মেঘবতী_কন্যা পর্ব ১৩

0
100

#মেঘবতী_কন্যা পর্ব ১৩
#সুমাইয়া আক্তার মিম

মৃদু বাতাসের সাথে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা কাঁচের বিশাল থাই স্পর্শ করতে এক অন্যরকম সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়।ধিরে ধিরে ক্ষুদ্র বৃষ্টি কণা গুলো বিশাল আকার ধারণ করে তা এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে।সেদিকে একমনে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে রূপ।বৃষ্টি তাঁর বরাবরের মতো ভালো লাগে।এই অচেনা শহরে হঠাৎ বৃষ্টি বেশ ভাবচ্ছে তাকে। নিশ্চয়ই শীতের শুরু তাইতো শীতের আগমন উপলক্ষে এক’পলাশ বৃষ্টির দেখা। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম।
এতোক্ষণ হট চকলেট এর মগে ঠোঁট ভিজিয়ে আনমনে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছিলো রূপ। হঠাৎ এক জোড়া হাত তাকে আঁকড়ে ধরতে চমকে সিটিয়ে যায়। ছোটাছুটি করতে নিলে এক শীতল কন্ঠ কানে ভেসে আসে,

‘ইটস মি রূপজান এতো ভয় কেনো পাচ্ছো! আমি ছাড়া তোমাকে জড়িয়ে ধরার আর কারোর সাহস নেই।’

বারিশের কন্ঠ পেতে স্থীর হয়ে দাঁড়িয়ে পরলো ।বারিশ জড়িয়ে ধরে রূপের দৃষ্টির সাথে দৃষ্টি মিলিয়ে বাহিরের দৃশ্য দেখতে লাগল।বেশ কিছুক্ষণ উশখুশ করে চোখ বুজে ঠোঁট কামড়ে নিজেকে নিজের মনের মাঝে সাহস জুগাতে লাগলো কিছু বলার জন্য রূপ। বারিশ বাহিরের দৃশ্যের দিকে মনোনিবেশ করে গম্ভীর গলায় বললো,

‘এইভাবে আমার সম্পত্তির উপর অত্যাচার করবে না তাহলে কিন্তু তোমার অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে যাবে।’

বারিশের কথা শুনে রূপ চট করে ঠোঁট কামড়ানো ছেড়ে দিয়ে অবাক চোখ করে আড় চোখে বারিশকে দেখে নিলো।বারিশ শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে তাঁর দিকে।কী অদ্ভুত সেই দৃষ্টি।রূপ চোখ সরিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে বলতে লাগলো,

‘আ..আমার কিছু কথা ছিলো আপনার সাথে।’

‘হুম জান আমি তো সবসময় তোমার কথা শুনতে চাই।’

বারিশ মৃদু হেসে জবাব দিলো।রূপ একবার চোখ বন্ধ করে পুনরায় খোলে কোনোরকম ভণিতা না করে বলে উঠলো,

‘আমি আর পড়াশোনা করতে চাই না। অনেক পড়াশোনা করেছি আর করবো না। ইভেন্ট আর কখনো পড়াশোনার ধারের কাছেও যেতে চাইছি না ব্যস্।’

এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলে থামলো রূপ।ঘাড় ঘুরিয়ে বারিশের দিকে তাকাতেই মুখটা ছোট হয়ে গেলো।বারিশকে দেখে বেশ বুঝতে পেরেছে কথাগুলো তাঁর পছন্দ হয়নি।রূপ পুনরায় বলতে লাগলো,

‘প্লীজ আমি আর পড়াশোনা করতে চাই না। আমার একদম পড়তে ভালো লাগে না।কতো কষ্ট করে এতো টুকু পড়েছি আর নয়। আমি আর পড়তে পারবো না। আপনি প্লীজ আমাকে দয়া করে আগামীকাল এডমিশন করাবেন না।’

করুন স্বরে কথা গুলো বললো রূপ। রূপের কথা শুনে বারিশ রূপকে নিজের দিকে ঠিক-ঠাক ভাবে ঘুরিয়ে শক্ত গলায় বললো,

