পাথর_হৃদয়ে_ফুল Writer – Nodi Karim পর্ব – ৪

0
444

#পাথর_হৃদয়ে_ফুল
Writer – Nodi Karim
পর্ব – ৪

[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ]

ঘরের ভিতরেই তো শত্রু নিয়ে বাস করে বলেই বাকা হেসে বলে।হ্যা যাবো আমি কাল রেডি রাখিস
.
.
.
সন্ধ্যা ৭ঃ৩০,
ডুপ্লেক্স সুন্দর বাড়িটি বিভিন্ন রংঙের আলোয় আলোকিত হয়ে আছে। সাজ সজ্জা দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক টাকা খরচ করা হয়েছে। সবাই পার্টিতে আসা শুরু করে দিয়েছে।আহনাফ খান আর আসাদ খান সবার সাথে কুশল বিনিময় করছে। সার্ভেন্টরা নিজের কাজে ব্যাস্ত সবাই কে সফট ড্রিংক হার্ড ড্রিংক সার্ফ করছে।
কিছুক্ষন পর পাচঁটা গাড়ি খান মেনশনের সামনে থামতেই। পিছনের কার থেকে একজন গার্ড দৌরে এসে কালো বিএমডব্লিউ কারের দরজা খুলে দেয়। একজন সুর্দশন ছেলে গাড়ি থেকে বের হয়। হ্যা এটা আদিয়াতই সে এমনেই সুন্দর আজ যেনো তাকে আরো সুন্দর লাগছে। সব সময়ের মতো কালো ড্রেসআপ করেছে। সিল্কি চুলগুলো জেল দিয়ে সেট করে রেখেছে।তাও কিছু চুল কপালে পড়েছে।লাল ঠোঁটে রয়েছে ডেভিল হাসি। এই সাজ দেখলে কোন মেয়েই নাহ ফিদা হয়ে থাকে।
আরিয়াতের গাড়ি দেখে আহনাফ খান এগিয়ে এসে আরিয়াতের সাথে হাত মিলিয়ে বলে-

_সময় বের করে আজকের পার্টিতে আসার জন্য ধন্যবাদ মিস্টার চৌধুরী ।

_ইট’স ওকে মিস্টার খান।বলেই আসাদ খানের দিকে তাকিয়ে দেখে সে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।তা দেখে আদিয়াত বাকা হাসে।

-চলুন ভিতরে যাওয়া যাক।
আহনাফ খানের কথায় আদিয়াত এবং তার কিছু গার্ড বাড়ির ভিতরে যায়।বাকি রা বাহিরে থাকবে,আদিয়াতকে আসতে দেখেই সব মেয়েরা হা করে আদিয়াতের দিকে তাকিয়ে থাকে।আদিয়াত কোন দিক তা তাকিয়ে ভিতরে গিয়ে একটা টেবিলে বসে,শিহাব গিয়ে আদিয়াতের বাসে দাঁড়ায় ।ড্রিংক করতে করতে আদিয়াত ফোন টিপতে থাকে। কোনো মেয়ে তার কাছের আসায় সাহস পাচ্ছে না ভয়ে কারন সবাই জানে আদিয়াত অনেক রাগি।প্রয়োজন ছারা কারো সাথে কথা বলে না। তাই দূর থেকেই চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে।

সবাই সবার মতো পার্টি এনজয় করছে।

হটাৎ স্পট আলো সিঁড়ির দিকে পড়তেই সবাই সেদিকে তাকায়।
তাকাতেই যেনো সবাই মুগ্ধ হয়ে যায়।ছেলেরা তো মনে হয় চোখ দিয়ে গিলে খাবে।সবার এভাবে এক দিকে তাকাকে দেখে আদিয়াত ও তাকায়।তাকাতেই তার বুক ধক করে উঠে।এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেদিকে।কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে আদিয়াত চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিয়ে আবার মোবাইলে মনোযোগ দেয়ার চেস্টা করে।এসব কিছুই লক্ষ করলো শিহাব তাই আদিয়াত কে বললো-

