বডিগার্ড থেকে বর . Part – 06

0
112

গল্প – বডিগার্ড থেকে বর
.
Part – 06
.
writer – #ArFin_SuMon (Mr. Romio)
.
.
যে সম্পর্কের ভবিষ্যত নেই সেই সম্পর্কের কোন মূল্য নেই আমার কাছে। তাই বাদ সবকিছু।
ক্লাস রুমে গিয়ে বসছি আমার সিটে,যেটা আমার জন্য রাখা হয়েছে। ঠিক তখনই গুলু চার চোঁখ টা এসে শুরু করলো….
.
রুবিঃ- এই তুমি,অন্য মেয়েদের দিকে তাকাও কেনো? শুধু আমার দিকে তাকিয়ে থাকবে,জানো তোমাকে দেখার জন্য প্রতিদিন আমি অপেক্ষা করি। প্রথম যেদিন তোমাকে দেখছি সেদিন তো গাছের সাথে ধাক্কাও খেলাম। জানো প্রথমে একটু ব্যাথা লাগলো যখন দেখলাম সবাই হাসছে তুমি হাসছো না তখনই আমার সব ব্যাথা কোথায় যেনো চলে গেলো। এই হা করে আছো কেনো?
আমিঃ- তারপর কি হলো?
রুবিঃ- তারপর আর কিছু নাই,,,তুমি শুধু আমার।তোমার জন্য আমি সারা জীবন অপেক্ষা করতে পারবো রমিও।
আমিঃ- আমিও অপেক্ষা করতে পারবো, শুধু তুই না।
রুবিঃ- আমি তোমার জন্য মরতেও রাজি রমিও।
(শালার কপাল,এ মাইয়াগুলো আমারে জ্বালিয়ে মারবে দেখছি। দুই এক জনের নাম জানি,আর কারো নামটাও জানি না সবাই প্রোপজ করতেছে।
শুধু ম্যাডাম ছাড়া।)
কাননঃ- ওই সবাই দূরে গিয়ে মর। ও আমার বডিগার্ড। বডিগার্ড মানে বুঝিস তো। ও আমার পুরো বডি সুরক্ষিত রাখবে। তাই ও শুধুই আমার।
.
শুরু হলো আমারে নিয়ে টানাটানি, কোথায় যাবো আমি। ইয়া মাবুদ এ মাইয়া গুলার বিয়ে হয় না কেনো। কানা,বোবা যে কারো সাথে ওদের বিয়ে দিয়ে দাও তবুও আমারে মুক্তি দাও খোদা।
.
আমিঃ- এই ভাই,আপনাদের ক্লাসের মাইয়া গুলো এত লুইচ্ছা কেনো। সবাই একটা ছেলের পিছনে পড়ে আছে কিছু বলতে পারছেন না আপনারা। আমি চলে যাচ্ছি আপনারা সামলান এদের কে।
.
বাপরে বাপ,, অসহ্য।
ক্লাস থেকে বের হয়ে গাড়িতে বসলাম। এটা সেটা করে সময় কাটিয়ে দিলাম। ক্লাস শেষে বাড়িতে আসলাম। আঙ্কেল এসেছে,যাক একটু বসে কথা বলা যাবে।
.
আঙ্কেলঃ- কেমন আছো রমিও?
আমিঃ- জ্বি, স্যার ভালো।
আঙ্কেলঃ- স্যার বলবা না,আঙ্কেল বলবা।
আমিঃ- আমি আপনার এখানে কাজ করি,আপনি আমার স্যার।
আঙ্কেলঃ- তুমি আমার ছেলের মতো,তুমি আঙ্কেল বলে ডাকবে।
আঙ্কেলঃ- আচ্ছা ঠিক আছে,আপনি কেমন আছেন বলেন?
আঙ্কেলঃ- এই তো আলহামদুলিল্লাহ্। তোমার সময় কেমন কাটছে।
আমিঃ- প্যারাময় জীবন কাটাচ্ছি।(আস্তে করে বলছি)
আঙ্কেলঃ- কিছু বললা?
আমিঃ- না, আঙ্কেল। কিছু বলি নাই।
আঙ্কেলঃ- যাও ফ্রেশ হয়ে এসো, একসাথে খাবো।
আমিঃ- হুম,
.
ফ্রেশ হয়ে খেতে গেলাম। সবাই বসে আছে। একটা চেয়ার খালি আছে,তাও ম্যাডামের পাশে।না,ওটাতে বসা যাবে না। এমনি তে রেগে আছে আমাকে এখানে দেখে আবার যদি পাশে বসি তাহলে তো খবর আছে।
.
আঙ্কেলঃ- রমিও দাড়িয়ে আছো কেনো? বসো।
হাসিবঃ- আরে রমিও ভাই বসো,আমরা সবাই বসে আছি তো।
আমিঃ- না,আমি এখানে ঠিক আছি।
কাননের আম্মুঃ- রমিও বসবে কি করে, জুলি তো একটায় বসছে আরেকটা তে পা দিয়ে আছে।
আমিঃ- আন্টি আমি এখানে ঠিক আছি তো।
আঙ্কেলঃ- না কিছু ঠিক নেই,তুমি এখানে বসবে।
আন্টিঃ- জুলি পা নামিয়ে বসো।
আমিঃ- আন্টি আমি এখানে বসবো না,তাছাড়া আমি একজন কর্মচারী আমাকে মালিকদের সাথে বসে খাওয়া মানায় না। আমি আমার রুমে খাবো।
আঙ্কেলঃ- বেশি কথা বলবা না,যেটা বলছি সেটা করো। জুলির পাশে বসো। আর শুনো তুমি এ বাড়ির কর্মচারী না। আর যেনো না শুনি এমন কথা।
আমিঃ- হুম,
(যাক পা নামালো।)
আঙ্কেলঃ- রমিও আমি আবার চলে যাবো এখন। জুলির খেয়াল রেখো।
আমিঃ- আঙ্কেল আমি আছি তো। আমি সব সামলে নিবো।
আঙ্কেলঃ- তুমি আছো বলে তো এখন আমি নিশ্চিন্ত।
.
