#তোকে চাই পর্ব ২৩

0
134

#তোকে চাই❤ পর্ব ২৩
#writer: নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤



উনাদের গল্পের মূল বিষয় যে আমি,,সেটা বুঝতে বাকি রইলো না।।।উনাদের মুখে “রোদ” নামটা শুনেই থমকে দাঁড়ালাম,,,,

তুই কি রোদকে ভালোবাসিস??

চুপ করে আছিস কেন??সাব্বির যা বলছে তার উত্তর দে,,,

তোরা প্লিজ চুপ করবি??এসব বলতে এতো রাতে এখানে এসেছিস নাকি??(বিরক্ত হয়ে)

তোর যদি তাই মনে হয় তাহলে তাই,,,এখন উত্তরটা দে,,,

হয়তো না।।

হোয়াট??হয়তো??একটা হয়তোর মধ্যে তুই একটা মেয়ের জীবন বেঁধে রাখছিস??(চড়া গলায়)

কিন্তু আমার মনে হয় তুই রোদকে ভালোবাসিস,,নয়তো ওইদিন রাতে আশিকদের ওভাবে পিটিয়েছিলি কেন??আর সাহেলকে ওর পাশে দেখলে তোর রাগই বা লাগে কেন??

ভয়,,,

হোয়াট??(সাব্বির+রোহান)

লাইক সিরিয়াসলি?? যাকে ভালোইবাসিস না তাকে নিয়ে আবার কিসের ভয়???

হারানোর ভয়,,,

ফাজলামো করিস??ভালোবাসিস না আবার হারানোর ভয়,,,সব কিছুর একটা লিমিট আছে,,,,

দেখ শুভ্র,,,আমরা সবাই জানি যে,,সাহেল রোদ কে পছন্দ করে,,তুই ওকে ভালো না বাসলে,,শুধু শুধু মেয়েটাকে ধরে রেখে কষ্ট দিচ্ছিস কেন।।।সাহেল ওকে ভালো রাখবে,,,

পাগল হইছিস তুই??রোদ আমার বউ(চিৎকার করে)

রোহান ভুল কি বলেছে শুভ্র???ওকে ভালোবাসিস না,,,স্ত্রী হিসেবে পুরোপুরি মানতেও পারিস না,,,আবার হারামোর ভয়ও পাস,,এসব কি???এতো টানাপোড়েনের চেয়ে সাহেলের কাছেই কি রোদ ভালো থাকবে না???

না থাকবে না।।কারন আমি থাকতে দিবো না।।

কিন্তু কেনো শুভ্র?

ওকে আমার প্রয়োজন,,,ওকে ছাড়া আমার চলবে না,,,

মানে কি???খুলে বলবি প্লিজ??ভালোবাসিস না আবার বলছিস প্রয়োজন??বলদ মনে হয় আমাদের??(রাগী কন্ঠে)

