৩ বছর আগে একটা দুর্ঘটনার মাধ্যমে যে ছেলেটার সাথে বিয়ে হয়েছিল মৌনির সেই ছেলেটাকে আজ পরনারীতে মত্ত দেখে পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে যায় মৌনির। শরীরের শিরায় উপশিরায় যেন এক শিরশিরে অনূভুতি বয়ে যায়। হৃদপিন্ড থমকে যায় যেন। সে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে ভার্সিটির অডিটোরিয়াম সকলের মাঝে ঠোটে ঠোট ডুবিয়ে কিস করতে থাকা ছেলেমেয়ে দুটোর দিকে। ছেলেটাকে চিনতে তার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হয় না৷ সে এক দেখাতেই চিনে ফেলেছে এটা সেই ছেলে যার সাথে তার ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল। বর্ষণের সেই রাত, সেই সময়, সেই দুর্ঘটনাটা, সেই বিয়ে সবই চোখের সামনে এসে মূহুর্তেই যেন ধরা দিচ্ছে। চোখ ক্রমশই ঝাপসা হয়ে আসছে। তারা কখনো সংসার করেনি, তাদের বিয়ের পর কথা তো দূর থাক কখনো দেখাও হয়নি। এই ছেলেটার সাথে বিয়ের দিন প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল আর আজ দ্বিতীয় সাক্ষাৎ সেটাও অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে। তবুও এতোটা খারাপ লাগছে কেন বুঝতে পারছেনা মৌনি। সহসাই টুপ করে দুফোটা জল গড়িয়ে পড়ল কপোল বেয়ে৷
তাদের ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে একদল ছেলেমেয়ে। তাদের কিস করায় যেন সকলের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। সকলে তাদের দুজনকে চিয়ার আপ করছে তাদের নাম ধরে। ছেলেটা এক মিনিটের মাথায় ছেড়ে দাঁড়ায় মেয়েটাকে। মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে
।হাটুগেড়ে বসে এক গুচ্ছ গোলাপ ধরিয়ে প্রপোজ করে তাকে। হাতে একটা চিকচিক করা রিং পড়িয়েও দেয়। তবে প্রেমিকা হওয়ার জন্য না বিয়ের জন্য প্রপোজ করে। মেয়েটা হেসে হ্যাঁ বলে আবারো জড়িয়ে ধরে।
মৌনি অনুভব করে তার হাত পা অসম্ভব রকম কাপছে। তাই বোধহয় হাতে থাকা অ্যাসাইনমেন্টের কাগজ গুলো পড়ে গেল ফ্লোরে। সেগুলো এলোমেলো অবস্থায় মৌনির হাতে ছিল, পড়ে গিয়ে আরো এলোমেলো হয়ে গেল। চোখ থেকে টুপটুপ করে পানি গড়িয়ে সেই কাগজগুলোতে পড়ছে। মৌনি নিজের ভারসম্য রাখার জন্য পাশে একটা বেঞ্চি শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। তখনই তাকে কেউ একটা হাত ধরে সামনের দিকে নিয়ে যেতে যেতে বলল,
“ আরে এখানে কি করছ? ওদিকে চলো। আজ নিষাদ ব্রো আর রুবাব আপির এতো বছরের সম্পর্ক পূর্ণতা পাচ্ছে। সেই খুশিতে ব্রো সবাইরে ট্রিট দেবে কইছে৷ যেমন তেমন ট্রিট নয়। এক্কেরে স্পেশাল ট্রিট। তুমি এইহানে দাঁড়িয়ে থাকলে আর পাইবা না৷ তাত্তারি আহো। ”
