#পাথর_হৃদয়ে_ফুল
Writer- Nodi Karim
পর্ব- ৩
[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ]
যার কারনে সবাই থেমে গিয়ে গাড়ি থেকে নেমে দেখে সামনে একটা কালো রংঙের বিএমডব্লিউ কারের সাথের তাদের গাড়ির ধাক্কা লেগেছে।একজন গার্ড এসে কারের দরজা খুলে দিতেই একজন আটাশ কি ঊনত্রিশ বছরের হ্যান্ডসাম ছেলে বের হয়।যাকে দেখেই আরহার মুখ হা হয়ে যায়
_মুখ বন্ধ কর বইন তোর জন্য বিপদে পরলাম এখন বাঁচবো কিভাবে আদিয়াত আবরার চৌধুরীর হাত থেকে। বলেই দুঃখী দুঃখী মুখ করে।
রনিতের ধাক্কায় আরহার ধ্যান ভাঙ্গতেই দেখে গাড়ি থেকে বের হয়ে আদিয়াত তাদের দিকেই আসছে। আরহা আদিয়াতের পা থেকে মাথা পর্যন্ত চোখ বুলিয়ে দেখে ছেলেটা কালো শার্টের উপর কালো কোট প্যান্ট পড়া যেটা তার ফর্সা শরীলে ফুটে আছে।চুল গুলো জেল দিয়ে সেট করা। ফর্সা গালো ট্রিম করা দাড়ি, লাল ঠোঁট,গারো নীল চোখ।
আরহার ২০ বছর জীবনে এই প্রথম কোনো ছেলেকে এভাবে স্কান করলো।আরহার দেখার মধ্যেই ছেলেটি তাদের সামনে এসে দাড়িয়ে বলে-
_হেই স্টুপিড , ড্রাইভ করতে পারো না তাহলে ড্রাইভ করতে যাও কেনো। আরহার দিকে না তাকিয়েই কথা গুলো বলতে বলতেই আরহার দিকে তাকায়ে থেমে যায়। কয়েক পলক একদৃষ্টিতে আরহার মুখের দিকে তাকিঁয়ে থেকে আরহার ড্রেসের দিকে চোখ যেতেই মুখ কঠিন করে নিয়ে দমক দিয়ে বলে-
_কথা বলছো না কেনো?
আদিয়াতের দমকে আরহা কেঁপে উঠে।এই বিশ বছর জীবনে তাকে কেউ এভাবে দমক দেয় নি।প্রথমে আদিয়াতের ধমকে ভয় পেলেও পরে রাগে চোখ মুখ লাল করে বলে-
_ ধমকে কথা বলছেন কেনো আমরা কি ইচ্ছা করে আপনার গাড়ি ধাক্কা দিয়েছি। হ্যা ভুল বসতো লেগে গেছে তার জন্য আমরা সরি বলতাম আপনি আমাদের সুযোগ না দিয়েই ধমকে যাচ্ছেন।আরহা আর কিছু বলবে এর মধ্যেই আরহার গার্ডরা দৌরে আসে। আরহারা গার্ডের ধোকা দিয়ে পিছে ফেলে এসেছিলো।তাই তাদের আসতে দেরি হলো।
গার্ডরা দৌরে এসে বলে-
_ ম্যাম এনি প্রবলেম?
আরহা গার্ডদের কথায় কিছু না বলে আদিয়াতকে উদ্দেশ্য করে বলে-
_আপনার গাড়ির যা ক্ষতি হয়েছে।তার ক্ষতি পূরন আমি দিয়ে দিচ্ছি।
এদিকে আরহাকে ওর ফ্রেন্ডরা থামতে বলছে আরহা থামছেই না।আদিয়াতের চোখ লাল হয়ে গিয়েছে রাগে। যেনো চোখ দিয়েই জ্বালিয়ে দিবে।
গার্ডরা আদিয়াতকে দেখে চোখ চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থেকে ভয়ে ভয়ে সালাম দিয়ে বলে-
_স্যার ম্যাম আপনাকে চিনে না আজকেই বিডিতে এসেছে।
আরহা গার্ডদের ধমক দিয়ে বলে –
_তোমরা আমার গার্ড হয়ে ওনাকে কেনো ভয় পাচ্ছো।ওনি কোন মহৎ ব্যাক্তি।
আদিয়াত কিছু না বলে রেগে হাত মুঠ করে ফেলে চোখ ব্ন্ধ করে খুলে গাড়িতে গিয়ে বসে।
আর এদিকে আরহার ফ্রেন্ড আর গার্ডদের তো ঘাম ছুটে গিয়েছে। যে আদিয়াতের সামনে সবাই নিচু গলায় কথা বলে সেখানে আরহা ধমকে কথা বলেছে। না যানি আদিয়াত এখন কি করে ভেবেই ভয়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।