_ভাই এনি প্রবলেম?
আদিয়াত কিছু বললো না শুধু একবার শিহাবের দিকে তাকালে।শিহাব চুপ হয়ে আবার সিঁড়ির দিকে তাকায়।

আরহা আজকে নিজেকে কালো রং য়ে সাজিয়েছে।লং একটা ব্লাক গাউন পড়া যার ভিতর স্টোনের কাজ করা। যার কারনে লাইটের আলো পড়ায় জ্বল জ্বল করছে। লম্বা চুলগুলো সামনে দিয়ে হালকা পাম্প করে, ছোট লেয়ার কাট দেয়া কিছু চুল বের করে রাখা সামনে দিয়ে যা কপালে পড়ে আছে। পিছনের চুল গুলো এক সাইডে ফুলের মতো করে বাধা।যাতে দেয়া আছে পাথরের ফুল।গলায়, কানে,হাতে, হিরের গহনা কালোর ভিতর সাদা পাথরের। মুখে মানান সই মেকাপ,ঠোঁটে গারো রেড লিপস্টিক। আরহা নিজের গাউন সামলিয়ে সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামতে থাকে। আহনাফ খান মেয়ের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় আরহা মুচকি হেসে বাবার হাত ধরে।হাসার কারনে আরহার গালে টোল টা দৃশ্যমান হয়। যার কারনে তাকে আরো মোহনীয় লাগছিল।

আহনাফ খান আরহাকে নিয়ে স্টেজে উঠে। সকলের দৃষ্টি স্টেজের দিকে।আহনাফ খান সকলকে উদ্দেশ্য করে বলে-

_ লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান, আজকে পার্টিতে আসার জন্য আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনরা জানেন আজকের পার্টিটা আমি আমার মেয়ের জন্য দিয়েছি।

_এটা আমার একমাএ মেয়ে আরহা খান। কালকেই লন্ডন থেকে এসেছে।এবং সে এখন থেকেই মাঝে মাঝে আমার অফিসে বসবে।আমার লন্ডনের অফিসে আমার মেয়েই বসতো আরহাকে একপাশে থেকে জরিয়ে ধরে কথাগুলো বললো আহনাফ খান
_তাই আমার মেয়ের সাথে সবাইকে পরিচয় করানোর জন্যই আজকের পার্টি টা দেয়া।
_সবাই সবার মতো পার্টি এনজয় করুন ধন্যবাদ।

আহানাফ খান আরহাকে নিজে স্টেজ থেকে নামতেই সফট মিউজিক চালু করা হয়। আরহার সাথে সবাই পরিচয় হচ্ছে আহনাফ খান মেয়ের পাশে পাশেই আছে। আদিয়াত ড্রিংক করতে করতে সব কিছুই স্কান করছে।
কিছুক্ষন পর আহনাফ খান আরহাকে আদিয়াতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।

_মামমি উনি হলে আদিয়াত আবরার চৌধুরী। চৌধুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির মালিক তুমি তো শুনেছো নাম তাই নাহ।

_তার মানে উনিই সে যে কয়েক বছর ধরে টপে আছে বিজনেসে

_নাইস টু মিট ইউ মিস্টার চৌধুরী। আরহা আদিয়াতের দিতে হাত বাড়িয়ে
বলে।

_আদিয়াত হাত মিলায় কিন্তু কিছু বলে না।শুধু তাকায় এক পলক
আহনাফ খান জানে আদিয়াত খুব কম কথা বলে।
আহনাফ খান ওখান থেকে চলে যায় একটা কল আসায়।আরহা তা দেখে আদিয়াতের সামনের চেয়ারে বসে গালে হাত দিয়ে আদিয়াতকে স্কান করতে থাকে।
আদিয়াত কিছু বলে না তার নজর নিজের ফোনের দিকে।

