#প্রেমহিল্লোল||১০||
#তাসনীম_তামান্না
কুয়াশাকে নিয়ে ওর বাবা-মা’র চিন্তার শেষ নেই। ও সেটা হারে হারে টের পাচ্ছে। মায়ের সারাক্ষণ এমন দুঃশ্চিন্তা ওকে অপরাধী করে তুলে। কুয়াশার এখন আর কিছু ভালো লাগে না। আগের চঞ্চলতা কমিয়ে দিয়েছে। বিসিএস প্রিপারেশনে মনযোগ দিয়েছে নিজেকে সব কিছু থেকে লুকিয়ে রাখার প্রায়শ চালাচ্ছে। পড়ার মধ্যে ফোন হাতে নিয়ে তুষারের ম্যাসেজ এসেছে কীনা চেক করলো। লোকটা ফোন দিয়ে সেদিন কথা বলল তারপর আর পাত্তা নেই একেবারে লাপাত্তা হয়ে গেছে। ম্যাসেজ দিলে সিন হয় কিন্তু রিপ্লাই আসে না হয়তো রিপ্লাই দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করে না। তবে কুয়াশার মনটা ছটফট করে অজানা কারণে বার বার তুষারের এক্টিভিটি চেক করে। ও নিজেও জানে না কেনো এমনটা করে। কিন্তু ভালো লাগে আবার রাগও লাগে।
কুয়াশা দুপুরে শুয়ে ফোন চাপছিলো এমন সময় পাখি আর তুতুল এলো।
–বাবা, তোমরা দু’জন দল বেঁধে কী ব্যাপার?
পাখি হেঁসে বললো “ব্যাপার খুবই সিরিয়াস। আবার খুশির।”
কুয়াশা কৌতুহলে উঠে বসে বলল “ ওহ তাই না-কি? তা কী ব্যাপারখানা শুনি।”
তুতুল বলল “তোমাকে দেখতে আসছে। বড়বাবার বন্ধুর ছেলে ওদের নিজেদের ব্যবসা আছে। ছেলের সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েছে ছেলে ভালো। আজ তারা সন্ধ্যায় তোমাকে দেখতে আসবে।”
এমন কথা শুনে কুয়াশা কিছু সময় থ হয়ে বসে রইলো। তুতুল, পাখি আরো কী কী বলল তা ওর কান অবধি পৌঁছালেও মস্তিষ্কে ধারণ করতে পারলো না। তুতুল ওকে মৃদু ধাক্কা দিতে ওর হুঁশ ফিরলো।
–কী হলো কোথায় হারালে? এখনই কী হবু বরকে নিয়ে স্বপ্নের রাজ্যে বেড়াতে গেলে?
পাখি হেসে বলল “উঠে যা ফ্রেশ হয়ে আয়। তোকে রেডি করে। ওদিকে মা, ছোটমা কাজ করছে ওদেরকেও হেল্প করতে হবে। পরেও স্বপ্নের রাজ্যে ঘুরতে পারবি।”
কুয়াশা আকাশ কুসুম ভাবতে ভাবতে অনুভূতিশূন্য হয়ে ফ্রেশ হয়ে আসলো। ওকে সাজাতে সাজাতে তুতুল পাখি নানান কথা বলল। তার কিছুই কুয়াশা শুনলো বলে মনে হলো না। হঠাৎ ওরা ওর অন্যমনস্ক দেখে পাখি বলল “তুই কী বিয়েতে রাজি নস? কী হয়েছে তোর? তুই কী কাউকে ভালোবাসিস?”
কুয়াশা চমকে উঠে বলল “কই না তো! হঠাৎ এমন প্রশ্ন করলে কেনো?”
–বিয়ের কথা শুনলে তোর মুখটা শুকিয়ে যায় তাই। তুই কাউকে ভালোবেসে থাকলে বলতে পারিস ছেলে ভালো হলে বাসার কেউ অমত করবে না।
–তেমন কিছু না ভাবিপু। তোমাদেরকে ছেড়ে চলে যেতে হবে ভাবলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। আমার এমন কেউ থাকলে অবশ্যই জানাতাম।
–দেখো কুয়াশা আমি, পাখি ভাবিপু, মা, বড়মা সবাই পরিবার আপনজন ছেড়ে শশুড়বাড়িতে অচেনা অজানা মানুষজনকে আপন করে নিয়েছি। এটাই সামাজিক, ধর্মীয় নিয়ম। আমরা না চাইলেও এটা করতে হবে। সুতরাং, মন খারাপ না করে সবটা মেনে নেওয়ার চেষ্টা করো।
কুয়াশা কিছু বলল না চুপচাপ বসে রইলো। পাখি, তুতুল ওকে রেডি করে নিচে চলে গেলো শাশুড়িদের কাজ করে দিতে। কুয়াশা সোনালী রংয়ের শাড়ি পড়েছে। সাথে হালকা সাজ নিজের দিকে অপলক কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো বোঝার চেষ্টা করলো তার মধ্যে কী এমন আছে যার জন্য অপরিচিত একটা ছেলে তাকে বিয়ে করে নিবে। সে কী আদেও সে কী কারোর ভালোবাসার যোগ্য? সে কী ভালো স্ত্রী হতে পারবে?
———–
তুষার ড্রইংরুমের সোফায় বসে ফোন টিপছিলো সামনে টিভিতে খেলা হচ্ছে সেটাও দেখছে। তিশা ছেলের জন্য কফি ও তার আর স্বামীর জন্য চা বানিয়ে এনে বলল “এভাবে আর কতদিন চলবে? আমি আর কতদিন এভাবে চা কফি বানাবো?”
