#অবৈধ_সম্পর্ক
#Part_9+10+11
Writer_Sukhi Akther✍️
.
.
.
ইসমাত কে নিজের কাছে নিয়ে এসে কিস করলো কপালে । ইসমাত আর আরাফের সম্পর্ক টা কয়েক দিনে স্বাভাবিক হয়ে গেল দেখে মনে মনে খুশি হলেন আরাফের মা। ইসমাত ও ভুলে গেছে কয়েক দিন আগে করা আরাফের ব্যবহার গুলা । ইসমাত ভাবছে আরাফ তার নিজেরই আছে । এতো কেয়ার করে ইসমাতের আরাফ যা শুধু মাএ কিছু দিনের অভিনয় ছাড়া কিছুই না । আরাফ অবশ্য তনয়ার সাথে দেখা করেছে কয়েক বার ।তনয়া খুব খুশি আরাফ তাকে চোখে হারায় ।
ইসমাত আরাফের কথামতই নিজের শরীলের যত্ন আর পড়াশোনা ঠিক মত চালিয়ে যাচ্ছে । যতহ্মন না ইসমাতের পড়া শেষ হচ্ছে আরাফ বসে থাকছে ইসমাতের সাথে । ইসমাত কে আগের থেকে এখন পরিপাটি ও আকর্ষনীয় দেখায় । ইসমাতের সাথে তনয়ার আগে তেমন একটা ভাল সম্পর্ক ছিল না কিন্তুু আরাফ আসার পর থেকে তনয়ার সাথে কথা হয়েছে কয়েক বার ।
সকালে 💜💜
ঘুম থেকে উঠে ইসমাত শাড়িটা নিজের গায়ে জড়িয়ে ওয়াসরুমের দিকে পা ভাড়ায় সে । মাথাটা ব্যথা করছে তার সাথে শরীলটাও কেমন যেন লাগছে ইসমাতের । ঝরনার নিচে দাড়িয়ে ছিল প্রায় ১ঘন্টা । এখন কেমন যেন একটা শান্তি অনুভব করছে ইসমাত । নিজের শরীলে দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো সে ।গলা আর নিজের কতো গুলা দাগ আবিষ্কার করলো সে ।
দরজায় ধুম ধুম লাথি মারার শব্দ শুনে ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে আসে ইসমাত । বুঝতে পারছেনা আরাফ কেন এমন করছে । কোন মতে শাড়িটা পড়ে বের হয়ে আসলো সে ।
ইসমাত—-কি হয়েছে এমন কেনো করছেন আপনি?
আরাফ —-রাসেলটা কে আমি না থাকলে যার সাথে কলেজে গিয়ে ফুর্টি করতি??
ইসমাত—রাসেলের সাথে কেনো আমি ফুর্টি করতে যাবো?
আরাফ—-তার মানে তুই বলছিস আমি যা দেখলাম সব ভুল ?
ইসমাত—আমি বুঝতে পারছিনা কিসের কথা বলছেন ?
আরাফ ইসমাতের কথায় আরও রেগে গেল । চুলের মুঠি ধরে গালে জোরে জোরে কয়েকটা চড় বসিয়ে দিল । গায়ের জোরে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিল ইসমাত কে । ইসমাত বুঝতে পারছেনা কখন সে রাসেলের সাথে কথা বলতে গেল । রাসেল ছেলেটা কে ছোট বেলা থেকে পছন্দ করতো না ইসমাত । কয়েক বার Propose করেছিল তাকে । রাসেল কে ফিরিয়ে দিয়েছিল ইসমাত । রাসেল কেন তার সংসার টা ভাঙ্গতে চাচ্ছে । আরাফ কে বলতে হবে সবটা আরাফ যে ভুল বুঝে আছে তাকে ।
ইসমাত কিছু বলছে না বলে আরাফ কয়েক লাথি মারলো এলোপাথারি । ইসমাতের মনে হতে লাগলো তার শরীলের হাড্ডি গুলা ভেঙ্গে গেছে । কষ্ট করে উঠে দাড়াতে চেষ্টা করছে কিন্তুু পারছেনা ইসমাত । আরাফ ঘরের সব কিছু ভেঙ্গে ফেলেছে । তারপরও আরাফের রাগ যেন কমছে না এত বড় সাহস আমাকে বোকা বানাচ্ছে এই মেয়ে 😡😡।
সকালে ইসমাত ওয়াসরুমে যাওয়ার পর একটা কল আসে আরাফের ফোনে ।কলটা রিসিব করতেই ওপাশ থেকে বলতে শুরু করলো ,
অপরিচিত —–আমি কে সেটা জানতে চাইবেন না
আপনার বউ যে অন্য ছেলের সাথে পরকীয়া করে বেড়ায় তার দিকে খেয়াল আছে ??
