#পাথর_হৃদয়ে_ফুল
Writer – Nodi Karim
পর্ব -২
[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ]
বলেই গাড়ির গিয়ে বসলে ড্রাইবার গাড়ি স্টাট দেয় এবং তাদের পিছনে একটি গাড়ি আসে যেটায় গার্ডরা আছে।
খান বাড়ির সামনে গাড়ি থামতেই গার্ডরা এসে গাড়ির দরজা খুলে দেয়।
সবাই বাড়ির ভিতর ডুকতেই রেহেনা খান এসে আরহাকে জরিয়ে ধরে। আরহা ও খুশি মনে নিজের কাকিমা কে জরিয়ে ধরে।কাকি মার সাথে তার বন্ডিং অনেক ভালো।লন্ডনে থাকতে রোজ কথা হতো।
রেহেনা খান আরহার মুখে হাত বুলিয়ে বলে-
_আরহা মামুনি আমার কাকিমা তোর জন্য কখন থেকে অপেক্ষা করছে।কতো বছর হলো তোকে সামনে থেকে দেখি না বলেই আরহার কপালে চুমু খান।
আহার নিজের কাকিমার দুই হাত নিজের হাতে নিয়ে বলে-
_তোমাদের জন্যই তো তাড়াতাড়ি চলে আসলাম। তোমাদের ছেরে কি আমার একা এতো দূর ভালো লাগে বলো কাকিমা?
বলেই আরহা মুখ ঘোমরা করে রাখে তা দেখে রেহেনা খান হাসেন।
আসাদ খান আরহাকে উদ্দেশ্য করে মুচকি হেসে বলেন-
_তা আরহা আসতে কোনো সমস্যা হয় নি তো। এখন থেকে সাবধানে থেকো নিজের দেশে এসেছো বলেই রহস্যময় হাসেন।যে হাসির মানে আসাদ খান ছারা কেউ বুঝে নি।
আরহা এক গাল হেসে আসাদ খানকে জরিয়ে ধরে বলেন_
_কাকা বাবা তুমি আর পাপা থাকতে আমার কিসের টেনসন। আমার দুই টা বাবা থাকেতে কি আমার কিছু হতে পারে বলো?
আসাদ খান কিছু না বলে আরহার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।
আরহা আসাদ খানকে ছেরে সাহাদ আর জাহিরার সামনে গিয়ে ধারাতেই।জাহিরাহ আরহার বুকে ঝাপিয়ে পড়ে বলে-
_আপ্পি তুমি জানো আমি তোমাকে কত্তো মিস করেছি।তুমি আর আমাদের ছেরে যেতে পারবে না।
জাহিরার কথা শুনে সাহাদ আরহাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত স্কান করতে করতে বলে –
_আর কোথায় যাবে? যেতে চাইলেই কি আমরা যতে দিবো নাকি বলেই বাকা হাসে।
আরহা জাহিরাহকে ছেরে সাহাদের সামনে গিয়ে বলে-
_হ্যা ভাইয়া আমি আর তোমাদের ছেরে যাচ্ছি না বলেই জাহিরার গাল টেনে দেয়।
আহনাফ খান আরহাকে উদ্দেশ্য করে বলে মামুনি এখন ফ্রেস হয়ে আসো, তোমার মাম্মাম তোমার পছন্দের সব খাবার রান্না করেছে।
_ওকে পাপা আমি এখনি ফ্রেস হয়ে আসছি।বলেই আরহা সিড়ি ভেঙে নিজের রুমে যায়।রুমে ডুকেই তো আরহা অবাক।
আরহার পাপা আরহার পছন্দ মতো রুমটা সাজিয়েছে।পার্পেল কালারের ডেকোরেশন করা,রুমের সব জিনিস সাদা এবং পার্পেল কালারের। আরহাকে তার পাপা বলেছিলো তার পছন্দ মতো রুম সাজিয়েছে।কিন্তু দেখায় নি সে আসলে দেখতে পাবে বলেছে।আরহা আর কিছু না ভেবে,রুমের পাশ থেকে নিজের লাগেজ খুলে। আহনাফ খান আগেই আরহার লাগেজ সাভেন্ট নিয়ে রুমে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। আরহা লাগেজ থেকে টি-শার্ট আর থ্রি কোয়াটার প্যান্ট নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায় শাওয়ার নিতে।
ডাইনিং টেবিলে সবাই আরহার জন্য অপেক্ষা করছে।কিছুক্ষন পর আরহা দুপ করে এসে আহনাফ খানের পাসে বসে পরে,তারপর সবাই খাওয়া শুরু করে। আহনাফ খান হেসে হেসে মেয়ের সাথে কথা বলছে আর নিজের হাতে মেয়েকে খাইয়ে দিচ্ছে। আফরুজা খান দু চোখ ভোরে বাবা মেয়ের ভালোবাসা দেখছে।যেটা সে সব সময় মিস করতো। এখন তার মনে হচ্ছে তার পরিবার পূর্ন।
আরহার কথায় আফরুজা খানের ধ্যান ভাঙ্গে।আরহা আহনাফ খানকে বলছে-
_পাপা আমি কিন্তু এখন বাহিরে যাবো কতো দিন হলো আমি আমার ফ্রেন্ডদের সাথে দেখা করি না।
_মামনি তুমি এসেছো আগে একটু রেস্ট করো তারপর না হয় যেয়ো
আহনাফ খানের কথায় আরহা বলে-
_এসে রেস্ট করবো প্লিজ পাপা না করো না।
_ওকে যাবে কিন্তু একা না তোমার সাথে গার্ড রা যাবে।গার্ড ছারা একা বাহিরে যেতে পারবে না।ড্রাইভারকে আমি বলে দিচ্ছি..
