প্রিয়_অর্ধাঙ্গীনি #সুমাইয়া_সুলতানা_সুমী #পর্ব_৪২

0
840

#প্রিয়_অর্ধাঙ্গীনি
#সুমাইয়া_সুলতানা_সুমী
#পর্ব_৪২
,
রাত্রি তখন গভীর। আর এই গভীর অন্ধকারে ডুবে থাকা রাতটাই যেনো কিছু কিছু মানুষের সব থেকে বড় অস্ত্র। আকাশে কালো মেঘ জমেছে। হয়ত ঝড় উঠবে। একরাশ কালো মেঘ এসে গোলাকার চাঁদটাকে ঢেকে রাখায় অন্ধকার এর রাজত্বটা যেনো বেড়েই চলেছে। দূরে কয়েকটা টর্চ লাইটের আবছা আলো দেখা যাচ্ছে। সাথে ফিসফাস করে কথা বলার আওয়াজ। গামছা দিয়ে মুখ আর মাথা বেশ ভালো মতো পেঁচিয়ে রাখায় চোখ দুটো ছাড়া সব কিছুই অস্পষ্ট। মাটিতে বেশ বড়সর গর্ত করা হয়েছে। আর সেখান থেকেই উঠানো হচ্ছে বেশ দামী ব্রান্ডের অস্ত্র সাথে আরো ক্ষতিকর জিনিসপত্র। চেয়ারম্যান সবাইকে বেশ তাড়া দিচ্ছে। রাতের মধ্যেই কাজটা শেষ করার জন্য। একপাশে দাঁড়িয়ে সবাইকে নির্দেশনা দিচ্ছে কীভাবে কি করতে হবে। তখনি পিছন থেকে কেউ চেয়্যারমান এর উদ্দেশ্য বলল।

“কী চেয়ারম্যান সাহেব। আপনার কাজ হলো চাউল চুরি করা। টিপসই নিয়ে মানুষের জমিজমা দখল করা। তা না করে আপনি এইসব বড় বড় কাজ করছেন কেনো। অকালে মারা পড়বেন তো।

কথাগুলো শুনে চেয়ারম্যান চমকে পিছনে তাকালো। ততক্ষনে সবার কাজ থেমে গেছে। অন্ধকার বিধায় পিছনে কে আছে সেটাও বোঝা যাচ্ছে নাহ। এই জন্য হাতের টর্চটার আলো পিছনে মারতেই ইমরান মুখের উপর হাত নিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল।

” আরে করছেনটা কি এভাবে কেউ আলো ধরে নাকি। কিছুই তো দেখতে পাচ্ছি নাহ।

“তুমি কে? আর এখানে কি করছো?

” আমি কে এখানে কি করছি সবটা বলবো। তার আগে মুখের সামনে থেকে আলোটা সরান। আরে আমার এখনো বিয়ে হয়নি এভাবে আলো মেরে চোখ নষ্ট করার মতলব করছেন নাকি।

ইমরান এর কথা শুনে চেয়ারম্যান আলোটা সরিয়ে নিলো। ভয়ে মুখের বেশ কিছু অংশ ঘেমে গেছে। গামছাটা মুখে আরো খানিকটা আঁটোসাটো করে নিয়ে। পিছনে কাজ করতে থাকা লোকদের উদ্দেশ্য বলল।

