সিঁদুরশুদ্ধি #নাফিসামুনতাহাপরী #পর্বঃ১৭

0
133

#সিঁদুরশুদ্ধি #নাফিসামুনতাহাপরী #পর্বঃ১৭

.
অভির পুরো আইডি ঘেটে বিদ্যার চোখ কপালে উঠলো। অভি একজন সেলিব্রেটি বাইক রাইডার। ওর ফলোয়ার দেখার মত ছিল। এত এত মাসেজ আর পোষ্ট দেখে বিদ্যার হুস উড়ে গেল। ওর আইডি থেকে পেজে ঢুকল বিদ্যা। পেজ ফলোয়ার 14.7 M। এত ফলোয়ার?
পেজের কভার ফটোতে Lifan k19 বাইকে উচ্চ মার্জিত স্টাইলিশে বসে আছে। বাম হাতে হেলমেট শোভা পাচ্ছে।

বিদ্যা আরো মনযোগ দিয়ে একের পর এক পোষ্ট দেখল, আর পোষ্টের স্ট্যাটাস গুলো পড়তে লাগল।
রোড রেসিং সহ অফ-রোড রেসিং এ সে নিয়মিত পারফর্ম করে। হিল রেসিং, ড্রাগ রেসিং, ল্যান্ড স্পীড রের্কড রেসিং প্রভৃতি নানা রেসিং এ সে পারফর্মার।

নেদারল্যান্ড, জার্মানি, ইউক্রেন, স্পেন, বেলজিয়াম এইসব দেশ থেকে Duke Road Racing Ranking এ টপ প্লেসড রাইডার হিসেবে পুরষ্কৃত হয়েছে। সব রকমের রেসেই সে পারর্ফামেন্স করে থাকে। বিদ্যা ভেবে পায়না এত টপ লেবেলের ছেলে তাও আবার ইউরোপের দেশগুলোর মধ্য সেরা দেশে মানুষ হয়েছে। এত এত রের্কড তার ঝুলিতে রয়েছে। সে কেন আমার মত মেয়েকে ভালোবাসবে। এখানে তার লাভটা কি? আর আমার ছোটবেলার পিক তার কাছে কি করে থাকে? তার আসল পরিচয় কি? সে কেন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়টা আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছে। কে তুমি অভি! কেন নিজেকে ধোঁয়াশার মধ্য রেখেছ?
নাহ্ এভাবে হবেনা। আমাকে অন্যপথ ধরতে হবে। বিদ্যা লাইট অফ করে সুয়ে পড়ল।

♥♥

অভি রুমে তিনজনকে দেখে বেশ অবাক হল। কাবির, রিয়া আর টুম্পা বসে আছে।
অভিকে দেখে টুম্পা কথাটি আর চেঁপে রাখতে পারলেনা। অভিদা! তুমি কি বিদ্যা আন্টিকে লাইক করো?

-” ওটা শুধু লাইকে সীমাবদ্ধ নেই। আমি তাকে লাভ করি টুম্পা।”

অভির কথা শুনে টুম্পার ভালোবাসার সমস্ত হাওয়া যেন বের হয়ে গেল। অভিদা তুমি জানো! তুমি আমার ক্রাশ। শুধু আমার না। জেসি, মিতু, রিতু ওদের সবার ক্রাশ। কিন্তু এখন শুনছি অন্য কিছু।

অভি টুম্পার কথায় মুচকি হেঁসে বলল,
-” অহ্ তাই! স্যরি টুম্পা, বিষয়টা আমার জানা ছিলনা। আর তাছাড়া তোমাদের তো বলেইছি, আমার ৬ বছর বয়সী একটা বালিকাবধূ আছে। সে বড্ড রাগী। সে যদি জানে, আমি কোন মেয়ের সাথে লাইন মারছি তাহলে আমাকে আস্ত রাখবেনা।”

-” তাহলে বিদ্যা আন্টি!”

-” সে কি ৬ বছরের বালিকা?”

-” নাহ্।”

-” তাহলে!”

টুম্পা মনে মনে খুঁশি হয়। অভিদা শুধু শুধু আমার সাথে এতক্ষন ধরে মজা করছিল।

-“তা কাবির! এত রাতে তোরা আমার রুমে? কোন সমস্যা!”

