#প্রেমহিল্লোল||০৯||
#তাসনীম_তামান্না
বিকালের আকাশ মেঘলা ঝড়ো হাওয়া বয়ছে পরিবেশ ঠান্ডা। মেঘার বিয়ের ঝামেলা শেষ হয়েছে আজ তিনদিন হলো সকল আত্মীয় স্বজনরা চলে গেছে। বাড়ির লোকজন সকলে ছাদে এসেছে সময় কাটাতে এমন সময় ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি নামলো বড়রা সকলো বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ছাউনির নিচে গেলো। কিন্তু মেঘ, কুশান, কুশ, শান, কুয়াশা গেলো না টুপটাপ বৃষ্টির ফোঁটায় ভিজে চুপেচুপে হয়ে গেলো। কুশ, শান নিজেদের মতো মজা করছে পাখি কয়েকবার ছেলেদের ডাকলেও ওরা মায়ের কথায় কান দিলো না। কুয়াশা অন্যমনস্ক হয়ে এদিক ওদিক হাঁটা হাঁটি করছে সেদিন রাতের পর তুষারের টিকিটির দেখা মেলে নি। তুষারের বলা কথাগুলো কুয়াশাকে রাতে ঘুমাতে দেয় না। খুব অপরাধবোধে ভোগে। কাউকে কিছু জিজ্ঞেসাও করতে পারে না।
ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে এসব ভাবছিলো। কুশান এসে ওর পাশে দাঁড়িয়ে বলল “কী হয়েছে তোর? আজকাল কেমন অন্যমনস্ক হয়ে গেছিস”
কুয়াশা চমকে উঠে বলল “কই না তো”
–এই যে এখনো অন্যমনস্ক। বল ভাইয়াকে কী হয়েছে।
কুয়াশা হেসে ভাইয়ের হাত জড়িয়ে কাঁধে মাথা রেখে বলল “কিছু হয় নি। মেঘার জন্য মন খারাপ হয় তাছাড়া আর কিছু না।”
কুশান ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল “মন খারাপ করলে ওর সাথে দেখা করে আয়। এভাবে থাকিস না। বাবা-মা তোর জন্য টেনশন করে।”
বৃষ্টি থেমে গেছে প্রকৃতি ধুয়ে মুছে স্নিগ্ধ সুষমায় রূপ ধারণ করেছে। মেঘেরা আকাশে বিচরণ করতে করতে কোথায় যেনো চলে যাচ্ছে। হয়তো অন্য প্রকৃতির স্নিগ্ধ রূপ দিতে যাচ্ছে। ওরা সকলে নিচে যার যার রুমে চলে গেলো। কুয়াশা ফ্রেশ হয়ে ফোন হাতে নিয়ে দেখলো আননোন নম্বর থেকে অনেকগুলো কল এসেছে। দরকার ভেবে নিজে দুবার ফোন ব্যাক করেছে। কিন্তু ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ হলো না। কফি কিংবা চায়ের উদ্দেশ্য নিচে রওনা হলো পথিমধ্যে বাবা-মা’য়ের রুম ক্রস করার সময় তাদের কথায় নিজের নাম শুনে থেমে গেলো।
–তোমার ছাড়া কী পৃথিবীতে আর কারোর মেয়ে নেই? তারা তাদের মেয়েকে ভালোবাসে না শুধু তুমিই বাসো? তারা তাদের মেয়েকে বিয়ে দেয় না। সংসার করছে না।
–কখন বললাম বিয়ে দিব না?সময় হোক ভালো পাত্র পাই তারপর বিয়ের চিন্তাভাবনা করা যাবে।
–পাত্র খুজতে না নামলে ভালো পাত্র পাবে কোথায়? সবাই বলাবলি করছিল মেঘার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। কুয়াশাকে কেনো বিয়ে দিচ্ছি না কোনো সমস্যা কিনা!
–অন্যর কথা শুনে জেদ ধরবে না কেয়া। মেয়ে আমার কোথাও পালিয়ে যাচ্ছে না সময় হোক বিয়ে দিবো। আমার মেয়েকে বিয়ে দিবো কী দিবো না সেটা আমার ব্যপার।
–আমি কারোর কথায় কান দিচ্ছি না আমাদের বয়স হয়েছে কখন কী হয়ে যায়। তখন আমার মেয়েটার কী হবে? জানি কুশান বোনকে ফেলে দিতে পারবে না। কিন্তু মানুষের মন ঘুরতে সময় লাগে না।
–হ্যাঁ সেটা আমিও বুঝতে পারছি রায়হান বন্ধুর ছেলের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। রাহুল ছেলেটার সম্পর্কে খোঁজ নি। তারপর ধীরে সুস্থে আগানো যাবে।
–ছেলেটাকে দেখে তো ভালো মনে হয়।
–উপরে উপরে সবাই ভালো ভিতরের খবর জানতে হবে। আমার মেয়ে কোনো ফেলনা নয় তাকে ভালো সুপাত্রের হস্তে তুলে না দেওয়া পর্যন্ত মরেও শান্তি পাবো না।
–তুষার কিন্তু ভালো ছিল।
–হ্যাঁ শুধু দোষ একটাই ও আমার মেয়েকে অনেকটা দূরে নিয়ে যাবে। যেখানে যখন-তখন চাইলে আমি যেতে পারব না।
কুয়াশা আর কিছু শুনলো না নিঃশব্দে জায়গা থেকে প্রস্থান করলো। মা-বাবার তাকে নিয়ে এমন দুশ্চিন্তা ওর মন খারাপ করে দিলো। কফি বানাতে গিয়ে হাতে কয়েকবার ছ্যাঁকা খেলো। কফি নিয়ে বারান্দায় বসে কাটিয়ে দিলো অনেকটা সময় কী ভাবছে, কী করছে মস্তিষ্কে উল্টোপাল্টা হয়ে আছে। ডিনারের জন্য কুশ, শান ডাকতে এলে তখন হুঁশ ফিরলো। দেখলো কফিটাও পুরো খাওয়া হয় নি। ডিনারটাও ঠিক মতো খেতে পারলো না।
বাবা-মা’র কথা চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলো। ফোনের আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেলো ঘুমুঘুমু কণ্ঠে ‘হ্যালো’ বলল ওপাশ থেকে উত্তর এলো না। শুধু দীর্ঘ শ্বাস শোনা গেলো। কুয়াশা নম্বরটা দেখলো এটা থেকেই ফোন এসেছিলো। ও কিছু না ভেবে সেভ করে হোয়াটসঅ্যাপ চেক করলো। তুষারের ছবি ভেসে উঠলো। ও ঘুম পুরোপুরি কেটে গেছে। ওপাশ থেকে বা কুয়াশা কেউই ফোন কাটে নি। ছবি দেখে ও হুরমুর করে উঠে বসলো। শুকনো ঢোক গিলে বলল ‘তু-ষা-র’!
