পাথর_হৃদয়ে_ফুল Writer_Nodi Karim – নদী করিম পর্ব ১

0
961

#পাথর_হৃদয়ে_ফুল
Writer_Nodi Karim – নদী করিম
পর্ব ১

[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ]

রাত ০২ঃ০০ টা ফাকা পিচ ডালা রাস্তায় শুনশান পরিবেশে প্রানপনে দৌরাচ্ছে ৩ জন লোক যাদের শরীরের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে রাস্তা।প্রানপনে দৌরাচ্ছে জীবন বাঁচাতে।তাদের তারা করছে দশ থেকে বারো জন কালো পোশাক দারি লোক। কিছুটা দূর আসার পর চোখে পরে সামনে চেয়ারের উপর কেউ পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে।ফেস দেখা যাচ্ছে না কালো হুডি দিয়ে ফেস ডাকা। অজ্ঞাত লোকটাকে দেখেই পিছনের কালো পোশাক দারি লোকগুলো থেমে যায় নিজেদের বস কে দেখে।আর সামনের তিন জন লোকের ভয়ে কাপাকাপি শুরু হয়ে যায়। অজ্ঞাত ব্যাক্তি শিহাব বলে ডাকতেই শিহাব নামক লোকটি গাড়ির ভিতর থেকে রিভলভার এনে অজ্ঞাত ব্যাক্তির হাতে দেয়। অজ্ঞাত ব্যাক্তি রিভলবার হাতে নিয়ে কপালে স্লাইট করতে করতে লোকগুলোর সামনে গিয়ে বলে-

_তোদের সাহস দেখে আমি অভাক হচ্ছি, তোরা আমার লোক সেজে আমার খবরা-খবর বাহিরে লিক করতে চাবি আর আমি বুঝবো না।আদিয়াত আবরার চৌধুরিকে তোরা চিনিস না রেগে হুংকার দিয়ে বললো।কে পাঠিয়েছে তোদের? আসাদ খান।

সবাই আদিয়াতের হুংকারে কেপে উঠে।তিনজনের ভিতর থেকে একজন লোক হাটু ভেঙ্গে হাত জোর করে আকুতির স্বরে বললো-
_স্যার আমাদের ক্ষমা করে দিন আমাদের ভুল হয়ে গেছে।এভাবের মতো মাফ করে দিন।

_আমার ক্যারেক্টারে ক্ষমা শব্দটা নেই সেটা সবাই ভালো করে ই যানে।
কথাটা বলেই তিন জনের কপালে শুট করে দেয়। আদিয়াত লাশ তিনটির দিতে তাকিয়ে ডেভিল স্মাইল দিয়ে শিহাব কে বলে-

_শিহাব এই কীট তিনটেকে আমার শার্কদের খাবার বানা আজকে।

শিহাব জ্বি বস বলে গার্ডদের সব বুঝিয়ে দিয়ে লাশ তিনটিকে গাড়িতে উঠাতে বলে আদিয়াত এর পিছনে আসলো।
আদিয়াত আর কেনো দিক না তাকিয়ে হেটে গাড়ির কাছে যেতেই, একজন গার্ড আদিয়াতের গাড়ির দরজা খুলে দেয়।আদিয়াত গাড়ির পিছনে বসে শিহাব ডাইভারের পাশে বসতেই গাড়ি স্টাট দিলো চৌধুরী মঞ্জিলের দিকে।