কাবির রিয়ার দিকে চেয়ে ইশারা করতেই রিয়া টুম্পাকে নিয়ে চলে গেল। এবার কাবির অভির কাছে এসে ওর ঘাড়ে হাত দিয়ে বলল,
-” ভাই, তুই যে বিদ্যার রুমে গেছিস সেটা রিতুর মা দেখতে পেয়েছে। রিয়ার রুমে লাইট জ্বালানো ছিল বলে উনি রিয়া আর টুম্পাকে ডেকে বিদ্যার রুমের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। তারপর কি মনে করে বললো, যা বলবে কাল সকালে সবার সামনে বলবে।”

অভি লম্বা একটা হাই তুলে বলল,” উনি কিছু দেখেননি। শুধু শুধু অনুমানের উপর সব কথা বলেছে। ওসব নিয়ে টেনশন করিস না।”

-“না মানে, রিয়া আমাকে জলদি ডেকে কথাগুলো বলল, তারপর থেকে মন অস্থির হয়ে আছে। শেষে হিতে বিপরীত যদি হয়ে যায়! তাই ভয় পাইছিলাম।”

-“আরে এত চিন্তা করিস কেন! আমি এমন কিছু করবোনা যেখানে তোর সম্মানে আঘাত হানে। নিঃশ্চিন্তে থাক আর লাইফ ইনজয় কর। কাল আমরা কখন বাসায় যাচ্ছি কাবির?”

-” আকাশ যদি ভালো থাকে তাহলে সকাল সকাল বের হব। তুই সব প্যাকিং করে নিয়েছিস?”

-” হুম সব রেডী।”

ওকে তাহলে ঘুমা। এমনি অনেক রাত হয়ে গেছে বলে কাবির চলে গেল।
কাবির চলে যেতেই অভি জলদি ফোনটা বের করে ইনাকে কল দিল। কিন্তু ইনাকে আর লাইনে পাওয়া গেলনা। কি এমন হল, যার জন্য এভাবে কথা বলল। ও ঠিক আছে তো? অভি যখন নানা চিন্তায় ব্যস্ত তখন বিদ্যার রুমে ভয়াভয় কান্ড চলছিল। তাহলে কি অভিকে বিদ্যার রুম থেকে সরানোর জন্য এমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল? তাহলে এতক্ষন ধরে কাবির, রিয়া, টুম্পা যে এরুমে অভির সাথে কথা বলছিল তারা কি অন্য কেউ ছিল?
অহ্ নো বলে অভি ছুটে গেল বিদ্যার রুমে। এসে দেখে দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। দরজা তো খোলায় ছিল। অভি দেয়াল ভেদ করে রুমে ঢুকতে চায় কিন্তু কোন এক শক্তি অভিকে বাঁধা দিচ্ছে ভিতরে ঢুকতে।

ভিতরে কি হচ্ছে অভির তা জানা নেই। অভির একটাই চাওয়া বিদ্যা যেন ঠিক থাকে। অভি একের পর এক শক্তি প্রয়োগ করে। অনেক কষ্টে অভি সফল হয়। নিমিষেই অভি রুমের ভিতর প্রবেশ করে।

বিদ্যা সেই সময় স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলনা। বিদ্যার চুলগুলো সম্পূর্ন সাদা আর চেহারাটা আরো সুন্দর আর স্নিগ্ধ। বিদ্যা শূন্য ভাসছে আর ওর চুলগুলো বাতাসে ঢেউ খেলছে। বিদ্যা অচেতন অবস্থায় রয়েছে। এসব কি হচ্ছে বলতেই অভির চোখ এক কোনে আটকে গেল।

একটা বৃদ্ধা মহিলা আসন পেতে বসে মন্ত্র জপ করছে। তার সামনে সিঁদুর, কালো কয়লা, মানুষের মাথার খুলি সহ আরো অনেক কিছু শূন্যতে ভাঁসছে। মহিলার চেহারাটা সম্পূর্ন দেখা যাচ্ছেনা। মুখটা ঢেকে রেখেছে।

Hey, Who are you বলেই অভি মহিলার সামনে এসে দাড়ালো। কিন্তু মহিলাটি সাড়া না দিয়ে ওভাবেই ওর কাজ চালাতে লাগলো।