তুষার মায়ের দিকে না তাকিয়ে বলল “তোমাকে কাজ করতে বলেছে কে? কাজের লোককে বললে করে দিতো!”
–আমি কী বোঝাচ্ছি বুঝেও না বোঝাও ভান করছিস? কাজের লোক দিয়ে সব হলে তোকে বিয়ের কথা বলতাম না। একা একা আমার ভালো লাগে না বাপ ছেলে সারাক্ষণ কাজে থাকিস আমার একটা সঙ্গী হলে একা লাগত না।
তুষার এবার উঠে বসে বলল “তোমাকে একটা বুদ্ধি দি। তোমার একা একা বোরিং লাগে। তুমি বাবাকে বিয়ে দিয়ে সতীন আনতে পারো। তারপর সারাদিন দুই সতীন মিলে সংসার, গল্প, ঝগড়াঝাটি, চুলোচুলি করবা। তোমার বোরিংনেস কেটে যাবে। বাবা তুমি রাজি থাকলে কাজী ডাকি?”
তিয়াস আহমেদ খেলায় মনোযোগ মা-ছেলের কোনো কথায় তার কানে ডুকে নি। কোনো উওর ও করলেন না। তুষার বলল “নিরবতা সম্মতির লক্ষ্মণ তাই তো চুপ করে আছে।”
তুষার বাবাকে ফাঁসিয়ে কফির কাপটা নিয়ে উঠে গেলো তিশা আহমেদ ফোঁস ফোঁস করে স্বামী উপরে চড়াও হলো। তুষার ওর রুম থেকে বাবা-মা’র ঝগড়াঝাটি শুনতে পাচ্ছে। মিটমিট করে হেসে হোয়াটসঅ্যাপে কাঙ্ক্ষিত মানুষের ম্যাসেজ করতে ডুকলো। রাগ, অভিমান থাকলেও সেটা মনের ছটফটানির কাছে ভাঁটা পড়লো।
কুয়াশার ভাবনার মাঝে ফোনে টুং-টাং আওয়াজ হলো হাতে নিয়ে দেখলো তুষারের ম্যাসেজ ওপেন করে দেখলো “ওসব মেয়ের ছবি আমি ওপেন করেও দেখি নি। তুমি রাজি থাকলে বলো আমার আর কাউকে লাগবে না।”
কুয়াশা থম মেরে বসে রইলো। তুষার কুয়াশাকে আবার প্রস্তাব দিলো। ম্যাসেজের রিপ্লাই করতে পারলো না তার আগে তুতুল এসে তাড়াহুড়া লাগিয়ে দিলো। ছেলেপক্ষরা চলে এসেছে। কুয়াশার ভয়ে দুরুদুরু বুক কাঁপছে তুষার মুখশ্রী ভেসে উঠছে। চোখ জ্বালা করে পানি আসতে চাইছে। ওদের সামনে গিয়ে সালাম জানালো। ওরা এটা-সেটা জিজ্ঞেসা করছে কুয়াশা ভয় জড়তা নিয়ে সবটার উত্তর দিলো। ওদের কথা শুনে বুঝলো পাত্র উপস্থিত নেই সে কিছু কাজের জন্য হঠাৎ করে আঁটকে গেছে কিছুতেই আসতে পারছে না। কুশান বলল “বিয়েটা যাদের সংসার করবে যারা তারাই যদি নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া না করে ন্যায় তাহলে কীভাবে হবে?”
পাত্রপক্ষ থেকে একজন বলল “ওরা না হয় কাল কোথাও দেখা করে নিবে সেটাই ভালো হবে। কুয়াশা তোমার নম্বর দিও। কি বলেন ভাই?”
কৌশল অমতের কিছু দেখলো না সম্মতি জানালো। কুয়াশা পুরোটা সময় কাঠের পুতুলের মতো বসে রইলো। পাত্রপক্ষ চলে যেতে কেয়া মেয়ের পাশে বসে বলল “কী রে মা, এভাবে বসে আছিস কেনো? ওদেরকে পছন্দ হয়েছে? তোর বাবা-ভাই তোর জন্য সবসময় বেস্টটাই নিবে। তাই তুই কোনো টেনশন করিস না।”
কুয়াশা হাসার চেষ্টা করে বলল “আমি জানি তারা আমার খারাপ হতে দিবে না।”
পাখি বলল “হ্যাঁ, কাল তোমরা দেখা করে নিজেদের মধ্যে কথা বলে নিও। পরিবার ভালো মনে হয়েছে মানে ছেলেও ভালোই হবে।”
কেয়া দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলল “তাই জেনো হয়।”
রাতে কুয়াশা অল্প খেলো। চোখ বন্ধ করতে চোখ দিয়ে অনর্গল অশ্রু ঝরতে কেনো? এর উত্তর ওর কাছে নেই। তুষার তার পেরেও ম্যাসেজ করেছে “তুমি কী রাগ করলে?, আমি তো মজা করলাম। ডোন্ট বি সিরিয়াস!” কুয়াশা সেগুলো দেখেও রিপ্লাই করে নি। শুধু দীর্ঘ শ্বাস ফেলেছে।
চলবে ইনশাআল্লাহ
গল্পটি সম্পর্কে রিভিউ, আলোচনা, সমালোচনা করুন আমাদের গ্রুপে। গ্রুপ লিংক নিচে দেওয়া হলোঃ
https://facebook.com/groups/holde.khamer.valobasa/

