সিঁদুরশুদ্ধি #নাফিসামুনতাহাপরী #পর্বঃ১৫

0
137

#সিঁদুরশুদ্ধি #নাফিসামুনতাহাপরী #পর্বঃ১৫

.
গাছের আড়াল থেকে শত শত ঘোমটা দেওয়া মহিলা বের হতে লাগলো। তাদের মাঝখানে পিশাচসিদ্ধ এক কাপালিক এসে দৃশ্যমান হয়। তাদের সবার নজর বিদ্যার দিকে। অভিকে নিয়ে তাদের কোন আগ্রহ্য নেই। কিন্তু বিদ্যা যেন তাদের মুখের শিকার।

বিদ্যা কেঁপেই চলছে। দেখ অভি আমাদের পিছনে বলেই বিদ্যা পিছন দিকে না তাকিয়েই ওর হাত দিয়ে ঐ অদ্ভুদ প্রানীগুলোকে দেখিয়ে দেয়।

ধ্যুর পাগলি ওগুলো কিছু না। ওগুলো তোমার মনের ভূল। অন্ধকারে একা থাকার জন্য ভয় পেয়েছ তুমি বলেই অভি বিদ্যাকে একটানে বুকে ভিতর নিল। তারপর বলল,” আমার দিকে তাকাওতো বিদ্যা!”

বিদ্যা ভয়ে ভয়ে অভির দিকে চাইতেই বিশ্ময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছে গেল। এ যে তার অপুদা। এটা কিভাবে সম্ভব! অভির চেহারা অপুদার সাথে কিছুটা মিল আছে। কিন্তু পুরোপুরি না। যেমন অভির আইরিশ অনেকটা গাঢ় নীল। ককেশীয় বংশধরদের মত ওর চোখ নীল বর্ণের। তাছাড়া অভির চেহারা আর চালচলনে উচ্চ আধুনিকতার ছোয়া। কিন্তু অপুদা এখানে আসলো কই থেকে? অপুদা……!

অভি ওর হাত দিয়ে ইশারা করতেই ওর চারদিকে রক্ষা বলয় তৈরি হল। সব কিছু সুরক্ষিত করে অভি বিদ্যাকে বলল,” আমাকে খুব মিস করো বিদ্যা।”

একটু আগে বিদ্যার সাথে কি হয়েছিল, সেগুলো সব কথা যেন বিদ্যা নিমিষেই ভূলে গেল। বিদ্যা নিজে থেকেই অভিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,” আমি তোমাকে খুব মিস করি অপুদা।”

-” কতোটা মিস করো আমায়…!”

অন্নেক অনেক মিস করি বলে কেঁদে উঠলো বিদ্যা। আমাকে ছেড়ে কেন চলে গেলে! আমি তো তোমাকে ভালোয় দেখেছি কিন্তু ঘুম থেকে উঠে দেখি তুমি নেই। আর কোনদিন তোমাকে খুজে পাইনি। কত কেঁদেছি তবুও কেউ তোমাকে আমার কাছে এনে দেয়নি। বিদ্যার দু’চোখ দিয়ে যেন মেঘের গর্জন বিহীন বর্ষা চলছে। বিদ্যা কাঁদতে কাঁদতে বড় একটা ঢোক গিলে বলল,” আমাকে ছেড়ে আর চলে যেওনা অপুদা। এবার চলে গেলে যে আমি মরেই যাব।”

কক্ষনও যাবোনা। আমি কি চলে যাওয়ার জন্য এসেছি নাকি! কত লম্বা সময় পর আমি তোমাকে পেয়েছি বলে অভি বিদ্যার কপালে একটা কিস করতেই অভির মুখ থেকে আলোকরশ্মি বের হয়ে বিদ্যার পুরো শরীরে একমুহুত্ত্বের জন্য আলো জমকালো। তারপর বিদ্যা সেন্সলেস হয়ে অভি বুকে ঢলে পড়ল। ততক্ষনে অভির সুরক্ষা কবজ নষ্ট হয়ে গেছে।

