আমার একটাই তুমি . Part – 8

0
110

গল্প – আমার একটাই তুমি
.
Part – 8
.
writer – ArFin_$umon
.
.
এরপর রাতের খাওয়া শেষে আমি ল্যাপটপে বসে অফিসের কাজ করছিলাম একটু পর জুলি ২ মগ কফি নিয়ে এসে আমার হাতে ১ মগ দিল..
আমিঃ- আরে আপনি কিভাবে জানলেন আমি যে এই টাইমে প্রতিদিন কফি খায়।
এরপর উনি একটা কাগজ আমার হাতে দিল..
জুলিঃ- এক ভাবে জানলাম কিন্তু আমার জন্য আপনি সন্ধ্যায় আন্টিদের সাথে খারাপ ব্যবহার করলেন কেন? ওনারা তো আপনার কথায় অনেক কষ্ট পেয়েছেন?
আমিঃ- হুম ঠিকই বলেছি কুত্তার জাতকে বেশি লাই দিতে নেই দিলে আরও পেয়ে বসবে। নিজের বউমা চরিত্রহীন আর আপনাকে আজে বাজে কথা বলেছে তাই তো আমার মাথা গরম হয়ে গেছে।
জুলিঃ- আর এই রকম করবেন না কখনো?(ইশারায়)
আমিঃ- আচ্ছা আপনি কেমন ধরনের ছেলে পছন্দ করেন..??
আমার কথা শুনে জুলি একটু নেড়ে চড়ে বসল।তারপর উনি ইশারায় বলল হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন? আমিঃ- আরে এমনি বলছি বলুন না।
উনি মাথা নিচু করে বসে আছে মনে হয় লজ্জা পেয়েছে।
আমি আবার বললাম..
আমিঃ- কি হলো বলুন।
আমার কথা শুনে ইশারায় আমাকে বলতে চাচ্ছিলো কিন্তু আমি কিছুই বুঝছি না। এরপর উনি খাতায় কি যেন লিখতে বসল লিখা শেষ হলে কাগজটা আমার হাতে দিল তাতে লেখা ছিল..
জুলিঃ- এমন একটা ছেলে যে আমার কষ্ট গুলো বোঝার চেষ্টা করবে আমি না বলার আগেই। আমার পছন্দের জিনিস যে গুলো আমি পছন্দ করি সেগুলো সবসময় কিনে এনে দিবে আমায়। এমন একটা ছেলে যে কোনদিন Smoke বা Drink করবে না বড়দের Respect করবে আর আমাকে অনেক ভালোবাসবে। আর সত্যি কথা বলতে আপনার মতো একটা ছেলে আমি আমার জীবনে চাই।
জুলির কথা গুলো পড়ে আমার সত্যি অনেক হাসি পাচ্ছে। আমাকে এমন ভাবে হাসতে দেখে উনি ইশারার মাধ্যমে বলল..
জুলিঃ- আপনি এইভাবে হাসছেন কেন হুম?
আমিঃ- আপনার কথা শুনে তা আপনার কেন মনে হলো আমার মতো ছেলে চাই। আমার মধ্যে কি এমন দেখলেন।
জুলিঃ- আমি আপনাকে যতদিন ধরে দেখেছি চিনেছি আমার মনে হয় আপনার মধ্যে এই সকল গুনগুলো আছে তাই।(ইশারায়)
আমিঃ- থাক আর ডপ দিতে হবে না আচ্ছা তখন তো খাতায় লিখলেন আপনার পছন্দের জিনিস গুলো। তা আপনার পছন্দের জিনিস কোন গুলো? এরপর আমাকে ইশারায় বোঝাতে যাচ্ছিলো তারপর আবার কি ভেবে খাতায় লেখা শুরু করলো। কিছুক্ষন লেখার পর খাতাটা আবার আমার হাতে দিল..