[আদিয়াত আবরার চৌধুরী বাংলাদেশের একজন টপ বিজনেসম্যান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার অফিস রয়েছে।সেই সাথে মাফিয়াও তার নাম শুনলেই মানুষের কাপাকাপি শুরু হয়ে যায়। দেশের বাহিরে ও তার অনেক ক্ষমতা।বিভিন্ন দেশে তার নিজের বাড়ি রয়েছে। কিন্তু বাড়ির থেকে সে নিজের হোটেলেই বেশি থাকে। দেখতে সাদা ফর্সা,লম্বায় ৬ ফিট,জিম করা বডি,ট্রিম করা দাঁড়ি, ঠোঁট গুলো লাল,চোখের মনি হালকা নিল সব মিলিয়ে ক্রাস বয়।হাজারো মেয়ের ক্রাস।কিন্ত তার বদ মেজাজ ও অ্যাটিটিউট এর কারনে কোনো মেয়ে কাছে আসার সাহস পায় না।নিজের বলতে শুধু দাদি আর বোন আছে। বাকিটা গল্পেই জানতে পারবেন ]
_____
রাত ৩ঃ২৪ মিনিট
আদিয়াত নিজের বিশাল বড় হোটেলের সামনে এসে গাড়ি থেকে নেমে।নিজের পার্সোনাল রুমে ডুকে বিছানার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসি দেয় বিছানায় একটি মেয়ে বসে আছে।আদিয়াত আর কোনো দিক না তাকিয়ে ওয়াসরুমে ফ্রেস হতে চলে যায়। কিছুক্ষন পর ফ্রেস হয়ে বের হয়ে বিছানায় দিকে গিয়ে বসে।মেয়েটিকে ধাক্কা দিয়ে বালিশে ফেলে দিয়ে মেয়েটির ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়।যা একটু পর কামরে রুপ নেয় মেয়েটি ছটফট শুরু করে এতে আদিয়াত এর কিছুই যায় আসে না।বেড সাইট থেকে রুমের লাইট অফ করে দিয়ে মজে উঠে নিত্যদিনের কাজে।
দের ঘন্টা পর মেয়েটির ফুফিয়ে কান্নার আওয়াজে বিরক্ত হয়ে আদিয়াত মেয়েটিকে বলে-

_এতো কান্নার কি আছে এখানে আসার আগে ভাবতে পারলে না।
এই কথা বলে আদিয়াত মেয়েটিকে ছেরে দিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে বলে। মেয়েটি অভাক হয়ে আদিয়াতকে বলে-

_এখন কিভাবে সকাল এ যাই।

মেয়েটির কথায় আদিয়াত কোনো রুপ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে টাকার চেকটা হাতে ধরিয়ে রুম থেকে বের করে দরজা লাগিয়ে দেয়।মেয়েটি একা কান্না করতে করতে বলে-

_তোমার ভালোবাসা তো পাবো না তাই এক রাতের জন্য তোমার এই কাছে আসার সুযোগটা হাত ছারা করিনি।তুমি তো দ্বিতীয় বার আর ছুয়ে ও দেখবে না।
কথাগুলো বলে মেয়েটিকে ফোনে নিজের ড্রাইবারকে কল আসতে বলে।
_______
আদিয়াত দরজা লাগিয়ে দিয়ে ওয়াসরুমে সাওয়ার নিতে যায়।গায়ে পানি পরতেই জ্বলে উঠতেই দেখে আচরের দাগ যা দেখেই আদিয়াত বাকা হাসলো।সাওয়ার নিয়ে বের হয় রেডি হয়ে নিজের বাসায় চলে যায়।
সকালে আদিয়াত কিছুক্ষন জিম করে সাওয়ার নিয়ে অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে। ব্রেকফাস্ট করতে নিচে গিয়ে দেখে। তার দাদি ও বোন তার জন্য অপেক্ষা করছে।আদিয়াত চেয়ারে বসতে বসতে বলে_
_গুড মনিং

আদিয়াতের দাদি আদিয়াতের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে-
_গুড মনিং দাদুভাই।

আদিয়াতের বোন মিস্টি হেসে বলে-
_গুড মনিং ভাইয়া।

বলেই সবার খাওয়া শুরু করে আর কথা বলে না।কারন আদিয়াত খাওয়ার সময় বেশি কথা পছন্দ করে না।
খাওয়া শেষে আদিয়াত টিস্যু দিয়ে হাত মুছতে মুছতে” বায় “বলে চলে যায় অফিসে।
______
লন্ডনের একটি বিলাশবহুল ফ্লাটে নিজের রুমের বারান্দায় দাড়িয়ে ফোনে কথা বলছে একটি মেয়ে-

