#তোকে চাই পর্ব ৩২

0
134

#তোকে চাই❤পর্ব৩২
# নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤



রান্না ঘরে মুখ গোমরা করে দাড়িয়ে আছি।।মনটা বেশ খারাপ।।আজ শুভ্রর বড় খালামনি এসেছেন।।মহিলাটা দেখতে ঠিক স্টার জলসার দজ্জাল শাশুড়িদের মতো।।।সংসারে আগুন ধরানোর জন্য আমাদের সমাজে কিছু থার্ড পার্সোন মানুষ আছে,,উনি তাদের অন্তর্ভুক্ত।। এখানে এসেও শুরু হয়ে গেছেন।।।কিন্তু মামানির কাছে ঠিক পাত্তা পায় নি।।আমার শাশুড়ি আবার বউমাদের বিরুদ্ধে একটা কথাও শুনতে পারেন না।।।আগেই বলে দিয়েছেন,,”ওরা আমার বউমা নয় আমার মেয়ে।।দোষী হলেও আমার আর গুণী হলেও আমার।।আমার মেয়েদের সম্পর্কে অন্যকারো কাছ থেকে আমার জানতে হবে না বড়আপা”।।কিন্তা বজ্জাত মহিলা বলে কথা।।।এতো সহজে মানবে নাকি??এসেই আপুকে এক দফা ঝেরে দিয়েছেন।।আপুর অপরাধ,,আপু উনাকে পা ধরে সালাম না করে, মুখে সালাম দিয়েছে।।তাতেই আমার বোন আনকালচার্ড হয়ে গেছে,,,তার নাকি শিক্ষা নেই।।আপু বরাবরই চুপচাপ,,বড়দের কথার পিঠে কথা কখনোই বলে না,,তাইতো রান্না ঘরে এসে চোখের জল ফেলে চলেছে,,,,আমারও খুব কান্না পাচ্ছে,,ইচ্ছে করছে এই মহিলার চুলে আগুন ধরিয়ে দিই,,পুড়ে যাক সব।।।উনার চায়ে চিনির বদলে হারপিক দিয়ে দেওয়া উচিত,,,মনটা পরিষ্কার হতো।।আমার সবচেয়ে খারাপ লেগেছে অভ্র ভাইয়ার বিষয়টি,,আপুকে এতোগুলো কথা শুনানোর পরও উনি একটা কথাও বললেন না।।মানছি বড়দের রেস্পেক্ট করেন তাই বলে চোখের সামনে ওয়াইফকে অপমান করবে আর উনি তার প্রতিবাদ করবেন না??এটা তো রীতিমতো কাপুরুষতা।।। উনি জানেন উনার স্ত্রী প্র্যাগনেন্ট আর এ ও জানেন যে দিদার কথাই আপু নিচু হয়ে সালাম করেনি তবু কিচ্ছুটি বলেন নি,,,,হায়রে পুরুষজাতি।।।


রাতে ঘুমুচ্ছিলাম,,,মাঝরাতের দিকে শুভ্রর চিৎকারে ধরফরিয়ে উঠে বসলাম,,,উনি চুপচাপ বসে আছেন,,উনার শরীর অসম্ভব রকম কাঁপছে,,, কোনো দুঃস্বপ্ন দেখেছেন কি??তাড়াহুড়ো করে উনার কাঁধে হাত রাখলাম,,

কি হয়েছে??ঠিক আছেন??কোনো দুঃস্বপ্ন….

আমাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন,,,আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না,, তবে উনার শরীরের কম্পনটা আরো বেশি করে ফিল করছিলাম,,,উনার হার্ট যেনো বেরিয়ে আসতে চাইছে,,,,কি এমন হয়েছে যে উনি এতোটা ভয় পেয়েছেন??

কি হলো??এভাবে কাঁপছেন কেনো??কি হয়েছে??খারাপ স্বপ্ন দেখেছেন??

