পাথর_হৃদয়ে_ফুল #writer _Nodi Karim #পর্ব_১৩

0
425

#পাথর_হৃদয়ে_ফুল
#writer _Nodi Karim
#পর্ব_১৩

[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ]

চিনতে পেরেছো আরুপাখি
_আদিয়াত তুমি। তুমি আমাকে আটকে রেখেছো?
আরহা অভাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে।

আদিয়াত কিছু বলে না আরহার অভাক হওয়া মুখটি দেখতে থাকে।

আরহা আর কিছু বলবে তখনি রুমটায় আলো জ্বলে উঠে। তারপর দরজা দিয়ে পাচঁ জন গার্ড ডুকে। তাদের সাথে একজন হুজুর টাইপ লোক আর উকিল ডুকে।তারা ডুকার পর শিহাব হন্তদন্ত হয়ে রুমে ডুকে আদিয়াতকে বলে
_ভাই সব রেডি
_তাহলে শুরু করা যাক।
বলেই বাঁকা হেসে আরহার দিকে তাকায়। আরহা এখনো কিছু বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে এখানে।

_আদিয়াত তুমি কি বলবে কিছু,এরা কারা,আমি এখানে কেনো?
আরহার শক্ত কন্ঠ শুনে আদিয়াত মজা পায়।
_আমাদের বিয়ে হবে এখন।
আরহা যেনো একে বারে অভাকের শেষ সীমানায় চলে গেছে।
_আদিয়াত বিয়ে মানে, আমি তো বলেছিই তোমাকে বিয়ে করবো।তাহলে এরকম করে ধরে এনে বিয়ে করার মানে কি।আর আমি ফ্যামিলিকে না জানিয়ে এভাবে বিয়ে করতে পারবো।
_ফ্যামিলি তোর ফ্যামিলি নিয়ে তুই থাক, আমার তোকে চাই কে কি ভাবলো আমার কিছু যায় আসে না। তাও তোর কথা ভেবে তোর বাড়িতে দিদিভাইকে পাঠিয়েছি বিয়ের কথা বলতে। কিন্তু তোরা না বললি এই আদিয়াতকে রিজেক্ট করিস এতো সাহস।
আদিয়াতের চিৎকার করা কথায় আরহা কেঁপে উঠে। সাথে অভাক হয়ে তাকায় আদিয়াতের মুখে তুই ডাক শুনে।আদিয়াত তো তাকে কখনো তুই করে বলে না।

_সব লেখা লেখি শেষ
_জ্বি ভাই।
_তাহলে শুরু কর।

কাজি সাহেব আরহাকে বলে
_বলো মা কবুল
_বলবো না,আমি আমার বাবা মাকে না জানিয়ে কিছুতেই বিয়ে করবোনা। আদি আমাকে বাসায় দিয়ে আসো ভালো হচ্ছে না কিন্তু।
আরহার কথায় আদিয়াত পাত্তা না দিয়ে বলে
_তুমি কি কবুল বলবে নাকি আমি অন্য ব্যবস্থা করবো।
_কি করবে তুমি?
_তুমি আমার ক্ষমতা সম্পর্কে জানো আরুপাখি। আমি নিজের মানুষ ছারা কাউকে গুরুত্ব দেই না কেউ বাচলো নাকি মরলো সেটাও তুমি জানো এখন ভেবে দেখো।

আরহা মনে মনে ভাবে সে আদিয়াতের সাথে ক্ষমতায় পারবে না। সে তো আদিয়াতকে ভালোও বাসে।তাহলে বিয়েটা করাই বেটার পরের টা পরে দেখা যাবে।
ভাবনার মাঝে আবার কাজি বলে উঠে
_বলো মা কবুল
_কবুল,কবুল,কবুল
আরহা এক ধুমে তিনবার কবুল বলে দেয়।
আদিয়াত বাকা হেসে বলে
_এতোক্ষন তাহলে নাটক করছিলে। বিয়ে করার এতোই তারা যে একেবারেই তিনবার কবুল বলে দিলে।
আরহা চোখ গরম করে আদিয়াতের দিকে তাকিয়।
আদিয়াত ডোন্ট কেয়ার মুডেই
কবুল বলে দেয়।তারপর সিগনেচার করে,সাক্ষিরাও করে। কিছুক্ষন সময়ের মধ্যেই তাদের বিয়ে সম্পর্ন হয়ে যায়।

আদিয়াত আর এক মিনিট ও অপেক্ষা না করে। সবার সামনেই আরহার পায়ের বাধন খুলে দিয়ে কোলে তুলে নিয়ে বেড়িয়ে যায়।
.
.
.
আদিয়াতের রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে আরহা। কিছুক্ষন আগেই আদিয়াত তাকে নিয়ে চৌধুরী মঞ্জিলে এসেছে। আদিয়াতের দিদিভাই নরমাল ভাবেই তাকে ট্রিট করছিলো।দেখেই বোঝা যাচ্ছিল সে অভাক হয় নি এমন কিছু হবে আগেই ভেবেছিলো। আরহার ভাবনার সুতো কাটে আদিয়াতের পিছন থেকে তাকে জরিয়ে ধরায়।

