মেঘবতী_কন্যা পর্ব ১৫

0
103

##মেঘবতী_কন্যা পর্ব ১৫
#সুমাইয়া আক্তার মিম

নিরব নিস্তব্ধ হল’রুম জুরে পিন ডপ আওয়াজ পর্যন্ত নেই,সবাই জেনো নিরবতা পালন করছে। হলরুমের মাঝামাঝি বড় সোফাটির উপর আয়েশি ভঙ্গিতে বসে আছে বারিশ, হেলান দিয়ে মাথার পিছনে একহাত ভর দিয়ে চোখ বুঝে রয়েছে সে।বারিশের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাড়ির সকল সদস্য,গার্ড, সার্ভেন্ট। সকলে ভয়ে মাথা নিচু করে রেখেছেন কারন বারিশের শান্ত চেহারা আর তখনকার রূপের বিষয়টি নিয়ে এখনকার সভা সেটা সকলে বেশ বুঝতে পেরেছে যার দারুন প্রভাব ভয়ে সকলের নাজেহাল অবস্থা।মিথিলা খান ছেলের পাশে বসে গভীর ভাবে তাকে পর্যবেক্ষণ করছে তিনি মূলত বারিশের চিন্তা ধারনা বুঝার বিফল চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তাঁর পাশে বসে রিনি ভয়ে কয়েকবার আড়চোখে ভাইকে পর্যবেক্ষণ করে নিলো।বারিশের এমন শান্ত চেহারা ঠিকঠাক হজম হচ্ছে না তাঁর,আজ নির্ঘাত বড় ধরনের ঝড় উঠবে।সচরাচর বারিশ সবসময় বেশি রেগে গেলে চুপচাপ থাকেন পরক্ষনেই তাঁর তীব্র রাগ সকলকে ভস্ম করে।হলরুমের উপস্থিত একেক জনের ঘাম ছুটে গিয়েছে ভয়ে। সকলের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে।রূপ নিজের রুমে আরাম করে ঘুমিয়ে আছে, এসব বিষয়ে অবগত নয় সে।বারিশ চোখ খুলে কয়েকবার ঘাড় এদিক সেদিক করে টানটান ভাবে বসে সকলের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো, বাঁকা হেসে ছোট টেবিলের উপর থেকে একটা ফল কাঁটার ছুরি নিয়ে সেটার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে গম্ভীর গলায় বললো,

‘দীর্ঘ বছর ধরে যেখানে একটি সামন্য ভুল হয়নি সেখানে এতো বড় জঘন্য ভুলটি কী করে হলো?’

বারিশের এমন হিসহিসিয়ে গম্ভীর কথা শুনে নিস্তব্ধ মহলে সূক্ষ্ম কাঁচ ভাঙ্গা ন্যায় ঝংকার দিয়ে উঠলো। সকলে ভয়ে মাথা নিচু করে কাঁপতে লাগলো,একে অন্যের দিকে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করছে কে সে অপরাধী যে দীর্ঘ দিনের নিয়ম ভঙ্গ করে এমন একটি কাজ করেছে।বারিশ দ্বিতীয় বার হুংকার দিতে সকলের কাঁপা কাঁপির পরিমাণ বেড়ে যায়, সকলে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।বারিশ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সকলকে পরক্ষ করছে ,পুনরায় আগের ন্যায় গলায় গম্ভীর রেখে বললো,

‘যেখানে আমার পারমিশন ছাড়া একটি পোকা বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে না সেখানে এতো গুলো রজনীগন্ধা ফুল কী করে প্রবেশ করেছে।আন্সার মি।’

চিৎকার করে কথাগুলো বলতে রিনি ভয়ে মায়ের হাত খামচে ধরে।আজকে বারিশ সবকটার মাথা কাটবে নির্ঘাত।সকলে ভয়ে ভয়ে মাথা নিচু করে রেখেছে কারোর সাহস নেই কিছু বলার।মিথিলা খান ধীর গলায় ছেলের উদ্দেশ্য করে বলেন,