_পাপা আমার ড্রাইভার লাগবে না তুমি তো চিনো আমাকে নো টেনসন।শুধু গার্ডরা যাক।
এতোক্ষন সবাই বাবা মেয়ের কথা শুনছিলো। তার ভিতরেই আবার কয়েকজন জগন্য প্লানের ছক কসছিলো।
__________
আদিয়াত অফিসে নিজের কেবিনে বসে কাজ করছিলো। তখন দরজার কেউ নক করে, রিমোট দিয়ে দরজার লক খুলতেই শিহাব কেবিনে ডুকে বলে-
_ভাই আরাবী ম্যামের কোচিং ছুটির সময় হয়ে গেছে।আজকে আপনাকে নিয়ে শপিংয়ে যাওয়ার কথা ছিলো।
_ও হ্যা আমি ভুলেই গিয়েছিলাম গাড়ি বের কর আমি আসছি।
_ওকে ভাই।
বলেই শিহাব চলে যায়।
আদিয়াতকে কেবিন থেকে বের হতে দেখেই সব স্টাফরা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে।যেনো এতক্ষন তাদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে ছিলো।
আদিয়াত গাড়ির পিছনে বসতেই শিহাব ও সামনে এসে বসতেই গাড়ি স্টাট হয়।আদিয়াতের গাড়ির পিছনে আরো তিনটি গাড়ি আসে যেটায় গার্ডরা আছে।আদিয়াত গার্ড দিয়ে চলতে পছন্দ করে না,সে একাই নিজেকে রক্ষা করতে পারে।কিন্তু তার দাদিজানের কথায় তাকে গার্ড নিয়ে চলতে হয়।
___________
আরহা গাড়ি ড্রাইভ করছে সাথে রয়েছে তার তিন বান্ধবী ও দুই বন্ধু তুর্বি, রনিত,নুজাইফা,সিদ্রাত,আর আর্সি। ছোট বেলা থেকে তারা খুব ভালো বন্ধু। আরহা লন্ডনে চলে গেলে ও তাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ ছিলো।
_ আমার সারপ্রাইজটা তোদের কেমন লাগলো বল। আরহা ড্রাইভ করতে করতে বলে।
সিদ্রাত কোক খেতে খেতে বলে-
_বইন কি আর বলবো আমি তো তোকে সামনে দেখে আর একটু হলে ফিট পরতাম। এই বিদেশি পেত্নিটা কোথা থেকে টপকালো এই ভেবে।
সিদ্রাতের কথায় সবাই হেসে দেয়
আরহা কোকের ক্যান সিদ্রাতের দিতে মেরে বলে –
_আমাকে তোর বিদেশি পেত্নির মতো লাগে।
আরহার কথায় নুজাইফা দুঃখী দুঃখী মুখ করে বলে-
_তুই তো বিদেশি পেত্নিই আগে তো ফর্সা ছিলিই এখন লন্ডননে থেকে আরো হয়েছিস।তোকে নিয়ে চলতে ভয় হচ্ছে মানুষ না যানি তোকে ভুত ভেবে তোর সাথে আমাদের ও মারে
নুজাইফার কথায় সবাই হো হো করে হেসে বলে –
_হ্যা নুজু ঠিকই বলেছে রে।সবার হাসি দেখে আরহা রেগে মারতে উঠতেই আরহার গাড়ি গিয়ে লাগে কারো গাড়ির সাথে।
যার কারনে সবাই থেমে গিয়ে গাড়ি থেকে নেমে দেখে সামনে একটা কালো রংঙের বিএমডব্লিউ কারের সাথের তাদের গাড়ির ধাক্কা লেগেছে।একজন গার্ড এসে কারের দরজা খুলে দিতেই একজন আটাশ কি ঊনত্রিশ বছরের হ্যান্ডসাম ছেলে বের হয়।যাকে দেখেই আরহার মুখ হা হয়ে যায়
Running….
( ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। পর্বটা কেমন হয়েছে জানাবেন😊)

