#প্রেমে_পড়া_বারণ পর্ব ১৫

0
320

#প্রেমে_পড়া_বারণ পর্ব১৫
লেখা জেসিয়া জান্নাত রিম

তিথির হাতে পায়ে মেহেদী দিয়ে স্টেজের মাঝ খানে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ওকে ঘিরে বসে আছে বাড়ির বাকি মেয়েরা। সবাই মেহেদী দিতে ব্যস্ত। তিন্নি এসে তাদের তাড়া দিলো তারাতারি স্টেজ খালি করে দেওয়ার জন্য। নাচ গান শুরু করার আগে স্টেজটা একটু গুছিয়ে দিতে হবে। মেহেদীর কোনের সাথে দেওয়া পিন গুলো স্টেজে পরে টরে আছে কিনা কে জানে। তিন্নি বুঝতে পারছে না স্টেজে বসেই কেন মেহেদি দিতে হবে রুমে বসেও তো দেওয়া যেত কিন্তু ওর সমস্ত কাজিন দের বায়না স্টেজে ই নাকি মেহেন্দি করতে হয়। তিন্নি ওদের খুশিটা মাটি করতে চায় নি। তাই বেশি তর্ক করেনি। তবে আফিফদের আসার সময় হয়ে গেছে। তাই এসে তাড়া দিচ্ছে তিন্নি। এর মাঝে তিথি খেয়াল করলো তিন্নি হাতে মেহেদি দেয়নি। ও তিন্নিকে বলল,
— তুই হাতে মেহেদি দিবি না?
— না।
— কেন? সবাই তো দিচ্ছে। তোর বোনের বিয়ে আর তুই দিবি না?
— মেহেদি দিয়ে দুই তিন ঘন্টা বসে থাকার কোনো মানেই হয় না। কত কাজ আছে জানিস?
তিথি কিছু বলার আগেই পাশ থেকে ওদের এক কাজিন বলল,
— এই মেহেদি গুলোয় পাঁচ মিনিটে রঙ হয়ে যায়। দুই ঘন্টা লাগবে না।
— আপার জন্য তো আমি কেমিক্যাল মেহেদি আনাইনি?
— তিথি আপার হাতে অরগ্যানিক টাই দেওয়া হয়েছে। আমরা কেমিক্যাল টা দিয়েছি। দুই তিন ঘন্টা মেহেদি রাখার সময় নাই তো তাই। আসো আপা তোমাকেও দিয়ে দেই।
— দরকার নেই। আমার কাছে পাঁচ মিনিট সময় ও নেই। তোরা জলদি স্টেজ খালি কর আফিফ ভাইয়ারা চলে আসবে এখুনি। আপা কে নিয়ে ঐ চেয়ারে বসা।
স্টেজের সামনে সবার বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একেবারে মাঝখানে বর আর কনের জন্য বরাদ্দ স্পেশাল চেয়ার। সেখানে তিথিকে বাসাতে বলল তিন্নি। সবাই নেমে গেলে স্টেজটা ঠিকঠাক করে দিয়ে ও চলে যাচ্ছিলো। আপাতত আর কোনো কাজ নেই ওর। এখন একটু ঘুমিয়ে নেওয়া যায়। এমনিতেও এই কদিন ঠিকমত ঘুমাতে পারেনি। সারাদিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলো আর রাতে একটু ঘুমাবে কিন্তু ওর রুমে থাকা কাজিন দের ফিসফিসিয়ে কথা বলার কারণে তাও প্রায় অসম্ভব ছিল। এমনিতেও একা ঘুমানোর অভ্যাস ওর।তাই এখন সুযোগ পেয়ে নিজের রুমের দিকেই যাচ্ছিলো ও। আবিদ তখন রেডি হয়ে বের হচ্ছিল। তিন্নিকে দেখে এগিয়ে এসে বলল,
— রেডি হতে যাচ্ছো?
তিন্নি কোনো উত্তর দিলো না। আবিদ আবারো বলল,
— তুমি কিন্তু আমার সাথে ম্যাচিং করে শাড়ি পরবে। তোমার সবুজ রঙের শাড়ি আছে?
