ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো (৪১)

0
1322

#ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো

(৪১)
অনবরত ফোন বেজে চলছে। ফোনের শব্দে লাবিবার ঘুম ছুটে গেছে। কিন্তু ঠাহর করে উঠতে পারছেনা কার ফোন? তার ফোনের রিংটোন তো এটা নয়। কিন্তু শিয়রেই যে বাজছে এটা বুঝতে পারছে। হাত বাড়াতে গেলেই বাঁধে বিপত্তি। আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে বুকের মাঝে সেঁধিয়ে জায়গা করে নিয়েছে তানভীর। লাবিবা চেষ্টা করে হাতটা বাড়াতে। সক্ষম হয় না। আর না পেরে তানভীর কেই ডাকে।
” এই!”
কাঁধে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চায়। তানভীর একটু নড়ে আবার জড়িয়ে ধরে। লাবিবা আবার ডাকে,
” এই শুনুন না?”

” হুম। ”

” আপনার ফোন বাজছে।”

” ধরো।”

” হাত ছাড়ুন।”

তানভীর একটু ঢিল দিতেই লাবিবা হাত বাড়ায়।
” মম ফোন করেছে।”

” ধরো।”

লাবিবা রিসিভ করে সালাম জানায়। সোহানা সালামের উত্তর নিয়ে জিজ্ঞেস করে,
” তানভীর কোথায়?”

” মামুনি উনি ওয়াশরুমে।”

” ওকে তাড়াতাড়ি বাসায় আসতে বলো তো।বলবে আর্জেন্ট।”

” আচ্ছা মামুনী। ”

” আর শোনো। তুমিও এসো ।”

“আমি? ঠিক আছে।”

সোহানা কল কেটে দেয়। লাবিবা ভাবুক হয়ে পড়ে। এতো আর্জেন্ট কেনো ডাকবে? কিছু কি হয়েছে?

তানভীর আসতেই লাবিবা তানভীরকে জানিয়ে দেয়। নিজেও উঠে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। রেডি ওয়ে দুজনে একসাথে টেবিলে আসে। সাবিনা ওয়েট করছিলো ব্রেকফাস্ট রেডি করে। তানভীর জিজ্ঞেস করে , ” আম্মু আব্বু কোথায়?”

” তোমার আব্বু সকাল সকালই বেরিয়েছে। ”

তানভীর লাবিবার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নেয় ‌। ইতস্তত করে বলে, ” আম্মু লাবিবাকে নিয়ে একবার মম আমাদের বাসায় যেতে বলেছে।”

” আবার? বার বার ঐ বাড়িতে যাওয়া ভালো দেখায় না বাবা।”

” ইমার্জেন্সি হয়তো। নয়তো আম্মু এভাবে বলতো না। প্লিজ। আব্বু না জানলেই তো হলো। ”

“আচ্ছা আমি দেখবো। নিয়ে যাও। ”

দু’জনে কিছুটা খেয়েই উঠে যায়। ইসমাইল বাইক নিয়ে যায়নি। সাবিনা তানভীরকে বাইক নিয়ে যেতে বলে। এদিকে রিকশাটা পাওয়া ট্রাফ। লাবিবা গিয়ে বাইকের চাবি নিয়ে আসে। দুজনে মিলে বেরিয়ে পড়ে।

খান বাড়িতে তুলকালাম কাণ্ড সৃষ্টি হয়েছে। ফ্লোরা ফ্লোরে বসে অঝোরে কাঁদছে। ফ্লোরার কান্নাতে বিরক্ত উপস্থিত সকলেই। ফ্লোরা বার বার কাকুতি মিনতি করছে তাকে ক্ষমা করার জন্য। সে আর ভূল করবেনা। কোনদিন করবেনা। তাকে যেনো মাফ করে দেয়। ফিরোজ খান বাড়িতে অলক্ষী কেন ঢুকেছে বলে চিৎকার করে উঠে ফ্লোরাকে দেখে। ফ্লোরার কান্না থেমে যায়। ভয়ে কাঁচুমাচু হয়ে পড়ে। এতো বছর পরেও তার আত্মা কেঁপে উঠে এই মানুষটার হুংকারে। সোহানা এসে আল্লাহ দোহায় করে, ” তুমি আস্তে কথা বলো। বাড়িতে ছেলে ঘুমোচ্ছে। ডিউটি করে ফিরেছে সেই দুটোয়। এখন আল্লার ওয়াস্তে আস্তে কথা বলে বিদায় করো।”

