#পাথর_হৃদয়ে_ফুল
Writer- Nodi Karim
পর্ব – ৭
[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ]
আদিয়াত আর কিছু না বলে শো শো করে ধুলাবালি উরিয়ে চলে যায়।
আরহা বাসায় ডুকতেই অভাক হয়ে যায় আহনাফ খানকে সোফায় বসে থাকতে দেখে।
_পাপা তুমি আজ এতো তাড়াতাড়ি চলে এলে যে শরীল ঠিক আছে?
আরহা চিন্তিত হয়ে বলে।
আহনাফ খান কিছু না বলে গম্ভীর মুখে বসে থাকে।
আরহা আহনাফ খানের গম্ভীর মুখ দেখে চুপ হয়ে যায়।
আহনাফ খান এক পলক আরহার দিকে তাকিয়ে আবার ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে
_তুমি কোথায় গিয়েছিলে?
_পাপা আমি তো একটু বাহিয়ে গিয়েছিলাম।মাম্মাম কে বলে গিয়েছি তো। মাম্মাম তুমি পাপাকে বলো নি।আহনাফ খানের পাশের শোফায় বসা আফরুজা খানকে আরহা বলে।
_ আমি তোমাকে কি বলেছিলাম,তুমি বের হবে বাসা থেকে।কিন্তু গার্ড ছারা না।তাও তুমি গার্ড ছারা গিয়ে কেনো আমার কথা অমান্য করলে বলো।
আহনাফ খানের কন্ঠে রয়েছে রাগ।
আরহা আহনাফ খানের পিছনে দাঁড়িয়ে আহনাফ খানের গলা জরিয়ে ধরে আদুরে স্বরে বলে-
_পাপা ইউ নো নাহ তুমি তোমার মেয়েকে নিজেকে কীভাবে সেব করতে হয়। তা ভালো ভাবেই শিখিয়েছো এতো টেনশন করছো কেনো?
_তুমি যতটা সহজ ভাবছো ততোটা সহজ না। শত্রুপক্ষ দলে বেশি থাকলে তুমি কতক্ষন একা তাদের সাথে লড়াই করতে পারবে। তুমি সেব না প্রিন্সেস কেনো বুঝতে পারছো না।কেনো এতো টেনসন দাও পাপাকে।তোমার কিছু হলে আমাদের কি হবে।
কথাগুলো বলতে বলতে আহনাফ খানের গলা ধরে আসে।
আফরুজা খান এতোক্ষন বাবা মেয়ের কথা শুনছিলো। মেয়ের ক্ষতি হওয়ার কথা শুনে কেঁদে দিয়েই আহনাফ খানকে বলে
_আমি তোমাকে বার বার বলেছিলাম মেয়েটার এখন দেশে আসার দরকার নেই। তোমরা বাবা মেয়ে আমার কথা শুনলে না।বলেই কাদঁতে কাদঁতে রান্না ঘরের দিকে চলে যায়।
_অওও পাপা মাম্মা তোমরা এমন করছো কেনো আমার কিছু হবে না।ওকে আমি এরপর থেকে আর গার্ড ছারা বের হবো না খুশি।
আহনাফ খান মেয়েকে আমনে এনে পাশে বসিয়ে কপালে চুমু খেয়ে বলে
_পাপাকে আর টেনসন দিও না মামনি। তুমি সেব না এখানে চোখ কান খোলা রেখে তোমাকে চলতে হবে বুঝেছো।
_হ্যা।পাপা কাকি মা,ভাইয়া,জাহিরাহ কোথায়?
_রেহেনা বাবার বাড়ি গিয়েছে সাথে ওদের ও নিয়ে গেছে।রেহেনার মা নাকি একটু অসুস্থ।
_ওহ তো আসবে কবে?
_দু দিন তো থাকবেই। তুমি যাও এখন ফ্রেস হয়ে নাও বাহিয়ে থেকে এসেছে।বাবা মেয়ে একসাথে গল্প করবো আমি ওয়েট করছি যাও।
আরহা ওকে পাপা বলেই সিঁড়ি ভেঙে নিজের রুমে চলে যায়।
___________
রাতের শহরটা সব থেকে সুন্দর হয়।চারদিকে বিভিন্ন রঙের আলো। আাকাশে থালার একটা চাঁদ তাকে গিরে রয়েছে তারারা।
রাতের শহরে ঘুরতে ভালোবাসে আরাবী কিন্তু তাকে একা বের হতে দেয়া হয় না। তাই আরাবীর ইচ্ছা রাখতে আদিয়াত রাতে লং ড্রাইভে বের হয়েছে। শুক্রবারটা আদিয়াত নিজের ফ্যামিলির সাথেই কাটায়। বোনের সব আবদার রাখে একমাত্র আদরের বোন।ছোট থেকে কোনো কষ্ট পেতে দেয় নি। আরহার সাথে দেখা করে এসে ঘন্টাখানেক রেস্ট নিয়েই বোনের কথায় রাতে লং ড্রাইবে বের হয়েছে। সাথে শিহাব ও আছে,গার্ডদের আনতে চায় নি কিন্তু তার দিদিভাইয়ের কথায় দুই গাড়ি বোরে গার্ড আনতে হয়েছে।সে গার্ড ছারা কিছুতেই বেরোতে দিবেনা। ড্রাইবার আনে নি আদিয়াত নিজেই ড্রাইব করছে।
_ভাইয়া একটা গান প্লে করো না। তুৃমি তো কথা বলবেই না সব সময় সাইলেন্ট , বাকি যে আছে সেও মনে হয় বোবা। এতো চুপচাপ ভালো লাগছে না।
