আমার একটাই তুমি . Part – 7

0
178

গল্প – আমার একটাই তুমি
.
Part – 7
.
writer – ArFin_$umon
.
.
পরেরদিন সকালে এর্লাম এর শব্দে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। কিন্তু আজ উঠে দেখি উনি এখনও উঠে নি আমি আর ডাক দিলাম না। অফিসের দেড়ি হয়ে যাচ্ছে বলে উনার জন্য একটা চিরকুট লিখে মাথার পাশে রেখে অফিসে চলে গেলাম।
এরপর অফিসে এসে একটু কাজ করে আবার সব কাজ বন্ধ করে দিলাম। জুলির জন্য অনেক খারাপ লাগছে। আমাদের সমাজ যে এতটা নোংরা কি আর বলবো এরা শুধু চেহারায় বোঝে। একটা মেয়ের মন না। একটু পর ভাবলাম জুলি যদি কথা বলতে পারতো তাহলে অনেক ভালো লাগত কিন্তু এমন কোন ডাক্তার আছে কি যে একটা বোবা মানুষকে ঠিক করে দিতে পারবে। এইসব ভাবতে ভাবতে দেখি আম্মুর ফোন আমি সাথে সাথে ফোনটা রিসির্ভ করলাম। ওইপাশ থেকে আম্মু বলল..
আম্মুঃ- হ্যালো সুমন! কোথায় রে তুই এখন? বাসায় আসতে কি দেড়ি হবে তোর?
আমিঃ- হুম আম্মু একটু দেড়ি হবে কিন্তু কেন?
আম্মুঃ- দেখ না বাবা কাল রাত থেকে মেয়েটা না খেয়ে বসে আছে। তুই একটু বোঝালে হয়তো খাবে।
আমিঃ- না আম্মু কাউকে কিছু করা লাগবে না ও নিজেই উঠে খাবে আজকে।
আম্মুঃ- তুই এতটা সিওর হয়ে কিভাবে বলছিস।
আমিঃ- না আম্মু আমার মন বলছে ও আর একটু পর উঠে সবার সামনে আসবে আর ভাত ও খাবে। এখন আমি রাখছি আর যদি না খায় আমি বাসায় এসে দেখছি।
এই বলে আমি ফোনটা কেটে দিলাম। আর এই দিকে জুলি ঘুম থেকে উঠে দেখল ঘড়িতে দুপুর ১ টা বাজে আর এই দিকে পেটের মধ্যে ইঁদুর দৌঁড়াচ্ছে। হঠাৎ কাল রাতের কথা মনে পড়ল জুলির…
-সুমন কেও রুমে দেখছি না কাল রাতে আমার ব্যবহারে মনে হয় উনি অনেক কষ্ট পেয়েছেন না এইরকম করা ঠিক হলো না কাল রাতে উনি আমার সাথে অনেক কথা বলার চেষ্টা করছিলো কিন্তু আমি বার বার উনাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি এখন নিজের কাছে অনেক খারাপ লাগছে না আজ রাতে উনাকে সরি বলতে হবে।
এই বলে বিছানা থেকে উঠতে যাবে ঠিক তখনি খাটের পাশে রাখা টেবিল এর দিকে নজর গেল জুলির। ওখানে কিছু কাট গোলাপ ফুলের ডিজাইন এর প্লাস্টিক এর খোপার কাঁটা, ক্লিপ রাখা আর তার পাশে একটা চিরকুট। একটু পর হাত বাড়িয়ে চিরকুট টি হাতে নিল। তারপর খুলল..
