পাথর_হৃদয়ে_ফুল writer – Nodi Karim পর্ব – ১১

0
391

#পাথর_হৃদয়ে_ফুল
writer – Nodi Karim
পর্ব – ১১

[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ]

আদিয়াত আর আরহা বাড়ির ভিতর ডুকতেই।একজন বৃদ্ধা মহিলা এসে আরহাকে জরিয়ে ধরলে আরহা হঠাৎ এমন হওয়ায় ভোরকে যায়।

_তোমাকে দেখার আমার অনেক ইচ্ছা ছিলো তাই আদি কে বলেছি তোমাকে নিয়ে আসতে। আমি আদির দিদিভাই,এখন থেকে তুমিও দিদিভাই বলে ডাকবে।
আরহা কে ছেরে দাঁড়াতে দাড়াতে কথাটা বলে

আদিয়াতের দিদিভাই কথাটা শুনতেই, আরহা আলেয়া চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলে
_আসলামু আলাইকুম দিদিভাই।

_ওয়ালাইকুম সালাম
তারপর আরহার থুতনি ধরে বলে
_বাহ!আমার আদির চয়েস সব সময়ই ফাস্ট ক্লাস ছিলো।

আলেয়া চৌধুরীর কথার মাঝেই দুইতলা থেকে একটি মেয়ে ভাবি বলে চিৎকার দিয়ে নামে।আর এসেই আরহাকে জরিয়ে ধরে বলে
_ভাবি ইউ নো নাহ আমি তোমার একমাত্র ননদিনী আরাবী চৌধুরী । তুমি আসবে শুনে আমি সেই সকাল থেকে এক্সাইটেড। তুমি তাড়াতাড়ি আমাদের বাসায় একবারে চলে আসো।সারাদিন একা একা বাসায় থাকতে আমার এটুও ভালো লাগে।
একদুমে কথাগুলো বলে থামে আরাবী।

আরহা নিজেকে জরিয়ে ধরা আরাবীর দিকে তাকায়। দেখতে কিছুটা আদিয়াতের মতোই গায়ের রং ও আদিয়াতের মতো। বেশ চঞ্চল, দেখেই বোঝা যাচ্ছে বয়স অনেক কম।

আরহা আরাবীর গালে হাত দিয়ে মুচকি হেসে বলে
_ওকে চলে আসবো তারাতাড়ি খুশি
_অওওও আমার লক্ষি ভাবি

_আরে ছার ছার মেয়েটাকে একটু বসতে দে। দিদিভাই তুমি বসো আমার কাছে।
আরহা গুটি গুটি পায়ে গিয়ে সোফায় আলেয়া খানের পাশে বসে। আরহা সামনে সোফায় তাকাতে দেখে আদিয়াত তার দিকেই তাকিয়ে আছে।

_রুমি নাস্তাগুলো নিয়ে আয় তো
আলেয়া চৌধুরী একজন সার্ভন্টকে উদেশ্য করে কথাগুলো বলে।

_দিদিভাই তুমি এখানে বসো আমি এখনি আসছি
আরহা নিরবে মাথা নারিয়ে সায় দেয়।

_এই ভাইয়া তুই এই ফুল ভাবিকে কই পেলি রে। আমার তো অনেক পছন্দ হয়েছে।
আরাবী আদিয়াতের পাশে বসতে বসতে কথাগুলো বলে।

আদিয়াতের বোনের কথায় কিছু বলে না শুধু নিরবে একটু হাসে।

আরহা ভাই বোনের কথা শুনছিলো। তখনি আলেয়া চৌধুরীকে দেখে হাতে করে লাল রংয়ের একটা বক্স নিয়ে এসে আরহার পাশে বসে।আরহা কৌতুহলি চোখে বক্সটার দিকে তাকায়

_এটা আমি আদির বউয়ের জন্য তুলে যত্ন সহকারে তুলে রেখেছিলাম। এখন যখন এটা মানুষ চলেই এসেছে তাহলে দিয়েই দেই।
আলেয়া চৌধুরী কথাটা বলতে বলতেই বক্সটা খুলে ডায়মন্ডের এক জোরা চুরি বের করে। সাদা এবং নিল রংঙের কমিউনিকেশনে তৈরি অসাধারণ এক জোরা চুরি।

