#শুনলাম_বসন্ত_নাকি_আবার_এসেছে
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ৬
কেটে গেছে ৩ দিন ৷ তুষারের কথামতো সবাই তুবার সাথে নরমাল আচরণ করেছে ৷ অবশ্য হঠাৎ মটাৎ তুলি বেগম খেই হারিয়ে ফেলতেন তখন তানজিদ মাকে টেনে অন্যদিকে নিয়ে যেত ৷ তুবা এখন আর কোনো সন্দেহ টাইপ প্রশ্ন করে না ৷ তানিয়ারা পরেরদিন ই নিজেদের বাড়িতে চলে এসেছিল ৷
হাসান ভিলায় বয়স্করা ড্রয়িংরুমে বসে আছে ৷ বাড়ির দুই কর্তা সোফায় বসে কফি খাচ্ছে ৷ সাজিদ হাসান কফি খাওয়ার পাশাপাশি বই পড়ছে , চোখে একটা মোটা ফ্রেমের চশমা ৷ ক্ষণকাল নিরবতা পালন করে মেহমেত হাসান হাই তুলে বলল,,,
ভাই তুই বুড়ো হয়ে গেছিস ৷ Whatever চোখে চশমা না দিলে তো এখন কিছুই দেখিস না ৷
সাজিদ কোনো উত্তর না দিয়ে বই পড়ায় মনোযোগ অব্যাহত রাখল ৷ তা দেখে মেহমেত টিটকারি দিয়ে বলল,,,
তোকে কতবার বলেছি এতো বই পড়িস না ৷ Whatever এখন দেখলি তো শ্বশুর হওয়ার আগেই দৃষ্টিশক্তির বারোটা বাজিয়ে ফেলেছিস! আমার মতো ট্যালেন্টেড ছেলের কথা না শুনলে তো এমনই হবে ৷
সাজিদ বইটা পাশে রেখে মেহমেতের দিকে তাকিয়ে বলল,,, ব্রয়লার মুরগি মুখটা বন্ধ রাখ ৷ তুই যে ছোট থেকেই ব্রেইন ছাড়া বড় হলি আমি কি একবারও তোকে সেটা নিয়ে প্রশ্ন করেছি?
মেহমেতের মুখটা থমথমে হয়ে গেল ৷ অস্ফুট স্বরে বলতে লাগল,,, Whatever কু*ত্তার লেজ কোনোদিন সোজা হয় না!
সাজিদ ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকাল কিন্তু কিছু বলল না ৷ এমন সময় তুষার সাদা টি শার্ট পড়ে সিড়ি দিয়ে নামতে লাগল ৷ বাবা , বড় বাবাকে সালাম দিয়ে ও কিচেনে চলে গেল মাম্মা আর বড় মায়ের রান্না করা দেখতে ৷ সেদিকে তাকিয়ে থেকে সাজিদ বলতে লাগল,,,
কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে তুই জীবনে কি ভালো কাজ করেছিস তাহলে আমি নির্দ্বিধায় বলব তুষারের মতো এতো ডিসেন্ট একটা ছেলেকে জন্ম দেওয়া তোর জীবনের একমাত্র সাফল্য ৷
মেহমেত সাজিদের অ*পমান গায়ে না মেখে চিন্তিত স্বরে বলল,,, আমার না খুব টেনশন হয় ভাই ৷ আমার আর মিস ত্যানাত্যানার ছেলে এমন হওয়ার তো কথা না ৷ Whatever হাসপাতালে কোনোভাবে অদল বদল হয়ে যায়নি তো আবার? আমরা অন্যের ছেলেকে মানুষ করলাম না তো?