কথা বলে যখন কাজ হলোনা তখন অভি ওর শক্তি প্রয়োগ করলো। অভি ওর দু’হাত শূন্যর উপর নাড়াতে লাগলো আর এতে অদৃশ্য শক্তি উৎপন্ন করলো। সেই শক্তি দিয়ে ঐ মহিলাকে আঘাত করলো। মহিলাটি ছিটকে গিয়ে দেয়ালে আছাড় খায় এবং ওখানেই দেয়ালের সাথে আটকে যায়। মহিলাটি তবুও মন্ত্র জপ করা ছাড়লোনা।

কোন কিছুতেই কিছু হচ্ছিলনা। বিদ্যা শূন্যতেই কেঁপে চলছে আর বড় বড় শ্বাস ফেলছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে বিদ্যার খুব কষ্ট হচ্ছে। অভি সেই দৃশ্য আর সহ্য করতে পারলোনা। অভি চিৎকার করে বলল,
” এই ওকে ছাড়বি! না আমার হাতে মরবি?”

তবুও মহিলার কাছ থেকে কোন রেসপন্স পাওয়া গেলনা। আজ মনে হয় মহিলাটি বিদ্যাকে মেরেই ছাড়বে। অভি শেষে রাগের চোটে সামনে থাকা ঐ সিঁদুর, কালো কয়লা, মাথার খুলি সহ সব কিছু নষ্ট করে ফেলল।

সিঁদুর ছড়িয়ে পড়তেই মহিলাটি চোখ দুটো খুলল। কি ভয়ানক তার চাহোনি। মুখটা এবড়ো থেবড়ো। হাতে শিম্পাঞ্জির মত বড় বড় লোমে ঢাকা। অভির দিকে এমন চাহোনিতে চাইল যা সহসায় প্রকাশ পেল মহিলাটি অভির উপর অত্যান্ত ক্ষেপে গেছে। এতক্ষনের সাধনা যেন এক মুহুত্বেই অভি নষ্ট করে দিছে। অভি মহিলাটিকে আর কিছু করার সুযোগ দিলনা। তার আগেই ওকে একটা তাজা ধুতরা ফুলে পরিনিত করলো। ফুলটি শূন্য ভাসতে লাগলো। অভি কঠোর গলায় বলল,
-” এই ফুলটি যতদিন তাজা থাকবে ততদিন তোর হায়াত। এর আগে যদি তোর পরিকল্পনার কথা এবং তুই নিজে কে ও কোথা থেকে এসেছিস সেই সব তথ্য দেস তাহলে তোকে ছেড়ে দিব। আর যদি না দিস তাহলে তোর শরীর আমার কুকুরের খাবার হয়ে যাবে। বাঁকিটা এখন তোর ইচ্ছা।”

অভি হাতের ইশারা করতেই ধুতরা ফুলটি অদৃশ্য হয়ে গেল। ওটা ভ্যানিস হওয়ার সাথে সাথেই বিদ্যার সাদা চুলগুলো কালোতে পরিনিত হল আর ও আগের রুপে ফিরে এল সম্পূর্ন ভাবে। বিদ্যা শূন্যতে ভাসা অবস্থায় বিছানায় পড়তেই অভি গিয়ে ওকে সাবধানে ধরে ফেলে। সাথে সাথে বিদ্যা যেন ঝিকে উঠলো আর মুখ দিয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠলো,
” প্লিজ আমাকে মেরোনা। আমি তো কোন দোষ করিনি তাহলে আমাকে কেন আঘাত করছো!”

বিদ্যার এমন কথায় অভি বিদ্যাকে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,
-” আমি আছিতো বিদ্যা। আমি থাকতে তোমার ভয় কিসের! কার কত শক্তি আছে আমার সামনে দেখাক। তার চৌদ্দ পুরুষ আমি ধুলিসাৎ করে ছাড়বো।”

অভি আর বিদ্যাকে ছেড়ে কোথায়ও গেলনা। পুরো রাত বিদ্যাকে ওর বুকে করে আগলে রাখলো। এর মধ্য কতবার বিদ্যার ঘুম আধাভাঙ্গা হয়েছিল। অভি অতি সযত্নে সেই মূহুত্ব গুলো সামলিয়ে নিল। তারপর সকাল হতেই বিদ্যার গায়ে ভালো করে কম্বোল জড়িয়ে দিয়ে, অভি রুম থেকে বের হয়ে গেল।