তুষার একটু অবাক হলো কুয়াশা কীভাবে চিনলো? বলল “কীভাবে বুঝলে?”
–আপনার হোয়াটসঅ্যাপে ছবি দেখে।
তুষার শ্বাস ছেড়ে বলল “ওহ!”
কুয়াশা আমতা আমতা করে বলল
–আ’ম সরি আমার আপনার সম্পর্কে ওভাবে ওমন কথা বলা উচিৎ হয় নি। আমার শুধু আপনার প্রতি ক্ষোভ থেকে ওমনটা মনে হয়েছে তাই কিছু না ভেবে আমি বলে দিয়েছি।
– স্বীকার করে নিচ্ছো আমি ভালো?
–আমি জানি না আপনি কেমন? কিন্তু আমার মনে হয়েছে আপনার সম্পর্কে ওভাবে বলা ঠিক হয় নি। অন্যায় করে ফেলেছি।
–গুড। আমি ফোন দিলাম রাগ করলে না যে প্রেমে পড়ে গেলে না-কি?
–প্রেমে পড়া কী এতো সহজ?
–হুম, প্রেমে পড়া সহজ। কিন্তু মায়ায় জড়িয়ে আটকে পড়ে ফেরার পথ না পাওয়াকে ভালোবাসা বলে।
–প্রেম বা ভালোবাসা কোনোটাতেই পড়ি নি তাই অনুভূতি সম্পর্কে অবগত নই।
–একটা জিনিস খেয়াল করেছো। এই প্রথম তুমি আমার সাথে সুস্থ এবং সুন্দর ভয়-ভীতি ছাড়া কথা বলছ।
কুয়াশাও অবাক হয়ে গেলো ওর কথা সত্য কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভাবলো। বলল
–প্রথম ফোনে কথা বলছি সে জন্য হয়তো
–ওকে সামনা-সামনি ও ফোনে কথা বলব তাহলে এমন সুন্দর কথা বের হবে তোমার মুখ থেকে নাহলে তো কাটা বের হয়।
কুয়াশা রাগ করলো না ভাবলো লোকটা মনে হয় সবসময় এমনই করে সবাইকে রাগিয়ে দেয়। তাই সম্মতি জানিয়ে বলল
–জি জি ঠিক আছে। বলছি আমার সাথে বিয়ে হচ্ছে না বলে কত রাগারাগি করলেন আমি চাইছি আপনার একটা গতি করে দিতে।
তুষারের ভ্রু কুঁচকে গেলো বলল
–গতি? কীসের গতি করতে চাইছো?
–আমার অনেক চেনাজানা ভালো সুন্দরী মেয়ে আছে। আপনি চাইলে আমি আপনাকে তাদের ছবি পাঠাতে পারি আপনি পছন্দ করে জানাবেন তার সাথে আপনাকে সেট করে দিবো।
তুষারের ফুরফুরে মেজাজটা মুহূর্তে গরম হয়ে গেলো দাঁতে দাঁত চেপে বলল
–ঘটকালি করতে নেমেছ?
–শুধু আপনার জন্য। আর কারোর জন্য না।
–মেজাজ গরম করবে না। তোমাকে বলেছি আমার গতি করে দিতে? এতো উপকার তোমার কে করতে বলেছে?
–আপনার জন্য মেয়ে খুঁজে আপনার উপকার করতে চাইছি
তুষার ঠাস করে ফোন কেটে দিলো। কুয়াশা বোকা বোকা হয়ে তাকিয়ে বলল
–যাহ বাবা আজকাল যেচে উপকার করতে গেলেও মানুষ রেগে যায়।
তুষারের আরেক ধাপ বাড়িয়ে দিয়ে কুয়াশা কয়েকটা মেয়ের ছবি সেন্ট করে ম্যাসেজে লিখলো “আরে লজ্জা পাবেন না। কোন মেয়ে পছন্দ নির্দিধায় আমাকে জানাবেন। নো লজ্জা ওকে?”
চলবে ইনশাআল্লাহ
গল্পটি সম্পর্কে রিভিউ, আলোচনা, সমালোচনা করুন আমাদের গ্রুপে। গ্রুপ লিংক নিচে দেওয়া হলোঃ
https://facebook.com/groups/holde.khamer.valobasa/