” এই মেয়েটার সাহস কি করে হয় আমার বাড়িতে ঢুকার? ওর মুখ দেখতে চাইনা আমি।”

” তুমি আস্তে কথা বলো প্লিজ।”

” কিসের আস্তে কথা বলবো? ডাকো তোমার ছেলেকে। খাল কেটে আমার সংসারে কুমির কে ঢুকিয়েছে? এক্ষুনি নিচে আসতে বলো। তামিম। তামিম। তামিম। এক্ষুনি নিচে আসো। তামিম।”

জবেদা মিন মিন করে বলে,
” বড় ভাইজান তো ঘুমায়া আছে আব্বা।”

ফিরোজ খান তাকাতেই জবেদা ছুটে তামিমের রুমে।

তামিম ঘুমিয়ে নেই। বাবার ডাকে ঘুম ছুটে গেছে। হুট করে বাবা এতো কেনো ডাকছে তামিম জানে। ফ্লোরা এসেছে। তাকে দেখেই বাড়ির সবাই এতো রেগে। তামিমই বলেছে ফ্লোরাকে আসতে। কাল রাতে যখন তাদের কথা হয় তামিম বলে,
” তুমি যদি সত্যিই আমার লাইফে ব্যাক করতে চাও তাহলে খান বাড়িতে পা রাখো। আমার কাছে ক্ষমা চাও। আমার ফ্যামিলির কাছে ক্ষমা চাও। তারা যদি তোমাকে ক্ষমা করে তাহলে তুমি ক্ষমা পাবে। যদি একজন মানুষও মন ভার করে তুমি ক্ষমা পাবে না। আর রইলো আমার লাইফে ব্যাক করা? আমার পাপা যদি বলে আমাকে তোমাকে গ্ৰহন করতে আমি ব্যবস্থা করবো। পাপার অবাধ্য হয়ে একবার জীবনের সবচেয়ে বড় মূল্য চুকিয়েছি। আর পারবো না। আমার পাপা যা বলবে আমি তাই করবো। লাস্টবার ট্রাই করে দেখতে পারো। ”

” একটা কথার উত্তর দিবে?”

” দিবো।”

” আমার প্রতি কি এক বিন্দু ভালোবাসাও আর তোমার মনে নেই?”

” না। ”

” ঘৃণা করো। ”

” না। তুমি আমার জন্য একজন হারাম ব্যক্তি ছাড়া কিছুই না।”

” এতোবড় কথাটা বলতে বুক কাপলো না তোমার? মনে লাগলো না? ”

” অকৃতজ্ঞের জন্য আমার বুক কাঁপে না। আমি সম্পূর্ণ ভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ডিভোর্সী সিঙ্গেল পার্সন। আমি নিজেকে নিজে কন্ট্রোল করার বয়সে উপনীত হয়েছি। আমার ব্রেইন যেটা চাইবে আমার মন ঠিক সেই দিবে ড্রাইভার্ট হবে। ”

” আমার কি কোনো জায়গা নেই?”

” আছে কি?”

ফ্লোরা আর উত্তর কাটে না। এতো দিন এটা বিশ্বাস ছিলো কিছুটা হলেও তামিমের মনে তার জন্য মায়াটা কাজ করে। নয়তো অন্তত কথাটা বলতো না। তবে ফ্লোরা তার ডাকে সাড়া দিবে। রত্ন যদি একবার ছুঁতে পারে আর কোনদিন হাতছাড়া করবেনা।

জবেদা দরজায় বার বার নক করছে।
” বড় ভাইজান তাড়াতাড়ি উঠেন। কাল নাগিন আসছে। আব্বা রেগে বোম হয়ে আছে। ব্লাস্ট করলে আপনি আমি কেউ বাঁচবো না। ভাইজান। ও ভাইজান। ”

তামিম দরজা খুলে দেয়। জবেদাকে আর একটা ওয়ার্ড উচ্চারণ না করতে দিয়ে বলে, “যাও আসছি আমি।”

জবেদা চলে যায়। তামিমের তাড়া নেই। সে ধীরে সুস্থে ফ্রেশ হয়ে নিচে নামে। ফ্লোরাকে একবার দেখেই মুখ ঘুরিয়ে নেয়। বাবার পাশে গিয়ে বসে।
” বাবা ডেকেছিলে?”