তিন্নি এবারো কোনো উত্তর দিলো না। আবিদ বলেই যাচ্ছে,
— তোমার সবুজ শাড়ি না থাকলে বলো আমি নাহয় পাঞ্জাবি চেঞ্জ করবো। কিন্তু দুজনের ম্যাচিং করে ড্রেস পরতেই হবে। আমরা কাপল না। ছবি এবং ভিডিওতে যেন ভালোভাবে বোঝা যায়।
এরকম আরো নানান কথা বলেছিলো আবিদ। তিন্নির হুট করে খুব ক্লান্ত লাগছে। আবার আবিদ কে কড়া করে কিছু কথাও শোনাতে ইচ্ছা করছে। লোকটা বেশি বাড়াবাড়ি করছে। আবিদ বলছে,
— আমি শুনেছি তুমি খুব ভালো গান গাইতে পারো। আমি বলিনি কখনো কিন্তু আমার গানের গলাও মাশআল্লাহ। আমরা আজকে সর্বত মঙ্গল রাধে গাইবো। ভাইরাল গান। আমি তো শেষের লাইনটাও বদলে দিয়েছি। ‘তুমি হও যমুনা তিন্নি আমি ডুইবা মরি’। ভালো হয়েছে না?
এবার আর চুপ থাকতে পারলো না তিন্নি। কড়া গলায় সে আবিদ কে বলল,
— আপনি ডুবে মরলেই আমার শান্তি। সামনে নদী আছে যান ডুবে মরে আমাকে উদ্ধার করুন। আমি সত্যিই আর নিতে পারছি না আপনাকে। আর কিভাবে বোঝালে বুঝবেন আমার আপনার প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই। আপনি মরুন বাঁচুন আমার কাছে কিছুই ম্যাটার করে না। সো প্লিজ এসব ফাজলামো আমার সাথে করতে আসবেন না।
কথা গুলো বলে আর একমুহুর্ত সেখানে দাঁড়ালো না তিন্নি। সোজা নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।

অনেকক্ষণ এপাশ ওপাশ করেও ঘুম এলো না তিন্নির। বাইরে থেকে গান বাজনার আওয়াজ আসছে। তবে তিন্নির সেদিকে খেয়াল নেই। ও ভাবছে অন্য কথা। আবিদ কে এভাবে সরাসরি মরে যাওয়ার কথা বলা উচিৎ হয়নি। কড়া ভাবে অন্য কিছু শুনিয়ে দেওয়া যেত। মরার কথাটা একটু বেশিই হয়ে গেছে। কারো মৃত্যু কামনা করাটা তো ওর স্বভাব নয়। এই আবিদ সামনে এলে ও কেমন যেন নিজের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে। আর তাই রাগটা একটু বেশিই দেখিয়ে ফেলে। তাই বলে মরে যেতে বলা? অবশ্য ঠিকই করেছে। ও বললেই যে কেউ মরে যাবে এমন তো নয়। আচ্ছা আবিদকে নিয়ে কি তিন্নির সিরিয়াসলি ভাবা উচিত নাকি ওকে এভাবেই এড়িয়ে চলা উচিত? এই ভাবনাটা উদয় হতেই মন এবং মস্তিষ্কের এক অদ্ভুত যুদ্ধ শুরু হলো তিন্নির। কিছুক্ষণ তা চলার পর নিজেই নিজেকে ধমক লাগালো তিন্নি। এসব কি ভাবছে ও? আজব! হুট করেই ওর মনে হলো অনেক দিন ও মন খুলে কারো সাথে কথা বলে না। অবশ্য বাবার মৃত্যুর পর মন খুলে কথা বলার মানুষ আর কোথায়? তবুও আগে মাঝে মধ্যে নিজের সাথে কত আলাপ করেছে। আর এখন সেটাও বন্ধ। নিজের মধ্যেই দুটো স্বত্তা যা একে অপরের বিরুদ্ধে। তাই আর আলাপ হয়না। যা হয় তা তর্ক এবং ঝগড়া। এসব চিন্তা ভাবনা কে দূরে সরাতেই বোধহয় ও বিছানা ছেড়ে উঠলো। তারপর আলমারি খুলে ইফতেখারের মায়ের দেওয়া ব্যাগ গুলো বের করে খাটের তলা থেকে টেনে একটা ট্রাংক বের করলো। ট্রাংক টি তালা বন্ধ। নিজের চাবি গুচ্ছ থেকে অপেক্ষাকৃত ছোট এবং বেশ পুরনো একটা চাবি দিয়ে তালাটি খুললো ও। কিছু পুরোনো কাগজ পত্র, একটা কাপড়ের হাতে বানানো পুতুল,