বৃদ্ধা কপালিটা চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো,

-” ওরে তোরা যে আজ মায়ের ভোগের সন্ধান দিয়েছিস। দেখব এবার কত রক্ত পান করতে পারে আমার মা! দেখতে দেখতে কতকাল কেটে গেল। মায়ের আমার আগের ভোগ হজম হয়ে গেছে সেই কবেই। মা আমার বড্ড ক্ষুদার্থ। পশুবলিতে মজা নেই, ফুল আরাধনায়ও তুষ্ট না, নিজের রক্ত বলিতেও মা আমার খুশি নয়। মার যে কন্যা বলি চায়।
একখানা জলজান্ত মানুষকে বলি দিয়ে, তার তাজা গরম রক্ত আর টাটকা নরম মাংস দিয়ে পূজা। আহা মায়ের শ্রেষ্ঠ প্রসাদ মহাপ্রসাদ।”

এখন আবার কিসের অপেক্ষা! যা তোরা ঐ মেয়েটাকে ওর কাছ থেকে ছিনে আন। আর মায়ের পূজার ব্যবস্থা কর। কথাগুলো বৃদ্ধা কাপালি জোড় গলায় বলল। আজ পাতাল ভৈরবের শ্রেষ্ট আরাধনা হবে। যা জলদি গিয়ে ওকে আন।

আজ্ঞে মা বলে সেই ঘোমটা টানা নারীগুলো অভির দিকে অগ্রসর হল।

অভি রুক্ষ মেজাজে চিৎকার করে বলে উঠলো,

” সাবধান, আমাকে চেতিওনা। যদি আমি একবার তোমাদের উপর রুষ্ঠ হই তাহলে জন্মের মত পূজা করা তোমাদে ঘোচাব।”

-“কাপালি বুড়ি অভির কথা শুনে খিট খিট করে হেসে উঠলো। তুই আমাদের আটকাবি? ২৫ বছরের এক সাধারন যুবক, তুই এই কাপালির হাতে প্রান হারাবি!”

-“আমি সাধারনের ভিতর অসাধারন। আমি যেখান থেকে এসেছি সেখানে তোদের মত কত কাপালিকে আমাদের বাসার কুকুরদের রোজ ভোজ হিসাবে দেওয়া হয়। তাই নিজের প্রান বাঁচাতে চাস তো দলবল নিয়ে ফট্ এখান থেকে।”

আমি যেমন তেমন কাপালি নয়। সিদ্ধিপ্রাপ্ত পিশাচ কাপালি। তুই আমার প্রান হরণ করবি! করে দেখানা। আমিও দেখতে চাই তোর কত শক্তি আছে আমার সাথে লড়ার।
কাপালি বিড়বিড় করে কিছু পড়তেই কালো কুচকুচে একটা বেঁটে ধরনের পুরুষ এসে হাজির হল। পুরুষটির
চোখ ও ঠোট লাল টকটকে। সে এসেই মিহি সুক্ষ্ণ কন্ঠে বলে উঠলো, ” আমায় কেন ডেকেছো মা?”

ওরে আমার বোকা পুত্র, সামনে দেখ, তোর জন্য কি প্রস্তুত করে রেখেছি। যা, আগে ওকে ভোগ করবি তারপর ওকে মা ভৈরবীচক্রের মধ্য বলি চড়ানো হবে।
তাছাড়া সয়ং বামদেব বেলেছে, ভোগ আর যোগ একসাথে করতে হয়। তবেই হবে যথার্থ তন্ত্র সাধনা। ওরে আমরা হলাম শক্তির উপাসক। উৎসর্গিত প্রানীর উপর শরীরের পাতনে বামাচার, অস্ত্রের পাতনে বামাচার। যা মহা শক্তির আরাধনায় আদিম অন্ত শক্তির মহা উদ্ভোদন। এতে কোন পাপ নেই। এই তান্ত্রিক সাধনায় বামাচার থাকতে পারে কিন্তু পাপাচার নেই। আর এটাই তোর জন্য, অক্ষয় অমৃত মোক্ষলাভের পথ। এবার তুই সিদ্ধি লাভ করবিই করবি। যা দেখিনি, কাজটা ঝটপট করে ফেল।