আদিয়াত আরহা কে পিছন থেকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে ঘারে চুমু খায়।
আরহা রেলিংয়ে রাখা হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে রেলিং।
_কি ভাবছো আরুপাখি
_কেনো এমন করলে আদিয়াত।আমি তো তোমাকে ভালোবাসি, তোমাকে তো আমি বলছি বিয়ে করবো। তাহলে এসব কেনো।
আরহার কথায় আদিয়াতের সেই ভিডিওর কথা মনে পরে যায়। রাগে চোখ লাল হয়ে যায়। আরহার পেটে রাখা হাতটা শক্ত হয়।আরহার ঘারে কামর দিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে রাগে হিসহিসিয়ে বলে
_তুই কালকে কোথায় ছিলি
আদিয়াত আরহার পেটে খামছে ধরায় আরহা ব্যাথা পায়। সাথে ঘারে কামর আরহার চোখে পানি চলে আসে।আরহা বুঝতে পারছে না আদিয়াত হঠাৎ কেনো এতো রেগে গেলো।
_রেগে যাচ্ছো কেনো একটা নর্মাল প্রশ্নে কালকে আমি ব্যাস্ত ছিলাম। আমার ফোনটাও চুরি হয়ে গেছে, ব্যস্ততার কারনে তোমার সাথে কথা হয় নি।রাতে ভেবেছি কল দিবো কিন্তু তুমি তো তার আগেই…

আরহার কথা থেকে যায় আদিয়াতের চিৎকারে। আদিয়াত আরহা কে ছেরে দিয়ে কপালে আঙ্গুল গসতে গসতে চিল্লিয়ে বলে
_বাহ মিথ্যা ও বলছো তুমিও আমার সাথে।কালকে সারাদিন তুমি কোন ছেলের সাথে ব্যস্ত ছিলে? ফোন চুরি হয়েছে নাকি ইচ্ছা করে ধরো নি। আর ফোন চুরি হলে ও কি ফোন কিনে ফোন দেয়া যেতো না। এমনে তে তো তুমিই আমার কাছে আসো তাহলে কাল আসলে না কেনো।আমাকে এখন আর ভালো লাগে নাহ তাই না।
প্রথমের কথাগুলো রেগে বললেও শেষের কথাগুলো বলতে গিয়ে আদিশাতের গলা কেঁপে কেঁপে উঠে।
দৃষ্টি লুকিয়ে আবার বলে

_বর্তমান দুনিয়া যেনো মনের খেলা ঘর।যেখানে শুধু একের পর এক খেলা শেষে নতুন খেলার আয়োজন চলে

আদিয়াতের কথাগুলো শুনে আরহা চোখ দুটোও ভরে উঠে অশ্রুে।আদিয়াত যে কস্ট পেয়েছে সেটা আরহা উপলব্ধি করতে পারছে।
সে এগিয়ে যায় আদিয়াতের কাছে।আদিয়াতের গালে হাত রেখে বলে-

_আদি লুক এট মি,আই লাভ ইউ। আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি, ইউ আর মাই ফাস্ট লাভ। তুমি ভয় পাচ্ছো আমাকে হারানোর আমি তো কবেই তোমাতে মত্ত হয়েছি কিভাবে তোমাকে ছেরে দূরে থাকবো বলো।
একটু দম নিয়ে আদিয়াতকে জরিয়ে ধরে বুকে মুখ গুজে সফট ভয়েসে বলে
_তুমি যে ছেলেটার কথা বলছো সে আমার খালাতো ভাই হয়। আমরা একসাথে লন্ডনে ছিলাম ও আমার ছয় মাসের ছোট আদি। আমরা আপন ভাই বোনের মতো। আর কিছু নেই আমাদের মাঝে। আর বিয়ের কথা বললে আমি যানতাম না এতো কিছু হয়েছে।পাপা আপনাদের না বলে দিয়েছে সত্যি আমি যানতাম না, আমাকে এসব কিছুই বলা হয় নি।
আরহাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে আদিয়াত আরহাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে। আরহার ঘারে মুখ গুজে গভীর শ্বাস নিয়ে বলে।
_আমি আর কিছু শুনতে চাই না। তুমি আমার শুধুই আমার, আর আমারি থাকবে।তোমাকে আমি কারো পাশে সয্য করতে পারবো না আরুপাখি। তেমাকে কারো পাশে দেখার ক্ষমতা আমার নেই।
আদিয়াতের কথার মাঝেই আরহা তার ঘারে পানির স্পর্শ পায়।
আরহার চোখ দিয়ে এক ফোঁটা অশ্রু গরিয়ে পরে। এতো ভালোবাসা কি তার প্রাপ্প, তার ভয় হচ্ছে। এতো ভালোবাসা কি তার আদেও সয্য হবে নাকি হারিয়ে ফেলবে?
হারিয়ে ফেলা কথাটা মাথায় আসতেই আরহা আদিয়াতকে শক্ত করে জরিয়ে দরে ডুকরে কেঁদে উঠে।

আরহার কেঁদে উঠায় আদিয়াত আরহাকে ছেরে। তার চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বলে
_আরুপাখি একদম কান্না করবে না।ইউ নো না,তোমার চোখের পানি আমার একদম সয্য হয় না।
অনেক রাত হয়েছে ঘুমাবে চলো বলে আরহার হাত ধরতেই আরহা “আহহহ”বলে উঠে।
#চলবে….

(আপনারা রেসপন্স করেন না, নিরবে গল্প পরে চলে যান লাইক কমেন্ট করেন না।যার
কারনে আমি গল্প দেয়ার আগ্রহ ও পাই নাহ🙂)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here