‘আমি তোমার পারমিশন চাইনি। তোমাকে পড়াশোনা কমপ্লিট করতে হবে এটা আমার লাস্ট কথা আর কোনো কথা হবে না।’

‘না আমি বলছি তো আর পড়াশোনা করবো না আপনি জোর কেনো করছেন?এতো পড়াশোনা করে কী হবে?বিয়ে হয়ে গিয়েছে এখন মনোযোগ দিয়ে সংসার করতে হবে।এসব পড়াশোনা করার আমার একদম সময় নেই হু। আপনার ইচ্ছে করলে আপনি পুনরায় ভর্তি হতে পারেন। আমার কোনো সমস্যা নেই।’

চটপট ছন্নছাড়া ভাবে কথাগুলো বলে থামলো রূপ। চোখ তুলে বারিশের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো সে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে তাঁর দিক। নিশ্চয়ই রেগে গিয়েছে এমন খাপছাড়া কথা শুনে।এখন রাগকে প্রাধান্য দিলে চলবে না সাহস জুগিয়ে নিজের পড়াশোনা না করার মিশন জারি রাখতে হবে।রূপ পুনরায় বলতে লাগলো,

‘দেখুন আমার মোটেও পড়তে ভালো লাগে না আর দাদী বলেছে বিয়ে হয়ে গেলে মানুষ বড় হয়ে যায় তখন তাদের আর পড়াশোনা করতে হয় না তখন তারা সংসারে মনোনিবেশ করে। আমারও বিয়ে হয়ে গিয়েছে, সো আমিও বড়।এখন কী আর বাচ্চাদের মতো পড়াশোনা মানায়?’

রূপের ভাবলেশহীন অদ্ভুত কথা শুনে বারিশ চোখ ছোট ছোট করে তাঁর দিকে তাকালো। ধমকে গম্ভীর গলায় বললো,

‘গালটা লাল করতে ইচ্ছে না হলে এসব আজগুবি কথা বলা বন্ধ করবে। এসব ফালতু লজিক কোথায় থেকে আসে তোমার মাথায়।আর কী বলছিলে বড় হয়ে গিয়েছে?’

ভ্রু কুঁচকে ভালো করে পা থেকে মাথা পর্যন্ত স্ক্রেন করতে লাগলো।বারিশের এমন তাকানো দেখে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে রূপের।বেশ সাহস দেখালেও ভেতরে ভয়ে ফেটে যাচ্ছে সে।বারিশ রূপের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বাঁকা হেসে বললো,

‘কোথায় বড় হয়ে গিয়েছে, আমার কাছে তো তোমাকে সব এ্যঙ্গেলে বাচ্চা মনে হয়।’

বারিশের এমন খাপছাড়া কথা আর ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা দুষ্টু হাসি দেখে রূপ বেশ বুঝতে পারছে এই নির্লজ্জ ছেলে তাকে নিজের কথার জালে ফাসাচ্ছে।রূপ নড়েচড়ে আশপাশ হয়ে পুনরায় সাহস জুগিয়ে বলতে লাগলো,

‘দেখুনননন আমি কিন্তু আর পড়বো না।আর ভার্সিটিতেও ভর্তি হবো না।’

বারিশ রূপের কোমড় জড়িয়ে নিজের সাথে শক্ত করে মিশিয়ে নিলো।রূপ কিছুটা কেঁপে উঠে চোখ বুজে নিলো।বারিশ বাঁকা হেসে ফিসফিস করে বলতে লাগলো,

‘নোপ জান তোমাকে পড়তেই হবে। ভবিষ্যতে যখন আমাদের বেবি জানবে তাদের আম্মি শুধুমাত্র ইন্টার পাশ পিচ্চি কেমন বাজে শুনা যাবে বলো।’

‘যেমনি শুনা যাক আমি পড়বো না ব্যস্।’