-” কাপালির কথা শুনে বেঁটে পুরুষটি বিদ্যার দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকায়। আজ যে শরীর ভোগ আর যোগ দুটোই হবে।”

-“পিপীলিকার পাখা জন্মায়, মরিবার তরে। তোদেরও মরণ ঘনিয়ে আসছে তাই মরার জন্য ছটপট করছিস। বললামনা তুই এবং তোরা আমার কাছে নিতান্তই শিশু।”

কিরে বধুগন দাড়িয়ে আছিস কেন! শুধু মেয়েটাকে কেন! এবার ওইটাকেও ধরে আন। আজ মায়ের পদতলে নরনারী দু’টোই বলি দেওয়া হবে। বৃদ্ধা পিশাচসিদ্ধ কাপালি কথাগুলো বলতেই চারদিকে শঙ্খধ্বনি আর উলুর দেওয়ার শব্দ হতে লাগলো।

শয়তানের মন, সে কখনো ঠিক হবে বলে অভি ওর হাতের তালু প্রসারিত করতেই সেখানে একমুঠো পরিমান জোনাকির আলোর মত জ্বল জ্বল করতে লাগল। অভি সেই আলো পিচ ঢালা রাস্তায় ছড়িয়ে দিতেই, প্রতিটা আলোক বিন্দু এক একটি বড় আকারে কালো কুকুরের পরিনতি হল। যাদের চোখ দিয়ে আগুনের লাভা ঝরে রাস্তায় টপটপ করে পড়ছে। এ এক ভয়ানক দৃশ্য।

চোখের সামনে এত এত অশরী কুকুর দেখে কাপালি ভয় পেয়ে গেল কিন্তু সাহস না হারিয়ে বলল,” আরে ভয় পাচ্ছিস কেন তোরা! একজন অশরী হয়ে অন্য অশরীকে কেউ কখনো ভক্ষন করেনা। লড়াই করে ওদের ছিনিয়ে আন এখানে। আমিতো আছি তোদের সাথে নাকি!

এমন সময় এক ঘোমটা টানা অশরী বলে উঠলো, আজ্ঞে মা মাফ করবেন। অঘোরীরাও মানুষ। আর ওরা মানুষ হয়ে মানুষের মাংস ভক্ষন করে। তাহলে এই অশরী কুকুরগুলো যে আমাদের ভক্ষন করবেনা তার ভরসা কে দিবে!

ইন্টেলিজেন্স, পাজি, বজ্জাত মানুষ খেকো পিচাশ। তোর দেখছি অনেক বুদ্ধি। তোর যা বুদ্ধি তাতে তোকেই তোদের গুরুমা হওয়া উচিত। মনের আনন্দে ইচ্ছা করছে তোকে বিচ্ছুর স্যুপ আর নাগীন বিরিয়ানি খাওয়ায়। এবার অভি উচ্চ হেঁসে বলল,” ওহে আমার রাজকীয় কুকুরগন অপেক্ষা কিসের! ভোজন তো তোমাদের সামনেই। কে তোমাদের ভোজন হতে বাধা দিবে! মনের সুখে আহার করো।”

কুকুরগুলো যেন অভির হুকুমেরই অপেক্ষায় ছিল। অভির হুকুম পাওয়ার সাথে সাথে ওরা ঝাঁপিয়ে পড়ল কাপালি বাহিনীর উপর। কয়েক মুহুত্ব শুধু সময় নিল তারপর জাষ্ট ফিনিস। কোন ক্লু অবদি রাখলোনা। কুকুরগুলো তাদের কাজ করেই ভ্যানিস হয়ে গেল।

♥♥♥

রাতের গভীরতা যতই বাড়ছে ততই মনে হয় নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে দিচ্ছে ঝিঁঝি পোকার ডাকে। মাঝে মাঝে পেঁচার গম্ভীর ডাক রাতের নিরবতাকে ভেঙ্গে দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করছে। অভি বিদ্যাকে কোলে নিয়ে নির্জন রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। বিদ্যার সেন্স আর ইচ্ছা করেই অভি ফেরাইনি। সময়টাকে অভি নিজের মত করে উপভোগ করছে।