সাজিদ কঠিন দৃষ্টিতে মেহমেতের দিকে তাকাতেই মেহমেত চুপ হয়ে গেল ৷ আবারও দু ভাইয়ের চোখ সিড়ির দিকে চলে গেল ৷ সাভাশ উশকো খুশকো চুলে আড়মোড়া ভেঙে নিচে নেমে আসল ৷ সাজিদ আর মেহমেতকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,
হ্যালো বয়স্ক পার্টি ৷ বেশি বেশি করে জিম করো বুঝলে? পেট টা তো ফুলে উঠছে দিন কে দিন ৷
কথাটা বলে সাভাশ বাগানের দিকে চলে গেল স্নিগ্ধ বাতাসের অভিপ্রায়ে ৷ কিন্তু পিছনে রেখে গেল থতমত খেয়ে বসে থাকা দুই মধ্যবয়স্ক লোককে ৷ মেহমেত হতাশ শ্বাস ফেলে বলল,,,
সাভাশ যে তোর ছেলে এতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই ৷ হুবহু তোর ফটোকপি যদিও তোর থেকেও দু ধাপ এগিয়ে ৷ Whatever তোর মতো রাগী , জেদী, গম্ভীর হলেও তোর মতো চাপা স্বভাবের না ৷ মুখে যা আছে তাই বলে দেয় যখন তখন যেখানে সেখানে ৷
এমন সময় কিচেন থেকে বিচলিত চিত্তে তানিয়া আর সিনু ছুটতে ছুটতে আসল ৷ তানিয়া বলতে লাগল,,,
Mr. Whatever চলুন আমার বাবার বাড়িতে ৷ তুবা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেছে , কোনোভাবেই ওর জ্ঞান ফিরে আসছে না ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
তুবার চিকিৎসায় এতোদিন নিয়োজিত থাকা সাইক্রিয়াটিস্ট মিস্টার আমিনুল রহমান চেয়ারে বসে পান চিবোতে চিবোতে বলতে লাগলেন,,,
বুঝলেন তানজিদ সাহেব , আপনার মেয়ে মনে হচ্ছে নরমাল হয়ে যাবে ৷ কয়েক ঘন্টা ওকে ঘুমাতে দিন , ঘুম থেকে উঠলে দেখবেন আবার আপনাকে বাবা বলে ডাকছে ৷ ছেলেকে বাবা ডাকা না আবার , বাবাকে বাবা ডাকা ৷
তানজিদ আর রাইশা উনার সামনে বসে আছে চিন্তিত মুখে ৷ আমিনুল রহমান আরেকটা খিলি পান মুখে দিয়ে বলতে লাগলেন,,,
তা আমার পেমেন্ট টা?
তানজিদ গম্ভীর মুখে উনার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,,, পারেন তো শুধু পেমেন্ট নিতেই ৷ সবাই মিলে তুবাকে নরমাল করি আমরা আর শেষে এসে সব ক্রেডিট নেয় এই পেটমোটা হাবিলদার! এই দু বছরেও আমার মেয়ের সামান্যতম উন্নতি করতে পারেনি শা’লা!
মনে মনে আরো কয়েক দফা গা*লি দিয়ে তানজিদ কাটকাট গলায় রাইশাকে বলল,,, বউজান উনাকে উনার পেমেন্ট টা দিয়ে বিদায় দাও তো ৷ আর এটাও বলে দাও উনাকে আর ক*ষ্ট করে আমার মেয়ের চিকিৎসা করতে হবে না ৷
আমিনুল রহমানের মুখটা পাতিলের তলার চেয়েও কালো হয়ে গেল ৷ রাইশা এসে পেমেন্ট দেওয়ার সাথেই উনি বসা থেকে উঠে বসে বললেন,,,
আমাকে ছাড়া তোমাদের কোনো গতি নেই ৷ নিজের মানসিক রোগী মেয়েকে দেখি কিভাবে সুস্থ করো!