একটি লাল টুকটুকে শাড়ি, পুরোনো কিছু ছবি, একটা ছোট্ট টেপ রেকর্ডার, এক জোড়া রুপার নূপুর, একটি টাকা ভর্তি মাটির ব্যাংক আর তৌহিদ সাহেব আর তিন্নির একটা বড় বাঁধানো ছবি। ছবিতে তেরো বছরের তিন্নি লাল টুকটুকে শাড়িটি পরে হাঁটু মুড়ে মেঝেতে বসে পিছনে বসা তৌহিদ সাহেবের দিকে বাঁকা ভাবে তাকিয়ে খিলখিল করে হাসছে। আর তৌহিদ সাহেব একটা মোড়ায় বসে তিন্নির চুলে বিনুনি করছেন। তার মুখেও হাসি। দিনটি তিন্নির এখনো খুব ভালো ভাবে মনে আছে। জেলা পর্যায়ে তিন্নি গানের জন্য সিলেক্ট হয়েছে। ওর স্কুলের হয়ে ও গাইবে। গানের ম্যাডাম বললেন শাড়ি পরতে। কিন্তু তিন্নির তো কোনো শাড়ি নেই। মায়ের শাড়িও পরা সম্ভব না। শাড়ি গুলো সব আলমারি তে তালা বন্ধ। সানভি তখন আট মাসের পেটে তাই শায়লা গেছেন বাবার বাড়ি। সাথে গেছে তিথি। আলমারির চাবি ও তার কাছে। বাড়িতে তখন মেয়ে মানুষ বলতে একমাত্র ও আর ওর দাদী। দাদীর শাড়ি গুলো সব হালকা রঙের। তাই ওগুলো পরার কোনো প্রশ্নই উঠে না। এমতাবস্থায় মুখ ভার করে বসে থাকা ছাড়া তো আর কিছু করার নেই তিন্নির। এসময় হুট করে তৌহিদ সাহেব এলেন বাড়িতে। তিনি ছুটি পেলে সাধারণত শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীকে দেখতে যান। কিন্তু এবার বাড়িতে এসেছেন। এসেই মায়ের কাছে তিন্নির শাড়ি বিরম্বনার কথা শুনে সাথে সাথে বাজারে চলে গেলেন তিনি। বেশ কিছুক্ষণ পরে একটা লাল টুকটুকে শাড়ি নিয়ে ফেরত এলেন। শাড়ি পেয়ে তিন্নি সে কি খুশি। সেদিন বিকালেই রওনক হাজির তার নতুন ক্যামেরা নিয়ে। পরদিন সকালে শাড়ি পরা নিয়ে বাড়িতে এক হুলুস্থুল কাণ্ড। শায়লা তিথি কেউই বাড়িতে নেই এখন তিন্নিকে শাড়ি পরাবে কে? চুলটাই বা বেঁধে দেবে কে? সকালে দাদীর বাতের ব্যথা বেশি হয় তাই তিনি ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে থাকেন। তবে সেদিন তিনি চলে এলেন তিন্নি কে শাড়ি পড়াতে। কিন্তু বহুবছর কুঁচি ছাড়া শাড়ি পরার ফলে কুঁচি দিয়ে কিভাবে শাড়ি পরতে হয় তা তিনি ভুলে গেছেন। অজ্ঞতা কিছুক্ষণ শাড়ি নিয়ে যুদ্ধ করার পর তিন্নি হাল ছেড়ে দিয়ে বলল যে সে গান গাইতে যাবেনা। এবার তৌহিদ সাহেব এগিয়ে এলেন। স্ত্রীকে তিনি বহুবার শাড়ি পরতে দেখেছেন। তিনি তিন্নিকে নরম কন্ঠে বললেন,
— চলো মা আমরা একসাথে আরেকবার চেষ্টা করে দেখি।
