#পাথর_হৃদয়ে_ফুল
Writer_ Nodi Karim
পর্ব – ১০
[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ]
আদিয়াত রাত ১২ টার সময় আরহাকে টেক্সট দেয়-
_কালকে বিকাল চারটার সময় সেই পার্কটায় আসবে,আর আসলে অবশ্যই শারি পরে আসবে।
সাথে সাথে আরহার থেকে রিপ্লাই আসে
_ওকে আমি আসবো,আপনি বলেছেন আর আমি আসবো না
আদিয়াত ম্যাসেজ টা দেখে মুচকি হাসে।
নিজের হাসি দেখে আদিয়াত নিজেই অবাক হয়,ভালোবেসে সে হাসতেও শিখে গেলো তাহলে।
আদিয়াত কিছু একটা মনে পড়তেই শিহাবকে ফোন দেয়
_শিহাব কালকে থেকে আমার রুমে আমার কোনো মেয়ে পাঠাবি না। আমার হোটেলে যেনো আর এসব মেয়েরা না আসে।
শিহাব অবাক হয় আদিয়াতের কথা শুনে উত্তেজিত হয়ে বলে-
_ভাই আপনার শরীল ঠিক আছে?আপনি তো আজ ড্রিংক ও করেন নি তাহলে কি বলো আপনার।
_স্টব ইডিয়ট আমার কি হবে যেটা বলছি সেটা কর। আর তোমাকে আরহার ব্যাপারে খোজ নিতে বলেছিলাম,কিছু জানতে পেরেছো।
_স্যার আপনি বলার পরি আমি খোজ শুরু করেছি।
আরহা ম্যাম কে ছোট থেকেই কেউ মারতে চায়। কারন আহনাফ খান তার সকল সম্পত্তি আরহা ম্যামের নামে লিখে দিয়েছে। আহনাফ খান আরহা ম্যামের সেফটির জন্য দশ বছর বয়সে তাকে লন্ডন পাঠিয়ে দেয়।সাবাইকে বলে পড়াশোনার জন্য দেশের বাহিরে পাঠিয়েছে কিন্তু কোন রাস্ট্রে আছে তা বলে নি। আর স্যার একটা কথা শুনলে অভাক হবেন।
_কি কথা হেয়ালি না করে সোজা সোজি বলো।
_স্যার আরহা ম্যামের নিজেরই একটা গ্যাং আছে।তার আন্ডারে একাধিক লোক কাজ করে। লন্ডন থাকতেও ম্যাম তার বাবা মায়ের সেভটি দিয়েছে তার বাবা মা এটা যানে না। ম্যামের পার্সোনাল পিএ আছে নাম রোহিত। ম্যাম ক্যারাটে,বক্সিং ও যানে,খুন ও করেছে শুনেছি। শিহাব ডুক গিলে কথাটা বলে।
শিহাবের কথা শেষ হলে আদিয়াত ফোন কেটে দেয়-
_এই না হলে আদিয়াত আবরার চৌধুরীর ভালোবাসা। পার্ফেক্ট জুটি,ভিতু লোক আমার একদম পছন্দ নাহ। বাট আরুপাখি তোমার সব শক্তি আমার কাছে ফিকে। আমার স্পর্শে আসলে তুমি দূর্বল হয়ে যাবে।
আদিয়াত বাঁকা হেসে কথাটা বলে ওঠে।
আদিয়াত আর কিছু না ভেবে হোটেলেই থেকে যায়।আজ আর সে বাসায় যাবে নাহ।
___________
আরহা রাত জেগে পড়ছিলো,আহনাফ খান আরহাকে ইউনিভার্সিটিতে ইম্পরট্যান্ট ক্লাস থাকলেই যেতে বলেছে।সে আরহা কে নিয়ে কোনো রিস্ক নিতে চায় না, যদি ভার্সিটিতে আরহার উপর অ্যাটাক হয়। আরহার ফ্রেন্ড’সরা তাকে নোটস পাঠিয়ে দেয়। আরহা বাসায় বসে তা কমপ্লিট করে।
তখনি আরহার ফোনের ম্যাসেজ টোন বেজে ওঠে। চেক করতেই দেখে soulmate দিয়ে সেভ করা নাম্বার থেকে ম্যাসেজ এসেছে।আরহা আদিয়াতের নাম্বার soulmate দিয়ে সেভ করেছে।
আরহা মেসেজটা চেক করতেই তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে।আদিয়াত ফাস্ট টাইম তাকে নিজে থেকে ম্যাসেজ দিলো।
_কালকে উনি আমাকে কি বলবে,আচ্ছা সে কি উওরটা কালকেই দিয়ে দিবে। হ্যা বলবে নাকি না, যদি না বলে তখন আমি কি করবো।
আরহার রাতটা টেনসনে টেনসনেই কাটে।
সকালে সূর্যের আলো জানালার পর্দা গলিয়ে আরহার চোখে পড়ায় আরহার ঘুম ভাঙে। ভোর রাতের দিকে সে ঘুমিয়ে ছিলো।আরহা ঘুম ঘুম চোখ বুলিয়ে দেখে সে টেবিলেই ঘুমিয়ে পরেছিলো। ওয়াল ঘরির দিকে তাকিয়ে দেখে সকাল ১০ টা বাজে।
