প্রেমহিল্লোল||১৮+১৯|| #তাসনীম_তামান্না

0
365

#প্রেমহিল্লোল||১৮+১৯||
#তাসনীম_তামান্না

[১৮]

হঠাৎ করে আকাশের কালো মেঘের আনাগোনা। ঝড়ো বাতাস বইছে। আজ অনেকদিন পর তিশা বেগম মেয়ের শশুড়বাড়িতে এসেছে। হুট করে কোনো প্লান ছাড়া চলে এসেছে মেয়ের জন্য মনটা ছটফট করছিলো মেয়েও অনেকদিন হলো ও বাড়িতে যায় না। একঘন্টা আগেও জানতো না আজ এখানে আসবে। সন্ধ্যার একটু আগে এসে পৌঁছে দেখলো সদর দরজা হাঁট করে খুলে রাখা। বাড়িতে ঢুকে কাউকে দেখতে পেলো না। তুষার গাড়ি পার্কিং করে এসে মাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চিন্তিত হয়ে বলল “কী হয়েছে, মা? এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেনো?”

–বাসায় কী কেউ নেই নাকি? এসে দেখি দরজা হাঁট করে খুলে রাখা। কাউকে দেখছি না।

তিশা বেগম কথা শেষ করতে পারলো না উপর থেকে চিৎকার চেচামেচি আর ভাংচুরের আওয়াজ আসলো। কণ্ঠটা যে কুয়াশার তা স্পষ্ট বুঝতে পারলো ওরা।

তুষারের বুকটা ধক করে উঠলো। এখানে আসার ইচ্ছে ছিলো না। নিজেকে একটু একটু করে সামলিয়ে উঠছিলো। কিন্তু মায়ের চাপাচাপিতে লাগাম টানা মনটা আবারও অবাধ্য লাগামহীন হয়ে গেলো। একনজর কুয়াশাকে দেখার জন্য মনটা ছটফটিয়ে উঠলো। সেই কবে দেখেছে! মাকে আর না করতে পারলো না চলে এলো মায়ের সাথে। কিন্তু হঠাৎ কী হলো এভাবে চিৎকার চেচামেচি ভাংচুর করছে কেনো? সেসব কথায় মূল ঘটনা কী সেটা বুঝতে পারছে না।

তিশা শান্ত ছেলেকে দেখে ওর মনের ছটফটানি বুঝতে পারলো। বলল “উপরে চল দেখি কী হচ্ছে।”

তুষার ধিমি কণ্ঠে বলল “মা এটা ওদের পারিবারিক ইস্যু হতে পারে। সেখানে আমরা বাইরের লোকজন হয়ে এসবের মধ্যে ঢোকা উচিৎ নয়।”

তিশা বেগমের কাছে ছেলের কথা যৌক্তিক মনে হলো। ওরা গেলেও ওরা অপ্রস্তুত হতে পারে। মেয়েও তো তার শশুড়বাড়ি সম্পর্কে আজকাল তেমন কিছু বলে না। বলার মতো হলে সে হয়তো বলতো। একটু ভেবে বলল “তাহলে কী করবি? চলে যাবি?”

–এসেই যখন পড়েছি দেখা করে যায়। আমরা বসি ওরা আসুক তারপর না-হয় দেখা করে, কথা বলে, বাসায় চলে যাবো।

তিশা বেগম দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে সোফায় বসালো তার পাশে তুষার অশান্ত মনে শান্ত হয়ে বসলো। উপর থেকে আর আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। ওরা চুপচাপ বসে রইলো। তিশা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে রইল। তিনি ছেলের মনে কী চলছে সেটাই বোঝার চেষ্টা করছেন।