আরাফ—–কে আপনি ?সকাল সকাল ফোন করে এসব ফাল্টু পেচাঁল মারার মানে ?? আমি ভাল করে জানি ইসমাত কেমন মেয়ে ।
অপরিচিত—-😂😂😂জোরে জোরে হাসতে লাগলো লোকটি ।
আরাফ—-তোর হাসি আমি বন্ধ করবো কুত্তার বাচ্চা । আমাকে ফোন করে আমার বউয়ের নামে খারাপ কথা বলে আবার হাসছিস । হাসার জন্য একটা দাতঁ ও খোজেঁ পাবি না তুই।
অপরিচিত—-cool cool 😊 | নিজের বউ যখন আরেক জনের সাথে পরকীয়া করে তাতে কিছু হয় না?? আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছেনা তাই তো মেসেজে দেওয়া ছবি গুলা নিশ্চয় দেখতে পাননি । ছবি দেখলেই সব কিছু Clear হয়ে যাবে।
.
আরাফ কলটা কেটে ছবি গুলা দেখতে লাগলো । সব গুলা ছবিতে রাসেল নামের ছেলেটির সাথে ইসমাতকে খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে দেখা যাচ্ছে । আরাফের রাগ উঠে যাচ্ছে চরম পর্যায়ে । ইসমাত তাকে ঠকাচ্ছে কিন্তুু ইসমাত তো পাগলের মতো ভালবাসে আরাফ কে । ছবি গুলা তো ইডিট করে কেউ তাকে দিতে পারে তাদের মাঝে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য । কিন্তুু না আরাফের ভাবনা টা ভুল ইসমাতের ছোট বেলার কিছু ছবি আছে এখানে । ছবি গুলা দেখে বুঝা যাচ্ছে ছোটবেলায় ইসমাতের সাথে ছেলেটির ভাল সম্পর্ক ছিল তা দুজনের হাসি বলে দিচ্ছে । রাগ টা আরও বেড়ে যাচ্ছে আরাফের । রাসেল কে আরাফ চিনতে পারতোনা যদি না সে বিয়ে তে রাসেল কে দেখতো । আমাকে বোকা বানাচ্ছে এত দিন ধরে আজ ওর একদিন না হয় আমার । ভেবেছিলাম কিছু দিন পরে বের করবো আমার জীবন থেকে কিন্তুু না এই নষ্টা মেয়ে কে নিয়ে সংসার করা সম্বভ না । যত তারাতাড়ি পারি বিদায় করে তনয়া কে নিয়ে সংসার করবো আমি 😍 । তার আগে শাস্তি দিতে হবে এই ইসমাত কে । আরাফ এতোহ্মন ধরে ভাবছিল দরজা ধাক্কা দিচ্ছে আরাফের মা ইসমাত উঠতে চেষ্টা করেও পারছেনা উঠতে । আরাফ দরজা টা খুলে দিল তার মা ও বোন রুমে ডুকে দেখে ইসমাত নিচে বসে কাদঁছে । ঠোটঁ কেটে গিয়ে রক্ত পড়ছে । পেটে হাত দিয়ে বসে আছে ইসমাত । আরাফের ফোনে কল আসলো একটা নাম্বার থেকে আরাফ বের হয়ে গেল রুম থেকে । আরাফের মা ইসমাত কে তুললো নিচে থেকে ,
আরাফের মা—-কি হয়েছিল ইসমাত কেনো মারলো তোকে আরাফ ?
