পাথর_হৃদয়ে_ফুল Writer – Nodi Karim পর্ব – ১২/

0
403

#পাথর_হৃদয়ে_ফুল
Writer – Nodi Karim
পর্ব – ১২/

[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ]

বি রেডি আরুপাখি।
কথাটা বলেই আদিয়াত বাঁকা বাঁকা হাসি দেয়
.
.
আহনাফ খানকে ইমারজেন্সি কল করা হয়েছে দ্রুত বাসায় আসার জন্য।চৌধুরী বাড়ি থেকে ফোন এসেছিলো তারা বিকেলে আসবে। আহনাফ খান কথাটা শনে অনেক টাই অভাক হয়।কারন আবিয়াতের সাথে তার এম বি রেডি আরুপাখি।
কথাটা বলেই আদিয়াত বাঁকা বাঁকা হাসি দেয়
.
.
আহনাফ খানকে ইমারজেন্সি কল করা হয়েছে দ্রুত বাসায় আসার জন্য।চৌধুরী বাড়ি থেকে ফোন এসেছিলো তারা বিকেলে আসবে। আহনাফ খান কথাটা শুনে অনেক টাই অভাক হয়।কারন আবিয়াতের সাথে তার এমন কোনো সম্পর্কে নেই যার কারনে আদিয়াতের ফ্যামিলি খান বাড়িতে আসবে।
.
.
আলেয়া চৌধুরী গার্ডদের নিয়ে খান বাড়িতে রওনা দেয়।গার্ডদের হাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের জিনিস যা খান বাড়ির লোকদের জন্য আনা হয়েছে।

আলেয়া চৌধুরী খান বাড়িতে ডুকতেই সবাই ব্যাস্ত হয়ে পরে আপায়ন করতে।
_আসুন মিসেস চৌধুরী, বসুন
আহনাফ খান আলেয়া চৌধুরী কে বাড়িতে ডুকতে দেখে এগিয়ে গিয়ে কথাটা বলে।
আলেয়া চৌধুরী সোফায় বসতেই আহনাফ খান আসাদ খান তার সামনের সোফায় বসে। আফরুজা খান আর রেহেনা খান রান্নাঘরে নাস্তার আইটেম গুলো সার্ভেন্টকে দিয়ে টেবিলের উপর সাজিয়ে রেখে সোফায় বসে।

আহনাফ খান আলেয়া চৌধুরিকে সবার সাথে পরিচয় করায়।সাহাদ,জাহিয়াহ,আরহা বাসায় নেই। আহনাফ খান আর আসাদ খান কিছুক্ষন আলেয়া চৌধুরীর সাথে কুশোল বিনিময় করে বলে মুচকি হেসে বলে-
_কথা পরে হবে আগে কিছু খেয়ে নিন। আপনি তো কিছু নিচ্ছেন না খাওয়ার পর না হয় আপনার কথা শুনবো।
_ব্যস্ত হইয়ো না,আমি ও নিচ্ছি তোমরাও নাও
আলেয়া খান একটু খেয়ে আর কিছু খায় না
_আহনাফ এখন আমি তোমার কাছে একটা জিনিস চাইবো।তোমাকে কিন্তু দিতে হবে না করা যাবে না।

আহনাফ খান সৌজন্য হেসে বলে
_আমার সাধ্যর মধ্যে থাকলে আমি অবশ্যই দেবো
_তুমি চাইলেই দিতে পারবে।কথাটা বলে আলেয়া খান একটু দম নিয়ে বলে
_আমি আমার নাতি আদিয়াতের জন্য তোমার মেয়েকে চাই। আমার নাতি কেমন তোমরা সেটা যানো।

আলেয়া খানের কথা শুনেই আহনাফ খানের মুখ কালো হয়ে যায়।আসাদ খান কে দেখে তো মনে হচ্ছে তার চোখ বেড়িয়ে আসবে। আফরুজা আর রেহেনা খান আহনাফকে তেমন চিনে না তাই তারা নরমালই আছে।

আলেয়া চৌধুরী তাদের অবস্থা দেখে বলে-
_ আমার নাতি আপনার মেয়েকে ভালোবাসে। এবং সেই আমাকে পাঠিয়েছে আপনাদের বাড়িতে।
একটু দম নিয়ে আবার বলে
_আপনাদের বাসার বাচ্চাদের দেখছি না সবাই কোথায়? আরহাকে ও দেখছি না।

আহনাফ খান আর আসাদ খান মনে হয় ফিট পরবে এখনি তারা নিজেদের কান কে বিশ্বাস করতে পারছে না।

আহনাফ খান অনেক কস্টে নিজেকে নরমাল করে গম্ভীর কন্ঠে বলে-
_আমি এখন কিছু বলতে পারছি না। আমার মেয়ের সাথে কথা বলে, পরিবারের সবার সাথে কথা বলে আপনাকে জানাবো। বাচ্চারা সবাই বাহিরে গিয়েছে।আরহার খালাতো ভাই এসেছে লন্ডন থেকে।

_কোনো সমস্যা নেই কথা বলো। কিন্তু উওর টা আজকে রাতেই দিও। আমি এখন আসি।

_এ মা এখন যাবেন ডিনার করে যান এতো তাড়াতাড়ি ছারছি না। আফরুজা খানের কথায় তাল মিলিয়ে রেহেনা খান বলে
_হ্যা এখন যেতে পারবেন না,প্রথম আসলেন আমাদের বাসায়। কিছু তো খান ও নি তেমন ডিনার টা করেই যেতে হবে কিন্ত।

_আত্নীয় হলে তখন তো যাওয়া আসা হবেই। তখন না হয় খাবো আলেয়া চৌধুরী হেসে কথাটা বলেই সবার থেকে বিদায় নিয়ে চলে যান
.
.
আলেয়া চৌধুরী চলে যেতেই আসাদ খান সোফা থেকে উঠে জেদি কন্ঠে বলে-
_এই বিয়ে কিছুতেই হতে পারে না।আহনাফ তুই ওনাকে ফোন করে বলে দিবি আমরা রাজি না।তুই জানিস না আদিয়াতের চরিত্র ভালো না।কত মেয়ের সাথে রাত কাটিয়েছে হিসেব নেই আবার মাফিয়াও। আর বাবা মা তো….

