প্রেমহিল্লোল||২০|| #তাসনীম_তামান্না

0
328

#প্রেমহিল্লোল||২০||
#তাসনীম_তামান্না

আজ শুক্রবার আকাশ রোদ বৃষ্টির খেলায় মেতেছে। কখনো কালো মেঘ জমাটবদ্ধ হয়ে ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি নামছে, তো কখনো রোদের দেখা মিলছে। চৌধুরী বাড়িতে আজ অনেকগুলো দিন পর উৎস মুখর হয়ে উঠেছে। পাখি, তুতুল, পাখির মা রান্না ঘরে ব্যস্ত। কুশ, শান ছুটোছুটি করছে। কুয়াশার কাছে মেঘা, অনু, ইশা ওকে সাজিয়ে দিচ্ছে। আর হাসিমজায় মেতে আছে। কুয়াশা কিছু বলছে না চুপচাপ অনুভূতিহীন হয়ে বসে আছে। ওকে যা বলা হচ্ছে ও চুপচাপ পুতুলের মতো তা পালন করছে। অনু বলল “কী রে এতো ভদ্র হয়ে গেলি যে কথায় বলছিস না।”

–নতুন বউদের এতো কথা বলতে নেই জানিস না নাকি তোরা!

ওরা সকলে সুর টেনে ‘ওওওওহোওওও’ বলে উঠলো। কুয়াশা লজ্জা পেলও কটাপ রাগ দেখিয়ে বলল “তোরা এমন করছিস কেনো? যেটা সত্যি সেটাই তো বলছি। সব কিছুতেই নেগেটিভলি!”

অনু হেসে হেসে বলল “বিয়েতে চুপ থাকতে হয় আর বাসরঘরে কী করতে হয় সব জানিস তো?”

ইশা আচমকা বলল “জানবে না কেনো তোমরা তো এসবে ট্রেনিং প্রাপ্ত।”

কুয়াশা লজ্জায় লাল নীল হতে লাগলো। ইশার কথায় অনু রেগে গিয়ে বলল “কী বলতে চাইছো তুমি? আমরা ১০/১২টা বিয়ে করেছি। বাসর করেছি?”

ইশা দাঁত দিয়ে জিব্হা কেটে বলল “ছি! ছি! কী বলো। আমি বোঝাতে চেয়েছি এসব ব্যপারে তোমাদের প্রচুর জ্ঞান আছে।”

মেঘা বলল “থাক থাক হয়েছে। তুমি যে ঈশানের সাথে প্রেম করে ঝুনু হয়ে গেলো সেটা আমরা বুঝতে পেরেছি এবার তোমাদেরকেও বিয়ে দিতে হবে ইনডিরেক্টলি এটাই বোঝাতে চেয়েছ তো!”

–এটা কখন বোঝালাম? তোমার অমন খচ্চর বন্ধুকে বিয়ে করতে আমার বয়েই গেছে।

কুয়াশা বিরক্ত হয়ে বলল “উফফ থামবি তোরা। সবসময় ঝগড়া। ঝগরুটের দল।”

অনু ওর গাল টিপে দিয়ে বলল “নিজে তো খুব ভদ্র।”

ওদের কথার মাঝে পাখি এলো। কুয়াশার সাদা লেহেঙ্গা সাথে সিলভার কালারের জুয়েলারি লাইট ব্রাইডাল সাঁজে ওকে অপরূপা লাগছে ওকে দেখার সাথে সাথে পাখির মুখ দিয়ে বের হয়ে এলো “মাশা-আল্লাহ! কী মিষ্টি লাগছে তোকে কারোর নজর না লাগুক।”

মেঘা মুখ চেপে হেসে বলল “কারোর নজর না লাগলেও তুষার ভাইয়ার নজর ঠিকিই লেগে যাবে।”

কথাটা শুনে সকলে একযোগে হেসে উঠলো। নিচ থেকে কুশান পাখিকে চেচিয়ে ডেকে বলল “পাখি, কই তোমরা? ওরা কাছাকাছি এসে গেছে ওদের আসতে আর বেশি সময় লাগবে না। ওকে বরণ করে নাও।”

পাখি ওদেরকে তাড়া দিয়ে বলল “আরে আয় তোরা কত কাজ বলতো চল চল।”

সকলে নিমিষে চলে গেলো। কুয়াশা একা বসে রইলো। দেওয়ালে টানানো ফ্যামিলি ফটো টার দিকে তাকিয়ে এগিয়ে গিয়ে ওটা হাতে নিয়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল “তোমরা খুব খারাপ। আমাকে একা রেখে চলে গেছো। আমার এমন বিশেষ দিনেও তোমরা থাকলে না। আমার বুঝি কষ্ট হচ্ছে না?”
কুয়াশা ফুপিয়ে উঠলো অভিযোগের সুর তুলে বলল “তোমরা তো বড় ভাইয়া, ছোট ভাইয়া, মেঘা সবার বিয়েতেই ছিলে আমার বেলাতে নেই কেনো? আমি এতো আনলাকি। আমি খুব খারাপ কেনো যে তোমাদের অবাধ্য হয়েছিলাম। নাহলে আমার বিয়েতেও তোমরা থাকতে। বাবা তুমি খুশি তো আমার তুষারের সাথেই বিয়ে হচ্ছে। তুমি না তুষারকে পছন্দ করো বলো তুমি খুশি তো?”

