পাথর_হৃদয়ে_ফুল #Writer_ Nodi Karim #পর্ব_১৪

0
432

#পাথর_হৃদয়ে_ফুল
#Writer_ Nodi Karim
#পর্ব_১৪

[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ]

অনেক রাত হয়েছে ঘুমাবে চলো বলে আরহার হাত ধরতেই আরহা “আহহহ” বলে উঠে
আরহার ব্যাথাতুর শব্দ শুনে আদিয়াত বিচলিত হয়ে যায়।
আরহার হাত টা সামনে এনে দেখতে দেখতে বলে
_এই আরুপাখি,আরুপাখি তোমার কস্ট হচ্ছে?বলো বলো আমি ঠিক করে দিবো প্রমিস।হাতে ব্যাথা পেলে কীভাবে এভাবে দাগ হয়ে আছে কেনো?
আদিয়াতের বিচলিত কথাগুলোর আরহা কোনো প্রতিওর করলো না।সে তো এক ধ্যানে আদিয়াতের বিচলিত মুখটা দেখছে।আরহার ভাবনার মাঝেই হাতে ওষ্ঠের ছোয়া পায়। আদিয়াত তার দুই হাতে ছোটো ছোটো চুমু খাচ্ছে। আরহা আদিয়াতের থেকে হাতটা ছাড়িয়ে নিতে চাচ্ছে। আদিয়াতের ছোঁয়ায় আরহা হাত শিরশির করে উঠছে।

কিছুক্ষন পর আদিয়াত আরহার হাত ছেরে দিয়ে। আরহার দিকে তাকিয়ে দেখে আরহা চোখ বন্ধ করে আছে।
আদিয়াত আরহার কপালে চুমু খায়।
আরহা সাথে সাথে চোখ খুলে ফেলে।
আদিয়াত আর কোনো কথা না বলে আরহাকে খাটে বসিয়ে দেয়। আদিয়াত ফাস্টএইড বক্স নিয়ে আসে। আরহার হাতে মলম লাগিয়ে বক্সটা রেখে এসে। আরহা একটা হাত দু হাতের ভিতর নিয়ে আদিয়াত অপরাধী কন্ঠে বলে।
_আই এম সরি আরুপাখি ট্রাস্ট মি আমি তোমাকে কস্ট দিতে চাই নি।
_ইট’স ওকে আদি আই নো তুমি আমাকে ইচ্ছা করে কস্ট দিতে পারো না।
আদিয়াত আর কিছু না বলে আরহাকে বেডে শুইয়ে। লাইট অফ করে দিয়ে আরহার পাশে শুয়ে আরহাকে বুকে টেনে নেয়।
_আদি পাপা মাম্মাম বাসার সবাই টেনসন করছে।একটা ফোন দেই?
_যা হবে কাল সকালে হবে ঘুমাও এখন সকাল হতে আর বেশি দেরি নেই।
_আদি প্লিজ শুধু বলবো আমি ঠিক আছি
_আমি কি বলেছি আরহা।
আদিয়াতের রাগি ভয়েস শুনে
আরহা আর কিছু বলে না আদিয়াতের বুকে লেপ্টে শুয়ে থাকে একসময় ঘুমিয়ে ও যায়।আদিয়াত আরহার ঘুমন্ত মুখটার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে তারপর আরহার কপালে ভালোবাসার স্পর্শ একে দিয়ে আরহাকে আরেকটু নিবিড়ভাবে জরিয়ে নিয়ে সেও ঘুমিয়ে যায়
_______