‘শান্ত হও বারিশ। নিজের রাগের উপর কাবু আনার চেষ্টা করো।রূপ ঘুম থেকে উঠে তোমার এমন রাগী চেহারার দেখে ভয় পাবে,আমরা সকলে অভ্যস্ত হলেও সে নয়।তাই যাই করবে মাথা ঠান্ডা রেখে করবে।’

মিথিলা খানের কথা গুলো শুনে বারিশ দাঁত কিরমির করতে লাগলো,সকলের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে এক ভ্রু উঁচিয়ে পুনরায় অতি শান্ত গলায় ধীরে ধীরে বলতে লাগলো,

‘কি করে হয়েছে?কে করেছে? এবং কেনো হয়েছে?এই তিনটির জবাব চাই একদম পরিস্কার ভাবে।সো টাইম স্টার্ট।’

বারিশের এমন কথা শুনে উপস্থিত সকলে একে অপরের দিকে তাকাতে লাগলো।সকলে সঠিক অপরাধীকে তল্লাশি করছে।
লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম।কিছুক্ষণ এর মাঝে মুল অপরাধী কাঁপা কাঁপা পায়ে বারিশের সামনে এসে হাজির হলেন। একজন মহিলা সার্ভেন্ট মাথা নিচু করে কাঁপতে লাগলো তাঁর কাঁপুনি দেখে মনে হচ্ছে এখুনি সে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাবে। একদম যমদূতের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এখনি প্রাণটা গেলো বলে!বারিশ গম্ভীর দৃষ্টিতে পরক্ষ করছে সার্ভেন্টিকে তাঁর দৃষ্টি দেখে শুকনো ঢোক গিলে কপালের ঘাম টুকু মুছে বলতে শুরু করলো,

(ইংরেজিতে বলছে বাংলায় অনুবাদ করা হলো)
‘স্যার হ্যাপি নিউ ইয়ার উপলক্ষে অফিস এবং বিভিন্ন জায়গায় থেকে ফ্লাওয়ার আসছে গত দুই দিন যাবত আজকেও এসেছে।সেই ফুলের সাথে এই ফুল গুলো ছিলো আমি খেয়াল করিনি, ভুলবশত টেবিলের উপর রেখে দিয়েছি।প্লীজ স্যার এবারের মত ক্ষমা করে দিবেন পরবর্তীতে আর হবে না।’

অত্যন্ত ভয়ের সাথে কাঁপা কাঁপা গলায় কথাগুলো সম্পূর্ণ করে মাথা নিচু করে কাঁদতে লাগলো।বারিশ বাঁকা হেসে হাতের ছুরিটার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললো,

‘মিসেস হেনা! আপনি গত আট বছর যাবত এখানে রয়েছেন সেখানে আপনার ভুলটি খুব আন-এক্সপ্ক্যাটেড।’

ঠোঁট উল্টিয়ে কিছুটা ব্যঙ্গ করে কথাগুলো বললো।বারিশের কথা শুনে মিসেস হেনা পুনরায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললো,

‘প্লীজ স্যার এবারের জন্য মাফ করে দিন আর হবে না।’

মিনিটে বারিশ রেগে দাঁতে দাঁত চেপে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করার বৃথা চেষ্টা করতে লাগলো। চোখ দুটো ভীষণ লাল হয়ে গিয়েছে রাগে।রাগ কমাতে না পেরে খুব সুন্দর করে হাতের ছুরি দিয়ে মিসেস হেনার হাতে আঘাত করলো সাথে সাথে সামান্য জায়গা কেটে ফিনকে রক্ত ঝরতে শুরু করলো। মিসেস হেনা চিৎকার করতে গিয়ে মুখ চেপে ধরে কান্না আটকিয়ে নিলো। উপস্থিত সকলের ধারণা ছিল এমন কিছু একটা হবে তাই কারোর তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো না।বারিশ অত্যান্ত সাবধানতার সাথে আঙ্গুল উঁচিয়ে হিসহিসিয়ে বলতে লাগলো,

