আমার একটাই তুমি . Part – 15 & end

0
319

গল্প – আমার একটাই তুমি
.
Part – 15 & end
.
writer – ArFin_$umon
.
.
রাত ৯ টার দিকে বাসায় এসে রুমে চলে আসলাম এর মধ্যে জুলি আমার সাথে অনেক কথা বলার চেষ্টা করছে কিন্তু আমি ওকে বলার সুযোগ দেই নি। রুমে এসে কোন কথা না বলে শুয়ে পড়লাম। জুলি উনার মামি জুলির বোন সবাই আমাকে রাতে খাওয়ার জন্য অনুরোধ করল কিন্তু আমি জেদ করে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরেরদিন সকালে ঝিক ঝিক শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। আমি তাড়াতাড়ি উঠে দেখি উনি আমার কানের কাছে নিজের হাত নাড়াচ্ছে আর হাতে থাকে চুড়িগুলো থেকে ওই শব্দ গুলো হচ্ছে। আমার মেজাজ টা পুরোপুরি গরম হয়ে গেল..
আমিঃ- কি হচ্ছে এই গুলো? সবসময় ফাইজলামি না। ফাইজলামি করার ইচ্ছা হলে অন্য কোথাও গিয়ে করবেন আমার সাথে না। অসহ্য!(অনেকটা রুট ভাবে কথা গুলো বললাম)
আমি এইটুক বলে সোজা বাথরুম এ চলে গেলাম। গোসল শেষে বাথরুম থেকে বেড়িয়ে এসে দেখি উনি শাড়ি পড়ে রেডি। আমি আর কিছু বললাম না আমিও ড্রেস পড়ে বাইরে বেড়িয়ে পড়লাম। সামনে দেখি আন্টি আর উনার মেয়ে দাড়িয়ে আছে।
মামীঃ- কি ব্যাপার আব্বু কি হয়েছে তোমার? কাল তো ওখান থেকে ঘুড়ে এসেই শুয়ে পড়লে আর কাল রাত থেকে না খেয়ে আছো আমাদের কোন কথায় কষ্ট পেয়েছ কি?
আন্টির কথা শুনে আমি কিছুক্ষন চুপ করে থেকে ভাবলাম না কাল রাতে উনাদের সাথে অনেকটাই খারাপ ব্যবহার করছি এখন ও যদি রাগ দেখাই তাহলে উনাদের আবার ছোট করব আর উনারা জুলিকে সন্দেহ করবে। একটু আমি হেঁসে বললাম..
আমিঃ- আরে আন্টি কি যে বলেন আমি কেন রাগ করব আসলে তো কাল রাতে একটু মাথা ব্যাথ্যা করছিল তাই শুয়ে পড়ছিলাম কিন্তু আজ আপনার হাতের রান্না খাব অনেক ক্ষুদা লাগছে কিন্তু।
মামীঃ- হুম অবশ্যই খাবে। আমি খাবার রেডি করছি তুমি এসো। জুলি তুই ও খেতে আয় আম্মু।
এরপর সকালের খাবার খেয়ে ওনাদের সবাইকে বিদায় জানিয়ে আমরা আমাদের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। গাড়ি ড্রাইভ করছি আর মনে মনে ভাবছি না এবার থেকে জুলির জন্য আর বেশি বেশি ভাববো না। উনার একটা চাকুরি জোগাড় করে দেব আর আব্বু আম্মুকে আজ গিয়ে সব সত্যি বলে দিব।
