#পাথর_হৃদয়ে_ফুল
Writer – Nodi Karim
পর্ব – ৬
[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ]
অপেক্ষা করবো আপনার জন্য
আদিয়াত আরহার কথায় উত্তর না দিয়েই হন হন করে হেটে চলে যায়।
.
.
.
শুনশান পরিবেশ যতদূর চোখ যায় কোনো মানুষ দেখা যাচ্ছে না। চারদিকে বড় বড় গাছপালা। ঠান্ডা বাতাস বইছে,তার সাথে মিশে আছে নাম না জানা ফুলের ঘ্রান। জায়গা টা শহর থেকে একটু দূরে গ্রামিন পরিবেশে। একটা সান বাধানো পুকুরের সিড়ির উপর বসে পুকুরে ডিল ছুরছে আরহা। পাচঁ মিনিট হলো সে এখানে এসেছে, এখন আদিয়াতের জন্য অপেক্ষা করছে।
আরহা ডিল ছুরা বাধ দিয়ে পকেট থেকে ফোন বের করে টাইম দেখার জন্য।এর মধ্যেই গাড়ির হনের শব্দ শোনা যায়। পিছনে ঘুরতেই দেখে আদিয়াতের গাড়ি তার পিছনে তিনটা গার্ডদের গাড়ি যেগুলো কিছুটা দূরে দাড়ানো। আদিয়াত গাড়ি থেকে নামতেই আরহা হা করে আদিয়াতের দিকে তাকিয়ে আছে।
কারন আদিয়াত সাদা রঙের টি-শার্ট আর ব্লাক জিন্স পড়া হাতে ব্রান্ডের ঘরি।চুল গুলো কপালে পড়ে আছে আজকে আর জেল দিয়ে সেট করা নেই হালকা ব্রাউন চুলগুলো।
আরহার কাছে আদিয়াতকে অনেক কিউট লাগছে,আর আরহা ফাস্ট আদিয়াতকে ফর্মাল গেটআপ ছারা দেখলো।
আদিয়াত গাড়ি থেকে নেমে চারদিকে চোখ বুলাতেই দেখে আরহা কিছুটা দূরে পুকুরের সিঁড়িতে বসা। আর তার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।
আদিয়াত একবার নিজের দিকে তাকায় যে কেনো আরহা এভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
তারপর আদিয়াত আরহার দিকে ভালো করে তাকায়, আজকে মেয়েটা চুলগুলো খোপা করেছে।মুখে কোনো সাজ নেই রোজ কার মতো,ন্যাচরালই সুন্দর গরমের কারনে গালগুলো হালকা লাল।আদিয়াত স্কান করতে করতেই আরহার সামনে দাড়াতেই আরহা এক মন ভুলানো হাসি দেয়।যার কারনে তার গালের টোল টা দৃশ্যমান হয়।আদিয়াত তা দেখে মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে একটা গভীর শ্বাস নেয়।
_আপনি এসেছেন আমি জানতাম আপনি আসবেন।
আরহা উঠে দাড়িয়ে আদিয়াতের দিকে আসতে আসতে কথাটা বলে।
আরহা দাঁড়ানো কারনে তার ফর্সা মসলিন পা গুলো আদিয়াতের সামনে দৃশ্যমান হয়। কার আরহা আজকে সর্ট গাউন পরে এসেছে,সে এসব ড্রেসেই কমফোর্টেবেল ফিল করে।
আদিয়াত একবার ওদিকে তাকিয়ে বিরক্ত হয়ে অন্য দিকে তাকায়।