“এই এটাকে ধর আর এখানেই পুঁতে ফেল। না থাকবে বাঁশ আর না বাজবে বাঁশি।

চেয়ারম্যান এর কথা শুনতেই ইমরান বেশ ঘাবড়ে গেলো। সমুদ্র ওকে বলেছিলো আড়ালে থেকে ওদের কাজ কর্মের উপর নজর রাখতে যতক্ষণ না পুলিশ আসছে। কিন্তু ভুলক্রমে সামনে আসায় এখন বিপদে পড়তে হলো। লোকগুলো মাটির নিচে থেকে উঠানো একটা কাঠের বাক্স খুললো। সেখানে কাগজে মোড়ানো কিছু রয়েছে। সেখান থেকে একটা তুলে নিয়ে কাগজ খুলতেই বেরিয়ে আসলো তরবারী মত ধারালো অস্ত্র। যেটা রাতের আঁধারেও সামান্য আলো পড়ায় চকচক করছে। দুজন হাতে তরবারী টা নিয়ে ইমরান এর দিকে ধেয়ে গেলো। এমন পরিস্থিতি তে ভয়ে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে ওখানেই দাঁড়িয়ে আছে ইমরান। এমনও অবস্থায় নিজের প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে হবে এটাও যেনো ভুলে বসে আছে। কিন্তু যতক্ষণে কথাটা মনে আসলো ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। লোকগুলো অনেকটাই কাছে চলে এসেছে। তবুও প্রাণ রক্ষার্থে যেইনা পিছন ঘুরে দৌড় দিতে যাবে। মাটিতে থাকা শুকনো ডালে বেঁধে হুমরি খেয়ে নিচে পড়ে গেলো। ভয়ে কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। গলাটাও শুকিয়ে কাট হয়ে গেছে। শুধু বার বার একি কথা মনে আসছে৷ কেনো স্যার এর কথামতো লুকিয়ে না থেকে সামনে আসলাম৷ আমিতো জানি এরা ভয়ংকর তবুও কেনো? ইমরান এর ভাবনার মাঝেই প্রথম লোকটা এগিয়ে এসে পেট বরাবর তরবারী টা মারতেই ইমরান হাত দিয়ে সেটা ধরে ফেলল। ধারালো অস্ত্র ধরায় হাত কেটে টপটপ করে তাজা রক্ত পেটের উপর পরছে। কিন্তু আর কতক্ষণ? নিজের সবটা দিয়েও শেষে হাল ছেড়ে দিলো। হাতটা একটু ঢিলে হতেই লোকটি নিজের শক্তি প্রয়োগ করে তরবারী টা পেটে ঢুকাতে চাইলো। কিন্তু তার পরেও ব্যার্থ হলো। কেউ যেনো আবারও শক্ত করে ধরে ফেলেছে। ইমরান মাথা উঁচু করে তাকাতেই দেখলো সমুদ্র নিজের হাত দিয়ে অস্ত্র টা ধরে রেখেছে। ধারালো বিধায় সমুদ্রের হাত ও কেটে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। সমুদ্র ইমরান কে চোখের ইশারা করতেই ইমরান পা দিয়ে আঘাত করতে আসা লোকটার বুক বরাবর লাত্থি মারলো। লোকটা অস্ত্র রেখেই কিছুটা দূরে গিয়ে ছিটকে পড়লো। দ্বিতীয় লোকটা আসতেই সমুদ্র ওটাকেও লাত্থি মারতেই দূরে গিয়ে পড়লো। বাম হাতে ইমরান কে নিচে থেকে তুলতেই ইমরান মাথা নিচু করে বলল।

“সরি স্যার।

কিন্তু সমুদ্র কোনো কথা বলল নাহ। ততক্ষণে ওদের সামনে আরো কিছু লোক চলে এসেছে। চেয়ারম্যান ও তাদের পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। সমুদ্র কে এই সময়ে এখানে দেখে ভয় পেলেও সেটা প্রকাশ করলো নাহ। উল্টো লোকগুলোকে বলল ওদের দুজনকেই শেষ করে দেও। সমুদ্র বুঝলো এতোজনের সাথে ওরা দুজনে মোকাবিলা করতে পারবে নাহ। কিছু একটা করতে হবে। লোকগুলো সামনে আসতেই সমুদ্র পাশ কেটে চেয়ারম্যান এর কাছে চলে গেলো। নিচে থেকে একটা অস্ত্র তুলে চেয়ারম্যান এর মাথা বরাবর ধরে সবাইকে বলল।

” একদম কেউ সামনে আগাবে নাহ। যে যার যার জায়গায় দাঁড়িয়ে থাক।

সমুদ্রের কথাশুনে চেয়ারম্যান বাঁকা হেসে বলল।

“তুই কি ভেবেছিস আমাকে এভাবে ধরিয়ে দিবি? তাতে কি আর এমন হবে। পুলিশ আসবে আমায় ধরে নিয়ে যাবে। কিন্তু আমি ঠিক বেরিয়ে আসবো। আমার ক্ষমতা সম্পর্কে তোর কোনো ধারনায় নাই। আমার হাত অনেক লম্বা। তাই বলছি আমায় ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজ কর।