ঠিক এমন সময়ই জুলি আমার হাতের উপর হাতটা রাখল আমি একটানে হাতটা সরিয়ে নিয়ে নিজের মতো ড্রাইভ করতে লাগলাম। আর অন্যদিকে জুলি মনে মনে ভাবছে এত রাগ উনার আমার উপর। আমি যে কেন উনাকে চড় মারতে গেলাম আমার ভুলের জন্য আজ এমনটা হলো। ধুর আর ভাল্লাগে না বাসায় গিয়ে উনার রাগ আমি যেভাবেই হোক ভাঙ্গাব।
বিকালের দিকে বাসায় এসে আমাদের দেখে আম্মু নিচে চলে আসল।
এরপর জুলিকে নিয়ে উপরে চলে আসল। এমন আদর করতেছেন যেন নিজের আপন বৌমা। আমি মনে মনে বললাম এত কিছু ভেবো না আম্মু উনি আমার কেউই হয় না যেদিন সত্যি টা জানবে সেদিন যে কি করবে আমাকে আল্লাহ জানে।
আমি রুমে এসে দেখি উনি ড্রেস চেন্জই করছে আমি আব্বু আম্মুর সাথে কথা বলে রুমে এসে দেখি উনি আমার দিকে একটা চিরকুট দিল আমি সাথে সাথে ছিড়ে ফেললাম। আর বাথরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে একটু পর আবার বাইরের দিকে রওনা হলাম।
যাওয়ার আগে জুলি আমার হাত ধরে আমাকে আটকানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু আমি জোর করে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলাম। বেড়িয়ে যাওয়ার আগে উনার কান্নামাখা মূখটা বার বার ভেসে আসছিল। আমি উনার কথা বাদ দিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারতে চলে গেলাম।
আর এইদিকে জুলির চোখ দিয়ে অজস্র পানি পড়েই চলছে কাল যে কেন রাগের মাথায় উনাকে চড় মারতে গেলাম। না যেভাবেই হোক উনার সাথে আমার কথা বলতে হবে।
রাত ১০ টার দিকে ফ্রেন্ড এর সাথে আড্ডা শেষে বাসার উদ্দেশ্য রওনা হলাম। এখানে মন কিছুটা হালকা হয়েছে। কিছুক্ষন পর বাসায় এসে কলিং বেল বাজাতেই জুলি এসে দরজা খুলে দিল।
মহারানি আমার দেওয়া গিফটগুলো পড়ে সুন্দর করে সেজে আছে আমার জন্য হয়তো আমাকে ইমপ্রেস করার জন্য কিন্তু উনাকে আজ ভালোই লাগছে। না আমার রাগ এত তাড়াতাড়ি কমবে না উনি আমার সাথে কাল অনেক খারাপ ব্যবহার করেছে। আমি উনাকে ফেলে সোজা রুমে চলে আসলাম। একটু পর ফ্রেস হয়ে দেখি টি-টেবিল এর উপর আমার পছন্দের খাবার বিরিয়ানি। আমি তাড়াতাড়ি খেতে বসব ঠিক তখনি জুলির কথা মনে পড়ল উনি রান্না করে নি তো না উনিই রান্না করছে আমি খাব না। এই বলে বারান্দায় গিয়ে দাড়ালাম কিন্তু পেটের মধ্যে যে ইঁদুর দৌঁড়াচ্ছে না খেয়েই নিই খাওয়ার উপর রাগ করে আর কি হবে। আর এই দিকে জুলি পর্দার আড়াল থেকে আমার কার্যকলাপ দেখেছে আর মিটমিট করে হাসছে।
আমি খাবার খেয়ে হাত ধুতে যাব ঠিক তখনি উনি আমার সামনে এসে দাড়াল আর ইশারায় বলল..
জুলিঃ- কেমন লাগল আমার হাতের বিরিয়ানি রান্না?