ত,,,ত,,,তুমি যাবে না।।।ও,ওর স,,সাথে যাবে না।।

কোথায় যাবো না?আর কার সাথে না যাওয়ার কথা বলছেন??আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।।

নী,,,নীলি তোমাকে নিয়ে যাবে।।।ও তোমাকে আমার থেকে নিয়ে য,,,যাবে।।।তু,,,তুমি কিছুতেই যাবে না ওর সাথে,,কিছুতেই না।।(আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে)

কি বলছেন এসব??নীলি আপু কোথা থেকে আসবে??আর আমাকেই বা কেনো নিতে যাবে??আপনি জাস্ট স্বপ্ন দেখেছেন,,,

না,,ও ও বলেছে,,তুমি আমার থেকে ওকে বেশি ভালোবাসো।।তোমাকে আমার থেকে কেড়ে নিবে ও।।।নিয়ে যাবে,,,আমি আবার একা হয়ে যাবো।।।

আপনি শান্ত হোন প্লিজ,, দেখুন নীলি আপু এখানে নেই,,কেউ নেই এখানে,,,আমাকে নিবে না

ত,,তুমি তো আমার রোদ তাই না??ওর সাথে কেন যাবে??মোটেও যাবে না,,,,একদম যাবে না,,,আমি যেতে দিবো না ,, কিছুতেই না।।

আমি যাবো না,,,আপনি একটু শান্ত হোন,,,

ও নিয়ে যাবে,,,নিয়ে যাবো তোমায়।।।কি করি আমি??কিভাবে আটকাবো তোমায়??কি করবো আমি??কি করবো??

উনি হন্তদন্ত হয়ে এদিক ওদিক খুঁজে,, বালিশের পাশে রাখা আমার ওড়নাটা নিয়ে,,,উনার হাতের সাথে আমার হাতটা,শক্ত করে বেঁধে নিলেন,,,

এখন আর যেতে পারবে না,,, ও আর নিতেই পারবে না।।।আমার রোদকে আমি কেনো দিবো??কিছুতেই দিবো না,,,সবাইকে মেরে দিবো,,তবু নিতে দিবো না,(আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে)

মাঝরাতে উনার এমন পাগলামোতে আমি কি রিয়েকশন দিবো তাই বুঝতে পারছি না।।টুটালি বাচ্চাদের মতো বিহেভ করছেন।।

কেউ নিবে না আমায়,,,কারো এতো সাহসই নেই,,আপনি এমন পাগলামো বন্ধ করুন,,, নয়তো আমিই চলে যাবো,,

না,,,যেও না প্লিজ,,আমাকে রেখে যেয়ো না,,আমার কষ্ট হয় খুব,,(করুন গলায়)বলো যাবে না,,কখনো যাবে না,,,আমি যেতে দিবো না।।।

কথাগুলো বলেই বাচ্চাদের মতো ফুপিয়ে কাঁদতে লাগলেন।।।ইসসস,,,কি একটা পরিস্থিতি।। আমি উনাকে শান্ত কি করে করবো তাই বুঝতে পারছি না,,,,ক্রমাগত ফুপিয়ে চলেছেন,,সেইসাথে ঘেমে একাকার,,,আর এমনভাবে জড়িয়ে ধরে আছেন যেনো এখনি ধমফুটো হয়ে মরে যাবো।।আর কিছু না ভেবে,,নিজেকে কোনো রকম ছাড়িয়ে বাম হাতে উনার গলা জড়িয়ে উনার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলাম,,,উনি শান্ত হতেই ছেড়ে দিলাম,,,মুখের কি অবস্থা করেছেন,,,

শোয়ে পড়ুন তো ঘুমাবো,,,কাল কোচিং-এ যেতে হবে।।।

না,, না,,, কোথাও যাবে না তুমি।।শুধু আমার সাথে থাকবে,,,আর কোথাও যাবে না।।শুভ্রর রোদ,শুভ্রর কাছে থাকবে,,,

আচ্ছা কোথাও যাবো না,,,কিন্তু ঘুমাতে তো হবে,,ঘুম পাচ্ছে খুব।।

ঘুমালে ও তোমায় নিয়ে যাবে,,,,

নিবে না,,শুয়ে পড়ুন তো,,(বিরক্ত হয়ে)