যা সত্য তাই বলছি।তোরা তো জানিস নিলী মারা যাওয়ার পর আমি কতোটা ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম।।।তিন মাসে সাত সাতটা বার সুইসাইড এটেম্প করেছি,,,,হয়তো আরো করতাম কিন্তু তোদের জন্য হয়ে উঠে নি।।।আমার অবস্থা কেমন হয়েছিল তা হয়তো তোরাই ভালো জানিস।।আমার সিচুয়েশনটা হয়তো তোরা বুঝতে পারতি বাট আমার মনের অবস্থাটা।।।প্রতিটি মুহূর্ত দম বন্ধ হয়ে এসতো।।নীলির কথা মনে পড়তেই,, নিজেকে শেষ করে দিতে মন চাইতো,,,যে মেয়েটাকে একদিন না দেখলে পাগলামো শুরু করতাম,,, সেই মেয়েটাকে নিজ হাতে মাটিচাপা দিয়েছি ভাবতেই শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতো।।।তখন মরে যাওয়াটাই আমার কাছে সবচেয়ে শান্তির বলে মনে হতো।।।কেউ শখ করে সুইসাইড করে না,,,কতটা কষ্ট বুকে চেপে তারা এই ডিসিশন নেই সেটা আমি বুঝেছি প্রতিটি মুহূর্তে।।। ভালোবাসাটা ভুলে যাওয়া কি এতোই সহজ???তোদের কাছে হয়তো বিষয়টা অতিরঞ্জিত বলে মনে হয় কিন্তু আমার কাছে নয়।।তোরা ভাবছিস আমি কেনো নীলিমাকে ভুলে যায় না??কিন্তু সত্যিটা হলো আমি ওকে ভুলতেই চাই না।।আরে নীলি কি ওকে ভুলে যাওয়ার জন্য আমাকে ভালোবেসেছিলো??আজ ও নেই আর তাই আমি ওকে নিজের জীবন থেকে ছুঁড়ে ফেলবো??ভুলে যাবো??এতোটা নিচ আমি??আমার ভালোবাসাটা কি এতোটাই ঠুনকো??কিন্তু হ্যা,,ভালোবাসাটাই জীবনের সব কিছু নই,,রেসপনসেবলিটি,, ফ্যামিলি অনেক কিছুই জড়িয়ে থাকে এই জীবনটার সাথে।।আমি শুধু নিজেকে নিয়েই পড়ে ছিলাম,,এদিকে যে আমার চিন্তায় মা অসুস্থ হয়ে পড়ছে বুঝতে পারি নি,,,,একদিন বাবা আমাকে এসে বললো,, মা নাকি তিনদিন যাবৎ হসপিটালে এডমিট,, কথাটা শুনে আমি অবাক হয়েছিলাম।।তিনদিন ধরে মা অসুস্থ আর আমি জানি না???বাবার কাছ থেকে জানতে পারলাম মার অসুস্থ হওয়ার কারনটা আমি।।।আমাকে নিয়ে চিন্তায় মা এতোটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে,,,,ছোট থেকেই মার আদরের ছেলে আমি,,,তাই হয়তো আমার অবস্থাটা মা মেনে নিতে পারে নি।।।আর আমিও পারিনি মার অবস্থাটা মেনে নিতে,,,তাইতো নিজের কষ্টটাতে হালকা পর্দা মেলে দিয়ে হসপিটালে ছুটে গিয়েছিলাম,,,সেটাই ছিলো তিনমাসের মধ্যে প্রথম নিজের ইচ্ছায় ঘরের বাইরে পা ফেলা।।মাকে দেখে বুঝতে পেরেছিলাম,,মাকে বাঁচাতে হলে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে আর বেঁচে থাকতে হবে সুস্থভাবে।।।শুরু হলো অভিনয়,,,নিজের সাথেই যুদ্ধ,, প্রতিটি মুহূর্তে নিজের অস্তিত্বটাকেই হারিয়ে ফেলছিলাম।।হঠাৎ করেই বাবা ভাইয়ার বিয়ে ঠিক করলো।।ডক্টরদের ধারনা মাকে হাসি-খুশি রাখলে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন,,,আর মাকে খুশি করার এটাই বেস্ট ওয়ে।।।ভাইয়ার বিয়ের দিন হঠাৎই বাবা ডেকে বললেন,,”রোদ কে বিয়ে করতে হবে”।।কথাটা শুনে আমি চরম অবাক হয়েছিলাম,,,ওই বাচ্চা মেয়েটাকে নাকি বিয়ে করবো,,পাগল নাকি বাবা??আমি শুধু নীলিকে ভালোবাসি,,,শুধু শুধু কোনো মেয়ের জীবন নষ্ট করতে যাবো কেনো??,,,কিন্তু সেদিনও আমার যুক্তিটা ব্যর্থ হলো মার করুন চাহনীতে,,,বাবার এককথা,,রোদের মাঝে মার ছায়া আছে,,রোদই নাকি পারবে নীলিকে ভুলিয়ে দিতে।।।কথাটা শুনে প্রচন্ড রাগ লাগছিলো,, ওরা কেনো বুঝতে পারছে না যে আমি নীলিকে ভুলতে চাই না।।।ভেবেছিলাম রোদ হয়তো রাজি হবে না,,,কারন ও তো জানে আমি নীলিকে কতোটা ভালোবাসে।।।কিন্তু এবারও নিরাশ হতে হলো আমাকে,,রোদ বিয়েটা করেই নিলো।।।সব ক্ষোভ,,,কষ্ট,,,সবকিছু রোদের উপরই গিয়ে পড়লো।।ওকে দেখলেই রাগ লাগতো,,কিন্তু বিয়ের পরের দিন ওর বলা কথাগুলো আমাকে নাড়া দিলো,,,সত্যি তো বাচ্চা মেয়েটার তো কোনো দোষ নেই,,,সেদিন মনে হচ্ছিলো যদি একবার নীলিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে পারতাম,,,বলতে পারতাম প্লিজ ফিরে আসো,,,আমি মরে যাচ্ছি,,দম বন্ধ হয়ে আসছে।।