_আপনি এতো সুন্দর কেনো মিস্টার চৌধুরী। আরহা ঘোরের মাঝেই কথাটা বলে ফেলে।

_what. আদিয়াত কপাল কুঁচকে কথাটা বলতেই আরহার ধ্যান ভাঙ্গে।
আরহা কিছু না বলে ওয়েটারের থেকে এক গ্লাস ড্রিংক নেয়।
দূরে থেকে আসাদ খান তা দেখে বাকা হাসে।
আরহা আদিয়াতের দিকে তাকিয়েই যেই ড্রিংকটা মুখ দিতে যাবে। তখনই সাহাদ পিছন থেকে আরহাকে মৃদু ধাক্কা দেয়। যার কারনে কিছু ড্রিংক আরহার গাউনে পড়ে।
আরহা রেগে কিছু বলতে যাবে তখনই দেখে সাহাদ কে-

_সরি আরহা ভুল বসত ধাক্কা লেগে গিয়েছে।

_ইট’স ওকে ব্রো।
বলেই আরহা ওয়াসরুমের দিকে যায়।
সাহাদ আরহার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে-
_তোমাকে তো আমার এক রাতের জন্য চাই ই চাই এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে মর’তে দেই বলো সুন্দরী ।বলে বিশ্রি হাসি দেয়।
আদিয়াত সব কিছুই খেয়াল করলো। কিন্তু কিছু বললো না। উঠে কোথাও চলে গেলো।
_________

আরহা ওয়াসরুমে ড্রেস পরিষ্কার করছিলো। তখই হঠাৎ লাইট অফ হয়ে গেলে ফাস্টে ঘাবরে যায়। পরে অনুভব করে তার পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। খুব কাছে এবং তার পারফিউমের ঘ্রান টাও আরহার নাকে আসছে।
হঠাৎ একটা হাত আরহার কোমর স্পর্শ করতেই আরহা ঘুরে লোকটাকে আক্রমন করতে যায়। বাট লোকটা হয়তো আগেই আরহার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে গিয়েছিলো।তাই আরহাকে সুযোগ না দিয়েই আরহার কোমরে টান দিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। আরহা দস্তা-দস্তি শুরু করে দেয় ছোটার জন্য কিন্তু লোকটার শক্তির সাথে পেরে উঠে না।
একসময় আরহা শান্ত হয়ে যায় কারো ঘরম নিঃশ্বাস ঘারে পড়ার করানে কেঁপে উঠে। নিঃশ্বাস নিতে ও যেনো ওর সমস্যা হচ্ছে। লোকটা তার মুখ আরহার কানের কাছে নিয়ে স্লো ভয়েসে বলছে।

_ম্যাম শান্ত হয়ে যান আপনার শক্তি সবার সাথে চললে ও আমার কাছে আপনার শক্তি ফিকে।সো স্টব অ্যান্ড লিসেন,
শুধু ক্ষমতা আর গায়ের জোরে টিকে থাকা যায় না।বুদ্ধি ও থাকতে হয়,চোখ কান খোলা রেখে পা ফেলতে হয়।সবাইকে বিশ্বাস করা যায় না তা যতোই আপন হোক।বিশ্বাস করবেন তো মর’বেন যেমন একটু আগেই মর’তে যাচ্ছিলেন।
আরহা মন দিয়ে কথাগুলো শুনছিল।হঠাৎ গলায় ব্যাথা অনুভব করে
“আহ”বলে মৃদু শব্দ করে।আর সাথে সাথেই আলো জ্বলে উঠে,কিন্তু তখন আরহা আর কাউকে দেখতে পায় না।
আরহা আয়নার সামনে গিয়ে গলা চেক করতেই দেখে তার গলার বাদামি তিল টার উপর কামরের দাগ।
আরহা রেগে চিৎকার করে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে বুঝতে পারে নি বলে।
___________

গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন খান ভিলা, শুনশান নিরবতা বিরাজমান। রাত একটায় পার্টি শেষ হয়েছে,এখন রাত তিনটা বাজে। এর মধ্যেই হঠাৎ আরহার ঘুম ভেঙ্গে যায় আর জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে থাকে। বেড সাইট টেবিল থেকে পানির গ্লাস নিয়ে ডক ডক করে খেতে থাকে।তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে যা আশা করেনি তেমন কিছুই স্বপ্ন দেখেছে।

_ও গড আমি কি স্বপ্ন দেখলাম এই আদিয়াত তো আমাকে স্বপ্নেও জ্বালাচ্ছে।যাস্ট এক দিনের পরিচয়ে আমি তাকে নিয়ে স্বপ্ন ও দেখে ফেললাম।
_আগে ও তো আমি সুন্দর ছেলে দেখেছি কথা বলেছি।কই তাদের নিয়ে তো এমন কোনো ফিল হয় নি আমার।
আরহা দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে বলে উফ ভালো লাগছে না আর্সিকে একটা কল দেই।কিন্তু কল বেজে যাচ্ছে ধরছে না চার বারের সময় কল ধরে

_কিরে ভাই একটু আগেই তো তোদের বাসা থেকে আসলাম।ঘুমাতে দে এখন একটু
আর্সি ঘুম ঘুম কন্ঠেই কথাগুলো বলে।

_রাখ তোর ঘুম আগে আমার কথা শোন একটা Important কথা আছে।
আর্সি আরহার কথায় সিরিয়াস হয় কারন এতো রাতে আরহা কখনো ফোন দেয় না।
তারপর আরহা আর্সিকে ফাস্ট থেকে সব বলে তার ফিলিংস স্বপ্নের কথা-

_আরেব্বাস বান্ধবী তুই তো দেখি ফাস্ট দেখায় প্রেমে পড়ে গেছিস।যাকে বলে লাভ এন্ড ফাস্ট সাইট।তোর বিশ বছরের রেকড ভাঙ্গলো তাহলে।কিন্তু আরু তুই হয়তো জানিস না উনি মেয়েদের সয্যই করে পারে না।এক রাত ছারা কোনো মেয়ের পাশ গেসে না। তার #পাথর_হৃদয়ে_ফুল তুই কিভাবে ফুটাবি।
আর্সির কথায় আরহা বলে-

_চুপ যা আগে আমি আমার ফিলিংস টা বুঝে নেই।উনি মেয়েদের সাথে বেড শেয়ার করে ভালো তো আর বাসে না,আমি আমার ভালোবাসা দিয়ে ঠিক করে নিবো উনাকে। তার আগে আমার বুঝতে হবে উনার প্রতি আমার এটা মোহ নাকি অন্য কিছু।এখন রাখছি বলেই ফোন কেটে দিয়ে কিছুক্ষন একা একা ভেবে বিরবির করে বলতে থাকে-

_আর্সির কথা যদি সত্যি হয়। আমি যদি সত্যিই আপনার প্রেমে পড়ি তাহলে আপনাকে তো আমি আমার করবোই।সেটা যেভাবেই হোক,আরহা নিজের পছন্দের জিনিস কখনো কাউকে দেয় নাহ। আপনার #পাথর_হৃদয়ে_ফুল ও আমি ফোটাবোই বলেই আরহা রহস্যময় হাসি দেয়।
____________

আদিয়াত রোজকার মতো আজও একটা মেয়েকে তার বেড পার্টনার বানিয়েছে। একটু আগেই মেয়েটাকে টাকা দিয়ে রুম থেকে বের করে দিয়ে সাওয়ার নিয়ে নিজের রুমে এসে শুয়েছে।
তখনি শিহাবের কল আসে,শিহাবের কল দেখেই আদিয়াত রিসিভ করে হ্যালো বলতেই।শিহাব বলে ওঠে-

_ভাই আপনি কি মেয়েটাকে…..

চলবে…………

(ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।আজকের পর্বটা কেমন হয়েছে জানাবেন😊)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here