————–

ঘটনা শুরু মূলত, কুশান আর পাখি কুয়াশাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে সাইক্রিয়েটিসের কাছে কাউন্সিলয়ে নিয়ে গিয়েছিল। কুয়াশা জানত তাকে নিয়ে ওরা শপিংয়ে যাচ্ছে সেখানে গিয়ে বুঝতে পারলো তার সাথে কী হচ্ছে পাবলিক প্লেসে কোনো সিনক্রিয়েট না করে চুপ করে রইল। ডক্টরের একটা প্রশ্নের ও উত্তর দিলো না। প্রাণহীন বস্তুর মতো বসে রইলো। ওকে চুপচাপ দেখে কুশান, পাখি ঘাবড়ে গেলো। ডক্টর কুশানকে আলাদা করে ডেকে কিসব বলল। ফেরার সময় সারাটা রাস্তায় ও কোনো কথা বলে নি। অথচ যাওয়ার সময় বাবা-মাকে নিয়ে কত কথা বলছিলো।

কুয়াশা বাসায় ডুকে চিৎকার চেচামেচি করে বলল “আমি পাগল? আমাকে পাগল মনে হয়? আমাকে এ্যাসাইলামে পাঠাতে চাও? তাই এমন করছো?”

পাখি ওকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলল “এসব কী বলছিস কুশু? আমরা তো তেকে ভালোবাসি সোনা তোর ভালোর জন্য…”

কুয়াশা পাগলামো করে বলল “ থাক! থাক! অনেক ভালো করেছ। তোমরা এতোই ভালো চাইলে এ্যাসাইলামে পাঠাতে চাইতে না। বলে দিতে পারতে আমি তোমাদের বোঝা হয়ে গেছি চলে যেতাম। থাকব না তোমাদের সাথে চলে যাবো।”

নিজের মতো কথাগুলো বলে নিজের রুমে চলে গেলো ওর পিছনে সকলে ওকে বোঝাতে চলে গেলো। কুশান নিজেও কষ্ট পাচ্ছে বোনের এমন অবস্থার জন্য নিজেকেই বার বার দায়ী করছে। নিজেকে শক্ত করে নিজেও বোনের পিছনে গেলো।

কুশ, শান আজ-কাল কুয়াশার আশেপাশে আসতে ভয় পাই। আগে কুশু পিপি ভালো ছিলো খেলতো ওদের সাথে এখন আর ওদের সাথে মিশে না। ওরা রুমের এক কোণে দাঁড়িয়ে পিটপিট চোখে তাকিয়ে আছে।

কুশান বোনকে আগলে নিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো ও কিছুটা শান্ত হলো আদুরে কণ্ঠে বলল “বাবুইপাখিকে খুব ভালোবাসি। সে মাঝেমাঝে কেমন অচেনা আচরণ করছে। তাই তো আমরা ভয় পেয়ে গেছিলাম। শুধু তাকে সুস্থ দেখতে চাই আমরা সকলে।”

ওর কথা শেষ হতে পারলো না। কুয়াশা রাগে ফুঁসে উঠে বলল “তাই বলে আমাকে পাগলের ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবে? আমি কী পাগল নাকি? আমি কী খারাপ মেয়ে? বাবা-মা’কে আমি সব বলব তোমরা আমার সাথে এমন করছ করে নাও। বাবা-মাকে বলবো আমি। বলে তোমাদেরকে বকা খাওয়াব। সবসময় আমার সাথেই এমন করো তোমরা”

ও কথাগুলো বলতে বলতে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। ব্যাগ বের করে গোছাতে লাগলো। ওরা স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল। কুয়াশা যে মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে শোকে তাকে সুস্থ করতে এখন কী করা উচিৎ ওরা বুঝতে পারছে না। তুতুল ওকে ব্যাগ গোছাতে বাঁধা দিলে কুয়াশা ঝাড়া মেরে ছাড়িয়ে নিয়ে অযথা রাগ ঝাড়লো। পাখি অধৈর্য্য হয়ে বলল “ সন্ধ্যা হয়ে গেছে এখন কোথায় যাবি? কাল সকালে যাস।”

–আমাকে নিয়ে তোমাদের অতো ভাবতে হবে না। আমি ঠিক আমার ব্যবস্থা করে নিবো। ঘুমের মধ্যে আমাকে পাগলাগারদে দিয়ে আসবে না তার কী গ্যারান্টি?

মেঘ আশ্চর্য হয়ে বলল “তুই আমাদেরকে এমন ভাবিস? এমন করছিস কেনো? আমরা তো তোর পরিবার! রাতে হয়ে যাচ্ছে কোথায় যাবি?”