মেয়েটা মৌনির হাত ধরে ভীর ঠেলে ক্রমশ সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মৌনি ঝাপসা চোখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার কন্ঠে তুমুল উত্তেজনা। সবাই কতো আনন্দ করছে তাদের এই প্রপোজ করার বিষয়টা নিয়ে। তবে তাদের এই আনন্দ মৌনির বুকে যেন ঝড় বইয়ে দিচ্ছে। মেয়েটা মৌনির হাত ধরে একেবারে তাদের সামনে নিয়ে দাঁড় করায়। তারা কেক কাটছে। মেয়েটা সামনে আর নিষাদ তার পিছনে, হাতের উপর হাত রেখে দুজনে একসাথে ছুড়ি ধরে কেক কাটছে। মৌনির সেদিকে নজর নেই। সে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে ওই হস্যোজ্জ্বোল মুখটার দিকে। যেই মুখটাকে এতোদিন ছবিতে দেখে এসেছে সেই মুখটাকে আজ সামনাসামনি দেখছে। যে হাসিটাকে ছবিতে দেখে মৌনি লজ্জায় রাঙা হতো সেই হাসিটা আজ সামনাসামনি দেখছে। তবে আজ আর কোনো লজ্জার অনূভুতি নেই৷ রয়েছে একরাশ বিষাক্ত অনূভুতি। তাদের হাসি, একে অপরকে কেক খাইয়ে দেওয়া, জড়িয়ে ধরা সবকিছুই যেন মৌনির বুকে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।
মেয়েটা এক টুকরো কেক নিয়ে একে একে সবাইকে খাইয়ে দিচ্ছে। সবাই তাকে কংগ্রাচুলেশনস জানাচ্ছে৷ মৌনি চলে আসতে নিচ্ছিল। তার পাশের মেয়েটা আবারো হাত টেনে ধরে।
“ আরে কই যাও? ওদের congrats জানাবে না? আপির হাতের কেকটা তো খেয়ে যাও৷ ”
এবারে মৌনির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলো মেয়েটা,
“ এই! তুমি এভাবে কাঁদছ কেন? ”
মৌনি একধ্যানে নিষাদের দিকেই চেয়ে আছে। মেয়েটা তার গায়ে আলতো ধাক্কা দিয়ে বলল,
“ এই! কি হয়েছে তোমার? ”
মৌনি একটু চমকে ওর দিকে তাকালো। চোখের জলটুকু ওড়নার কোনা দিয়ে মুছে নিয়ে বলল,
“ কিছু না। ”
কিছু না – বলেই মৌনি চলে আসার পা বাড়াচ্ছিল। মেয়েটা ওর হাত চেপে বলল,
“ হেই রুবাব আপি। এইদিকে। এই মাইয়া কানতেছে। তোমার হাতের কেক খাইয়ে দেও তো একটু। কান্নাই ভুলে যাবে৷ ”
সকলেই তাদের দিকে তাকালো। রুবাব হেসে মৌনির দিকে এগিয়ে এলো। এক টুকরো কেক ওর মুখের সামনে ধরে বলল,
“ নাও, আমার হাতের কেক টেস্ট করো। আজ ওর জন্মদিন বলে ওকে সারপ্রাইজ দেব বলে নিজের হাতে বানিয়েছিলাম, অথচ দেখ ও-ই আমাকে কীভাবে সারপ্রাইজ দিল। ”
অসম্ভব সুন্দর একটা মেয়ে। সে হাসি মুখে মৌনির মুখের সামনে এক টুকরো কেক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মৌনি আড়চোখে নিষাদের দিকে একবার তাকালো। সে তাদের দিকে স্বাভাবিক ভাবেই তাকিয়ে আছে। তার মুখেও হাসি। সে হয়তো মৌনিকে চিনতেই পারেনি। একদিন-ই দেখেছিল যে মৌনিকে। মৌনির অক্ষিকোটরে আবারো জলেরা এসে ভর করলো। তবে সে এদের সামনে আর কাঁদবে না। সে কোনোদিকে না তাকিয়েই সামনে থেকে মেয়েটার হাত সরিয়ে সকলকে পিছে ফেলে চলে এলো সেখান থেকে।
__
ওয়াশরুমের দরজা লাগিয়ে গালে হাত চেপে ডুকরে কেঁদে উঠল মৌনি। এমনভাবে কাঁদল যেন কান্নার শব্দ বাইরে না যায়। এতো কষ্ট কেন হচ্ছে তার বুঝতে পারছে না সে। তাদের শুধু বিয়েটাই হয়েছে, তারা শুধু কাগজে কলমেই স্বামী স্ত্রী। আর পাঁচটা স্বামী স্ত্রীর মতো তাদের মধ্যে তো কোনো সম্পর্কও নেই। তাদের সম্পর্কটা এমন একটা জায়গায় যেখানে তাদের মধ্যে সামান্যতম পরিচিতি টুকুও নেই। তিন বছর