‘একদম আওয়াজ হবে না এর থেকে দিগুন কষ্ট আমার রূপজানের হয়েছিল আপনার সামান্যতম বোকামির জন্য। এখুনি আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবেন।আউটটটট।’

কিছুটা চিৎকার করে বলে উঠলো।বারিশের চিৎকার শুনে উপস্থিত সকলে ভয়ে কেঁপে উঠলো।
লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম। মিসেস হেনা ভিতু গলায় মাফ চাইতে নিলে বারিশ বাঘের ন্যায় গর্জন দিয়ে বলে উঠলো,

‘আর একটা কথা হবে না। নিজের জীবন দামি হলে জাস্ট গো। আপনার জানা আছে আপনাদের ছোট স্যার রেগে গেলে কতোটা জঘন্য হয়ে যায়।আপনার ভাগ্য ভালো আপনি ভুলটি বাড়িতে অবস্থান করে করেছেন যদি অন্য কোথাও হতো এতোক্ষণ দু’শব্দ বলার জন্য আপনি থাকতেন না।ইউ নো না।

বারিশের বাঁকা হাসির সাথে এমন হিসহিসানো কথা শুনে মিসেস হেনা কোনোরকম প্রতিক্রিয়া না করে উল্টো দৌড় দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তাঁর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসে বারিশ। পেছন থেকে মিসেস মিথিলা ছেলের কাঁধে হাত রেখে শান্ত গলায় বলেন,

‘বারিশ ভুলে যাবে না তোমার জীবনের সাথে রূপ সম্পূর্ণ ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে তাই এমন কিছু করবে না যা রূপকে বিন্দুমাত্র কষ্ট দেয়।রূপ কতোটা সেনসিটিভ এবং সফট মনের সেটা তোমার জানা আছে। পরবর্তীতে জেনো এমন কাজ বাড়িতে না হয়।’

কথা গুলো বলে মিসেস মিথিলা সেখানে উপস্থিত সকলকে যার যার কাজে পাঠিয়ে দিয়ে নিজের রুমে চলে যান।রিনিও মায়ের আঁচল ধরে তাঁর পেছন পেছন চলে যায়।বারিশ বেশ কিছুক্ষণ গম্ভীর ভাবে কিছু ভেবে বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে ভ্রু স্পর্শ করে গার্ডদের মিটিং রুমে আসতে বলে সেখান থেকে প্রস্থান করে।

___
বাহারি রঙের ফুলের বুকে দিয়ে সজ্জিত হয়েছে হলরুমের চারিপাশ। হলরুমের একসাইটের বেশ অনেকটা জুরে ফুলের বুকে রাখা হয়েছে,সার্ভেন্টরা সেগুলো একে একে সাজিয়ে রাখছে। ঘুম থেকে উঠে সোজা নিচে চলে আসে রূপ চারিদিকে চোখ বুলিয়ে এতো ফুল দেখে বেশ অবাক হয় সে।আজকে কী কোনো স্পেশাল দিন যে এতো ফুলের সমাহার!কথাটা ভেবে পরক্ষনেই খুশি মনে ছুটে যায় ফুলেদের মাঝে। নাড়াচাড়া করে সব ফুল গুলো দেখতে লাগলো সে, আশেপাশে কোথাও বারিশ এবং বাড়ির কাউকেই দেখতে পেলো না। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম।একজন সার্ভেন্ট আরো কিছু ফুলের বুকে আনিয়ে রাখতে রূপ খুশি মনে উত্তেজিত হয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে বললো,

‘এতো এতো ফুল কিসের জন্য আজকে কী খুব স্পেশাল কিছু আছে !’