কুয়াশা কারোর কথা শুনলো না কারোর কথা মানলো না। আজ ওর গায়ে অসুরের শক্তি ভড় করেছে। ব্যাগ নিয়ে নিচে আসলো।

তিশা বেগম আর তুষার ওদের নিচে আসার শব্দ শুনে উঠে দাঁড়ালো। কুয়াশা কোনো দিকে না তাকিয়ে ধুপধাপ পায়ে নিচে চলে এলো ওর পিছনে বাকিরা। মা, ছেলে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। ওদেরকে দেখে কুয়াশা থেমে গেলো। ভাইয়ের বলা সেদিনের কথাটা হঠাৎ জ্বলে উঠলো ব্যাগ ফেলে ছুটে তুষারের সামনে গিয়ে বলল “তুষার! আমাকে বিয়ে করবেন? ”

তুষারসহ উপস্থিত সকলে অবাক হয়ে কথা বলতে ভুলে গেলো। কীসের মধ্যে কী বলছে মেয়েটা। বিয়ের ভুত আবার কোথা থেকে আসলো?

চলবে ইনশাআল্লাহ

#প্রেমহিল্লোল||১৯||
#তাসনীম_তামান্না

বিলুপ্ত ডাইনোসর এখন সকলের সামনে উপস্থিত হলে তারা বিস্মিত হয়ে ভয় পাবে ঠিকিই কিন্তু নড়তে পারবে না। তেমনই অবস্থা উপস্থিত সকলের কী করবে? কী বলবে? কেউ বুঝতে পারছে না। তিশা বেগম ও তুষার অবাক হয়ে কুয়াশার দিকে তাকিয়ে আছে। কুয়াশা আর আগের কুয়াশা নেই। আগের থেকে শুঁকিয়ে গেছে রূপের লাবন্য কমে গেছে। তাকে দেখে পুষ্টিহীন কিশোরী মনে হচ্ছে। কুশান হতভম্ব কাটিয়ে উঠে দ্রুত বোনকে ধরে হাসার চেষ্টা করে বলল “আরে তোমরা কখন আসলে? বসো। পাখি কুশুকে নিয়ে যাও।”

কুয়াশা বিরক্ত হয়ে দ্বিরুক্তি করে বলল
–কেনো? আমি কথা বলছি দেখছ না? এই তুষার বলুন আমাকে বিয়ে…

কুয়াশা তার কথা শেষ করতে পারলো না কুশান ধমকে উঠে বলল “কী বলেছি তোমাকে? যাও রুমে যাও। পাগলামির লিমিট ক্রস করছো।”

ভাইয়ের ধমকে কুশু কষ্ট পেয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে বলল “আবার আমাকে বকলে? আমি থাকব না এখানে! আমি চলে যাবো।”

পাখি আর তুতুল ওকে জোর করে রুমে নিয়ে গেলো। কুশান অপ্রস্তুত হয়ে বলল “আন্টি ওর কথায় কিছু মনে করবেন না প্লিজ।”

তিশা বেগম হতভম্ব কাটিয়ে উঠে বলল “কুয়াশা কী হয়েছে? এমন অস্বাভাবিক ব্যবহার করছে কেনো?”

মেঘ দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলল “বসুন আম্মু, তুতুল আসছে।”

তিশা বেগম বসলেন না ছেলের দিকে তাকিয়ে রইল। তুষার এখনো ঘোরের মধ্যে থেকে বের হয়ে ছটফট মনে বলল “আমি ওকে বিয়ে করতে রাজি!”

কুশান শন্ত কণ্ঠে বলল “কুয়াশা পাগল হয়ে গেছে তুষার। কোনো পাগল মেয়েকে কেনো তুমি বিয়ে করবে?”

তিশা অবাক হয়ে বলল “এসব কী বলছ কুশান?”