কথাগুলো শুনে সমুদ্র হাসলো। অতঃপর চেয়ারম্যান এর কানে ফিসফিস করে বলল।

“এবার তো তুই শেষ চেয়ারম্যান। এতোদিন যার ইশারায় নেচেছিস। যার নির্দেশ মতো কাজ করেছিস এখন দেখ সে আদেও তোকে বাঁচাতে আসে কি নাহ। আর হ্যাঁ তোর হাত লম্বা হলেও আইনের হাত তার থেকেও বেশি লম্বা।

চেয়ারম্যান সমুদ্রের কথাশুনে ওর দিকে তাকাতেই সমুদ্র বাঁকা হেসে বলল।

” এখনো বুঝিসনি? কার কথা বলছি? তোর একমাত্র আদরের বউ মালবিকা মির্জা।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ওখানেই পুলিশ চলে আসলো। আর অব অস্ত্রসহ চেয়ারম্যান আর বাকি লোকদের ধরে নিয়ে গাড়িতে তুলল।
,,,,,,,,,,,,

“সরি স্যার।

ইমরান অপরাধীর ন্যায় আবার কথাটা বলল। তবে সমুদ্র কিছু বলল নাহ। গাড়িতে বসে হাতের কাটা জায়গা পরিষ্কার করতে ব্যাস্ত। ইমরান এর হাতে আগেই ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে। ইমরান আবারও একি কথা বলতেই সমুদ্র বলল।

” কি সেই কখন থেকে কানের কাছে এক কথা বলে যাচ্ছো। তোমাকে এতোবার করে নিষেধ করার পরেও ওখানে গেলে কেনো? একটা কথা মনে রাখবে। আমরা কাউকে আঘাত করতে গেলেও দশবার ভাবি। কিন্তু ওরা তা ভাবে নাহ। ওরা অনায়াসে যে কাউকে শেষ করে দিতে পারে। তোমাকে বলেছিলাম পুলিশ আসা অবধি ওদের উপর নজর রাখো কিন্তু তুমি কি করলে?

“সরি স্যার। আমার ভুল হয়ে গেছে। আসলে তখন কি যে হয়ে গেলো। কেনো যে কাজটা করলাম নিজেও জানি নাহ। কিন্তু স্যার এখন কি হবে?

ইমরান এর কথা শুনে সমুদ্র বাঁকা হেসে। কাঁটা জায়গা মলম দিতে দিতে বলল।

” এবার যা করা ওরা ওরাই করবে। সাথে উষ্কে দেওয়ার জন্য তো মিডিয়ার লোক আছেই।

“তাহলে এখন আমরা কি করবো স্যার?

” কি আর করবো। চলো তাহলে এই রাতে বাড়ি না গিয়ে বনে জঙ্গলে তোমার জন্য মেয়ে খুঁজে বেড়ায়। গাড়ি স্টার্ট করো।

সমুদ্র ধমকে কথাটা বলতেই ইমরান তড়িঘড়ি করে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চালানো শুরু করলো।
,,,,,,,,,,,

“হিজলতলীর রানিং চেয়ারম্যান অবৈধ অস্ত্র সমেত গতরাতে পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে। জানা গেছে সেখানে প্রায় কোটি টাকার অবৈধ অস্ত্রসহ আরো নেশা জাতীয় দ্রব্য ছিলো। বিদেশ থেকে কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশে এসেছে জিনিসগুলো। কিন্তু এর পিছনে কে আছে? শুধুই কি চেয়ারম্যান নাকি আরো বড় কোনো চক্রের হাত। জানতে হলে আমাদের সাথেই থাকুন। ফিরে আসছি ছোট্ট একটা বিরতির পর।

খবরটা দেখার পর শশী হা করে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে। পাশেই সমুদ্র বাম হাতে প্লেট ধরে ব্যান্ডেজ করা হাতে শশীকে খাইয়ে দিচ্ছে। একবার টিভির দিকে তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে নিলো। চামচ এর ভাত তুলে শশীর মুখের সামনে ধরে বলল।