♥♥♥

তৃষ্ণার্ত প্রকৃতিকে অমৃতসুধায় ভরিয়ে দিতে সকাল থেকেই রিমঝিম বৃষ্টি পড়ছে। নুপুর পায়ে ঝুমুর ঝুমুর তালে ঝরে পড়া অঝোর ধারা বৃষ্টিতে ভিজছে উন্মুখ- অধীর প্রকৃতি। গাছের পাতা যেন নুয়ে পড়েছে বৃষ্টি ধারায়। গাছের ডালে ডালে পাখি গুলো গুটিসুটি মেরে চুপচাপ বসে রয়েছে। ঝরঝর নির্ঝরণীতে মানুষের মনকে যুগপৎ আনন্দ-বেদনা ও বিরহকাতরতায় সিক্ত করে তোলে এমন বর্ষনমুখোর সকাল। জানালার কাচে যেন বৃষ্টির ফোটা এসে থমকে দাড়ায়।

সকাল ১১ টা বাজে। বিদ্যা এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি। সকাল থেকে এর মধ্য ৫ বার চেক করে গেছেন সাধনা দেবী। আবার এসেছেন বিদ্যার রুমে। এসে দেখেন বিদ্যার ফোনে রিং এসেছে কিন্তু ফোনটা সাইলেন্ট করা। সাধনা দেবী বিদ্যার শিয়রে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে আস্তে করে ডেকে উঠলো বিদ্যা বলে। পরপর আরো কয়েকবার ওভাবে ডাকলো।

বিদ্যা সকালের আড়মোড়া ভেঙ্গে চোখ খুলল। পাশে মাকে দেখে বিদ্যা ওর মায়ের কোলে মাথা রেখে আবার চোখ বন্ধ করলো।

-“আবার ঘুমিয়ে পড়লি মা! দেখ তোর ফোনে কল এসেছে। রিসিভ কর মা।”

ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে উঠলো বিদ্যা,
-” মা, তোমার কোলের থেকে শান্তির জায়গা আর কোথাও নেই। রোজ এভাবে এসে ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিও।”

সাধনা দেবী এবার উঠে পড়ল। সকাল ১১ পার হয়ে গেছে মা। উঠে ফ্রেশ হয়ে নে। সবাই নাস্তা সেরে নিয়েছে। দেখ, সবাই মিলে ঐ চাতালে আড্ডা দিচ্ছে। উঠ মা।

বিদ্যা এবার উঠেই ফোন চেক করলো। ৩৪+ কল এসেছে মৌপ্রিয়ার নাম্বার থেকে। বিদ্যা ব্যাক করতেই মৌপ্রিয়া চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো,
-“Congratulation বিদ্যা। আমরা কাজটা পেয়েছি। কাল রাতে তোর ইমেইল বাজিমাত করেছে। এখানকার প্রধান তো খুব খুশি এমন সব প্লান দেখে। কখন আসছিস এখানে?”

মৌপ্রিয়ার কথা শুনে বিদ্যা হতবম্ভ হয়ে গেল। আমি ইমেইল পাঠাইছি! কখন, কোন সময় পাঠাইলাম? আমার তো মনে পড়ছেনা!

-” দেখ, হিয়ালি বাদ দে। আমাদের বস তোকে ফোনে পাচ্ছেনা। বসের সাথে একটু যোগাযোগ করিসতো। আর হ্যাঁ ট্রিট কিন্তু দিবি আমাদের।”

ট্রিটের কথা উঠতেই বিদ্যার মনে পড়লো কাল রাতের কথা। অভি তাহলে ওটা পাঠিয়েছে। মৌপ্রিয়া, বিকেলে তোদের সাথে মিট করছি। ওখানে গিয়ে কথা হবে বলে কল কেটে দিল বিদ্যা। তারপর ওর মাকে বলল,” মা, কাজটা পেয়েছি। আচ্ছা, অভি কি সকালে নাস্তা করেছে?”

সাধনা দেবী বিদ্যার কথা শুনে খুশি হয়ে বলল,
” তোর সাফল্যর খুশিতে আজ সবার পছন্দের আলাদা আলাদা রান্না হবে বাসায়।”

-” মা কি বললাম তোমায়! অভি কি সকালের নাস্তা করেছে?”