উনি আমার কথায় পাত্তা না দিয়ে আমায় নিয়ে বিছানা থেকে নামলেন,,,সোফার সব কোশন নিয়ে বিছানার একপাশে রাখলেন,,,আলমারি থেকে বালিশ বের করে সেগুলোও পাশে রেখে আমাকে শুইয়ে দিয়ে গায়ে ভালো করে কম্বল পেঁচিয়ে দিলেন।।।তারপর আমার অন্যপাশে নিজে শুয়ে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে নিলেন।।আমি শুধু উনার কান্ড দেখছি।।সারাদিন নীলি নীলি করা ছেলেটা,,,আমাকে সেই নীলির হাত থেকে বাঁচাতেই এসব বাচ্চামো করছেন,,ভাবা যায়???বালিশ আর কম্বল দিয়ে আমাকে প্রটেক্ট করার চেষ্টা,,এটা বাচ্চামো নয়তো আর কি??উনার এসব পাগলামোতে হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না।।খুব ভালো করেই জানি,,সকাল হলেই সব ভুলে যাবেন,,তবু কেমন একটা শান্তি লাগছে।।

সকালে ঘুম ভেঙে উনাকে পাশে পেলাম না।।হাতের ওড়না খোলা।।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি নয়টা বাজে।।তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিচে নামতেই দেখি,,নিচে গল্পের আসর জমেছে।।ডান সাইডের সোফায় মধ্যবয়স্ক দম্পতি আর তাদের পাশে সাহেল ভাইয়া বসে আছে।।।এই সকালে উনাকে দেখে বেশ অবাক হলাম।।।সাহেল ভাইয়ার পাশের সোফায়,শুভ্র বসে আছে,,রিমোট হাতে ক্রমাগত চ্যানেল পাল্টাচ্ছে,,,তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে চরম বিরক্ত।।।আমি কাছে আসতেই সাহেল ভাইয়া বলে উঠলেন,,

মা-বাবা,,এইতো রোদ।।ওর কথায় তোমাদের বলেছিলাম।।

বাহ বেশ মিষ্টি তো,,

আসসালামু আলাইকুম,,

ওয়ালাইকুম আসসালাম,,, কেমন আছো মা??

জি ভালো,,

খুব মিষ্টি মেয়ে তো তুমি,,,(মুচকি হেসে)

মিষ্টি তো হবেই আমাদের মেয়ে বলে কথা,,,

তা ঠিক,,,তবে ভাইজান আজ একটা আবদার নিয়ে এসেছি,,,,আবদারটা কিন্তু রাখতে হবে,,

কি আবদার সেটা তো বলুন ভাবি,,

আসলে কথাটা সাহেলের বিয়ের ব্যাপারে,,,

বাহ,,সাহেলের বিয়ে??কবে?মেয়ের নাম কি??

তারজন্যেই তো তোমার কাছে আসা,,,

মানে??ঠিক বুঝলাম না,,,

তোমার ভাগ্নী রোদকে সাহেলের বেশ পছন্দ,,তোমরা রাজি থাকলে বিয়ের কথাটা পাকা করা যেতো আরকি,,,

উনার কথাটা শুনে আমি যেনো আকাশ থেকে পড়লাম।।।চারপাশে ভয়াবহ নিস্তব্ধতা।। বাড়ির সবাই তো অবাকই,,কাজের লোকরাও অবাক।।।এই প্রথম হয়তো শশুড়ের কাছে কেউ তারই পুত্রবধূর বিয়ের কথা বলছে।।।আমি আড়চোখে শুভ্রর দিকে তাকালাম,,,সে আগের মতোই চুপচাপ বসে রিমোট নিয়ে গুতাগুতি করছেন।।।যেনো ব্যাপারটাই তিনি মোটেও বিস্মিত নন।।।কিন্তু মামু ব্যাপারটি হজম করতে পারলেন না,,,

হোয়াটট???কি বলছো??ইম্পসিবল,,,,

#চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here