আমিঃ- জঘন্য। একদমই ভালো না।
জুলিঃ- তাই তো পুরো প্লেট খালি।(ইশারায়)
আমিঃ- আপনার সাথে আমার কথা বলতে ভালো লাগছে না। এই বলে জুলিকে পাশ কেটে বেড়িয়ে গেলাম।
এরপর ১২ টা অবদি ল্যাপটপে বসে অফিসের কিছু কাজ করে তারপর শুয়ে পড়লাম। এতক্ষন ধরে জুলি আমার সাথে কথা বলার অনেক চেষ্টা করেছে আমিই বার বার উনাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি। সারারাত উনি বিছানায় শুয়ে শুয়ে কান্না করছিলো আমার খুব মায়া হচ্ছিল কিন্তু উনাকে….না
জুলি কষ্ট পেতে দেখে আমার ভালো লাগছে না কাল সকালে এই মান অভিমান এর পালা মিটাতে হবে এই সব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ছি খেয়াল নেই। পরেরদিন সকালে এলার্ম এর শব্দে ঘুম ভাঙ্গল। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে দেখি জুলি বিছানায় নেই হয়তো রান্নাঘরে আছে একটু পর বাথরুম এ যাওয়ার সময় হঠাৎ চোখ বিছানার চাদর এর উপর গেল সেখানে একটা চিরকুট রাখা আছে। আমি সেটা হাতে নিয়ে খুলে পড়া শুরু করলাম…
-আপনি চিরকুট টা পড়বেন কিনা না বা আগের মতো হয়তো ছিড়ে ফেলবেন কিন্তু বিশ্বাস করেন আমি আপনাকে ইচ্ছা করে চড় মারতে চাইনি। দুপুরে যখন আপনি আমাকে সাগরের এর সাথে কথা বলার জন্য রাগ করলেন তখনই আমার মনে হলো আপনি আমাকে ভালোবাসেন। তাই আমিও একটু পরীক্ষা করলাম আপনি ভালোবাসেন কিনা তাই তো সেদিন সাগরকে আমাদের সাথে নিলাম। কিন্তু আপনি আমাকে ভুল বুঝলেন হয়তো নিয়তি আমাদের এক হতে দিবে না তাইতো আজ এমনটা হলো। আমার মনে আপনি সারাজীবন-ই থাকবেন। ভালোবাসা কি জিনিস সেটা আপনি আমাকে শিখিয়েছেন এই ২ মাস আপনি আমাকে নতুন জীবন দিয়েছেন কিন্তু এই মিথ্যা সম্পর্কে থেকে লাভ কি তাই আমি আজ চলে যাচ্ছি কোথায় যাচ্ছি আমি নিজেই জানি না হয়তো নিয়তিতে লেখা থাকলে আমাদের আবার দেখা হবে। কোন ভুল করলে ক্ষমা করে দিয়েন। ভালো থাকবেন।
-ইতি জুলি।
চিরকুট টি পড়ে যেন আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। না কিছুতেই হতে পারে না জুলি শুধু আমার ওকে আমি কিছুতেই হারাতে পারব না ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ৭ টা বাজে তাহলে উনি বেশি দুর যেতে পারি নি যেভাবেই হোক জুলিকে আমাকে খুঁজে বের করতে হবে। একটা শার্ট গাই দিয়ে নিচে চলে গাড়ি বের করে দাড়োয়ানকে জিজ্ঞাস করলাম জুলিকে দেখছে কিনা উনি বললেন ভাইয়া ভাবি ১০ মিনিট আগেই বাসা থেকে বের হলো। আমি আর দেড়ি না করে বেড়িয়ে পড়লাম।
আর এইদিকে জুলি একা রাস্তা দিয়ে হেটে চলছে এখন ও রাস্তায় কেউ নেই। সারারাত কান্না করে চোখ ২টা ফুলে গেছে। কিছু লোক তাকিয়ে তাকিয়ে জুলিকে দেখে সমালোচনা শুরু করছে। নতুন শহর কিছুই চেনে না কোথায় যাবে কিছুই বুঝতে পারছে না জুলি। ঠিক তখনি একজন পিছন থেকে জুলির হাত শক্ত করে চেপে ধরল জুলি পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে ওর চাচা।
চাচাঃ- কিরে সেইদিন আমাদের মুখে চুনকালি দিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে গেলি দিছে তো ছেলেটা লাথি মেরে বাসা থেকে বের করে। আজ কি হবে তোর চল আগে বাসায় তারপর তোর ব্যবস্থা করছি।
এরপর জুলিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ওকে টেনে হিচঁড়ে বাসায় নিয়ে গেল উনার চাচা।
আর এইদিকে পাগলের মতো খুঁজে চলছি আমি সব জায়গা না পেয়ে হতাশ হয়ে রাস্তার মাঝে গাড়ি থামিয়ে দাড়িয়ে আছি। একটু পর হঠাৎ মনে পড়ল জুলি ওর চাচার বাসায় যাই নি তো আবার। না আমাকে যেতে হবে ওর চাচার ঠিকানা আমি জানি জুলি আমাকে বলেছিল আমি আর কোন কথা না বলে উনাদের বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। কিছুদুর যাওয়ার পর জুলির চাচার বাসায় পৌঁছে গেলাম।
কিন্তু গিয়ে দেখি ওখানে বিয়ের আয়োজন গেইট বাঁধা বাসার সামনে মোট কথা বাড়িতে অনেক লোকজন। আমি তাড়াতাড়ি বাসার ভিতর ডুকলাম গিয়ে দেখি জুলিকে বউ সাজিয়ে বসিয়ে রাখছে। আমাকে দেখে জুলি দৌঁড়ে আমার কাছে চলে আসল আমি উনার হাত ধরে বাসা থেকে বেড়িয়ে যাব ঠিক তখনি জুলির চাচা আমাদের সামনে এসে বাঁধা দিল।
চাচাঃ- তোমার সাহস তো কম না আমার বাসায় এসে আমার মেয়ের হাত ধরে বেড়িয়ে যাচ্ছো।তোমাকে আমি পুলিশে দিব।
আমিঃ- আপনার সাহস দেখে আমি অবাক হচ্ছি আমার বউ কে আপনি জোর করে নিয়ে আসছেন আমি আপনাকে পুলিশে দিব আপনি প্লিজ সামনে থেকে সরে যান না হলে কিন্তু?