খাওয়া শেষ করা পর্যন্ত রাক্ষসীর মতো তাকিয়ে ছিলো মনে হচ্ছে আমাকে একা পেলে মসলা না মাখিয়ে খেয়ে ফেলবে। ম্যাডামের তাকানো দেখে বুঝতে পারছি আমার কপালে খারাপি আছে।
খেয়ে সোজা বিছানায়। দিলাম লম্বা করে ছোট একটা ঘুম। কতক্ষণ ঘুমাইছি জানি না,,,ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে কেনো। ছাদ ফুটো হয়ে গেলো নাকি। তাকিয়ে দেখি ম্যাডাম। না ম্যাডাম আমার রুমে কেনো আসবে। স্বপ্ন দেখছি না তো। চিমটি কেটে দেখি।
না না এটা স্বপ্ন না সত্যি। রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। চোঁখ দিয়ে আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে। হাতে বালতি কেনো? তাহলে কি ম্যাডাম পানি ডেলে দিলো আমার গায়ে। কিন্তু কেনো এমনটা করলো।
.
ম্যাডামঃ- আবুলের মতো তাকিয়ে আছিস কেনো?
আমিঃ- কি করবো..ম্যাডাম?
ম্যাডামঃ- আমি শর্পিং করতে যাবো।
আমিঃ- তো আমি কি করবো,,
ম্যাডামঃ- ঠাসসসসসসসস,কি করবি মানে! তোরে কেনো রাখা হয়েছে জানিস না?
আমিঃ- স্যরি ম্যাডাম, আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। ২ মিনিট সময় দেন।
ম্যাডামঃ- ২ মিনিট থেকে এক সেকেন্ড লেট করলে দেখবি তোরে কি করি।
.
শালার কি কপাল। ঘুমানোর অপরাধেও থাপ্পড় খাচ্ছি। তাড়াতাড়ি করে ফ্রেশ হয়ে এসে রেডি হলাম।
রুম থেকে বের হয়ে দেখি ম্যাডাম সোফায় বসে আছে।
.
আমিঃ- ম্যাডাম চলুন।
ম্যাডামঃ- ১২ সেকেন্ড লেট করে এসেছিস।
আমিঃ- স্যরি ম্যাডাম।
ম্যাডামঃ- ঠাসসসসসসসস, ঠাসসসসসসসস করে ১২ টা থাপ্পড় লাগিয়ে দিলো।
.
১২ সেকেন্ড লেট করায় ১২ টা থাপ্পড় খেতে হলো।হয়তো দুপুরে ওনার পাশে বসে খেয়েছি বলে, ভালোই শাস্তি দিচ্ছে। কোনদিন ভুলেও আর’ টেবিলে বসে খাবো না।
.
৪:৩০ এ বের হইছি আর এখন বাজে ৭ টা ম্যাডামের পিছন পিছন হাটতেছি । একবার এ দোকানে আরেক বার ওই দোকানে ডুকতেছে।এখনো একটা কিছুই নিলো না।
কেউ একজন কে দেখলাম। কে হতে পারে। এইতো আবার দেখলাম। লুকিয়ে গেছে ওই দাড়িয়ে থাকা পুতুলের পাশে। ওকে ধরতে গিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি ম্যাডাম কে মারতে আসছে পিছন থেকে ছুরি নিয়ে। কোন মতে দৌঁড়ে গিয়ে ম্যাডাম কে হালকা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে নিলাম। কোপ টা আমার ডান হাতে লাগলো। সে অবস্থায় ম্যাডাম কে নিয়ে দৌঁড়াচ্ছি। শর্পিং মলের অনেক ভিতরে চলে গিয়েছিলা তাই গাড়ি কাছে যেতে সময় লাগছে।
বাম হাতে ম্যাডাম কে শক্ত করে ধরে রেখে দৌঁড়াচ্ছি। ম্যাডাম চিৎকার করে উঠছে। তাকিয়ে দেখি ম্যাডাম কে ছুরি মেরে দিচ্ছে। টেনে সামনে নিয়ে আসলাম। ছুরিটা আমার বাম হাতে ডুকে গেছে। সামনে মানুষের ভিড়ে যেতে একটু কষ্ট হচ্ছিলো। তখন পিছন থেকে একটা কোপ খেলাম।আর একটু এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাডাম পড়ে গেলো। টেনে তুলে দেখি দাঁড়াতে পারছে না। তাই কোলে তুলে নিয়ে দৌঁড় শুরু করলাম। একটু দৌঁড়ানোর পর আর পারছি না কোলে তুলে রাখতে তাই পিঠে নিয়ে দিলাম দৌঁড়।
.
.
চলবে……………………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here