হাটার কারনে যে ঝাকুনি তৈরি হচ্ছে সেই ঝাকুনিতে বিদ্যার ঙ্গান ফিরে আসে। চোখদুটি মেলে বুঝার চেষ্টা করে সে কোথায় আছে। ভূতেরা কি তাকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে? অভি বলেই একটা চিক্কুর দিতেই অভি এক প্রকার ইচ্ছা করেই বিদ্যাকে নিচে ফেলে দেয়। তারপর চোখ রাঙ্গিয়ে বলল,” এই তোমার সমস্যা কি! রাত-দুপুরে চিৎকার না করলেই কি নয়?”

বিদ্যা মনে একটু সাহস পায়। ভূত হলে কেউ এভাবে আর ফেলে দিতে পারতোনা। এ নিশ্চয় মানুষ। বিদ্যা আস্তে আস্তে উঠে অভিকে সামনে দেখতে পেল। অভি আমাকে কোলে নিয়ে এতক্ষন হাটছিল! কথা গুলো মনে মনে বলতেই অভি বলে উঠলো,
” রাত অনেক হয়েছে এবার দ্রুত পা চালাও।”

-” আমিতো তোমাকে বলেইছি আমি আর হাটতে পারবোনা।”

আমিও তো বলেছি তোমাকে হেটেই যেতে হবে। শাস্তি তো শাস্তি। অভির কথার নড়চড় হয়না। অভি রাস্তায় বিদ্যার জুতো আর পার্সটা ফেলে দিয়ে বলল,” হাটতে শুরু করো।”

-” আমি এত রাস্তা হেঁটে যেতে পারবোনা। কোন গাড়ীর ব্যবস্থা করো।”

অভি বিদ্যার কথা শুনেও যেন শুনলোনা। আপন মনে চলতে লাগল।

অভির এমন আচরনে বিদ্যা জুতো জোড়া এক হাতে আর পার্সটা অন্য হাতে নিয়ে প্রচন্ড রাগে অভির পিছু পিছু চলতে লাগলো। হাটতে হাটতে পা ব্যাথা ধরে গেল। এবড়ো-থেবড়ো ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে হাটার কারনে অনেক জায়গায় পাও কেঁটে গেল। শেষে বিদ্যা নিশব্দে কাঁদতে লাগলো। আরো খানিকক্ষণ হাটার পর একটা গলি পার হয়ে ওরা বাসায় পৌছালো। এতদ্রুত বাসায় কিভাবে পৌছালো সেটা বিদ্যার মাথায় কিছুতেই আসছেনা।

অভি বাহিরের গেটে দাড়িয়ে দাড়োয়ানকে ডাকতেই দাড়োয়ান এসে দরজা খুলে দিল। অভি ভিতরে চলে গেল। বিদ্যাও পিছু পিছু ভিতরে ঢুকলো।

সাধনা দেবী ড্রয়িংরুমের আলোটা নিভে সদর দরজা খুলে দিয়ে মেয়ের অপেক্ষায় ছিলেন। অভিকে দেখেই সাধনা দেবী দ্রুত এসে বলল,” বাবা আমার মেয়ে?”

ওনার কথাগুলো শেষ না হতেই বিদ্যা এসে হাজির। বিদ্যাকে দেখে উনি বলল,” কিরে মা এত দেরী হল কেন?”

বিদ্যা অভির দিকে কটমট করে চেয়ে তারপর চোখটা নামিয়ে বলল,” গাড়ী পাইনি রাস্তায়, তাই লেট।”

আচ্ছা যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে। আমি তোর খাবার বাড়ছি।

আমি খাবোনা মা। আমার শরীর ভিষন ক্লান্ত। তুমি খেয়ে শুয়ে পর। আর প্লিজ আমাকে আর খাওয়ার জন্য জেদ করবেনা বলে ওর মাকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে উপরে দ্রুত চলে গেল বিদ্যা।

বিদ্যার এমন ব্যবহারে সাধনা দেবী অবাক হয়ে গেল। কি হয়েছে যার জন্য বিদ্যা এমন করলো! অভি, কি হয়েছে ওর?