এটুকু বলে উনি চুপ হয়ে গেলেন,,,আমি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।।উনার প্রতিটি কথা আমার বুকে যেন তীরের মতো বিঁধছে,,,হয়তো উনি কাদঁছেন,,,আমিও কাঁদছি,,জানি না কেনো,, কিন্তু আজ খুব কান্না পাচ্ছে,,খুব।।উনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বলতে শুরু করলেন,,,,

বাবার কথাটা সত্য ছিলো,,,আমি ডিপ্রেশন থেকে বেরিয়ে এসেছি।।এমন নয় যে আমি নীলিকে ভুলে গেছি,,,আশ্চর্যের বিষয় হলো রোদ আশেপাশে থাকলে আমি নীলিকে আরো বেশি করে ফিল করি।।রোদের নিশ্বাসের শব্দে ওর চাহনীতে নীলিমার প্রকাশ স্পষ্ট।।।আমি রোদের চোখে সবার মতো,,আমার জন্য বিরক্তিকর সহানুভূতি দেখিনি,,ওর চোখে সবসময় একটা ভরসা,,, নীলিমার জন্য ভালোবাসা আর সম্মান দেখেছি।।। রোদ সবসময় নীলির প্রতি আমার ভালোবাসাটাকে সম্মান করে,,সবার মতো আমার পাগলামো বা বাড়াবাড়ি বলে মনে করে না,,,ওর সাথে বিয়ে হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ও আমাকে রাগিয়ে হোক,,বিরক্ত করে হোক,,হাসিয়ে হোক,,এই ডিপ্রেশন থেকে দূরে রেখেছে।।এতোদিন পর ওর জন্যই আমি প্রথম হেসেছি।।এখনো বড্ড কষ্ট হয়,,,মনে হয় বুক থেকে কলিজাটা কেউ ছিঁড়ে নিচ্ছে,,, কিন্তু রোদের কথায়,,কাজে কষ্টগুলো নীলির সাথে কাটানো সুন্দর স্মৃতিগুলোর কাছে চাপে পড়ে।।।এখন আমি হেল্পলেস,,,রোদকে আমার চাই।।।মা কে বাঁচাতে হলে আমায় বাঁচতে হবে,,আর আমায় বাঁচতে হলে রোদকে আমার কাছে থাকতে হবে।।।জানি আমি স্বার্থপরের মতো কাজ করছি কিন্তু রোদকে হারিয়ে ফেললে হয়তো আমিও হারিয়ে যাবো।।

আরে,,এটা কি ভালোবাসা নয়??

না,,,এটা শুধুমাত্র প্রয়োজনীয়তা,,,

আমি আর দাঁড়ালাম না,,,,আসলে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না।।ঝটপট নিচে নেমে রাহেলার কাছে ট্রে টা ধরিয়ে দিয়েই ওয়াশরুমে ঢুকে গেলাম,,,,আজ আমি কাঁদবো,,,অনেক কাঁদবো,,,

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here