আরহা অভাক হয়ে একবার আদিয়াতের দিকে তাকায় দেখে আদিয়াত তার দিকেই তাকিয়ে আছে।আরহা ভাবতে পারে নি একদিনেই তাকে এ বাড়ির সবাই এতো আপন ভেবে ফেলবে
_পছন্দ হয়ে।
আলেয়া চৌধুরী মুচকি হেসে চুরিগুলো আরহার হাতে পরাতে পরাতে কথাটা বলে।
_অনেক পছন্দ হয়েছে দিদিভাই
.
.
.
আরহা চৌধুরী বাড়িতে ঘন্টা দুয়েক সবার সাথে কটায়।বাড়ি ঘুরে দেখে,এখন সে চৌধুরী বাড়ির সবার সাথে ফ্রি হয়ে হয়ে গেছে। সবার সাথে কথা বলার মাঝেই হঠাৎ আরহা কল আসে।

_প্রিন্সেস তুমি কোথায়?
_পাপা আমি একটু বাহিরে আছি কেনো?
_বাসায় আসো তোমার সাথে কথা আছে
_ওকে পাপা আসছি বায়।

_এনি প্রবলেম আরহা?
আদিয়াত আরহার দিকে তাকিয়ে বলে
_পাপা কল করেছে বাসায় আসতে বলছে।
_ওকে চলো তাহলে তোমাকে দিয়ে আসি।

_সেকিরে এতো তাড়াতাড়ি, আরহা এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবে?
আলেয়া চৌধুরীর কথায় আরহা তাকে জরিয়ে ধরে বলে
_খুব তাড়াতাড়ি আবার আসবো আজকে চলি ওকে
_আরাবী আসছি নাম্বার তো রাখলে ফোনে কথা হবে।ভালো থেকো।
আরাবী আরহাকে জরিয়ে ধরে বলে
_তাড়াতাড়ি আসবে কিন্তু ভাবি আমি তোমাকে মিস করবো।
_আচ্ছা সোনা আসবো।

সবার থেকে বিধায় নিয়ে আরহা আদিয়াত গাড়িতে উঠে বসে।
_আপনার ফ্যামিলি আমার খুব ভালো লেগেছে।কত সহজে আমাকে আপন করে নিলো।
আরহা উৎফুল্লের সাথে কথাটা বলে
_আমাকে পছন্দ হয় নি
আদিয়াতের কথায় আরহা ভাসা ভাসা চোখে আদিয়াতের দিকে তাকিয়ে বলে
_পছন্দ কি আপনি তো আমার ভালোবাসা।
আরহার কথায় আদিয়াত মুচকি হাসে শুধু

গাড়িতে আর কেউ কোনো কথা বলে না আদিয়াত আরহাকে তার বাসায় নামিয়ে দিয়ে অফিসে চলে যায়।

__________

তিন দিন পর,
এই তিনদিনে আরহা আর আদিয়াতের ভলোবাসা আরো গভীর হয়েছে। আপনি থেকে এখন তুমিতে গিয়েছে আরহা এখন আর আদিয়াতকে আপনি করে বলে না। মাঝে মাঝে দুইজনে ঘুরতে যায়।

আদিয়াতের নিজের কেভিনে বসে অফিসের ফাইল দেখছিলো। তখনি বাহিরে চেচামেচির আওয়াজে সে বিরক্ত হয়। সাথে অভাক ও হয় কারন আদিয়াত অফিসে থাকা কালিন কেউ একটা টু শব্দ করতে ও ভয় পায়।
আদিয়াত নিজের কেভিন থেকে বের হয়ে অভাক হয়ে যায় সামনের দৃশ্য দেখে।