আগে আষাঢ় মাসের তীব্র বর্ষণের এক রাতে তাদের বিয়ে হয়েছিল। অনিশ্চিত একটা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল তারা। সে অনিশ্চিত সম্পর্কের কথা মনে না রাখারই কথা। ছেলেটাও ভুলে গিয়েছে। এবার নিশ্চিত সম্পর্কে নিজের ভালোবাসার মানুষের সাথে আবদ্ধ হচ্ছে। অথচ এই অনিশ্চিত সম্পর্কটাকে নিয়েই মৌনি এতোদিন স্বপ্ন বুনেছে। তার মনের কোনে একটা সুপ্ত আশা ছিল যে সে একদিন আসবে, এই সম্পর্ক সামাজিক স্বীকৃতি পাবে৷ সে এলো ঠিকই তবে এই সম্পর্ক চিরতরে ভাঙতে।
মৌনি তীব্র আক্রোশে ডলে ডলে চোখের পানি পরিষ্কার করলো। ভালো করে মুখ ধুলো যেন কেউ বুঝতে না পারে৷ সে নিচু হয়ে বেসিনে মুখে পানি দিচ্ছিল। হঠাৎ কারো ধাক্কায় মাথাটা বেসিনে গিয়ে ঠেকলো। মাথায় আঘাত পেয়ে মৌনি মৃদু স্বরে বলে উঠল,
“ আহ! ”
“ এই মেয়ে সরো এখান থেকে! ”
তখনই সে দ্বিতীয় ধাক্কাটা পেল। কেউ ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দিয়েছে তাকে। মৌনি বিরক্ত হয়ে তার দিকে তাকাতেই দেখল মেয়েটা নিষাদের গার্লফ্রেন্ড৷ সে গালে পানি দিয়ে কুলি করছে। তার সাথে আরো একটি মেয়ে৷ সে দুটো ব্যাগ, জলের বোতল, ফোন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে বলে যাচ্ছে,
“ রুবাব, ইয়ার তুই ঠিক আছিস? একটু ভালো করে কুলি কর। অতিরিক্ত সমস্যা হলে গলায় আঙুল দিয়ে বমি কর ভালো লাগবে। ”
“ সাবা, কষ্ট হচ্ছে আমার ভীষণ। উফ! আমার সাথে যে এই প্রাংকটা করছে আমি ছাড়বো না তাকে৷ ”
“ আচ্ছা ছাড়িস না। আগে তুই নিজেকে সামলা। আমার কথামতো গলায় আঙুল দিয়ে বমি কর স্বস্তি পাবি। ”
মেয়েটা সত্যি সত্যি তাই করতে থাকল। ও গলায় আঙুল দিয়ে ওয়াক, ওয়াক করতেই ওর সাথে থাকা মেয়েটা মৌনিকে বলল,
“ এই মেয়ে! ওকে একটু দেখো। আমি বাইরে যাচ্ছি। কারো বমি করা দেখলে আমারও বমি পায়। ”
“ কি আশ্চর্য! আপনার বান্ধবি বমি করছে আমি কেন তাকে দেখতে যাবো। আপনার বান্ধবি আপনি
দেখুন। ”
“ তোমাকে কি বললাম শুনতে পাওনি। আমি কারো বমি করা দেখতে পারি না। যা বললাম তাই করো। ”
“ আমিও কারো বমি করা দেখতে পারিনা। দেখা গেল আপনার বান্ধবির গায়ে আমিই বমি করে বসলাম। ”
মেয়েটা অবাক হয়ে বলল,
“ এই মেয়ে! তোমার তো সাহস কম নয়, আমার সাথে এভাবে কথা বলছ! তুমি জানো আমি কে? ”
“ না তো। আপনিই বলুন। ”
“ রুবাবের বেস্টফ্রেন্ড আমি। ”
“ আরে আমি তো রুবাবকেই চিনিনা, আর আপনি কিনা তার বেস্টফ্রেন্ড বলে পরিচয় দিচ্ছেন আমায়। আজব পাবলিক! সরুন তো সামনে থেকে। আমি আবার এখানে বেশিক্ষণ থাকলে বমি করে ফেলব। ”
মৌনি তাকে পাশ কাটিয়ে বাইরে চলে আসলো। তার অসম্ভব রকমের অস্বস্তি হচ্ছে। সাথে এই মেয়েটাকে দেখলে আরো। সুন্দর চেহারার মানুষদেরকে দেখলে তার ভালো লাগে তবে এই মেয়েটাকে তার একটু-ও ভালো লাগছে না। মৌনি ওড়নায় মুখ মুছতে মুছতে চলে আসছিল। নিচের দিকে তাকিয়ে হাটছিল বিধায় সে সামনে খেয়াল করেনি। সহসাই কারোর সাথে ধাক্কা খেয়ে দু কদম পিছিয়ে গেল।