আদিয়াতের থেকে কোনো উওর না পেয়ে আরহা বলে
_চলুন ওখানে যাই ওখানে একটা ফুলের বাগান আছে।
_আপনি যেটা বলতে ডেকেছেন সেটা বলুন।
আরে বলছি তো আগে চলুন না। বলেই নিজে আদিয়াতের হাত ধরে টেনে নিতে থাকে।আদিয়াত কিছু বলতে গিয়েও কেনো যেনো বলতে পারে না।তার চোখ আরহার ধরে রাখা তার হাত টার দিকে। কোনো মেয়ে সাহস করে তাকে ছুঁতে পারে নি। তার রাগের জন্য এই ফাস্ট কেউ ছুলো,আদিয়াতের ইচ্ছা ছারা
চারদিকে ফুলের সমারোহ বিভিন্ন ধরনের ফুল রয়েছে।যার মধ্যে থেকে আরহার দৃশটি আর্কশন করে কালো গোলাপগুলো।
_যানেন মিস্টার চৌধুরী আমার না ছোটো থেকেই কালো গোলাপ পছন্দ। আমার রুমের বারান্দায় ও কালো গোলাপ গাছ লাগানো। বাগানেও বেশির ভাগ ফুল কালো গোলাপ।
আপনি দাড়ান আমি আসছি বলেই আদিয়াতকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই দৌরে ফুলের কাছে চলে যায়। সব ফুলগুলো ছুঁয়ে দেয় ছোটাছুটি করে।আবার খিল খিল করে হেসে দেয়।
আদিয়াত অভাক হয় আরহার এই প্রানচ্ছল বাচ্চামো দেখে। সে ভেবেছে আরহা গম্ভীর অহংকারী মেয়ে।
কিন্তু তার ধারনাগুলো আরহা ভেঙে দিচ্ছে।
আরহা কিছু সময় পর এসে আদিয়াতের সামনে দাড়িয়ে বলে-
_আপনার কালো গোলাপ পছন্দ মিস্টার চৌধুরী?
_আমার কালো রং টাই পছন্দ,এটা আমার সাথে মানানসই বলে ফিচেল হাসে।
আরহা আদিয়াতের কথার মানে বুঝে না।
_আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে?
আরহার কথায় আদিয়াত ভেবাচেকা খায় কোন কথার মাঝে কোন কথা বলছে।
_মানে?
_আরে আমি বলছি আপনার জীবনে কোনো মেয়ে আছে।
_হ্যা আছে আমার দিদিভাই আর বনু।আপনি হয়তো আমার সম্পর্কে জানেন না তাই গার্লফ্রেন্ড কথা টা উচ্চারণ করেছেন।আর এতো ইজি ভাবেও কথা বলছেন।
আদিয়াত আকাশের দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে।
_আপনি জানান আমি আপনাকে জানতে চাই?
আদিয়াত ঘার বাঁকা করে আরহার দিকে তিক্ষন দৃষ্টিতে তাকায়।
আরহা থতমত খেয়ে গিয়ে বলে
_আপনার মা-বাবা তারা নেই?.
মা-বাবার কথা শুনতেই আদিয়াতের চোখ লাল হয়ে যায়।কপালের রগগুলো ফুলে উঠেে
কঠিন কন্ঠে বলে
_নাহ নেই
আরহা আদিয়াতকে দেখে ভয় পেয়ে যায়।বুঝে কিছু একটা তো কাহিনি আছে এখানে।তাই কথা ঘুরিয়ে বলে
_ আমি যদি আপনার নাম দরে ডাকি আপনি কি রাগ করবেন?