আরহা আদিয়াতের পিএ সামিহার সাথে তুমুলঝগড়া করছে। আরেকটু হলেই হয়তো মারামারি লেগে যাবে। অফিসের স্টাফ রা সবাই নিজের ডেস্ক থেকে উঠে তামাসা দেখছে। আদিয়াত আরহার দিকে তাকিয়ে দেখে রাগে আরহার মুখ লাল হয়ে গিয়েছে।যেকোনো সময় আরহা সামিহাকে মেরে বসবে।
আদিয়াত আর কিছু না ভেবে দ্রুত ওদের দিকে এগিয়ে যায়।
_এখানে এসব কি হচ্ছে এটা অফিস নাকি সার্কাস।
আদিয়াতের গম্ভীর স্বরে সবাই থেমে যায়। সামিয়া এগিয়ে গিয়ে বলে-
_স্যার এই মেয়েটা কখন থেকে আপনার রুমে ডুকতে চাচ্ছে।আমি কখন থেকে বলছি অনুমতি ছারা আপনার কেভিনে যাওয়া যাবে না। তাও জোর করে ডুকতে চাচ্ছে,আর কি বলে জানেন স্যার ও নাকি আপনার গার্লফ্রেন্ড।সামিহা এক ধুমে কথাগুলো বলে থামে

আদিয়াত সামিহার কথায় উওর না দিয়ে সবাইকে রাগি স্বরে বলে
_যে যার ডেস্ক যান
আদিয়াতের এক কথায়ই সবাই সুর সুর করে নিজের ডেস্কে বসে। কাজ করতে শুরু করে কিন্তু কোনা চোখে আরহার দিকে তাকাতে ভুলে না।

_মিস আরহা আমার কেভিনে আসুন
আদিয়াতের কথায় সামিহা ফোরন কেটে বলে
_স্যার আপনি ওনাকে কিছু বলবেন না? আপনার গার্লফ্রেন্ড বলে নিজেকে কত বড় সাহস।
আরহা সামিহার কথায় রেগে সামিহাকে মারতে চায়
_এই মেয়ে এই তুই আমাকে চিনিস আমি আহনাফ খানের এক মাএ মেয়ে আরহা খান।আর তুই আমাকে মিথ্যাবাদি বলিস,তোর চাকরি কিভাবে টিকে আমিও দেখবো

আদিয়াত দ্রুত আরহার হাত ধরে টান দেয়।যার কারনে আরহা গিয়ে আদিয়াতের বুকের উপর পরে।আদিয়াত আরহাকে নিজের বুকের সাথে জরিয়ে রেখেই সামিহাকে কঠিন কন্ঠে বলে
_মিস সামিহা আপনি নিজের কাজে যান।
আরহাকে আদিয়াতের এভাবে জরিয়ে ধরা দেখেই সামিহার যা বোঝার বুঝে যায়।সাথে অভাক ও হয়,ছল ছল চোখে আদিয়াতের দিকে তাকিয়ে থাকে।কিন্তু তার এখন ভয় হচ্ছে নিজের চাকরি নিয়।আবার নাকি আহনাফ খানের মেয়ে।সামিহা দ্রুত সে স্থান ত্যাগ করে।

আদিয়াত আরহাকে নিয়ে কেভিনে ডুকে। নিজে চেয়ারে বসে আরহাকে কোলে বসিয়ে।টেবিলে উপর থেকে পানির গ্লাসটা আরহার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে আদুরে স্বরে বলে-
_আরুপাখি পানি টা খেয়ে নাও,মাথা ঠান্ডা করো।
_আমার মাথা ঠান্ডা হচ্ছে নাহ আদিয়াত।ওই মেয়েটা আমাকে মিথ্যাবাদি বললো।
_তুমি আমাকে না জানিয়ে এসেছো কেনো?
_অওও আমি আসায় প্রবলেম হয়ে গিয়েছে তাই নাহ।মেয়ে পিএ ও আছে তোমার কেনো ছেলে ছিলো না।আমি যেনো এই মেয়েকে আর তোমার অফিসে না দেখি। ছারো আমাকে আমি চলে যাবো

আরহা আদিয়াতের কোল থেকে নামার জন্য ছটফট করতে থাকে।আদিয়াত শক্ত করে আরহার কোমর জরিয়ে ধরে আরহার কাধে থুতনি রেখে সফট ভয়েসে বলে।
_আমার আরুপাখি তার যখন ইচ্ছা হবে আমার অফিসে আসতে পারে কোনো সমস্যা নেই।বাট সামিহাকে নিয়ে কি প্রবলেম?
_আমি তোমাকে ভালোবাসি আদিয়াত। আমি সামিহার চোখে তোমার জন্য অন্যকিছু দেখেছি। তাই আমি চাই তুমি ছেলে পিএ রাখো
_আচ্ছা তোমার কথাই হবে।এখন বলো অফিসে যে হঠাৎ।
_তোমাকে অনেক মিস করছিলাম আদিয়াত।তোমার অফিসের কাজ শেষ হলে চলো লং ড্রাইভে যাই।