ইসমাতের মুখ দিয়ে কথা বের হতে চাচ্ছে না । দু চোখ দিয়ে পানি পড়ছে । ইসমাত তার শাশুড়ি কে সব খুলে বললো । আরাফের মা জানে ইসমাত আর যাই হোক এমন কাজ কখনো করবে না ।
ইসমাত অজ্ঞান হয়ে গেল । আরাফের মা ডাক্তার কে ফোন করে । ডাক্তারের বাড়ি কাছে হওয়ায় সময় বেশি লাগে নি । কেউ এভাবে মারে ? হাত পা গুলা লাল রং ধারন করেছে । গালের মাঝে হাতের আঙ্গুলের ছাপ বুঝা যাচ্ছে । মেয়েটার কপালটাই খারাপ এর আগেও এভাবে মার খেয়ে পড়ে থাকতে হয়েছিল ইসমাত কে । ইসমাত ধীরে ধীরে চোখ খুললো ।
ডাক্তার—–কেমন লাগছে এখন ?
ইসমাত—-ভাল
ডাক্তার—-ঠিক মতো ঔষধ গুলা খাবে । বিশ্বাম নিতে হবে ।
ইসমাত—-আমি ঠিক হয়ে যাব । এমন মার ছোট বেলা থেকে খেয়ে আসছি ।
ডাক্তার—চুপ করে আছে । চোখের কোনায় দু ফোটাঁ পানি দেখা যাচ্ছে । ডাক্তার সাহেবের কোন ছেলে মেয়ে নেই ।ইসমাত কে মেয়ের মতো ভালবাসেন তিনি।
আরাফের মা—–ইসমাতের শরীল কেমন ডাক্তার ?
ডাক্তার —মেয়েটা মারা যেতে বেশি সময় লাগবে না যেভাবে মারে মেয়েটাকে আরাফ ।
আরাফের মা—চুপ করে আছেন ।
ইসমাত— মা কে কিছু বলবেন না প্লীজ উনার কোনো দোষ নেই ।
ডাক্তার —আমি তাহলে যাই ভাবি ( আরাফের মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো)
আরাফ সারা দিন বাসায় আসলো না । রাত ১২ টায় এসে দেখে ইসমাত বিছানার এক পাশে ঘুমিয়ে আছে । আরাফ ইসমাতের পাশে শুয়ে পড়লো কোন কথা না বলে । আরাফ তার মায়ের সাথে ঝগড়া করে আসলো ইসমাতের জন্য । কোন দিন মা তাকে এভাবে কথা শোনায় নি আজ একটা নষ্ট মেয়ের জন্য শুনতে হলো তাকে । থাকবো না আমি বাড়িতে এই মেয়ের জন্য আমার মা বোন পর হয়ে গেছে । আরাফের ফােনে একটা মেসেজ আসলো মেসেজ টা দেখে মুচকি একটা হাসি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো । ইসমাত কথা বলতে চেয়েছে অনেক বার কিন্তু আরাফ কোন কথা বলেনি ।
.
.
.
#অবৈধ_সম্পর্ক
#Part_10+11
Writer__Sukhi Akther✍️
.
1০
.
সকালে ঘুম থেকে উঠে আরাফ রেডি হয়ে চলে যায় ঢাকায় । আরাফের মা আরাফ কে ঢাকায় যেতে নিষেধ করেছিলো। আরাফ ঢাকায় গিয়ে দেখে বৃষ্টি তার বাসায় বসে আছে ।
আরাফ—-কখন আসলে তুমি?
বৃষ্টি—-তুমি খুশি হওনি আমি আসাতে ?
আরাফ—তুমি আসছো আর আমি খুশি হবো না তা কি করে হয় ?
বৃষ্টি —বাহ , এতো ভালোবাসা আমার জন্য ? কোথায় ছিল তোমার ভালবাসা এতদিন? খুব তো নিজের বউয়ের কাছে চলে গেলে আমাকে ফেলে (রেগে বললো )
আরাফ—-উফ, কি শুরু করলে বলো তো? ইসমাত কে আমার জীবন থেকে সারা জীবনের জন্য সরিয়ে দিতে গিয়েছিলাম । এখন শুধু ডিবোর্স পেপারে একটা Signuture করার বাকি তাহলেই সব কিছু হাতের মুঠোয় চলে আসবে ।
বৃষ্টি —–তুমি আমাকে ভুল বুঝিয়ে পার পেয়ে যাবে ভাবছো? কিছুই বুঝি না আমি ?তুমি আবার আমাকে ঠকাতে চাচ্ছো? এবার কিন্তুু তোমাকে আমি ছাড়ছি না ।
আরাফ—তা কি করবে বলে ঠিক করলে ?মেরে ফেলবে আমাকে ?