খান বাড়ির সবাই ড্রইংরুমে উপস্থিত। আফরুজা খান সেই কখন থেকে কেঁদেই যাচ্ছে। রেহেনা খান নিজেকে শক্ত রেখে আফরুজা খানকে সামলাচ্ছে। সবাই ভেঙে পরলে তো আর হবে না।আহনাফ খান আসাদ খান তাদের গার্ডদের আরহার খুজে লাগিয়ে দিয়েছে।তারা ও খুজেছে কিছুক্ষন আগেই বাসায় এসেছে।
আসাদ খান বুঝতে পারছে না আরহার কি হলো সে তো আরহাকে কিছু করে নি।তাহলে কে করলো আরহার কিছু হলে তার অনেক ক্ষতি হবে তাই তো এতো টেনসন নিয়ে খুজছে। নাহলে আরহা বাচঁলো কি মরলো তার কিছু যায় আসে না।
_তোমরা সবাই এক সাথে বাহিরে গেলে।তোমাদের সাথে তো গার্ডরাও ছিলো। এতোগুলো মানুষের ভিতর থেকে আরহা কীভাবে মিসিং হয়।

আহনাফ খানের কথায় সাহাদরা মাথাটা আরো নিচু করে ফেলে।
তারা কেউ বঝতে পারছে না কীভাবে কি হলো।
_ছোট বাবা আমরা সবাই একসাথে রেস্টুরেন্টে খাচ্ছিলাম। তখনই আরহা বললো ওর একটু ওয়াসরুমে যেতে হবে। জাহিরাহ যেতে চেয়েছিলো সাথে আরহা নেয় নি।
তারপর অনেক সময় হয়ে যাওয়ার পরও যখন । আরু আসলো না জাহিরাহ গিয়ে দেখে কোথাও আরহা নেই।আমরাও খুজি তারপর বাট পাই না।তখনি তোমাদের ইনফর্ম করি।তারপর আরহার ফ্রেন্ডদের ও কল করি যে ওদের দেখে আরু যদি ওদের সাথে যায়।
সাহাদের কথায় আহনাফ খান কিছু না বলে হন হন করে রুমে চলে যায়।

আসাদ খান নিজের রাগ আর কন্ট্রোল করতে পারছে না।সেই কখন থেকে এক কথা বার বার বলে যাচ্ছ।
_অপদার্থ, এটা আমার ছেলে কীভাবে হয়।ও জানে না আরহা আমাদের জন্য কি চোখে চোখে রাখবে না।
রাগে মিনমিন করে কথাটা বলে আসাদ খান গিয়ে সাহাদের গালে ঠাসসস করে থাপ্পড় মারে।
সাহাদসহ ড্রইংরুমের সবাই অবাক হয়ে যায়।
_পাপা তুমি আমাকে সবার সামনে এভাবে মারতে পারলে।
সাহাদ গালে হাত দিয়ে অবাক ভঙ্গিতে কথাটা বলে নিজের পাশে দাড়ানো আহাদ আর জায়িসার দিকে তাকিয়ে সিঁড়ি ভেঙে উপরে চলে যায়।
মনে ক্রধ জন্মনেয় আরহার উপর
_তোর জন্য পাপা বড় হওয়ার পর এই প্রথম আমার গায়ে হাত তুললো। তাও সবার সামনে ছোটদের সামনে। আমার কতো ছোটো হতে হলো।এর দাম তোকে দিতেই হবে
________