এরপর দুজনে মিলে অনেকক্ষণ চেষ্টা করে শেষ মেষ শাড়ি পরতে সক্ষম হয়। তবে সেটা পুরো পুরি নিখুঁত হয়নি। কুঁচি গুলো ছোট বড়ো হয়ে গিয়েছিল। আঁচলের ভাঁজ গুলো ঠিক ঠাক হয়নি। কিন্তু তবুও তিন্নি খুশি ছিল। ওর বাবা ওকে শাড়ি পরিয়ে দিয়েছিলো। অতিরিক্ত খুশিতে ও এটাও বলেছিল যে ওর বিয়ের দিন ও যেন তৌহিদ সাহেবই ওকে শাড়ি পরিয়ে দেয়। তৌহিদ সাহেব হাসতে হাসতে বলেছিলেন,
— তাহলে তো এখন থেকেই শাড়ি পরানোর ক্লাস শুরু করতে হবে। আচ্ছা ঠিক আছে আমি শিখবো
ভালো ভাবে শাড়ি পরানো। এখন তুমি জলদি করে চুল বেঁধে ফেলো বেরোতে হবে তো। নাহলে এসো চুলটাও আমি বেঁধে দিই।
তিন্নি হাসি মুখে চিরুনি হাতে বাবার সামনে গিয়ে বসেছিল। তখন রওনক ঐ ছবিটি তুলেছিল।
ট্রাংকের বাকি জিনিস গুলোর সাথেও তিন্নির অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তিন্নি যখন গানে জেলা পর্যায়ে ফার্স্ট হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে কোনো প্লেস না পেয়ে মন খারাপ করে ফিরে এলো। তৌহিদ সাহেব তখন উঠে পড়ে লাগলেন তিন্নিকে ঢাকায় বড় গানের স্কুলে ভর্তি করাবেন বলে। কারণ প্রতিযোগিতায় যারা প্লেস পেয়েছে সবাই ঢাকার ঐ গানের স্কুলে গান শিখে। কিন্তু তিন্নিকে এই বিষয়ে কিছু বলার আগেই তিন্নি এসে বলল সে আর গান গাইতে চায়না। তৌহিদ সাহেব বুঝতে পেরেছেন কেন তিন্নি একথা বলেছে। তাই তিনি তিন্নিকে কিছু বলতে পারেননি। শুধু আহত মনে ছাদে এসে তিন্নির পাশে দোলনায় বসলেন। তিন্নি জানতো বাবা তাকে বোঝাতে আসবে। তাই আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে ছিল। তাই তৌহিদ সাহেব কিছু বলার আগেই তিন্নি বলেছিলো,
— আমি সত্যিই আর গান গাইতে চাইনা আব্বা। আমাকে বুঝিয়ে লাভ নেই।
তৌহিদ সাহেব মেয়ের মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন,
— আমি বুঝতে পেরেছি মা তুই কেন আর গান গাইতে চাস না। ঠিক আছে আমি তোকে কোন গানের স্কুলে ভর্তি করাবো না। তবুও তুই গান গাওয়া ছাড়িস না।
তৌহিদ সাহেবের কথায় তিন্নি মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে ছিল। তারপর ধীরে ধীরে বলেছিলো,
— এই প্রথম বার আমি গ্রামের বাইরে কোথাও গান গাইতে গিয়েছি। এই বিষয়টাই আমার জন্য আনন্দের। তাছাড়া এই প্রতিযোগিতায় গিয়ে আমি কিছু অনুভব ও করেছি। এই এতো এতো লোকের মাঝে গান গেয়ে এত প্রশংসা পেয়ে আমি এতটাও খুশি হইনি যতটা না তোমার সাথে গান গাইতে পেরে হই। তাই আমি ঠিক করেছি এখন থেকে আমি আর তুমি লুকিয়ে লুকিয়ে একসাথে গান গাইবো। আর আমি শুধু তোমার জন্যই গাইবো।এটা হবে আমাদের একটা সিক্রেট। ভালো হবে না আব্বা?