“টিভি গিলে না খেয়ে হা করো।

“খবরটা দেখেছেন আপনি? কী সাংঘাতিক। আমরাতো কল্পনাও করতে পারিনি আমাদের গ্রামে এসবও হয়। কী খারাপ চেয়ারম্যান।

শশীর কথা বলার মাঝেই সমুদ্র মুখের মধ্যে ভাত দিয়ে দিলো। মুখ ভর্তি ভাত নিয়েও শশী কথা বলছে তবে কি বলছে সেটা অস্পষ্ট। কাল ভোরের দিকে বাড়ি ফিরেছে সমুদ্র। ঘরে এসে ঘুমন্ত শশীর কপালে চুমু দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গিয়েছে। ফ্রেশ হয়ে এসে শশীর পাশে শুয়ে পড়লো। প্রায় ছয় মাস চলছে শশীর। পেটটাও বেশ উঁচু হয়েছে। হাঁটা চলা করতেও অসুবিধা হয়। সমুদ্র সেবার শশীর পেগনেন্ট হওয়ার কথা জানার পর সপ্তাহ খানিক থেকে চলে গিয়েছিলো। এই কয়দিন শশী হিজলতলী তেই ছিলো। কেননা এখানে দেখাশোনা করার তেমন কেউ নেই৷ শাহানারা নিজেই অসুস্থ। এই জন্য শশী হিজলতলী তেই ছিলো। কয়েকদিন আগেই সমুদ্র এসেছে। আসার পরে শশীকে এখানে এনেছে। এবার বেশ কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে এসেছে। ঘুম ভেঙ্গে সমুদ্রের হাতে ব্যান্ডেজ দেখে বড়সর একটা কান্ডও ঘটে গিয়েছে। বিকেলে ভালো মানুষ বেরিয়ে যদি এভাবে কাঁটা হাত নিয়ে বাড়ি ফেরে চিন্তা তো হবেই। তবুও কোনোমতে শাহানারা আর শশীকে বুঝ দিয়েছে। বিরতি শেষ হতেই আবার ও খবর পড়তে শুরু করলো। তবে এবারের খবরটা শুনে শশীর চোখ বড়বড় হয়ে গেছে। আর সমুদ্রের মুখে বাঁকা হাসি।

” ফিরে এলাম বিরতির পর। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চেয়ারম্যান কে জিগ্যাসাবাদ করার পর ওনি বলেছেন ওনার সাথে নাকি আরো অনেকেই জড়িত। ওনার ভাষ্যমতে এই অনৈতিক কাজের সাথে মন্ত্রী সাহেব এর বোন মালবিকা মির্জা ও জড়িত। কিন্তু কথা হলো এটা কতটুকু সত্য। নাকি ওনি নিজে বাঁচতে মির্জা বাড়িকে এসবে জড়াচ্ছে। নাকি সত্যিই মন্ত্রী আশফাক মির্জার ও এতে হাত রয়েছে। কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যা। সব কিছুই যেনো গোলকধাঁধার মতো। সত্যি কি ওনারা এসবের সাথে জড়িত? নাকি এর পিছনেও আছে বড় কোনো ষড়যন্ত্র। নাকি আরো বড় কারো হাত আছে। কোনো জঙ্গি? এসব প্রশ্নের কোনোটার উত্তরই আমাদের জানা নেই। আপনারা দেখছেন আমরা এখন মির্জা বাড়ির সামনে আছি। আসলে সত্যিটা কি সেটা মালবিকা মির্জার মুখ থেকেই শুনতে চাই। কিন্তু ওনি বাইরে আসবেন না বলেছে৷ মিডিয়ার সামনে মুখ খুলবে নাহ। কেনো ওনি এভাবে মুখ লুকিয়ে বসে আছে। তাহলে চেয়ারম্যান যেটা বলেছে সেটা সত্যি?