সকালের মিষ্টি রোদ জানালার পর্দা গলিয়ে আরহার চোখে মুখে পরে। সূর্যের আলো চোখে পড়ায় আরহার ঘুম ভেঙে যায়। মুখে হাত দিয়ে পাশে ঘুরতে গেলেই বাধা পায়।পিটপিট করে চোখ খুলে দেখে সে আদিয়াতের বাহুডোরে আবদ্ধ। আরহা আদিয়াতে মুখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আদিয়াতের ফর্সা মুখে ট্রিম করা দাঁড়িগুলোতে আরহা হাত বুলিয়ে। কপালে চুমু খেয়ে আস্ত আস্তে আদিয়াতের বাহুডোর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বেড থেকে নেমে দেয়ালে লাগানো দামি ঘরিটার দিকে তাকাতেই দেখে ৮ টা বাজে। ঘরি থেকে চোখ সরিয়ে রুমটায় চোখ বুলাতেই চোখে মুখে বিস্ময় ফুটি ওঠে আরহার ।রাতে আরহার মন ভালো ছিলো না, আবার রুমটা আবছা অন্ধকার করে রেখেছিলো আদিয়াত। যার কারনে আরহা ভালো করে খেয়াল করে নি।
রুমটা আরহার রুমের থেকেও দুই গুন বড়। রুমের সব জিনিস সাদা আর গোল্ডেনের কমিউনেকেশনে। রুমের ডিজাইনটা ও ইউনিক। আরহা দেখতে পায় রুমের ডান দিকে মাঝ বরাবর এটা কাচের দরজা।আরহা সেদিকে গিয়ে ডান হাতের সাহায্যে কাচ টা বাম পাশে টান দিতেই দরজা খুলে যায়।এটা একটা বারান্দা আরহা বারান্দায় পা রাখতেই ঠান্ডা বাতাস তার গা ছুয়ে যায়,আরহা চোখ বন্ধ করে উপভোগ করে।চোখ খুলে সামনে তাকাতেই দেখে বারান্দার চারপাশে রাউন্ড করে কালো গোলাপ গাছ লাগালো।গাছে ফুটে আছে অনেক কালো গোলাপ।কালো গোলাপ দেখেই আরহার চোখ চকচক করে উঠে।সব গুলো গোলাপ আরহা মুচকি হেসে ছুয়ে দেয়।একটা কালো গোলাপ ছিরে কানে গুজে। বাম পাশে রাখা দোলনায় বসে বাড়ির সামনের বাগান দেখতে থাকে।আদিয়াতের রুমের বারান্দায় দাড়ালে বাড়ির সামনের গেট থেকে সব দেখা যায়।পুরো বাগানটা দেখা যায়।আরহার কিছু মনে পড়লে রুমে যায় কিন্তু সে যেটার জন্য রুমে এসেছে সেটা রুমে নেই। আরহা এটা দেখে অবাক হয় যে রুমের ভিতর কোনো আয়না নেই।
আরহা বেডের দিকে তাকাতেই দেখে আদিয়াত তার দিকে তাকিয়ে আছে।
_কি দেখছো এভাবে?
_আমার আদুরে সুন্দরি বউকে দেখছি।
আদিয়াত ঘোর লাগা স্বরে কথাটি বলে।আরহা কথা কাটানোর জন্য বলে
_কখন উঠলে?
আদিয়াত বুঝে আরহা কথা ঘুরাচ্ছে। আদিয়াত বেড থেকে নামতে নামতে বলে
_ তুমি যখন খুঁজাখুজি করছিলে তখন।
আদিয়াত আরহার দিকে ঝুঁকে কথাটা বলে।
আরহা একটু পিছিয়ে গিয়ে বলে
_ আপনার রুমে আয়না নেই কেনো?
_কে বলেছে নেই এসো আমার সাথে।
আদিয়াত আরহার হাত ধরে বেডের ডান সাইটে গিয়ে। সাদা পর্দাটা সরিয়ে দিতেই একটা কাচের দরজা দেখতে পায় আরহা।আদিয়াত দরজার লক খুলে ভিতরে ডুকে পিছু পিছু আরহা ও ডুকে। ভিতরে ডুকেই আরহার মুখ হা হয়ে যায়। একটা বড়সড় রুম দেখে মনে হচ্ছে শপিংমল। রুমের বাম সাইটে আদিয়াতের পোশাক আরো প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন পারফিউম,ঘরি,সানগ্লাস, জুতো আরো ইত্যাদি। সব কিছু সুন্দর করে রাখা এখানে যেভাবে শপিংমলে থাকে।আর রুমের ডান সাইটে আরহার জন্য শারী,থ্রি পিস,গাউন,টি-শার্ট, প্লাজু, সাজুগুজু করার জিনিস ইত্যাদি সব কিছু খুব সুন্দরভাবে গুছানো।দুই পাশেই রয়েছে দুটো বড় আয়না মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখা যাবে।আরহা আদিয়াতের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষন।
_আদি এটা কি শপিংমল
_ইয়েস বেইব,এটা আমাদের পার্সোনাল শপিংমল। আদিয়াত হেসে দিয়ে আরহাকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে কথাটা বলে।
_বাট আদি তুমি এগুলো কিনলো কখন? আমিতো একটু আগে টেনসনে পড়ে গিয়েছিলাম সাওয়ার নিয়ে পড়বো কি।
_আমি আগেই সব কিনে রেখেছি নিজের পছন্দ মতো।
_এখানে ওয়েস্টার্ন ড্রেস নেই কেনো?
আদিয়াত আরহাকে ছেরে দিয়ে ঠান্ডা কন্ঠে বলে
_আমার পছন্দ না তাই। আর কথা না বলে যাও ফ্রেস হয়ে আসো।কথাটা বলে আদিয়াত আরহার জন্য একটা কালো শারি আনে। যেটার ভিতর হালকা সোনালি কাজ করা অসম্ভব সুন্দর একটা শারি দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক দামি।
_এই শারিটা এখন পড়বে আরুপাখি।আমি চাই তুমি এখন থেকে শারিই পড়বে।
কথাটা শুনে আরহার মুখ চুপসে যায় মাথাটা নিচু করে বলে
_আমি তো শারি পড়তে পারি না
_আমি আছি না আমি পড়িয়ে দিবো।তুমি পড়তে পারলেও আমিই পড়িয়ে দিতাম।যাও এখন, আরহা আর কিছু না বলে শারির সাথে পড়ার প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ওয়াসরুমে চলে যায়।
আদিয়াত তার রুমের পাশের রুমের ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে সাওয়ার নিয়ে বের হয়। কালো রংঙের টি-শার্ট ও ট্রাউজার পরে রুমে আসতেই। ওয়ারুমের দরজা খুলে আরহা কাচুমাচু করতে করতে বের হয়। টাওয়ালটা ওরনার মতো গায়ে জরানো। আরহার মুখে বিন্দু বিন্দু পানি রয়েছে স্নিগ্ধ লাগছে অনেক।আদিয়াত ঘোর লাগা চোখে আরহার দিকে তাকিয়ে থাকে।