বৃষ্টি —-তার চেয়েও কঠিন কিছু করবো ।
আরাফ—-বাহ , সাহস তো বেড়ে যাচ্ছে তোমার দেখি দিন দিন ।
বৃষ্টি —–সাহস তো তোমার কাছে থেকে পাচ্ছি । যে কিনা নিজের ঘরে বউ রেখে আরেক জনের সাথে পরোকীয়া করে ।
আরাফ—-হুম করছি কারন আমি এই বিয়েটা মেনে নিতে পারছি না । যত তাড়াতারি পারি সম্পর্ক টা শেষ করে দিতে চাই।
বৃষ্টি —–ইসমাত মেনে নিবে কেনো এসব?
আরাফ—মানতে বাধ্য করবো । সহজে আপদ বিদায় না হলে কি করে করতে হয় তা আমি ভালো করে জানি ।
বৃষ্টি —-আমি তোমাকে হারাতে চাই না আরাফ ।
আরাফ—-তা তোমার কেনো মনে হলো আমি তোমাকে হারাতে চাই? (রেগে বললো )
বৃষ্টি——তাহলে কি বলবো বলো?তুমি ইসমাতের সাথে সংসার করো এটা মেনে নিতে পারছিনা ।
আরাফ—-আর মাএ কয়েক টা দিন তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে । তারপর আমরা বিয়ে করে নিবো :-*
বৃষ্টি—-ঠিক তো ?
আরাফ—-তোমার কি আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না ?
বৃষ্টি—-তোমাকে ছাড়া আর কাকেই বা বিশ্বাস করতে যাবো?তুমি ছাড়া পৃথিবী তে কেউ যে আর নেই।
আরাফ—-হাসো বলছি । মন কেনো খারাপ করছো আমি তো তোমার সাথে আছি সব সময় ।
বৃষ্টি —সরি বাবু
আরাফ—সরি তুমি বলছো কেনো?সরি তো আমার বলার দরকার তোমাকে । তোমাকে না বলে চলে যাওয়ার জন্য ।
বৃষ্টি —-না । আমি তোমার উপর খুব রেগে ছিলাম আমাদের অন্তরঙ্গের কিছু ভিডিও করেছিলাম আমি তোমাকে না বলে । যদি তু মি আমাকে অস্বীকার করো তাহলো ভিডিও গুলা কাজে আসবে আমার।
আরাফ—কখন করেছিলে ভিডিও আমি তো কিছু জানি না । তুমি আমাকে বিশ্বাস করো না ( রেগে বললো)
বৃষ্টি —-তুমি রাগ করাে না আমি এখন সব গুলা ডিলেট করে দিচ্ছি ।
আরাফের সামনে ভিডিও ডিলেট করলো বৃষ্টি ।
আরাফ—তুমি তো লুকিয়ে রাখতে পারো আবার । যেহেতু আমাকে না বলে ভিডিও করেছো?
