ফ্লুজি #অনুপ্রভা_মেহেরিন [পর্ব ১৯]

0
1303

#ফ্লুজি
#অনুপ্রভা_মেহেরিন
[পর্ব ১৯]

রাগে টগবগ করছে আরশাদের শরীর।আগুনের ফুলকি আজ যেন তার চোখে ভাসছে।সেই ফুলকিতে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলবে খুশবুকে।আরশাদের চোখের দিকে তাকিয়ে দ্বিতীয়বার কথা বলার সাহস পেল না খুশবু।পুরুষ মানুষের এই হিংস্র রাগটাকে সে একটু বেশি ভয় পায়।যতই বাবার আদরের দুলালি থাক না কেন বাহারুল হক কোন ভুল ত্রুটি দেখলে বুঝিয়ে বলতেন পালটা সেই ভুল আবার হলে ওনার রাগ সংবরন করা মুশকিল।

খুশবু ওড়নার কোনায় আঙুল গুটিয়ে আমতা আমতা স্বরে কিছু বলতে প্রস্তুত হলে তার পাশে দাঁড়ানো এলিনা বলে,

” ব্রো ভাবি আমার সাথেই গিয়েছিল তুমি এতটা হাইপার হইও না।”

” এলিনা দূরে সরো আমি তোমার ভাবির সাথে কথা বলছি তোমার সাথে নয়।”

আরশাদ ধমক সুরে কথা বলে তাকালো খুশবুর পানে।মেয়েটার চোরা চাহনি আরশাদের নজর এড়ায় না।
আরশাদ কঠিন গলায় ফ্লুজির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করে,

” কোথায় গিয়েছিলে তুমি?”

” এলিনার সাথে এই তো সামনের রাস্তায় হাটতে।”

” সামনের রাস্তায় হাটতে তিনঘন্টা সময় লাগে?”

” আমরা একটা কফি শপে বসেছিলাম।”

” বাইরে বেরিয়েছিলে কার পারমিশনে?”

” এলিনার সাথেই তো গিয়ে…”

” এলিনা তোমার হাজবেন্ড?শ্বশুর? নাকি শাশুড়ী?সে তো গার্জিয়ান নয়, তাহলে কেন গিয়েছিলে তার সাথে?”

আরশাদের ধমকে কেঁপে উঠলো খুশবু।তার গলা শুকিয়ে চৌচির।এই মুহূর্তে তার নিজেকে এই দেশে সবচেয়ে একা একা লাগছে।মায়ের কড়া শাসনের আড়ালে আদরে মুখটার কথা ভীষণ মনে পড়ছে।খুশবুর চোখ ঝাপসা হলো আরশাদ সেই পর্যায়ে থমকে গেল।তবুও নিজের অগ্নিশর্মার রেশ ধরে রইল।

” কি হলো প্রশ্ন করেছি জাবাব কে দেবে?”

” আপনারা ছিলেন না বলে এলিনা আর আমি একটু হাটতে বেরিয়েছি ব্যস এইটুকুই।”

আরশাদ আর ফ্লুজিকে কিছু বলে না।এলিনার দিকে তাকিয়ে কঠিন স্বরে বলে,

” তোমার ভাবিকে নিয়ে এখান থেকে চলে যাও আমার ভিলায় তার স্থান নেই।সে যখন আমাকে না বলে এতদূর গিয়েছে তখন আমি তাকে আমার কাছে রাখতে চাই না।”

চকিতে তাকালো খুশবু।আরশাদ ভিলার দ্বার রুদ্ধ করলো।এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেললো খুশবু।

সন্ধ্যার পর আরশাদ,আরিব সহ বাড়ির সবাই যে যার কাজে বাইরে চলে যায়।বাড়িতে থেকে যায় এলিনা।একা একা দুজনে বাড়িতে বসে বিরক্ত হচ্ছে বিধায় এলিনা বললো বাইরে থেকে ঘুরে আসতে।খুশবু প্রথমে বারণ করলো জানাতে চাইলো আরশাদকে কিন্তু এলিনা তাড়া দেখাল আধা ঘন্টা থাকবে বলে বাইরে কাটিয়ে দিল তিন ঘন্টা।বাইরে থেকে এসে আরশাদের ভিলার তালা খোলা দেখে খুশবু ভয় পেল।তার ভয়টাকে সত্যি করে আরশাদ পরপর এতগুলো কথা শুনিয়ে দিল তাকে।