আদিয়াত আরহার দিকে তাকিয়ে দেখে আরহা তার মুখের দিকে উওরের জন্য তাকিয়ে আছে।কিছু একটা ভেবে আদিয়াতে বলে
_ওকে।
আরহা মুচকি হাসি দিয়ে বলে-
_আপনিও আমাকে তুমি করে বলবেন ওকে, নাম ধরে।
আদিয়াত কিছু বলে না চুপ করে আরহার হাসি হাসি মুখের দিকে তাকায়।
আরহা আবার আদিয়াতের হাতে ধরে বলে
_ চলেন আপনাকে এক জাগায় নিয়ে যাবো সেখানে গিয়েই কথাগুলো বলবো
না করবেন না প্লিজ।
আরহা মুখটা দুঃখী দুঃখী করে বলে।
আদিয়াত কেনো যেনো আরহাকে না করতে পারলো না-
_ওকে বাট আমি বেশি সময় দিতে পারবো না।
_আরে আগে চলুন তোহ
বলেই আরহা আগে আগে গিয়ে ড্রাইভারকে বলে
_আঙ্কেল আজকে আপনার ছুটি আপনি যান।
ড্রাইভার আদিয়াতের দিকে তাকাতেই আদিয়াত চোখ দিয়ে ইসারা করে আরহা যা বলছে শুনতে।
ড্রাইভার চলে যেতেই আরহা ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে বসে আদিয়াত ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দেয়।তাদের পিছনে গার্ডরাও আসে।
_আচ্ছা আপনি এমন চুপচাপ থাকেন কেনো।আমি দশটা কথা বললে আপনি একটা কথার উওর দেন।
_তো তোমার মতো বাচাল হতে বলছো।
আরহা রেগে বলে-
_কি আমি বাচাল আপনি আমাকে এটা বলতে পারলেন।
_যে যেটা তাকে সেটা তো বলতেই হবে তাই না।
আরহা কিছু বলবে এর মাঝেই রাস্তায় চোখ যেতেই আরহা চেচিয়ে বলে উঠে-
_গাড়ি থামান গাড়ি থামান আমি নামবো।
আরহার হঠাৎ চিৎকার করায় আরিয়াত চমকে উঠে দ্রুত ব্রেক করে।
আরহা কিছু না বলে দৌরে রাস্তায় মাঝখানে চলে যায়। একজন অন্ধ ব্যক্তি রাস্তা পার হতে পারছে না ভালো মতো।আবার সিগনাল এর সময়ও শেষ হয়ে যাচ্ছে।আরহা লোকটাকে রাস্তা পার হতে হেল্প করে।
_চাচা আপনি একা কেনো রাস্তা পার হতে গেলেন সাথে কেউ নেই?
_আসলে মা আমার নাতি ছিলো আমার পাশে। ও আমাকে আসছি বলে দোকানে গেছে কিছু কিনতে।কিন্তু ওর দেরি হওয়ায় আমি ও কে খুজতে গিয়ে কখন যেনো রাস্তার মাঝে চলে আসি।
লোকটার কথার মাঝেই তার নাতি হাফাতে হাফাতে এসে পৌছায়।
_দাদু আমি তোমাকে ওখানে দাঁড়াতে বললাম না। তুমি একা হাঁটতে গেলে কেনো।আপু আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার দাদুকে হেল্প করার জন্য।
ছেলেটির কথায় আরহা মুচকি হেসে বলে-
_এরপর থেকে দাদুকে একা ছেরে যাবে না ঠিক আছে খেয়াল রেখো। বলেই ছেলেটা মাথায় হাত বুলিয়ে আদিয়াতের গাড়িতে এসে বসে।
আদিয়াত এতক্ষন গাড়িতে বসে সবকিছুই দেখছিলো।
আরহা পাশে এসে বসতেই কিছু না বলে আবার গাড়ি স্টাট দেয়।
_আজকে আপনাকে আর কথাটা বলা হলো না অন্য একদিন বলি।আপনার কি আর সময় হবে।
আরহার চোখের দিকে একবার তাকায় আদিয়াত তারপর বলে
_নাহ,তোমার বাসা চলে এসেছে যাও।
আদিয়াতের কথায় আরহা কাঁদো কাঁদো চোখে তাকায়।
_আদিয়াত গুরুত্ব না দিয়েই আরহাকে নামিয়ে দিয়ে বলে। তোমাকে যনো আর এসব ড্রেসে না দেখি।
আদিয়াতের কথার মাঝে কিছু ছিলো যার ভয়ে আরহা কেঁপে উঠে।
আদিয়াত আর কিছু না বলে শো শো করে ধুলাবালি উরিয়ে চলে যায়।
চলবে…..
(ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।পর্বটা কেমন হয়েছে কমেন্ট যানাবেন😊)