বৃষ্টি —বিশ্বাস করো আর কোন ভিডিও নেই আমার কাছে ।
বৃষ্টি ঠিকই সব গুলা ভিডিও ডিলেট করে দিয়েছে।
আরাফ কে চুপ থাকতে দেখে বৃষ্টি আরাফের কাছে এসে জড়িয়ে ধরলো আরাফ কে ।
বৃষ্টি —-প্লীজ আমাকে হ্মমা করে দাও । কখনো আর এমন করবো না ।
আরাফ—-তোমার উপর রাগ করে থাকতে পারি না সেটা তুমি ভাল করে জানো ।
আজ যা করলে তোমাকে বিশ্বাস করবো আমি ?আর কয়েকটা দিন তার পর তোমাকে ও সরিয়ে দিব আমার জীবন থেকে । তোমরা কেউ আমার জীবন সাথী হয়ে থাকার যোগ্য না( মনে মনে বললো )
আরাফ—তুমি বসো আমি চেন্জ করে আসছি ।
আরাফ ওয়াসরুমে ডুকে গেলো । বৃষ্টি ভাবছে কি করে সে আরাফ কে ভুল বুঝলো ? আরাফ তাকে কতো ভালবাসে । কি করে পারলো সে আরাফ কে সন্দেহ করতে ? আরাফ সব কিছু জেনেও কতো সহজে হ্মমা করে দিলো । ছি ছি আরাফ কে ভুল বুঝা ঠিক হয়নি আমার । আর যত কিছু হোক না কেনো আমি কখনো ভুল বুঝবো না আরাফ কে ।
আরাফ ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে দেখে বৃষ্টি কি যেনো ভাবছে । যত পারো ভেবে না এখন খুব তারাতাড়ি আমার জীবন থেকে বের করে দিবো । আরাফ এসে পিছন থেকে বৃষ্টি কে জড়িয়ে ধরলো ।
আরাফ —শাড়িটা চেন্জ করে আসো ।
বৃষ্টি —-আচ্ছা ।
বৃষ্টি শাড়ি নিয়ে ওয়াসরুমে চলে গেলো । আরাফ কাকে যেন কল করে কিছু একটা অর্ডার করে নিলো । আজ বৃষ্টি কে তার জীবন থেকে সরিয়ে দিবে ।
বৃষ্টি কে দেখে চোখ ফেরাতে পারছেনা আরাফ । শেষ বারের মতো মন ভরে দেখে নিল । বাসায় কলিং বেলের শব্দ শোনে আরাফ দরজা খুলে কিছু একটা হাতে নিয়ে রুমে ডুকলো ।
বৃষ্টি —-আরাফ এসব তুমি খাবেনা
আরাফ—-আজ একবার খেলে কিছুই হবে না জানু ( মুচকি একটা হাসি মুখে নিয়ে )
বৃষ্টি —-এসব খেলে তুমি নিজেকে কন্টোল করতে পারো না তুমি কি ভুলে গেলে ? সাকিবের বাসায় যে পার্টি হয়েছিলো ঐ দিন এসব drinks খেয়ে কি করেছিলে ?
আরাফ— 😛 😛 তোমার সাথে করেছিলাম অন্য কারোর সাথে তো করেনি । তাছাড়া আজ আমি একা না তুমিও খাবে আমার সাথে ।
বৃষ্টি —না না আমি এসব খাবোনা
আরাফ —প্লীজ বৃষ্টি একবার খেলে কিছুই হবে না ।
বৃষ্টি —-আচ্ছা খুব অল্প পরিমানে খাবো আমি ।
আরাফ হাসি মুখে দু টা গ্লাস নিয়ে আসলো । বৃষ্টি প্রস্তুুত হচ্ছে পরের স্টেপের জন্য ।
কিছুহ্মন পর বৃষ্টির মাথাটা কেমন যেন করতে লাগলো । আরাফ স্বাভাবিক আছে কারন আরাফ নিজের গ্লাসে নরমান drinks নিয়েছিল যা বৃষ্টি বুঝতে পারেনি । বৃষ্টি কে এভাবে দেখে খুব হাসি পাচ্ছে আরাফের বৃষ্টি নামের কাটাঁ আজ দূর হবে তার জীবন থেকে । এখন শুধু ঠিক ভাবে কাজটা করতে পারলে তনয়া আর আরাফের মাঝে কোনো বাধা থাকবে না ভেবে খুশি লাগছে 😜😜|
.
.
চলবে ☺
#অবৈধ_সম্পর্ক
#Part_11
Writer_Sukhi Akther✍️
.
.