এলিনার সাথে ঘরে ফিরে নিরবে কাঁদলো খুশবু।তার ফোলা ফোলা চোখের দিকে তাকিয়ে এলিনার মনটা বিষণ্ণে ভরে গেল।

” আ’ম সরি ডিয়ার।আমি জানতাম না আরশার ভাইয়া এতটা রিয়েক্ট করবে।”

” ইট’স ওকে।”

” তুমি একদম কান্না করবে না প্লিজ।আমার কষ্ট হচ্ছে।”

খুশবু চুপ হয়ে যায়।এলিনা এটা ওটা কত কি বলে খুশবুর মন ভালো করার চেষ্টা করে।কিন্তু এই মন কি ভালো হয়?আরশাদ তার প্রিয় মানুষ।প্রিয় মানুষের একটা ফোড়ন মনে যেন দশটি ফোড়ন সৃষ্টি করে।

কিয়ৎক্ষণ বাদে আরশাদ ভিলায় এলো এলোমেলো পায়ে।তার পরনে সাদা শার্ট বুকের উপর তিনটে বোতাম খোলা যার দরুনে লোমশ বুকখানি উঁকিঝুঁকি মারছে খুশবুর পানে।বাদামী চোখ জোড়া খুশবুর পানে একবার তাকিয়ে যেন কড়া শাসনে কিছু বললো।আরশাদ এলিনাকে বলে,

” এচি ডাল্লা স্টেঞ্জা।”(রুম থেকে বের হও)

এলিনা রুম থেকে চলে যেতে আরশাদ দরজা বন্ধ করলো।হাতে থাকা প্যাকেট খুশবুর হাতে ধরিয়ে আরশাদ বসে চেয়ারে।খুশবু ভীতু চাহনিতে একবার আরশাদের পানে আবার প্যাকেটটির দিকে নজর ঘুরালো।

” শাড়িটা পরো।”

খুশবু দ্রুত প্যাকেট থেকে শাড়িটি বের করলো।সাদা শাড়ির উপর স্টোনের কাজ।

” শাড়ি কেন পরবো?”

” তোমাকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি তৈরি হও।”

খুশবু ভয়ে কেঁদে ফেললো।হাতের প্যাকেটটি ছুড়ে আরশাদের হাত ধরে বসে পড়লো মেঝেতে।

” এমন করছেন কেন আপনি?ছোট্ট একটা ভুলের জন্য এমন কেন করছেন?”

” কৈফিয়ত দিতে চাই না।”

” আরশাদ প্লিজ।”

খুশবুর হাত টেনে দাঁড় করায় আরশাদ।ফ্লুজির অশ্রু ভেজা দু’গাল চেপে ধরে সে বলে,

” যা বলছি করো।”

” না আমি পরবো না।আমি যাব না আমি আপনার সাথেই থাকবো।”

” আমি তোমাকে আমার সাথে রাখতে চাই না।যে ভুল একবার করলে সে ভুলের শাস্তি পেতেই হবে।”

আজ খুশবুর কান্নায় আরশাদের মন গলালো না?ছেলেটা এতটা কঠিন হলো কেন?

” আরশাদ এমন করছেন কেন?”

” কেন করছি তুমি জান না?”

” আমার ভুল ছিল আমি অনুতপ্ত এরপরেও…”

” এরপরেও বলছি শাড়ি পরে তৈরি হও।”

” আমি একবার গেলে আর কিন্তু ফিরবো না, জোরাজোরি করলেও না।”

” আমি জোরাজোরি করবো না।”

খুশবুর মনে জেদ চাপলো।মেঝে থেকে প্যাকেট তুলে চলে গেল ওয়াশরুমে।আরশাদ তাকে টেনে বের করলো এবং চেয়ারে বসে কঠিন স্বরে বলে,

” আমার সামনেই পরবে।”

” হোয়াট!”

” ইয়েস।”

” বাড়াবাড়ি করছেন কেন?”