আদিয়াত আরহার কাধ থেকে থুতনি উঠিয়ে আরহার মুখ টা দুই হাতে নিয়ে কপালে চুমু খেয়ে বলে
_ওকে, আমরা একটু পরেই বাহিরে ঘুরতে বের হবো ওকে।

_হ্যা বলেই
আরহা আদিয়াতের গলা জরিয়ে ধরে।

সারাদিন আরহা আর আদিয়াত ঘুরাঘুরি করে সন্ধ্যায় বাসায় যায়।

____________

নিস্তব্ধ রাত মাঝে মাঝে শুধু কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে। ব্যস্ত নগরী এখন গভীর ঘুমে মগ্ম।
এই নিস্তব্ধ রাতে ইজি চেয়ারে বসে দোল খাচ্ছে আদিয়াত। ঘুম নেই তার চোখে সন্ধ্যা থেকে আরহা ফোন ধরছে না। এখন বাজে রাত তিনটা এখোনো ফোন বন্ধ।

কিছুক্ষন পর আদিয়াতের ফোনে তার এক গার্ড ফোন দেয়।যাকে সে আরহাকে ফলো করার জন্য বলতো যেনো ওর কোনো ক্ষতি না হয়।

_স্যার আপনাকে একটা ভিডিও পাঠয়েছি দেখেন
_কিসের ভিডিও
_আপনি দেখলেই বুঝবেন
আদিয়াত কিছু না বলে ফোন কেটে ভিডিও টা অন করতেই দেখে-

একটা ছেলে বিমানবন্দর থেকে বের হয়। আরহা ছেলেটাকে দেখে দৌরে গিয়ে জরিয়ে ধরে। ছেলেটাও আরহাকে জরিয়ে ধরে বলে
_I miss you babygirl
_same
বলেই আরহা ছেলেটাকে ছেরে দিয়ে বলে।
_আসলেই কি মিস করেছো,তুমি তো আমাকে ভালোই বাসো না বাসলে আরো আগেই দেশে চলে আসতে।

ছেলেটি আরহার অভিযোগ শুনে মৃদু হেসে বলে
_ভালোবাসি বলেই তো চলে আসলাম একেবারে তোমাকে ছারা ভালো লাগছিলো না। তাও বলছো তোমাকে ভালোবাসি না, i love you babygirl
ছেলেটা বাচ্চাদের মতো মুখ কথাটা বলতেই।আরহা খিলখিল করে হেসে উঠে বলে
_I love you too.এখন বাসায় চলো তোমাকে টায়ার্ট দেখাচ্ছে
.
.

আদিয়াত ভিডিও টা আর না দেখেই মোবাইল টা ছুরে মারে।তারপর রেগে দেয়ালে কয়টা ঘুসি মারে।রাগে আদিয়াতের মুখ লাল হয়ে গিয়েছে কপালের রগ গুলো ফুটে উঠেছে। আদিয়াত রেগে চিৎকার বলে-

_সব মেয়েরাই এক হয়।তুই এটা ঠিক করলি না আরুপাখি একদমই না। আদিয়াত আবরার চৌধুরীর সাথে তুই গেম খেলেছিস। তোকে আমি আরো কদিন স্বাধীনভাবে চলার সুযোগ দিয়েছি।কিন্তু তুই তার যোগ্যই না এখনন তৈরি হ আদিয়াত আবরার চৌধুরীর রাজ্যে বন্ধি হতে। বি রেডি আরুপাখি।
কথাটা বলেই আদিয়াত বাঁকা হাসি দেয়…
চলবে…

(ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন। আপনাদের কি মনে হয় আরহা কি সত্যি আদিয়াত কে ঠকিয়েছে কমেন্টে জানাবেন🙂)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here