-” না ছেলেটা নাস্তা করেনি। বলল পরে নাকি করবে। ছেলেটা খুব ভালো তাইনা?”

-” শুধু ভালোনা মা! একদম সেরার সেরা একটা ছেলে।”

বিদ্যা কথাগুলো বলেই দৌড়ে ওয়াশরুমে গেল। তারপর ফ্রেশ হয়েই বলল,
” মা অভি কোথায়?”

বিদ্যার কথা শুনে সাধনা দেবী অবাক হয়ে বলল,
” কি ব্যাপার বিদ্যা! আজ তুই বড্ড অভি অভি করছিস কেন?”
সাধনা দেবী জানালা খুলে বিদ্যাকে দেখিয়ে দিল অভির অবস্থান।

মা আমার কাজের সাফল্যর পিছনে একমাত্র শুধু অভিরই অবদান আছে। আমি চললাম বলেই বিদ্যা দৌড় দিল।

বিদ্যা নাম্তা করে যা বাবা। কাল থেকে কিছুই খাসনি মা। একটু মুখে কিছু দে! কিন্তু বিদ্যা আর ওর মায়ে কথা শুনতে পায়না। কারন বিদ্যা এর মধ্য রুম থেকে বের হয়ে গেছে।

♥♥

বিদ্যা নিচে এসে দেখলো, কাজের মেয়ে “আলতা” আর “শান্তি” বড় বড় দু’টো ট্রেতে করে ১০ কাপ কফি, পিয়াজু, বেগুনি, চিকেন পাকোড়া, সিঙ্গারা, বেসন চানাচুর সহ আরো কয়েক পদের নাস্তা নিয়ে অভিদের কাছে যাচ্ছে। বিদ্যা এসে বলল,
” আমাকে একটা দাও, আমিও তোমাদের সাথে ওখানে এগুলো নিয়ে যাই।”

আলতা কেবল বিদ্যাকে ট্রে দিতে যাবে এমন সময় শর্মিষ্ঠা বলে উঠলো,
” তোমার ওখানে যাওয়ার দরকার নাই বিদ্যা। তুমি বরং আমার সাথে হাত লাগাও।”

বিদ্যা শর্মিষ্ঠার কথা যেন শুনেও শুনলোনা। এমন ভাব করলো যেন, বিদ্যা ওনার কথা শুনতেই পায়নি। বিদ্যা ঐ তুমুল হারে বৃষ্টির মধ্যই দৌড় দিল অভিদের কাছে।

অভি সবাইকে গিটার বাজিয়ে শুনাচ্ছিল। এমন সময় অভি গিটারের টিউন বন্ধ করে পিছন ফিরে চাইলো। বিদ্যা ভিজতে ভিজতে দৌড়ে আসছে। অভির নজর বিদ্যার ছুটে চলা পায়ের দিকে। পায়ের নুপুর গুলো যেন উপর নিচ ভাবে দোল খাচ্ছে। একদম দেখতে জলনুপুরের মত লাগছে। জলনুপুরের চন-চাঞ্চল্য ছোটাছুটি অভিকে বিমোহিত করে ফেলে। দৃশ্যটা যেন অভির লাস্যময়তার সঙ্গে প্রেমের জোয়ার বয়ে আনছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি চঞ্চল প্রেম খুকি এসে হাতের মুঠোর ধরা দিবে।

♥♥

মাটি থেকে ৭ ফিট উচুতে একটা বিশাল সাদা টাইলস্ বসানো বেদী। মাথার উপর টিনের বিশাল ছাদ। চারদিকে কাচের থাই লাগানো জানালা। সব জানালা খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির জল এসে ভিজে দিচ্ছে বেদির আসেপাশটা। যে যার মত করে গুটিগুটি হয়ে বসে পড়েছে আড্ডা দিতে। তবে মধ্যমুণি অভিই ছিল।

টিনের ছাদের নিচে বিশাল একটা প্লাকার্ড বসানো। সেখানে বড় বড় করে লেখা,
” বৃষ্টি আহা কি অনাসৃষ্টি ”