“লজ্জা লাগছে?লজ্জা তো আগেই ভেঙে দিয়েছি।শুরু করো।”

খুশবু জেদ ধরে দাঁড়িয়ে রইলো।আরশাদ তার শার্টের আরেকটা বোতাম খুলে রিল্যাক্স হয়ে বসলো।

” হানি ডু ইট প্লিজ।”

খুশবু আরশাদের কথা গায়ে মাখলো না।সে শুধু ফুঁপিয়ে কাঁদছে।ঘড়ির দিকে নজর বুলালো আরশাদ।এগিয়ে এসে নিজ হাতে খুলতে শুরু করে খুশবুর টপস।গায়ের জামা উদর ছাড়িয়ে বক্ষ ভাজে উঠতে খুশবু ছিটকে দূরে সরলো।কড়া চোখে আরশাদের দিকে তাকিয়ে শাড়ি নিয়ে চলে গেল ওয়াশরুমে।
.
এলোমেলো খোলা চুল তার মাঝে সাদা শাড়িতে খুশবুকে অদ্ভুত লাগছে।না না অদ্ভুত সুন্দর লাগছে।আরশাদ হাসে খুশবুর চুলে হাত বুলিয়ে বলে,

” ইয়ু লুক লাইক হন্টেড হাউজ কুইন।”

আরশাদ খুশবুর হাত টেনে আনলো।খুশবু মনে মনে প্রস্তুত হলো আজকেই আরশাদের সাথে তার শেষ বোঝাপড়া।আজকের পর আর কোন সখ্যতা রাখবে না সে।

আরশাদ খুশবুর হাত ধরে এগিয়ে গেল নিজের ভিলার দিকে।অন্ধকার গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে খুশবু।আরশাদ তার হাত ধরে আছে বলে নিজেকে সংযত রাখছে তা না হলে এতক্ষণে মেয়েটা চিৎকার চেচামেচি করে জ্ঞান হারাতো।নিজের গায়ে সাদা শাড়ি তার নিজেকেই নিজের কাছে লাগছে ভুতের বউ।

স্টোর রুম শেষে নিচ তলায় প্রবেশ করতে আচমকা আলো ছিটকে আসে খুশবুর চোখে।নিরবতা ছিন্ন করে একে একে ফাটতে থাকে বেলুন।তার মাথায় পড়ছে ঝিলমিল কাগজের টুকরো।খুশবু হতভম্ব,হতবিহবল!কি হচ্ছে তার সাথে?সারা ঘর আলোতে পরিপূর্ণ।একে একে দেখা দিল ইমরান ইহসান,আফরোজ,আরিব,গ্র‍্যানি, গ্লোরিয়া, এলিনা।সবাই চেচিয়ে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।আজ তার জন্মদিন!খুশবু দেয়াল ঘড়িতে তাকালো ঘড়ির কাটা বারোটা ছুঁয়েছে।

” কেমন সারপ্রাইজ দিলাম ভাবি?”

এলিনার প্রশ্ন মাথা ঢুকলো না খুশবুর।আরিব খুশবুর ভেজা চোখ দেখে বলে,

” ভাবিকে অনেক জ্বালানো হয়েছে আর কেউ জ্বালাবে না।আসো ভাবি কেকটা কাটো।”

আফরোজ জড়িয়ে ধরলেন খুশবুকে।চোখ মুছে এগিয়ে নিলেন।

” তোমাকে ভয় দেখানো হয়েছে মেয়ে।তোমার জন্মদিনের আয়োজন করতে আমরা এতকিছু করলাম।”

খুশবু দাঁতে দাঁত খিচে তাকালো আরশাদের পানে ছেলেটা চুল চুলকে আড়চোখে তাকাচ্ছে।ইমরান ইহসান খুশবুকে বুকে জড়ালেন।

” আমার মেয়ে নেই তুমি আমার আরেক মেয়ে।তোমাকে আজ খুশি করতে গিয়ে কাঁদিয়ে ফেলেছি।এসব কুবুদ্ধি সব আরশাদের মাথায়।আমরা কেউ কিন্তু সম্মতি জানাইনি।”

” আমাকে মে রে ফেলার পরিকল্পনা।”

” ছেলেটাকে আমি বকে দেব।আসো মা কেক কাটবে।”

খুশবু সবাইকে নিয়ে কেক কাটলো।একে একে সবাই খুশবুকে উপহার দিল।আফরোজ ডায়মন্ডের একটি নেকলেস খুশবুর গলায় জড়িয়ে বলে,

” গত জন্মদিনে গোল্ডের গহনা দিয়েছি, বলছিলাম আগামীবার ডায়মন্ড দেব।কি দেখলে তো কথা রেখেছি।”

আফরোজের কথায় চমকে গেল খুশবু।গত জন্মদিনে গোল্ডের গহনা!কি বলছেন উনি?খুশবু আমতা আমতা করে বলে,

” গত জন্মদিন?”