-জানি হয়তো কালকে আন্টিদের ব্যবহারে আপনার অনেক খারাপ লেগেছে কিন্তু বিশ্বাস করুন আপনার যতটুকু কষ্ট লেগেছে ঠিক তেমনি আমার ও লেগেছে। অফিস থেকে বাসায় এসে শুধু আপনার সাথেই একটু কথা বলি কিন্তু কাল আপনি নিজেই আমাকে ফিরিয়ে দিলেন।
এরজন্য আমি একটুও কষ্ট পায়নি। আপানার জায়গায় যে কেউ থাকলে এমন ঐ করতো। ইভেন আমি থাকলেও। কাল থেকে কিছু খান নি এখনও প্লিজ খেয়ে নিন আর আপনার জন্য টেবিলে কিছু কাট গোলাপ ফুলের এর খোঁপার কাঁটা, ক্লিপ আছে। খোলা চুলে ওইগুলো পড়লে আপনাকে আরো সুন্দর দেখাবে।
-উনি আমার জন্য এতকিছু ভাবেন। তাহলে উনি কি আমাকে ভালোবাসেন? না না আমি হয়তো ভুল ভাবছি। আর উনি তো সেইদিন আমাকে বললো যে ওনি শুধু আমাকে ফ্রেন্ড ভাবেন।
একটু পর জুলি উঠে গোসল শেষ করে সুমন এর কথা মতো সাজুগূজু করল। তারপর রুম থেকে বেড়িয়ে রান্না ঘড়ে চলে গেল। গিয়ে দেখে আম্মু সবজি কাটছে। উনাকে দেখে আম্মু সবজি কাটা বাঁধ দিয়ে বলল..
আম্মুঃ- বাহ্ আমার বউটা কে তো অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
আম্মুর কথা শুনে জুলির মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেল। একটু পর উনি ইশারায় বলল…
জুলিঃ- আম্মু আমি সবজি গুলো কেটে দিই।
আম্মুঃ- এই একদম না কাল রাতে তুমি কিছুই খাও নি। এইভাবে না খেয়ে থাকলে শরীর খারাপ হবে তো। চুপচাপ ওখানে গিয়ে বসো আমি খাবার বেড়ে আনছি।
এরপর আর জুলি কোন কথা না বলে টেবিল থেকে একটা চেয়ার টেনে বসল। একটু পর আম্মু ভাতের প্লেট এনে জুলিকে খায়িয়ে দিল।
এরপর আম্মুকে ইশারায় বলল..
জুলিঃ- সুমন খেয়েছে কিনা?
২-৩ বার ইশারা করে বলার পর আম্মু বুঝল।
তারপর বলল..
আম্মুঃ- ওর কথা বাদ দেও তো ওর কি ঠিক আছে নাকি কোন কিছু? কাল রাত থেকে না খেয়ে আছে সকালে এত করে বললাম খেয়ে যেতে কিন্তু রাগ করে চলে গেল।
এরপর জুলি অর্ধেক খেয়ে সোজা রুমে চলে আসল। তারপর একটা কাগজ নিয়ে রান্নাঘরে গেল। ওকে দেখে আম্মু বলল..
আম্মুঃ- কি ব্যাপার আম্মু এই ভাবে অর্ধেক খেয়ে দৌঁড় মারলে কেন?
এরপর জুলি খাতায় লিখে বলল..
জুলিঃ- আসলে আম্মু একটু পেটে ব্যাথা করছে তাই সুমন আসলে একবারে খাব।
আম্মুঃ- হুম বুঝতে পারছি কোন ব্যাথা হচ্ছে এ হচ্ছে মনের ব্যাথা।
তারপর জুলি আর কিছু না বলে রান্নাঘর থেকে চলে গেল। আর মনে মনে অনুতপ্ত হতে থাকল আমার জন্য উনি না খেয়ে অফিসে চলে গেল। এরপর সবাই বাসায় এসে এক এক করে দুপুরের খাবার খেয়ে নিল। কিন্তু জুলি বারান্দায় দাড়িয়ে সুমন এর জন্য অপেক্ষা করছে। আবার রুমে গিয়ে এই পাশ থেকে ওই পাশ পায়চারি করে বেড়াচ্ছে।
এইভাবে সন্ধ্যা ৭টা বেজে গেল ঠিক তখনই কলিং বেল এ কে যেন চাপ দিল। জুলি দৌঁড়ে গিয়ে দরজা খুলল কিন্তু দরজা খোলার পর যা দেখল তার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না কারন কালকে যারা জুলিকে অপমান করছে তারা আজকেও এখানে এসেছে। জুলি উনাদের ইশারায় ভেতরে আসতে বলল…
আম্মুঃ- জুলি কে এসেছে রে?
ভাবিঃ- আমরা আন্টি আপনার বৌমাকে আরেকটু দেখতে ইচ্ছা হলো তাই চলে আসলাম। আর একটু গল্প করতেও ইচ্ছা হচ্ছে তাই।
উনাদের দেখে
আম্মুর ও মেজাজ খারাপ হয়ে গেল তারপর
আম্মু ও শুনিয়ে শুনিয়ে বলল..