-“মিসেস শ্যামল. চিন্তা করবেন না। আমার মনে হয় ওর প্রজেক্ট নিয়ে কোন সমস্যা হয়েছে তাই ওর মন খারাপ। পরে ঠিক হয়ে যাবে। আপনি খাবার খেয়েছেন?”

-“ওরা সবাই জোড় করেই খাবার খেয়ে নিতে বলল। তাছাড়া শর্মিষ্ঠার ভয়ে খেতে হল। সন্তান বাহিরে আছে খাবার কি মুখে রোচে?”

-“ওকে, তাহলে ঘুমিয়ে পড়ুন। কাল সকালে দেখবেন ঠিক হয়ে গেছে। বিদ্যাকে আর বিরক্ত করেননা।”

-” তোমাকে খাবার দিই, চলো বাবা।”

-” না আন্টি খাবার মোড নেই। কাল সকালে আপনার হাতের পরোটা আর শুক্ত খাবো। আমি ঘুম থেকে ওঠার আগে কিন্তু সব কিছু রেডী চাই।”

সাধনা দেবী মুচকি হেঁসে বলল, ঠিক আছে বাবা। মনে থাকবে।

অভি আর কথা না বাড়িয়ে ওর রুমে চলে গেল।

♥♥

বিদ্যা রুমে বসে আছে আর ওর চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়ছে। পায়ে প্রচুর ব্যাথা করছে। খুব কষ্টে হেটে হেটে ওয়াসরুমে গিয়ে সাওয়ার নেয়। তারপর রুমে এসে ড্রেস না পাল্টিয়েই লাইটটা বন্ধ করে ওভাবেই বসে পড়ে বেডে। পায়ে হাত বুলাতেই ব্যাথায় টনটন করে উঠলো পায়ের পাতা। বিদ্যার কিছু মনে হতেই হাত বাড়িয়ে অন্ধকারে হাতরে হাতরে ট্রী টেবিল থেকে ল্যাপটপটা নিয়ে বসে পড়ল। বিদ্যা অভির আইডি পাগলের মত খুঁজছে। কিন্তু পেলনা।
বিদ্যা মাথা খাটাতে লাগলো কিভাবে অভির আইডি খুঁজে পাওয়া যায়।

শেষে রিয়ার আইডির মাধ্যমে কাবিরের আইডি পেল আর সেখান থেকেই অনেক কষ্টে অভির আইডি খুঁজে পেল শুধু মাত্র অভির পিকচার দেখে। কারন আইডিতে নাম ছিল অন্য। আভিন্দ্র ভৌমিক অভি। প্রফাইল পিকের ডাসিং মার্কা পিক দেখে যে কোন মেয়ে ঘায়েল হতে বাধ্য। বিশেষ করে অভির নীল চোখদুটিই যথেষ্ট কোন মেয়ের মাথা হ্যাংক করতে। বিদ্যা অভিকে খুব মনযোগ দিয়ে দেখছে। কারন আজ যখন ও অভির একদম কাছে ছিল তখন ও ওর অপুদাকে দেখেছে। বিদ্যার চোখ আর অনুভুতিগুলো কখনো ভূল হতে পারেনা।

অনেক রাত হওয়াতে অভির পিক দেখতে দেখতে বিদ্যা ঐ অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে।

বিদ্যা যখন ঘুমিয়ে পড়ে অভি তার ঠিক ১০ মিনিট পর বিদ্যার রুমে প্রবেশ করে। এই মেয়েটা কি! রুমের দরজা পর্যন্ত বন্ধ করেনি। বিপদ কি বলে আসবে বলেই অভি দরজা বন্ধ করে দিল। অভি বেডের কাছে এসে দেখল, ওর পিক বিদ্যা ল্যাপটপে। তার মানে এতক্ষন ধরে বিদ্যা আমার পিক দেখছিল। এই মেয়ের মনে যে কি চলে শুধু ওই যানে।

