#পাথর_হৃদয়ে_ফুল
#Writer_ Nodi Karim
#পর্ব_১৫
[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ]
তোমার জন্য ছোট্টো গিফট।
_কি গিফট
আরহা কৌতুহলি জিজ্ঞেসা করে।
_চোখ বন্ধ করো।
আরহা কোনো কথা না বলে চোখ বন্ধ করে নেয়।
আদিয়াত পকেট থেকে খুব সুন্দর একটা ডায়মন্ডের পেন্ডেন্ট আরহাকে পড়িয়ে দিয়ে ঘারে চুমু খেয়ে বলে
_এবার চোখ খুলো,দেখো তো পছন্দ হয় নাকি?
আরহা আয়নার সামনে দাড়িয়ে গলার দিকে তাকিয়ে উৎফুল্ল হয়ে বলে
_অনেক পছন্দ হয়েছে আদি,তোমার চয়েস সব সময় ইউনিক।
আদিয়াত আরহার কথায় মৃদু হেসে। পাশের একটা ড্রয়ার খুলে আরো একটা বক্স বের করে।
_এটায় কি আদি
_হাতটা দাও দেখতে পাবে।
আদিয়াত বক্স থেকে এক জোরা ডায়মন্ডের চুরি বের করে।আরহার হাতে পড়িয়ে দেয়।চুরিগুলো বেশি ভারি ও না আবার হালকাও না সব সময় পড়ে থাকার মতো।
আরহা চুরিগুলো দেখতে দেখতে বলে
_সব তো দিলে বাট নোস পিন তো দিলে না।
_সেটা আবার কি।
_ তুমি নোস পিন চিনো না।
আরহা অবাক হয়ে আদিকে বলে।আদি আরহার অবাক হওয়া মুখ দেখে বলে
_আশ্চর্য আমি কীভাবে জানবো।আমি যা চিনি তাই তো আনলাম তোমার জন্য।
আরহা নিজের কপালে এক হাত দিয়ে বলে
_তুমি আমার নাকে এর আগে একবার পাথর টাইপ কিছু দেখো নি।
_হ্যা..ওটাই কি নোস পিন নাকি?
_হুম,আমি আর কিছু জানিনা আজকেই আমার নোস পিন লাগবে।কথাটা বলতে বলতে আরহা রুমের বাহিরে চলে যায়।
আরহা রুমের বাহিরে গিয়ে দেখে পুরো তিনতলায় আদি একা থাকে। আদির রুমই অর্ধেক জায়গায় জুড়ে।তার পাশে শুধু একটা রুম। আরহা করিডর দিয়ে হেটে সেই রুমটায় গিয়ে দরজার খুলতেই দেখতে পায়।রুমের ভিতরে বই দিয়ে ভরা একটা লাইব্রেরি বলা যায়। ফাইল ও আছে অনেক একটা বড় কাচের টেবিল পাশে তার সাথে তিনটা চেয়ার।আরহা আর কিছু খেয়াল করার আগেই আদি ডাক দেওয়ায় রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।
.
.
.
চৌধুরী বাড়ি বিভিন্ন ধরনের খাবারে
ঘ্রানে ম ম করছে।আদিয়াত বলেছে বিভিন্ন ধরেনের রান্না করেতে আজ বেশি করে।কেনো বলেছে সেটা বলে নি,কিন্তু শুধু আরহার জন্য যে বলে নি সেটা সিউর আলেয়া চৌধুরী।
রান্না ঘরে সার্ভন্টদের সব বুঝিয়ে দিচ্ছে,প্রায় অনেক রান্নাই শেষ। কিছু রান্না এখন বাকি আছে আলেয়া চৌধুরী সার্ভেন্টাদের সব বুঝিয়ে দিয়ে।ড্রয়ংরুমের সোফায় গিয়ে বসে।
হঠাৎ সিঁড়ি দিয়ে কারো নামার শব্দে আলোয়া চৌধুরী ঘার ঘুড়িয়ে সেদিকে তাকাতেই। চোখে মুখে ফুটে ওঠে মুগ্ধতা।
আদিয়াত আলেয়া চৌধুরীর পাশে দপ করে বসে পড়ে
_এভাবে কি দেখো দিদিভাই নজর লেগে যাবে তো।
আলেয়া চৌধুরী আরহা হাত ধরে তার আরেক পাশে বসিয়ে দিয়ে। চোখের থেকে কাজল নিয়ে আরহা আর আদিয়াতের কানের পিছনে লাগিয়ে দেয়। তারপর
আদিতের হাতে মৃদু চাপর দিয়ে হেসে বলে
_তোদের দুটো কে দেখে আমার চোখ জুড়িয়ে গেলো। সারাজীবন দুটোয় একসাথে থাক এই দোয়া করি। এবার আরাবীর বিয়েটা ভালোয় ভালোয় দিতে পারলেই আমার শান্তি।
_ওহহহ দিদিভাই আরাবী কোথায় ওকে তো দেখছি না?