আহনাফ খান আসাদ খানকে থামিয়ে দিয়ে বলে
_দা ভাই চুপ থাক,আমিও এই বিয়েতে রাজি না। ওনাদের রাতেই জামিয়ে দিবো।আরহাকে বলার ধরকার নেই এসব বিষয়ে। ভাবি,আফরু তোমাদের কিছু বলার আছে?

_আমরা কি বলবো আপনারা চিনেন যেটা ভালো বুঝেন করেন।

_________

রাত ১০ টা,
আদিয়াত অফিসে যায় নি আজ। আরাবী অসুস্থ থাকলে আদিয়াতকে তার কাছেই থাকতে হয়। বোন যে তাকে অনেক ভালোবাসে সে ও বাসে।

আলেয়া চৌধুরী আদিয়াতের দরজায় পাসওয়ার্ড টাইপ করে। ভিতরে গিয়ে দেখে আদিয়াত বেডের হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে ল্যাপটপ টিপছে।

আদিয়াত দিদিভাইর উপস্থিতি বুঝতে পারে বাট তাকায় না।

আলেয়া চৌধুরী বেডে আদিয়াতের পাশে বসে ভয়ে ভয়ে বলে-
_আদি

আদিয়াত ভ্রু কুচকে আলেয়া চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলে
-হ্যা
-ওনা.না বিয়েতে না ব..লে দিয়ে.ছে
আলেয়া চৌধুরী হলকা তুতলিয়ে কথাটা বলে।

আদিয়াত ডোন্ট কেয়ার মুডে বলে
_ওহ
আলেয়া চৌধুরী অভাক হয় আদিয়াতের এমন র্নিলিপ্ত ভাব দেখে।
সে বুঝতে পারছে সামনে ঝর আসছে।আদিয়াতের ঠান্ডা কথাই তার প্রমান।
আলেয়া চৌধুরী আদিয়াতের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে
_যা করবে ভেবে চিন্তে করবে। মাথা ঠান্ডা রেখে,মাথা গরম করে কোনো কাজ করবে না।ঠিক আছে দাদুভাই বলেই আদিয়াতের মাথায় চুমু খেয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়।

আলেয়া চৌধুরী বেড়িয়ে যেতেই, আদিয়াতের মুখটা কঠিন হয়ে যায়।কপালের রগ গুলো ফুটে ওঠে
_আরুপাখি আমি নিজের রাগ কন্ট্রোল করে। আপনার পরিবারের কথা ভেবে,আপনার ইচ্ছার কথা ভেবে। ভালোভাবে আপনাকে আমার কাছে আনতে চেয়েছি কিন্তু আপনি ভালোর যোগ্যই না। এবার যেটা হবে সেটার জন্য আপনিই দায়ি তৈরি হন। বলেই কাউকে ফোন করে কিছু বললো তারপর ফোন কেটে দিয়ে। ড্রেসিং রুমে গিয়ে কালো রংয়ের একটা হুডি পরে মুখে কালো মাস্ক পরে বেড়িয়ে যায়।

_________

পিটপিট করে চোখ খুললো আরহা মাথা ঝিমঝিম করছে তার। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার নিজের হাত টা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।আরহা মনে করার চেষ্টা করছে তার সাথে আসলে কি হয়েছে
_আমি তো বাহিরে ছিলাম ভাইয়া,জাহিরাহ,আহিদ ওরা কোথায়।
হঠাৎ আরহার মনে হলো তাকে কি কেউ আটকে রেখেছে এখানে।
আরহার ভাবনার মাঝেই দরজা খুলে যায়। বাহিরের আলোয় আরহা দেখতে পায় কালো বুট জুতা পায়ে কালো হুডি দিয়ে অর্ধেক মুখ ডাকা একটি লোক ভিতরে ডুকছে।
আরহা ভয় পায় না মনে সাহস রেখে জিজ্ঞাসা করে
_হু আর ইউ, কেনো আটকে রেখেছেন আমাকে বলুন। আরহা চিৎকার করে কথাটি বলে।

লোকটা কিছু বলে না আরহার সামনের চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে বসে। আরহার দিকে তাকায়

_কে আপনি? আপনাকে আমি কিছু জিজ্ঞাসা করছি কথা বলছেন না কেনো?
আরহার কথায় লোকটা বাঁকা হেসে বলে-
_আরুপাখি
আরহা কথাটা শুনে স্তব্ধ হয়ে যায়।অভাক হয়ে সামনে তাকায় সে কি ঠিক শুনছে
চলবে…..

(ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। কালকে কে কে গল্পের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন কমেন্টে জানাবেন।কালকে আদিয়াত আর আরহার বিয়ে আপনাদের দাওয়াত😒)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here