” এই রে মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে সব ভুলে গেছে।গতবার যে গোল্ডের গহনা পাঠিয়েছিলাম মনে নেই?তুমি তো ভীষণ পছন্দ করেছিলে।”

খুশবু প্রত্যুত্তর করলো না।গত জন্মদিন সে পরিবারের সহিত পালন করেছে অথচ উনি এসব কী বলছে?এক মুহূর্তের জন্য খুশবুর মনে হচ্ছে তার নিশ্চয়ই স্মৃতি হারিয়েছে আর না হয় তার জমজ কোন বোন আছে।আরশাদ যাকে অতি প্রিয় সম্বোধনে ফ্লুজি বলে ডাকে সেই মেয়েটি তবে কে?চিন্তার জগৎ-সংসারে আরেকবার হারিয়ে যায় খুশবু।

জন্মদিন উপলক্ষে আজ বাইরে থেকে খাবার আনা হয়েছে।আরশাদের ভিলায় সবাই আনন্দ সহকারে ডিনার সারলো।সবাই যেতে দরজা বন্ধ করে আরশাদ দাঁড়ালো তার ফ্লুজির সম্মুখে।

” আ’ম সরি জান।তোমাকে কাঁদাতে চাইনি।”

” আমি দেশে ফিরতে চাই।আমাকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন।”

” রাগ করে না জান।”

” রেগে বলছি না সজ্ঞানেই বলছি আমি চলে যাব।”

খুশবু মুখ ফেরালো।মেয়েটার অভিমানি দু’চোখের ভাষা আরশাদ বুঝে।দ্রুত হাতে খুশবুকে কোলে তুললো সে।

” চলো ভালোবাসার জগৎতে হারিয়ে যাই।”

” আপনার রোমান্টিক মুড আপনি আরেকটা বউ খুঁজুন আমি এখন রোমান্টিক মুডে নেই।আমি বাড়ি যাব।”

আরশাদ হাসে।দ্রুত পায়ে চলে যায় দোতলার কক্ষে।
দ্বিতীয় বারের মতো আরশাদের কক্ষ আজ সাজানো হয়েছে।সফেদ চাদরে গোলাপের লাল পাপড়ি গুলো খুশবুর মনোযোগ টানছে।আরশার খুশবুকে বিছানায় বসায়।মেয়েটার নগ্ন পা বিছানায় তুলে ঝুকে যায় খানিকটা।

” আরশাদ আজকের দিনটার কথা আমার মনে নেই।আপনি আমাকে একটু ইঙ্গিতো দিলেন না আমার জন্মদিন আজ।”

” সারাটা দিন সারাটা সময় তুমি আমার মাথায় ঘুরছো তোমার এই বিশেষ দিন আমি ভুলে যাব?ইট’স রিডিকিউলাস।”

” কিন্তু আমাকে কাঁদালেন কেন আরশাদ?আপনি জানেন আমি কতটা ভয় পেয়েছি?”

” সরি জান।এমন না করলে তোমার আকুতি দেখতাম কী করে?”

” জানেন আজ একটা কান্ড হলো।রেস্টুরেন্টে আমাদের একটা ছেলের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে,ছেলেটা ইন্ডিয়ান।”

” তো?”

“ছেলেটা বুঝতে পারেনি আমি বিবাহিত এলিনার কাছে একটা নাম্বার দিয়ে গেছে।”

” তো?”

” সে আমার সাথে সম্পর্কে যেতে চায়।হা হা হা আমরাও কিচ্ছু বলিনি আমি যে বিবাহিত আমরা শুধু মজা নিয়েছি।”

আরশাদ থমথমে মুখে তাকিয়ে থাকে খুশবুর পানে।আনন্দের মাঝে ছলকে উঠে তার রক্ত।শিরায় উপশিরায় বয়ে চলে ভয় আর হিংসা।আরশাদ খুশবুর হাত টেনে ধরে।ছেলের পাগলামি চোখের পলকে বেড়ে যায়,

” এইজন্য তোমাকে একা ছাড়ি না।তুমি.. তুমি আমার চোখে চোখে থাকবে।”

খুশবু জিহবায় কামড় বসায়।কোথায় কি বলেছে ফেলেছে সে!

” তুমি কার?বলো তুমি কার?”

” আরশাদ আপনি…”

” জান আমার ভালো লাগছে না।আমি পানি পানি..”