রূপের কথা শুনে আর এমন ব্যবহার দেখে সার্ভেন্টি মৃদু হেসে মাথা নিচু করে বললো,

‘নো ম্যাম এগুলো গিফট আজ থেকে দুই দিন পর হ্যাপি নিউ ইয়ার সেই উপলক্ষে এগুলো বিভিন্ন জায়গায় থেকে আসছে।’

‘দুই দিন পর হ্যাপি নিউ ইয়ার আর এতো আগে থেকে এতো এতো ফুল আসছে! অদ্ভুত বিষয় তো!’

রূপ অনেকটা অবাক হয়ে গালে হাত রেখে চমকে যাওয়া অভিনয় করে বললো। রূপের কথা শুনে সার্ভেন্ট পুনরায় বললো,

‘জ্বী ম্যাম প্রতিবারই আসে।প্রতিটি ডে তে এমন গিফট আসতে থাকে সবসময়।’

রূপ ফুলের পাশে গিফট গুলো নাড়া চাড়া করে ঠোঁট উল্টিয়ে বললো,

‘আমাদের ওখানে তো এমনটা কখনো হয়নি। শুধু কয়েকটি বোমা আই মিন ভাজি ফুটাবে আর হয়ে গেলো হ্যাপি নিউ ইয়ার।’

কিছুটা আফসোস সুরে বললো। রূপের কথা শুনে সার্ভেন্টি মৃদু হেসে বললো,

‘আপনার কী কিছু চাই ম্যাম!’

রূপ এদিক সেদিক তাকিয়ে বললো,

‘আমাকে শুধু কিছু কাঠগোলাপ ফুল দিন তাহলেই চলবে।’মৃদু হেসে।

রূপের কথা মতো কিছু কাঠগোলাপ তাকে দিতে সে ধন্যবাদ জানিয়ে সেগুলোকে নিয়ে সোফায় গিয়ে বসে পরে। কিছুক্ষণ বাদে রিনি এসে তাঁর সাথে গল্প করতে লাগল।দুই দিন বাদে হ্যাপি নিউ ইয়ার তা নিয়ে আলোচনা করছে দুজন।রূপ কথার মাঝে এদিক সেদিক তাকাতে দেখে রিনি ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞাসা করলো কি খুঁজছে সে।রূপ একবার চারিদিকে তাকিয়ে বিরক্তির সুরে বলে উঠলো,

‘মিসেস হেনা কোথায়? ওনাকে বাগান থেকে কিছু আনাতে পাঠিয়েছিলাম, সেই কখন বলেছিলাম মনে হয় ভুলে গিয়েছে।’

মিসেস হেনার কথা শুনে রিনি চুপ হয়ে যায়। হঠাৎ রিনিকে চুপ হয়ে কিছু চিন্তা করতে দেখে রূপ ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করলো,

‘কি হয়েছে এমন করে আছো কেনো।আর মিসেস হেনাকে কেনো দেখতে পাচ্ছি না।ওয়েট আমি দেখে আসছি।’

উঠে যেতে নিলে রিনি তাকে কিছু বলবে তাঁর পূর্বে বারিশ বলে উঠলো,

‘মিসেস হেনা বাড়ি চলে গিয়েছে ওনার কিছু প্রয়োজনীয় কাজ পরেছে, কিছু দিন আসবে না। তোমার কাজ অন্য সার্ভেন্ট করে দিবে।’

হঠাৎ বারিশের গম্ভীর গলা শুনতে পেয়ে তাঁর দিকে তাকালো।বারিশ রূপের সামনে এসে তাঁর দিকে অত্যান্ত শান্ত গলায় বললো,

‘তোমার সকল প্রয়োজনীয় কিছু দেখার জন্য অনেক সার্ভেন্ট রয়েছে।আর তোমার যা কিছু প্রয়োজন সব আমাকে বলবে অন্য কাউকে বলার প্রয়োজন নেই বুঝতে পেরেছো।’

বারিশ রূপের কপালের চুল ঠিক করে দিলো খুব যত্ন সহকারে।রূপ বারিশের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো,

‘আমার ভীষণ আমলকী খেতে ইচ্ছে করছে বাগান থেকে গিয়ে পেরে নিয়ে আসবেন প্লীজ।’