” এই অলক্ষী আমার বাড়িতে কেন?”

তামিম ফ্লোরার দিকে তাকায়। ফ্লোরার অসহায়ত্বকে নিজ চোখ ভরে দেখে। খারাপ লাগে। কিন্তু তার করার কিছু নেই। বাবাকেই জিজ্ঞেস করে,
” কি বলে?”

ফিরোজ খান এবার রাগ ধরে রাখতে পারলেন না।
” কি বলে তুমি শোনো। বেদ্দপ ছেলে। তোমার জন্য আমার মান সম্মান একবার হারিয়েছি। আবার কোন অঘটন ঘাটাতে চাও? আমি বলে দিচ্ছি তামিম তুমি যদি ভেবে থাকো এই মেয়েকে আমি আবার তোমার জীবনে জায়গা নিতে দিবো তাহলে সম্পূর্ণ ভূল। আমি বেঁচে থাকতে আর সম্ভব না। একে ঘরে তুলতে হলে আমার মৃত্যুর পরে তুলো। যদি চাও এখনই শেষ করে দিতে পারো। আমি প্রস্তুত। ”

তামিম নিচে বসে পড়ে। ফিরোজের পা ধরে হুড়মুড় করে কান্নায় ভেঙে পড়লো। ফিরোজ একদমই টললো না। বরং আরো গর্জে বলে উঠলো, “একভুল আমি বার বার করবো না। আমি জিন্দাদশায় আমার সন্তানের কষ্ট সহ্য করবো না। আমার সন্তানের কষ্ট দূর করতে আরো বেশী কষ্টের কূপ তৈরী করবো এটাও হতে দিবো না। তোমাদের চেয়ে অধিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আমি । সেদিন যা করার তুমি আমার অজান্তে করে ফেলেছিলে। মেনে নেওয়া ছাড়া আমার উপায় ছিলো না। আজ আমি ঠেকে যায়নি। মানুষ বুঝে ঘরে উঠাবো। যাকে তাকে স্থান দিবো না। এক্ষুনি বের করো একে।”

ফ্লোরা উঠে সোহানার কাছে যায়। সোহানার নরম মন। মেয়েটার কান্না দেখে নরম হয়ে গেছে। ফ্লোরা পা জড়িয়ে ধরলেও সরে গেলো না। ফ্লোরা কাকুতি মিনতি করলো। সব ছেড়ে ছুড়ে এ বাড়িতে ঝি বাদীর কাজ করবে সেটাও বললো। এতোসব ড্রামা নিতু ইসলামের সহ্য হলোনা। সদর দরজা দিয়ে দৌড়ে এসে বোনের থেকে ফ্লোরাকে সরিয়ে দিলো। কিন্তু খারাপ ব্যবহার করলো না। রক্ত গরম করার মানুষ তিনি নন। ফ্লোরা তাকেও বললো,” খালামনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি যা করেছি না বুঝে ভুল করেছি। আমি তার শাস্তিও পাচ্ছি। আমার পাশে কেউ নেই। আমি ভীষণ একা হয়ে গিয়েছি। আমি সর্বশান্ত হয়ে গিয়েছি। আমাকে একটু আপনাদের পায়ের নিচে ঠায় দিন। একটু দয়া করুন। আপনাদের ছেড়ে আর কখনো কোনদিকে যাবোনা প্রমিজ করছি। কোনোদিন না।”

নিতু ইসলাম জিজ্ঞেস করলো,
” তোমার বাবা মা কোথায়? ”

” আমাকে ত্যাগ করেছে উনারা। আপনারা ছাড়া আমার আর কেউ নেই। ”