চোখ মুখ কুঁচকে দাঁত খিচে বললো। রূপের কথা শুনে বারিশের এখন ভীষণ রাগ হলো।এই মেয়ে বড্ড ঘাড় ত্যাড়া ভালোভাবে কখনো কিছু শুনবে না ‌। পড়াশোনাকে এমন করে ভয় পায় জেনো কেউ তাকে হাত পা বেঁধে তেলাপোকাদের রাজ্যে ছেড়ে দিয়েছে।বারিশ হাত দিয়ে নিজের চুল গুলো টেনে মৃদু ধমকে বললো,

‘জাস্ট স্টপ রূপজান।এই বিষয়ে আর একটি কথা নয়। আমাকে রাগাবে না তাহলে ফল ভালো হবে না।যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো।’

‘না আমি পড়াশোনা করতে চাইছি না বলেছি তো।’

বারিশের এইবার রাগের মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে।রাগের কারণে চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছে বেশ। সেদিকে তাকিয়ে রূপ ঢোক গিলে থেমে যায়।আর কিছু বলার সাহস নেই,এর থেকে কিছু বললে নির্ঘাত মৃত্যু।বারিশ নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে সজোরে রূপের পেছনের থাইয়ে আঘাত করে। শক্ত কাঁচের থাই হওয়াতে ভেঙ্গে গুড়িয়ে যায়নি কিন্তু বেশ কিছুটা স্কেচ পড়ে যায় থাইয়ের গায়ে।রূপ ভয়ে কেঁপে উঠলো।কাঁপা কাঁপা ভাবে হালকা ঘাড় ঘুরিয়ে থাইয়ের দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠে বারিশের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকালো।বারিশ রূপের দিকে হাত উঁচিয়ে আঙ্গুল নাড়িয়ে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো,

‘ডোন্ট টক!এই বিষয়ে আর কোনো কথা নয়। তোমাকে পড়াশোনা করতে হবে এটা তোমার ইচ্ছে নয় আমার আদেশ।আর একটি কথা বললে পুনরায় আঘাতটি তোমার মুখে হবে।এখন ফ্রেশ হতে যাবে ফাস্টটটট!’

‘আহ্ যা…..যাচ্ছি!যাচ্ছি তো। এমন চিৎকার করছেন কেনো?

বলে বারিশের দিকে আর তাকালো না ভৌ’দৌড় দিয়ে ওয়াসরুমে ডুকে দরজা দরাম করে বন্ধ করে দিলো। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম। কোমড়ে হাত রেখে ওয়াসরুমের এদিক সেদিক পায়চারী করতে লাগলো।হাত দিয়ে কপাল স্পর্শ করতে বুঝতে পারলো ঘেমে গিয়েছে। চোখ মুখ কুঁচকে নাক ফুলিয়ে বলতে লাগলো,

‘ব্রিলিয়েন্ট জামাই থাকলে যা হয়। অসভ্য।আমি বাচ্চা হলে আপনি বুইড়া জামাই মি.কোলবালিশ।’

বেশ কিছুক্ষণ এদিক সেদিক করে হঠাৎ ঠোঁট উল্টিয়ে বিরবির করে বলে উঠলো,

‘উহু হু আবার পড়াশোনা!’

___

নিজেদের বিশালবহুল পাঠাগার ঘরের একটি কাঁচের টেবিলে বসে নিজের অফিসের কাজ করছেন নিলয় খান।দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো রাত একটা পনেরো বাজতে চললো।এটা তাঁর কাছে আহামরি বিষয় নয় বরং তিনি গভীর রাতে কাজ করতে পছন্দ করেন এর জন্য স্ত্রীর বেশ কথাও শুনতে হয় তাকে। হঠাৎ পাঠাগারের দরজা খটখট শব্দ করতে সেদিকে তাকিয়ে দেখলো বারিশ প্রবেশ করছে। সেদিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে চোখের চশমাটা টেবিলের উপর রেখে বলেন,

‘কী হয়েছে মাই সান এতো রাতে এখানে কী করছো?’