রূপের এমন বিদ্রুপ কথা শুনে রিনি ফিক করে হেসে দিলো,বারিশ চোখ লাল করে তাঁর দিকে তাকাতেই ভয়ে সে শুকনো ঢোক গিলে ধীরে ধীরে সেখান থেকে পালিয়ে নিজের রুমে চলে যায়।রিনিকে চলে যেতে দেখে রূপ বেশ ভিতু চোখে বারিশের দিকে তাকালো।বারিশের লাল লাল চোখ করে রূপের দিকে তাকিয়ে আছে। রূপ শুকনো ঢোক গিলে বলতে লাগলো,

‘না মানে আপনি কাউকে বলে দিলে হবে আর খুব একটা প্রয়োজনীয় বিষয় নয়। হুম।’

রূপ ঘাড় চুলকিয়ে কিছুটা হাসার চেষ্টা করলো।বারিশ বাঁকা হেসে শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে ধীরে ধীরে রূপের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো।বারিশকে এমন এগিয়ে আসতে দেখে রূপ বেশ ভয় পেয়ে যায়।রূপ পিছাতে পিছাতে পড়ে যেতে নিলে বারিশ টান মেরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো,খুব শক্ত করে রূপের কোমড় জড়িয়ে ধরলো।রূপ মুখ কাচুমাচু করে এদিক সেদিক আশপাশ করছে, চারিদিকে চোখ বুলিয়ে দেখলো কেউ হলরুমে নেই যার যার কাজে রয়েছে।বারিশের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো সে নেশা ভরা দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে সাথে সাথে চোখ নামিয়ে নিল রূপ।বারিশ জেনো নেশায় বুঁদ হয়ে রয়েছে বড্ড মাতাল মাতাল লাগছে তাকে।এই মাত্রারিক্ত অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকাতে পারছে না রূপ। এমন দৃষ্টিতে দৃষ্টি মেলানোর সাহস কোনো কালেই হয়ে উঠেনি এখনো না।বারিশের অদ্ভুত সুন্দর চোখের দিকে তাকালে রূপ হারিয়ে যায় সেখানে এই দৃষ্টি তো মারাত্মক। হঠাৎ বারিশ তাঁর খুব কাছে চলে আসতে ভয়ে কেঁপে উঠে চোখ চেপে বন্ধ করে নিলো।বারিশ মৃদু হেসে ফিসফিসিয়ে বলতে লাগলো,

‘খুব কথা ফুটেছে দেখছি মুখে সাথে বুদ্ধিও হয়েছে। এগুলো কী সব আমার প্রতিদিন আদর করার ফল! তাহলে তো আরো বেশি বেশি করতে হয় যদি আরেকটু বুদ্ধি হয় তোমার ছোট মাথাটায় মন্দ হবে না কী বলো?’

বারিশের কথা শুনে চট করে বারিশের দিকে তাকালো সে আপাতত তাঁর দিকে আগের ন্যায় তাকিয়ে আছে। আরেকটু কাছে আসতে দেখে পুনরায় চট করে চোখ বন্ধ করে নিলো রূপ সেদিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে বারিশ। পুনরায় আগের ভঙ্গিতে ফিসফিস করে বলতে লাগলো,

‘কী বলছিলে আমলকী খেতে ইচ্ছে করছে।ওটা খেয়ে ভালো লাগবে না তাঁর থেকে বরং তুমি চুমু খাও তাহলে আরো বেশি বুদ্ধিমান হবে।

বারিশের কথা শুনে রূপ এইবার এদিক সেদিক করতে লাগলো ছুটার জন্য তা দেখে বারিশ বাঁকা হেসে আরো চেপে ধরে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে নিলো। রূপের দিকে আরেকটু এগিয়ে আসতে নিলে রূপ মুখ এদিক সেদিক করে চোখ মুখ কুঁচকে বলতে লাগলো,

‘ছারুন কী করছেন। কেউ দেখলে কী ভাববে?’