নিতু ইসলাম মুচকি হাসলো। বুঝিয়ে বললো,
” দেখো মা বাবা মা কি জানোতো? তোমাকে জম্ম দিয়েছে লালন পালন করেছে। বড় করেছে। বাবা থাক।‌মা এমন একটা মানুষ যে সন্তানের জন্য পৃথিবীর সকল কিছুর সাথে যুদ্ধ করতে পারে। প্রয়োজনে নিজের জীবন দিতেও দুবার ভাবে না। সেখানে সেই মানুষ গুলোই যদি তোমাকে ত্যাগ করতে পারে তাদের সাথে কোনো অন্যায় না করাতেই সেখানে তুমি আমাদের সাথে যে অন্যায়টা করেছো আমরা কিভাবে তোমাকে ত্যাগ না করে থাকতে পারি? আমাদের তো তোমার ছায়াও মাড়ানোর কথা না। সেখানে এই যে এতোক্ষন যাবৎ তুমি এই আলিশান বাড়িতে আছো এটাতো আমাদের অতি দয়ার কারনেই। তোমার তো কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত তাইনা? একা আছো সেজন্যই তোমার মনে হচ্ছে তুমি আগের লাইফে ফিরে আসতে চাও। পাশে কেউ থাকলে অতীতের কথা তোমার মনেই পড়তো না। আমি বলি কি মা? জীবন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। একটা বিয়ে করো। সংসারী হও।‌ আমাদের ছেলের মতো অনেক ছেলেই আছে যাদের রুপ দেখিয়ে চোখে চশমা লাগাতে পারবে। তোমার ছেলের অভাব হবেনা। ”

সূক্ষ্ম খোঁচাটা তামিমকে খুব সুন্দর ভাবেই দিয়ে দিলো নিতু ইসলাম। তামিম নিজের প্রতি আরো বিরক্ত হলো। ছিহ এতো বোকা সে? এতো !

ফ্লোরা টললো না। তামিমকে বললো, ” তামিম তুমি কিছু বলো। আই ব্যাক করতে চাই তামিম। তামিম আই লাভ য়্যু তো। ”

তামিম বাবার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে ছল ছল করছে জল। ফিরোজ খান ফ্লোরাকে বললো,
” আমার ছেলেদের জন্য অনেক মেয়েই পাগল। আমি দেখি কোন মেয়েটার জন্য আমার ছেলে পাগল? ছোট বউমা এদিকে আসো। ”

লাবিবা তানভীর এসে দাঁড়িয়েছে অনেক আগেই। চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলো। যেখানে ফিরোজ খান সিদ্ধান্ত নিবে সেখানে তারা কি বলবে? লাবিবা গিয়ে ফিরোজ খানের সামনে দাঁড়ালো। লাবিবাকে দেখিয়ে ফিরোজ বললো, “দেখো এ হচ্ছে এই বাড়ির ছোট বউমা। তাকে দেখো কত ভদ্র, মার্জিত, ইনোসেন্ট। আর নিজেকে দেখো। চোখে পড়ে পার্থক্য? ”

এতোটা অপমানে লজ্জায় চোখ থেকে শুধু জল গড়িয়ে পড়লো ফ্লোরার। করুন চোখে তানভীরের দিকে তাকালো। লাবিবাও মাথা নিচু করে আছে। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে তার। যে মেয়েটা তাকে এতো হেল্প করলো তার হয়ে কিছুই করতে পারছেনা দেখে। আসলে পরিস্থিতিই উল্টোপথে। ফিরোজ খান বললো,
” আমার ছোট ছেলে ছোট বউমার জন্য পাগল। বড় ছেলে কি তোমার জন্য পাগল? তামিম? ”

তামিম চোখ মুছে জবাব দিলো, “তোমার সিদ্ধান্ত ই আমি গ্ৰহণ করবো পাপা। তুমি যা বলবে সেটাই হবে। আমি প্রাপ্তবয়স্ক। আমার নিজের উপর বিশ্বাস আছে।”

ফিরোজ খান চোখে হাসলো। ফ্লোরাকে বললো,
” শোনো মেয়ে। তুমি তো ক্ষমা চাও। আমরা তোমাকে ক্ষমা করবো একটা শর্তে। যদি তুমি আমার ছেলের জীবন থেকে সরে যাও। যদি শর্তে রাজি হও তাহলে তুমি ক্ষমা পাবে। নয়তো ঝুলে থাকো যেমন আছো। তোমার বাড়াবাড়ি বাড়লে আমার হাত কতটা লম্বা সেটা তো জানো। ”