আরশাদ উঠে দাঁড়ালো জগ থেকে পানি নিয়ে দ্রুত গলা ভেজালো।ছেলেটা পাগলের মতো বিলাপ করছে।ফ্লুজির হারিয়ে যাওয়ায় আরশাদের মাঝে যে প্রভাব ফেলেছে তার রেশ যেন আবার ফিরে আসছে।আরশার উন্মাদ হলো, খুশবুকে জড়িয়ে রাখলো শক্ত করে।

” ছেলেটার সাথে তুমি কি কথা বলেছো?”

” না না এলিনা বলেছে।”

” আই কিল হিম।”

” আরশার আপনি এতটা উত্তেজিত হচ্ছেন কেন?এটা শুধুই মজা।”

আরশাদ খুশবুর চোখে চোখ রাখলো।ঠোঁটে ঠোঁট মেশালো মুহূর্তে।এলোমেলো হলো আরশাদের ছোয়া।খুশবুর শরীর থেকে শাড়ির আঁচল সরাতে মেয়েটা লজ্জায় সংকুচিত হয়।খুশবু কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,

” আরশাদ আমি প্রস্তুত নই।”

আরশাদের রক্ত ছলকে যায়।চোখ রাঙিয়ে তাকায় খুশবুর পানে মেয়েটাকে ধাক্কায় বিছানায় ফেলে হাতের ভাজে হাত গুটিয়ে বলে,

” আমাকে আর ভালো লাগে না?আমার ছোঁয়া ভালো লাগে না?আমাকে ভালোবাসতে আর ভালো লাগেনা?”

” আরশাদ এসব কি বলছেন?”

” ফ্লুজি আই নিড ইয়ু।আই বেডলি নিড ইয়ু।”

আরশাদের উন্মদনা বাড়ে।খুশবু আর বারণ করে না।এলোমেলো হয় আরশাদের হাতের ছোঁয়া।আরশাদ যে সুস্থ স্বাভাবিক নেই খুশবু বুঝতে পারে।প্রতিহিংসার বশে ডুবে এই রাতটা খুশবুর জাহান্নাম করে ছাড়বে।খুশবু ভয় পায় আরশাদের কোমল ছোঁয়া গুলো ধীরে ধীরে হিংস্র হয়ে উঠে।খুশবু কৌশলে আরশাদকে জড়িয়ে নেয় ছেলেটার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,

“আরশাদ আমি আপনাকে ছেড়ে কোথাও যেয়ে চাই না।আমি আমৃত্যু আপনার সাথে থাকতে চাই।রাখবেন আমায়?”

আরশার মুখ তুলে তাকালো।আগুনে জল পড়লে যেমন সব থেমে যায় তেমনি থেমে গেছে আরশাদ।তার ভয় কেটেছে।খুশবু সেচ্ছায় আরশাদের ঠোঁটে ঠোঁট মেশায়।এলোমেলো ছোঁয়ায় উত্তাল হয় দু’টো শরীর।আরশাদের ছোঁয়ায় ক্রমশ নিজের নিয়ন্ত্রণ হারায় খুশবু।আরশাদ কৌশলে বিছানার হেডবোর্ডে খুশবুর হাত বেধে দেয়।মেয়েটার নগ্ন দেহ নিজের দেহের ভাজে আড়াল করে হাসে।খুশবু ভয় পায় নিজের হাত ছাড়াতে চাইলে আরশাদ মেয়েটার ঠোঁটে ঠোঁট মেশায়।আরশাদ হাঁপিয়ে উঠে।তার ফ্লুজির মুখে আসা চুল কানে গুজে কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায়।

” ফ্লুজি আমার জান,বেটার ফিল করছো?”

” আপনি এমন করছেন কেন?আমার হাতটা ছাড়ুন।”

” পালাবে?অন্য কার কাছে যাবে?তোমার হাসিতে নিশ্চয়ই ছেলেটার হৃদয়ে আন্দোলন করেছে অথচ আমার যে জখম লেগেছে।”

” আরশাদ প্লিজ ভুল বুঝবেন না। আপনার কি চাই বলুন।

” তুমি কি সুখ হবে?শুধু আমার।”

চলবে….
আরশার ব্যাটার কোন রূপ আপনাদের ভালো লাগে?পাগলামি নাকি স্বাভাবিক? 🤦‍♀️
আসসালামু আলাইকুম পাঠক।গল্পের ছোট্ট গ্রুপে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ..
🔺গ্রুপ লিংক-https://facebook.com/groups/764407025608497/
🔺আইডির লিংক-https://www.facebook.com/profile.php?id=61555546431041

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here