____________
আরহা ও তার ফ্রেন্ডরা সবাই একটা রেস্টুরেন্টে এসেছে সবাই আরহাকে বুঝাচ্ছে আদিয়াত কে? আর্সি কফি খেতে খেতে আরহাকে বলে-
_দোস্ত তুই জানিস উনি কতো বড় মাফিয়া প্লাস টপ বিজনেসম্যান দেশের বাহিরে ও উনার অফিস রয়েছে দেশের বাহিয়েও উনার অনেক ক্ষমতা।বড় বড় ব্যাক্তিরা ও ওনার কথায় উঠে বসে। উনি ঠিক যতটা সুন্দর ঠিক ততোটাই হিংস্র।
আর্সির কথায় তুর্বী সায় দিয়ে বলে
_হ্যা রে,উনি তো মেয়েদের ভোগের পন্য মনে করে। উনি শুধু নিজের বোন আর দাদিকে ছারা কাউকে ভালোবাসে না সম্মানও করে না।
সিদ্রাত ফোন টিপতে টিপতে বলে-
_উনি তো একবার মিডিয়ার সামনে একজনকে হিংস্রভাবে মেরেছিলো।কেউ কিচ্ছু করতে পারে নি।
আরহা সবার কথায় বিরক্ত হয়ে বলে-
_এই তোরা থাম তো আমি কাউকে ভয় পাই না। কি কখন থেকে আদিয়াত আদিয়াত শুরু করেছিস।বাদ দেতো আমি ও একবারে অসহায় ব্যাক্তি না।
_ওকে থামলাম চল এখন একটু ঘুরে আসি মুড টাই নষ্ট হয়ে গেছে। নুজাইফার কথায় সবাই বলে ওকে চল তাহলে।
_________
আদিয়াত তার বোন আরাবীকে নিয়ে শপিংয়ে এসেছে।দীর্ঘ এক সাপ্তাহ ধরে আদিয়াতকে রাজি করিয়েছে আরাবী তার সাথে আসার জন্য। কারব আদিয়াতের চয়েস সব সময়ই বেস্ট।তারা যে সাইটে আছে পুরো টাই খালি করানো হয়েছে আদিয়াতের জন্য। আরাবী বকবক করছে আর ড্রেস দেখছে-
_ভাইয়া দেখো তো আমাকে এই ড্রেসটায় কেমন লাগছে।
_গুড, তোর সব কেনা শেষ নাহ এখন চল যাওয়া যাক।আমার একটা important কাজ আছ।
_ তুই শিহাবের সাথে এখন বাসায় চলে যা।
আরাবী আদিয়াতকে জরিয়ে ধরে বলে-
_ওকে ভাইয়া।
________
আদিয়াত গাড়িতে করে যাওয়ার সময় দেখে রাস্তার পাশে,গাড়ীর ডেস্কের উপর তার সাথে ঝামেলা করা সেই মেয়েটা বসে আছে,হাতে হকিস্টিক।তার পাশেই তার সাথের ছেলে মেয়েগুলো। তাদের সামনেই কিছু ছেলে কান ধরে উঠবস করছে।
আদিয়াত বিরক্ত হয়ে বাহিরে আর না তাকিয়ে জানালার কাচ উঠিয়ে দেয়।
আর বিরবির করে বলে-
_স্টুপিট
আসলে আরহারা রেস্টুরেন্টে থেকে বের হয়ে ঘুরছিলো গাড়িতে। তখনই তুর্বী গাড়ীর বাহিরে তাকালে দেখে কিছু ছেলে একটা মেয়েকে ডিস্টার্ব করছে। দেখেই তুর্বী বলে-
_আরে ইয়ার দেখ ওই ছেলেগুলো মেয়েটাকে হ্যারেস করছে।
তুর্বীর কথাশুনে সবাই সেই দিকে তাকায়।
আরহা আর কিছু না ভেবেই গাড়ী থামিয়ে গাড়ীর পিছন থেকে হকিস্টিক দিয়ে রাস্তার ওনান থেকে একটা রিকশা ডাক দিয়ে এনে যে মেয়েটাকে হ্যারেস করছিলো তাকে বলে-
_তুমি এখন যাও ওদের আমরা দেখছি।
বলেই মেয়েটাকে রিকশায় উঠিয়ে দিয়ে
ওই ছেলেগুলোকে পিটানো শুরু করে। আরহার মতো ওর ফ্রেন্ডরাও হকিস্টিক নিয়ে পিটাতে থাকে।
_দিনে দুপুরে রাস্তায় দাড়িয়ে মেয়েদের হ্যারেস করছিস। তোদের মা বোন নেই।
বলেই আরো জোরে পিটাতে থাকে।
_আপু আমাদের ভুল হয়ে গেছে প্লিজ আমাদের ছেরে দিন।আমরা আর এরকম করবো না।
ওই ছেলে গুলোর মধ্যে থেকে একজন বলে ওঠে।
_এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে ছেরে দেই। এই আরহা ওদের দিয়ে কি করানো যায় বল তো।
নুজাইফার কথায় আরহা বলে-
_তোরা সব গুলো ১০০ বার কান ধরে উঠবস করবি এখন।এই রাস্তায়ই,
ছেলেগুলো ভীতু মুখে ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে বলে-
_এতো মার মেরেছেন মনে তো হয় দাড়াতেই পারবো না আপু প্লিজ মাফ করে দিন।
_তোরা মেয়েটাকে ছেরেছিলি তোদের যে ছারবো নে শুরু কর।বলেই আরহা গাড়ীর ডেস্কে উঠে বসে।
আর তখনই আদিয়াত দেখে।
৫০ বার উঠবস করার পর আরহা বলে হয়েছে আর করতে হবে না।আর যদি তোদের আমি দেখি এমন করতে তখন ছার পাবি না।
_ছেলেগুলো ভয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলতে থাকে না না আমরা আর এরকম করবো না।বলেই খোরাতে খোরাতে দ্রুত হাটতে থাকে।
আরহার গাড়ীর ডেস্কে থেকে নেমে বলে-
_চল তোদের বাসায় নামিয়ে দিয়ে আমি বাসায় যাবো।গার্ডদের তো আগেই পাঠিয়ে দিয়েছি।
আরহার কথায় আর্সি বলে-
_হ্যা চল চল আমার ও তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে হবে।
____________
আরহা গাড়ীর চাবি আঙ্গুলে ঘুরাতে ঘুরাতে গুন গুন করে গান গেয়ে বাড়িতে ডুকতেই।সবাই আরহার দিকে তাকায়,আরহার জন্যই তারা অপেক্ষা করছিলো।
সাহাদ লোভাতুর দৃষ্টিতে আরহার পা থেকে মাথা পর্যন্ত চোখ বুলায়।
আরহা একটা সর্ট স্কার্ট আর টি-শার্ট পড়া।লম্বা চুলগুলো সব সময় কার মতো ঝুটি করা। সামনে দিয়ে লেয়ার কাট দেয়া কিছু চুল বেড়িয়ে আছে।মুখে কোন সাজ নেই।
আহনাফ খান আরহাকে দেখে বলে-
_মামনি ফাস্ট ফ্রেস হয়ে আসো আমরা তোমার জন্য ওয়েট করছি কথা আছে।
_ওকে পাপা
বলেই আরহা নিজের রুমে যায়। ফ্রেস হয়ে টি-শার্ট আর ট্রাউজার পরে নিচে এসে আহনাফ খানের পাশে বসে বলে-
_কি বলবে পাপা
_আহনাফ খান মেয়েকে পাশ থেকে জরিয়ে ধরে বলে। কালকে আমি বড় করে পার্টি থ্রো করতে চাই তোমার আসার জন্য।আর কিছু দিন পর তো তুমি অফিসে বসবে।তাই বড় বড় বিজনেসম্যান দের নিয়ে একটা পার্টি করা হবে।তোমাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো।তোমার যদি কোনো শপিং করা লাগে তাহলে কালকে সকালে গিয়ে করে এসো ঠিক আছে মামমি।
_ওহ এই কথা,আমি লন্ডন থেকে ই শপিং করে আসছি আর কিছু লাগবে না।
আসাদ খান বাবা মেয়ের কথা শুনে মনে মনে বলে দেখো তোমার মেয়ের কালকেই শেষ দিন হয় নাকি।বলেই শয়’তানি হাসি দেয়
___________
আদিয়াত ড্রইংরুমের সোফায় বসে ল্যাপটপে কি যেনো করছিলো তখনি শিহাব এসে বলে-
_ভাই আহনাফ খান তার মেয়ে দেশে ফেরাতে পার্টি দিবে কাল। আপনাকে ইনবাইটেশন কার্ড পাঠিয়েছে।
_আহনাফ খানের মেয়েও আছে জানতাম না তো।
_জ্বী ভাই ছোটো থাকতেই লন্ডনে পাঠিয়ে দিয়েছিলো মেয়ের সুরক্ষার জন্য।
_ঘরের ভিতরের শত্রু বলেই বাকা হেসে বলে,হ্যা যাবো আমি কাল রেডি রাখিস সব।
চলবে………..
(ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। পর্বটা কেমন হয়েছে যানাবেন)