.|
রাত ২:৪৫ 💜
শরীল থেকে ঘাম ঝরে পড়ছে আরাফের । আর একটু হলে ধরা পড়ে যেত সে । মনের মাঝে একটা ভয় কাজ করছে আরাফের যদি সে ফিরে আসে তার কাছে ? না তা কি করে হয় যে ব্যবস্থা আজ করেছি এতো সহজে ফিরে আসা সম্ভব না আরাফ জানে সেটা । ওয়াসরুমে গিয়ে ঝর্নার নিচে দাড়িয়ে থাকলো প্রায় এক ঘন্টা । এখন কিছু টা হালকা লাগছে নিজেকে । এখন শুধু ইসমাত কে তাড়ানোর পালা । মায়ের জন্য সমস্যায় পড়তে হবে ইসমাত কে তাড়াতে কিন্তুু তনয়া কে নিজের করে পেতে তাকে ইসমাত কে সরিয়ে দিতে হবে ।তনয়া কে কি ফোন করবো না থাক ঘুমিয়ে পড়েছে হয়তো । ঘুম ভাঙ্গানো ঠিক হবে না , সকাল হলে তনয়ার সাথে কথা বলে বিয়ের ব্যপারে সব কিছু ঠিক করে নেওয়ার যাবে
এতক্ষন বারান্দায় দাড়িয়ে কথা গুলো ভাবছিল আরাফ ।
শরীল টা কান্ত থাকায় রুমে এসে এসি টা অন করে ঘুমিয়ে পড়লো আরাফ ।
অন্যদিকে
পড়ার টেবিলে ঝিমুচ্ছে ইসমাত আর মাএ কয়েক টা দিন কি করবে সে কিছু ভেবে পাচ্ছে না । মাকে কথা দিয়েছে সে ভাল একটা রেজাল্ট করতে হবে তাকে । নিজের জন্য না হোক মায়ের কথা রাখার জন্য তাকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে । মামার মুখে ইসমাত শুনেছে যে তার বাবা একজন সৎ আদর্শবান শিক্ষক ছিলো । তিনি চাইতেন ইসমাত উনার মতো একজন সৎ আদর্শবান নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক । খুব ভালোবাসতো ইসমাত কে ইসমাতের বাবা । মা বাবার চোখের মনি ছিল সে ।কিন্তুু সুখ বেশি দিন স্থায়ী হতে পারে নি সড়ক দুর্ঘটনায় মা বাবা কে হারায় সে । নানুর কাছে থাকায় বেচেঁ গিয়েছিল ইসমাত । ঐ দিন যদি বাবা মায়ের সাথে মারা যেতো তাহলে আজ তাকে এতো কষ্ট পেতে হতো না ।
ইসমাত ফোন টা হাতে নিয়ে দেখে অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে মেসেজ আর কতো গুলা কল করা হয়েছে । নাম্বার টাকে বেশ পরিচিত মনে হচ্ছে কিন্তুু মনে করতে পারছে না কে সে? তার সাথে দেখা করতে বলেছে কেনো ? কি চায় সে ?কিছুই বুঝতে পারছেনা ইসমাত । অতিরিক্ত চিন্তায় সে পাগল হয়ে যাবে । মাথা টা দরেছে বেশ । আরাফ তাকে ভুল বুঝলো শুধুমাএ কয়েকটি ছবি দেখে । যে করে হোক আরাফের ভুল ভাঙ্গাতে হবে তাকে ।
সকালে 💜
বারান্দায় ইজি চেয়ারটায় বসে পেপার পরছেন আজমল সাহেব । তার পাশে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছেন সালমা বেগম ।দুজনের কারোর মুখে কোনো কথা নেই। অবশেষে সালমা বেগম বলতে লাগলেন ,
সালমা—— ছেলে টা কাল রাতেও বাসায় আসে নি । নিজের চোখের সামনে ছেলের জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তোমার কি সেদিকে খেয়াল আছে? [ আজমল সাহেব কে লক্ষ করে বললেন ]
আজমল —- তোমার ছেলে তাে আজ আড়াই বছর ধরে এমন কান্ড করে যাচ্ছে । কারোর কোনো কথা শুনে ?তুমি তো মা তুমি বুঝালে নিশ্চয় বুঝবে ।
সালমা ——আমি কি কম বলি তোমার ছেলে কে ? সে তো আমার সাথে কোনো কথায়ই বলে না । কেউ কি নেই ?যে আমার ছেলেটা কে আবার আগের মতো সংসারী করে তোলবে?