‘নাথিং আব্বিজান। আপনার সাথে কিছু প্রয়োজনীয় কথা ছিলো।’

চেয়ারে বসতে বসতে গম্ভীর গলায় বললো।বারিশের কথা শুনে নিলয় খান ছেলের দিকে তাকিয়ে অতি শান্ত গলায় বলেন,

‘আই নো তুমি রূপের বিষয়ে কথা বলতে এসেছো। কিছুক্ষণ থেমে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলতে লাগলো, তোমার মনে হয় না রূপকে এইবার একটু আজাদি দেওয়ার প্রয়োজন।’

নিলয় খানের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে রাগি গলায় টেবিলে থাবা দিয়ে হুংকার দিয়ে বলে উঠলো,

‘প্রশ্নই আসে না। কোনো আজাদি হবে না আর। অনেক আজাদি দিয়েছি।এখন আর কোনো আজাদি আমি রূপকে দিচ্ছি না।রূপ শুধু আমার কাছে থাকবে,আমাকে ভালোবাসবে। আমার থেকে রূপকে আলাদা থাকার কথা ভুলেও বলবেন না আব্বিজান। অনেক কষ্টে নিজেকে দমিয়ে রেখেছি আর রাখবো না।’

নিলয় খান উত্তেজিত হয়ে ছেলের কাঁধে হাত রেখে শান্ত হতে বলছেন।কিছুটা গম্ভীর হয়ে ধীর গলায় বলতে লাগলেন,

‘শান্ত হও বারিশ। অতিরিক্ত মাত্রায় রাগ ভালো নয় এতে করে প্রিয় জিনিস হারাতে হয়। তোমার অতিরিক্ত রাগের কারনে তোমাকে এতো বছর রূপের থেকে দূরে থাকতে হয়েছে সেটা ভুলে যাবে না।’

নিলয় খানের কথা শুনে এইবার দমে যায় বারিশ।ভ্রু কুঁচকে মাথা নিচু করে শক্ত হয়ে বসে রইল।নিলয় খান ছেলের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলেন,

‘তোমাকে নিজের রাগের উপর কাবু আনতে হবে রূপ এবং নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। অতিরিক্ত রাগ মানুষকে কষ্ট দেয় ‌।আর আজাদি মানে তোমাকে রূপের থেকে দূরে থাকতে হবে তেমন নয়, তুমি রূপের কাছাকাছি থাকার জন্য তাকে তাঁর মতো চলতে দিতে হবে। রূপের ভালো লাগা খারাপ লাগা দিক গুলো দেখতে হবে। মনে রাখবে কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। তেমনি রূপকে সারাজীবন নিজের মনের সাথে বেঁধে রাখতে হলে তাকে কিছুটা স্বাধীনতা দিতে হবে। এমন করে তো চলে না।’

‘ওকে ডান।আজাদি রূপ পাবে কিন্তু সেটা আমার নিয়মে।আজ থেকে আমি রূপকে উড়তে দিয়েছে নিজের তৈরি করা খাঁচায়।এখানে প্রান খুলে উরতে পারবে কারণ খাঁচার আয়াতন বিশাল। এতে করে রূপ আমার আয়তন থেকে বের হতে পারবে না তাঁর পূর্বে হাঁপিয়ে যাবে।’

কথা গুলো বলে বড়বড় পা ফেলে রুম থেকে বের হয়ে যায় বারিশ। সেদিকে তাকিয়ে মৃদু হাসেন নিলয় খান।ছেলে তাঁর সত্যি এক রহস্যে ঘেরা, তিনি বাপ হয়েও ধরতে পারছেন না।এই রহস্য শুধু রূপই উদঘাটন করতে পারবে তাঁর বিশ্বাস। ভীষণ ভালোবাসে রূপকে,একদম পাগলের মতো তা নিয়ে এতো বছর ভীষণ টেনশনে ছিলেন তিনি।বারিশের অতিরিক্ত ভালোবাসার কারনে ভালোবাসার সামান্য দূরত্বে সে রাতের পর রাত ছটপট করেছে।বারিশ রূপের একত্রিত হওয়া সকলের টেনশনের অবসান ঘটেছে।এতো কালের অপেক্ষা, কষ্ট গুলো এক বিচিত্র মানুষে পরিণত করিয়েছিল বারিশকে।এখন রূপের ছোঁয়া সব ঠিক হয়ে যাবে ভাবতেই মুখে হাঁসি ফুটে উঠল।