জুলিঃ- আমার ইচ্ছা খুবই সাধারন। আমি কোন ডায়মন্ড রিং বা দামি শাড়ি চাই চাই না। এক জোড়া কাঁচের চুড়ির সাথে এক জোড়া ম্যাচিং করা কানের দুল আর আপনি যে গুলো কাল আমার জন্য নিয়ে আসছেন ওই রকম জিনিস গুলো আর কোন এক বর্ষার দিনে কদম ফুলের খোঁপা।
আমিঃ- হুম বুঝলাম।
জুলিঃ- কি বুঝলেন আপনি?(ইশারায়)
আমিঃ- পরে বলল এখন অনেক রাত হলো ঘুমিয়ে পড়েন। কাল সকালে
কথা হবে আর কাল আপনাকে নিয়ে ভার্সিটিতে যাবো রেডি হয়ে থাকবেন শুভ রাত্রি।
এই আমি সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম।
পরেরদিন সকালে উঠে দেখি উনি এখনো ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু আমি তো কাল রাতেই বললাম উনাকে নিয়ে ভার্সিটি যাব। ডাক দিব কি জুলিকে? না থাক হয়তো শরীর খারাপ লাগছে তাই শুয়ে আছে এইদিকে আমার অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে। কি করব বুঝতে পারছি না। এক পর্যায়ে জুলিকে ডাক দিলাম কিন্তু ওই পাশ থেকে কোন রেসপন্স আসল না। আমি আবার ও উনাকে ডাক দিলাম..
আমিঃ- এই যে শুনছেন? ৮.৩০ বাজতে যাচ্ছে উঠবেন না? আজ তো আমার সাথে আপনার ভার্সিটি যাওয়ার কথা?
কি ব্যাপার উনি তো এমন না একবার এর বেশি ডাক দেওয়া লাগে না তাহলে আজ কি হলো উনার। শরীর খারাপ নাকি উনার কাছে গিয়ে দেখব। না উনি হয়তো আমাকে খারাপ ভাববে। না থাক আজ না কালই জুলিকে নিয়ে বের হবো। একটু পর আমি অফিসে চলে আসলাম।
আজ অনেক কাজ অফিসে তাই এসেই কাজ বসে গেলাম। সকালের মিটিং এ প্রেজেন্টেশনের পরে আমার কেবিনে এসে বসে আসি। একটু পর হঠাৎ জুলির কথা মনে পড়ল একটু পর মোবাইল বের করে আম্মুকে ফোন দিতে যাব ঠিক তখনি দেখি মোবাইলে ১০ টা মিস কল।
তাহলে আমি যখন মিটিং এ ছিলাম তখন মনে হয় আম্মু কল দিয়েছিলো। আমি তাড়াতাড়ি কল ব্যাক করলাম একটু পর আম্মু ফোন রিসির্ভ করে রাগি গলায় বলল..
আম্মুঃ- এই মোবাইল রেখে কই থাকিস রে তুই কতবার ফোন দিছি আমি তোকে?
আমিঃ- আম্মু আমি মিটিং এ ছিলাম তাই ফোন সাইলেন্ট করা ছিল কিন্তু কি হয়েছে?
আম্মুঃ- তোর কি কোন আক্কেল জ্ঞান নেই না কি? মেয়েটার গা যে জ্বরে পুরে যাচ্ছে? আর তুই সকালে আমাদের কিছু না বলে ওকে এইভাবে ফেলে চলে গেলি। তোর কবে বুদ্ধসুদ্ধি হবে রে?
আমিঃ- আম্মু আজ অফিসের চাপের জন্য খেয়াল করি নি। এখন কি অবস্থা জুলির জ্বর কমেছে কি?