–ঠিকি বলছি আন্টি। ওর মাথার ঠিক নাই।

–কিন্তু এসব কীভাবে হলো? তুতুলও এসব কিছু বলে নি।

–বাবা-মা চলে যাওয়াটা ও এখনো মেনে নিতে পারে নি। সারাক্ষণ বাবা-মা করতে থাকে একা একা কথা বলে। আজ ডক্টরের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম ওসেটাতে ক্ষেপে গিয়ে বাসা থেকে চলে যেতে চাইছিলো কিন্তু আপনাদেরকে দেখে ওসব কেনো বলল জানি না। আপনারা প্লিজ ওর কথা ধরবেন না।

–ভাইয়া আমার কুয়াশাকে বিয়ে করতে কোনো আপত্তি নেই। আমি ওকে আজ এখনি বিয়ে করতে রাজি।

–দেখো তুষার আবেগের বশে এসব বলছ চলার পথ এতোটাও সহজ নয়। এখন করুনা করে আমার বোনকে বিয়ে করতে চাইছ। পরে বিরক্ত হয়ে ডিভোর্স…

কুশানের কথা শেষ করতে দিলো না তুষার ও হাত ধরে কাতর গলায় বলল “আমি কুয়াশাকে ভালোবাসি। হুট করে জানি না ভালোবাসাটা হয়ে গেছিলো। সেই প্রেক্ষিতেই বাবা-মা প্রস্তাব রেখেছিলো কিন্তু আপনারা কেউ রাজি ছিলেন না বলে কেউ জোর করে নি। এখন কুয়াশা নিজেই যখন বলছে তখন একটা সুযোগ দিয়ে দেখুন আমি কথা দিচ্ছি আমি সর্বোচ্চটা দিয়ে ওকে ভালো রাখার চেষ্টা করবো। ওকে সুস্থ করে তুলব। একটা চান্স দিন প্লিজ”

ছেলের অসহায় কণ্ঠের কথা শুনে তিশা বেগম ও কুশানের দিকে তাকিয়ে বলল “আমি ছেলের বউ নয় নিজের মেয়ে নিয়ে যেতে চাই। ছেলে কুয়াশাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না। কী করব বলো তো ছেলেকে নিয়ে আমার টেনশন হয়। বিয়েতে না করে দেওয়ার পর আমি আমার ছেলেকে দেখেছি কেমন জেনো হয়ে গেছে। কুয়াশাকে সবটা দিয়ে ভালো রাখার চেষ্টা করবো আমরা।”

কুশান হাসফাস করতে লাগলো এমন ভাবে বলছে যে সরাসরি না করতে পারছে না বলল “আন্টি আমাকে কয়েকটা দিন সময় দিন আমি, আমি ভেবে জানাব।”

তিশা বেগম হেসে বলল “ঠিক আছে আমি কিন্তু না শুনতে চাই না বলে দিলাম।”

কুশান বলল “আপনারা বসুন তুতুলকে ডেকে দিচ্ছি।”

তুষার সে-সব কথায় কান দিচ্ছে না কুয়াশা তাকে বিয়ে করতে চেয়েছে সে শুধু সেখানে আঁটকে আছে। হুট করে তুষার আবদার করে বসলো

–আমি কী কুয়াশার সাথে আলাদা কথা বলতে চাই।

উপস্থিত সকলে তুষারের দিকে তাকিয়ে রইল। তুষার অপ্রস্তুত হয়ে গেলো কেশে বলল “ভাইয়া আপনি পারমিশন দিলে তবেই বলবো।”

তিশা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে হতাশ হলেন সুখে নাকি দুঃখে বোধ বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছে বোধহয়। কুশান যে পারমিশন দিবে না সেটা তিনি ধরে নিয়ে ছিলো। কুশান শান্ত কণ্ঠে বলল “আসো আমার সাথে।”

কুশানের পিছনে পিছনে তুষার কুয়াশার রুমে গেলো। কুয়াশা তখনো পাখি আর তুতুলের সাথে জেদ ধরে যাচ্ছে নিচে যাবে বলে। তুষারকে দেখে ও শান্ত হলো। কুশান বলল “পাখি তুতুল আন্টিরা আসছে নাস্তার ব্যবস্থা করো কুয়াশাকে দেখে রাখছি।”

তুষারকে কুয়াশার রুমে দেখে তুতুল আর পাখি অবাক হলে-ও কোনো প্রশ্ন করলো না নিচে চলে গেলো। ওরা চলে গেলে কুশান বলল “তুমি সামলাতে পারবে? বাড়াবাড়ি করলে ডাক দিও। আসছি।”

কুয়াশা ভাইয়ের যাওয়া দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে বলল “ও কী বলল? আমি? আমি বাড়াবাড়ি করি? ও আমাকে এমন বলতে পারলো?”