আরাবী শিহাবের দিকে আর চোখে তাকিয়ে কথাটা বলে।
শিহাব একবার আরাবীর দিকে তাকায় কিন্তু কিছু বলে না।
_তুই একাই বকবক কর আমরা শুনি।নাহলে গান প্লে করছি।
_আমি তো এতক্ষন ধরে একাই কথা বলছি তোমরা চুপ করে আছো।
এভাবে ভালো লাগে।মনে হচ্ছে নিরবতা পালন করছি।
গানই প্লে করো মুখ ঘোমরা করে আরাবী কথাটা বলে।
আদিয়াত বোনের ঘোমরা মুখের দিকে একবার তাকিয়ে মনে মনে ভাবে।আমি যানি বোন তুই শিহাবকে পছন্দ করিস।ওর সাথে কথা বলতে চাস সময় কাটাতে চাস।কিন্তু তুই এখনো ছোটো এটা ভালোবাসা নাকি মোহ সেটা আগে বোঝ। শিহাব যে আমার জন্য তোর থেকে দুরত্ব রাখে সেটা ও আমি যানি। কিন্তু ওর মনেও যে তোর জন্য সফর কর্নার আছে সেটা আমি বুঝি।
তোরা দুজন যখন আমাকে এই বিষয়ে বলবি তখনি আমি কিছু বলবো।এর আগে আমি কিছুই বলবো না।
হঠাৎ গানের আওয়াজে আদিয়াতের ভাবনার ছেট ঘটে।
আরাবী গান প্লে করেছে।
আদিয়াত বোনের দিকে তাকিয়ে দেখে গাড়ীর জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে।
আর শিহাব আর চোখে বার বার সেদিকে তাকাচ্ছে।
আদিয়াত আর কোনো দিক না তাকিয়ে নিজ মনে ড্রাইভ করতে থাকে।
তুমি একবার বলো যদি
আমি পারি দিবো খরস্রোতা নদী,
তুমি একবার বলো যদি
আমি পারি দিবো খরস্রোতা নদী।
ভালোবাসা দেবো পুরোটাই……..
আমি এমন একটা তুমি চাই
এমন একটা তুমি চাই
যে তুমিতে আমি ছাড়া
অন্য কেউ নেই..
________
অন্ধকার একটি রুম,চারদিকে আফছা আলো যেটা বাহিরে থেকে আসছে।রুমের ভিতরে কোনো আলো নেই।কিছুক্ষন পর পর রুমের ভিতর থেকে গেঙানোর আওয়াজ আসছে যা অস্পষ্ট। চেয়ারের সাথে হাত পা বাধা অবস্থায় বসে আছে এক লোক। মাথা ফেটে রক্ত পরছে,গায়ের ও বিভিন্ন জায়গায় জখম মুখ বাধা,মাথাটা নিজ দিকে জুকে আছে।দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক মা’রা হয়েছে।
হঠাৎ পায়ের আওয়াজ পাওয়ায় লোকটা ভয়ে কুকরে যায়।
নিবু নিবু চোখে সামনে তাকায় দরজা খুলে কেউ ভিতরে ডুকে। সাথে সাথে রুমে লাইট জ্বলে উঠে অন্ধকার রুমটা আলোকিত হয়ে ওঠে।
লোকটা অনেক কস্টে মাথাটা উচিয়ে সামনে তাকিয়ে দেখে একজন দাড়িয়ে আছে।
ঘোলা ঘোলা চোখে ভালো করে তাকিয়ে দেখে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে।তার পাশেই তাকে মেরেছে সেই ছেলেটা দাঁড়ানো।ছেলেটার নামটা হয়তো রোহিত লোকটা যানে। কারন তাকে মারার সময় শুনেছিলো ছেলেটিকে একজন রোহিত স্যার বলে ডেকেছিলো।
লোকটি আবার মেয়েটার দিকে তাকিয়ে খুটিয়ে দেখতে দেখতে চেনার চেস্টা করে
কালো লং কোট পড়া,কালো প্যান্ট। মাথায় কালো ক্যাপ মুখে মাস্ক।
লোকটা এবার চিনতে না পেরে তোতলানো তোতলানো বলেই ফেলে
_কে..কে.. আপপপ.নি আম..আকে কে.নো আ.ট..কে রে..খে.ছেন প্লি..জ আ..আ.মা..কে ছে..রেরে.. দিন।
_আমি তোর যম।আর কি বললি ছেরে দিবো, ছেরে দিবো তোকে।এতো সোজা এখানে যে একবার আসে সে সহজে ফিরে যেতে পারে না তুই ও পারবি না।
বলেই মেয়েটা জোরে জোরে হেসে দিয়ে। আবার মুখটা হিংস্র করে ফেলে লাথি দিয়ে লোকটা বসা সেই চেয়ার টা ফেলে দেয়। লোকটা ব্যাথায় আআআআআ…বলে চিৎকার দেয়…
চলবে….
(ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। রাত ৮ টায় একটা পর্ব দিবো,বেশি রিয়েক্ট কমেন্ট করলে।পর্বটা কেমন হয়েছে যানাবেন আর কে এই মেয়েটা? আপনাদের কি মনে হয়? সেটা কমেন্টে যানাবেন😊)