আদিয়াতের দৃষ্টির দিকে আরহার চোখ পড়তেই আরহা মাথা নিচু করে ফেলে।মিনমিন করে বলে
_এখন শারিটা পড়িয়ে দিন।আরহার কথায় আদিয়াতের ঘোর কাটে। আদিয়াত বিছানার উপর থেকে শাড়িটা নিয়ে আরহার কাছে গিয়ে খুব সুন্দর করে পড়িয়ে দিতে থাকে।মাঝে মাঝে আদিয়াতের হাত আরহার গায়ে লাগছে যার কারনে আরহা কেঁপে কেঁপে উঠছে। সব শেষে আদিয়াত কুঁচি গুলো গুছিয়ে দিয়ে আরহাকে বলে গুঁজে নিতে।
আরহা কুঁচি গুজে। আদিয়াত মুগ্ধ চোখে আরহাকে পরখ করতে থাকে ফর্সা শরিলে কালো রংটা ফুটে আছে।আরহা সেই রুমটায় চলে যায় আয়না দেখতে।আদিয়াত ও আরহার পিছু পিছু যায়। আরহা আয়নায় নিজের পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে আদিয়াত খুব সুন্দর করে আরহাকে শারি পড়িয়ে দিয়েছে।
_আদি তুমি এতো সুন্দর শারি পড়াতে শিখলে কোথা থেকে?
_আগে আরো অনেক মেয়েদের পড়িয়েছি তো তাই।
আরহা চিল্লিয়ে চোখ পাকিয়ে আদিয়াতের দিকে তাকিয়ে বলে
_কিককককক
_উফ চিৎকার করছো কেনো কানে লাগে তো।তোমার জন্যই শিখেছি যেনো পড়িয়ে দিতে পারি আদিয়াত হাসতে হাসতে কথাটা বলে।এবার এদিকে এসো তোমার….

#চলবে…

( ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। কমেন্টে জানাবেন পর্বটা কেমন হয়েছে। রিয়েক্ট কমেন্ট বেশি করলে পরের পর্ব তাড়াতাড়ি দিবো প্রমিস☺)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here