তৌহিদ সাহেব হেসে ছিলেন। কিন্তু তা ছিলো কান্নার থেকেও করুন। বাইরে থেকে তাদের উচ্চবিত্ত মনে হয়। কিন্তু এরকম অনেক কিছুই আছে যা তাদের সাধ্যের বাইরে। তবুও ছেলে মেয়েদের তিনি তার এ ধরনের অপারগতা থেকে আড়ালে রাখতে চান। তাই তাদের সকল শখ আল্লাদ হাসি মুখে পূরণ করেন। কিন্তু তিন্নির টা পারেন না। তিন্নি ছোট থেকেই খুব বুদ্ধিমতি। তাছাড়া ছোট থেকেই তিন্নি তার সাথে ছায়ার মতো আছে। তাই শত চেষ্টা করেও অনেক লুকানো কথা তিন্নি জানে। এভাবেই আস্তে আস্তে তিন্নি অনেকটা তার মতো চিন্তা করা শুরু করে দিয়েছে। তিনি যেমন সামর্থ্য থাকলেও তার শখের জিনিস গুলো কেনেন না এই ভেবে যে ছেলে মেয়েদের কোনো শখ এতে পূরণ হবে। তেমনি তিন্নিও তার পেছনে অপ্রয়োজনীয় টাকা খরচ পছন্দ করেনা। এতে তার কষ্ট হয়। তিন্নি তা বোঝে। তাই মাঝে মাঝে নিজেই এটা সেটা আব্দার করে। যদিও তা হয় অতি সাধারণ তবুও তৌহিদ সাহেব তা আনন্দের সাথে কোনো সময় নষ্ট না করেই পূরণ করেন। এবার ও তিনি তিন্নির কথা মেনে নিলেন। এবং পরের বার ছুটিতে বাড়ি আসার সময় একটা বেশ দামী টেপ রেকর্ডার কিনে নিয়ে আসলেন। এরপর প্রায়ই দুজনে একসাথে গান গেয়ে এতে রেকর্ড করা শুরু করল। কিন্তু তৌহিদ সাহেবের মৃত্যুর পর অন্য অনেক জিনিসের সাথে রেকর্ডার টাও জমা হলো তিন্নির এই ছোট্ট ট্রাংকে। হঠাৎ বাইরের হৈচৈ এ চিন্তার জগৎ ছেড়ে বেরিয়ে এলো তিন্নি। এসময়ে কে যেন ওর দরজার কড়াও নাড়ছে। ও দ্রুত ট্রাংটি বন্ধ করে যথাস্থানে রেখে দরজা খুলে বেরিয়ে আসতেই জরি বুয়া হড়বড়িয়ে বলল,
— মহা সব্বনাশ আফা। আবিদ ভাইজান নদীত পইড়া গেছে। কি আজব ব্যাটা ছেলে হইয়া সাঁতার পারে না। যহন সাঁতইরাতে পারস না নদীর ধারে যাইতে……..
অনেক কথাই বলছে জরি বুয়া। তবে তিন্নির মাথায় কিছুই ঢুকছে না। সে শুধু শুনেছে আবিদ নদীতে পড়ে গেছে। বিষয়টি মাথায় আসতেই সে দ্রুত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করলো। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে লোহার রেলিং এর এক সুচালো অংশে ওর পা লেগে খানিকটা কেটেও গেল। তবে সেদিকে ওর বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। ও প্রানপণে ছুটছে। ওর কথায় আবিদের কিছু হয়ে গেলে?

চলবে………..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here