তুষার নিমিষে শুকানো মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল “কে কী বলল?”

কুয়াশা ফুঁসে উঠে বলল
–এই যে ভাইয়া বলে গেলো… আপনি শুনেন নি? আমাকে বলল আমি বাড়াবাড়ি করি?

তুষার এক অচেনা কুয়াশার দিকে তাকিয়ে রইল তার মধ্যে কী যেনো খুঁজছে তাকে বোঝার চেষ্টা করে স্মিত হেসে বলল
–উহুম, মশা! সন্ধ্যার হয়ে গেছে মশা বাড়াবাড়ি করলে ডাকতে বলেছে। সবাই মিলে মশা মারবো।

কুশান দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলো বোনের কথার প্রেক্ষিতে তুষারের জবাব শোনার আশায় ওর উত্তর শুনে ও না হেসে পারলো না দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে কুশ, শান কী করছে সেটা দেখতে গেলো। বাচ্চা দু’টো ভয়ে ভয়ে আছে।

তুষারের কথায় কুয়াশা রাগ নিভে যায়।
–আমাকে বললে আমিও মারতে পারি

–আচ্ছা তাই!

–হুম!

তুষার ধীরস্থির ভাবে বলল
–তুমি আমাকে বিয়ে করবে?

কুয়াশা নিঃসংকোচ উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে বলল “হ্যাঁ, আপনি আমাকে বিয়ে করবেন না?”

ওর মধ্যে বাচ্চাসুলভ সহজসরল আচরণ দেখে তুষার বলল “তুমি রাজি থাকলে আমি ও রাজী। কিন্তু তুমি আমাকে কেনো বিয়ে করবে?”

কুয়াশা চুপ করে রইল। তুষার আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রইল উত্তরের আসায়। ও উত্তর দিতে সময় নিলো বলল “বাবা আপনার সাথে বিয়ের কথা বলেছিলো সে জন্য!”

তুষারের সেদিনের হসপিটালের কথা মনে পড়লো বিস্ময় নিয়ে বলল “তুমি কীভাবে জানলে?”

–আমি জেনেছি। আমি সব জানি।

তুষার তাকিয়ে থেকে বলল “নিজের ইচ্ছেতে করছ না বাবার ইচ্ছেতে করছো?”

–আমারও ইচ্ছে। বাবার ইচ্ছেই আমার ইচ্ছে।

——–

সেদিন রাতে তিশা বেগম আর তুষার চলে গেলে। কুশান নিজের সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা গ্রোস্থ হচ্ছে। পাখি ওর চিন্তিত মুখ দেখে বলল “দেখো আমার মনে হয় তুষারের সাথে কুয়াশার বিয়েটা দেওয়া উচিৎ। কুশু ওখানে ভালো থাকবে ও বাড়ির সবাই ভালো।”

–কিন্তু কুশু নিজে এখন সুস্থ নয় এই সময় বিয়ে? সুস্থ হওয়ার পর যদি ওর মত বদলে যায়।।

–হবে না কেননা ও এতোটাও অসুস্থ নয়। ও মাঝেমধ্যে সুস্থ আচারণ করছে। ও নিজের ইচ্ছেতে বিয়েতে মত ও দিয়েছে। তাছাড়া আমার মনে হয় ওর জায়গা বদলের দরকার। সারাদিন বাসায় থাকে বাবা-মা’র সৃতি ওকে পোড়ায়। সংসার করতে করতে সঠিক হয়ে যাবে।

কুশান তখনও বসে রইলো আসলে কী করা উচিৎ ওর? তুষার ও ওর পরিবার কুয়াশার ওপরে বিরক্ত হয়ে গেলে। ও কিছু ভাবে পারছে না সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না এক বেড়াজালে আঁটকে পড়েছে বেড়নোর উপায় নেই।

চলবে ইনশাআল্লাহ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here