“ আরে দেখে হাটতে পারেন না! চোখ কি কপালে তুলে–
মানুষটার মুখের দিকে তাকিয়েই থেমে গেল মৌনি। মানুষটা নিষাদ৷ যে তার দিকে তীব্র বিরক্তিতে ভ্রু কুচকে চেয়ে আছে। তার সাথে আরো তিনটে ছেলে। একজন তো মৌনিকে ধমকিয়েই বলল,
“ এই মেয়ে! কাকে কি বলো! নিষাদ ভাইকে ধমকাও! আর তোমার চোখ কোথায় ছিল শুনি! ”
“ আরে এটা ওই মেয়েটা না যে একটু আগে রুবাবকে ধাক্কা মেরে চলে আসল? ”
“ এই মেয়ের কলিজা দেখি বহুত বড়। এই ভার্সিটতে নতুন নাকি তুমি? ”
মৌনির তাদের কথা কানে ঢুকলো না। সে একদৃষ্টে নিষাদের দিকে চেয়ে আছে। নিষাদও তার দিকে চেয়ে আছে। মৌনির বুকের মধ্যে হৃদপিণ্ডের গতি ক্রমশই বাড়ছে৷ মনে মনে ভাবছে,“ উনি এভাবে তাকিয়ে আছে কেন আমার দিকে? আমায় চিনে ফেললো নাকি? ”
তবে নিষাদ মূহুর্তেই তার ভাবনাকে ভুল প্রমাণিত করে।
“ একে আমি পরে দেখে নিচ্ছি। নিষাদের কলিজায় হাত লাগানোর ফল বুঝাবো। এখন রুবাবের ওখানে চল। না জানি মেয়েটা কি করছে। ”
তার কন্ঠে ভীষণ চিন্তা। সে মৌনিকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। মৌনির গায়ে ধাক্কা লাগল। তার থেকে বেশি ধাক্কা লাগল তার হৃদয়ে। ‘ নিষাদের কলিজা ’ শব্দদ্বয় তার কানে ভাসছে অহর্নিশ। মৌনি ঝাপসা চোখে ওর যাওয়ার পানে চেয়ে রইল। এতোটা ভালোবাসে ওই মেয়েটাকে! মৌনির বেহায়া মন ওই মেয়ের প্রতি নিষাদের ভালোবাসার প্রখরতা দেখতে চাইলো৷ সে ব্যাগের ফিতেটা আঁকড়ে ধরে এলোমেলো পায়ে এগিয়ে গেল ওয়াশরুমের দিকে। দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই তার বুকট যেন কেপে উঠল। নিষাদ একহাতে তাকে জড়িয়ে ধরে মাথায় পানি দিয়ে দিচ্ছে। মুখ ধুইয়ে দিচ্ছে, পিঠে ক্রমাগত হাত বুলাচ্ছে। তারপর স্বযত্নে মাথাটা মুছিয়ে দিয়ে তাকে বুকে আগলে নিল। মেয়েটা কাঁদছিল তার মাথায়, পিঠে ক্রমাগত হাত বুলাতে বুলাতে তাকে থামতে বলল৷ উদ্ভ্রান্তের ন্যায় লাগছে তাকে৷
মৌনি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না। পরনারীর প্রতি নিজের স্বামীর ভালোবাসার প্রখরতা দেখার মতো শক্তি তার মধ্যে আর হলো না৷ সে ব্যাগের ফিতেটা শক্ত করে আঁকড়ে দৌড়ে চলে আসল সেখান থেকে। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে তার! হৃদয়ে যেন র/ক্তক্ষরণ হচ্ছে। মা মারা যাওয়ার পর এতোটা কষ্ট বোধহয় আজ আবার অনুভব করল। এতোবছরের কাঙ্ক্ষিত এক স্বপ্ন ভঙ্গের কষ্ট। মৌনির স্বপ্নের দুনিয়াটা কাচের মতো ভেঙে গিয়েছে আজ। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল ওই ছেলেকে নিয়ে আর স্বপ্ন দেখবে না সে। অন্য স্বপ্নগুলোর মতো তার রংহীন এই স্বপ্নটারও এখানেই নাহয় ইতি ঘটুক!
— চলবে?
#প্রেম_অপ্রেম_অধ্যায় | সূচনা |
#আফরিন_সুলতানা
[ অনেক আশা নিয়ে শুরু করলাম গল্পটা। তবে গল্পটা আপনাদের ভালো লাগবে কিনা তাই নিয়ে মহা চিন্তায় আছি। ভালো লাগলে অবশ্যই বলবেন। তবেই কান্টিনিউ করব। না হলে এখানেই ইতি। হ্যাপি রিডিং সকলকে ❤️]