খবরটা শুনে শশী হা করে সমুদ্রের দিকে তাকালো। কিছু বলতে যাবে ওমনি সমুদ্র মুখের মধ্যে ভাত দিয়ে বলল।

“কোনো কথা নয়। আগে খাওয়া শেষ করো নয়ত মাইর দিবো।

সমুদ্রের কথাশুনে শশী মুখ বাঁকিয়ে নিলো। ভাত চিবতে চিবতে কিছু একটা ভাবতে লাগলো। মনে মনে কিছু ভাবতেই টি-টেবিলের উপর থেকে পানির গ্লাসটা নিয়ে মুখের ভাতগুলো গিলে নিয়ে সমুদ্রের দিকে বড়বড় চোখ করে বলল।

“এই আপনি আবার কিছু করেননি তো? আমার কেমন সন্দেহ হচ্ছে। আপনার এভাবে হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়া সারারাত বাড়ির বাইরে থাকা। আবার ভোররাতে কাঁটা হাত নিয়ে বাড়ি ফেরা। সত্যি করে বলেন কি করেছেন আপনি?

শশীর কথাশুনে সমুদ্র ভাতের প্লেট টা নিচে রেখে বাম হাতে শশীর মাথায় একটা চাটি মেরে বলল।

“তুমিই প্রথম বউ যে কিনা চোরাকারবারি লোকের জন্য নিজের স্বামী কে সন্দেহ করছো। আরে আমার কি কোনো কাজ নেই আমি এসব করতে যাবো। আর তাছাড়া এগুলো পুলিশের কাজ। ওনারা হয়ত রাতের বেলায় দেখেছে তাই ধরেছে। আমি ছুটিতে আছি বর্তমানে। খামখা এসব করতে যাবো কেনো।

“তবুও আমার কেমন জানি সন্দেহ হচ্ছে।

“তাই তাহলে যাও গিয়ে আমার বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে পড়ো। হা করো।

সমুদ্র ধমক দিয়ে কথাটা বলতেই শশী গোমড়া মুখে হা করে ভাত নিয়ে চিবতে লাগলো।

“কেবল তো শুরু এভাবেই আস্তে আস্তে তোমাকে একদম শেষ করে দেবো মালবিকা মির্জা। যতটা অপমান কষ্ট দিয়ে আমার বাবা আর চাচ্চুকে মেরেছো তার থেকেও বেশি যন্ত্রণা দিয়ে।
,,,,,,,,,,,,,,

“এসব কি মালবিকা? তোর নামে মিডিয়া এসব কি বলছে? তোর জন্য পার্টির কাছে আমায় জবাবদিহি করতে হচ্ছে। এতদিন তুই যা ইচ্ছে করেছিস। আমি চুপ করে থেকেছি কিছু বলেনি। কিন্তু এখন মিডিয়া যে ভাবে কাঁদা ছুঁড়ছে এখন তো তোর জন্য আমার নাম খারাপ হচ্ছে । একটা কথা শুনে রাখ পার্টির কাছে যদি আমার নাম কোনোভাবে একটুও খারাপ হয় তাহলে আমি কাউকে ছাড়বো নাহ।

চেয়ারে বসে হাতে পেপারওয়েট নিয়ে ঘুরাচ্ছে মালবিকা। ও খুব বুঝতে পারছে এর পিছনে কোনো না কোনো ভাবে সমুদ্রের হাত আছে। কেননা কালকে রাতে ওর ফোনে অচেনা নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছিল তাতে লেখা ছিলো।

” ইউ আর ফিনিস মালবিকা মির্জা।

তখন অতটা গুরুত্ব না দিলেও এখন বুঝতে পারছে আসলে কী বোকামি টাই না করেছে। ধপ করে চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে গেলো।

“তুমি চিন্তা করো না ভাইজান। আমার জন্য তোমার কোনো ক্ষতি হবে নাহ।

” তাই যেনো হয়। যতদ্রুত সম্ভব এটা শেষ করো।

কথাটা বলে ওনি চলে গেলেন। ওনার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মালবিকা দাঁতে দাঁত চেপে বলল।

“সময় এসেছে তোমাকে পাল্টা জবাব দেওয়ার। অনেক ছাড় দিয়েছি তোমায়। অনেক বার বেড়েছো তুমি। তুমি যেই খেলাটা শুরু করেছো সেটা আমিই শেষ করবো সমুদ্র। এবার তোমার অস্ত্রে তোমাকেই বদ করবো। নয়ত আমার নামও মালবিকা মির্জা নয়।

#চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here