অভি এসে বিদ্যার পায়ের কাছে বসল। অভি বিদ্যার পায়ের দিকে চাইতেই ওর চোখদুটি জ্বলে উঠলো জ্বল জ্বল করে। পায়ের অনেক জায়গায় কেটে গেছে। অভি হাত দিয়ে বিদ্যার শরীর চেক করতেই বুঝতে পারলো ব্যাথায় হুহু করে জ্বর চলে এসেছে ওর শরীরে। কেন যে আমাকে রাগাও তুমি সেটা আমি বুঝিনা বলে অভি বিদ্যার পায়ের আঙ্গুল গুলোতে মুখ ডুবায়। তারপর পায়ের পাতায় হাত বুলাতেই বিদ্যা জেগে যায়।

কারো ছোয়ায় বিদ্যার পুরো শরীর ঝিকে ওঠে। বিদ্যা চট করে উঠেই হাটুর উপর ভর দিয়ে অন্ধকারে হাতরিয়ে খোজার চেষ্টা করে। তারপর ভয়ার্ত কন্ঠে বলে উঠলো, “অভি…! আমি জানি তুমি আমার রুমে এসেছ।”

অভি রুমে লাইটটা জ্বালিয়ে বলল,” আমাকে তো খুব দুরে রাখ কিন্তু এসে দেখলাম, আমার পিক দেখতে দেখতেই তুমি ঘুমিয়ে পড়ছিলে? এসবের মানে কি হুম!”

-” কে বলেছে আমি তোমার পিক দেখছিলাম? অবাঞ্ছনীয় কথাবার্তা একদম আমার সামনে বলবেনা। এত রাতে আমার রুমে কেন এসেছ?”

-” এত মিথ্যা কথা! আমি তো দেখছি তুমি একটা মিথ্যার জাহাজ। চোখের সামনে প্রমান রেখেও মিথ্যা বল?”

অভি এবার একদম বিদ্যার কাছে গিয়ে দাড়ালো। কিন্তু কোন কথা বললনা।

বিদ্যা রেগে গিয়ে কেঁদেই ফেলল। তুমি কেন আমাকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছো! বল, রাতে রাস্তায় কি হয়েছিল? আমি তোমার বুকে থাকা অবস্থায় আমার হ্যাসব্যান্ড কে দেখতে পেয়েছি। কেন এমন হয়েছে বল বলেই বিদ্যা অভির শার্টের কলার ধরল। তোমাকে আজ সব কিছু বলতেই হবে বলে বিদ্যা পাগলের মত অভিকে ঝাকাতে লাগে। বিদ্যার আচরন একদম পাগলের মত হয়ে গেছে। অভির বুকে কিল, খামচি, আচড় কাটা সহ নানা রকম ভাবে আঘাত করছে। আজ তোমাকে বলতেই হবে তুমি কে?এত দিনের রাগ যেন এক নিমিষেই ঝেড়ে ফেলতে চাচ্ছে বিদ্যা। বিদ্যার কান্নার শব্দ বেড়েই চলছে।

অভি হঠাৎই বিদ্যাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। বিদ্যা যতই অভির বুকে অত্যাচারের পরিমান বাড়িয়ে দেয় অভি ততই বিদ্যাকে ওর বুকে আবদ্ধ করে নেয়। তারপর কানে ফিসফিসিয়ে বলল,” আমার ছবি এত দেখার কি আছে বিদ্যা! আমাকে কি ভালোবেসে ফেলেছ!”
[] চলবে……[]

বিদ্রঃ রিভিশন দেওয়া হয়নি। কষ্ট করে পরে নিবেন।আগামীকাল থেকে রাত ১০টায় গল্প দেওয়া হবে।

সরাসরি ওয়েবসাইট এ পড়ুন: https://nafisarkolom.com/2020/10/sidur-suddhi-15/

………………………………..
লেখিকা, নাফিসা মুনতাহা পরী
———————————
© কপিরাইট: উক্ত কন্টেন্টটি লেখিকার সম্পদ। লেখিকার নাম এবং পেজ এর ঠিকানা না দিয়ে কপি করে নিজের নামে চালিয়ে অন্য কোথাও পোষ্ট করা আইনত দন্ডনীয়।
———————————-
আমার ব্যক্তিগত ফেইসবুক একাউন্ট: https://www.facebook.com/nafisa.muntaha

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here