চাচাঃ- না হলে কি করবি তুই।
আমি জুলির হাতটা ছেড়ে উনাকে কলার ধরে নাক বরাবর দিলাম এক ঘুষি। তারপর ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সোজা জুলিকে নিয়ে গাড়িতে উঠলাম। পিছন থেকে অনেক লোকজন আমাদের ধরতে আসছিল তার আগেই আমরা পগাড়পার।
এরপর সারারাস্তা দুইজন চুপচাপ বসে আছি। বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। একটি ফাকা রাস্তার মাঝে গাড়িটা দাড় করলাম। জুলি আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমিও উনার দিকে তাকিয়ে আছি। এরপর আস্তে করে উনার একটা হাত আমি ধরলাম কিন্তু উনি সাথে সাথে আমার হাত ছাড়িয়ে নিল আর গাড়ি থেকে নেমে বৃষ্টির মধ্যে দাড়িয়ে আছে আমিও একটু পর নেমে উনার পিছনে গিয়ে আবার ও উনার হাত ধরলাম।
এবারও উনি চলে যাচ্ছিলো কিন্তু এইবার একটানে আমি উনাকে আমার কাছে নিয়ে আসলাম আর জুলির চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম..
আমিঃ- খুব রাগ না এই আমাকে ভালোবাসো না.. যে আমাকে একা রেখে চলে গেলে।
জুলিঃ- এত আবেগ আমার লাগবে না।(ইশারায়)
আমিঃ- এখনো রাগ করে থাকবা তুমি?
জুলিঃ- (নিশ্চুপ)
আমিঃ- I really love you julii
জুলিঃ- (নিশ্চুপ)।(মুখ এখনো অন্যদিকে ঘুড়িয়ে আছে)
আমিঃ- বিশ্বাস করো আমি তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসি
জুলিঃ- বিশ্বাস করলাম না তোমার কথা।(ইশারায়)
আমিঃ- কেন? আমি আবার কি করলাম।
জুলিঃ- ভালোবাসলে আমাকে পুরো একদিন কষ্ট দিতে না।
আমিঃ- ও তাহলে কষ্ট দিয়েছে পুরোএকদিন। এখন পুরো একদিন আদর করে দিলে রাগ ভাঙ্গবে তো।
জুলিঃ- ফাজিল একটা।
এই বলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যেতে লাগলো ঠিক তখনি আমি পিছন থেকে একটানে জুলিকে আমার কাছে নিয়ে জরিয়ে ধরলাম একটুপর ওর ঠোঁটে একটা
ভালোবাসার পরশ এঁকে দিয়ে বললাম..
আমিঃ- এবার আমাকে মাফ করা যাবে কি?
জুলিঃ- হা হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
তখনি আকাশে জোরে একটা বিদ্যুৎ চমকালো। জুলি সাথে সাথে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আমিও ওকে আমার বুকে শক্ত করে চেপে ধরে রাখলাম। বাইরে আরো জোরে বৃষ্টি শুরু হলো আমাদের ভালোবাসাও আজ পূর্নতা লাভ করল।
.
.
(সমাপ্ত)


★[বেঁচে থাকুক এদের ভালোবাসা আর পুরো গল্পটি একসাথে কেমন লাগল অবশ্যই ঘটনামূলক মন্তব্য করে জানাতে ভুলবেন না]★

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here