__
পরেরদিন সকাল বেলায় খাবার খেয়ে রূপকে নিয়ে বারিশ চলে যায় ভার্সিটিতে এডমিশন করানোর উদ্দেশ্য। সারা রাস্তায় রূপ মুখ ফুলিয়ে জানালার বাহিরে তাকিয়ে ছিলো।বারিশ এটা সেটা বলে রূপের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে কিন্তু রূপ হু হা ছাড়া আর কোনো উত্তর দিচ্ছে না।বারিশের ভীষণ রাগ হলো,এই মেয়ে এতো জিদ্দি কেনো? বারিশ দাঁতে দাঁত চেপে রাগ কমানোর চেষ্টা করছে।হঠাৎ জোরে গাড়ি থামাতেই রূপ ভয়ে কিছুটা চমকে বারিশের দিকে তাকাতে নিবে তাঁর পূর্বে ঝড়ের গতিতে বারিশ রূপের মুখোমুখি হয়ে যায়। রূপের দুটো হাত নিজের এক হাতের মাঝে নিয়ে পিঠের দিকে মুড়িয়ে নিলো আর অন্য হাত রূপের কাঁধের কাছে সিটে চেপে ধরলো।বারিশের রাগের কারনে মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। সেদিকে তাকাতে পর্যন্ত পারছে না রূপ।ভেবেছিল একটু রাগের অভিনয় করে ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়াটা ক্যানসেল করতে চেষ্টা করবে উল্টো বরিশ রেগে আগুন হয়ে গিয়েছে।না জানি এখন তাকে কী করে। একদম ঘায়েল বাঘ লাগছে বারিশকে।রূপ কাঁপা কাঁপা গলায় কিছু বলতে নিবে বারিশ হিসহিসিয়ে বললো,

‘হুসসস রূপজান। এমন করে গাল ফুলিয়ে কেনো রেখেছো। পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করছে না।’

বারিশের বাঁকা হাসির সাথে এমন হিসহিসানো কথা শুনে রূপ মেকি হেসে উপর নিচ মাথা দুলিয়ে চট জলদি বলে উঠলো,

‘ইচ্ছে করছে তো! খুব পড়তে ইচ্ছে করছে।আমি তো মনে মনে ভাবছি আজকে ভর্তি হয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে এসে পড়তে বসে পড়বো।জানেন কতো দিন পড়ি না বড্ড মিস্ করছি।’

ডাহা মিথ্যা কথা বলে আফসোস সুরে ইনোসেন্ট ফেইস করে বারিশকে বুঝাতে লাগলো। রূপের এমন কথা শুনে বারিশ রূপের গালে স্লাইট করতে করতে ভ্রু নাচিয়ে গম্ভীর গলায় বলতে লাগলো,

‘রিয়েলি রূপজান!তাহলে মুখ ফুলিয়ে কেনো রেখেছ। তাহলে নিশ্চয়ই আদর খেতে ইচ্ছে করছে।’

বাঁকা হেসে কথা গুলো বলে রূপের গালে নাক ঘষতে লাগলো।রূপ স্থির হয়ে জমে চোখ মুখ খিচে সোজা হয়ে বসে রইল। বেশি পাকনামি করলে যা হয়। এখন বসে বসে তাকে রোমান্টিক অত্যাচার সহ্য করতে হবে।

#চলবে,,,❣️

[লেখিকা-সুমাইয়া আক্তার মিম✵]

(আজকের পর্বটা কেমন হয়েছে সকলের গঠন মূলক মন্তব্য আশা করছি।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here