‘উহু কেউ কিছু ভাববে না এবং দেখবেও না। তোমার তো খুব সাহস উদয় হয়েছে এখন এমন কাপছো কেনো! আমিও দেখি আমার পরিজানের কতোটুকু সাহস উদয় হয়েছে।’

হাত চেপে আরো শক্ত করে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।রূপ এবার কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,

‘আর জীবনেও আপনাকে কিছু বলবো না প্লীজ ছারুন না। অদ্ভুত মানুষ তো আপনি বউ আমলকী খেতে বলেছে এনে তো দিচ্ছেন না উল্টো কথার জালে ফাঁসিয়ে শাস্তি দিচ্ছেন।’

রূপের কথা শুনে বারিশ বাঁকা হেসে বললো,

‘বউকে আদর করছি।এর থেকে বেশী ইয়ামি টেসটি কিছু হতে পারে? বুঝেছি আরো আদরের প্রয়োজন বললেই হলো এতো লজ্জা পাওয়ার কী আছে।’

‘ছিহ কী নির্লজ্জ আপনি।’নাক কুঁচকে

‘তোমারি তো সুইটহার্ট।’বাঁকা হেসে

বারিশের এমন লাগামহীন কথা শুনে রূপের ইচ্ছে করছে নিজের সকল চুল ছিরে ফেলতে সাথে বারিশেরও। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম।কেনো যে বলতে গেলো।এবার বারিশের সাথে লাগতে আসা খুব ভারি পরবে তাঁর উপর। সত্যি নির্লজ্জ কোলবালিশ, নির্লজ্জ থেকে বড় কিছু থাকলে সেটাও বারিশ হতো।একে তো নির্লজ্জের অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন।একটা মানুষ এতোটা লজ্জাহীন কী করে হতে পারে।

‘যদি এতো সুন্দর বউ হয় তাহলে স্বামী তো মাত্রাহীন নির্লজ্জ হবেই রূপজান।’

বাঁকা হেসে চোখ টিপে বললো।বারিশের কথা শুনে রূপ হা করে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলো।বারিশ মুচকি হেসে রূপকে কোলে তুলে নিলো। হঠাৎ এমন হওয়া রূপ ভয় পেয়ে বারিশকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সেদিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেলো বারিশ।রূপ চিৎকার করে বললো,

‘কী করছেন মি.কোলবালিস? নামিয়ে দিন আমাকে কী করছেন!’

‘তোমার যাতে করে আর আমলকী খেতে ইচ্ছে না করে সেই ব্যবস্থা করছি।সো চিল্ এন্ড ফিল দিস মুমেন্ট ওকে পরিজান।’

রূপ বারিশের কথা শুনে কোলের মাঝে লাফালাফি করতে লাগলো, চিৎকার করে বলতে লাগলো,

‘নামান আমাকে আমার আমলকী খাওয়ার স্বাদ মিটে গিয়েছে।আর খাবো না আমলকী কখনো খেতেও চাবো না।দয়া করে নামিয়ে দিন।’

‘উহু বউ খেতে চেয়েছে বলে কথা। চুপচাপ কোনো নড়াচড়া করবে না রূপজান।’

রূপ এটা সেটা বলে যাচ্ছে নামিয়ে দেওয়ার জন্য কিন্তু বারিশ সেদিকে পাত্তা না দিয়ে নিজের মতো এগিয়ে যাচ্ছে নিজেদের রুমের দিকে। রূপের সত্যি সত্যি আমলকী খাওয়ার স্বাদ মিটে গিয়েছে। আজকের পর আর আমলকী খাওয়ার ইচ্ছে জাগবে না মনে।

#চলবে,,,❣️
[লেখিকা-সুমাইয়া আক্তার মিম✵]
❌কার্টেসী ছাড়া গল্প কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌।
(সকলের গঠন মূলক মন্তব্য আশা করছি ধন্যবাদ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here