আম্মুঃ- কেন গো কাল তো অনেক কথা বললে আবার আজকে ওকে দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে কেন?
এরপর ভাবি কি যেন বলতে যাবে ঠিক তখনি আমি কলিং বেল চাপ দিলাম। এবার জুলি বুঝল এটা সুমন এরপর জুলি দৌঁড়ে গিয়ে দরজা খুলল।ঠিক তখন-ই আন্টি বলল..
আন্টিঃ- বাব্বাহ্ বোবা হলে কি হয়েছে সাজুগুজু আছে আবার।
ভাবিঃ- সাজু গুজু তো করবেই যতই হোক সুমনের বোবা বউ সুমনের জন্য তো সাজবেই।
এটি শুনে আমার মেজাজ প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেল। আমি তাড়াতাড়ি করে বসার রুমে গেলাম তারপর বললাম…
আমিঃ- আচ্ছা আন্টি আপনি যে প্রতিদিন আমার বাসায় এসে আমার বউকে বোবা বলছেন আবার আমার বউ সম্পর্কে সমালোচনা করছেন। আচ্ছা আমার বাবা মা না আমার বউ কে পরিচয় দিতে পারছে না। কিন্তু আপনারা তো খুব পারছেন আপনার ছেলের বউ কে পরিচয় দিতে তাই না।
আন্টিঃ- মানে কি বলতে চাচ্ছ তুমি?
আমিঃ- আমি যেটা বলছি সেটা আপনি ঠিকই বুঝতে পারছেন। আপনার ছেলে তো খুব ভালো তাই না! এত ভালো যে অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে একবার এমন ভাবে ফাঁসছে যে আর উঠতে পারল না।
ভাবিঃ- সুমন কি বলতে চাচ্ছো তুমি?
আমিঃ- বলতে চাচ্ছি যে আপনার এই স্বামী একটা লম্পট।
ভাবিঃ- সুমন মুখ সামলে কথা বলবে কিন্তু।
আমিঃ- তাই নাকি তাহলে আপনি আপনার বর্তমান স্বামীর নাম এ ১বছর আগে থানায় রিপোর্ট করছিলেন কেন? কারন আপনার স্বামী আপনাকে ভোগ করে ছেড়ে দিয়েছিলো আর পরিশেষে যখন সবাই জেনে যাবে সেই ভয়ে তখন বিয়ে করে নিলেন। আর একমাস পর বললেন বাবু হবে আসলে কি এই পিচ্চিটা বৈধ না অবৈধ?
আম্মুঃ- এ কি শুনছি ভাবি সব কি সত্যি নাকি।
-সবাই নিশ্চুপ।
আমিঃ- আরে আম্মু ওদের কাছে কি শুনবে ওদের কি বলার মুখ আছে আদৌ?
এরপর ওনারা আর কথা না বলে চুপচাপ বাসা থেকে বেড়িয়ে গেল। তারপর আমি দরজা লাগিয়ে রুমে চলে আসলাম।
এসে দেখি জুলি আমার সামনে দাড়িয়ে আছে। উনাকে আজ অপরুপ লাগছে আর আমার দেওয়া ওই গিফটগুলো পড়ছে।
আমিঃ- বাহ্ আপনাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে।
আমার কথা শুনে জুলি হাসলো তারপর ইশারায় বলল…থামুন।
জুলিঃ- যান ফ্রেস হয়ে আসুন আমি খাবার দিচ্ছি।(ইশারায়)
এরপর উনি আমাকে জোর করে ঠেলতে ঠেলতে বাথরুম এ পাঠিয়ে দিল। তারপর আমি ফ্রেস হয়ে রুমে আসলাম। একটু পর জুলি রুমে ভাতের প্লেট নিয়ে এসে বলল..
জুলিঃ- খেয়ে নিন।(ইশারায়)
আমিঃ- আপনি খেয়েছেন ?
উনি মাথা নেড়ে না উত্তর দিল এরপর আমি বললাম এদিকে আসুন। তারপর জুলিকে খায়িয়ে দিলাম। উনি প্রথম প্রথম না করছিলো পড়ে যখন বললাম আমিও খাব না তারপর উনি খেয়ে নিল।
.
.
চলবে……………………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here