আম্মুঃ- তা খেয়াল করবি কেন? এখন একটু কম আমি পাশে বসে জলপট্টি দিচ্ছি আর পারলে আসার সময় ফার্মেসি থেকে জ্বরের ঔষুধ নিয়ে আছিস বাসায় ঔষুধ ফুরিয়ে গেছে।
আমিঃ- আচ্ছা ঠিক আছে আমি তাড়াতাড়ি আসছি।
এই বলে ফোনটা কেটে দিলাম। ধুর আমার নিজের দোষের জন্য আজ এই হলো আজ কেন যে সকালে জুলিকে একা রেখে চলে আসলাম। না আজ তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে বাসায় যেতে হবে।
এরপর আবার কাজে মন দিলাম। রাত ৯টার দিকে অফিস শেষ হলো। তাড়াতাড়ি বাসার দিকে রওনা দিলাম আসার সময় রাস্তার পাশে একটা ফার্মেসির দোকান থেকে ওষুধ কিনে নিলাম। বাসায় আসতে আসতে ১০ টা বেজে গেল। এরপর বাসায় এসে কলিং বেল বাজাতেই আপু এসে দরজা খুলে
দিল।
এরপর আমি এসে সোজা রুমে চলে আসলাম এসে দেখি উনি এখনো শুয়ে আছে। আমি আর ডাকলাম না একটু ফ্রেস হতে চলে গেলাম। ফ্রেস হয়ে রুমে এসে দেখি উনি বসে আছে।
আমিঃ- কি ব্যাপার আপনি উঠে বসছেন কেন আপনার তো শরীর খারাপ যান শুয়ে থাকুন।
জুলিঃ- ভালো লাগছে না আর আপনি কখন আসলেন?(ইশারায়)
আমিঃ- এই তো একটু আগে কিন্তু আপনার শরীর এর কি অবস্থা এখন আর এই জ্বর টা কিভাবে বাঁধালেন।
জুলিঃ- একটু ভালো খেয়েছেন আপনি? (ইশারায়)
আমিঃ- না খায় নি কিন্তু কেন বলুন তো।
জুলিঃ- তেমন কিছুই না খেয়ে আসুন তারপর বলছি।
এরপর আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই উনি হাত দিয়ে আমাকে থামতে বলল আর গিয়ে খেয়ে আসতে বললো। কি আর করা আমিও বাধ্য ছেলের মতো খেতে চলে গেলাম। একটু পর খাওয়া শেষ করে রুমে চলে আসলাম। আসার পর উনি আমার হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দিল…
জুলিঃ- আসলে গতকাল একটু দেরি করে গোসল করেছিলাম তাই কিন্তু আপনার বাসায় আসতে আজ এত দেরি হলো কেন? আজ কি কাজ ছিলো অনেক?
আমিঃ- হুম ঠিকই ধরেছেন আজ অফিসে অনেক কাজ ছিলো তাই আসতে একটু দেরি হলো আর এবার থেকে আনটাইমে গোসল করবেন না।
জুলিঃ- উনি মাথা নেড়ে বললেন ঠিক আছে।
এরই মধ্যে দেখি আম্মু খাবার নিয়ে রুমে আসল আমিও একটু পর উঠে গিয়ে বারান্দায় দাড়িয়ে আছি।
আম্মু জুলিকে খায়িয়ে দেওয়ার পর আমি রুমে এসে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ১১ টা বাজতে চলছে। একটু পর আমি উনাকে ঔষুধ খায়িয়ে দিলাম। আজ আমার শরীর টা ভালো না তাই আমিও গিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লাম মুহূত্বের মধ্যেই চোখে ঘুম চলে আসলো কিন্তু মাঝ রাতে গোঙ্গানির শব্দে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।
আমি তাড়াতাড়ি উঠে রুমের লাইট জ্বালিয়ে দেখি জুলি শীতে কাঁপছে আর উনার শরীর থেকে চাদর টা সরে গেছে আমি কাছে গিয়ে চাদর টা নিয়ে উনার শরীর এ জ্বরিয়ে দিলাম কিন্তু একটু পর উনি আমার হাত শক্ত করে চাদর এর সাথে চেপে ধরল আর বার বার গোঙ্গানির আওয়াজ ওনার মুখ থেকে বের হচ্ছে। আমি অনেক ছাড়ানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু উনি চাদর এর সাথে আমার হাত শক্ত করে চেপে ধরে আছে এই অবস্থায় উনাকে ফেলে রেখে সোফায় গিয়ে শুয়াটা ঠিক হবে না তাই বাধ্য হয়ে ফ্লোরে বসেই খাটের উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়লাম!!
.
.
চলবে……………………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here