মূলত বৃষ্টি উপভোগ করার জন্যই এটা বানানো হয়েছে। বিদ্যার বাবা শ্যামল বাবু বড়ই সৌখিন মানুষ। বেদির চারপাশে আবার বেলি ফুলের ছোটছোট গাছ। সাদা সাদা ফুল ছড়িয়ে আছে। আস-পাশটা মিষ্টি গন্ধে মৌ মৌ করছে।

এমন সময় বিদ্যা এসে হাজির হল অভিদের কাছে। অভি মাথাটা নিচু করে গিটারের সুর তুলে বলল,

-“কাঁদছে আকাশ, কাঁদছে মন,,, রিমঝিম বৃষ্টিতে বিরহী রোদন,
বন্ধু তুমি ফিরে এস,,,,, স্বপ্ন ছোয়ার বাদল দিন,
বৃষ্টি ধারায় শোধাব আজ,,,, ভালোবাসার সবটুকু ঋন।”

-“অভিদা, এটা কার গান?”

মিতুর কথায় অভি মৃদু হেসে বলল,” এটা কোন গান নয়, এটা কোন এক লেখকের মনের ব্যাপ্তি।”

বিদ্যাকে দাড়িয়ে থাকা দেখে অভি বলল,
-” ম্যাম, আপনার যদি মর্জি হয় তাহলে আমাদের আসরে বসতে পারেন।”

সবাই বিদ্যার দিকে তাকিয়েই নিজের জায়গার দিকে নজর দিল। কেউ নিজের জায়গা হারাতে রাজি নয়। কারন ইতিমধ্য সবাই অনেকটা কাকভেজা হয়ে গেছে।

বিদ্যা কারো তোয়াক্কা না করে অভির পাশে গিয়ে বসল। কিন্তু পা দু’টি বেদি থেকে নিচে নেমে দিল। বৃষ্টির পানিতে সে পা স্নান করচ্ছে। অভি একটু জোড়েই বলল,
-” বিদ্যা, পা উঠাও। ঠান্ডা লাগবে তো?”

টিনের চালে পানির ঝমঝম শব্দে বিদ্যা সহ কেউই অভির কথা শুনতে পেলনা। তাই অভি আর কথা বাড়ালোনা।

আলতা আর শান্তি নাস্তা নিয়ে হাজির। সবাইকে ধোয়া ওঠা কফি দিল। লাষ্ট কাপ একটা কিন্তু মানুষ ২ টা। অভি আর বিদ্যা। অভি আলতাকে বলল,” কফিটা যেন বিদ্যাকে দেওয়া হয়।”

আলতা বিদ্যাকে কফি দিতেই বিদ্যা না করে দিল। তাই অগত্যা অভি কফির কাপ নিয়ে চুমুক দিয়ে বিদ্যার পাশে কাপটা রেখে ওদের সাথে গল্পতে মজে উঠল। বিদ্যা যেন এই অপেক্ষায় ছিল। কফির কাপটা নিয়ে অনায়াসে কফি পান করতে লাগল। সবাই গল্পে মত্ত্ব আর অভি ওর হাত বাড়িয়ে বিদ্যাকে একটানে উপরে তুলে এনে বলল,
-” তুমি দিন দিন বড্ড চোর হয়ে যাচ্ছো বিদ্যা!”

[] চলবে…..[]

বিদ্রঃ গল্প ছোট বলে আমাকে এবার কেউ অভিযোগ করলে আমি আবার একদিন পর পর গল্প দেওয়া শুরু করবো। কারন রেগুলার এইটুকু লেখা আমার জন্য অনেক ট্রার্ফ হয়ে যায়। কতটা কষ্ট করে রেগুলার পোষ্ট করছি সেটা শুধু আমিই জানি।

সরাসরি ওয়েবসাইট এ পড়ুন: https://nafisarkolom.com/2020/10/sidur-suddhi-17/
………………………………..
লেখিকা,
নাফিসা মুনতাহা পরী
———————————
© কপিরাইট: উক্ত কন্টেন্টটি লেখিকার সম্পদ। লেখিকার নাম এবং পেজ এর ঠিকানা না দিয়ে কপি করে নিজের নামে চালিয়ে অন্য কোথাও পোষ্ট করা আইনত দন্ডনীয়।
———————————-
আমার ব্যক্তিগত ফেইসবুক একাউন্ট: https://www.facebook.com/nafisa.muntaha

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here