_আল্লাহ দশটা বেজে গেলো আজ তো জিমে যাওয়া আর হলো না।
আরহা হামি তুলতে তুলতে ওয়াসরুমে যায় ফ্রেস হতে।
_________
ব্রেন্জের উপর পা দুলিয়ে বসে আছে আরহা।বার বার হাত দ্বারা চুল সরানোর কারনে হাতের নীল কাচেঁর চুরিগুলো শব্দ তৈরি করছে। আজ সে নীল রঙা শারী পরে এসেছে।
আদিয়াত একটা গাছের সাথে হেলান দিয়ে বুকে হাত গুঁজে আরহাকে দেখছে।
তারা এখানে এসেছে দশ মিনিট হবে, এসেছে পর থেকে আদিয়াত তার দিকে একভাবে তাকিয়েই আছে।আরহা বুঝতে পারছে না হঠাৎ করে আদিয়াত তার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছে কেনো।
আরহা মৃদু কাশি দেয় তাতে ও আদিয়াতের কোনো ভাবাবেগ নেই একভাবেই তাকিয়ে আছে।
_আদিয়াত
_হুম
_চুপ যে
_তোমাকে দেখছি
আদিয়াতের কথায় আরহার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
_কি বললেন।
_তুমি ঠিকই শুনেছো
_আমার উওর টা কি আজকে দিবেন?
_বিয়ে করবে আমায়?
আদিয়াতের ডাইরেক্ট বিয়ের প্রপোজাল দেয়ায় আরহা কি বলবে কিছু বুঝতে পারছে না
আরহা মনে মনে বলে-
_আচ্ছা আজকে কি আমার অভাক হওয়ার দিন বুঝছি না।
_ভালো যখন বেসেছি বিয়ে তো করবোই তাই না।
_হ্যা চলো তোমাকে এক জায়গায় নিয়ে যাবো।
_কোথায়?
_গেলেই দেখতে পাবে।
আদিয়াত কথাটা বলেই আরহার হাত দরে বসা থেকে উঠিয়ে গাড়ির কাছে নিয়ে যেতে থাকে।
আদিয়াত হঠাৎ আরহার হাত দরায় আরহা ফাস্টে ঘাবরে গেলেও পরে মনে ভালো লাগা কাজ করে। সে পেরেছে আদিয়াতের জীবনে তার জন্য যায়গা করে নিতে।
আদিয়াত আরহাকে ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে বসায়।আজকে আদিয়াত কোনো গার্ড আনে নি আর না ড্রাইভার। আদিয়াত নিজেই ড্রাইব করছে।
ঘন্টা খানেক পরেই আদিয়াত গাড়ি থামাতেই আরহা গাড়ির জানলার কাচ গলিয়ে বাহিরে তাকিয়ে দেখে একটা বিশাল বড় গেটের সামনে গাড়ি থমানো গেটের কাছে দাড়িয়ে আছে দুজন দারোয়ান । আদিয়াতের গাড়ি থামতেই একজন গার্ড দৌরে এসে আদিয়াতের গাড়ির দরজা খুলে দেয়। তারপর আরহার পাশের টা খুলতে যাবে তখনি আদিয়াত বাধা দেয়
_তু্মি যাও এই যে গাড়ির চাবি গ্যারেজে রাখো।
আদিয়াতের কথায় গার্ডটি চলে যায়।আদিয়াত ওপর পাশে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দিতেই আরহা বেড়িয়ে আসে। আদিয়াত আবার আরহার হাত ধরেই গেটের গেটের ভিতরে ডুকতেই আরহা স্তব্ধ হয়ে যায়। বিশাল জায়গা জুরে প্রাসাদের মতো আলিশান তিনতলা বাড়ী। বাড়ির সামনেই বিশাল বড় বাগান যাতে ফুটে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুল। বাড়ীর চারদিকে বিশাল বড় দেওয়াল বাহিরে থেকে বাড়ির ভিতরের কিছু দেখা যায় না। বাড়ির চারদিকে ছরিয়ে ছিটিয়ে আছে কয়েক শত গার্ড।সবার হাতেই রয়েছে বিশাল বন্দুক। আরহাদের বাড়িও অনেক বড় সুন্দর কিন্তু আদিয়াতের টা তার থেকে ও সুন্দর।
আদিয়াত আর আরহা বাড়ির ভিতর ডুকতেই।একজন বৃদ্ধা মহিলা এসে আরহাকে জরিয়ে ধরে…
চলবে….
( ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।গাইস জানি পর্বটা ছোট হয়েছে তার জন্য সরি।আর সামনে পর্বেই একটা টুয়িস্ট আছে। আজকের পর্বটা কেমন হয়েছে অবশ্যই কমেন্টে যানাবেন)