———-

তুষারের সাথে ওর কাজিন আর ফেন্ডরা এসেছে। কুশান ওদের বিয়েটা ধুমধামে দিতে চাইলেও তুষার জানালো এখন এভাবে বিয়ে করার সময় নয় কুয়াশা অসুস্থ তার ওপরে শোক কাটিয়ে উঠছে এর মধ্যে লোকজন জানিয়ে বিয়ে করাটা দৃষ্টি কটু দেখায়। কুশান ওর সিদ্ধান্তে খুশি হয়েছিল কেননা ও নিজেও জানে এখন ধুমধামে বিয়ে দিলে এর কত খারাপ দিক বের হতে পারে। কুয়াশাও মেনে নিয়েছে। তাই কাছের কয়েকজন নিয়েই বিয়ে সম্পন্ন হবে। তুষাররা আসলে ওরা কয়েকজন মিলে গেট ধরে টাকা আদায় করলো। নাস্তা শেষ করে বিয়ে পড়ানো শুরু হলো।

কুয়াশাকে তখন সবাই ঘিরে ধরে রেখেছে কাজী বার বার কবুল বলতে তাড়া দিচ্ছে। ও নার্ভাসনেসে এদিক ওদিক তাকিয়ে ভরসায় স্থান খুঁজতে ব্যস্ত। কুশান এসে ওর পাশে বসে বলল “কী সমস্যা কবুল বলছিস না কেনো?”

কুয়াশা ভাইয়ের বুকে মুখ চেপে ঝরঝর করে কেঁদে দিল। চারিদিকে গুনগুন থেমে গেলো। কুশান ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল “কী হয়েছে? আমি আছি সবসময় তোর সাথে।”

–ভাইয়া তুমি কী আমার জন্য কষ্ট পেয়েছ? তুমি কী এ বিয়েতে খুশি নও?

–এসব কে বললো? তুষারের মতো ভালো ছেলে খুঁজে পাবি? দেখবি খুব সুখী হবি তোরা। এখন না কেঁদে বিয়ে সম্পন্ন কর বাবুইপাখি।

কুয়াশা কবুল বলছে না শুনে তুষার অস্থির হয়ে পায়চারি করছিলো কাজীসহ অন্যরা থমথমে মুখে ফিরে আসলে। তুষার এগিয়ে গিয়ে অস্থির হয়ে বলল “কী হয়েছে ওর? ও ঠিক আছে তো?”

কুশান ভ্রু কুঁচকে বলল “ঠিক আছে। কিন্তু তুমি নতুন জামাই হয়ে তিড়িং বিড়িং করে লাফালাফি করছো কেনো?”

তুষার লজ্জা পেয়ে নিজের জায়গায় গিয়ে বসলো সকলে এটা নিয়ে হাসাহাসি খোঁচাখুঁচি করলেও তুষার গায়ে মাখলো না কুয়াশা যে কবুল বলেছে এটাতে শান্তি পেয়েছে।

তুষার আর কুয়াশাকে পাশাপাশি বসিয়ে আয়না দেখানো হলো তুষার আয়নার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল কুয়াশা লজ্জা রাঙা হয়ে আছে সকলে টিটরাকি মেরে এটা ওটা বলছে সে-সব আদেও তুষারের কানে যাচ্ছে কীনা বোঝা যাচ্ছে না। তুষারকে জিজ্ঞেসা করা হলো আয়নায় কী দেখতে পাচ্ছে? তুষার উত্তর দিলো “প্রেমহিল্লোল!”
সকলে হৈহৈ চৈচৈ করে উঠলো। কুয়াশাকেও একই প্রশ্ন করা হলে সে লজ্জায় রাঙা হয়ে উত্তর দিলো “পরিপূর্ণ!”

তুষারের ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠলো। সকল রিচুয়াল শেষে খাওয়া দাওয়া পাঠ আসলো। সেখানেও বর-কণে দুজন দুজনকে খাইয়ে দিলো।

তুতুল সবটা দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিলো। পাখি ওর কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল “কী হয়েছে তোর?”

তুতুল চমকে গিয়ে বলল “আমার আবার কী হবে?”

–তুই কী তুষার কুয়াশার বিয়েতে খুশি নস?

তুতুল থতমত খেয়ে বলল “এমন কিছু না শুধু ওদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। ওরা সারাজীবন একসাথে কাটাক এটাই চাই তবে কুয়াশা যদি পরে মত পালটে ফেলে তখন কী হবে?”

পাখি আশ্বাস দিয়ে বলল “এমন কিছু হবে না দেখিস। এসব কিছু ভেবে মন খারাপ করলে হবে? ভবিষ্যত ভাবতে বসলে বর্তমান উপভোগ করতে পারবি না।”

চলবে ইনশাআল্লাহ

গল্পটি সম্পর্কে রিভিউ, আলোচনা, সমালোচনা করুন আমাদের গ্রুপে। গ্রুপ লিংক নিচে দেওয়া হলোঃ
https://facebook.com/groups/holde.khamer.valobasa/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here