তানজিদ প্রচন্ড রে*গে গিয়ে উনার দিকে তেড়ে যেতে ধরলেই উনি দৌঁড়ে পালালেন ৷ রাইশা তানজিদকে আগলে নিয়ে বলল,,,
রে*গে যাবেন না ৷ ওই ব*লদের কথা শুনে আপনি নিজের প্রেসার কেন বাড়াবেন? বউয়ের কারনে মানুষের প্রেসার বাড়ে আর আপনার কিনা ওই হাঁ*দারামের জন্য প্রেসার বাড়ছে ছ্যাহ!
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
তুবার রুমে সবাই উপস্থিত হয়েছে ৷ হাসান পরিবার কিছুক্ষণ আগেই এখানে পৌঁছেছে ৷ তুবাকে নিয়েই সবাই টুকটাক কথা বলছে ৷ হঠাৎ তুবাকে নড়তে দেখে সবাই সেদিকে সাবধানী দৃষ্টিতে তাকাল ৷ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তুবা পিটপিট করে চোখ খুলে সবার দিকে তাকাতে লাগল ৷ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর তুবা তানজিদের দিকে তাকিয়ে দুর্বল কন্ঠে বলল,,,
বাবা আমি কি আবারও দাদু হয়ে গিয়েছিলাম?
সকলেই স্বস্থির নিশ্বাস ফেলল ৷ তানজিদ মেয়ের শিয়রের কাছে গিয়ে বসে ওর গালে হাত রেখে বলল,,,
মামনি ঠিক আছো?
তুবা শোয়া থেকে উঠে বসল, তানজিদ ওকে বাধা দিলেও শুনল না ৷ এক এক করে সবার দিকে তাকিয়ে তুবা কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,,,
আমি আবারও সবাইকে অনেক ক*ষ্ট দিয়েছি তাই না? আমার জন্য সবাইকে অনেক ঝা*মেলায় পড়তে হয়েছে বলো?
তুবা অস্থির হয়ে উঠল ৷ অবশ্য প্রতিবার নরমাল হওয়ার পরপর এমন উ*ত্তেজিত হয়ে যায় ও ৷ নিজেকে দোষী ভাবতে শুরু করে ৷ ভিতরে ভিতরে অ*নুতপ্ততায় গুমরে ম*রে ৷
সবাই মিলে তুবাকে শান্ত করার চেষ্টা করতে লাগল ৷ তানজিদ মেয়েকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বলল,,,
তুবা মামনি তোমার জন্য আমাদের একটুও ক*ষ্ট হয়নি ৷ বিশ্বাস করো সোনা মা আমার ৷
তুবা তবুও ছটপট করতে লাগল ৷ ব্যগ্র কন্ঠে বলতে লাগল,,,
দাদী, ওও দাদী আমি তোমার সাথে উল্টাপাল্টা কিছু করিনি তো? তোমাকে আজব আজব কথা বলিনি তো?
তুলি বেগম মনে মনে বললেন,,, কি করিস নি সেটা বল মা! তোর ট*র্চারে আমার এক বছরের আয়ু কমে গেছে! স্বামীর কাছে যাওয়ার সময় আরও এক বছর ঘনিয়ে আসল ৷
কিন্তু মুখে বলল,, না সোনা কিচ্ছু করিসনি তুই ৷ আমরা কোনো অসুবিধায় পড়িনি ৷
তুবা তবুও শান্ত হলো না ৷ অস্থির ভাবে বলতে লাগল,,, তোমরা মিথ্যা বলছো সবাই মিথ্যা বলছো ৷ আ-আমি আমি কিছু তো করেছিই!
সাভাশ বি*রক্তিতে চ কারান্ত উচ্চারণ করে বলল,,, হ্যাঁ রে তুবার বাচ্চা বহুত জ্বা*লিয়েছিস ৷ ভাবতে পারবি না আমাদের মাথার তাঁর অল্পের জন্য ছিঁড়ে যায়নি! নানীকে তো বে*ধরম পিটিয়েছিস , তানজিদ মামুকে থা*প্পড় মে*রেছিস আর আমার পা*ছায় লা*ত্থি মে*রেছিস!
চলবে,,,,,