আজমল সাহেব—– আল্লাহ সহায় হলে নিশ্চয় তিনি কাউকে আমার ছেলের জন্য পাঠাবেন ।
সালমা বেগম—তোমার কথায় যেনো ঠিক হয় । আমি আমার ছেলেকে সুস্থ স্বাভাবিক দেখতে চাই ।
অন্যদিকে
বিছানার পাশে ফোনটা বার বার কাপঁতে লাগলো তনয়ার ঘুম জড়ানো কন্ঠে ফোনটা রিসিপ করলো সে ।
তনয়া —হ্যা আরাফ বলো ?এতো সকাল কেনো কল করতে গেলে ? ঘুমটা দিলে তো নষ্ট করে ।
সাকিব —- তনয়া ( চেচিয়েঁ বললো)
তনয়া—এত জোরে চিৎকার করছো কেনো গাধার মতো? 😒
সাকিব—-তার আগে তুই বল ? আরাফ কে ? আবার কার সাথে শুরু করেছিস ? একবার দেশে আসতে দে তোর ভালোবাসা আমি করাচ্ছি ।
তনয়ার মনেই ছিল না যে সে সাকিবের সাথে কথা বলছিলো । চোখ খুলে সাকিবের নাম্বার দেখে ভয় পেয়ে যায় সে । সাকিবের সাথে তনয়ার সম্পর্কটা চার বছরের । খুব ভালোবাসে সে সাকিব কে ।
সাকিব কে কিছু একটা বুঝাতে হবে তাকে এখন ।
তনয়া —-বাবু তুমি কেনো রেগে যাচ্ছো? আমি তো তোমার সাথে মজা করেছিলাম । আর কেউ না জানুক তুমি তো ভাল করে জানো আমি শুধু তোমাকেই ভালবাসি । তোমাকে পরীক্ষা করার জন্য এই গুলা বলেছিলাম আমি ।
তনয়া—রাখ তোর মজা করা । যদি কখনো জানতে পারি আমাকে রেখে অন্য কারোর সাথে রিলেশনে জড়িয়েছিস তোর সাথে সাথে তোর বয়ফেন্ডকেও মাটি চাপা দিবো আমি ।
বেশ কয়েক দিন থেকে সাকিব লহ্ম করছে যে তনয়া বেশ পাল্টে গেছে আগের থেকে । ফোন করলে রিসিব করে না সে । আগের মতো সাকিবের কাছে কোনো কিছুর আবদার করে না তনয়া । চার বছরের রিলিশন তাদের কখনো এমন করেনি তনয়া কয়েক দিন ধরে এতো পরিবর্তন ? নতুন কেউ আছে কি তনয়ার জীবনে ?খোজঁ নিয়ে জানতে হবে তাকে ।
তনয়া —-বললাম তো সরি । আর কখনো এমন করবোনা আমি প্রমিস ।
সাকিব –চুপ
তনয়া—তুমি কখন আসবে বলো ? আমাদের বিয়ের পর হানিমুনে কোথায় যাবো আমরা?
সাকিব–চুপ
তনয়া —শোনাে না আমার কিন্তুু পুরো একটা cricket team ছেলেমেয়ে চাই বলে দিলাম ।
সাকিব —হা হা হা করে হেসে দিল সে তনয়ার কথা শুনে । কে বলেছে মেয়েটা তাকে ভালোবাসে না ? তনয়াকে হারাতে চাই না আমি । যত তারাতারি সম্ভব দেশে চলে যাবো আমি ।
তনয়া সাকিবের সাথে কথা বলে ফোনটা কেটেঁ দেয় সে ।
ইসমাত ঘুম থেকে উঠে আরাফ কে ফোন দিতে সে ফােন হাতে নিয়ে দেখে অপরিচিত নাম্বার থেকে আর একটা মেসেজ আসছে । আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি পার্কের ডান দিকে চলে এসো প্লীজ ইসমাত । ইসমাতের খুব বিরক্ত লাগছে এমন একটা মেসেজ দেখে । রাগ টা কন্টোল করে সে আরাফের নাম্বারে কল দিল । দুই বার রিং হওয়ার পর রিসিব করে আরাফ ,
আরাফ —কতো বার বলেছি ফোন দিবি না আমাকে (রেগে বললো)
.
.
(চলবে)
“চলবে “