_পাপা আমি কাল বাংলাদেশ ব্যাক করছি।তোমাদের ছারা আমার এখানে ভালো লাগছে না।
কলের ওপর পাস থেকে কি যেনো বললো।তার পর মেয়েটি বলে-

_ নো পাপা আমি কোনো কথা শুনতে চাই না। আমি কালকেই বিডি তে আসছি। ওখানকার ভার্সিটিতেই পরবো তোমাদের কাছে থেকে।বলেই ফোন কেটে দেয়।

[আরহা খান বাবা মায়ের একমাত্র আদরের মেয়ে। ছোটো থাকতেই তাকে লন্ডনে পাঠানো হয় কিছু কারন বসত।এখানেই পড়াশোনা করেছে ভার্সিটিতে সেকেন্ড সেমিস্টার বর্তমানে। আরহা দেখতে মাশাআল্লাহ দুধে আলতা গায়ের রং, হাটু পর্যন্ত লম্বা চুল তার মায়ের নিষেধ এর কারনেই চুল কাটে না।মায়াবি মুখ, পিংক কালারের ঠোঁট,বড় বড় চোখে ঘন বড় পাপরি।যে কেউ এক বার তাকালে আরেক বার তাকাতে বাধ্য। বাবার নাম আহনাফ খান একজন বিজনেসম্যান। মায়ের নাম আফরুজা খান গৃহিণী। আহনাফ আর আসাদ খান দুই ভাই।আসাদ খানে তার ওয়াইফ এর নাম রেহেনা খান।তাদের এক ছেলে সাহাদ খান এবং এক মেয়ে জাহিরাহ খান।সাহাদ বাবার সাথে অফিসে বসে। জাহিরাহ কলেজে পরে। দুই ভাই একসাথেই থাকে,তাদের মা বাবা নেই। বিজনেসটা আলাদা]
________
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
আরহার জন্য অপেক্ষা করছে তার বাবা মা।
কিছুক্ষন পর আফরুজা খান দেখেন একটি মেয়ে গায়ে কালো টি-শার্ট এর উপর চকলেট কালার এর লেদার জ্যাকেট।কালো প্যান্ট,পায়ে কালো সু,লম্বা চুলগুলো জুটি করা,মুখে মাক্স পড়া একটি মেয়ে তাদের দিকেই আসছে। মেয়েটি এসেই আহনাফ খানকে জরিয়ে ধরে তারপর আফরুজা খানকে। আফরুজা খান এতো দিন পর মেয়েকে দেখে কান্না করতে করতে বলেন-
_মা তুই কেমন আছিস?আমার মা টা কতো দিন পর আমার বুকে ফিরে এসেছে বলেই কপালে চুমু খান

আরহা তার মায়ের চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলে-
_অঅ… মাম্মাম কি কান্না কাটি শুরু করলে। কান্না থামাও বাসায় চলো আমি অনেক টায়ার্ড।
আহনাফ খান মেয়ে আর বউকে দুই হাতে দুই জন কে দুই দিক দিয়ে জরিয়ে ধরে বলে-

_চলো চলো বাসায় গিয়ে কান্না কাটি হবে। আমার মেয়েটাকে কতো ক্লান্ত লাগছে।গার্ড লাগেজ গুলো গাড়িতে তুলো
বলেই গাড়ির গিয়ে বসলে ড্রাইবার গাড়ি স্টাট দেয় এবং তাদের পিছনে একটি গাড়ি আসে যেটায় গার্ডরা আছে।

চলবে………..

(আমার লেখা প্রথম গল্প,কোনো ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।আসা করি গল্প টা আপনাদের ভালো লাগবে🙂)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here