আরহার কথায় আলেয়া চৌধুরী বলে
_আজকে ছুটি কলেজ তাই বেলা করে উঠবে। তোকে দেখলে যা খুশি হবে না।
আলেয়া চৌধুরীর কথার মাঝেই আরাবী নিচে নেমে আসে।ঘুম জরানো চোখে কাউকে খেয়াল না করে সোফায় চোখ বন্ধ করে বসে বলে
_দিদিভাই আমার কফিটা দাও না।
আরহা আলেয়া চৌধুরীর কানে কি যেনো বলে রান্নাঘরে চলে যায়।
কিছুক্ষন পর কারো কথায় আরাবী চোখ খুলে সামনে তাকাতেই স্তব্ধ হয়ে যায়।
তারপরই বিকট শব্দে ভাবি বলে চিৎকার করে উঠে আরহাকে জরিয়ে ধরে। আরহা কোনো মতে নিজের হাতের কফিটা সামলে নেয়।
_ভাবি তুমি এখানে?
_এখন থেকে তোর ভাবি এখানেই থাকবে।আদিয়াতের কথায় উৎফুল্ল হয়ে আরাবী বলে
_ইয়াহুুুু…..বাট কীভাবে?
_সেটা একটু পড়েই জানতে পারবি।
কথার মাঝেই সার্ভেন্ট কফি নিয়ে আসে। কফি খাওয়ার মাঝে অনেক আড্ডা দেয় সবাই।
তখনি কলিংবেলের আওয়াজ হয়।একজন সার্ভন্ট গিয়ে দরজা খুলে দেয়।
সবাই দরজার দিকে তাকিয়ে আছে কে আসলো।কিন্তু আদিয়াতের কোনো ভাবাবেগ নেই। সে আগের মতোই কফি খাচ্ছে,তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে আগেই জানে কে আসবে।
দরজা দিয়ে প্রবেশ করে আহনাফ খান আর আসাদ খান। তাদের হঠাৎ করে আদিয়াত ইমারজেন্সি ডেকেছে। আরহা নিজের পাপাকে দেখে দৌরে গিয়ে বুকে ঝাঁপিয়ে পরে।আহনাফ খান হঠাৎ কেউ জড়িয়ে ধরায় ভোরকে যান।নিজের বুকের দিকে তাকিয়ে তার প্রান প্রিয় মেয়েকে দেখে অবাকের শেষ সীমানায় চলে যায়।
আরহা আহনাফ খানকে ছেরে দিয়ে বলে
_পাপা তুমি, আমি তোমাকে একটু পড়েই ফোন করতাম।
আহনাফ খান নিজেকে সংযোত করে কঠিন কন্ঠে বলে
_তুমি এখানে কেনো?মি.আদিয়াত এসব কি? মামনি তোমাকে জোর করে এনেছে?পাপাকে সব খুলে বলো।
_আরে আমার দুই শশুর মশাই যে,তা,ওখানেই দাড়িয়ে থাকবেন নাকি ভিতরে আসবেন।একমাত্র মেয়ের জামাইর সাথে দেখা করবেন না?
আদিয়াতের ঠাট্টার শুরে বলা কথাটা শুনে আহনাফ খান রাগে ফেটে পড়েন।কিন্তু উপর দিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে ভিতরে যায়।
_বসুন শশুর মশাই আপনারই অপেক্ষায় ছিলাম।
আহনাফ খান আসাদ খান আদিয়াতে অপজিট সোফায় বসে। আরহা তার পাপার পাশে বসে।
_তোমার বাসায় আমাদের মেয়ে কেনো?
আসাদ খানের কঠিন কন্ঠে আদিয়াত বাঁকা হেসে বলে
_আমার বউ তো আমার বাসায়ই থাকবে তাই না। কিসব প্রশ্ন করেন না।আদিয়াতের গা ছারা ভাব দেখে আসাদ খান কন্ঠে ক্রোধ ডেলে বলে
_তুমি আমাদের মেয়েকে জোর করে আটকে রেখেছো।আমরা পুলিশে কমপ্লিন করবো,তোমার থেকে আমাদেরও কম ক্ষমতা নাহ।
আসাদ খানের কথায় আদিয়াত সোফায় গা হেলিয়ে দিলে বলে
_আপনার কোন দিক দিয়ে আমার বউকে দেখে মনে হলো যে আমি তাকে আটকে রেখেছি?
আদিয়াতের কথায় এবার আহনাফ খান কপাল কুঁচকে বলে
_মানে?
_আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি।
আহনাফ আর আসাদ খান বিশ্ময় নিয়ে আরহার দিকে তাকায়।আরহা থতমত খেয়ে মাথা নিচু করে ফেলে।
_অসম্ভব তুমি মিথ্যা বলছো।
আহনাফ খানের কথায় আদিয়াত মৃদু হেসে বলে
_আপনার মেয়েকেই না হয় জিজ্ঞাসা করুন
আহনাফ খান আরহার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে
_আদিয়াত যা বলছে তা কি সত্যি মামুনি
আরহা কোনো ভনিতা ছারাই হ্যা বলে দেয়।
আহনাফ খান চমকে গিয়ে মেয়েকে বলে
_তুমি কি জানো আদিয়াতের একাধিক মেয়ের সাথে মেলামেশা। সে তোমাকে ভালোবাসে না প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তোমাকে ছুরে ফেলবে।
আহনাফ খানের কথায় আরহা আত্নবিশ্বাসের সাথে বলে
_এমন কখনোই হবে না পাপা।আদিয়াত আমাকে ভালোবাসার পর আর কোনো মেয়ের কাছে যায় নি। তুমি তোমার মেয়েকে চিনো পাপা তোমার মেয়ে এতোটাও বোকা নয় যে মানুষ চিনতে এতো টা ভুল করবে।তুমি বিশ্বাস রাখতে পারো।
আহনাফ খান মন দিয়ে মেয়ের সব কথা শুনলেন। তার যে আদিয়াতকে অপছন্দ তেমন টা না। কিন্তু আদিয়াতের মেয়ে ঘটিত বিষয়টাই তার অপছন্দ ছিলো।এখন যখন তার মেয়ে আশ্বাস দিলো তাহলে বিশ্বাস করাই যায়।আহনাফ খান যানেন আরহা বিচক্ষন মেয়ে।
আহনাফ খান এ বিষয়ে আর কিছু না বলে বলেন
_সেটা তুমি আমাকে বলতে পারতে। এভাবে না জানিয়ে আসা টা কি তোমার ঠিক হয়েছে।
আহনাফ খানের ভেজা কন্ঠে শুনে আরহা আহত হয়।কিন্তু সত্যি টা বলে না
_পাপা সরি তুমি যা শাস্তি দেওয়ার আমাকে দিতে পারো।
আহনাফ খান মেয়েকে কিছু না বলে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে। আদিয়াতকে বলে
_তোমরা তো বিয়েটা করেই নিয়েছো তাই না? বাট একটা পার্টি তো করাই যায় বড় করে।
আদিয়াতরা এতক্ষন নিরব ভূমিকা পালন করছিলো।আহনাফ খানের কথায় এখন মুখ খুললো
_হ্যা বাট পার্টি টা আমি একমাস পর করতে চাই।কেনো সেটা জিজ্ঞাসা করবেন না।
_ঠিক আছে। কিন্তু আমি আরহাকে নিয়ে যেতে চাই। একবারে পার্টির সময়ই আসবে।
_না হবে না আমার বউ আমার কাছেই থাকবে। বিয়ে করেছি কি বউকে বাপের বাড়ি থাকার জন্য
আদিয়াতের নির্লজ্জ কথায় আহনাফ খান কেশে উঠেন।
_আচ্ছা তোমার বউ তোমার কাছেই থাকবে।
আরহা আদিয়াতকে তার পাপার সাথে এভাবে কথা বলতে দেখে লজ্জায় পড়ে যায়।
আলেয়া চৌধুরী এবার পরিবেশ ঠান্ডা দেখে আহনাফ খানকে বলে খেয়ে যাওয়ার জন্য।আসাদ খান রাগ দেখিয়ে তখনি চলে গেছে।
আহনাফ খান নাও করতে পারছে না।তাই হ্যা বলে দেয়। সবাই একসাথেই সকালের নাস্তা করে।আহনাফ খান মেয়ের সাথে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে চলে যান।
________
অন্ধকার রুমে ইজি চেয়ারে বসে দোল খাচ্ছেন একটি লোক। চারদিকে নিস্তবদতা বিরাজমান।তখনি তীব্র ঝংকার তুলে মুঠো ফোনটা বেঝে ওঠে। লোকটা ইজি চেয়ারের পাশের টেবিল থেকে ফোনটা রিসিভ করে ঠান্ডা কন্ঠে বলে
_প্লান চেঞ্জ, ভালোভাবে সব কিছু হ্যান্ডেল করতে চেয়েছিলাম।কিন্তু ওদের কপালে তা সইলো না এবার আমাদের নিয়মে কাজ করতে হবে।আমি সময় নষ্ট করতে চাই না,সব ব্যবস্থা করো।
ফোনের ওপর পাশের ব্যাক্তিকে কিছু বলতে না দিয়েই ফোন কেটে দেয় লোকটি। তারপরই ভয়ংকর হাসিতে ফেটে পড়ে। রাতের নিস্তব্ধতায় এমন হাসিতে গা শিউরে ওঠার জোগার।
#চলবে…….
(ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।আজকে গল্প দেওয়ার কোনো ইচ্ছোই আমার ছিলো না।আপনারা অপেক্ষা করছেন ভেবে পর্বটা দেওয়া। সবাই রেসপন্স করবেন ধন্যবাদ)