ফ্লোরাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হলো। নিতু ইসলাম এসে তামিমকে টেনে ফ্লোর থেকে সোফায় বসালো। লাবিবাও হেল্প করলো। তানভীর এসে তামিমের পাশে বসলো। নিতু ইসলাম রাগান্বিত হয়ে ফিরোজ কে বললো, ” দুলাভাই। আমি আর এসব দেখতে পারবো না। এর একটা বিহিত চাই। ”

সোহানা কিছু বলতে চেয়েছিলো নিতু ওকে থামিয়ে দিয়ে আরো বললো, ” আপা ভাইজানকে কল দাও। জানাও তামিমের জন্য মেয়ে দেখতে। ছোট বউকে ঘরে তুলার আগেই বড় বউকে ঘরে তুলবো। এসব বিশৃঙ্খলা আর ভালো লাগছে না। ”

ফিরোজ খান ছেলের ভগ্ন হৃদয়ের কষ্ট অনুভব করলো। পিঠে হাত রাখলো। দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। তামিমকে বোঝালো,
” দেখো পাপা আজ তুমি আমাকে বড় করতে গিয়েও ছোট করে ফেললে। আমি তোমার পাপা সব সময় এটা মনে রাখবে। মনে এক মুখে এক এরকম দুমুখো মানুষ আমার পছন্দ না। তোমার মনে কোথাও না কোথাও একটা আশা ছিলো। আম সরি পাপা। তোমার আশা পূরণ করতে পারছি না। আজ আমি যদি ফ্লোরাকে ক্ষমা করে তোমার জন্য মেনে নিই তাহলে হয়তো তুমি খুশি হবে কিন্তু সুখী হবেনা। পুরোনো ব্যথা তোমাকে সুখী হতে দিবে না। প্রতিদিন কোন না কোন কাজে বা সময়ে তোমার মনে হবে এই মেয়েটার জন্য আমার এতোটা কষ্ট ভোগ করতে হয়েছে। এই মেয়েটা এখনো স্বার্থপরতা করছে। সামান্য তম ব্যাপার নিয়ে তোমার মনে সন্দেহের বীজ বপন হবে। তুমি এককথায় সুখী হবেনা। এর চেয়ে কি ভালো না অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে সুন্দর ভাবে শুরু করা? যে মেয়েটা তোমাকে সম্মান করবে, তোমাকে বুঝবে, তোমার যোগ্য বউ চাইবে তাকে সাপোর্ট করা? তোমার জন্য ফুল কন্যা আমি পাবোনা জানো। পেলেও এলাও করবো না এটাও জানো। বঞ্চিতদের একজন ই এখন তোমার জীবন সঙ্গী হবে। তাকে সাপোর্ট করার মাধ্যমেই দেখবে জুটি বাঁধবে। গাঢ় শক্ত হবে। শুধু ছেলের কথায় না নেচে আমি ছোট বউমাকে যেমন পরিক্ষা করেই এ বাড়ির লক্ষী বানিয়েছি তেমনি তোমার জন্য ও আমি লক্ষী খুঁজে আনবো। আশা করি তুমি আমার লক্ষীর মর্যাদা দিবে। ”

তামিম মাথা নাড়ালো।
” জি পাপা। তুমি যাকে বলবে আমি তাকেই বিয়ে করবো।”

লাবিবা তানভীরের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞাসা করলো, ” খান সাহেব? এক দুই ঘন্টার মধ্যে পাপা কিভাবে আমাকে পরিক্ষা করলো? আমি তো সেদিনের আগে পাপার মুখোমুখিই হয়নি। ”

” তোমার শ্বশুড়ের জন্য এক দুই ঘন্টা বিস্তর সময়। চাপ নিও না। ” বলে মুচকি হাসলো। কিন্তু লাবিবা ঠিকই চাপ নিলো। হিসাব মেলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।

চলবে ___

রেসপন্স এতো কম কেনো? সাইলেন্ট রিডার্সদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here