কেন? আমার সামনেই আজ এতকিছু করলেন আর আমার অজান্তে ওই ছেলে সহ আরো কত ছেলের সাথে কি কি করছেন উপর আল্লাহ জানে।
জুলিঃ- ঠাস্ ঠাস্ ঠাস্
এরপর আমাকে আর কোনো কথার উত্তর না দিয়ে আবার খাতা নিয়ে লিখা শুরু করল লিখা শেষ হলে খাতাটা আমার হাতে দিল..
-তখন থেকে আপনি আমার নামে যা নয় তা বলে যাচ্ছেন। কি ভাবছেন নিজেকে? আমাকে ক্যারেক্টার লেস বলার আগে নিজের ক্যারেক্টার দেখুন। আপনি ও অন্যান্য মানুষের মতো আমাকে নিয়ে কথা বলবেন আমার জানা ছিল। আমি কে হই আপনার যে আমার সম্পর্ক এতকিছু বলছেন?
আমিঃ- সত্যি আমি ভুলে গেয়েছিলাম আমি কে হই আপনার? আমি তো আপনার ফ্রেন্ড হই শুধু। আমার-ই ভুল আপনার সম্পর্কে বেশি ভাবা। আর ভাববো না কথা দিলাম আপনার বন্ধু যখন বন্ধুর মতোই থাকব।
এই বলে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলাম কিন্তু বাসা থেকে আবার বের হতে হলো আন্টি আর জুলির মামাতো বোনেরা আমাকে নিয়ে ওদের এক রিলেটিভ দের বাসায় গেল। জুলি যেন সন্দেহ না করে এই জন্য নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বুকে হাজার কষ্ট নিয়ে ওদের সাথে গেলাম।
.
.
চলবে……………………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here